Home "ধারাবাহিক গল্প ভালোবাসার মৌসুম ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-১০

ভালোবাসার মৌসুম পর্ব-১০

0
290

#ভালোবাসার_মৌসুম
#aroshi_jahan_isha
পর্ব ১০

রাতের আকাশ জুড়ে মেঘেদের রাজত্ব, আকাশ কাঁপিয়ে বিদুৎ চমৎকাচ্ছে।তার সাথে ধরুনি জুড়ে দমকা হাওয়া।প্রকৃতির এই তান্ডব বোধহয় আজ সারারাত চলবে।কিছুক্ষণ আগে কারেন্ট চলে গেছে।বাংলাদেশের কমন একটা সমস্যা আকাশে মেঘ করলেই কারেন্ট চলে যায়।

মাইরা রান্না ঘড় থেকে কয়েকটা মোম বাতি এনে জ্বালিয়ে দিয়েছে। আপাতত ড্রইং রুমে বসে আছে।ঘড়ির কাটায় এখন ১১ টা পেরিয়ে। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে তন্ময় নিজের রুমে চলে গেছে। মাইরা ড্রইং রুমে বসে টিভি অন করতেই ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেছে।এখন আর কি করার এই ঝড়বাদলের রাতে ঘুম যে আসতে চায় না।তাইতো ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে ড্রামা দেখতে। সোফায় বসে বসে ড্রামায় ডুব দিলো।

কোরিয়ান বিখ্যাত Nevertheless ড্রামা, নীলিমার কাছে এই ড্রামার নাম শুনেছিলো মাইরা।ভারি সুন্দর নাকি তাইতো আজ এটা দেখতেই বসেছে।তার ওপর নায়ক তার খুব পছন্দের।খুব মনোযোগ সহকারে দেখতে লাগলো।

রাত তখন ৩ টা পেরিয়ে,
তন্ময় বিছানা ছেড়ে ওঠলো।পানি পিপাসা পেয়েছে, কিন্তু না পানি নেই রুমে।

সিরি বেয়ে নিচে নামতেই চোখ গেলো নিভু নিভু মোমের নিয়ন আলোয়।

_”মাইরা গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে সোফায়। গায়ে থাকা কামিজ খানা এলোমেলো হয়ে, পেট দেখা যাচ্ছে। প্লাজু হাঁটুর উপড়ে ওঠে আছে।চিবুক বেয়ে ললাটে পড়ছে।
একদম বাচ্চা দের মতো করে ঘুমাচ্ছে।
মাঝে মধ্যে ঠান্ডায় কেঁপে ওঠছে।

__তন্ময় মৃদু হেসে ওঠলো, ধির পায়ে মাইরার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসলো ফ্লোরে। শান্ত শীতল কন্ঠে বললো,

এলোকেশী এভাবে যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে যাওয়া কি আদৌও ঠিক।

তবে মাইরা নিরুত্তর।

তন্ময় সযত্নে মাইরার ঠোঁটের কোনে লেগে থাকা ললাটে মুছে দিলো।কামিজ ঠিক করে প্লাজু নিচে নামিয়ে দিলো।মাথার নিচে বালিশ দিয়ে দিলো।

অতঃপর পানি পান করে।নিজ কক্ষ থেকে একখানা কম্ফোর্ট এনে মাইরার গায়ে জড়িয়ে দিলো।ফ্লোরে বসে চেয়ে রইলো ঘুমন্ত বালিকার পানে।

মস্তিষ্কে এসে নাড়া দিলো হুট করে নাতাশা নামক মেয়েটার কথা।দিন দিন মেয়েটা আরও বদমেজাজি হয়ে যাচ্ছে। মাথা ব্যথা সয্য করতে না পারলে, নিজেকে আঘাত করে সামনে থাকা মানুষটাকেও আঘাত করে।
এভাবে চললে যে খুব জলদি সে মানষিক রুগী হয়ে যাবে।

