#মুখোশ || ২য় পর্ব
পিয়াস মায়ের মুখে কথাগুলো শুনে হতবাক চোখে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। হঠাৎ মনে হল,এ কি আবার নতুন কোনো বিপদের ছায়া ভর করেছে বাড়িতে? হৃদয়টা অচেতনভাবে উত্তেজনার তলে কাঁপতে লাগল তার।
পিয়াসের পিছু পিছু সারা আর রিম্পাও ঘরের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে ততোক্ষণে। ঘরের ভেতরে নূর জাহান বেগম ইতিমধ্যেই সমস্ত জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড করে ফেলেছে, যেন কোনো অদৃশ্য অভিসন্ধির খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর চোখে-মুখে অস্থিরতার ছাপ, লাল ফণির মতো ক্রমশ বাড়ছে।
পিয়াস থমথমে চোখে একবার বাবার দিকে তাকালো। দেখলো বাবা নির্বাক, নিস্তব্ধ চোখে স্ত্রীর হায় হাপিত্যেশ দেখে চলেছে। এক অদ্ভুত নীরবতা ঘর জুড়ে বিরাজ করছে।
রিম্পা সবার পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলো,মায়ের এমন হুলস্থুল কাণ্ড দেখে এগিয়ে গিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকলো। তারপর মায়ের কাছে গিয়ে হালকা কাঁপা স্বরে জিজ্ঞেস করলো,’ কী হয়েছে মা? এতরাতে চিৎকার চেঁচামেচি করছো কেন?’
নূর জাহান বেগম আলমারির কাপড়চোপড় এক এক করে মেঝেতে ফেলতে ফেলতে বললেন,’আলমারির ভেতরে তোর বিয়ের জন্য যেই সোনার গয়নাগুলো রেখেছিলাম, সেগুলো আর খুঁজে পাচ্ছি না।’
কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে পিয়াস, রিম্পা, আর সারা তিনজনেই চমকে উঠলো। চারপাশের নীরবতা মুহূর্তেই উত্তেজনার স্রোতে ভরে উঠল।
বাড়িতে মোট পাঁচজন মানুষ। পাঁচজনেই রিম্পার গয়নাগুলোর ব্যাপারে জানে। বিশেষ করে পিয়াস, সে অনেক কষ্ট করে তার উপার্জিত টাকার একটা অংশ জমিয়ে জমিয়ে রিম্পার গয়না কেনার জন্য মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলো।
‘রিম্পার বিয়ের গয়নাগুলো আর আলমারিতে নেই’
নূর জাহান বেগমের কণ্ঠে কথাগুলো শোনার সঙ্গে সঙ্গে রিম্পা ধপ করে মেঝেতে বসে পড়লো। মনে হল যেন পুরো পৃথিবী তার উপর ভেঙে পড়ছে। চোখের সামনে অন্ধকার নেমে এসেছে তার। আগামী মাসের তিন তারিখে তার বিয়ে। আর মাত্র পনেরো দিন বাকি। কিন্তু এখন নাকি যত্নে, কষ্টে তৈরি করা গয়নাগুলো আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা!
এদিকে গয়নার ব্যাপারটা ছেলেপক্ষকেও জানানো হয়েছে সবটা,এখন উপায়?
বিয়ের ক’দিন আগে ঘর থেকে মেয়ের গয়না হারিয়ে গেছে একথা ছেলেপেক্ষের লোকজন বিশ্বাস করবে? ভাববে কথা দিয়ে এখন ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। আর এসব
শুনলে আশপাশের লোকজনই বা কি বলবে?
