স্নিগ্ধ প্রেমের সম্মোহন পর্ব-৩৩+৩৪

0
1954

#স্নিগ্ধ_প্রেমের_সম্মোহন
#সাদিয়া_মেহরুজ_দোলা
#পর্ব___৩৩

-‘ আমি চাইনি তোমায় কষ্ট দিতে। চাইনি তোমায় ক্ষতবিক্ষত করতে। চাইনি তোমার চোখের অশ্রু দেখতে। তোমার চোখের অশ্রু যে আমায় দহনে পোড়ায়। কষ্ট দিতে না চাইলেও দিয়ে ফেলেছি অচিরেই। তোমার রক্তক্ষরণের জন্য দায়ী আমি। সবশেষে যদি চাই আমি ক্ষমা তবে করবে কি? ভালোবাসাময় এক মুচকি হাসি দেবে কি স্নিগ্ধপরী?’

বন্ধ চোখযুগল থেকে গড়িয়ে পড়ে নোনা পানি! যতবারই এই কথাগুলো মনে করেছি ততবারই কান্না পায়। পূর্ব ভাইয়া যখন কথাগুলো বলল তখন তিনি কেঁদে দিয়েছিলেন। সেদিন প্রথমবারের মতো তাকে নিজ চোখে কাঁদতে দেখেছি। এতোটা শক্ত মানুষ এভাবে কাঁদবে? তাও আমার জন্য?

কাল রাতে অসহায় কন্ঠে কথাগুলো উগলে দিয়ে তিনি কেঁদে দেন। মাফ তাকে আগেই করেছি সেদিন শুধু মুখে বলেছি ক্ষমা করেছি।
কালকের রাতটা পূর্ব ভাইয়ার কাঁধে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে কেটেছে। তবে তিনি ঘুমোননি! সাক্ষী ছিলো তার চোখদুটো।

আজ ভোর পাঁচটার দিকে আমার চট জলদি বাসায় ড্রপ করে দিয়ে কক্সবাজার চলে যান। দু – দন্ড শান্তিতে বসতে পারেননা তিনি। সবসময়ই এখানে যাওয়া, সেখানে গিয়ে ফাইল চেক করা। অভ্র ভাইয়া বারবার করে বলছেন তাকে কানাডা আসতে, তিনি একা সব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কিন্তু পূর্ব ভাইয়া তার সিদ্ধান্তে অটল! যাবে না মানে যাবেনা। গেলে আমাকে সঙ্গে যেতে হবে নয়তো তিনি কিছুতেই যাবেননা এদিকে বাবাও আমাকে পূর্ব ভাইয়ার সাথে থাকতে দিবেন না আমার ২০ বছর হওয়া পর্যন্ত কারণটা জানা নেই!

পায়ের পদধ্বনির শব্দে বন্ধ চোখজোড়া খুলি সামনে তাকাই! অরা আপু মিষ্টি হেসে আমার পাশে বসে পড়লো। শান্ত কন্ঠে আপু বলল,

-‘ কিরে? ভুলে গেছিস আমাকে?তিনদিন তো তোর কোনো খবরই নেই কোনো।’

আমি সৌজন্যমূলক হাসি দেই। আপুর চোখের দিকে তাকিয়ে বলি,

-‘ একটুখানি টেনশনে আছি। কাল মেডিকেল এক্সামের রেজাল্ট দিবে তাই। ‘

-‘ টেনশনে আছিস বলে কি খবরই নিবি না?নট ফেয়ার দোলা। ‘

আমি কন্ঠের খাদ নামিয়ে বলি,

-‘ আচ্ছা সরি! আর এমন হবেনা প্রমিস!’

-‘ পাক্কা প্রমিস?’

-‘হু! আচ্ছা আপু একটা প্রশ্ন করি?’

-‘হ্যা কর, জিজ্ঞেস করার কি আছে?’

-‘তুমি কি পূর্ব ভাইয়াকে ভালোবাসো?’

কথাটা সম্পূর্ণ করার পর খেয়াল করলাম অরা আপুর চেহারার মলিনতার ছাপ। গাঢ় কালো মেঘ নেমে আছে। চোখের কার্নিশটায় পানি এসে হানা দিয়েছে। হতভম্ব হয়ে যাই। ভয়ে বুক ধরফর করা শুরু করেছে। আমার ভাবনাটা সত্যি নয়তো?

আপু নিম্নকন্ঠে বলল,

-‘ কিসব বলিস দোল? আমি পূর্বকে পছন্দ করতে যাবো কেনো?ওকে আমি শুধুমাত্র একজন ভাই আর বন্ধুর নজরেই দেখি। ‘

আমি স্বর টেনে বলি,

-‘ তাহলে তোমার চেহারা মলিন কেনো আপু? আমি কথাটা বলার সাথে সাথে তোমার চোখার কোনায় পানি এসে জমলো কেন? বলো?’

