#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_২৫(সারপ্রাইজ পার্ট)
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া
কেবিনের দরজায় টোকা পরার আওয়াজে ইথানের হুশ ফিরে।তাতারি করে চিঠিটা পকেটে ঢুকিয়ে চোখের পানিটা মুছে দরজার কাছে এসে জোরে বলে উঠে,,
—-কে?
ইথানের কথা শোনা মাত্রই ওপাশ থেকে লোবা নিচু কণ্ঠে বলে উঠে,,
—-ইথান ভাইয়া আমি।দরজাটা খোলো প্লিজ
লোবার কথা শুনে ইথান দরজাটা খুলে দেয়।দরজা খোলা মাত্র লোবা ইথানের সামনে এসে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে উঠে,,
লোবা—-ইথান ভাইয়া ফারিহা ভাবি মাথা ঘুরে পরে গিছে।ভাইয়ার এভাবে চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারিনি।ভাবিকে হস্পিটালে এডমিট করা হয়েছে।শরীর খুব দূর্বল।তুমি একটু চলো প্লিজ।
লোবার কথা শুনে ইথান আর কিছু না বলে দ্রুত গতিতে সেখান থেকে চলে গেলো ফারিহার কাছে।মোটামুটি সবাই ফারিহার কাছে বসে আছে।সবাই সেখানে বসে নিরবে চোখের জল ফেলছে।আজ সবার গিল্টি ফিল হচ্ছে নিজের মধ্যে।সবার কষ্ট হচ্ছে খুব।যদি তারা ছোট থেকে ইহানকে সমান ভালোবাসা দিতো তাহলে হয়তো আজ এতোকিছু হতো ন।ইহানের মা এখনো পাগলের মতন কান্না করে চলেছে নিজের ছেলের জন্য।নিজের মেয়েকে ফেরত পেলেও নিজের ছেলে হারানোর কষ্ট তাকে শেষ করে দিচ্ছে ভেতর থেকে।ফারিহার এখনো জ্ঞান ফেরেনি।
সবাইকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখে ইথানের আর ভেতরে যেতে ইচ্ছা করলো না।সবার আড়ালে চোখের জল ফেলছে সে।হঠাৎ ইথানের মাথায় এলো এখানে সবাই থাকলেও ওর বাবা আর দিদুন তো নেই।ওর বাবাতো ইহানের ডেডবডিটা বাড়িতে নেয়ার জন্য সব ফর্মালিটি পুরোন করছে কিন্তু দিদুন কোথায় গেলো?এতোকিছুর মাঝে দিদুনের কথা তো সবাই ভুলেই গেছে।কিন্তু দিদুনের তো শরীরটাও তেমন ভালো না তারঅপর এতো বড় ধকল নিতে পারবে কিনা কে জানে।ইথান মনে মনে এসব ভাবতে লাগলো আর দিদুনকে খুজতে লাগলো।
অন্যদিকে ওটিতে স্ট্রেচারের উপর ইহানের বডিটা এখনো পরে আছে আর তার সামনে দাড়িয়ে আছে ডক্টর।ডক্টরকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে সে খুব ভয়ে আছে।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে তার।ডক্টর ভিত কণ্ঠে নার্স আর ওয়ার্ড বয়কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,,
—-কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই তারাতারি করে ইহান স্যারের বডিটা প্যাক করে ফেলো।
ডক্টরের কথা শুনে একজন বলে উঠলো,,
—-কিন্তু স্যার বাড়িতে গিয়ে ওনারা যখন স্যারকে দেখবে শেষ বারের মতন তখন তো বুঝে যাবে যে ওনি মারা যায়নি।ওনার হার্ট বিট করছে এখনো।শরীরের রক্ত চলাচল সক্রিয় আছে এখনো।কেবল যে বিষের প্রভাবে ওনার সেন্স নেই আর শরীরটা মৃত মানুষের মতন ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে যার জন্য সবাই ভাবছে ওনি মৃত।কিন্তু ওনার হার্ট চেক করলে সবাই সত্যিটা ধরে ফেলবে।তখন আমাদের কি উপায় হবে স্যার?
