#প্রণয়ের_অন্তরমহল
#কলমে_তাহরিশমিতা_মুনতাহা
#সূচনা_পর্ব
ন*গ্ন শরীর নিয়ে বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে “দিয়া”। তার নিষ্পাপ দেহে কামড়ের দাগ- আঁচড়ের চিহ্ন—প্রত্যেকটি যেন এক-একটি নিষ্ঠুর স্বাক্ষর। অসহ্য ব্যথায় জর্জরিত তার পুরো শরীর, তবু এসবে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই তার সামনে বসে থাকা স্বামী নামক পুরুষটির। সে তো লালসার তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দিয়ার বিবস্ত্র দেহের দিকে, যেন ক্ষুধার্ত বাঘ তার শিকারকে পর্যবেক্ষণ করছে। এই তীব্র লালসাপূর্ণ দৃষ্টি দেখে দিয়া যেন আরও সংকুচিত হয়ে গেল, নিজের লজ্জা আড়াল করার এক ব্যর্থ প্রয়াস করল।
দিয়ার ভয় আর সংকোচে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটলো দ্বীপের। দৃষ্টি ঘুরিয়ে সাদা চাদরে চোখ পড়তেই সে হাসল আরও জোরে চাদরজুড়ে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। মুহূর্তেই তার মুখে তৃপ্তির ছাপ ফুটে উঠলো। মেয়েটি যে কুমারী ছিল, এই ভাবনা তার পৌরুষকে যেন আরও তৃপ্তি দিল।
দ্বীপ হাতে থাকা সিগারেটে শেষ সুখটান দিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো দিয়ার নিকটে, তার ভারী পদক্ষেপের শব্দে দিয়ার বুক কেঁপে উঠলো- ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে হাতজোড় করে অনুনয় করল—
—আল্লাহর দোহাই লাগে আমার কাছে আসবেন না! আমি আর নিতে পারবো না। প্লিজ একটু দয়া করুন।
দিয়ার এই আকুতি মিনতি গুলো দ্বীপ এর কান অব্দি পৌঁছালো না, সে তো মত্ত দিয়ার ন*গ্ন দেহে। এতক্ষণ দিয়া বাঁধা দিলেও এখন চুপ করে গেছে! প্রতিরোধের শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। কেবল নীরবে সহ্য করছে সব অত্যাচার। স্বামীর দেওয়া ব্যথার ভারে তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো দুফোঁটা অশ্রু।
নিঃশব্দে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে দিয়া ফিরে গেল কয়েক ঘণ্টা আগের স্মৃতিতে—যেখান থেকেই শুরু হয়েছিল তার এই দুঃস্বপ্নের গল্প।
_____________________________________
২২শে মার্চ, ২০২০।
— সন্ধ্যা ৭-টা —
মোল্লা বাড়ি এবং খাঁন বাড়িতে আজ খুশীর জোয়ার নেমেছে! নামবেই বা না কেনো? আজ যে এই দুই পরিবারের মধ্যে গাঁটছড়া বাঁধা হচ্ছে- খাঁন বাড়ির বড় পুত্র ওরফে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “আদ্রিয়ান খান দ্বীপ” এর সাথে মোল্লা বাড়ির বড় কন্যা “নেহারিকা ইসলাম নদী’র শুভ বিবাহ।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিয়ে বলে কথা! তাই পুরো খাঁন বাড়ি ঝলমলে আলোয় উদ্ভাসিত। আত্মীয়-স্বজনে ভরে উঠেছে বাড়ি, আর দ্বীপের রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অনুগামীদের ভিড় তো আছেই। চারপাশে উৎসবের এক জমজমাট পরিবেশ।
আলোকসজ্জায় সেজে ওঠা খাঁন বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে মোল্লা বাড়িতেও আনন্দের কমতি নেই। সেখানেও আত্মীয়-স্বজনের ভিড় উপচে পড়েছে। বরযাত্রী আসার অপেক্ষায় সকলের চোখেমুখে চাপা উত্তেজনা। বাড়ির পাশেই বিশাল উঠোনের উনুনে জোর দমে চলছে বাহারি রকমের রন্ধনযজ্ঞ। সেই রান্নার সুগন্ধে চারপাশের বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠেছে, যা দূর থেকেও উৎসবের বার্তা দিচ্ছে।