পিয়াস পাথরের মূর্তির মত একবার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রী সারার দিকে তাকালো,সারার চোখে জল। এবার গয়না হারানোর দায়ও যে সম্পূর্ণ এই অসহায় মেয়েটার ঘাড়েই পড়বে পিয়াস তা দিব্যি বুঝতে পারছে।
হলোও সেটা,তবে এবার শাশুড়ী নয় বরং একমাত্র আদরের ননদ, ভাবির উপরে অভিযোগ তুললো।
রিম্পা মেঝে থেকে উঠে ঝড়ের বেগে তার ভাবির দিকে ছুটে গিয়ে হাত দুটো শক্ত করে ধরে কান্না জড়ানো স্বরে বলে উঠলো,’ভাবি আমার এত বড় সর্বনাশ কইরো না তুমি। ‘
ননদের এমন সন্দেহজনক ইঙ্গিতের মানে সারা না বুঝলেও চুরির দায় যে সারার উপরেই পড়েছে একথা পিয়াসের আর বুঝতে বাকি রইলো না৷ পিয়াস রিম্পাকে সারার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মা’কে উদ্দেশ্য করে বললো,’ মা তুমি গয়না গুলো কোথায় রেখেছিলে ঠিকঠাক মনে করো তো। হতেও তো পারে তুমি গয়নাগুলো আরেকখানে রেখেছো এখন মনে করতে পারছো না।’
নূর জাহান বেগম গলার স্বর দৃঢ় করে বললেন,’ আমি এতটাও ভুলো মনা নই,আমি আলমারির ভিতরে..
তারপর মেঝে থেকে একটা নীল রঙের শাড়ি হাতে তুলে নিয়ে বললেন,’ এই শাড়ির ভাজেই রেখেছিলাম।’
উপস্থিত সবাই হাতে ধরে রাখা শাড়িটার দিকে তাকালো এবার, তারপর রিম্পা এগিয়ে গিয়ে একরকম পাগলের মত শাড়িটা খপ করে নিজের হাতে নিয়ে শাড়ির ভাজ খুলে দু হাতে ধরে নাড়াচাড়া করতে লাগলো। তার অবচেতন মন এবারও নিরাশ করলো, শাড়ির ভিতরে সত্যিই গয়না গুলো আর নেই। কিন্তু হঠাৎ করে এতগুলো গয়না গেলো টা কোথায়?
এতক্ষণ চুপচাপ হয়ে থাকা আজিজুল হক এবার মুখ খুললেন। বললেন,’ আচ্ছা এসব নিয়ে আগামীকাল সকালে কথা বললেও হবে। অন্তত এখন এসব নিয়ে হৈ হুল্লোড় করে লোক জানাজানি করিয়ো না আর। এমনিতেই একবার আমার মাথা কাটা গিয়েছে।’
স্বামীর কথায় নূর জাহান একবার রক্ত চোখে তাকালেন,আজিজুল হক থতমত খেয়ে আবার দমে গেলেন পূর্বের মত।
‘খোকা আমি একবার তোদের ঘরের আলমারিটা খুঁজে দেখতে চাই। তুই বারণ করলেও চাই।’
পিয়াস কোনরকম বাঁধা দিলো না তার মা’কে।
বরং দরজার মুখ থেকে সারাকে সরিয়ে নিয়ে বললো,’ তোমার মনে সন্দেহ জাগলে গিয়ে খুঁজে দেখতে পারো।’
নূর জাহান বেগম নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে সরু রোয়াক টা ধরে ওপাশের ঘরটাকে ঢুকলেন এবার। তারপর আলমারিতে থাকা এক এক করে সবকিছু সরিয়ে দেখতে লাগলেন।
একটু পর বাবা আজিজুল হক ছাড়া বাকি তিনজনই এসে উপস্থিত হলো ঘরটাতে।
নূর জাহান বেগম পাগলের মত সবকিছু খুঁজতে খুঁজতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে ঘরের একপ্রান্তে থাকা খাট টার উপরে ধপ করে বসে পড়লেন।
তারপর ধরা গলায় বললেন,’রিম্পার হবু শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে কি বলবো? তোর বাবারও যা ছিলো সবটা দিয়েই তো গয়নার পুরোটা করা হয়েছিলো। গয়না হারানোর কথা শুনলে কি আর ওরা আমাদের মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হবে? উল্টো জোচ্চর বলে অপমান অপদস্ত করবে সবাইকে। খোকা কি করবো বলে দে না আমায়।’