আপু হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। ধাতস্থ হয়ে বলল,

-‘ তোর কি হয়েছে দোল বলতো?হটাৎ এসব উদ্ভট প্রশ্ন কেন করছিস? পূর্বের সাথে এতদিন যা করেছিলাম সব নাটক ছিলোরে দোলপাখি! পূর্ব তোকে বলেনি? পূর্বর জন্য আমার কোনো ফিলিং’স নেই বোন। ভুল বুঝছিস। ‘

-‘ বর্তমানের কাহিনি কে ধরছে আপু? আমি তো পাষ্টের কথা বলছি। বিদেশ যাওয়ার আগে আমি তোমায় প্রায়ই কাঁদতে দেখতাম। একদিন রাতে যখন পানি খেতে উঠেছিলাম তখন তোমার রুম থেকে কান্নার শব্দ পাই। রুমের পাশে দাড়িয়ে শুনেছিলাম তুমি বলছিলে, ‘ পূর্বকে ভালোবাসি আমি। খুব বেশি! এখন একথা সবাইকে বলি কি করে?’ ব্যাস! এতটুকুই না আরো একদিন তোমায় ফোনে বলতে শুনেছিলাম তুমি পূর্ব ভাইয়াকে ভালোবাসো। তারপর তো আমার জন্য তোমার ঐ বাজে ক্ষতিটা হওয়ার পর তুমি চলে গেলে। ‘

-‘ ঐদিন আমার সাথে ঐ ছেলেগুলো কিছু করেনি দোল। ঐটাও আমাদের প্ল্যানের একটা অংশ ছিলো। অনেক কষ্ট দিয়েছি তোকে, ধোঁকা দিয়েছি। মাফ করিস আমায়।’
অপরাধী কন্ঠে বলল অরা আপু।

প্রথমে প্রচন্ড অবাক হলেও পরক্ষণে মেকি হেসে বলি,

-‘ ব্যাপার না আপু। তোমার জায়গায় থাকলে হয়তো আমিও তোমার মতোই এমন কিছু করতাম। কিন্তু তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর দাওনি আপু? পূর্ব ভাইয়াকে ভালোবাসো? ‘

অরা আপু লম্বা শ্বাস টানে। তাকে স্বাভাবিক লাগছে না। সে আমার চোখের দিকে চেয়ে কাঁপা কন্ঠে বলল,

-‘ পূর্ব দেখতে খুব হ্যান্ডসাম, সব মেয়েদেরই পূর্ব একজন স্বপ্ন পুরুষ! ওর সুর্দশন রূপে যে কেও ক্রাশ খাবে। তেমনটা আমার ক্ষেত্রেও হয়েছিলো। ওর সৌন্দর্যের মোহটাকে ভালোবাসা মনে করে কেঁদেছি কিন্তু বাহিরে যাওয়ার পর বুঝতে পেরেছি এটা শুধুমাত্র মোহ ছিলো! আর তেমন কিছুই না। বুঝলি?’

আমি সায় জানাই। যদিও এক ফোঁটাও আমার বিশ্বাস হয়নি। অরা আপু যে মিথ্যা বলছে তার সাক্ষী তার চক্ষু যুগল! মিথ্যা বলাটা স্পষ্টরূপে ফুটে উঠেছে। তবে আর কিছুই জিজ্ঞেস করলাম না। উত্তর টা পাওয়া হবেনা।

অরা আপু উঠে দাঁড়ালেন। মলিন কন্ঠে বলি,

-‘ আজ গেলাম ওকে?একটু কাজ আছে। ‘

-‘ আরেকটু থাকো আপু?’

-‘ নাহ, কাল আসবো। আজ একটু বিজি। ‘

অরা আপু হেঁটে দরজার কাছে গিয়ে পিছু ফিরলেন। প্রশ্নসূচক দৃষ্টি দিয়ে আমি তাকাতেই অরা আপু হেসে বলল,

-‘ পূর্ব তোকে অনেক ভালোবাসে দোল। ওর ভালোবাসাটা স্বচ্ছ! ওকে ভুল বুঝিস না কখনো। হারাতে দিসনা ওকে। ‘

বলেই চট জলদি বেড়িয়ে পড়ে আপু। আমি সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। কেমন জানি উল্টো পাল্টা সবকিছু। অসম্পূর্ণ! কিছু একটা অগোচরে ঘটছে আমার। কিন্তু কি?

রুমের এপাশ থেকে ওপাশ পায়চারি করছি ফোন হাতে নিয়ে। টেনশনে করে করে মাথার রগ ছিঁড়ে যাচ্ছে। আজ মেডিকেলের রেজাল্ট দিবে। সকাল থেকে এক ফোঁটা পানিও খাইনি। হাঁটার এক পর্যায়ে ডান দিকে তাকিয়ে দেখি সায়ান ভাইয়া ল্যাপটপ কোলে নিয়ে বসে আছে। বোতলে সিপ দিতে দিতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকিয়ে আছি।

আমি ভাইয়ার দিকে স্থিরপানে দাড়াতেই ও বলল,

-‘ কিরে পাগল? এভাবে হাঁটছিস কেনো?স্থির হয়ে দাঁড়া! এতো টেনশন কিসের?তুই মেডিকেলে চান্স পাবি তা সিয়র। এখন নিজের পাগল রূপটা পাল্টা তো। ‘

আমি বিরক্তি মাখা কন্ঠে বলি,

-‘ মানে?’

