Home "ধারাবাহিক গল্প "তু্ই আমার তু্ই আমার পর্ব-১৫

তু্ই আমার পর্ব-১৫

0
11

#তুই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _১৫

🚫কপি করা নিষিদ্ধ & প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত, ভালো না লাগলে স্কিপ করুন 🚫

ঊষান বেরিয়ে যাওয়ার পর বাড়িটা বেশ কিছুক্ষণ অস্বাভাবিক শান্ত ছিল নুহা বেশ অনেকক্ষন মন খারাপ করে বসে ছিলো। ও খালি ভাবতেছে ঊষান কি ওর কথা রাখবে ।

বেশ কিছুক্ষন যাওয়ার পরেও নুহার অস্তিরতা কমছিলো না।নুহা তখনও বুঝতে পারছিল না কেন সকাল থেকে তার ভেতরটা এত অস্থির লাগছে। ঊষান বের হওয়ার আগে খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও তার চোখেমুখে একটা চাপা চিন্তা ছিল, যেটা নুহার নজর এড়ায়নি। বারবার মনে হচ্ছিল, মানুষটা কোথায় যাচ্ছে, কী কাজেই বা যাচ্ছে কিছুই তো সে জানে না।

ঊষান চলে যাওয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর নিচতলা থেকে গাড়ির শব্দ শোনা গেল। নুহা প্রথমে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি কারণ ও এখানে আসার পর থেকে এভাবে অনেক গাড়ি আসে ঊষান কে এসব বিষয় জিজ্ঞেস করেও কোনো উত্তর মেলেনি । কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার ঘরের দরজায় টোকা পড়তেই সে উঠে দাঁড়াল। দরজা খুলে দেখল, তার আব্বু আর কাকা দুজনেই দাঁড়িয়ে আছেন। দুজনের মুখই কেমন যেন গম্ভীর।

নুহা অবাক হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,,,, আব্বু!!তোমরা হঠাৎ এখানে আর ঠিকানা কই পেলে??

ওর কথার উত্তর না দিয়ে ওনারা ভিতরে ঢুকলেন।।ওর বাবা ঘরে ঢুকে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। যেন কথাটা কীভাবে শুরু করবেন, সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না। নুহার কাকা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনিও বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার বাবা ধীরে ধীরে বললেন,,,,,,,,,
তোর আম্মুর শরীরটা হঠাৎ খারাপ করেছে।

আসলেই এটা সত্যি নাকি ঊষান আর নুহার জন্য অন্য কোনো ফাঁদ কে জানে।।

কথাটা শুনেই নুহার মুখের ভাব বদলে গেল। সে দ্রুত বাবার কাছে এগিয়ে এসে বলল,,,,,,,,,,, কী হয়েছে আম্মুর আব্বু ?

“হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিল। এখন একটু ভালো আছে, কিন্তু ডাক্তার দেখানো দরকার।আর তোর মা বারবার তোকে দেখতে চাইছে।।”

নুহা আর এক মুহূর্তও দেরি করল না তাড়াহুড়ো করে ওড়নাটা ঠিক করতে করতে বলল,,,,,,,,,,”আমাকে নিয়ে চল।”

মা অসুস্থ আর মেয়ে যাবে না এটা তো হতে পারে না তাই না।।

তার বাবা মেয়ের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন এরপর বললেন ,,,,,,,,,,,, “এই জন্যই তো এসেছি।”

নুহা ব্যাগটা নিতে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল তার চোখ একবার ঘরের দরজার দিকে চলে গেল । ঊষান যাওয়ার সময় বলেছিল, সে ফিরে আসবে এসে ওকে না দেখতে পেয়ে ঊষান রাগ করবে না তো । মানুষটা এখন কোথায়, কী করছে সেটা সে জানে না,অথচ মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে তার মাথায় আর কিছুই আসছে না।

কাকা নুহার সেই থেমে যাওয়া লক্ষ্য করে বললেন,,,,,,,,,”কী হলো?”

নুহা মাথা নেড়ে বলল,,,,,,”কিছু না চল আব্বু ।”

তারা নিচে নামতেই বাড়ির লোকজনও বিষয়টা বুঝতে পারল বাড়ির লোকজন বলতে ঊষান এর গার্ড গুলো । নুহার বাবা কাউকে বিস্তারিত কিছু না বলে শুধু জানিয়ে দিলেন যে নুহার মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাই নুহা সেখানে যাচ্ছে । আর এদিকে নুহার মনে তখন শুধু একটা কথাই ঘুরছিল আম্মুর যেন কিছু না হয়।

