Home "ধারাবাহিক গল্প ভালোবাসার মৌসুম ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-০৬

ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-০৬

0
304

#ভালোবাসার_মৌসুম
#aroshi_jahan_isha
part 6

__বিয়ে বাড়ি মানেই আনন্দ আর হই হুল্লোড়, পিহুর বিয়ে উপলক্ষে তার সব কাজিনরা মিলে সব ধরনের আয়োজনই করেছে।ছাদের এক কর্ণারে বিভিন্ন কালারের রং সাজানো আর তার পাশেই রয়েছে হরেক রকম আতসবাজি।

পিহুকে আজ সাদা আর লাল পাড়ের লেহেঙ্গা পড়ানো হয়েছে। আর সব কাজিন রা সাদা পাঞ্জাবি আর সাদা ড্রেস পরেছে। মাইরা ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে।পড়নে তার সেই সাদা গাউন আর সাদা স্কার্ট প্লাজু, কোমর সমান চুল গুলো বিনুনি করা।

তানিশা দেখ তো তন্ময় কই?

রুবির কথায় তানিশা বিরক্ত হলো,নাক কুঁচকে বললো,কাকিয়া আমি পাখিকে সাজিয়ে দিচ্ছি তো তিন্নি কই তাকে বলো ভাইয়া হয়তো বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়ে আছে,

রুবি শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে করতে নজর গেলো মাইরার পানে, খানিকটা ইতস্তত বোধ করলো,তবুও ডাকলো,

“মাইরা শুনছো!

মাইরা ধরফরিয়ে পিছু ফিরলো,
রুবি সচারাচর মাইরা কে ডাকে না কিংবা আগ বাড়িয়ে কথা বলে না।কেনো ডেকেছে সে জানার কৌতূহল দমাতে না পেরে বলে উঠলো মাইরা,
” কিছু বলবে কাকিয়া?

হু দেখো তো একটু বাড়ির পেছনের দিকটাতে তন্ময় আছে কি না!থাকলে বলবে কাকিয়া খেতে ডাকছে, জলদি আসতে ”

মাইরা মাথা নেড়ে হে জানালো,অতঃপর সিরি বেয়ে নিচে চলে গেলো।

ধরনি জুড়ে তখন মধ্যাহ্নের শেষের দিকে,প্রকৃতি তখন বিষন্ন সাদা কালো মেঘেদের লুকোচুরি চলছিলো।দূর হতে নাম না জানা পাখিরা অনবরত ডেকে চলছে। মাইরা ধীর পায়ে বাড়ির পেছনের দিকটাতে এলো,দূরে পুকুরের সিরিতে কাঙ্ক্ষিত মানব কে দেখে মৃদু হাসলো।অতঃপর তার দিকে এগিয়ে গেলো,

শুনছেন কাকিয়া খেতে ডাকছে আপনাকে!
তন্ময় পিছু ফিরে মাইরা কে দেখে ভরকে গেলো, খানিকটা আশ্চর্য হয়ে শুধালো,

তুমি এখানে?

মাইরা ভ্রু কুঁচকে বললো, এখানে কি আমার আসতে মানা?

তন্ময় মাথা নেড়ে না জানালো।মাইরা হাসলো,তন্ময় চেয়ে রইলো অষ্টাদশীর পানে।

এখানে কি করছিলেন আপনি?

তন্ময় সিরিতে থাকা গিটার খানার দিকে তাকিয়ে বললো, গান গাইছিলাম।

মাইরা ভ্রু কুঁচকে বললো, গান গাইতে জানেন আপনি?কই জানতাম না তো!

তন্ময় মৃদু হেসে বললো, এখন তো জানলে।

আমায় একটা গান শোনাবেন তন্ময়?

মাইরার তন্ময় সম্বোধনে তন্ময় খানিকটা চমকে গেলো,
কপাল কুচকে বললো, আমি তোমার থেকে কতো বড় তুমি জানো?