-‘ আয়নায় নিজেকে দেখ তো এবার। ‘

আয়নায় তাকাতেই ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাই। পড়নের লং সাদা শার্টটা কুঁচকে আছে সম্পূর্ণ। গলায় ঝুলানো কালো ওড়নাটার ও একই অবস্থা! মাথার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে একদম কাকের বাসার রূপ নিয়েছে। নিজেকে অবস্থায় দেখে নিজেরই প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে। ফিক করে হেঁসে দিতেই ভাইয়া বলল,

-‘ পাগল রূপেও এবার মিষ্টি লাগছে। তোর হাসিটা কতটা সুন্দর তুই জানিস পিচ্চি?’

-‘ হুহ্ থামো। রেজাল্টের কি খবর?’

-‘ ৪ টার আগে পাবোনা। তুই যা ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নে’

-‘ খেতে পারবোনা আমি সেটা তুই ভালো করেই জানিস ভাইয়া, ‘

-‘ আচ্ছা বুঝলাম! বাট ফ্রেশ হয়ে আয়? পূর্ব আসছে তোকে এভাবে পাগলরূপে দেখলে দেখা যাবে আমার গলা টিপে মেরে ফেলবে! ‘

ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে ভাইয়ার দিকে। ভাইয়া হাতের ইশারায় যেতে বলে।
পূর্ব ভাইয়ার সাথে কাল রাতে দশ মিনিটের মতো কথা হয়েছে। এরথেকে বেশিনা। যদিও তিনি আকুতি মিনুতি করছিলেন একটু কথা বলার জন্য কিন্তু আমি কথা বলিনা। কারন সেই সময়টা তিনি প্রচন্ড ব্যাস্ত ছিলেন। আমি ফোন দেয়াতে কাটেননি। ভিডিও কলে আমার দিকে তাকিয়ে আরেকবার ফাইল চেক করছিলেন। তাই ইচ্ছে করেই কেটে দেয়।তারপর তিনি প্রায় পঁচিশ বারের মতো ফোন দিয়েছিলেন তবে রিসিভ করিনি।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই ফ্রেশ হতে চলে যাই। মাথায় ঠান্ডা পানি দেয়া উচিত। ব্যাথায় অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। এই একটা বিরাট সমস্যা আমার। অতিরিক্ত টেনশন করলে মাথা ব্যাথা করে!

টলমলে চোখে ল্যাপটপে স্ক্রিনে তাকিয়ে আছি। নিজের নামটি ভাসছে টপ ৫০ জন এর মাঝে! মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর টপে থাকবো এটা কখনোই কল্পনায় আসেনি আমার।

পুরো বাংলাদেশে মেডিকেলে চান্স পাওয়া স্টুডেন্টদের মাঝে টপ ৫০ জনের মধ্যে আমি ৪৫ তম। ভাবতেই অবাক অবাক লাগে। মাঝেমধ্যে হাতে চিমটি দিয়ে পরিক্ষা করে দেখি এটা সত্যি নাকি স্বপ্ন? ভাইয়া পাশে বসে আছে হাসিমুখে। বাবা, আম্মু দুজনের চোখে পানি। খুশিতে কাঁদছেন তারা। ভাইয়া হটাৎ করে চিল্লিয়ে বলল,

-‘ পিচ্চি কংগ্রাচুলেশনস বোন! এতোটা ভালো রেজাল্ট করেছিস আলহামদুলিল্লাহ। ‘

ভাইয়া আলত হাতে জরীয়ে ধরে। আম্মু বাবা কে ইশারায় ডাকতেই তারা এসে আমার পাশে বসে পড়েন। বাবা বলল,

-‘ কংগ্রাচুলেশনস আম্মু। ‘

আম্মু কিছু বললো না। আঁচলে মুখ গুজে একহাতে আমায় জরীয়ে ধরে কেঁদে চলেছেন। আমি বাবার একহাত আঁকড়ে ধরে কাঁদছি! জীবনের সবচেয়ে সুখকর মূর্হতটা এটাই মনে হচ্ছে।

হটাৎ ভাইয়া বলল,

-‘ বাবা আমার কিছু বলার আছে!’

