স্নিগ্ধ প্রেমের সম্মোহন পর্ব-২৫+২৬

0
2338

#স্নিগ্ধ_প্রেমের_সম্মোহন
[পর্ব-২৫]
লেখিকা: #সাদিয়া_মেহরুজ_দোলা

সন্ধ্যা নেমেছে! আলো শেষে চারিদিকে নেমেছে আঁধার। খোলা আকাশ পানে তারারা ঝলমল করছে! চাঁদের আলোয় ভরপুর চারিপাশ।

আঁধার হলেও আবরার ম্যানশনে আজ আলোয় আলোকিত! লাইটিং এর কারণে চারিদিকে আলোতে পরিপূর্ণ!

কালো কালারের একটা শাড়ি নিয়ে হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করে দেখছি। শাড়ীটা বেশ সুন্দর। কালো স্টোন এর কাজ করা! বড় চাচী দিয়ে বলেছেন আজ এটাই পড়তে। শাড়ী পড়তে পারলেও শাড়ী সামলানো আমার পক্ষে সম্ভব হয়না! তাই কখনো পড়িনা। এক ফাংশনে পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। চাচী বোধহয় কথাটা জানেন না তাই তিনি এই শাড়ীটা দিয়ে গিয়েছেন পড়তে!

অসহায় চাহনি দিয়ে তাকিয়ে থাকার সময় বেলকনির দরজায় ঠকঠক শব্দ হয়! ভ্রু কিন্চিত বাঁকিয়ে সেদিকে যেতেই কাচ ভিড়িয়ে নজরে আসে পূর্ব ভাইয়ার চেহারা! তার চোখমুখে রাগের আভাস। ইশারায় আমার দরজা খুলতে বললেন!
আমি দরজা খুলতেই তিনি ধুপধাপ পা ফেলে ভেতরে এসে বেডের দিকে যান!

কালো রঙের শাড়ীটা হাতে নিয়ে আমার দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে বললেন,,,

‘ ভুলেও যদি শাড়ী পড়েছিস তাহলে আমার থেকে খারাপ আর কেও হবেনা দোল! মাইন্ড ইট! ‘

আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে বলি,,,

‘ আজব! শাড়ী পড়বোনা কেনো? চাচি দিয়ে গেছেন আমি তার কথা অমান্য করি কি করে?’

‘ এতো ভালো সাজার দরকার নেই। যা বলেছি ফাইনাল! শাড়ী যদি পড়িস…, তাহলে তোকে যে কি করবো সেটা ভাবতেও পারবিনা। ‘

হুমকিস্বরূপ কথাগুলো বলে তিনি বেলকনি দিয়েই পাশের রুমটায় চলে গেলেন। যাওয়ার আগে চোখ দিয়ে একবার শাশিয়ে গিয়েছেন!
আমি বেডে পড়ে থাকা শাড়ীটার দিকে তাকিয়ে দুষ্ট হাসি দেই।আজ কেনো যেনো একটু অবাধ্য হতে ইচ্ছে করছে। শাড়ীটা হাতে নিয়ে মুচকি হাসি দেই।

ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চোখে আইলেনার দিতে যখন ব্যাস্ত আমি। তখন অরিন রুমে প্রবেশ করে। ও দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল,,,

‘ উফফ..! দোল কালো শাড়ীতে তোকে মারাত্মক লাগছে। আহা..! এতো সুন্দরী না হলেও পারতি। এখন কত ছেলে নতুন করে তোর ওপর ক্রাশ খায় কে জানে?’

অরিনের কথ্যে আমি বিরক্তিমাখা কন্ঠে বলি,,,

‘ ফালতু কথা বলবিনা, সর! ‘

‘ সরতেছি বাট দোস্ত কাহিনি কি?আজ এতো সাজ? আগে তো তুই কখনো সাজগুজোর ধারে কাছেও ঘেসতে না! আর আজ নিজ থেকে?বাপড়ে! কাহিনি খুলে বল তো। ‘

আমি মুচকি হেসে বলি,,,

‘ সিক্রেট, বলবোনা! ফট যা! ‘

অরিন সন্দিহান কন্ঠে বলল,,,

‘ ভাই দেখ, কোনো উল্টা পাল্টা কাহিনি করিস না। আমি নিশ্চিত তোরে পূর্ব ভাই শাড়ী পড়তে মানা করছে। সাজগোজ করতে মানা করছে রাইট?’