মাইরা তন্ময়ের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বললো,যদি বলি লম্বায় আপনি খাম্বা আর আমি মরিচ গাছ।আর বয়সের দিক দিয়ে বললে। আপনি আমার থেকে গুণে গুনে ১১ বছরের বড়।

তন্ময় মাইরার পানে চেয়ে বললো,
তবে নাম ধরে ডাকছো যে?

আপনি আমার স্বা,,,,,,,বাকি কথা বলার আগেই তন্ময়ের ফোন খানা বেজে ওঠলো।

সিরিতে অযত্নে ফেলে রাখা ফোন খানার দিকে নজর গেলো মাইরার হস্যজ্জল এক রমনির ছবি ভেসে আছে ফোনের স্কিনে।আর নামের জায়গায় সেইভ করা,♥️Natasha♥️

তন্ময় খানিকটা ইতস্তত বোধ করলো, তাও কল খানা রিসিভ করে অপর পাশের মানুষটা কে শুধালো।

পরে কল ব্যাক করছি।

বলেই কেটে দিলো।

মাইরার আকাশে যেনো মেঘেরা উড়ু উড়ি করছে,যখন তখন বাধ ভেঙে বৃষ্টি নামবে বোধহয়।

তন্ময়ের পানে চেয়ে বললো,
কেটে দিলেন যে কল?

তন্ময় মৃদু হেসে জবাব দিলো, পরে কথা বলবো।

কে হয় আপনার?

মাইরার প্রশ্নে তন্ময় খানিকটা ভরকে গেলো, অতঃপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললো।

আমার প্রেমিকা,

মাইরা খানিকটা হেসে বললো, পরকীয়া করছেন?

তন্ময় ভ্রু কুঁচকে বললো, হয়তো করছি।

মাইরা বিষাক্ত একখানা হাসি উপহার দিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালো,

তন্ময় পিছু ডাকলো,শান্ত কন্ঠে বললো, আমার ডিবোর্স চাই।

মাইরা কিছু বললো না চুপচাপ চলে গেলো।

তন্ময় চেয়ে রইলো অষ্টাদশী রমনীর পানে।
কষ্ট হলো মেয়েটার জন্য, তারই বা কি করার আছে সে যে ভালোবাসে নাতাশা কে,কি করে তবে মাইরা কে বউ হিসেবে মেনে নিবে।
আচ্ছা তন্ময় কি সত্যি নাতাশা কে ভালোবাসে নাকি কারো প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ভালোবাসার নামে সঙ্গ দেয়।মনে মাঝে থাকা সুপ্ত অনুভূতি গুলো তুড়ি মেরে ওড়িয়ে দিলো তন্ময়।

গিটার খানা হাতে নিয়ে বাড়ির দিকে হাটা ধরলো,

রাত তখন ১২ টা পেড়িয়ে গেছে সওদাগর বাড়িতে মরিচ বাতির আলোয় ঝলমল করছে। তিনতলা বিশিষ্ট বাড়িটা ক্রিতম আলোয়ে আলোকিত হয়ে আছে,বাড়ির সব আত্মীয় স্বজনরা নাচ গানে মেতে আছে, পিহুর দু-হাত ভারে মেহেদী দিয়ে দিচ্ছে, মাইরা আর পিহুর মামাতো বোন কলি।কলি মেয়েটা বড্ড মিশুক খুব অল্প সময়ে মাইরার সাথে ভাব জমে গেছে।

বাড়ির বড়’রা যে যার মতো ঘুমাতে চলে গেছে,ছোট রা মেহেন্দি পড়ায় ব্যস্ত আর ছেলে গান গাইছে আর তার সাথে বিয়ারে চুমুক দিচ্ছে।