বাবা বলল,

-‘ হ্যা বলো। ‘

ভাইয়া হাসিমুখে বলল,

-‘ কয়েকমাস আগে টরেন্টোর(কানাডার রাজধানী) একটা ভার্সিটিতে এপ্লাই করেছিলাম ফিজিক্স টিচার হিসেবে। এপ্লাই এলাউ’ডেড হয়েছে। ওখানে গিয়ে কিছু টেষ্ট আর ভাইভা দিতে হবে তাহলেই টিচার হিসেবে নিয়োগ নিবে। ইনশাআল্লাহ ভাইভাতে রেজাল্ট ভালো ছিলো। নোটিশ এসেছে, আগামী মাসে যেতে হবে কানাডা। ‘

বাবা খুশিতে জরীয়ে ধরে ভাইয়াকে। আম্মু কাঁদো কন্ঠে বলল,

-‘ আলহামদুলিল্লাহ। আমার বাচ্চা দুটোকে আল্লাহ নেক হায়াত দান করুক। ‘

সবাই টুকটাক কথা বলে চলে যায়। রুম ফাঁকা হতেই দ্রুত পায়ে প্রবেশ করেন পূর্ব ভাইয়া। তার ঠোঁটের কোনায় হাসির লেশ! কাছে এসে আমার হাতদুটো তার হাতের মুঠোয় নিয়ে বললেন,

-‘ কংগ্রাচুলেশনস দোলপরী! ‘

আমি তৃপ্তিময়ী হাসি দেই। তিনি আমার পাশে বসে বলল,

-‘ সবকিছু রেডি কর, নেক্সট মান্থ তুই কানাডা যাচ্ছিস! ‘

আমি চোখ গোলগোল করে বলি,

-‘ পূর্ব ভাইয়া কি বলছেন এসব? বাবা কি বলেছে ভুলে গিয়েছেন? আপনার সাথে কখনোই যেতে দিবেনা বাবা আপনাকে। ‘

পূর্ব ভাইয়া মেকি হেসে বললেন,

-‘ আমার সাথে কই যাচ্ছিস? তুই সায়ানের সাথে যাবি। নেক্সট মান্থ সায়ান কানাডা যাচ্ছে। ওখানেই থাকবে ও। তুই তোর বাবাকে বলবি তুই বাহিরে পড়তে চাস! রেজাল্ট ভালো তার ওপর টপলিষ্টে আছিস তুই। ওখানকার মেডিকেলে ভর্তি হতে কোনো প্রবলেম হবেনা।’

চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে আছি তারদিকে। তিনি তাতে কোনোরকম রিয়েক্ট না করে বেডে গা এলিয়ে দেন। ক্লান্তমাখা কন্ঠে বললেন,

-‘ কিছু খেতে দে?কাল থেকে না খাওয়া! প্রচন্ড খুদা পেয়েছে। তুই খেয়েছিস?’

আমি শুকনো ঢক গিলে আমতা আমতা করে বলি,

-‘ হ..হ্যা!’

পূর্ব ভাইয়া ধমক দিয়ে বললেন,

-‘ মিথ্যা বলছিস কেন? সায়ান বলেছে আমাকে তুই কিছু খাসনি। তাছাড়া তোকে আমি হারে হারে চিনি। যা এক্সট্রা খাবার আনবি! তবে এক প্লেটেই। ‘

আমি মাথা নাড়িয়ে দরজা চাপিয়ে দিয়ে নিচে চলে আসি। নিচে আসতেই আম্মু খাবারের প্লেট ধরিয়ে দেয়। যেনো এটারই অপেক্ষায় ছিলেন। দুটো প্লেট হাতে দিয়ে বললেন,

-‘ পূর্বকে দিবি একটা প্লেট। ছেলেটা কাল রাত থেকে কিছুই খায়নি। ‘

-‘ আচ্ছা। ‘

ওপরে আসতেই নজরে পড়ে পূর্ব ভাইয়া বেলকনিতে দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছেন। খাবার প্লেট খাটে রেখে ফোন হাতে নিবো তখনই তিনি তড়িৎ গতীতে রুমে এসে ফোন ছো মেরে নিয়ে নেয়। রক্তিম চোখে তাকিয়ে বলে,

-‘ খাওয়ার পর যা ইচ্ছে করবি। ‘

পূর্ব ভাইয়া ওয়াশরুম থেকে হাত ধুয়ে এসে ভ্রু কুঁচকে বললেন,

-‘ দুটো প্লেট কেনো? একটা আনতে বলেছি না?’

-‘ আম্মু দিয়েছে, আমি কি করবো?’

পূর্ব ভাইয়া পাশে বসে এক প্লেট হাতে তুলে আমার মুখের সামনে ভাত তুলে দেন। ননস্টপ একের পর এক লোকমা খাওয়াতে থাকেন। ইশারায় তাকে থামতে বলি। তিনি চোখ গরম করে বললেন,

-‘ সকাল থেকে না খাওয়া তুই। চুপচাপ খা! ‘

-‘ আপনি খাবেন না? ‘(আমি)

-‘ পরে আগে তোকে খাইয়ে নেই। ‘

আমায় খাওয়ানো শেষ করে তিনি তার প্লেট তুলে আমার সামনে তুলে ধরলেন। ইশারায় বলেন তাকে খাওয়াতে। আমি ইতস্তত বোধ করতেই পরক্ষণে কিছু একটা ভেবে তাকে খাইয়ে দেই। খাওয়ানোর প্রতেকটা সময়ে তিনি আমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিলেন। যা আমায় আগের থেকে চারগুণ বেশি অস্বস্তিতে ফেলেছে!

