#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_২৩
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া
কেনো জানি ইহানের বলা কথাগুলো শুনে ফারিহার বেশ ভয় হচ্ছে।আর যাই হক না কেনো ইহান কখনো তার সাথে এভাবে কথা বলেনি।ইহানের কথায় স্পষ্ট অভিমান ফুটে উঠেছে তা ভালোই বুঝেছে ফারিহা।হাজার হক এই মানুষটাকে যে সে সবথেকে বেশি ভালোবাসে তা সে যতই খারাপ হক না কেনো।ফারিহার জীবন জুড়ে যে শুধুই ইহান আছে আর সেই থাকবে।ফারিহা মনে মনে বলে উঠলো,
ফারিহা—-একজনের জীবনে হাজারো ভালোলাগার মানুষ থাকতেই পারে কিন্তু ভালোবাসার মানুষ একজনই থাকে যাকে ভুলে থাকা যে বড্ড দাই।আমার জীবনেও যে সেই একজন শুধু আপনি।তাই তো আপনাকে ছাড়া কোনো কিছুই ভাবতে পারি না।
ফারিহার চিন্তার মাঝেই ওর সামনে ইথান এসে দাড়ালো।ইথানকে দেখতে পেয়ে ফারিহা ওর দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো যা দেখে ইথান চিন্তিত কণ্ঠে বলে উঠলো,,
ইথান—-ফারিহা ইহান কোথায়?ওকে কোথাও দেখতে পারছিনা যে।ওকে তো ওটিতে পাঠাতে হবে এখন।
ইথানের কথা শুনে ফারিহার এতোক্ষণে হুস ফিরলো।আশেপাশে ভালো ভাবে তাকিয়ে কোথাও ইহানকে দেখতে না পেয়ে ফারিহা অবাক হয়ে বলে উঠলো,,
ফারিহা—-আশ্চর্য ওনি কোথায় গেলো?এখানেই তো ছিলো একটু আগে।
ফারিহার কথা শুনে ইথান ভারি গলায় বলে উঠলো,,
ইথান—-ও হয়তো লাবিবাকে বোনমেরু দিতে চাচ্ছে না এইজন্য এমন করছে।আমি মানছি সবাই ওর সাথে যেটা করেছে সেটা অন্যায় কিন্তু ও যেটা করেছে সেটাও কিন্তু ঠিক না ফারিহা।আজ লাবিবার এই অবস্হা শুধু ওর জন্য।এখন যদি ও লাবিবাকে বোনমেরু না দেয় তাহলে ওকে আমি কখনো ক্ষমা করবো না।ওকে অনেক কঠিন শাস্তি পেতে হবে এর জন্য।
ইথানের কথা শুনে ফারিহা ওর দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠলো,,
ফারিহা—-চিন্তা করবেন না ভাইয়া।ওনি নিজেও ওনার কাজের জন্য অনুতপ্ত।তাই ওনি লাবিবাকে বোনমেরু না দিয়ে কোথাও যাবে না।
অন্যদিকে ইহান ইথানের কেবিনে বসে কিছু একটা লিখছে কাগজে।কাগজে প্রতিটা অক্ষর লিখতে গিয়ে বারবার তার কলমটা থেমে যাচ্ছে।হাতটা কাঁপছে।তার চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি পরছে।হাজারো যন্ত্রণা মনে নিয়ে তার অব্যাক্ত কথাগুলো কাগজটায় লিখলো সে।অতঃপর কাগজটা ওয়েট পেপারের নিচে চাপা দিয়ে টেবিলের উপর রেখেই চলে গেলো সে।
বাহিরে এসে দোতলায় চলে গেলো ওটি রুমের সামনে।ইহানকে দেখেই ইথানসহ সবাই একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো এটা ভেবে যে ইহান চলে যায়নি।ইহান ওটি রুমের কাছে এসে কাউকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই নার্স এসে তাকে নিয়ে গেলো ওটিতে।যাওয়ার সময় ইহানের চোখের কোণে দু ফোটা পানি জমা হলো যা নিজের হাত দিয়েই মুছে নিলো সে সবাট অগোচরে।
গত ২ঘণ্টা যাবত সবাই ওটি রুমের সামনে বসে আছে।হাজারো চিন্তা তাদের মাঝে কাজ করছে।ইহানের মা মরিয়া হয়ে উঠেছে।একদিকে তার মেয়ের জীবন নিয়ে প্রশ্ন আরেকদিকে তার ছেলে।ইথান শুধু ওটি রুমের সামনে দিয়ে পায়চারি করছে।তার মতে এতো সময় লাগার তো কথা না।সবার পাগলপ্রায় অবস্হা এ মুহূর্তে।ওটি রুমের সামনে অধীর আগ্রহে বসে আছে তারা।
আরো ১ ঘণ্টা অপেক্ষার প্রহর গুনে অবশেষে তিন ঘণ্টা পার করে ডক্টর ওটি রুম থেকে বেরিয়ে এলেন মুখটা মলিন করে।তাকে দেখে সবাই ছুটে গিয়ে তাকে জেকে ধরলো।ইথানের পাগলের মতন করে ডক্টরকে বলে উঠলো,,
ইথান—-ডক্টর লাবিবা কথা কেমন আছে?ও ঠিক আছে তো?আর আমার ভাই কেমন আছে?ওর কিছু হয়নি তো।আপনি এমন চুপ কেনো আছেন?উত্তর দিন?