তন্ময় মাথা চেপে ধরলো, মাইরার পানে চেয়ে বলে ওঠলো,

জানো এলোকেশী আমি না বড্ড ভুল করে ফেলেছি, এই দেশে আবার ফিরে এসে।যদি না আসতাম তাহলে হয়তো তোমার মায়ায় জড়িয়ে যেতাম না।আমি খুব করে চাই তোমার থেকে দূরে থাকতে তবে আমার মন মস্তিষ্ক শুধু তোমাকেই খুজে বেড়ায়। একদিকে আমার দায়িত্ব আর অন্য দিকে অনুভূতি। কোথায় যাবো আমি।তোমাকে কাছে টেনে নিলে নাতাশা পাগলামো করবে।আর তোমার থেকে দূরে গেলে যে আমি পাগল হয়ে যাবো।কি করবো এখন আমি?

মাইরার অজানা রয়ে গেলো কেউ একজন সারারাত জেগে তার পাশে বসে তার পানে চেয়ে কতো শতো কথা বলেছে।

সকালের মৃদু মন্দ হিমেল হাওয়ায় ঘুম ভেঙ্গে গেলো মাইরা”র পিটপিট করে চোখ মেলেতেই চিৎকার দিয়ে ওঠলো।

মাইরার চিৎকারে ধরফরিয়ে ওঠলো তন্ময়, নিজেকে সামলে নিয়ে ঘুম ঘুম কন্ঠে শুধালো,
কি হয়েছে চিৎকার করছো কেনো?

মাইরা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো তন্ময়ের পানে,মানুষ টা তার খুব কাছে খুব খুব কাছে।এমনকি তার হাতটাও মাইরার পেটের উপর। সোফায় দু’জন এক সঙ্গে শুয়ে আছে।কই কল রাতে তো মাইরা ড্রামা দেখতে দেখতে একাই ঘুমিয়েছিলো।তাহলে তন্ময় কোথা থেকে এলো?

তন্ময় ছিটকে হাত সরিয়ে নিলো,মাইরার থেকে খানিকটা দূরে গিয়ে বসলো।অতঃপর গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠলো,

জানো কাল রাতে তুমি কি করেছো?

_কি করেছি?(ভ্রু কুঁচকে বললো মাইরা)

তুমি_ওই তুমি কাল রাতে আমার হাত ধরে রেখেছিলে কেনো?

“কিহ আমি আপনার হাত ধরতে যাবো কেনো।আমি তো একা এখানে শুয়েছিলাম আপনি কোথাথেকে আসলেন?

তন্ময় মাথা চুলকে বললো,আমি পানি খেতে এসে দেখি তুমি একা একা বকবক করছো,বোধহয় স্বপ্ন দেখছিলে।আমি এসে তোমাকে ধাক্কা দিতেই তুমি আমার হাত ধরে নিলে।আর ছাড়লেই না,কতো যে চেষ্টা করলাম ছাড়ানোর।তন্ময় হতাশ হয়ে কথাখানা বললো।

মাইরা চিন্তিত হয়ে বললো,সত্যি আমি ঘুম থেকে বকবক করছিলাম?

তন্ময় ইনোসেন্ট ফেইস নিয়ে হু বলে,চলে গেলো।

মাইরা মাথায় হাত দিয়ে চিন্তিত হয়ে গেলো।শেষমেশ ঘুমে বকবক করার রোগ হয়েছে।

তন্ময় নিজ রুমে আসতে হাফ ছেড়ে বাচলো।ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে ওঠলো,

“বোকা মেয়ে,আমার সব মিথ্যা বিশ্বাস করে নিলে!সত্যি তুমি আস্ত একটা বোকা।এই আমি তন্ময় চৌধুরী” র বোকা ফুল।শুধুই আমার তুমি বোকা ফুল।

চলবে,,,,,

(বানান ভুল থাকলে সরি)