মাইরা দের থেকে খানিকটা দূরে তন্ময় এবং পিহুর কিছু ছেলে কাজিন বসে আড্ডা দিচ্ছে, তাদের আড্ডা জমাতে বিয়ার নিয়ে হাজির হলো ধ্রুব, ধ্রুব হচ্ছে পিহুর খালোতো ভাই।তন্ময়ের পূর্ব পরিচিত ভার্সিটি দুজন একসাথেই হলে থাকতো।সেই সুবাদে সম্পর্ক বেশ ভালো।

তন্ময় ছাদের কার্ণিস ঘেঁসে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে তার আধখোলা ক্যান __ঠান্ডা বিয়ার।

সবাই যখন বিয়ারের চুমুকের সাথে আড্ডায় ব্যস্ত তন্ময়ের দৃষ্টি তখন অষ্টাদশীর পানে।আজ অষ্টাদশীর মুখপানে বিষাদ নেই।কেমন হাস্যজ্জল তার মুখশ্রী।

তন্ময় গিটারে সুর তুললো,মাইরার পানে চেয়ে গেয়ে ওঠলো,

______

“কখনো যদি,হঠাৎ এসে
জরিয়ে ধরে বলো
ভালোবাসো।

আমি প্রতি রাত, হ্যাঁ
প্রতিক্ষণ

“খুব অজানায় কতো অভিনয়,
করে বসি তোমায় ভেবে।
আমার অযথা লেখা সব গান
সব শুনে মন করে উচাটন
তুমি বুঝ নি কেন আমাকে?

তুমি বুঝ নি,আমি বলি নি

” তুমি স্বপ্ন তে কেন আসো নি?
আমার অভিমান তোমাকে নিয়ে
সব গেয়েছি,

তন্ময় গিটারে সুর তুলে গাইতে লাগলো,সবাই বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে গানে ডুব দিলো।

মাইরা অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো তন্ময়ের পানে।
তন্ময় ও চাইলো দু’জনে চোখাচোখি হলো,

তন্ময় গিটার খানা ধ্রুবর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে উঠলো,

Good night, guys.See you in the morning!”

কথা শেষ করে যেই না পা বাড়াবে অমনি ধ্রুব তন্ময়ের হাত খানা চেপে ধরলো,

কোথায় যাচ্ছিস?দাঁড়া ভাই!”
এতো সুন্দর একটা গান গাইলি,এবার নেচে দেখা!
ধ্রুবর সঙ্গ নিলো সবাই,পিহু মেহেদী ফু দিতে দিতে বললো,
ও তন্ময় ভাই নাচো না মাইরা ভাবি নাচে খুব ভালো,দুজন মিলে কাপল ডান্স করো।

তন্ময় সঙ্গে সঙ্গে না করে দিলো,

তবে তার কথা বাঁদরের দলবল শুনলে তো,
সবাই মিলে বাধ্য করলো নাচার জন্য,

তন্ময় মাইরার পানে চাইলো,
মাইরা ভয়ে মুখখানা চুপসে রেখেছে,

পিহু মাইরা কে ধাক্কা দিয়ে তন্ময়ের বক্ষ মাঝে ফেলে দিলো,তাল সামলাতে না পেরে তন্ময়ের শার্ট খামচে ধরলো মাইরা,