আমি হেসে দিয়ে মাথা নাড়িয়ে ‘ হ্যা ‘ বলি!
অরিন মুখ বাকিয়ে বলল,,,

‘ বহুত ত্যাড়া তুই মাইয়া! ভাইয়াকে রাগাবি কেন? দেখিস তোর কপালে বাঁশ আছে! ‘

আমি ফোন হাতে নিয়ে বাহিরে যেতে যেতে বলি,,,

‘ চুপ যা! নিজের কাজে মন দে। একটু পর এসে তোকে নিয়ে যাবো স্টেজে। লাষ্ট মুখে কোনো আটা ময়দার ফিনিশিং দেয়ার হলে দিয়ে ফ্যাল! ‘

রুম থেকে বেড়িয়ে সর্বপ্রথম লম্বা শ্বাস টেনে নেই। কারো কথা অমান্য করাতেও এতোটা স্বস্তি পাওয়া যায়? আগে জানতাম না! পূর্ব ভাইয়া হয়তো রেগে যাবেন বাট তাতে কি?এখন থেকে তার কোনো কথাই শুনবো না! একদমই না!
একটুখানি অবাধ্য হলে কি হবে? তিনি রেগে যাবেন নিশ্চিত! তার রাগ মিশ্রিত ফেসটা দেখতে যে বড্ড মোহনীয় লাগে যদিও ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে যাই তার রাগ দেখলে।

কিছুদূর যেতেই খেয়াল হলো পূর্ব ভাইয়াকে। চোখদুটো বড় বড় করে তার পানে তাকাই। খয়েরি রঙের পাঞ্জাবি আর ব্লাক ড্যানিম প্যান্ট পড়নে তার।প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে অন্য হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে কথা বলছেন।মাঝেমধ্যে কথার তালে আলতো হাসেন। হাসিটা দেখার সাথে সাথে চোখ অন্যদিকে তাকাই!

আশেপাশে তাকাতেই লক্ষ করে অদূরে নীরব আর আদ্রাফ দাড়িয়ে। হাত দিয়ে ইশারা করে বলছে ছাদে যেতে।
বুকের ভেতর অস্থিরতার ঝড় উঠে! আল্লাহর কাছে বারবার দোয়া করছি যেনো, কাছের কেও সেই বিশ্রী ঘটনা, সেই লোকটি না হয়!

ছাঁদে আসতেই নীরব মলিন কন্ঠে বলল,,,

‘ দোস্ত ফুটেজ আনছি! ‘

আমি ভয়গুলো দূরে ঠেলে স্বাভাবিক কন্ঠে বলি,,,

‘ ক্যামেরা কোথায়?’

‘ আদ্রাফের কাছে! ‘
নীরব আদ্রাফের দিকে ইশারা দেয়। পরিশেষে আদ্রাফ বলল,,,

‘ নিচে যাওয়ার সময় স্টোররুমে লাগিয়ে রেখে যাবোনে। প্যারা নিস না। ‘

আমি মাথা নাড়িয়ে নীরবকে বললাম,,

‘ ফুটেজ দেখা। সময় নেই তো! নিচে যদি সবাই খোজা শুরু করে আমাকে। ‘

নীরব দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,,,

‘ দেখাইতেছি বাট দোলপাখি প্রমিস কর কান্না করবু না? একদম নরমাল থাকবি ওকে?’

নীরবের কথায় শান্ত থাকার বদলে মন অশান্ত হয়ে উঠলো! নীরব কখনোই এতোটা সিরিয়াস বা মলিন রূপে কথা বলেনা। কিন্তু আজ? তাহলে কি আমার চাওয়াটা আল্লাহ তায়ালা পূরণ করবে না?

আমি মাথা নাড়িয়ে ফের সায় জানাই।
নীরব ওর ফোন বের করে আমার সামনে একটা ভিডিও অন করে। ফুটেজের ভিডিওটা!

ভিডিওটা সমাপ্ত হতে না হতেই পা ভেঙ্গে মাটিতে বসে পড়ি! চোখ দিয়ে ঝড়ছে অশ্রুমালার দল। কেনো সবসময় আপনজনের কাছ থেকে এমন কষ্ট পাওয়া লাগবে?
আমি বসে পড়ে কেঁদে দিতেই নীরব আর আদ্রাফ দৌড়ে আসে আমার কাছে। নীরব হাত ধরে বলল,,,

‘ এসব কি দোল? তোরে না মানা করলাম কাঁদবি না? কাঁদতেছিস ক্যান? নিজেরে শক্ত কর! কাঁদলে কাঁদবে ঐ আয়াফ ভাই। কতবড় সাহস এই লোকের। তোর বাসার সবাইকে বলবো দ্বারা। তারপর এই লোককে পুলিশে দিবো! ‘

নীরব রেগেমেগে উঠতে নিলে আমি বাঁধা দেই। কান্নারত কন্ঠে বলি,,

‘ কাওকে কিছু বলবি না নীরব। আমি চাইনা কেও কিছু জানুক! আয়াফ ভাইয়ার এ পরিবারের সাথে অনেকদিনের সম্পর্ক। সবাই ভাইয়াকে অনেক পছন্দ করে। আমি চাইনা তাদের সম্পর্কটা নষ্ট হোক নীরব! প্লিজ চুপ যা। ‘

আদ্রাফ আমার কথা শুনে রেগে গিয়ে বলল,,,

‘ মানেটা কি?তারমানে তুই কাওকে কিছু জানাবি না? আয়াফ ভাইয়া যদি তোর ক্ষতি করার চেষ্টা করে আবার?সেদিন তো মাথা ফাটালো। আবার পূর্ব ভাইয়াকে মারার হুমকি দিলো! এতোকিছুর পরও চুপ থাকবি?’