পিয়াস গম্ভীর স্বরে বললো,’মা, তুমি চিন্তা কইরো না। আমি তো এখনও মরে যাইনি। আমি কোনো না কোনো একটা সমাধান বের করে ফেলব। তুমি বরং রাতটা ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখো, হয়তো অন্য কোথাও যদি ভুল করে রেখে দাও।’
পিয়াসের কথা শেষ হলে নূর জাহান বেগম ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রিম্পাও নিজের ঘরে ফিরে গেল। ঘরটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে উঠলো। সারা আর পিয়াস একে অপরের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস আটকে রেখে দাঁড়িয়ে আছে দুজনে।
সারাকে ভয়ে কুঁকড়ে যেতে দেখে পিয়াস এগিয়ে এসে তার ডান হাতটা ধরলো। তারপর কণ্ঠে কোমলতা আর দৃঢ়তা মিশিয়ে বললো,’দ্যাখো, তুমি খামখা ভয় পাচ্ছো। গয়না হারিয়েছে বলে কি তুমি দোষী? হয়তো মা অন্য কোথাও রেখেছে, শুধু মনে করতে পারছে না।’
পিয়াসের কথায় সারার চোখে অশ্রু জমে গেল। কম্পমান কণ্ঠে সে বললো,’শেষমেশ রিম্পাও আমাকে চোর বলে সম্বোধন করলো। এবাড়িতে আমার আর আপন বলতে কেউ রইলো না।’
পিয়াস এবার সারার হাতটা আরও শক্ত করে ধরে দুজনেই পাশাপাশি বিছানায় বসলো। তারপর চোখে চোখ রেখে বললো,’কে বলছে তোমার কেউ নেই? আমি আছি তো। তুমি অযথা চিন্তা করছো। ধরে নিলাম, মায়ের আলমারি থেকে গয়না হারিয়েছে, কিন্তু এর মানে এই না যে তুমিই নিয়েছো। তোমার যে ওসবের প্রতি কোনো মোহ নেই, সেটা আমার থেকে ভালো আর কেউ জানে না। হয়তো মা মনের ভুলে অন্য কোথাও রেখেছে, নয়তো…..
পিয়াস কিছুক্ষণ থেমে গেল। পিন পতন নিরবতা যেন আঁকড়ে ধরলো আবার ঘরটাকে, তারপর ধীরে ধীরে বললো,’আচ্ছা মা যে বলছিলো, গতরাতে এই ঘরের বাইরে কাউকে ঘুরাঘুরি করতে দেখেছে,তাহলে কি সেই মানুষটায় মায়ের আলমারি থেকে গয়না চুরি করেছে!’
…..
পরদিন সকালে পিয়াসের আর শহরে ফেরা হলো না। এমন অবস্থায় সারাকে নিয়ে শহরে চলে গেলে হয়তো মা আর রিম্পার সন্দেহের তীরটা পুরোপুরি সারার উপরে গিয়েই পড়বে।
আবার এই অবস্থায় সারাকে একা রেখেও শহরে গিয়ে কোনভাবেই মন টিকবে না তার। কাজেই অফিসে ফোন দিয়ে আরও দুটো দিনের ছুটি বাড়িয়ে নিলো পিয়াস।
….
সকাল থেকে এ বাড়ির কেউ কারও সাথে তেমনভাবে কথা বলা বলি করেনি এখনো। চুপচাপ যে যার মত কাজ করে চলেছে।
আজিজুল হক রোজকার মত সকালে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন বাড়ি ফিরে সারার কাছে পানি চাইলে সারা একগ্লাস পানির সাথে হাল্কা নাস্তা নিয়ে এসে রোয়াকে থাকা ছোট্ট টেবিলের উপর রাখলো।
আজিজুল হক চেয়ারে বসে একটা বিস্কুট মুখে দিয়ে বললেন,’ বউমা, পিয়াস কোথায়? তাকে দেখছি না যে?’