ফেইরি লাইটের ক্রিতিম আলোয় এক জোড়া কপুত কপুতির অবয় বেসে ওঠলো,

সবাই চিল্লিয়ে বলে ওঠলো,

Wowwwwww kitni Sundor,,,,,,

ফেইরি লাইটের ক্রিতিম আলো খানা কমে আসছে,আধার আলোর এক অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি হয়েছে
Slow Romantic Song বাজছে।

~~~

তন্ময় মাইরার পানে হাত বাড়ালো,মাইরা খানিকটা লজ্জা আর ভয়ে মিলেমিশে অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে তন্ময়ের হাতে হাত রাখলো।দু’জনেই দুজনের আঙুলের ফাকে হাত রাখলো।

দুজনের দৃষ্টি তখন একে অপরের দিকে, তন্ময় আরও খানিকটা এগিয়ে এলো, মাইরার উন্মুক্ত কোমর খানা স্পর্শ করলো।দুজনের মধ্যিখারি দূরত্ব মিলিয়ে গেলো।যতোটা কাছে আসলে একে অপরের নিশ্বাস আদান প্রদান হয় ঠিক ততোটা কাছে এলো। তন্ময়ের শীতল দৃষ্টি তখন নাজুক অষ্টাদশী রমনীর লাজে রাঙা মুখপানে।

অষ্টাদশীর তখন পৃথিবী থমকে গেছে,গোলক ধাঁদায় আটকে গেছে,তন্ময়ের স্পর্শে আগুনের নায় শরীরে তাপ সৃষ্টি করছে, হৃদপিণ্ড কেঁপে ওঠছে।
“তন্ময় বোধহয় বুঝলো বালিকার অনুভূতি, মৃদু হাসলো,

সুরের তালে তালে অষ্টাদশীর কাঁধে চিবুক ঠেকিয়ে হাত রাখলো তার পেটের মধ্যেখানি।রমনী তখন লাজে চোখ বন্ধ করে নিলো।তবে তন্ময় বোধহয় আজ তাকে মেরে ফেলার পায়তারা করছে, তাইতো এভাবে স্পর্শ করছে।কি আছে তার স্পর্শে?যা অষ্টাদশীর লাজ কেড়ে নেওয়র জন্য যথেষ্ট।

মিউজিক যখন শেষের পথে অষ্টাদশী তখন মানুষটার বুকে গিয়ে ঠেকলো,মানুষটার এক হাত তার উন্মুক্ত কোমরে অন্য হাত ডান হাতের আঙুলের ফাকে,

অষ্টাদশী তখন তাকালো তন্ময়ের পানে,
তন্ময় বুঝলো তার চোখের ভাষা
” আমাকে রেখে দিন এভাবে আমি থাকতে চাই আপনতেই মিশে,হারিয়ে যেতে চাই আপনার ওই অদ্ভুত সুন্দর চোখের মাঝে।কি রাখবেন তো আমাকে আপনার করে? না কি বরাবরের মতোই দূরে সরিয়ে দিবেন?তন্ময় সাহেব?

গান শেষ হলো,করতালি পড়ে গেলো চারিদিকে। বন্ধু মহল থেকে কাজিনরা সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলো,রুবায়েত সওদাগর, মাইরার মাথায় হাত রেখে বললো, সুখী হও মা।সারাজীবন দু’জন একে অপরের সঙ্গে থেকো।

মাইরা মৃদু হেসে মাথা নেড়ে বললো,
হু মামা।

অনেক রাত হয়েছে সবাই ঘুমাতে যাও,কাল সকাল সকাল ওঠতে হবে,ভোর ৫ টা থেকে কাঁচা হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে আর বিকেলে বিয়ে সব মিলিয়ে কালকে অনেকটাই সময় ব্যস্ততায় কাটবে।
অলরেডি ২ টা বাজালো বলে যাও যে যার রুমে চলে যাও।

______

ডিম লাইটের মৃদু হলদে আলোয়,ফর্সা মুখশ্রী হলদে হয়ে আছে বালিকার।মাএ গোসল শেষ করে আসায় চুল থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে।তন্ময় তখন বিছানায় বসে লেপটপ স্ক্রোল করছিলো।শিশিরের বিন্দুর মতো মুখে পানি জমে থাকা বালিকার পানে এক মুহূর্ত চাইলো সে অতঃপর ওয়াশরুমে চলে গেলো।