ইথানের মুখে ইহানের কথা শুনে সবাই বেশ অবাক হলো।হওয়াটাই সাভাবিক কারন লাবিবাকে যে এক ফোটাও কষ্ট দেয় তাকে দু চোখেও দেখতে পারেনা ইথান সেখানে ইহানকে এখনো ভাই বলে পরিচয় দিচ্ছে।এটা কি অদ্ভুত নয়?
অন্যদিকে ডক্টরকে এভাবে চুপ থাকতে দেখে ফারিহার বুকটা ঢিপঢিপ করছে।বয় হচ্ছে প্রচুর তার।
সবার চিন্তার মাঝেই ডক্টর সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,,
ডক্টর—-শান্ত হন ইথান স্যার।মিস লাবিবা একদম ঠিক আছেন।শুধু ওনার একটু রেস্ট আর প্রচুর কেয়ারের প্রোয়জন সম্পূর্ণ সুস্হ হওয়ার জন্য।ওনাকে আইসিউতে শিফট করা হয়েছে।এখনো জ্ঞান ফেরেনি।জ্ঞান ফিরতে আরো ১ঘণ্টা লাগবে।
ডক্টরের কথা শুনে সবাই একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো।ঠিক তখনই ইথান অস্থির হয়ে বলে উঠলো,,
ইথান—-ইহান কেমন আছে ডক্টর?বলুন না আমার ভাই কেমন আছে?
ইহানের কথা শুনে ডক্টর মাথা নিচু করে বলে উঠলো,,
ডক্টর—-উই আর সরি স্যার।আমরা ওনাকে বাঁচাতে পারিনি।অপারেশনের সময় ওনার প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছিলো।তাছাড়া আরো নানান সনস্যা দেখা দিচ্ছিলো ওনার যার দরুন আমরা ওনাকে বাঁচাতে পারিনি।আর সত্যি বলতে আমরা ওনার মাঝে বাঁচার কোনো স্প্রিট দেখতে পায়নি।মানুষের নিজের বাঁচার ইচ্ছা থাকতে হয় কিন্তু ওনি খুবই ডিপ্রেশনে ছিলেন।ওনার থেকে বোনমেরু নিয়ে মিস লাবিবাকে ডোনেট করার পরই ওনার মুখে এক চিলতে হাসির রেখা ফুটে উঠেছিলো।তার পরপরই ওনার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় আর সাথে ব্লিডিং।আমরা অনেক চেষ্টা করি কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।সরি স্যার।বডিটা ওটিতেই আছে এখনো।এটা যেহেতু আপনাদের হস্পিটাল তাই আপনারা সব ফর্মালিটি পুরোন করে ডেড বডিটাকে নিয়ে যান।
কথাগুলো বলেই ডক্টর চলে গেলেন।সবাই জানো স্তব্দ হয়ে গেছে ডক্টরের কতা শুনে।তারা কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না যে ইহান আর নেই।সবার চোখে পানি চিকচিক করছে।ইথানের এবার মাথা খারাপ হয়ে এলো।নিজের মাথার চুলগুলো টেনে এলোমেলো দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে সে বারবার।চোখ দিয়ে তার টপটপ করে পানি পরছে।মনে হচ্ছে কেউ তার কলিজার একটি টুকরো ছিড়ে নিয়েছে।হাজার হক ইহানকে সে প্রচুর ভালোবাসে বাকি সবার থেকে।যতই ইহানের প্রতি ঘৃণা থাকুক না কেনো নিজের কলিজার টুকরো ভাইটাকে হাড়িয়ে তার কাছে সবকিছু বিষাক্ত মনে হচ্ছে।
ইহানের মা চেয়ারের উপর বসে ডুকরে কেঁদে উঠলেন।কান্নাভেজা কণ্ঠে সে বলেন উঠলেন,