‘ হ্যা! আমি আয়াফ ভাইয়ার সাথে কথা বলে নিবো। উনি বুঝবেন। কিন্তু আপাতত কাওকে কিছু না জানানোই বেটার। ফ্যামিলিতে কতদিন পর সবার চোখমুখে হাসি জানিস? আমি এই বিউটিফুল মোমেন্টটাকে কিভাবে নষ্ট করি?যা করার অরিনের বিয়ের পর দেখা যাবে। ‘

আদ্রাফ আর নীরব আমার কথার যুক্তি বুঝতে পেরে শান্ত হয়! আমি ধীর পায়ে উঠে দাড়িয়ে নিচে যাওয়ার জন্য পা বাড়াবো তখন নীরব ফের বলল,,,

‘ কই যাস? ‘

‘ রুমে। ‘

‘ নিচে আসবি না? আমাদের চুপ থাকতে বলে ফাংশন ছেড়ে এখন রুমে যাস ক্যান? ‘

‘ আমি আসছি তোরা যা। আদ্রাফ ক্যামেরা যেখান থেকে খুলেছিলি লাগিয়ে নিস। কেও যাতে না দেখি। ‘

ছাঁদে আর এক মূর্হতের জন্য না দাড়িয়ে চট জলদি নিচে চলে আসি। রুমে এসে দরজা লাগিয়ে, দরজা ঘেঁষে মাটিতে বসে পড়তেই কান্নাগুলো দলা পাকিয়ে আসতে চাইলেও দমন করার তুমুল চেষ্টা চালাই! আমি কাঁদবো কেনো? যেখানে আমার বিন্দুমাত্র দোষ নেই!
আয়াফ ভাইয়াকে ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি ভাইয়ের নজরে। তিনি সবসময় সবটা বিষয়ে কেয়ার করতেন। অরণ্য, শুভ্র, আয়াফ ভাইয়া তিনজনই আমার জীবনে ছিলো স্পেশাল মানুষ। তিনজনকে বড় ভাইয়ার রূপ ছাড়া আর কোনো কিছু ভাবে দেখিনি।
আয়াফ ভাইয়া এমন কিছু করবেন আমার সাথে তা কল্পনাতেও আসেনি আমার!

ফোনের কর্কশ রিং টোনের শব্দে হাঁটু থেকে মাথা তুলে! প্রায় ২০ মিনিট যাবৎ হাঁটুতে মাথা রেখে অনিচ্ছা সত্বেও কেঁদেছি। আপনজনের থেকে পাওয়া কষ্ট বেশ গাঢ় হয়। যা আমাদের না চাইতেও দূর্বল করে দেয়।

এলোমেলো পায়ে বেডের কাছে এগিয়ে গিয়ে ফোন হাতে নিতেই চোখে ভেসে উঠলো ‘ নীরব ‘ নামটি। চোখের কার্নিশে জমে থাকা পানিটুকু মুছে ফোন রিসিভ করে স্বাভাবিক কন্ঠে বলি,,,

‘ কি হয়েছে? ফোন দেস কেনো? আসছি তো। ‘

নীরব কিছু সময় পর ভীত কন্ঠে বলল,,,

‘ দোস্ত একটু ছাঁদে আয় তো। জলদি কর। ‘

আমি সন্দিহান কন্ঠ বললাম,,,

‘ কেনো? মাত্রই তো ছাঁদ থেকে আসলাম! আবার কি?’

‘ আরে বইন জলদি আয়! পূর্ব ভাই আয়াফ ভাইরে মাইরা ফেললো। ‘

নীরবের শেষের কথাটা শ্রবণ হতেই ফোন রেখে ছুটি ছাঁদের দিকে। লাষ্টের বলা লাইনটা এখনো কানে বাজছে! পূর্ব ভাইয়া আয়াফ ভাইয়াকে মেরে ফেলছে মানে? তিনি কি সব জেনে গেলো? আল্লাহ সর্বনাশ!

