কারণে অকারণে ভালোবাসি০২ পর্ব-২৪+২৫

0
835

#কারণে_অকারণে_ভালোবাসি০২
#সুরাইয়া_আয়াত

২৪.

— সিগারেট দে জলদি। ফাস্ট।

আরাভ আরিশের দিকে হতবিহ্বল হয়ে চেয়ে রইলো হয়তো একটু অবাক ও হলো। তবে বেশ থতমত খেয়ে বলল
— আমার কাছে সিগারেট থাকবে কেন? আমার কাছে নেই। তাহলে একটু ওয়েট কর মোড়ের মাথা থেকে কিনে আনি।

আরিশ রাগে ফেটে পড়লো। রাগের সময় যখন যেটা চাওয়া হয় সেটা যদি সহজে না পাওয়া যায় তো সে রাগের আর সীমা অসীমা থাকে না। আরিশ গাড়ির বাইরে থেকে আরাভের শার্টের কলার ধরে বলল
— তুই যে মাঝেমাঝে সিগারেট খাস সেটা কি আমি জানি না! এক্ষুনি দিবি নাকি বিয়েটাই ক্যান্সেল করে দেব।

আরাভ আরিশের কলার ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল
— ভিলেন একটা শালা পেয়েছি কপাল করে। দিচ্ছি দিচ্ছি। ওয়েট।

আরিশ কলার ধরে রেখেই বলল
— দে।

আরাভ শার্টের কলারটা ইশারা করে বলল
— আগে কলারটা ছাড়!

আরিশ কলারটা ছেড়ে গাড়ি থেকে দূরে সরে দাঁড়ালো।
আরাভ ওর একটা সিগারেট বার করে আরিশের সামনে ধরে বলল
— একটাতে হবে নাকি!

কথাটা শেষ করার পূর্বেই আরিশ আরাভের হাত থেকে সিগারেটটটা ছিনিয়ে নিলো যেমনটা একটা ক্ষুদার্ত পশু খাবার পেলে যেমনটা করে।

আরিশ সিগারেটটা নিয়ে মুখে দিলো আর দাঁতে দাঁত চেপে বলল
— লাইটার কি তোর শালা দেবে?

–দিচ্ছি দিচ্ছি।
আরাভ লাইটারটা আরিশকে দিলো। আরিশ সিগারেটটা ধরিয়ে এক টান দিলো। আরাভের কৌতূহল বাড়লো। এই আরিশকে সে চেনে না।
— কি রে আজ হঠাৎ কি হলো তোর এতো রেগে আছিস?

আরিশ বিনা বাক্যে গাড়ির দরজা খুলে আরাভের পাশে বসে গেল। তারপর বেশ আয়েশ করে আর এক টান দিতেই আরাভ পুনরায় প্রশ্ন ছুঁড়লো
— কি হয়েছে সেটা তো বল!

আরিশ ধোঁয়া ছেড়ে দিতেই শীতের কুয়াশা আর সিগারেটের ধোঁয়াশায় মিলেমিশে একটা দলাপাকানো বিদঘুটে পরিবেশের সৃষ্টি করলো।

— তুই তো আরু পাখির বিষয়টা জানিস তাইনা!

আরাভ ভ্রু কুঁচকে উত্তর দিলো
— হমম। তো?

আরিশ সিগারেট এ টান দিয়ে বলল
— আমার দিয়ে একটা ভুল হয়ে গেছে। সি মাইট বি প্রেগনেন্ট। নাও হোয়াট টু ডু ইউ উইল টেল মি।

কথাটা বলে আরিশ একটা গা ছাড়া ভাব নিতে শুরু করতেই আরাভ তেতে উঠলো
— এটা গুড নিউজ আর তুই চিন্তা করছিস এতো! এত আপসেট কেন তুই!

আরিশ এবার ধোঁয়াটা আরাভের মুখে ছুঁড়ে বলল
— আমার আরু পাখির লাইফ রিস্ক নিয়ে বাঁচবে আর আমি চিল হয়ে বসে থাকবো?