ইপ্শিতা—-আমার ছেলেটা চলে গেলো।নিজের বোনটাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণটায় দিয়ে দিলো।আমার কোলটা শূন্য করে চিরকালের জন্য চলে গেলো সে।আমার জীবনের আলোটুকু নিয়ে চলে গেলো আমার ছেলেটা।খুশি হয়েছো তো তোমরা?আর তোমাদের ওই ঘৃণার মুখটা দেখতে হবে না।তোমাদের সবথেকে অপ্রিয় জিনিসটা আর তোমাদের সামনে আসবে না।তোমাদের জীবন আবারো খুশিতে ভরিয়ে দিয়ে গেলো আগের মতন।এবার তো আর কোনো ক্ষোভ নেই তোমাদের আশা করি।ফারিহা তুমি একটু আগে বলেছিলে না যে তোমার আরেকটা বিয়ে করতে ইচ্ছা করছে?আরেকজনের সাথো সুখের সংসার বাধতে মন চাইছে?দেখো আমার ছেলেটা তোমাকে আজ মুক্ত করে দিলো।তোমার জীবনটাকে স্বাধীন করে দিলো।এবার তোমাকে আর ইহানের মুখ দেখতে হবে না।চলে যাও তুমি এখান থেকে আর সুখোর সংসার বাধো।তোমরা সবাই চলে যাও।তোমাদের ওই ঘৃণার মুখটা আর দেখতো হবে না।আমাকে আমার মরা ছেলের লাশটাকে শেষ বারের মতন দেখতে দেও শান্তিতে,,,,,
#চলবে?
#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_২৪
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া
ফারিহার মাথার মধ্যে চক্কর দিয়ে উঠলো ডক্টরের কথা শুনে।তার কাছে এখনো সবকিছু স্বপ্নের মতন লাগছে।সে এটা কিছুতেই মানতে পারছে না যে তার ইহান আর বেঁচে নেই।ফারিহা কোনো কিছু না ভেবে ঢুলুঢুলু পায়ে হেটে ওটির ভিতর চলে গেলো।স্ট্রেচারের উপর ইহানের ডেডবডিটা দেখে তার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত জালা অনুভব হচ্ছে।মনে হচ্ছে কেউ তার হৃদপিণ্ডটা ছিড়ে নিয়েছে তার থেকে।ফারিহা ছলছল চোখে ইহানের মুখের দিকে তাকিয়ে এগিয়ে গেলো স্ট্রেচারের দিকে।স্ট্রেচারের কাছে গিয়ে ইহানের মুখে হাত রেখে ডুকরে কেঁদে উঠলো সে।চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরলো তার।ফারিহা ইহানের ডেডবডিটা জরিয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠলো।চোখের সামনে প্রিয় মানুষটার লাশ জানো তাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে।ফারিহা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো,,
ফারিহা—–এই ইহান চোখ খুলো প্লিজ।আমাকে ছেরে কোথাও যেতে পারো না তুমি।চোখ খুলো প্লিজ।আমি তো তখন তোমাকে একটু কষ্ট দেয়ার জন্য বলেছিলসম যে আরেকজনকে বিয়ে করবো কিন্তু তুমি যে আমার এই ছোট্ট কথায় এতোটা অভিমান করবে ভাবতেও পারিনি আমি।তুমি ছাড়া আমার জীবনে যে আর কোনো দ্বিতীয় পুরুষ নেই আর কখনো আসবেও না।তুমি যে আমার ভালোবাসার প্রিয়।তোমাকে তো আমি তখনই ক্ষমা করে দিয়েছিলাম যখন তুমি লাবিবা নিজের বোন না জানা সত্তেও নিয়জের বোনমেরু দিতে রাজি হয়ে গেছিলে।তোমাকে আরেকটু শাস্তি দেয়ার জন্য আমি ওই কথাগুলো বলেছিলাম তখন,তাই বলে এভাবে ছেরে চলে যাবে?কেনো আমি তখন তোমাকে ওই কথাটা বললাম।আজ যদি ওই কথাটা না বলতাম আমি তাহলে হয়তো আমার প্রিয় এতোটা অভিমান করে আমাকে ছেড়ে চলে যেতো না।তোমাকে ছাড়া যে আমি বড্ড অচল।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ইহান।প্লিজ একটাবার কথা বলো।
