#তুই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _১৩
৮১++++
🚫কপি করা নিষিদ্ধ & প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত, ভালো না লাগলে স্কিপ করুন 🚫
ঊষান কোনো উত্তর না দিয়ে নুহাকে এক ঝটকায় টেনে নিয়ে বিছানায় ফেলে নুহাকে শুইয়ে দিয়ে ওর উপরে আধশোয়া হয়ে নুহার গলায় মুখ গুজে দিয়ে পড়ে থাকে।।কিছুক্ষনের মধ্যে ওর ঠোঁটে হামলা চালায়।। প্রায় মিনিট খানেক পরে ছেড়ে দিয়ে ফের গলায় মুখ গুজে আর ডান হাত টা নুহার ডিলেডালা কামিজের ভিতরের উদরে বিচরণ করে বেড়াচ্ছে।। নুহার তো লজ্জায় মরি মরি অবস্থা।।
কিছুক্ষন পর ঊষান নিজেকে ঠিক করে উঠে দাঁড়ায়। সাথে নুহাকেও টেনে তোলে। নুহার অবস্থা দেখে ঊষান বেশ মজা পায়। নুহাকে আরও একটু লজ্জা দিতে,,,,, ঊষান নুহার দিকে ঝুকে গিয়ে ওর কানের কাছে মুখটা নিয়ে ফিসফিস করে বলে,,,,
রাতে দেখা হবে পিচ্চি পাখি রেডি হয়ে থাকিস!!!
নুহার ইচ্ছে করছে লজ্জায় মরে যেতে এই অসভ্য লোকের মুখে কিছু দেখি আটকায় না হু!!এর পরও আবার বলে বউ মানি না হু আসছে যতসব।। নুহা বাচ্চা না ও বোজে এই লোক মুখে যা বলে ওনার মন ঠিক অন্য কিছু বলে কিনা।।
নুহা নিজের লজ্জা কে মাটি চাপা দিয়ে বলল,,,,,, আচ্ছা দেখা যাবে অসভ্য লোক!!!
ঊষান ফের হাসলো যা নুহা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখতে ব্যাস্ত ঠিক তখনি ওর কানে এলো ঊষান এর সতর্ক বাণী,,,,,,,,
আমাকে দেখার জন্য অনেক সময় পাবে পিচ্চি পাখি নিচে খাবার দেওয়া হবে ঠিক সময় খেয়ে আমাকে উদ্ধার করো আর যদি শুনি উল্টাপাল্টা কিছু করে আমার মাকে কষ্ট দিচ্ছিস তাহলে তোর খবর আছে।।
নুহা ভেংচি কেটে বলল,,,,,,আসছে সারাক্ষন বউ মানি অথচ বাচ্চা মানি!!আহঃ শখ কতো!!
ঊষান নুহার কথায়। পাত্তা না দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো ঊষান যাওয়ার সাথে সাথে নুহা ফের ভেংচি কাটলো।।বিড়বিড় করে আওড়ালো,,,,,,
যত্তসব আমিও দেখি কয়দিন এই বান্ধা আমাকে ভালো না বেসে থাকতে পারে।।
*******
রাত প্রায় একটার কাছাকাছি নুহা ঊষান এর জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যে ঊষান ও চলে আসে এসে দেখে তার পিচ্চি পাখি গভীর ঘুমে আছে।। ঊষান আস্তে করে ফ্রেস হয়ে এসে নুহার পাশে শুয়ে পড়লো। কিছুক্ষন যেতেই নুহা ওকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো এমনিতেই হালকা আলোতে নুহার এই শান্ত রূপ ঊষান কে পাগল করে দিচ্ছে তার ওপর নুহার এই আচরণ।। ঊষান পাশ ফিরে নুহার গলায় মুখ গুজে দিয়ে ছোট ছোট কামড়ে ভরিয়ে দিতে লাগলো এদিকে তার হাত নুহার সারা শরীর জুড়ে রাজত্ব করতে ব্যাস্ত।। হঠাৎ ঘুমের ঘোরে এমন হওয়ায় নুহা জেগে গেলো সাথে এভাবে তার প্রিয় পুরুষ কে দেখে নুহা সব কিছু যেন বুজে গেলো। নুহার দিক থেকে রেসপন্স পেতেই ঊষান আরও যেন পাগল হয়ে গেলো।।
মে আই পিচ্চি পাখি!!জাস্ট গিভ আ লিটেল পেইন , টেইক ইট ইজি বার্ড!!!