চলবে….

#স্নিগ্ধ_প্রেমের_সম্মোহন
#সাদিয়া_মেহরুজ_দোলা
#পর্ব___৩৪

বাবার সামনে কাচুমাচু মুখ করে বসে আছি। বারবার এদিক ওদিক তাকাচ্ছি যাতে বাবা আমার চোখের পানিটা খেয়াল না করে! বাবা মা দুজনকে ছাড়া থাকতে হবে ভাবতেই দম বন্ধ হয়ে আসে। নিজেকে স্বাভাবিক করে সামনে তাকাতেই খেয়াল হয় বাবার চিন্তিত মুখশ্রী! তিনি চিন্তিত কন্ঠে বলল,

-‘ আম্মু তুমি কি কিছু বলতে চাও? এতো নার্ভাস লাগছে কেনো তোমায়? কিছু হয়েছে মা?’

লম্বা শ্বাস ফেলে মাথা উচু করে বলি,

-‘ বাবা আমি তোমার কাছে কিছু চাই! ‘

বাবা হাসলেন। হাস্যরত অবস্থায় বললেন,

-‘ কি লাগবে বলো?’

-‘ বাবা আমি বাহিরে গিয়ে আমার মেডিকেল স্টাডি কমপ্লিট করতে চাই। ‘

বাবার মুখ ক্ষনেই বিষন্নতায় ছেয়ে যায়। ভারী কন্ঠে তিনি বললেন,

-‘ হটাৎ এই সিদ্ধান্ত কেনো আম্মু? না মানে আমি নিষেধ করছি না কিন্তু জাষ্ট জানতে চাচ্ছি তোমার কাছে। ‘

-‘ বাবা বাহির থেকে পড়ার ইচ্ছে অনেক আগেই ছিলো। আর তাছাড়া বিডির থেকে বাহিরে স্টাডি করা বেটার! ‘

-‘ কোন দেশে যাবে? ‘

আমি আমতা আমতা করে বলি,

-‘ ভাইয়ার সাথে যাই বাবা? কা..নাডা? ওখানে ও পড়াশোনা বেটার! ‘

-‘ আচ্ছা সমস্যা নেই মা। আমি বরং নিশ্চিত হলাম।সায়ানের কাছে থাকলে তো সেফ থাকবে। ‘

আলত হাসি আমি! বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,

-‘ একটা প্রশ্ন করি আম্মু? ‘

-‘ জিজ্ঞেস করার কি আছে? করো! ‘

বাবা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,

-‘ পূর্ব কি তোমায় কোনো ফোর্স করেছে এতে? কানাডা যাওয়ার জন্য? তোমাকে তো আগে কখনো বাহিরে পড়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখিনি। ‘

ভড়কে গিয়ে তাকাই বাবার দিকে। অতঃপর ধাতস্ত হয়ে বলি,

-‘ না বাবা পূর্ব ভাইয়া কেনো ফোর্স করবেন? হটাৎ করেই ইচ্ছে হলো বাহিরে পড়বো। তাছাড়া ভাইয়া যাচ্ছে তাই সাহস হলো। নয়তো তোমাদের ছেড়ে একা ঐ অচেনা দেশে থাকতে পারি আমি?’

বাবা ফের হেসে বললেন,

-‘ তুমি চিন্তা করো না আম্মু। আমি সব ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি। নিশ্চিতে থাকো! ‘

তপ্তশ্বাস ফেলে ক্ষ্যান্ত হই! যাক বাবাকে মানানো কমপ্লিট।রাগ হচ্ছে প্রচুর। বড় চাচার কেনো কানাডা তেই কোম্পানি স্থাপন করতে হলো? এখন আব্বু আম্মুর থেকে দূরে যেতে হবে। ভাবতেই বুক কেঁপে উঠে। কিন্তু আজকাল যখন পূর্ব ভাইয়াকে ছাড়া থাকতে হবে এমন পরিস্থিতি আসে তখন বারংবার মনে হয় শ্বাস রুখে আমি এখনোই মারা পড়বো!

মলিন মুখে ঘাসের ওপর বসে আছি। পাশে নীরব আর আদ্রাফ কোকা কোলার বোতলে সিপ দিচ্ছে তো আঁড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। তা খেয়াল করে আমি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে বলি,

-‘ কি সমস্যা এভাবে তাকাস কেনো? আজব!’