ফারিহার চোখের পানি আজ বাধ মানছে না।হাজারো বার সে ইহানকে আজ ডাকছে কিন্তু ইহান আজকে তার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না।একদিন ইহানও ফারিহাকে হাজার বার বলেছিলো যে সে তাকে সত্যি খুব ভালোবাসে।তার অবহেলা একদমই সয্য করতে পারবে না সে।ভিক্ষা চেয়েছিলো ভালোবাসা।কিন্তু ফারিহার চোখে সেই ভালোবাসার কোনো দাম ছিলো না তখন।সে তো তখন ইহানকে ঘৃণার চোখে দেখতো তার কাজের জন্য।আর আজ যখন সেই একি দোয়ারে ফারিহা এসে ভালোবাসা ভিক্ষা চাচ্ছে তখন ইহানও মুখ ফিরিয়ে নিলো।চলে গেছে সে অনেক দূরে না ফেরার দেশে।ফারিহার করা অবহেলাগুলো সয্য করতে পারেনি সে।
ফারিহা কাঁদতে কাঁদতে হঠাৎ তার মাথাটা ভার হয়ে এলো।চোখটা ঝাপসা লাগছে তার।আর কিছু ভাবার আগেই সেন্স হারালো সে।
ইথান নিজের কেবিনে এসে দরজাটা লক করে দিলো।ফ্লোরের উপর হাটু ভাজ করে বসে চেঁচিয়ে কাঁদতে লাগলো সে।তার কান্নার আওয়াজ এই রুমেই সিমাবদ্ধ।রুমের চারিদিকে তাকাচ্ছে আর বারবার ডুকরে কেঁদে উঠছে ইথান।এই রুমে যে ইহান আর তার হাজারো ছোটবেলার সৃত্মি আছে।ইথান ফ্লোর থেকে উঠে দাড়িয়ে পুরো রুমটা একবার চোখ বুলালো।তার চোখ বেয়ে দু ফোটা পানি বেরিয়ে এলো।টেবিলের সামনে এসে ওয়েট পেপারের নিচে থাকা কাগজটার দিকে তাকিয়ে কিছুটা অবাক হলো সে।কাগজটা হাতে নিয়ে দেখা মাত্রই বুঝে গেলো সে যে এটা ইহানের হাতেরলেখা।কিছুক্ষণ কাগজটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে খুলে পড়তে শুরু করলো সে।
আমার প্রিয় বড় ভাইয়া,,
ভাইয়া বলে সম্মধোন করছি বলে রাগ করোনা হতেও পারে এটাই আমার শেষ ডাকা তোমাকে।আমি জানি ভাইয়া বলে ডাকার অধিকার আমার আর নেই।তোমার সাথে অত্যন্ত জঘন্য অন্যায় করেছি যে আমি।তোমার ভালোবাসার মানুষটাকে মেরে ফেলে তোমাকে আঘাত করতে চেয়েছিলাম আমি।আমার যেই ভাই আমাকে এতো ভালোবাসা দিয়ে বড় করলো সেই ভাইকে কষ্ট দিতে চেয়েছিলাম।আমার অন্যায়টা অনেক বেশি জঘন্য ছিলো সবার থেকে যার কোনো ক্ষমা ছিলো না।যখন নিজের ভুলটা বুঝতে পারলাম তখন নিজেকে খুব বেশি অপরাধী লাগছিলো।ভেতরে ভেতরে নিজের করা কাজের জন্য কুড়ে কুড়ে মরছিলাম আমি কিন্তু মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে পারছিলাম না।নিজের পরিবারের চোখে নিজের প্রতি ভালোবাসার বদলে রাগ দেখেছিলাম আমি।যে ভাই আমাকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসতো সেই ভাই আমাকে সয্য করতে পারছিলো না।আমার সাথে কথা বলছিলো না।