মাইরা চুল মুছে নিলো ভালো করে। বালিশ নিয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়লো। গায়ে কম্ফোর্ট টেনে চোখ বন্ধ করলো,কেটে গেলো প্রায় অনেকটা সময় তন্ময় গোসল শেষ করে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই খানিকটা আশ্চর্য বনে গেলো,অতঃপর মাইরার কম্ফোর্ট টেনে সরিয়ে দিলো।

মাইরা ধরফরিয়ে ওঠলো, তন্ময়কে দেখে খানিকটা চমকে গেলো,ভিত স্বরে বললো,

কি হলো?

_কিছু হয় নি তবে হবে!

মাইরা কপাল কুঁচকে বললো, কি হবে?

_তন্ময় ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিৎ হাসি একে বললো,তুমি যা ভাবছো তাই হবে”

মাইরা কম্ফোর্ট টেনে নিলো,কাঁপা কাঁপা স্বরে শুধালো, কি হবে?

তন্ময় ফের বলে ওঠলো, যা ৪ বছরে হয় নি তাই হবে।

মাইরা লজ্জায় নুইয়ে গেলো, তবে প্রকাশ করলো না।কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো, কি বলছেন এসব,আজ না অন্য দিন।বলেই লজ্জায় নুইয়ে গেলো কম্ফোর্ট খানা দিয়ে মুখ ঢেকে দিলো,

তন্ময় ভ্রু কুঁচকে মনে মনে আওড়ালো,ও ঠিক কি ভাবছে?পরক্ষণেই ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসির দেখা মিললো।কম্ফোর্ট সহ মাইরা কে কুলে তোলে নিলো। মাইরা লজ্জায় তন্ময়ের বুকে মুখ গুঁজে দিলো।

তন্ময় মাইরা কে খাটের এক পাশে শুইয়ে দিয়ে বলে ওঠলো।

আপনি একটু বেশিই ভেবে ফেলেছেন, মাইরা।
আপনি যদি ভেবে থাকেন যে আপনার সাথে কিছু মিছু করবো তাহলে ভুল ভাবছেন। আমি শুধু আপনাকে বিছানার একপাশে জায়গা দিলাম।এর বেশি কিছু আশা করা বিলাসিতা। আমি তন্ময়ের রুচি অতোটা খারাপ না যে আপনার সাথে কিছু মিছু করবো।তোমার প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই!

মাইরার লজ্জা মিশ্রিত মুখটা চুপসে গেলো, বুকের ভেতর বাড়লো ক্ষত।বিষাদে ছেয়ে গেলো অঙ্গ খানা।ফেলফেল করে চেয়ে রইলো পাষাণ মানবের পানে।

মানুষটা কম্ফোর্ট টেনে অন্য পাশ ফিরে শুয়ে পরেছে।
বালিকা মুখ চেপে কেঁদে ওঠলো, হাত কামড়ে কান্না আটকানোর চেষ্টা করলো, মনের গহিনে একটা কথা উকি দিলো।

আমি কি খুব বাজে দেখতে? নাকি আমার ভাগ্য বাজে?জানা নেই আপাতত বালিকার,

রাতটা কেটে গেলো,অষ্টাদশীর চোখে আর নিদ্রা
ধরা দিলো না, ঘড়ির কাঁটায় তখন ৪ টা বেজে ৫০ মিনিট হবে মাইরা বিছানা ছেড়ে ওঠে ওয়াশরুমে গেলো, ফ্রেশ হয়ে বের হলো, নজর গেলো ঘুমন্ত তন্ময়ের পানে।মৃদু হেসে বললো,

__গ্রীষ্মের শেষে শীত আসবে, বসন্তের পরে বর্ষা আসবে।দিন শেষে রাত হবে সূর্য ডুবে চাঁদ ওঠবে।ভুল শেষে সঠিকটা বুঝবে, তবে সেদিন আমি থাকবো না!”অতঃপর সব থাকবে আমি বিহীন।

বালিকা এলোমেলো পায়ে কক্ষ ত্যাগ করলো,মিনিট খানিক পর তন্ময় চোখ মেলে চাইলো।বালিকা তখন কক্ষের বাহিরে।