নীরব খালি বোতলটা পাশে রেখে ধপ করে ঘাসে শুয়ে পড়ে! অতঃপর আমার দিকে চেয়ে বলল,

-‘ এমন পেত্নীমার্কা চেহারা বানায় রাখছস ক্যান? যেই রেজাল্ট করছস তাতে তো তোর লুঙ্গি ড্যান্স দেয়ার কথা। ‘

নীরবের কথায় আদ্রাফ তাল মিলিয়ে বলল,

-‘ এক্সাক্টলি! এমন চেহারা বানিয়ে বসে আছিস কেনো?’

আমি বিরক্ত কন্ঠে বলি,

-‘ লুঙ্গি ড্যান্স নাকি ফুঙ্গি ড্যান্স ঐটা তো তোদের দেয়া উচিত। ভালো রেজাল্ট তো তোরাও করছিস। ‘

নীরব কিছু বলতে নিলে আদ্রাফ হাত উঁচু করে ওকে থামিয়ে দেয়। থমথমে কন্ঠ বলে,

-‘ বুঝলাম! টপিকা পাল্টা, তোর মুড অফ কেন? আংকেল আন্টিকে ছেড়ে যাবি তাই? ‘

আমি মাথা নাড়াই! মলিন কন্ঠে বলি,

-‘ আব্বু আম্মুকে ছাড়া আমি থাকতে পারবোনা ইয়ার। ওখানে চলে গেলেও আমার মুড এমনি চব্বিশ ঘন্টা অফ থাকবে। ‘

নীরব উঠে বসে বলল,

-‘ সেইটা হইতল দিতাছি না আফা! আমরাও যাইতেছি কানাডা। তোর আর অরিন্নার জীবনের বারোটা বাজাতে। ‘

খুশিতে চকচক করে উঠে চোখদুটো। কাদো কন্ঠে বলি,

-‘ সত্যি? তোরাও যাবি?’

-‘ তো? তোদের ছাড়া থাকতে পারবো? ১২ বছরের ফ্রেন্ডশিপ আমাদের। এতো সহজে মিইয়ে দেই কি করে?’
হাসিমুখে বলে আদ্রাফ!

মন খারাপে মাঝেও এক চিলতে হাসি দেই। হটাৎ নীরব বেশ জোরালো কন্ঠে বলল,

-‘ আরেহহহহ! পূর্ব ভাই আপনি?’

স্ব- চকিত চোখে নীরবের দিকে তাকিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছে তাকাই। পূর্ব ভাইয়া ফোন হাতে দাড়িয়ে। কানে লাগিয়ে কথা বলছেন। নীরবের গলায় হাত উচু করে বলল, ‘ এক মিনিট! আসছি। ‘
বলেই ব্যাস্ত হয়ে যান ফোনে। আমি এক ধ্যানে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছি তারদিকে! তিনি এখানে? চব্বিশ ঘণ্টা ফলো করেন নাকি? সেদিনও হুট করে আড্ডার মাঝে এসে উপস্থিত আর আজও? অদ্ভুত!

কিছু সময় পেরুতেই তিনি ফোন পকেটে ঢুকিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে এগিয়ে আসেন। এসে আমার দিকে এক পলক তাকিয়ে কুশল বিনিময় করেন নীরব আর আদ্রাফের সাথে।
কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি আমার হাত টেনে ধরে তার পাশে এনে দাঁড় করান। ব্যাপারটা খেয়াল করেনি ওরা দুজন! আমি চোখ রাঙানি দিতেই পূর্ব ভাইয়া চোখ টিপ দেন!

পূর্ব ভাইয়া হুট করে বললেন,

-‘ আচ্ছা কোনো রেষ্টুরেন্টে চলো? তোমাদের ট্রিট দেই। এতো ভালো রেজাল্ট করলে। কিছু তো প্রাপ্য’

পূর্ব ভাইয়ার কথা শুনে আদ্রাফ আমতা আমতা করে বলল,

-‘ ভাই ইয়ে মানে… গার্লফ্রেন্ড ওয়েট করছে। আমি এখানক এসেছিলাম দোলার সাথে কথা বলতে। ‘

পূর্ব ভাইয়া মুচকি হাসি দেন। ফের বললেন,

-‘ প্রবলেম নেই যাও। তা নীরব? ‘

নীরব বলল,

-‘ ভাই আমারও সেইম কেইস। ‘

স্ব- শব্দে হেসে দেয় পূর্ব ভাইয়া। হাসিটা ঠোঁটের কোনায় বিদ্যমান রেখে বললেন,

-‘ প্রবলেম নেই। কানাডা গিয়ে ট্রিট দিবো তাহলে। ‘

নীরব আর আদ্রাফ হেসে দিয়ে বিদায় নিয়ে চলে যায়। ওরা দুজন চলে যেতেই পূর্ব ভাইয়া আমার দিকে তাকান। আমি তার দৃষ্টি আমাতে দেখে চট জলদি বলি,

-‘ আপনি এখানে কেনো?’