সারা নরম স্বরে জবাব দিলো,’জানিনা বাবা,বলছিলো তো সবুজের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে।’
‘ওহ। তোমার শ্বাশুড়ি আর রিম্পাকে দেখছি না যে ওরা কোথায়?’
‘ঘরেই আছে বাবা। কেন কিছু লাগবে? আমাকে বলেন আমি এনে দিচ্ছি।’
‘না মা কিছু লাগবে না।
তারপর একটু দম নিয়ে অপরাধের স্বরে বলে উঠলেন,’ মারে আমার উপরে কি রাগ করে আছো তুমি? আসলে তোমার শাশুড়ীকে তো ভালোই চেনো,কেমন একরোখা মানুষ সে। কালকে হুট করে যে কি মাথায় চেপে বসলো তার মুখে ওসব শুনে। আমার উপর আর রাগ করে থেকো না মা। কালকের জন্য আমি সত্যিই অনেক লজ্জিত। নিজের বাড়িতে এমন সালিশী….
সারা অনুতাপের স্বরে বললো,’ না বাবা,রাগ কেন করবো। আমি তো সেসব গতরাতেই ভুলে গিয়েছি। তবে এটা সত্যি আমার ঘরে কোনো পরপুরুষ আসেনি বাবা।’
‘আসলে আমি গতকাল কোনিকছু না ভেবে তোমার শাশুড়ীর কথা শুনেই উল্টাপাল্টা করেছি। অন্ততপক্ষে একবার তোমার সাথে কথা বলা উচিত ছিলো। ছেলেটায় বা কি ভেবেছে কে জানে। হুট করে তাকেও এভাবে ডেকে আনাটা একবারে উচিত হয়নি আমার।’
‘ওসব বাদ দেন বাবা। তবে গতকালের থেকে আজকে বেশি কষ্ট লাগছে আমার, যেই রিম্পা ভোর থেকে ভাবি ভাবি করে মাথা খেয়ে নিতো সেই রিম্পা আমাকে দেখলে উল্টোপথে হাঁটছে। বিশ্বাস করুন বাবা আমি রিম্পার গয়নার ব্যাপারে কোনকিছুই জানিনা।’
‘জানি। এই গয়না চুরির সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রিম্পার রাগ হওয়াটাও স্বাভাবিক,হাজার হলেও তার বিয়ের গয়না তো,দ্যাখো একটু পর ঠিকি রাগ ভেঙে তোমাকে জড়িয়ে ধরবে আবার।’
‘সেটাই যেন হয় বাবা। আর ক’টা দিনই তো আছে রিম্পা,তারপর তো শশুর বাড়ি চলে যাবে। তখন আর চাইলেও হুটহাট আসতে পারবেনা।’
‘বউমা তুমি পিয়াসের সাথে শহরে চলে যাবা? তুমি চলে গেলে এই বুড়োটাকে কে দেখবে মা?’