ধোঁয়ার বিদঘুটে গন্ধে আরাভের কাশি উঠলো যেন সে আগে কখনো স্মোক করেনি।

আরাভ কাশি থামিয়ে বলল
— দেখ এতো নেগেটিভ ভেবে লাভ নেই। পজেটিভ ভাব। নাহলে একটা পিল খাইয়ে দে!

আরিশ বাকা হেসে বলল
— আজ চারদিন হতে যায়! হোয়াটএভার। আই নিড মাই বেবি এন্ড মাই আরু পাখি টুগেদার। তা যে করেই হোক। ওরা নেই তো আমিও নেই। এজ সিম্পল এজ দ্যাট!

আরাভের সমস্ত শরীর শিউরে উঠলো। আরিশ কে আগে কখনো এতো পাগলামো করতে দেখেনি সে। হয়তো সে একটা ট্রমার মধ্যে আছে তাই নিজের এমন প্রি প্ল্যানড সুইসাইড ভেবে রেখেছে নাহলে যে মানুষ অন্যকে বাঁচার অনুপ্রেরণা জোগায় সে কখনো এমন কিছু বলার মানুষ না।

আরিশ গাড়ি থেকে নেমে যেতে নিলেই আরাভ বলল
— আর ইউ ম্যাড! তুই একথা বলছিস!

আরিশ আরাভের দিকে চোখ মেরে বলল
— অন্যর জন্য কে নিজের জীবন শেষ করে ব্রো! একটা মেয়েই তো! একটা গেলে আর একটা আসবে!

আরাভ সহ্য করতে পারলো না আর। আরিশের শার্টের কলার ধরে তীব্র এক ঝাঁকুনি দিয়ে বলল
— তোর জ্ঞান বুদ্ধি কি লোপ পেয়েছে? কি সব বলছিস এসব।

আরিশ দাঁতে দাঁত চেপে বলল
— ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু টাচ মাই কলার। আমার কলার হাত দেওয়ার সাহস যেন আর কখনো না করিস।

আরাভ ছেড়ে দিলো। চোখ নামিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বলল
— সরি!

হঠাৎই আরিশ তীব্র পিপাসার্ত কন্ঠে বলল
— আই নিড মাই আরু পাখি এন্ড আর্শিয়ান! এট এনি কস্ট!
ওদেরকে আমার লাগবেই। আমার জন্য হলেও আমার আরুপাখিকে আমার কাছে ফিরতে হবে। আল্লাহ আমাকে এতোটাও নিরাশ করবেন না।

আরাভ আরিশ এর দিকে তাকালো। আরিশ এর চোখ দুটো ভয়ংকর লাল আর ছলছলে! যে চোখের দিকে এক পলক তাকালেই হয়তো আরু হামলে পড়তো আরিশ এর বুকে!

আরিশ গাড়ি থেকে নামতে নামতে বললো
— আমি সিঙ্গাপুর যাচ্ছি না আরাভ!

আরাভ দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে বলল
— বাট ইউ আর নট সিওর যে আরু মাইট বি প্রেগনেন্ট তাইনা!

আরিশ কিছু বললো না। খড়ের মধ্যে গিয়ে এবার বসে পড়লো। আরাভ অবাক হয়ে বলল
— কি রে এখানে বসেছিস যে! ওঠ! চল এখান থেকে। আর তোর ফোন বাজছে মনে হচ্ছে। ফোনটা ধর।

আরিশ উদাসীন হয়ে বলল
— জানিনা কোথায়! ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম কোথায় পড়েছে মনে নেই।

আরাভ খোঁজা শুরু করে বলল
— দরকারি কল হবে হয়তো। ফোনটা খোঁজ!

আরিশ নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল
— আরু পাখির কল। ওকে বল এখানে আসতে।

আরাভ বিরক্তিসূচক ভাব নিয়ে বলল
— তোকে বলাই আমার ভুল। কথাটা বলে আরুকে ফোন ধরালো আরাভ! ওর পাশ থেকে দ্রুত উত্তর এলো। অস্থির কন্ঠে আরু বলে উঠলো
— ভাইয়া ওনাকে কল করছি উনি ধরছেন না। আপনি কি ওনার সাথে আছেন?