বলেই ঊষান নুহার গোলাপি ঠোঁট জোড়া দখল করে নিলো,নুহা আর বাধা দিলো না। দুজনে বেসে গেলো আবারো গভীর প্রণয়ে…..!!!
★ ★ ★ ★ ★
সকাল বেলা,,,,
সকালটা ধীরে ধীরে পুরো বাড়িটাকে জাগিয়ে তুলেছে। কয়েকদিন ধরেই সূর্যের আগমন বেশ উজ্জ্বল, তবে আজকের আলোটা যেন অন্যরকম শান্ত। জানালার কাঁচ ভেদ করে নরম রোদ এসে ঘরের মেঝেতে পড়েছে। বাইরে বাগানের গাছগুলোতে পাখির ডাক, দূরে কোথাও পাখার মতো পাতার শব্দ সব মিলিয়ে বাড়িটা যেন ধীরে ধীরে দিনের ব্যস্ততায় ঢুকে পড়ছে।চারোদিক সূর্যি মামা উঁকি দিয়েছে অবশ্য তার আগমন বেশ কয়েক দিন ধরেই ছিলো না আজ অনেক দিন বাদে মহামান্যর দেখা পাওয়া গেলো।।
নুহা গোসল সেরে ঘরে ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছিল। ভেজা চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে গেল। কয়েক মুহূর্ত পর চুল আঁচড়ানোর জন্য হাত বাড়াতেই পেছন থেকে বিছানা কারো নড়ার শব্দ পেল মানে ঊষান ও উঠে গেছে।।।
ঊষানের ঘুম ভেঙে গেছে।দুজনে বেশ রাত করে ঘুমিয়েছে তাঁদের প্রণয় শেষে কিন্তু তাতে কি নুহার ঘুম ভেঙে গেছে অনেক্ষন আগে।।
ঘুমজড়ানো চোখে কিছুক্ষণ নুহার দিকে তাকিয়ে থেকে সে ধীরে ধীরে উঠে বসল। তারপর তার দৃষ্টি আটকে গেল নুহার দিকে। নুহা আয়নায় সেই দৃষ্টি টের পেয়ে ঘুরে তাকাল।
ঘুম ভেঙে গেছে?
ঊষান হালকা গলায় বলল,,,,,,হুম।
আর একটু ঘুমান। এত সকালে উঠেছেন কেন?
তুই কাছে নেই দেখে ঘুম ভেঙে গেল।আর তুই এতো তাড়াতাড়ি উঠছিস কেন?
নুহা চুপ করে ঊষান এর কথা শুনছে।।নুহা কিছু বলল না শুধু ভেজা চুলগুলো আবার মুছতে লাগল।
ঊষান বিছানা থেকে নেমে ধীরে ধীরে তার কাছে এসে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ চুপচাপ নুহার দিকে তাকিয়ে থেকে তার দৃষ্টি নেমে গেল নুহার পেটের দিকে। মুখের কঠিন ভাবটা অল্প অল্প করে নরম হয়ে এল।
কেমন লাগছে আজ?
নুহা বুঝতে না পেরে বলল,,,,,আমার?
ঊষান মাথা নাড়ল তারপর বলল,,,,,,,তোরও আর ওরও।”
নুহা বুজতে পারলো ঊষান কার কথা বলছে,,নুহার চোখে হালকা বিস্ময় ফুটে উঠল।
ওর কথা এত ভাবছেন কেন?