—-বাড়িতে যেতে যেতে ইহান স্যারের শরীরে বিষটা একেবারে ছড়িয়ে পরবে আর ততক্ষণে ওনি সত্যি মারা যাবে।তখন হার্ট চেক করলেও কেউ কিছু বুঝতে পারবে না।তোমাদের যেটা বলছি সেটা করো।
—-স্যার সবটা বুঝলাম কিন্তু আপনি কেনো ওনাকে মেরে ফেলতে চাইছেন?ইথান স্যার যদি কিছু টের পেয়ে যায় তাহলে আমাদের মেরেই ফেলবে ওনি।
—-সেটা তোমাদের না ভাবলেও চলবে।যা বলছি তাই করো নাহলে তোমাদের সবার চাকরী চলে যাবে আর তখম না খেয়ে মরবে তোমরা।
আর কিছু বলার আগেই ডক্টরের ফোনে একটা কল আসলো যা দেখে ওনি ভয়ে ঘামতে শুরু করলেন।ফোনটা রিসিভ করে ওটির বাহিরে সবার আড়ালে চলে গেলেন তিনি।
অন্যদিকে বাকিরা একবার ইহানের দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে।এই প্রথম তারা নিজের সার্থের জন্য একটা জীবন্ত মানুষকে মৃত বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
ইথান তার দিদুনকে খুজতে খুজতে ওর ওটির সামনে চলে এলো কিন্তু কোথাও পেলো না।বাহির থেকে ইহানের বডি দেখে তার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।একটু আগের চেপে রাখা ক্ষতটা তাজা হয়ে উঠলো।চোখের সামনে ভাইয়ের লাশ দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না সে।দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদা শুরু করলো।
হুট করে ইথানকে এখানে এভাবে আসতে দেখে সবাই খানিকটা ভরকে গেলো।মনে মনে ভয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে তারা।
ইথানের কোনোদিকে খেয়াল নেই এখন।সে যদি পারতো তাহলে ইহানকে হয়তো নিজের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখতো।ফ্লোরে হাটু ভাজ করে ইহানের বুকে মাথা রেখে ডুকরে কাঁদছে ইথান আর বলছে,,
ইথান—-এই ভাই আমি তোকে ক্ষমা করে দিয়েছি।তোর উপর একটুও রেগে নেয় আমি।তোর কাজের জন্য তুই অনুতপ্ত।আর কেউ যদি নিজের ভুলের বুঝতে পারে তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।সেখানে আমি আমার ছোট ভাইটাকে একটা সুযোগ দিবো না সেটা কি করে হয়।তোর লেখা চিঠির প্রতিটা অক্ষর বলে দিচ্ছে যে তুই তোর ভুলের জন্য কতটা কষ্টে আছিস।আমরা সবাই তোকে ক্ষমা করে দিয়েছি।এখন তুই যদি আমাদের ছেড়ে চলে যাস তাহলে আমরাই যে সবথেকে বেশি কষ্ট পাবো।দোষ তোর একার ছিলো না আমাদের সবার ছিলো।তাই তুই একা না সবাই শাস্তি পাবে।কিন্তু তুই এভাবে চলে গেলে যে আমরা সবাই শেষ হয়ে যাবো ভাই।ফিরে আই প্লিজ।
ইথান কথাগুলো বলছে আর কাঁদছে ঠিক তখনই ওর কানে ইহানের হার্টবিটের আওয়াজ এলো।বিষের জন্য হার্ট স্লো মোশনে বিট করলেও তা ইথানের কানে শেষ পর্যন্ত পৌঁছেই যাই,,,
#চলবে?