— আচ্ছা ভাইয়া আমি যাচ্ছি। আপনি ওখানেই দাঁড়ান।

ফোনটা কেটে আরু শঙ্কিত চোখে সানার দিকে তাকিয়ে বলল
— তুই ঠিক ই বলেছিলিস! উনি আমার উপর রেগে আছেন। আমিও যে কেন এতো স্টুপিড যে ওনার মতো সব ইমাজিন করতে পারি না।

— ভাইয়া কারন ছাড়া তোকে কোন কাজে নিষেধ করে না। আন্টিগুলো তোকে আটক করে তো সব আজাইরা প্রশ্ন করছিলেন তাই ভাইয়া তোকে ডেকে আনার চেষ্টা করছিলো কিন্তু তুই তো বিশ্ব ঘাড় ত্যাড়া। নাও এবার সামলাও।

কথাটা শেষ করে আরুর হাত ধরে টানতে টানতে সানা বাইরে নিয়ে গেল।
বিয়ে বাড়ির গেট থেকে প্রায় এক মিনিট হেটে যেতেই গাড়ির হালকা আলোয় আরাভকে দেখতে পেলো আরু। সে ফোন নিয়ে কিছু একটা খুঁজছে। আরিশকে দেখা যাচ্ছে না। আরু দূর থেকে চিৎকার দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো
— ভাইয়া আপনি অন্ধকারে ওখানে কি খুঁজছেন? আর মি অভদ্র কোথায়?

আরাভ খুঁজতে খুঁজতে বলল
— ভাবি হেল্প মি। আরিশ এর ফোন হারিয়ে গেছে সেটাই খুঁজছি। সানা তুমিও এসো।

সানা আর আরু এগিয়ে আসতে লাগলো। আরাভ আরিশের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো আরিশ ফিসফিস করে বলল
— সানা কে নিয়ে তুই এখান থেকে যা, আরুপাখিকে একা পাঠিয়ে দে।

আরাভ ও ফিসফিসিয়ে বলল
— কিন্তু আমি ভাবীকে কি বলবো?

— মিথ্যা বলবি! না পারলে সত্যিই বলবি! বল।

আরাভ দূর থেকে বলল
— ভাবী আপনি আসেন। সানা তুমি ওখানেই দাঁড়াও।

আরু সানার দিকে তাকিয়ে বলল
–তুই দাঁড়া আমি আসছি।

অন্ধকারে আরিশকে বিন্দুমাত্র দেখা যাচ্ছে না। আরু পা টিপে টিপে আরাভের কাছে গেল।

— ভাবী আপনি ফোন খুঁজুন আমি একটু আমার বউয়ের সাথে প্রেম করে আসি।
কথাটা বলার পর আরাভ আর সানকে বেশিখন সেখানে দেখা গেল না, ওরা বিয়ে বাড়িতে ঢুকে গেছে।

আরু কিছু বলার সুযোগ তার পেলো না। অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে আছে আর বিড়বিড় করছে
— মি অভদ্র আর এমন করবো না। আপনার সব কথা শুনবো। আপনি কোথায়?

হঠাৎ করে আরিশ আরুর হাতটা ধরে আরুর কোলে টেনে নিলো। অন্ধকারে হঠাৎ এমন কিছু হওয়াই আরুর হার্ট অ্যাটাক করার মতো অবস্থা। জোরে চিৎকার দিতে যাবে তখনই আরিশ বলল
— শশশশশ্ আমি এখানে!

#চলবে,,,,

#কারণে_অকারণে_ভালোবাসি০২
#সুরাইয়া_আয়াত

২৫.

–শশশশ্ আমি!

আরু হৃদস্পন্দন যেন ক্ষনিকের জন্য থেমে গেল, অনুভূতিরা কখনো শূন্য ,তো কখনো প্রবন। আরিশের উপস্থিতি অনুভব করছে সে। আরিশ তার কোমর ধরে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে আছে!