তবে সেই আনন্দ-উৎসব বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। বরযাত্রী এসে অপেক্ষমাণ, সময় গড়িয়ে যাচ্ছে বহুক্ষণ, অথচ কনের কোনো খোঁজ নেই। বাড়ির সকলের মনে চাপা উদ্বেগ! তারা ভেবেছিলেন হয়তো নদীর সাজগোজ করতে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় পার হয়ে গেলেও নদীকে না দেখে, অবশেষে সবাই মিলে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেন। আর ঠিক তখনই নদীর বাবা নেওয়াজ মোল্লা আঁতকে উঠলেন। মেয়ে তার ঘরে নেই! পার্লার থেকে আসা মেয়েরা মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।
বিস্ময় ও আতঙ্কের মাঝে নেওয়াজ মোল্লার চোখ আটকে গেল ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা একটি চিরকুটের উপর, তিনি ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে কাগজটা হাতে তুলে নিলেন- সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা:
—আমাকে ক্ষমা করবেন আব্বু, আমি কিছুতেই এই বিয়েটা করতে পারব না! নিজেকে অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমি একজনকে খুব ভালোবাসি, কিন্তু আপনাকে কখনো মুখ ফুটে সাহস করে বলতে পারিনি। তাই আজ তার সাথেই আমি পালিয়ে যাচ্ছি। পারলে আপনার এই অবাধ্য মেয়েকে মাফ করে দিয়েন।
চিঠিটা পড়েই নেওয়াজ মোল্লা যেন শক্তি হারিয়ে মেঝেতে ধপ করে বসে পড়লেন। তিনি কখনোই ভাবেননি তার মেয়ে এমন শুভ মুহূর্তে এমন কাজ করে বসবে। আনন্দের জোয়ার মুহূর্তেই বিষাদের রূপ নিল।
ইতিমধ্যেই সকলের কানে খবর পৌঁছে গেছে বউ পালিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির ভেতরে এক বিশৃঙ্খল হইচই শুরু হয়ে গেছে। নেওয়াজ মোল্লার বাড়িতে আসা সকল আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে তখন ফিসফাস, ছিঃ ছিঃ রব। লজ্জায় ও অপমানে নেওয়াজ মোল্লা যেন মাথা তোলার সাহস পাচ্ছেন না, কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না- কীভাবে তিনি খাঁন পরিবারকে এই চরম পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করবেন।
সকলে যখন এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় চিন্তিত ও বিব্রত, তখন বর- আদ্রিয়ান খান দ্বীপের ঠোঁটে দেখা গেল তার সেই চিরচেনা বাঁকা হাসি! সে যেন সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত, চুপচাপ বসে এই নাটক দেখছে—যেন এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় তার কিচ্ছুটি যায় আসে না।
নেওয়াজ মোল্লাকে এভাবে হতবিহ্বল এবং শান্ত হয়ে যেতে দেখে, হঠাৎই ভিড়ের মধ্য থেকে এক তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। সম্ভবত সে খাঁন পরিবারের কেউ। কঠোর স্বরে সে বলে উঠল:
—শুনেছি আপনার আরেকটি মেয়ে আছে, কী যেন নাম? সে যাকগে! আমরা কিন্তু বউ ছাড়া বাড়ি ফিরছি না।
এই অপ্রত্যাশিত দাবি শুনে নেওয়াজ মোল্লার নীরবতা মুহূর্তেই ভেঙে গেল। তার বিবর্ণ মুখ আরও ফ্যাকাশে হয়ে উঠল। তিনি বিস্ফারিত চোখে প্রশ্নকর্তার দিকে তাকালেন, যেন বিশ্বাস করতে পারলেন না যে এমন পরিস্থিতিতে কেউ এমন দাবি করতে পারে।
অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও ফিসফাস শুরু হলো। অনেকে সেই দাবির সমর্থনে মাথা নাড়ল। কারণ তারা জানে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো ক্ষমতাধর পরিবারকে খালি হাতে ফেরানো মানে ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনা।
নেওয়াজ মোল্লা বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। কাঁপা গলায় বললেন:
— এ আপনারা কী বলছেন? আমার ছোট মেয়ে… সে তো সবে মাত্র মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী। ও এসবের জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়।
ভিড়ের মধ্য থেকে প্রথম লোকটি এবার সরাসরি দ্বীপের দিকে তাকাল। দ্বীপ তখনও সেই বাঁকা হাসি ঠোঁটে ধরে রেখেছে। লোকটি যেন তার মৌন সম্মতি নিয়েই বলল:
— প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নেই মোল্লা সাহেব। আমাদের মান-সম্মানের প্রশ্ন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন নিজে এসেছেন, তখন তার অপমান আমরা সইতে পারব না। আপনার ছোট মেয়েই হবে খাঁন বাড়ির বউ। তাকে তৈরি করুন।
নেওয়াজ মোল্লা অসহায় দৃষ্টিতে চারদিকে তাকালেন। কেউ তার সমর্থনে কথা বলছে না। সবাই খাঁন পরিবারের ক্ষমতার ভয়ে গুটিয়ে গেছে। এক চরম অপ্রত্যাশিত সংকটে তিনি যেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এক মানুষ। চোখের সামনে নিজের ছোট মেয়ের জীবন বলি দিতে হবে—এই চিন্তায় তার বুক ফেটে যেতে চাইল। কিন্তু এই মুহূর্তে তার কোনো উপায় ছিল না।
অসহায় আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে তিনি মাথা নিচু করলেন। এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে যেন নীরবে নিয়তির কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন।
খাঁন পরিবারের দাবি মেনে নিতে নেওয়াজ মোল্লা প্রস্তুত হলেও উনার ছোট কন্যা “অরুণিমা ইসলাম দিয়া” কিছুতেই এই অপ্রত্যাশিত পরিণতির জন্য তৈরি ছিল না। সেই জনাকীর্ণ পরিবেশে, যেখানে উৎসবের রং ফিকে হয়ে এসেছে, দিয়া নেওয়াজ মোল্লার পা দুটো জাপটে ধরে অঝোরে কেঁদে উঠল! তার কণ্ঠে ছিল গভীর আর্তি:
— আব্বু, আমি এ বিয়ে করতে চাই না! প্লিজ আব্বু, আমাকে এত বড় শাস্তি দিও না- আমি সইতে পারবো না গো আব্বু!
‘দিয়ার’এই আকুল কান্না নেওয়াজ মোল্লার পাষাণ হৃদয়েও আঘাত হানল। কিন্তু উপায় কী? তিনি যেন নিরুপায়তার এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি। মেয়েকে এই চরম পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা তার নেই, আর খাঁন পরিবারের প্রতাপের সামনে নত হওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথও খোলা নেই। তিনি নীরবে মেয়ের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
বাবার দিক থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দিয়া এবার শেষ ভরসা নিয়ে এগিয়ে গেল ‘আদ্রিয়ান খান দ্বীপের কাছে। তার চোখে জল, কণ্ঠে মিনতি:
— প্লিজ, আপনি এই বিয়েটা ভেঙে দিন। আমার বোনের জায়গায় আমি কীভাবে বসবো, বলুন? এটা যে ভারী অন্যায়।
দিয়ার এই করুণ আর্তি দ্বীপের কঠিন হৃদয়ে একটুও রেখাপাত করল না। সে তখনো সেই নির্লিপ্ততা বজায় রেখেছিল। অত্যন্ত ঠান্ডা ও কর্তৃত্বপূর্ণ স্বরে দ্বীপ উত্তর দিল:
— শোনো মেয়ে, এখানে আমার কিছু করার নেই। খাঁন পরিবার কখনো কোনো জায়গা হতে খালি হাতে ফেরেনি, আর ভবিষ্যতেও ফিরবে না। আমার পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, তাই হবে। তোমার বোনের জায়গায় তুমিই বসবে—এটাই এখন নিয়তি।