#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_২৬
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া
প্রথমবার ইহানের হার্টবিট শুনতে পেয়ে ইথান বেশ চমকে উঠলো।মরা মানুষের হার্ট কেমন করে বিট করে?ইথান বিষয়টা শিওর হওয়ার জন্য যখন আবারো ইহানের বুকে মাথা রেখে কান পাতলো তখন স্পষ্ট ইহানের হার্টবিটের শব্দ শুনতে পেলো সে।অবাকের শেষ পর্যায়ে চলে গেলো ইথান।ইথান তাতারি করে ইহানের হাত ধরে পাল্স চেক করলো।খুব ধীর গতিতে তার নাড়ি চলছে।ইথান চট করে বুঝে ফেললো যে ইহান বেঁচে আছে।কিন্তু তার মাথায় এটা আসছে না যে ইহানের শরীর এমন মৃত মানুষের মতন ঠান্ডা কেনো আছে।ঠিক তখনই ইথানের চোখ গেলো ইহানের ঠোঁটের দিকে।অদ্ভুত ভাবে ওর ঠোঁটজোড়া আস্তে আস্তে নীল রং ধারন করছে।ডক্টর হওয়ার সুবাধে ইথানের আর বুঝতে বাকি রইলো না যে ইহানকে স্লো পয়জোনিং করা হয়েছে যার জন্য ওর শরীর ধীরে ধীরে এমন মৃত মানুষের মতন অচল হয়ে পরছে।এই বিষ আর কিছুক্ষণ ওর শরীরে থাকলে এবার মৃত্যু নিশ্চিত।যে করে হক ওকে তাতারি ওয়াশ করাতে হবে।এ মুহূর্তে ইহানকে বাচানো বাদে আর কোনো কিছুই মাথায় আসছো না তার।
ইথান রেগে চেচিয়ে নার্সদের উদ্দেশ্যে বললো,,
—-ইহান বেঁচে আছে।আমার ভাই বেঁচে আছে।ওর শরীরে বিষ আছে।তারাতারি ওয়াশ করাতে হবে নাহলে আমার ভাইটাকে আর ফিরে পাবো না।তোমরা কুইকলি ওয়াশ করানোর জন্য সবকিছু রেডি করো নাহলে সবকয়টাকে য্যান্ত পুতে ফেলবো।
সবাই এমনিই ধরা পরে যাওয়ার ভয়ে আছে তারঅপর ইথানের এমন কথা শুনে তারা সবাই একেবারে নুয়িয়ে পরলো।ভয়ে তাদের প্রাণ যাই যাই অবস্হা।ইথানের রাগের ব্যাপারে তারা সবাই জানে তাই ভয়ে ভয়ে সবকিছু এরেন্জ করে দিলো তারা মিনিটের মধ্যে।ইথান নিজেই এবার নিজের ভাইয়ের ট্রিটমেন্ট করবে।কেনো জানি তার ডক্টরের এপর থেকে বিশ্বাস উঠে গিছে।ইহানের এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছুই জানে না।
প্রায় ১ঘন্টা যাবত সময় নিয়ে ওয়াশ করানো হলো ইহানকে।অবশেষে ইহানের শরীর থেকে বিষ তো দূর করলো কিন্তু ইহান এখনো সেন্সলেস হয়ো পরে আছে।জ্ঞান ফিরতে আরেকটু সময় লাগবে।
ইহানকে আইসিউতে দিয়ে পর সাথে আসা সেই দূজন পুলিশকে উদ্দেশ্য করে শান্ত কণ্ঠে বলে উঠলো ইথান,,
