first love 17+18

0
665

first love…..
Samira afrin Samia (nipa)
Part: 17+18

আমিঃ আসবোই তো।

জান্নাতঃ সামিহা আর একটা কথা…..

আমিঃ আরে আরে মাফ চাইতে হবে না। আমি তোকে মাফ করে দিলাম। আমার মনটা তো অনেক বড়।

জান্নাতঃ মাফ চাইলাম কখন?

আমিঃচাস নাই কিন্তু চাইতে চাইছিলি।

জান্নাতঃ তুই সব সময় দুই লাইন বেশি বুঝস।

আমিঃ হুম তা তো বুঝিই।আমি কতো ইনটেলিজেন্ট। আমার মত একটা ইনটেলিজেন্ট মেয়ে তোদের মত পেত্নীদের ফ্রেন্ড হলো কি করে আল্লাহই জানে।

জান্নাতঃ ওই চুপ কর ইনটেলিজেন্ট এর বংশধর। এখন তোর কথার ঝুড়ি খুলে বসিস না। আমার ঘুম পাইছে। আমি ঘুমাবো।

আমিঃ হ ফইন্নি যা ঘুমা।কাল তোর এনগেজমেন্ট ভাঙ্গতে আসছি।

জান্নাতঃ হুম বাই।।

তানভীরঃ আমি ফ্রেস হয়ে এসে দেখি সামিহা এখনও জান্নাতের সাথে কথা বলছে।

তুমি এখনও জান্নাতের সাথে কথা বলতেছ?

আমিঃ হুম।। কেন কোনো প্রব্লেম। নাকি ফোনের টাকা শেষ হয়ে যাবে।
আপনি এতো কিপ্টা কেন?

তানভীরঃ আমি মোটেও কিপ্টা না। তোমার যতখন ইচ্ছে তুমি ততখন কথা বলো আমার কোনো প্রব্লেম নাই।

আমিঃ হঠাৎ করে মনে হলো।এখানে আমার তো তেমন কোনো ভালো ড্রেস নেই। সব তো আমাদের বাসায়। ঐ দিন তো কোনো ড্রেসই নিলাম না শুধু কসমেটিকস নিছি। (মনে মনে…)

আমি কাল পার্টিতে যাবো না।

তানভীরঃ এখন আবার কি হলো।কেন যাবে না?

আমিঃ কাল এনগেজমেন্ট পার্টিতে আমি কি পড়ে যাবো। আমার তো এখানে কোনো ভালো ড্রেস আনি নি।

তানভীরঃওয়াড্রব থেকে একটা ব্যাগ বের করে। সামিহাকে দিলাম।

এই নেও।।।।

আমিঃ কি এটা। এটাতে কি আছে?

তানভীরঃ এত কথা না বলে খুলেই দেখো কি আছে এটাতে।

আমিঃ ব্যাগটা হাতে নিয়ে। খুলে দেখলাম।।।
ওয়াও এতো সুন্দর শাড়ি। সাথে ম্যাচিং করা চুড়ি আর ইয়াররিং ও আছে।

এগুলো কার?

তানভীরঃ এখানে অন্য কাউকে দেখতে পাচ্ছ?

আমিঃ না।

তানভীরঃ যেহেতু এখানে অন্য কেউ নেই। আর ব্যাগটাও তোমার হাতে দিলাম। তাহলে তো এগুলো তোমারই হবে তাই না?

আমিঃ না না।। এগুলো আমি নিবো না।কার না কার জিনিস এনে আমাকে দিয়ে দিছেন।

তানভীরঃ স্টুপিড এগুলো আমি তোমার জন্য আনছি।

আমিঃ কবে আনলেন এগুলো?

তানভীরঃঐ দিন কিনে রাখছিলাম যে দিন তোমাকে নিয়ে শপিং এ গেছিলাম।

আমিঃ কখন আমি তো দেখি নাই?

তানভীরঃদেখবা কি করে।চোখ তো বাসায় রেখে যাও।

আমিঃ আমার চোখ আমার ইচ্ছে হলে বাসায় রেখে যাবো আবার ইচ্ছে হলে সাথে করে নিয়ে যাবো।
তাতে আপনার কি?