ছাঁদে ঢুকতেই কারো আর্তনাদ মাখা সুর কানে ভেসে আসে। দরজা চাপিয়ে রেখে ভেতরো ঢুকে দেখি পূর্ব ভাইয়া হকিষ্টিক দিয়ে আয়াফ ভাইয়াকে বেধড়ক পেটাচ্ছে। আয়াফ ভাইয়ার মুখে রুমাল ও হাত বাঁধা যার কারণে তিনি শুধু আর্তনাদ চাপা সুরে ছাড়ছেন!

এ দৃশ্য দেখে মাথা ঘুরলো! আয়াফ ভাইয়ার কপাল ফেটে রক্ত পড়ছে। পড়নের সাদা রঙের পাঞ্জাবিটা রক্তে চুপচুপ!
অরণ্য, শুভ্র ভাইয়া পাশে দাড়িয়ে পূর্ব ভাইয়াকে থামতে বলছেন কিন্তু সামনে আগাচ্ছেন না তার রাগ দেখে! নীরব আদ্রাফ ভীত মুখ করে ঘটমান দৃশ্য দেখছে।

হটাৎ পূর্ব ভাইয়া হকিষ্টিক ফেলে রড হাতে নিয়ে আয়াফ ভাইয়ার হাতে সজোরে বাড়ি দিতেই আমি কন্ট্রোললেস হয়ে পড়ে জোরে চিৎকার দেই। পূর্ব ভাইয়া আমার চিৎকার শুনে পিছে ঘুরে। আমায় দেখা মাত্র হাতের রডটি পাশে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আমার দিকে দৌড়ে আসে। ভয়ের কারণে তাকে একহাত দিয়ে আমার কাছে আসতে মানা করছি কিন্তু তিনি তা অগ্রাহ্য করে একদম আমার সন্নিকটে এসে দাড়ালেন! দুহাত দিয়ে আমায় আগলে নিয়ে ধীর কন্ঠে বললেন,,,,

‘ দোলপরী, আর ইউ ওকে?এভাবে শ্বাস টানছিস কেনো?নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? এই কথা বলছিস না কেনো?কিছু বল! বেশি খারাপ লাগছে?’

আমি কোনো কথা না বলে অতিরিক্ত ভয়ের কারণে তাকে একহাত দিয়ে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু পূর্ব ভাইয়া দূরে সরার বদলে দুইহাত দিয়ে আমায় নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলেন। ডান পাশে তাকিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বললেন,,,

‘ ওকে এখানে ডেকেছে কে?’

সবাই চুপ! ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে মাথা নিচু করে আছে। পূর্ব ভাইয়া আমায় পাজাকোলা করে নিচে নিয়ে যেতে থাকেন। আমি বিড়বিড় করে বলি,,,

‘ ছ ছাড়ুন আ আমাকে! ‘

পূর্ব ভাইয়া সোজা নিজের রুমে গিয়ে আমার দিকে তাকালেন। গম্ভীর কন্ঠে বললেন,,,

‘ যতোই দূরে পালানোর চেষ্টা করবি আমি তোকে বন্দী করে রাখবো বুকের ভেতর। নিজের শহরে। তাই এভাবে আমায় ভয় না পেয়ে আমার সব রূপে অভ্যস্ত হ! ইট’স বেটার ফর ইউ! ‘

পূর্ব ভাইয়া আমার নিজের বেডে শুইয়ে দিয়ে একটু নিচু হয়ে ঝুঁকেন। আমি সরতে নিলেই তার দুহাত দুপাশে রেখে নিয়ে বলল,,

‘ ভয় পাচ্ছিস আমাকে? ‘

আমি আমতা আমতা করে বলি,,,

‘ ভ ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক ন নয় কি পূর্ব ভাইয়া?আপনি আয়াফ ভাইয়াকে ওভাবে মারলেন কেনো?আকষ্মিক যে কেও এই ঘটনা দেখলে ভয় পাবে! ‘

পূর্ব ভাইয়া মুখ শক্ত করে বললেন,,,,

‘ মেরেছি বেশ করেছি। ওর সাহস কি করে হয় আমার জিনিসে নজর দেয়ার? আমার জিনিস একান্তই আমার। এই ‘তুইটা’ শুধু আমার। আর কারো নয়! যেখানে আমি কখনো তোকে ফুলের টোকাও পড়তে দেইনা সেখানে আয়াফ তোর কপাল থেকে রক্ত ঝড়িয়েছে! ওকে তো মেরে ফেলা উচিত। ঐ বাস্টার্ড টা আমার ফ্রেন্ড কিভাবে হলো বুঝলাম না। ‘

পূর্ব ভাইয়া কথাগুলো রেগে টগবগ হয়ে বললেও তার চোখে ছিলো পানি। হয়তো তিনি মেনে নিতে পারছেন না আয়াফ ভাইয়ার এই আচরণ!