—-আমি ছাড়া এই রুমে কাউকে এলাউ করবেন না আপনারা।সে যদি আমাদের ফ্যামিলি মেম্বার ও হয় তবুও যেতে দিবেন না।কথাগুলো জানো মনে থাকে নাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।
ইথানের এমন শান্ত কণ্ঠেের মাঝেও হাজারো রাগ প্রকাশ পায় যার জন্য পুলিশের লোকেরাও একটু ভয় পেয়ে গেলো।তারা ইথানের এক কথায় রাজি হয়ে গেলো।
রাত প্রায় ১২টা।চারিদিকে শুনশান নিরবতা।হস্পিটালে এখন তেমন মানুষও নেই শুধু ইমার্জেন্সি পেশেন্ট ছাড়া।ইথানের এখন অত্যন্ত ক্লান্ত লাগছে শরীরে।সেই সকাল থেকে একের পর এক ধকল তাকে সইতে হচ্ছে।আজকের দিনটা জানো তার জন্য ঝড়ের মতন ছিলো।একদিনে এতোগুলো সত্যি জানা তারঅপর লাবিবার অপারেশন আর ইহানের এমন অবস্হা সব জানো তার মাথাকে হ্যাং করে দিচ্ছে।সকালের জামাকাপড় এখনো তার গায়ে।চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও সে খুব খুশি আজকে।অবশেষে তার ভাইটাকে তো আল্লাহ তার কাছে রেখে গেলো।নিজের ভালোবাসাকেও ফিরে পেলো সে।এতোটাই খুশি জানো সে হাতের কাছে জানো চাঁদ পেয়ে গেছে।
ইহানের ব্যাপারে এখনো কাউকে কিছু বলেনি সে।সে চাচ্ছে পরিবার লোক আরেকটু কাঁদুক।কষ্ট পাক ইহানের জন্য।তারাও তো ছোট থেকে ইহানকে কম ভালোবাসা দিয়েছে।বিশেষ করে ওর দিদুন।এতোকিছুর মাঝে লাবিবার আর ফারিহার কথা ভুলেই গেছিলো ইথান।এতোক্ষণে হয়তো লাবিবার জ্ঞান ফিরেছে তাই সে তার প্রিয়তমার কাছেই ছুটলো।
যাওয়ার পথে ইহান আর লাবিবার অপারেশন যে ডক্টর করিয়েছিলো তার কেবিন বাঁধলো।ডক্টরের কেবিনের সামনে আসতেই কিছু একটা ভেবে থমকে গেলো সে।রাগে তার কপালের রগগুলো ফুলে উঠলো।চোখদুটো টকটকে লাল হয়ে উঠলোবারো সে আগের মতন রাগে ফেটে পরলো।নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাগ কমানোর চেষ্টা করলো সে।দাতের উপর দাত চেপে কেবিনের দরজায় জোড়ে একটা লাথি মারলো সে যদর দরুন দরজাটা সাভাবিকের চেয়ে একটু জোরেই খুলে গেলো।
হুট করে এভাবে কেবিনের দরজায় শব্দ হওয়ায় বেশ চটে গেলো ডক্টর।ডক্টর দরজার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে ফোনে কথা বলছিলো তাই দেখতে পায়নু যে কে এমন করেছে।রেগে বলে উঠলো সে,
—-এইভাবে একজন ডক্টরের কেবিনের দরজা ধাক্কানোর মানে কি?এটা কি আপনার বাবার হস্পিটাল নাকি যে এমন ভাবে দরজা খুলে যার তার কেবিনে ঢুকে ডিস্টার্ব করছেন?