তানভীরঃ আমার কিছুই না।
এখন শুয়ে যাও সকালে উঠে নামাজ পড়বা।

আমিঃ হুম।।

বিকেলে পার্টিতে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি।

তানভীরঃ আর কতক্ষণ আমরা গিয়ে দেখব পার্টি শেষ হয়ে গেছে।

আমিঃ আপনি যান না। আপনাকে যেতে না করছে কে?
কথা বলতে বলতে রুম থেকে বেরিয়ে এলাম।

কি হলো যাবেন নাকি এখানে এভাবে হা করে দাঁড়িয়ে থাকবেন।

তানভীরঃ সামিহাকে দেখে আমি চোখ সরাতে পারছিলাম না।
কালো শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগছে ওকে। ডান হাতে কালো চুড়ি।কানে খুব সিম্পল ইয়ার রিং।হালকা মেকআপ। খোলা চুলে আমি যেন কোনো মায়াবী পরি কে দেখছি।

আমিঃ আজব মানুষ তো সেই কখন থেকে ভেবলার মত হা করে তাকিয়ে আছে। কোনো কথা কানে যাচ্ছে না।
(কানের কাছে গিয়ে জোরে চিৎকার করে)
আপনি কি যাবেন না আমি একাই চলে যাবো।

তানভীরঃ সামিহার কথায় ঘোর কাটলো।
হুম যাবো চলো।

পার্টিতে গিয়ে……..

জান্নাতঃ সামিহা তোকে কত সুন্দর লাগছে। একদম কালো পরির মত।

আমিঃ কি বললি কালো পরি।প্রসংশা করলি নাকি অপমান?

জান্নাতঃ কালো শাড়ি পড়লি তাই কালো পরির মত বললাম।

আমিঃআমি তো ভাবলাম তুই আমাকে কালো পরির সাথে তুলনা করে অপমান করলি।

জান্নাতঃধুর গাধী।।।কালো শাড়ি পড়ছস। এখন কি লাল পরি বলবো নাকি সাদা পরি বলবো?

স্বর্নাঃ দোস্ত তোর হাজব্যান্ড কই রে?

আমিঃ কই আর দেখ কোথায় কোন মেয়ের সাথে চিপকে আছে।

এরই মধ্যে আখি কনিকা আর নিশি আসলো।।

আখিঃ দোস্ত আজ কালো পেত্নী সাজলি কেন?

আমিঃআমাকে একদম কালো পেত্নী বলবি না।

আখিঃ পেত্নী কে পেত্নী বলবো না শাঁকচুন্নি বলবো নাকি?

আমিঃ উল্লুকটা ইচ্ছে করে আমাকে কালো শাড়ি এনে দিছে। আমাকে পেত্নী সাজানোর জন্য। (মনে মনে…)

স্বর্নাঃ দোস্ত তোর হাজব্যান্ড কে যা লাগছে। কত হ্যান্ডসাম আর স্টাইলিশ।
এমন একটা পুলা পাইলে তার সাথেই লাইন মারতাম।

আমিঃ কই দেখলি হ্যান্ডসাম???

স্বর্নাঃ তুই কি কানা নাকি। চোখে দেখস না?

আমিঃ তানভীরের দিকে তাকিয়ে। আল্লাহ সত্যিই তো অনেক হ্যান্ডসাম।
কালো শার্ট হাতা ফোল্ড করা। চুল স্পাইক করা। হাতে একটা দামি ঘড়ি। সেই লাগছে।
ধুর আমি এসব কি ভাবছি। (মনে মনে….)
কই দেখি না তো দোস্ত।
একটু দেখা আমাকে।

কনিকাঃ তোর ভাব দেখতে পারবো না ফইন্নি।

আমিঃ তুই এইভাবে বলতে পারলি।আমি ভাব নেই ?

কনিকাঃ ভাব নেস না তো কি করস। এতো সুন্দর বর পাইছস তাই ভালো লাগে না।

তানভীরঃ আমাকে একা রেখে সেই কখন থেকে ফ্রেন্ডদের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। নিজের বরকে একটু দেখে রাখবে তা না।

পার্টি শেষে সবাই ডান্স করছে। আমাদেরকে ও ডান্স করার জন্য জোরাজোরি শুরু করে দিল।

আমিঃ আপনি ডান্স করতে পারেন তো? নাকি সবার সামনে আমার মান সম্মান ধুলোয় মিসাবেন।

তানভীরঃ সামিহাকে কিছু না বলে ডান্স ফ্লোর এ চলে গেলাম।

আমিঃহায় হায় এর সাথে তো আমিও ডান্স করে পেরে উঠবো না।

তানভীরঃ এবার দেখলে তো আমি ডান্স করতে পারি কি না?