আমি তার বিরক্তের পাত্র ছিলাম।সবশেষে নিজের প্রিয়তমার চোখে নিজের জন্য ভালোবাসার বদলে ঘৃণা আর অবহেলা দেখেছিলাম আমি যেটা আমার কন্য সবথেকে বেশি কষ্টকর ছিলো।প্রিয়তমার করা অবহেলাগুলো সয্য করার ক্ষমতা ছিলো না আমার।এরপর নিজের পাপের বোঝা কোমাতে যখন লাবিবাকে বোনমেরু দিতে রাজি হয়েছিলাম তখন কানো সবথেকে বড় ধাক্কাটা খায় আমি।নিজের লোভ আর হিংসার বসে অজান্তে নিজেরই ছোট্ট বোনটাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিলাম আমি।খুব রাগ লাগছিলো তখন নিজের উপর।ছোট বোনটার দিকে তাকানোর মুখ ছিলো না আমার।তখন আমার জীবনের মূল লক্ষ্য ছিলো আমার বোনটাকে বাচানো।আমি জানতাম যে এই অপারেশনটা একটু বেশি ক্রিটিকাল।অপারেশন শেষ হলেও রিস্ক ঠিকই থেকে যায়।সত্যি বলতে আমার ইচ্ছা হচ্ছে মরে যেতে।নিজের এই অন্যায় আর সবার অবহেলা আমাকে প্রতিনিয়ত শেষ করে দিচ্ছে।বাচার ইচ্ছাটাই মরে গেছে আমার মধ্যে।ওটিতে যাওয়ার আগে ফারিহার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম কিন্তু তার স্পষ্ট উত্তর ছিলো সে মুক্তি চাই আমার মতন জঘন্য মানুষের থেকে।তার ইচ্ছা অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখে থাকতে।সত্যি বলতে আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে আমি ঠিক কতটা অন্যায় করতে গিয়েছিলাম তোর সাথে।নিজের প্রিয়কে নিজের থেকে দূরে যেতে দেখে নিজের অন্যায়গুলো বুঝে গিয়েছিলাম।সবশেষে মাথায় এতো অন্যায়ের বোঝা আর নিজের প্রিয়তমাকে নিজের থেকে দূরে যাওয়ার কষ্ট আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে।আমি পারবো না এভাবে বেঁচে থাকতে।আমার বাঁচার কোনো স্প্রিট নেই।নিজের মনে অব্যাক্ত কথাগুলো এই কাগজে লিখে গেলাম।পারলে তোমরা সবাই আমাক ক্ষমা করো।দিদুনকে আমি খুব ভালোবাসতাম কিন্তু সে আমাকে তেমন পছন্দ করতো না তাই তার প্রতি আমার রাগ হতো খুব।দিদুনকে বলো আমাকে জানো মাফ করে দেয়।ফারিহাকে মুক্তি দিলাম আমি।সে জানো খুব খুশিতে থাকে ভাইয়া।আর এবার আমি তোমার কাছে নিজের সবটুকু দিয়ে ক্ষমা চাইছি।জানি খুব ঘৃণা করো তুমি আমাকে কিন্তু পারলে শেষ বারের মতন এই ছোট ভাইটাকে ক্ষমা করে দিও।লাবিবাকে নিয়ে খুশি থেকো নিজের জীবনে।আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে এটাই হয়তো আমার শেষ দেখা তোমাদের সাথে।হয়তো আর ফিরবো না আমি।তাই যাওয়ার আগে সবার থেকে ক্ষমা চাইছি।
ইতি,
তোমাদের প্রত্যেকের সেই ঘৃণার ইহান।
পুরো চিঠিটা পড়ে ইথানের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো।ছেলেরা নাকি সহজে কাদে না কিন্তু ইথান আজ কাঁদছে।নিজের ভাইয়ের অভিমান নিয়ে লেখা চিঠিটা আজকে তাকে কাঁদাচ্ছে,,,
#চলবে?