ইথান রাগে দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠলো,,
—-একদম।এটা আমার বাবারই হস্পিটাল।এখানে আমার দাপটই চলে।
ইথানের গলার আওয়াজ পেয়ে ডক্টরের হাত থেকে ফোনটা ঠাস করে নিচে পরে গেলো।পিছনে ঘুরে ভয়ে ভয়ে ইথানের দিকে তাকালো সে।ইথানের মুখের দিকে তাকাতেই তার কলিজাটা কেঁপে উঠলো।ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গিয়েছে রাগের চোটে।কপালের রগগুলো ফুলে উঠেছে।ডক্টর এবার ঘামতে শুরু করলো।ইথান ডক্টরের দিকে এক পা এগিয়ে আসতেই ডক্টর দুই পা পিছিয়ে গেলো।ইথান রাগে ডক্টরের সার্টের কলার ধরে টেনে গায়ের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ফ্লোরে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিলো।ইচ্ছা মতোন চর-থাপ্পর মারতে লাগলো তার মুখে যার জন্য তার নাক থেকে রক্ত বেরিয়ে এলো।ইথান দাতে দাত চেপে বলে উঠলো,,
—-আমার ভাইয়ের শরীরে কেনো স্লো পয়জোনিং করেছিস বল?তোর সাহস কি করে হলো ওর শরীরে বিষ ভরে দেয়ার?অপারেশন থিয়েটারে তুই ছিলি তাইনা তাহলে এটা তোরই কাজ আমি জানি।এখন বল কেনো এমন করেছিস?ওই নার্সগুলো তোকে সাহায্য করছে তাইনা?আমি জানি তোর একার এতো সাহস হবেনা ইহানের সাথে এমন করার।কার কথায় এমন করেছিস তুই?বল নয়তো এখানেই জ্যান্ত পুতে দিবো তোরা যেমন আমার জীবিত ভাইটাকে মৃত বলেছিস।
ইথানের কথা শুনে ডক্টর সেকেন্ডে বুঝে ফেলছে যে ইথান সব ধরে ফেলছে।যা ভয় ছিলো সেটাই হলো।সবাইকে বোকা বানানো গেলেও ইথানকে বানাতে পারেনি তারা।একজন ব্রিলিয়ান্ট ডক্টরকে কি আর এতো সহজে বোকা বানানো যায়।ডক্টর বুঝতে পারলো যে এখন ইথানকে সবটা খুলে না বললেওর আরো বিপদ।সে ভয়ে ভয়ে বলে উঠলো,,
—-আমি ইচ্ছা করে এমনটা করিনি বিশ্বাস করুন স্যার।আমি তো শুধু আমার চাকরীটা বাঁচাতে এগুলো করেছি।আমার ছেলে-মেয়ে যে মা খেয়ো মরবে যদি চাকরীটা চলে যায়।
ডক্টরের কথা শুনে ইথান জানো আকসশ থেকে পরলো।ওদের চাকরী আবার কে কেড়ে নিবে?ইথানের চিন্তার মাঝেই ডক্টর বলে উঠলো,,
—-স্যা আপনার দিদুনই আমাকে ইহান স্যারকে ওটিতেই মেরে ফেলতে বলেছে।লাবিবা ম্যামকে বোনমেরু দেয়া হয়ে গেলে আমি জানো তাকে মেরে ফেলি।কিন্তু অন্যভাবে মারলে সবাই জেনে যেত তাই এভাবে স্লো পয়জোনিং করেছি।আমি এমনটা না করলে ওনি আমার চাকরীটা কেড়ে নিবপ বলে।সাথে এটাও বলে যে আমি যাতে আর কোথাও চাকরী না পায় সেই ব্যাবস্হাও করে রাকবে।স্যার আপনাদের অনেক টাকা আছে।অনেক ক্ষমতা আছে।আপনারা চাইলে এমনটা করতে পারতেন।আমার ছোট পরিবার আছে একটা।আমরা না খেতে পেয়ে মরতাম।তাই নিজের সার্থে এমনটা করেছি।অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগে আপনার দিদুনই আমাকে অন্যরুমে টেনে এনে এমনটা করতে বলে।
কথাগুলো বলতে বলতে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরে তার।আসলেই পেটের দায়ে মানুষকে কত কিছুই করতে হয়।
ইথান জানো ডক্টরের কথাগুলো শোনার জন্য মোটেও প্রস্তত ছিলো না।ওর দিদুন এমন জঘন্য কাজ কেমন করে করতে পারে?একজন বৃদ্ধ মানুষের মন এতোটা নিচ কেমন করে হতে পারে?ওর দিদুন তো কত ভালো মানুষ আর সে কিনা এমন একটা কাজ করলো।নিজের দিদুনের এমন রূপ কিছুতেই মানতে পারছে না ইথান,,,
#চলবে??