পূর্ব ভাইয়া অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে চোখ মুছে নেন চট জলদি। আমার দিকে ফিরে কপালে ফটাফট তিন চারটে চুমু খেয়ে উঠে চলে যান। আমি সেদিকে চেয়ে। পূর্ব ভাইয়া কতটা কষ্ট পেয়েছেন তা যেনো উপলব্ধি করতে পারছি।

চলবে,

#স্নিগ্ধ_প্রেমের_সম্মোহন
পর্ব-২৬
#লেখনীতে- সাদিয়া মেহরুজ দোলা

শরৎকাল এর আবির্ভাব ঘটেছে প্রকৃতিতে। আকাশে ফালি ফালি কালো মেঘের আনাগোনা। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। স্নিগ্ধময় করে তুলছে চারিপাশ। বৃষ্টির কারণে রোদের দেখা প্রকৃতিতে মেলেনা বললেই চলে তবে আজ সবাই চমকে দিতে সূর্যের আগমন ঘটেছে! তবে তার তাপদাহ খুবই নিম্ন।

পরিক্ষার হলরুম থেকে বেড়িয়ে রোদ দেখে মুচকি হাসি দেই। চারিদিক কেমন ঝলমল করছে। গাছের পাতায় জমে থাকা পানিতে রোদের আলো পড়ে আলোর প্রতিফলন হচ্ছে চারপাশে। এ যেনো এক মনকাড়া দৃশ্য।
কেটে গিয়েছে চারটি মাস। এতো জলদি কিভাবে সময় চলে গেলো তা বুঝতেই পারিনি। আজ ছিলো মেডিকেলে আমার ভর্তি পরিক্ষা।

ধীর পায়ে সামনে এগোতেই দেখি রৌদ্দুরের মাঝে দাড়িয়ে আছেন পূর্ব ভাইয়া। কপাল দিয়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। তবে তার সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। সে ব্যাস্ত তার ফোনে। বেশ মনোযোগ সহকারে ফোনে টাইপিং করছেন। আমি দ্রুত পায়ে ভীর ঠেলেঠুলে তার সামনে গিয়ে দাড়াই। ক্ষনের মাঝেই তিনি মাথা তুললেন। খানিক হেসে বললেন,,,

– কখন বের হলি?

– আপনি যখন ফোনে টাইপিং এ বিজি ছিলেন।

– অহ! পরিক্ষা কেমন হলো?

– আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

– যা গাড়িতে বস। আমি আসছি।

আমি ভ্রু কুচকে তাকে জিজ্ঞেস করি,,,

– কই যাচ্ছেন?

পূর্ব ভাইয়া তার ফোন পকেটে ঢুকিয়ে পিছে যেতে যেতে বললেন,,,

– আসছি তুই গাড়িতে উঠে বস।

পূর্ব ভাইয়া চলে গেলেন।
আমি সেদিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে গাড়িতে উঠে বসি। মন গহীনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তিনি গেলেন কোথায়?

দশ মিনিট পার হতেই আমার পাশে ড্রাইভিং সিটে এসে বসলেন পূর্ব ভাইয়া। ঘেমে টুইটুম্বুর তার শার্ট! হাতে একটা পলিথিনের প্যাকেট রয়েছে। তিনি পকেট থেকে রুমাল বের করে আমার দিকে প্যাকেটটি এগিয়ে দিতেই আমি চটপট বলি,

-‘ এটা কিসের প্যাকেট পূর্ব ভাইয়া?’

-‘ খুলে দেখ। ‘
ক্লান্তিমাখা কন্ঠে তিনি বললেন।

আমি প্যাকেট খুলতেই চোখদুটো বড় বড় হয়ে যায়। প্যাকেটে রয়েছে খাবার। বার্গার, চকলেট, কোকা কোলা, পিজ্জা, আরো বেশ কিছু।
আমি চমকিত দৃষ্টি দিয়ে তার দিকে তাকাই। তিনি ফের ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন ফোনে।
আমি বললাম,

-‘ পূর্ব ভাইয়া এসব কি?এতো খাবার? কার জন্য? ‘

পূর্ব ভাইয়া বাঁকা চোখে আমার দিকে তাকান। কন্ঠে গম্ভীর ভাব টেনে বললেন,

-‘ ষ্টুপিড! তোর হাতে দিয়েছি কি অন্য জনকে দেয়ার জন্য? এগুলো তোর। জলদি ফিনিশ কর। একটা কিছুও জানি বাকি না থাকে। ‘

আমি চরম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি তার দিকে। এই লোক নিশ্চিত পাগল হয়ে গিয়েছে। নাহলে এতো খাবার শেষ করতে বলছে?