দীপের এই শীতল অস্বীকৃতি দিয়ার শেষ আশাটুকুও চূর্ণ করে দিল। সে বুঝল, আজ তাকে এই বলির শিকার হতেই হবে।
এই চরম মুহূর্তে, যখন দুই পরিবারের সম্মান এক সূক্ষ্ম সুতোর উপর ঝুলছিল, তখন দিয়া যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের নিয়তি মেনে নিল। তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, স্বপ্ন—সবকিছুকে বিসর্জন দিয়ে, সে এই পরিস্থিতি থেকে দুই পরিবারকে রক্ষা করার জন্য নিজেকে বলি দিয়ে দিল।
নীরবে চোখ মুছে, অশ্রুসিক্ত চোখেই সে সায় দিল। আর তার এই নীরব সম্মতির পর, আর কোনো অপেক্ষা নয়। দ্রুততার সাথে বিয়ের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হলো। উৎসবের আনন্দ যদিও বিষাদে মোড়া, তবুও লোকদেখানো প্রথা পালনের সব আয়োজন চলতে থাকল। দ্বীপের পাশে নেহারিকার আসনে, বসতে হলো দিয়াকে।
_________
রাত প্রায় দশটা। নববধূর বেশে দিয়াকে নিয়ে খাঁন পরিবার অবশেষে নিজেদের বাসভবনে ফিরে এল। কিন্তু এই ফেরা ছিল যেন এক অস্বাভাবিক নীরবতার সূচনা। আনুষ্ঠানিকতা সারতে না সারতেই আত্মীয়-স্বজন এবং লোকজনের ভিড় দ্রুত কমে গেল- খাঁন বাড়িতে যেন নিমেষেই নেমে এল এক স্তব্ধতা।
বিশাল চার তলা বিশিষ্ট বাড়িটি, যা কয়েক ঘণ্টা আগেও বিয়ের আলোয় ঝলমল করছিল, তা এখন যেন এক অদ্ভুত শূন্যতায় ডুবে গেল। বিলাসবহুল এই বাড়ি এখন দিয়ার কাছে কোনো আশ্রয় মনে হচ্ছে না, বরং মনে হচ্ছে এক স্বর্ণের খাঁচা, যার প্রতিটি দেয়াল যেন আসন্ন বিপদের নীরব সাক্ষী। এর বিশালতা যেন দিয়ার একাকীত্ব এবং ভয়কে আরও প্রকট করে তুলছে।
বিয়ের ফুল দিয়ে সুসজ্জিত সেই পেলব শয্যায় দিয়া গুটিসুটি মেরে বসে আছে। তার মন তখন অজানা আশঙ্কায় থরথর করে কাঁপছে। বাইরে যতই ফুলের সুগন্ধ থাকুক, দিয়ার ভেতরে তখন তীব্র এক ভয়। সে জানে না এরপর তার জীবনে কী ঘটতে চলেছে, তবে সে কিছুটা আন্দাজ করতে পারছে—যা ঘটবে, তা মোটেও সুখকর হবে না। এক গভীর, শীতল আশঙ্কা তাকে গ্রাস করে ফেলেছে। এই রাজকীয় শয়নকক্ষ এখন তার কাছে বধ্যভূমির মতো মনে হচ্ছে, যেখানে সে এক অসহায় শিকার।
________
রাত প্রায় বারোটা। নীরবতা ভেঙে দরজায় শব্দ হলো, ঘরে প্রবেশ করল দ্বীপ। সে দেখল, দিয়া ফুলের বিছানায় গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমন্ত দিয়াকে দেখে তার মুখে এক কুটিল হাসি ফুটে উঠল। মেয়েটি হয়তো তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেছে—অপেক্ষা বললে ভুল হবে, তবে এই পরিস্থিতিও এক প্রকার অপেক্ষাই বটে।
দ্বীপ ঠোঁট কামড়ে হেসে দিয়ার একেবারে মুখের কাছে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। দিয়ার মুখের ওপর পড়ে থাকা চুলগুলো অত্যন্ত আলতো হাতে কানের পেছনে গুঁজে দিল। এরপর তার কানে হিসহিসিয়ে এক ভয়ংকর শীতল স্বরে বলল:
—আহা My Fucking ডোডো! যদি একবার তুমি জানতে! হে রক্তকণিকা’ এই আমি— তোমাকে বক্ষে বাঁধিতে, কত পায়তারা করেছি হৃদয় নিঙড়ে! কত গোপন সিঁড়ি ভেঙেছি, কত নীরব মন্ত্র জপেছি তোমার-তরে! কতখানি ব্যাকুলতা নিয়ে এই মন তোমাকে ছুঁতে চেয়েছে প্রতি পল-অনুক্ষণ! যদি সে সকল প্রচেষ্টা, সে গোপন সাধনা একবারও তুমি জানতে— তবে কি আর এভাবে দূরে দূরে থাকতে?