ভয়ে আরুর নিশ্বাস দ্রুত ওঠানামা করছে। আরিশ নিশ্চুপ। আরু দুরুদুরু বুকে একরাশ ভয় নিয়ে বলল
— আপনি এখানে কি করছেন? এই অন্ধকারে!

আরিশ কিছু বলল না চুপ করেই আছে যেন আরু ভয় পায় দ্বিগুণ করার চেষ্টা করছে। আরিশের নিস্তব্ধতাতে আরু কাঁপা কন্ঠে বলল
— কি হলো চুপ করে আছেন কেন?

আরিশ এবার রাশভারী কন্ঠে বলে উঠলো
— আমার কথার অবাধ্য কেন তুমি এতো?

আরু বুঝতে পারলো আরিশ ঠিক কি ইঙ্গিত করতে চাইছে তাই এবার আরিশের রাগ কমাতে বলল
— সরি সরি সরি অর কখনো অবাধ্য হবো না বিশ্বাস করুন।

কথাটা বলা মাত্রই আরু আরিশের গলা জড়িয়ে ধরলো আর বুকে মাথা রাখলো। আরিশ নিরুত্তর।
বেশ কিছুখন আরু এভাবেই আরিশের বুকে মাথা দিয়ে রাখলো। আরিশ এখনো নির্বিকার ভঙ্গি নিয়ে বসে আছে।

নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে আরু বলল
— আপনার রাগ কমেছে?

আরিশ সহজ ভাবে উত্তর দিলো
— হমম!

— এবার তাহলে চলুন বাসায় যায় না হলে সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেবে।

— সানা আর আরাভ তা সামলে নেবে।

আরু হঠাৎই একটা বিদঘুটে গন্ধ পেয়ে বলল
— আপনি স্মোক করেছেন?

— হমম।

আরু রেগে গেল ভীষন রকম। একপ্রকার ঝাঁঝিয়ে বলল
— একটা কথা শুনিনি বলে আপনি স্মোক করবেন?

— আমার হাত আমার ঠোঁট আমার শরীর। আমি যা ইচ্ছা তাই করবো! কে আটকাবে।

কথাটা বলে একটা গা ছাড়া ভাব নিতে যাবে আরু তখনই আরিশের গাল দুটো শক্ত করে চেপে ধরলো আর দাঁত কিড়কিড় করে বলল
— না কিছুই আপনার না। সব আমার।

আরিশ ভ্রু কুঁচকে বলল
— মানে!

— মানে আপনার সবকিছু আমার তাই আমি যা অপছন্দ করি সেই কাজগুলো করার চেষ্টা ভ্রুনাক্ষরেও করবেন না।

আরিশ ভ্রু উচিয়ে বলল
— না হলে কি করবে তুমি?

একটা সময় আরুর মনে হলো যে আরিশ আরুকে উত্তক্ত করার চেষ্টা করছে এটা ওটা বলে যেমনটা সে নিজেই কিছুখন আগে রেগে ছিলো। আরিশের কথাটা শোনা মাত্রই হঠাৎ আরু আরিশের গাল থেকে হাত সরিয়ে একটানে পাঞ্জাবীর বোতাম ছিঁড়ে ফেলল।
বোতামটা ছিঁড়ে আরিশে গলার বামদিকে কামড়ে ধরে রইলো বেশ কিছুখন!

আরিশ শক্ত হয়ে আছে। আরুকে ছাড়ানোর চেষ্টা নেই তার মধ্যে।
ব্যাথা পেয়ে বলল
— আহ আরু পাখি লাগছে।

আরু ছেড়ে দিয়ে আরিশের গলার আর একদিকে কামড়ে দিলো।

আরিশ নিরবে সহ্য করলো পরের বার। মেয়েটা তার রাগ উষুল করছে। আরিশ আরুকে থামানোর জন্য বলল
— ভাগ্যিস তুমি ভ্যাম্পায়ার না, না হলে তো আমাকে খেয়েই ফেলতে!