গাড়িতে ওঠার পরও নুহা একবার নিজের ফোনটা হাতে নিল। ঊষানকে ফোন করবে কি না, সেটা নিয়ে কয়েক সেকেন্ড দ্বিধায় থাকল। শেষ পর্যন্ত ফোনটা আবার ব্যাগে রেখে দিল। আজ তার কাছে মায়ের চিন্তাটাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।গাড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নুহা জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ আগেও যে বাড়িটাকে তার নিজের বাড়ি মনে হচ্ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ নুহার কেমন অস্থির লাগলো ওর মনে হলো জীবনটা যেন আবার কোনো নতুন মোড়ের দিকে যাচ্ছে।আসলেই সামনের ঝড় সম্পর্কে নুহা যদি জানতো তাহলে আজকে ঊষান কে না জানিয়ে বের হতো না। নুহা জানতও না ঠিক সেই সময় শহরের অন্য প্রান্তে ঊষান নিজের মিশনে গিয়ে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যার খবর এখনো নুহার কাছে পৌঁছায়নি।যখন জানবে তখন কি হবে সেটা দেখার অপেক্ষায়।।

★ ★ ★ ★ ★

এদিকে,,,,

মিশন শেষ করে গভীর রাতে ঊষান যখন নিজের বাড়ির গেটের সামনে এসে গাড়ি থেকে নামল, তখন শরীরের ক্লান্তিটা আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। পোশাকের একপাশে আঘাতের চিহ্ন, মুখে ক্লান্তি, আর হাঁটার মধ্যেও বোঝা যাচ্ছিল যে সে যথেষ্ট আহত হয়েছে। তবু বাড়িতে ফেরার পর তার প্রথম চিন্তা ছিল নুহা। সকালে বের হওয়ার সময় মেয়েটা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, সে ফিরবে কি না সেই কথাটা সারাদিন তার মাথায় ছিল।

গাড়ি থেকে নামতেই বডিগার্ডরা দ্রুত এগিয়ে এল। একজন তার অবস্থা দেখে বলল, “স্যার, আগে মেডিকেল রুমে চলুন।”

ঊষান হাত তুলে থামিয়ে দিল এরপর ভিতরের দিকে চলে গেলো।।এদিকে ঊষান বাড়ি ফিরে তার জান তার পিচ্চি পাখিকে খুঁজে পাচ্ছে না…….!!

ও যটপট বাইরে এসে গার্ড দের জিজ্ঞেস করলো,,,,,,নুহা কোথায়?”

লোকটা একটু থেমে বলল,,,,,,,, “ম্যাডাম তো ”

ঊষানের চোখ সঙ্গে সঙ্গে তার মুখে গিয়ে আটকে গেল কিছু একটা হয়েছে সে বুজতে পেরেছে,,,,,,,,,,,,,”তো কী?”

ম্যাডাম এর বাবা এসেছিল তাঁদের সাথে চলে গেছে।।

ঊষান আর কোনো কথা শুনলো না ওর মাথায় ঘুরছে নুহা নেই চলে গেছে। আর নুহা ওকে একবারও এই কথা জানানোর প্রয়োজন মনে করলো না।

ঊষান কথা না বাড়িয়ে ভেতরে ঢুকে গেলো। এরপর সারা বাড়িতে একবার চোখ ভুলিয়ে নিলো,,,,,ড্রয়িংরুম ফাঁকা কেউ নেই সিঁড়ির পাশেও নুহার কোনো চিহ্ন নেই। ঊষান দ্রুত ওপরে উঠে গেল। ঘরের দরজা খুলে দেখল, বিছানা গোছানো সব ঠিক আছে কিন্তু ঊষান ar মাতাল রানী বাদে ওর কাছে মনে হচ্ছে ঘরটা অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা।
সে কয়েক মুহূর্ত দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ফিরে এসে করিডোরে থাকা কাজের লোককে ডাকল ফের আবার ওদের জিজ্ঞেস করলো,,,,,,,

“নুহা কোথায় গেছে?”

“স্যার, কিছুক্ষণ আগে ম্যাডামের আব্বু আর কাকা এসেছিলেন। উনার আম্মু অসুস্থ হয়েছিলেন তাই ম্যাডামকে নিয়ে গেছেন।”

কথাটা শুনে ঊষান যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে গেল তারপর দ্রুত জিজ্ঞেস করল,,,,,,”কখন?”

“আপনি আসার ঘণ্টাখানেক আগে।”

ঊষান পকেট থেকে ফোন বের করল। নুহাকে কল দিল। ফোন বেজে চলল, কিন্তু কেউ ধরল না। আবার কল করল। এবারও কোনো উত্তর নেই।

তার মুখের উদ্বেগ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠল।

“কোন হাসপাতালে গেছে, জানো?”