‘না বাবা আমি যাচ্ছিনা। এই সংসার তো আমার, আপনাকে, মাকে ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি যাচ্ছিনা। আপনার ছেলেকে ঠিক ম্যানেজ করে পাঠিয়ে দিবো আমি।
‘আসলেই তোমার কোনো তুলনা হয়না বউমা, এখন তো মনে হয় তোমার বাবাকে যদি সেদিন কথা না দিতাম,তাহলে হয়তো তোমার মত এমন লক্ষ্মী একটা মেয়ে কোনদিনও আমার ঘরে আসতো না। আমার ছেলে অনেক ভাগ্য করে তবেই তোমার মত একটা বউ পেয়েছে। আর আমিও মা হারিয়ে আরেকটা মা পেয়েছি। তবে একটা কথা কি জানো, সেদিন রাতে তোমার শাশুড়ী একা নয় আমিও বোধহয় কাউকে দেখেছিলাম। তবে তোমার ঘরের সামনে নয় আমার ঘরের জানালার বাইরে দেখেছিলাম।
আমি তো ওতটা গুরুত্ব দিই নি,ভেবেছিলাম হয়তো আলোতে কিসের না কিসের ছায়া পড়েছে৷ তবে এখন বেশ বুঝতে পারছি ওইদিন রাতে নিশ্চয় কেউ একজন ঢুকেছিলো এই বাড়িতে। আর সেই এসব করেছে। তবে কে যে করলো সেটাই তো বুঝতে পারছি না। এখন মেয়েটার জন্য বড্ড চিন্তা হচ্ছে রে মা, এতগুলো টাকার গয়না আবার কীভাবে জোগাড় করবো কিছুই বুঝছি না।’
‘বাবা আপনি চিন্তা কইরেন না। পিয়াস ঠিক কিছু একটা ম্যানেজ করে ফেলবে।’
……
সেদিন সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে রিম্পার হবু শ্বশুরবাড়ি থেকে এ বাড়িতে একটি কল আসলো। কলটা করেছে রিম্পার হবু শ্বশুর নিজেই।
আজিজুল হক ফোন তুলতেই ওপাশ থেকে তাচ্ছিল্য আর কঠোরতার মিশেলে একটা পুরুষালী কণ্ঠস্বর বলে উঠলো,’ভাইসাব, আপনাদের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধটা আর হচ্ছে না।’
আজিজুল হক হকচকিয়ে উঠলেন। এমন কথা তিনি কল্পনাও করেননি। দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে প্রশ্ন করলেন,’কেন ভাইসাব? হঠাৎ এমন কথা বলছেন যে? কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?’
ফোনের ওপাশ থেকে ব্যঙ্গমাখা হাসির শব্দ ভেসে এলো এবার। হাসি থামিয়ে বললো,’আরে মিয়া, আপনারা কি ভেবেছেন, আপনারা কোনকিছু না বললে আমরা কিছুই জানতে পারবো না? যে মেয়ের ঘরে বিয়ের আগে পরপুরুষ ঢোকে, সেই মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে কীভাবে দিই বলেন তো? আপনি হলে কি রাজি হতেন? ছেলে ঠিক থাকতে খামখা কেন আমার ছেলের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছিলেন মেয়েকে?’
কথাগুলো শুনে আজিজুল হকের বুকটা ধক করে উঠলো। গয়নার বিষয়টা চেপে গিয়ে তিনি শান্ত গলায় বলার চেষ্টা করলেন,’আপনি ভুল শুনেছেন ভাইসাব। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা গুজব। এমন কিছুই হয়নি।’
‘তাই নাকি?’
ওপাশ থেকে তির্যক স্বর মেশানো শব্দ ভেসে এলো,’কিছু না হলে কি আর মানুষ এমনি এমনি বাড়ি বয়ে এসে খবর দিয়ে যায়? যাই হোক, ভাগ্য ভালো বিয়ের আগেই সবটা জেনে গেছি। নইলে মাঝখান থেকে আমার ছেলের জীবনটা শেষ হয়ে যেতো। সম্বন্ধটা আর হচ্ছে না। এইটাই শেষ কথা।’
আর কোনো কথা না শুনেই ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে দিতেই হাতের মোবাইলটা ধীরে ধীরে নামিয়ে রাখলেন আজিজুল হক। যেন মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত শক্তি নিংড়ে বেরিয়ে গেছে তার শরীর থেকে। হতভম্বের মতো চেয়ারে ধপ করে বসে পড়লেন তিনি।
স্বামীর এমন অবস্থা দেখে দৌড়ে এলেন বিবি নূর জাহান। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জানতে চেয়ে বললো, কী হয়েছে?
আজিজুল হক শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন,’রিম্পার বিয়েটা আর হচ্ছে না। ওরা না করে দিয়েছে।’
চলবে….
#আশিক_মাহমুদ