এই বলে দ্বীপ দিয়ার মুখের কাছে এক গভীর শ্বাস ফেলল।
অতঃপর আর কোনো ভূমিকায় না গিয়ে, দ্বীপ এক লহমায় মেয়েটির পরনে থাকা শাড়িটি টেনে খুলে মেঝেতে ফেলে দিল। সেই দামি বস্ত্র মেঝেতে আছড়ে পড়ার তীব্র শব্দে দিয়ার তন্দ্রাচ্ছন্নতা মুহূর্তেই ভেঙে গেল। তীব্র ভয় ও আতঙ্কে সে ধড়মড় করে উঠে বসতে চাইল, কিন্তু ততক্ষণে দ্বীপের শক্ত হাত তার উন্মুক্ত শরীরে চেপে বসেছে। শাড়ির আঁচলহীন, ন*গ্ন দিয়া যেন মুহূর্তেই বাস্তবতার কঠিন জমিনে আছড়ে পড়ল।
এরপর?
________________
এরপর চিন্তার সুতো ছিঁড়তেই দিয়া ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তার আর সহ্য হচ্ছিল না এই নির্মমতা। সে ভাবতেই পারছিল না, একজন মানুষ কীভাবে এতটুকু একটা মেয়ের উপর এমন অমানবিক শারীরিক অত্যাচার করতে পারে। নিজের মনকে সে বারবার প্রশ্ন করল—এই লোকটি কি সত্যিই মানুষ?
নিজের বর্বরোচিত চাহিদা মিটিয়ে দ্বীপ তখন দিয়ার পাশে নিস্তেজ হয়ে শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকার পর, যেন দিয়ার মনের গভীরে চলতে থাকা ঝড়টি আন্দাজ করতে পেরেই, সে অত্যন্ত শীতল কণ্ঠে দিয়ার উদ্দেশ্যে বলল:
— আমি মানুষ নাকি জানোয়ার—এটাই ভাবছো, তাই না? এত সামান্যতেই তোমার এই অবস্থা! শোনো মেয়ে, সবে তো শুরু হলো। সামনে যা যা ঘটবে, সেগুলো কীভাবে সহ্য করবে তুমি?
এক নিদারুণ কৌতুক তার কণ্ঠে ঝরে পড়ল।
— তোমার জন্য বড্ডো মায়া হচ্ছে মেয়ে। কেননা ভবিষ্যতে তোমার সাথে আরও অনেক কিছু ঘটতে চলেছে, যার জন্য প্রস্তুত থাকার বড্ডো প্রয়োজন।
নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণ করেই দ্বীপ এক লহমায় দিয়াকে আস্টেপিস্টে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরল। দিয়া তখনো ঘৃণায় ও আতঙ্কে মুচড়ামুচড়ি করে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার বৃথা চেষ্টা করল, কিন্তু তার সকল প্রতিরোধ ব্যর্থ হলো। অবশেষে, ক্লান্তিতে ও হতাশায় দিয়াও নীরবে আত্মসমর্পণ করে তার পাশে ঘুমিয়ে পড়ল।
[চলবে]