আমি কন্ঠে অবাক স্বর টেনে বলি,

-‘ আপনি কি পাগল পূর্ব ভাইয়া? এতোকিছু শেষ করবো কিভাবে? তাছাড়া সকালে আমি খেয়ে বের হয়েছি। এখন এতোকিছু খেতে পারবো না। ‘

পূর্ব ভাইয়া বোধহয় কিছুটা রেগে গেলেন। চোখ পাকিয়ে তিনি বললেন,

-‘ সিরিয়াসলি? সকালে খেয়েছিস?জাষ্ট ওয়ান পিস ব্রেড খেয়ে বের হয়েছিলি। সকাল ৬ টায় বের হয়েছিস আর এখন বাজে দুপুর ২ টা। পুরো ৮ ঘন্টা ধরে জাষ্ট একটা ব্রেড খেয়ে আছিস। আচ্ছা তুই কি চাস বলতো। অসুস্থ হয়ে তুই হসপিটালের বেডে পড়ে থাকবি আর আমাকে কষ্ট দিবি? কষ্ট দিয়ে দিয়ে শেষ করে ফেলবি? হোয়াই দোলপরী? এত যন্ত্রণা কেনো দিস আমায়? ‘

কোনো কথা ছাড়াই আমি বার্গারে কামড় দেই। তা দেখে তৃপ্তিময়ী হাসি দিয়ে পূর্ব ভাইয়া ফোনে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন ফের। বিরক্তি নিয়ে দু কামড় খেয়ে চারপাশে তাকাই। গাড়িটা পার্কিং লটে। সামনে যাওয়া আপাতত সম্ভব না। শত শত স্টুডেন্ট পরিক্ষা দিয়ে হল দিয়ে বের হচ্ছে। এর মধ্যে গাড়ি নিয়ে যাওয়া অসম্ভব!

আমি অসহায় চাহনি দিয়ে পূর্ব ভাইয়ার পানে তাকিয়ে বলি,

-‘ ভাইয়া আর খাবোনা প্লিজ! ‘

পূর্ব ভাইয়া ফোন থেকে চোখ সরালেন। আমার হাতের দিকে চেয়ে ফের মুখশ্রীতে রাগী ভাবটা টেনে আনেন।রাগান্বিত কন্ঠে তিনি বললেন,

-‘ থাপ্পড় চিনিস?খেয়েছিস কি যে আর খাবোনা বলছিস? পুরোটা শেষ কর দোল। নাহলে বল আমি খাইয়ে দেই?অন্য স্টাইলে?’

কথাটা বলে তিনি বাঁকা হাসি দিয়ে চোখ মারলেন। অন্য স্টাইলটা কোনটা? সেটা না বুঝতে পারলেও এতটুকু সিয়র বেশ ভালো স্টাইল নয় সেটা। আর তাছাড়া তার হাত থেকে খাওয়া?ইম্পসিবল!

আমি আমতা আমতা করে তাকে বললাম,

-‘ আপনার হাতে বা আপনার সেই ‘অন্য স্টাইলে ‘ আমি খাবোনা। নিজ হাতেই খাচ্ছি, হুহ্! ‘

বহু কষ্টে বার্গার শেষ করে চকলেট মুখে পুরে নেই। তিন চারটা ক্যাটবেরী শেষ করে পাশে পূর্ব ভাইয়ার দিকে তাকাতেই হতবিহ্বল হয়ে পড়ি।
তিনি স্থির দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। হাতদুটো আর ঠোঁট যুগল খুবই ধীর গতীতে কেঁপে যাচ্ছে। যা আমার চোখ এড়ালো না।

হটাৎ পূর্ব ভাইয়া এগিয়ে আসেন। আমার দু বাহু খানিকট জোরে চেপে ধরে গাড়ির দরজার সাথে চেপে ধরেন। আকস্মিক কান্ডে ভয় পেয়ে আমি কিছু বলতে নিবো তার আগেই তিনি তার মাথা নিচু করে আমার থুতনিতে নিজের ওষ্ঠযুগল স্থাপন করেন। গভীর চুমু একে দিয়ে আমার অধর যুগলের পাশে লেপ্টে থাকা চকলেট গুলো নিজের ওষ্টদ্বারা মুছে নেন।
পরিশেষে এক প্রকার ছিটকে দূরে সরে যান তিনি। আমি এখনো নিস্তব্ধ! বাকরুদ্ধ। তিনি এমনটা দ্বিতীয় বার করবেন তা কল্পনা করিনি। কারণ তিনি আমায় কথা দিয়েছিলেন আমায় হালাল ভাবে স্পর্শ করবেন।

আঁড়চোখে তার দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি জোরে জোরে শ্বাস টানছেন অন্য পাশে তাকিয়ে। অতঃপর আমার হাতে অন্যদিক ঘুরেই টিস্যু দিয়ে বললেন,