কাজের লোকটা মাথা নারিয়ে বলল,,,,,,,”না, স্যার।”

ঊষান কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল। মিশনের সময় যতটা ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলেছিল, এই মুহূর্তে নিজের বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে দাঁড়িয়ে সে যেন সেই নিয়ন্ত্রণটাই হারিয়ে ফেলছে। তার মাথায় একের পর এক আশঙ্কা ঘুরতে লাগল।সে আবার নুহার নম্বরে ফোন করল।এইবারও কোনো উত্তর নেই।

“ফোনটা ধরছিস না কেন পিচ্চি পাখি!!
কিন্তু এই সরে অস্থিরতা স্পষ্ট।তারপর হঠাৎ মনে পড়লো সকালে বের হওয়ার সময় নুহা তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “আজ ফিরবেন?”

ঊষান ধীরে সোফায় বসে পড়ল। আহত শরীরের ব্যথার চেয়েও তখন তার কাছে বড় হয়ে উঠেছে নুহাকে না পাওয়ার অস্বস্তি।কিছুক্ষণ পর সে আবার উঠে দাঁড়াল।

“গাড়ি বের করো।”

বডিগার্ড এগিয়ে এসে বলল,,,,,,, “স্যার, আপনার আগে চিকিৎসা দরকার।”

ঊষান কঠিন গলায় বলল,,,,,,, “চিকিৎসা পরে হবে আগে নুহাকে খুঁজে বের করো।”

সে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। কয়েক মুহূর্ত পর আবার থেমে নিজের ফোনের দিকে তাকাল। নুহার নামটা স্ক্রিনে জ্বলছে, কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া নেই।

ঊষানের মুখে তখন শুধু একটাই অনুভূতি ভয় ও কি নুহা কে হারিয়ে ফেলবে। নুহা ওর পরিবার এর লোকদের না চিনলেও ঊষান তো ওদের চিনে জানে ওরা আসলে কি চায়।।আজ ঊষান অনুভব করছে নিজের জীবনে অসংখ্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া মানুষটা সেই রাতে প্রথমবার বুঝতে পারল, নুহাকে হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা তাকে যেকোনো মিশনের চেয়েও বেশি অসহায় করে দিতে পারে।

ঊষান জানে নুহার মায়ের অসুস্থতা সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছুই না। আর ওর সন্দেহ সত্যি হলে ও এবার কাউকে ছাড়বে না। ঊষান সোজা নুহাদের বাড়িতে উপস্থিত হলো। ঊষান কে সবাই দেখে মনে হলো ওরা একটু অবাকই হয়েছে কিন্তু কেউ প্রকাশ করলো না। ঊষান সোজা নুহার বাবার সামনে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,,,,,,, আমার বউ কই অশুর মশাই??

ওনাদের কিছু বলার আগে নুহা দের বাড়ির খালা বলে উঠলো,,,, ছোট আম্মু তার ঘরে আছে আর কান্না করতেছে আমি দেখে এসেছি।।

ঊষান সোজা উপরে চলে গেলো নুহার রুমে। নুহা কে শুয়ে থাকতে দেখে ও ওকে টেনে উঠালো এদিকে নুহা ঊষান কে দেখে তো খুশির চূড়ায় পৌঁছে গেছে।।

চল।

যাবো না আমি।।

ঊষান হঠাৎ বলে উঠলো,,,,
কেনো চলে এলি?

ইচ্ছে হয়েছে তাই।

আর ফিরবি না তাহলে?

না।

কেনো?

এমনিতেই।

ঊষান :তুই কিন্তু তোর পরিবার কে বেচে নিলি আমাকে হারানোর পর আফসোস করিস না যেন!!আজকের পর থেকে তোর আর আমার পথ আলাদা হয়ে গেলো পিচ্চি পাখি!!

ঊষান এর কথা শুনে নুহা বিড়বিড় করে বললো,,,, একটু বলাতেই বিশ্বাস করে নিলেন একটা বারও খোঁজ নিলেন না কেনো এমন বললাম!!আমারও তো রাগ আছে অভিমান আছে!!

ঊষান চলে যেতে নিলে নুহা ঊষানের দিকে তাকিয়ে কান্না ভেজা কণ্ঠে বললো,,,,,,,,,,,,,

~”আচ্ছা আমাদের মেয়েদের কেনো কেউ বুজে না বলুন তো? পরিবার চায় তাঁদের কথায় চলি বিয়ের পর স্বামীর কথায়।। এর মাঝে যদি কোনো ভুল করে ফেলি তাহলে তো রক্ষে নেই!!বুজতে হবে মেয়ে কিনা আমার সবার কথা শোনার দায় আমাদের থাকলেওআমাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।এই সমাজ পারে শুধু আমাদের দোষারোপ করতে,,,,আর আজ আপনিও সেই ভাবেই আমাকে বিচার করলেন ঊষান ভাই।। আজও শুধু নিজের দিকটা দেখে গেলেন যেমন আমার পরিবার দেখছে!!”

ঊষান নুহার কথা শুনে থমকে দাড়ালো হঠাৎ কোনো আগাম বার্তা ছাড়া নুহার গোলাপি ওষ্ঠ জোড়া দখল করে নিলো।।

★ ★ ★ ★ ★

#চলবে