ঊষান সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,,,,,,কারণ ও আমার সন্তান।
কথাটা খুব স্বাভাবিকভাবেই বলল সে, কিন্তু তার গলার স্বরে এমন একটা অনুভূতি ছিল, যা নুহা আগে খুব কমই শুনেছে।
ঊষান ধীরে বিছানার পাশে বসে পড়ল সাথে নুহা কেও বসালো ।হঠাৎ নুহার পরনের কুর্তি টা আলগা করে ওর ফর্সা উদর মেলে ধরলো নুহা তো লজ্জায় শেষ ঊষান তার পিচ্চি পাখির লজ্জা দেখলো।।
কিছুক্ষণ পর নিচু হয়ে বলল,,,,,,,,,শোন ছোট্ট মানুষ, তুই কিন্তু এখন থেকেই তোর বাবাকে চিনে রাখিস।
ঊষান এর কথা শুনে নুহা হেসে ফেলল ওভাবে হাসতে হাসতে বলল,,,,,ও এখন কিছুই শুনতে পায় না।
ঊষান নুহার কথায় বেশ বিরক্ত হলো পরে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,,,শুনুক আর না শুনুক, আমি বলব।
তারপর আবার পেটের দিকে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল,,,,,,,,তুই মায়ের মতো জেদি হোস না। একজন জেদিই যথেষ্ট আছে এই বাড়িতে।
নুহা সঙ্গে সঙ্গে বলল,,,,, আমি জেদি?
না, তুই খুব শান্ত।
মিথ্যা কথা।
ঊষানের মুখে সামান্য হাসি ফুটল
দেখলি? নিজেই প্রমাণ করে দিলি।
নুহা মুখ ভার করার ভান করতেই ঊষান আবার অনাগত সন্তানটির উদ্দেশে বলল,,,,,,, তোর মা কিন্তু আমাকে সারাক্ষণ ভুল বোঝে। তুই বড় হয়ে আমার পক্ষ নিবি, বুঝলি?
নুহা এবার হেসে বলল, “আপনার সন্তান জন্মানোর আগেই ওকে নিজের দলে নিয়ে নিচ্ছেন?”
অবশ্যই।
ও যদি আমার পক্ষ নেয়?
ঊষান কিছুক্ষণ ভেবে বলল,,,,,, তাহলে দুজন মিলে আমাকে হারিয়ে দিস।আমার মা আর তুই।।
নুহা আর কিছু বলল না। শুধু চুপচাপ তাকিয়ে রইল মানুষটার দিকে।এই ঊষানকে সে আগে দেখেনি।
যে মানুষটা বাইরে সবার সঙ্গে কঠিন, যার চোখে সবসময় হিসাব আর সতর্কতা, সেই মানুষটাই নিজের অনাগত সন্তানকে নিয়ে এত সহজ হয়ে যেতে পারে এটা নুহার কাছে এখনও অবিশ্বাস্য।
ঊষান আবার নিচু স্বরে বলল,,,,,,,,,তুই তাড়াতাড়ি আসিস না। আগে ভালো করে বড় হ। তারপর আসবি। তোর জন্য অনেক কিছু দেখানোর আছে আমার।
কিছুক্ষণ পর সে যেন নিজের কথাতেই থেমে গেল।
নুহা ধীরে বলল,,,,,, আপনি ওকে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখেন?
ঊষান জানালার বাইরের সকালের আলোর দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,,,হয়তো।জানিস আমার না একটা মায়ের বড্ড অভাব সাথে তার শাসনেরও
তারপর খুব শান্ত স্বরে যোগ করল,,,,,,,,,,মানুষের জীবনে কিছু জিনিস আসে, যেগুলোকে হারানোর কথা ভাবলেই ভয় লাগে।নুহা চুপ করে গেল।ঊষান আর কিছু বলল না। শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। সকালের আলো তখন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, আর সেই আলোয় তার মুখের কঠোরতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নতুন অনুভূতিটা নুহার চোখ এড়াল না একজন বাবার অপেক্ষা।
আচ্ছা শোন আমি গোসল করে আসি তুই আমার ড্রেস রেডি কর বলেই ঊষান চলে গেলো।।নুহা ভদ্র বউ এর মতো স্বামীর আদেশ পালন করতে গেলো।।। সব ঠিক ঠাক করে রাখার পর হঠাৎ নুহার নজর যায় ঊষান এর ওয়ালেট এর দিকে ও ওটা হাতে নিয়ে খুলতেই ওর চোখ ছানা বড়া হয়ে গেলো………
★ ★ ★ ★ ★
~হ্যাপি রিডিং ❤️❤️~
#চলবে