আমিঃহুম অনেক পারেন। এখন আমাকে কোল থেকে নামান।

তানভীরঃ এতক্ষণ সামিহা আমার কোলে ছিল?( মনে মনে..)
সামিহাকে কোল থেকে নামিয়ে আমি ডান্স ফ্লোর থেকে চলে আসলাম।

সিয়াত আমার কাছে আসলো।।

সিয়াতঃ কি খবর তোর?

তানভীরঃ হঠাৎ করে আমার খবর জানতে জানতে চাস কেন?

সিয়াতঃ আপনি তো পুরো হাবুডুবু খাচ্ছেন। তাই আর কি।

তানভীরঃ হাবুডুবু খাবো কেন?

সিয়াতঃ তা আমি কি করে বলবো। তা তো আপনিই ভালো জানবেন।

তানভীরঃ কি বলছিস এসব। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

সিয়াতঃ হুম তোর আর কিছু বলতে হবে না।তোর ফেস দেখেই সব বুঝা যায়।
তা মনের কথা যত তারাতারি বলবি ততই ভালো।

তানভীরঃ কিন্তু সামিহা তো আমাকে ভালোবাসে না।

সিয়াতঃ কে বলছে তোকে। সামিহা কি নিজে বলছে ওর তোকে ভালোবাসে না।

তানভীরঃ তা বলেনি কিন্তু সামিহা বলছে ও এই বিয়েটা মানে না।

সিয়াতঃ আরে হঠাৎ করে বিয়েটা হওয়াতে ও হয়ত রেগে আছে।
তুই আজই পার্টি শেষে সামিহাকে তোর মনের কথা বলে দিবি।

তানভীরঃ কিন্তু…..

সিয়াতঃ কোনো কিন্তু না। তুই আজই ওকে প্রপোস করবি।

চলবে…..

first love….
Samira Afrin Samia (nipa)
Part: 18

তানভীরঃ পার্টি শেষে সব গ্রেস্টরা চলে গেল।সামিহার ফ্রেন্ডরা এখনও যায়নি। সামিহা ওর ফ্রেন্ডদের সাথে কথা বলছে।
আমি ওকে একটা কনারে ডেকে আনলাম।
সামিহা তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল।

আমি এক হাঁটু গেড়ে বসে সামিহার ডান হাত ধরে।।।। সামিহাকে বলতে লাগলাম।

সামিহা আমি হয়ত গুছিয়ে আমার মনের কথা গুলো তোমাকে বলতে পারবো না। আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি তাও প্রকাশ করতে পারবো না। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করতে গেলে পৃথিবীর সমস্ত শব্দ কম পড়ে যাবে। আমি আর কিছু চাই না আমি শুধু সারা জীবন তোমাকে আমার পাশে চাই। তোমাকে ছাড়া আমার পৃথিবী রং বিহীন,শূন্য। তুমি আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছ।তোমাকে ছাড়া আমি ভালো থাকতে পারবো না। আমি তোমাকে আমার থেকেও বেশি ভালোবাসি। I love you samiha. I love you very much. I Can’t live without you…

আমিঃ এই কিছুক্ষণ যাবৎ যা হলো সব আমার মাথার উপর দিয়ে গেল। কিছুই বুঝতে পারলাম না।

তানভীরঃ বসা থেকে উঠে সামিহাকে জড়িয়ে ধরে।
I love you samiha…
তুমি কি আমাকে একটা চান্স দিবে?
তোমাকে নিয়ে আমার স্বপ্নের পৃথিবী তৈরি করার। তোমার মুখে হাসি ফুটানোর একটা সুযোগ দিবে আমাকে?