-‘ মুখের চকলেট গুলো মুছে ফেল। নিজেকে কন্ট্রোল করা পসিবল হচ্ছেনা আমার। ‘

পূর্ব ভাইয়ার কথা শুনে রাগে মনে হয়েছিলো তার চুল ছিড়ে ফেলি। পুরো মাথার চুলগুলো। টিস্যু দিয়ে ঠোঁট, থুতনি মুছে সেটা গাড়ির কাচ ভেদ করে বাহিরে ছুড়ে মারি।
পরিশেষে রাগ কাবু করতে না পেরে পূর্ব ভাইয়ার হাতে আলত থাপ্পড় দেই।

সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘুরে তাকান। আমি কাঁদো কন্ঠে বলি,

-‘ অসভ্য লোক আপনি। আপনি কথা রাখেননি। বলেছিলাম আমায় আর স্পর্শ করবেন না। কিন্তু? কিন্তু আজ এটা কি করলেন?আপনার মতো লোককে ট্রাস্ট করা জাষ্ট টাইম ওয়েষ্ট। চরম অসভ্য আর লুচু লোক আপনি। ছিহঃ!’

নাক সিটকিয়ে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেই। তার আগে খেয়াল হয়েছিলো পূর্ব ভাইয়ার অবিশ্বাস্য কর চাহনি। হয়তো তিনি বুঝতে পারেননি আমি এতোগুলো কথা তাকে গরগর করে বলে দিবো।

মৌনতা পালন করা দুজনের মাঝে হটাৎ হাতে হেঁচকা টান অনুভূত হয়। ছিটকে গিয়ে পড়ি পূর্ব ভাইয়ার বুকে। মাথা তুলে বেশ কঠিন কয়েকটা কতা বলবো তার আগেই পূর্ব ভাইয়ার চাহনি দেখে থতমত খেয়ে যাই।

তার চাহনি কিছুটা অন্যরকম! নেশাক্তময়, বা পূর্ণতা পেয়েছে এমন টাইপ চাহনি।
পূর্ব ভাই আমার বাহু ছেড়ে চিবুক স্পর্শ করলেন। নরম কন্ঠে বললেন তিনি,

-‘ তার ওষ্ঠদ্বয়ে শুধুমাত্র আমার আধিপত্যতা। তার সর্বমুখে চলবে আমার রাজত্য! কারণ সে যে আমার প্রাণোসী। আমার বেঁচে থাকার প্রাণভোমরা সে। আমার সবটা জুরে যেমন তার স্পর্শ বিদ্যমান থাকবে তেমনি তার সবটা জুরে থাকবে আমি! আমার অস্তিত্ব, স্পর্শ! অন্যকিছু তার ওপর স্পর্শ করুক বা এঁটে সেঁটে থাকুক তার অনুমতি যে এই ফায়াজ আবরার পূর্ব দিবেনা। একান্ত রূপে মনের মন্দিরে তাকে স্থান দিয়েছে সে। এতো সহজে তার স্নিগ্ধপরীর ওপর অন্যকেও আধিপত্য বিস্তার করবে এটা সে কিভাবে মেনে নেয়?’

ঘোরের মাঝে থাকে পূর্ব ভাইয়ার সবটা কথা শুনছিলাম। তবে লাষ্টের বলা ‘স্নিগ্ধপরী ‘ শব্দটা শুনে আমার টনক নড়ে। শত শত কৌতূহল আর কিছু জানার আকাঙ্খা নিয়ে তার দিকে গভীর দৃষ্টি দেই।
অতঃপর অস্থিরতা নিয়ে বলি,

-‘ স্নিগ্ধপরী? এটা আপনি ডাকলেন? তার মানে কি সেই লোকটা আপনি ছিলেন? সেই কালো পোশাকধারী লোক?যে আমায় প্রতিদিন চিরকুট পাঠাতো? হুমকিস্বরূপ প্রেমবাক্য উপস্থাপন করতো?আর আর সে তো আমার সামনেই কয়েকজনকে মেরে ফেলেছে। আশফিকে মেরে টুকরো টুকরো করেছে। পূর্ব ভাইয়া তাহলে সে আপনি ছিলেন?’