তন্ময় গোসল শেষ করে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে একখানা সাদা শার্ট গায়ে জড়িয়ে নিলো তার সাথে কালো পেন্ট, কালো ঘড়ি, চুল গুলো গুছিয়ে পরিপাটি হয়ে রুম থেকে বের হলো,ঘড়িতে তখন ৫ টা ৩০ বাজে বোধহয়।

____পিহুর নানী খোদেজা বিবি, গালে পান চিবাতে চিবাতে মাইরার পানে চাইলো,মাইরা তখন হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য গাধা ফুল আর গোলাপ ফুল দিয়ে পিহুর জন্য গয়না তৈরি করছিলো।

পানের পিচ ফেলে বৃদ্ধ মহিলা বলে উঠলো,
ও মাইয়া তুমি আমাগ তন্ময়ের বউ না?

মাইরা মাথা নেড়ে হে জানালো, তবে ফর্সা দেখতে সাদা শাড়ি পরিহিত এই বৃদ্ধ মহিলা কে মাইরা চেনে না। মাইরার পাশে থাকা কলি বলে ওঠলো মাইরা ও বুড়ি আমাদের নানি।

মাইরা বৃদ্ধ মহিলার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসালো,

বৃদ্ধ মহিলা নাক কুঁচকে মাইরার পানে চাইলো, পরক্ষণেই সুফায় বসে থাকা ধ্রুব আর তন্ময়ের পানে চাইলো,

তা তোমার সোয়ামী তো ভোরবেলাই গোছল কইরা লাইছে,তুমি ক্যা এই বাঁশি শরীরে ঘুড়ে বেরাইতাছো।দেহো না গায়ের জামা খানা কুঁচকাই রইছে।

মাইরা ঠোঁট উল্টে বললো, বাঁশি শরীর হতে যাবে কেনো নানু?

বৃদ্ধ মহিলা, খানিকটা জোড় গলায় বললো, সারারাত সোয়ামির আদর সোহাগে গা ভিজায়া মাইয়া এখন আমারে প্রশ্ন করে, বাঁশি শরীর কী নানু?

মাইরা অবুঝের নায় চেয়ে রইলো, কলি ঠোঁট টিপে হাসলো।

তন্ময় কেশে উঠলো, ধ্রুব এতোক্ষণ ফোনে ব্যস্ত ছিলো বিধায় খোদেজা বিবির কথা তার ইন্দ্রে পৌঁছাতে পারে নি!

খোদেজা বিবি হি হি করে হাসলো পা খেয়ে লাল করে ফেলা দাঁত গুলো ভেসে ওঠলো, মাইরার পানে চেয়ে ফের বললো,ও মাইয়া যা গোসল কইরা আয়,দেহোছ না আমাদের তন্ময় সক্কাল সক্কাল গোসল কইরা লাইছে।

মাইরা ভ্রু কুঁচকে বললো, কেনো এতো সকালে গোসল করবো আমি।ওনার ইচ্ছে হয়েছে তাই করেছে।

বৃদ্ধ মহিলা, বিরক্ত মাথা কন্ঠে বলে ওঠলেন,হায় আল্লাহ এই মাইয়া দেহি ফরজ গোসল সম্পর্কে কিছুই জানে না?

তন্ময় বড় বড় পা ফেলে খোদেজা বিবির সামনে এসে দাড়ালো, মাইরার পানে চেয়ে বললো, আমার সঙ্গে আসো।

মাইরা বিনা বাক্যে তন্ময়ের সঙ্গে এলো,কক্ষে এসে দড়জা বন্ধ করে দিলো।

আলমারি থেকে মাইরার জন্য একখানা শাড়ি বের করে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, যাও গোসল করে এসো।

মাইরা ভ্রু কুঁচকে বললো, এতো সকালে আমি গোসল কেনো করবো।

তন্ময় মাইরার হাত ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো পানির কল ছেড়ে দিলো সঙ্গে সঙ্গে ভিজে জবজব হয়ে গেলো মাইরা,তন্ময় শাড়ি খানা রেখে বের হয়ে গেলো।

মাইরা ফেলফেল করে চেয়ে রইলো…….

চলবে,,,,,