পূর্ব ভাইয়া নিজ পকেটে হাত গুজে বললেন,

-‘ বউকে চুমু খেতে এসেছি। ‘

লজ্জায় নুইয়ে গিয়ে পরিশেষে কন্ঠে রাগান্বিত ভাব টেনে বলি,

-‘ আপনি একটা অসভ্য লোক পূর্ব ভাই! মারাত্মক অসভ্য। সবসময় বাজে চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরেন। ‘

কথাটা সম্পূর্ণ করার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব ভাইয়া কোমড় টেনে তার বুকের সাথে চেপে ধরেন। অস্বস্তি জনিত চাহনি নিয়ে তাকাতে লজ্জার দলেরা গ্রাস করে আমায়, তীব্রতর ভাবে। সাত পাঁচ না ভেবে তার বুকে একটা চিমটি দিয়ে বলি,

-‘ ছাড়ুন, এভাবে পাবলিক প্লেসে ধরছেন কেনো? ‘

পূর্ব ভাইয়া হাসলেন। তিনি বলেন,

-‘ তোর চিমটি এতো সুইট কেনো? আহা…, বুকে প্রশান্তি বয়ে নিয়ে যায়। ‘

-‘ আপনি ব্যাথা পাননি?’
চমকিত কন্ঠে প্রশ্ন করি। তিনি বলেন,

-‘ উঁহু! একটুও না। এনিওয়ে ছাড়ছিনা তোকে যতক্ষণ পর্যন্ত না তুই আমায় ভাই ছেড়ে ‘পূর্ব ‘ বলে ডাকছিস। ‘

ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছি। আকুতিভরা চাহনিতে তাকাতেই তিনি মাথা নাড়িয়ে বললেন,

-‘ উহুম! আজ এমন ইনোসেন্ট দৃষ্টি দিলেও আমি মানছি না। পূর্ব তোকে বলতেই হবে। এন্ড নাউ! ‘

-‘ পূর্ব ভাইয়া বলে ডাকলে সমস্যাটা কি?’

-‘ ইডিয়ট! আমি কো তোর ভাই লাগি? এখন আমি তোর হ্যাজবেন্ড। হ্যাজবেন্ড কে কাওকে ভাই ডাকতে শুনেছিস?’

-‘ বিয়েটা তো জাষ্ট ধর্মীয় মতে হয়েছে পূর্ব ভাইয়া। অফিসিয়ালি না, এখনি যদি আপনার নাম ধরে ডাকি তাহলে ফ্যামিলি কি ভাববে?’

পূর্ব ভাইয়া কোমড় ছেড়ে দিয়ে দুহাত চেপে ধরে চোখ পাকিয়ে বললেন,

-‘ ষ্টুপিড! তুই যদি এখনো আমাকে ডাকিস তাহলে ফ্যামিলির সবাই উল্টোটা ভাববে, ওয়াইফ তার হ্যাজবেন্ড কে ভাই বলে ডাকছে, কি একটা বাজখাঁই অবস্থা! ‘

-‘ তাহলে আপনাকেও আমায় তুমি করে বলতে হবে। ‘

কথ্য সম্পূর্ণ করে সঙ্গে সঙ্গে মুখ চেপে ধরি। এটা কি বললাম? আমি মন থেকে চাই তিনি আমায় তুমি বলুক! বাট মুখে বলার সাহসে কুলায়নি। আজ হুট করে কিভাবে বলে দিলাম? স্ট্রেঞ্জ!
পূর্ব ভাইয়ার দিকে তাকাতেই দেখি তিনি বাঁকা হাসছেন। মিইয়ে গিয়ে মাথা নিচু করে নেই। খানিক বাদে তিনি বললেন,

-‘ পূর্ব বলে ডাকো বউ! এবার ঠিক আছে? আমার কিন্তু তোমায় ‘তুমি ‘ বলতে ডাকতে কোনো সমস্যা নেই। বরং মন থেকে এটাই চাচ্ছিলাম, তুমি নিজ থেকে বলো আমায় তুমি ডাকতে। এনিওয়ে সব শর্ত মেনেছি না?এবার ‘পূর্ব ‘ বলো। নাহলে,’

ফের কোমড় চেপে কাছে টেনে নেন। চোখমুখে ফু দিয়ে বললেন,

-‘ সারাদিন এখানে এভাবেই জরীয়ে ধরে দাঁড় করিয়ে রাখবো। ‘

হাস ফাঁস করতে করতে এদিক ওদিক তাকাতেই দেখি একজন লোক আসছে। তাকে দেখে বুকে কেমন অস্থিরতা ভাব এসে বসে! চেনা চেনা লাগছে খুব তাকে। অতঃপর পূর্ব ভাইয়ার দিকে তাকাতে দেখি নিজের জায়গায় তিনি অটল। জোরাজুরি করে তাকে সরাতে পারলাম না নিজের থেকে। এক পর্যায়ে সাহস জুগিয়ে কাঁপা কন্ঠে বলি,