ভরাট কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করতেই পূর্ব ভাইয়া আমার কপালের সামনে থাকা চুলগুলোকে কানের পিঠে গুজে দেন। রহস্যময়ী হাসি দিয়ে বললেন,

-‘ তো?তোর কি মনে হয়?পূর্বের সম্পদে অন্য কেও নজর দেবে আর তা আমি মেনে নিবো? আড়ালে থেকে এভ্রি টাইম তোকে কড়া সিকিউরিটি তে রেখেছি। ‘

হুট করে মনে ভয়ে ছেয়ে গেলো। ভীত কন্ঠে বলি,

-‘ তা- তাহলে স-সেই ভয়ানক মৃত্যু গুলো আপনিই দিতেন? কিন্তু কি করে?আপনার কাছে রিভলবার কোথা থেকে আসলো? পুলিশ এরেস্ট করেনি আপনাকে? আপনার রিভলবার লাইসেন্স প্রাপ্ত ছিলো এটা আমি দেখেছি পূর্ব ভাই। যেদিন সেই দুটো ছেলেকে আমার সামনে গুলি করেছিলেন, আমায় এসে আগলে ধরেছিলেন তখন আপনার পকেট থেকে কাগজ বের হয়। লাইসেন্স প্রাপ্ত রিভলবার ছিলো আপনার?আশফি তো পুলিশের আওতায় ছিলো? তাহলে? তাহলে এসব কি করে?’

প্রশ্নগুলো করতে করতেই মাথা চক্কর দেয়। তখন পূর্ব ভাইয়া আমায় ছেড়ে দেন। সটান হয়ে বসি উত্তরের আশায়। পূর্ব ভাইয়া বললেন,

-‘ সব উত্তর একেবারে জেনে গেলে রহস্যের কোনো মূল্য থাকলো দোলপরী? প্রকৃতির সব রহস্য উদঘাটন করতে নেই তেমনি আমার ব্যাপারে সব রহস্য উদঘাটন করার প্রয়োজন নেই। সব কিছু জেনে গেলে জীবন কৌতূহল কই থাকলো?হু? ‘

ব্যাস! আর কিছুই বললেন না তিনি। গাড়ি স্টার্ট দেন। রাস্তা ফাকা হয়ে এসেছে। আমি পুরো রাস্তায় উত্তর জানার জন্য হাসফাস করলেও তিনি আমায় কিছুই বলেনি। রাগের বসে উল্টো দিকে মুখ করে বসে থাকি পুরো রাস্তায়!

রুমে পায়চারি করছি দ্রুত গতীতে। শান্তি পাচ্ছিনা মনের কোথাও। প্রশ্নগুলোর উত্তর না জানলে প্রশান্তি মিলবে না। এদিকে উত্তর যে পূর্ব ভাইয়া দেবেন না এটাও সিওর।

বিরক্ত হয়ে কার্বাড খুলি ফ্রেশ হওয়ার ড্রেস নেয়ার জন্য। তখন চোখে পড়ে কালো শাড়িটা। মূর্হতেই মনে পড়লো সেদিনের কথা।

এই কয়েকমাসে আগের ঘটনা ভুলে গিয়েছি একদম। আয়াফ ভাইয়া এখন আর এই বাসায় আসেন না। পরিবারের সবাই বিষয়টি জেনে গিয়েছে। পূর্ব ভাইয়া বলেছেন। আমার শতবার না করা সত্বেও তিনি শুনেননি।
আয়াফ ভাইয়া বা তার পরিবারের সাথে আবরার ম্যানশনের আর কোনো যোগাযোগ বা ভালো সম্পর্ক নেই। পূর্ব ভাইয়ার সাথে আয়াফ ভাইয়ার ফ্রেন্ডশিপ ছিলো ২৫ বছরের যা নিমিষেই চুরমার হয়ে যায়।

পূর্ব ভাইয়াকে এই ঘটনাটি নীরব এবং আদ্রাফ বলে দিয়েছে। ইচ্ছে করে নয়। আদ্রাফ ক্যামেরা লাগাতে গিয়ে ধরা পরে যায় পূর্ব ভাইয়ার হাতে। অতঃপর ভয়ের চোটে পুরো ঘটনা নীরব, আদ্রাফ গরগর করে বলে দেয়।

শাড়ী পড়ার অপরাধে সেদিন আমায় পূর্ব ভাইয়া কিছুই বলেননি। তবে রেগে আমার সব শাড়ীগুলো কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলেন। হাসি মুখে তা দেখে এক পর্যায়ে শব্দ করে হেসে দিয়েছিলাম। যার ফল কিছুটা ভয়ানক ছিলো।

মাঝরাত!
সবাই ঘুমে মগ্ন হলেও অরা ঘুমায়নি। টিপটিপ পায়ে দোলার রুমে প্রবেশ করে সে। হাতে দুটো ইনজেকশন। চট জলদি ঘুমন্ত দোলার হাতের রগে ইনজেকশন দুটো পুশ করে দেয় সে। স্বস্তির শ্বাস ফেলে নিজের রুমে এসে কাওকে ম্যাসেজ করে অরা বলল,

-‘ ইনজেকশন পুশ করা ডান। কয়েকদিনের মাঝেই ক্যান্সার ধরা পড়বে। ‘

অরা বসে পড়ে বেডে। টুপটাপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে চোখ থেকে। তার জীবনটা এতোটা কঠিন, কষ্টদ্বায়ক কেনো?

চলবে…..