আরু নিমেষেই সরে এলো। ঠোঁটটা মুছে নিয়ে রাগী দৃষ্টিতে আরিশের দিকে তাকিয়ে রইলো। আরিশ গোপনে এক স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।
— এভাবে কেও কামড় দেয়! এক মাসেও বোধহয় এই দাগ যাবে না।

হঠাৎ দমকা হাওয়ার মতো যেন আরুর রাগটা পড়ে গেল আরিশের এমন কথা শুনে। আরিশের কোলে মাথা রেখে বলল
— সরি এতো জোরে কামড়াতে চাইনি। কিন্তু আপনি আমার সাথে যা করেন তার তুলনায় এটা কিছু না হু!

আরিশ অবাক হওয়ার ভান করে বলল
— কিন্তু আমি তো এতো কামড় তো দিইনা, আমি তো যাস্ট,,,

পরের শব্দগুলো আরুর জন্য খুবই লজ্জাদায়ক হবে তাই আরু আরিশের মুখটা চেপে ধরলো।
— স্টপ স্টপ! আমি শুনতে চাই না। আমি জানি আপনি কি বলবেন। চুপ থাকুন আর বলুন যে ফোন কোথায় ফেলেছেন? আমি জানি আপনি জানেন যে ফোন কোথায় পড়েছে। আপনি ইচ্ছা করে আরাভ ভাইয়া কে খাটিয়েছেন যাতে সে আমাকে এখানে ডাকে!

আরিশ বাকা হেসে বলল
— আরাভ ডাকলেও তোমাকে আসতে হতো আর না ডাকলেও আসতে হতো। যাইহোক। ওই যে বস্তাটা দেখছো খড় কেটে রেখে দেওয়া আছে ওটার নীচে পড়েছে।

আরু ছুটে গিয়ে ঝটপট ফোনটা আনলো।
ফোনটা এখনো জিবীত আছে কি তা দেখার জন্য অন করতেই দেখলো ওয়ালপেপার ওর ছবি। আর ভ্রু কুঁচকে বলল
— আচ্ছা এই এক ই ওয়ালপেপার দেখতে দেখতে আপনার বোরিং লাগে না? আমার এই ঘুমন্ত পিকটার ছবি আপনি বিগত পাঁচ বছর ধরে রেখে দিয়েছেন। নতুন ফোনেও তাই। চেন্জ করতে পারেন তো।

আরিশ খড় থেকে উঠে গা ঝাড়া দিয়ে বলে উঠলো
— পুরোনো হয়ে গেলেই বুঝি সব পালটাতে হয়? আর বিরক্ত হবো কেন? আমার যাকে দেখতে ভালোলাগে তার ছবিই রেখেছি। হোয়াটএভার! এসব তোমার মোটা মাথায় ঢুকবে না। চলো যাই।

আরু মুখ ফুলিয়ে বলল
— আপনি আমাকে এরকম বললেন তো! ঠিক আছে ঠিক আছে মনে রাখলাম।

আরিশ আরুর কাধে হাত রেখে পাশ থেকে জড়িয়ে ধরলো। বিয়ে বাড়ির আলোয় দুজনের ছায়া মূর্তি দেখা যাচ্ছে। আরিশ আরুকে জড়িয়ে আছে। আরিশ আরুর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ওদের দুজনের ছায়া মূর্তির একটা ছবি তুললো।
আরিশ বলল
— আরু পাখি একটু হাসো।

— কেন কেন কেন? হাসবো না আমি, আপনি আমাকে মাথামোটা বলেছেন।

— হু। তুমি যা তাই ই বলেছি।এখন হাসো।

আরু কাধ থেকে আরিশের হাত ছাড়িয়ে বলল
— না হাসবো না।

আরিশ এবার আচমকা আরুর গালে চুমু দিয়ে বলল
— তোমার আর্শিয়ান বললে কি তুমি রাগ করে থাকতে? আরে হাসো না।

আরিশ বুঝতে পারেনি যে আরুর পতিক্রিয়া ঠিক কি হবে কিন্তু আচমকা আরিশ লক্ষ করলো যে আরু হেসে উঠেছে। আরিশ বিষয়টা না বুঝলেও খুশি হলো আরুর খুশিতে।