-‘ প.. পূর্ব ছাড়ুন! ক..কেও আসছে। ‘

পূর্ব ভাইয়ার চোখমুখে প্রানবন্ত হাসি। তিনি হেসে আমায় তার বুকের সাথে চেপে ধরেন।

পূর্বের কাছে এখন মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবথেকে সুখের মূর্হতে ভাসছে সে! দোলার কন্ঠে নিজের নামটা বারবার এসে বাড়ি খাচ্ছে তার কানে। ইশ! দোলার কন্ঠে তার নামটা এতোটা মধুর শোনাচ্ছে কেন?
অবশ্য দোলা তাকে গালি দিলেও সেটা সে মধুর হিসেবে গ্রহণ করবে।

যে প্রেমিক তার প্রেমিকার দেয়া উপাধিতে মুগ্ধ হবেনা সে প্রেমিক না বরঞ্চ ক্ষনিকের মোহে আঁটকে যাওয়া এক উড়ন্ত পথিক! যে কিনা অন্য কারো মোহের স্পর্শে ক্ষনের মাঝেই হারিয়ে যাবে অদূরে।

পূর্বকে ধাক্কা দিয়ে দেই। ছিটকে দূরে সরে যান তিনি। তার মুখে তৃপ্তিকর হাসিটা বহমান। যা আমার স্বাভাবিক শ্বাস – প্রশ্বাস গ্রহণ করতে বাঁধা দিচ্ছে। তাই চট জলদি মাথা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেই। সোজা তাকিয়ে দেখি সেই লোকটা আমাদের দিকেই আসছে। তাকে দেখে আচানক ভয় কাজ করতে থাকে। কারণটা বুঝে উঠে পারছি না। লোকটা কাছে এসে আমায় বলল,

-‘ আরেহ্ আপনি যে, কেমন আছেন?’

আমি আমতা আমতা করে বলি,

-‘ সরি চিনলাম না আপনাকে, কে আপনি?’

ততক্ষণে পূর্ব ভাইয়া এসে আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ছেলেটার দিকে। ছেলেটা বলল,

-‘ আমি সেই ছেলেটা, বিয়ে বাড়িতে যে আপনি পরে যেতে নিয়েছিলেন..’

আমি ছেলেটাকে থামিয়ে চটপট করে বলি,

-‘ ওহ আপনি। ‘

-‘ জ্বী। চিনেছেন?’

-‘ হ্যা ‘

দুই একটা কথা বলে ছেলেটা পূর্বের দিকে তাকায়। ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে,

-‘ ইনি কে হন আপনার? ‘

আমি শান্ত কন্ঠে বলি,

-‘ আমার হ্যাজবেন্ড। ‘

কথাটা বলার পর ছেলেটার থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসি। পূর্ব পাশে! বুকে ধ্বকধ্বক আওয়াজ টা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ইনি অহনের বিয়েতে ধাক্কা খাওয়া সেই ছেলেটা। পূর্ব যদি জানতো এই লোক আমায় স্পর্শ করেছে তাহলে নিশ্চিত এখানেই পুঁতে ফেলতো!

পূর্ব খানিক ধীর কন্ঠে বলল,

-‘ ছেলেটাকে কে দোল?’

আমি কন্ঠের খাদ নামিয়ে বলি,

-‘ অহনের কাজিন। ‘

-‘ ওহ। ‘

পূর্বের দিকে একবার আঁড়চোখে তাকাই। উনি স্বাভাবিক ভাবে হেঁটে চলেছেন। তবে চেহারায় অন্য ভাব ফুটে উঠেছে। আমি জিজ্ঞেস করি,

-‘ কি হয়েছে আপনার?’

-‘ তেমন কিছুনা। ছেলেটার চোখ একজন ক্রিমিনালের সাথে মিলে। তবে যেহেতু অহনের ফ্যামিলির কেও সো এটা সম্ভব না।’

-‘ কেনো সম্ভব না?’

-‘ সিক্রেট! ‘

চোখ টিপ মেরে তিনি দ্রুত হাঁটা দেন।ছেলেটা অহনের কাজিন নয়। আমি আন্দাজে বলেছি। এই ছেলের চেহারা পর্যন্ত আমি দেখিনি কখনো। আজও কালো মাস্ক পড়া!

পিছে দাড়িয়ে থাকা ছেলেটি অদ্ভুত হাসি দিচ্ছে। ফোন বের করে সে বলল,

-‘ দেখা হয়েছে, টিম থেকে কয়েকজনকে কানাডা পাঠাও, আমিও ওখানে যাচ্ছি। বাংলাদেশে এদের কিছু করা যাবেনা। এবার র্্যাব, পুলিশ ঝিমিয়ে যায়নি! বাংলাদেশকে পরে দেখা যাবে। আগে পূর্ব দোলকে দেখি। স্পেশালি দোলা! ‘

কেটে দেয় ফোন। চোখমুখে উপচে পড়া খুশির লেশ। কতদিনের ইচ্ছে পূরণ হতে যাচ্ছে তার।

চলবে…