আরু হেসে আরিশের দিকে তাকালো আর আরিশ আরুর সেই হাসির দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলো। দৃষ্টির অগোচরে সেই ছায়ামূর্তির একটা ছবি উঠলো ফোনে।

আরিশ আরুর কপালে চুমু দিয়ে বললো
— আরো বিশ বছর পর যখন আমার স্মৃতি মন্থন করবো তখন মনে পড়বে আমার আরু পাখি হাসছিলো আর আমিও তার হাসির দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে ছিলাম। কিছু কিছু স্মৃতি এভাবেই জিইয়ে রাখতে হয় না হলে তা হাজারো স্মৃতির মাঝে মৃত হয়ে যায়!
চলো এবার যায়!

—–

— তোমার ভাইয়া ভাবী কতো সুন্দর রোমান্টিক কাপল, ওদের দেখেও তো কিছু শিখতে পারো নাকি।

সানা চোখ ছোট ছোট করে বলল
— সবাই তো আর ভাইয়ার মতো না। আপনি ভাইয়ার মতো এমন রোমান্টিক হলে ভেবে দেখতাম যে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা যাবে কি!

আরাভ সানার হাতটা ধরে হঠাৎই একটা রিঙ পরিয়ে দিলো। সানা খুশি হলো তবে খানিকটা ধমকের সুরে বলল
— এটার এখন কি দরকার ছিলো।

— কেও যেন আমার এই সুন্দরী বউটার দিকে নজর না দেয় তার ব্যাবস্থা করে রাখলাম। এখন থেকে তুমি আমার।

সানা মুচকি হেসে গরম চোখে বলল
— তা এখন আমার কি করা উচিত?

আরাভ সানার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল
— বেশি কিছু না শুধু কথা দাও যে কখনো দূরে যাওয়ার কথা বলবে না! হৃদয় বিচূর্ণ হয় তো।

সানার দৃষ্টি নরম হলো। আরাভের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল
— বাই দা ওয়ে চাইলেও কিন্তু বিয়েটা এখন হবেনা যতদিন ভাইয়া বাসায় ফেরে।

আরাভ সাবলীল ভাবেই বলল
— তোমার ভইয়া সিঙ্গাপুর যাচ্ছে না। তাহলে এই বছরেই বিয়েটা করে ফেলবো।

সানা অবাক হয়ে বলল
— যাচ্ছে না মানে?

আরাভ একে একে সানা কে সবটা বলল। সানা শুনে খুঁশিতে আত্মহারা। চেঁচিয়ে বলল
— সত্যি আরু প্রেগন্যান্ট?

আরাভ মাথা নাড়িয়ে বলল
— এখনো না, তবে এটা আরিশের গেস। বাট আরিশের ক্যারিয়রের জন্য যাওয়াটা দরকার ছিলো তবে তার আরু পাখি সবচেয়ে আগে। ভালোবাসা না থাকলে জীবনে সাফল্যও ঘুরে তাকায় না তোমার দিকে। আরিশ সেটাই করছে। কিন্তু যদি ভাবী প্রেগন্যান্ট না হয় তাহলে আরিশের যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে, আরিশের যাওয়া উচিত। কিন্তু হলে তো খুশির খবর।

সানার কপালে চিন্তার ভাজ। হঠাৎই দরজায় নক করে বলল
— এহেম এহেম আসতে পারি?

দরজায় আরিশ আর আরুকে দেখে দুজনেই অবাক হলো।সানা ফিসফিসিয়ে বলল
— আরু কিছু শুনে ফেলেছে?

আরাভ আরিশের মুখের দিকে তাকালো আর আরুর দিকেও। দুজনের স্বাভাবিক। আরাভ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল
— নাহ শোনেনি।

আরাভ মুচকি হেসে বলল
— ভাবী ঘরে আসেন আমরা তো আপনাদের কথায় বলছিলাম।

#চলবে,,,