আমিঃ এতক্ষণ ধরে যা তা বলছে। এখন আবার জড়িয়ে ধরলো।
এবার তো আমার রাগ চরম সীমানায় পৌঁছে গেল।কিছু না ভেবে ঠাস করে ওনার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলাম।

আপনার সাহস হলো কি করে আমাকে এসব কথা বলার। আমি আপনাকে অনেক আগেই বলছি আমি এই বিয়ে মানি না। আর আপনাকে ভালোবাসি ও না।
আমি ভালোবাসায় বিশ্বাস করি না। পৃথিবীতে সত্যিকারের ভালোবাসা বলতে কিছুই নেই। ক্ষণিকের জন্য ভালোবেসে আমি কষ্ট পেতে চায় না।কাউকে ভালোবেসে না পাওয়ার যন্ত্রণা অনেক বড় হয়।ভালোবাসার মানুষটাকে ভুলে থাকা অনেক কঠিন। ভালোবাসা জীবনে এক বারই আসে। যা আমার জীবনে এসে আবার চলেও গেছে। এখন আমার মনে কারো জন্য ভালোবাসা তৈরি হবে না।
একথা গুলো বলে আমি ওখান থেকে দৌড়ে চলে আসলাম।

তানভীরঃ কি থেকে কি হয়ে গেল। সামিহা আমাকে চড় মারলো। ও এসব কি বলছিল। সামিহা ভালোবাসায় বিশ্বাস করে না কিন্তু কেন? ও কাউকে ভালোবাসাতো তাহলে আমাকে বিয়ে করলো কেন? আর সামিহা যাকে ভালোবাসে সেই বা কোথায়?

আমাকে জানতে হবে সামিহার সাথে কি হয়েছিল। সামিহার লাইফে কি কি হয়ছে তা শুধু ওর ফ্রেন্ডরাই বলতে পারবে। এসব কিছু আমাকে জান্নাতই বলতে পারবে কারণ জান্নাত আর সামিহা স্কুল লাইফ থেকে এক সাথে আছে।

আমি জান্নাতের কাছে গেলাম,।।।।
জান্নাত তোমার সাথে কিছু কথা ছিল। একটু ছাদে আসবে প্লিজ।

জান্নাতঃ একটু পরে ছাদে গিয়ে দেখি তানভীর ভাইয়া আগে থেকেই ছাদে দাঁড়িয়ে আছে।
তানভীর ভাইয়া কিছু বলবেন?

তানভীরঃ জান্নাত কি এমন হয়েছিল সামিহার লাইফে। সামিহা ভালোবাসায় বিশ্বাস করে না কেন। ও কি কাউকে ভালোবাসাতো।যদি ও কাউকে ভালোবাসাতো তাহলে সেই মানুষটা এখন কোথায়?

জান্নাতঃ কেন ভাইয়া আপনি জানেন না। সামিহার বাবা মা আপনাকে কিছু বলেনি।আর ও আপনাকে কিছু বলেনি?

তানভীরঃকি বলেনি। কি এমন কথা আছে যা আমি জানি না। প্লিজ একটু ক্লিয়ার করে বলো।আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

জান্নাতঃ আচ্ছা আমি আপনাকে সব কথা বলছি। কেন ও ভালোবাসায় বিশ্বাস করে না। কেন ও কাউকে ভালোবাসতে চাই না।
এসব কিছুর কারন হলো সামিহার প্রথম ভালোবাসার মানুষটা।

দুই বছর আগে…….

সামিহাঃ আমি তোকে আমার সাথে নিয়ে যাবো। তুই আমার সাথে যাবি মানে যাবি।আর কোনো কথা না।

জান্নাতঃ আরে তোর ফুপুর বাসায় আমি কেন যাবো?

সামিহাঃ আমি বলছি তাই যাবি।

জান্নাতঃ আমি আর সামিহা একই স্কুল থেকে এক সাথে এস.এস.সি এক্সাম দিছি। এক্সাম শেষ হওয়ার পর কিছু দিন বাসায় থাকার পর আর ভালো লাগছিল না। তাই সামিহা গ্রামে ওর ফুপ্পির বাসায় যাবে। আমাকে ও যেতে বলল।আমি প্রথমে যেতে না চাইলেও সামিহা আমার আব্বু আম্মুকে রাজি করায় আর অবশেষে আমাকেও নিয়ে যায়।
আমরা যেদিন গ্রামে যাবো ঐ দিন সামিহার বাবা মা আমাদেরকে ট্রেশনে এসে ট্রেনে তুলে দেয়। ট্রেন থেকে নামার পর ওর আঙ্কেল আমাদেরকে ট্রেশন নিতে আসবে। তাই সামিহা আর আমি একাই ওর ফুপির বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম।
পুরো রাস্তায় অনেক মজা করি আমরা। এভাবে পৌঁছে গেলে ট্রেশনে নেমেই ওর আঙ্কেলকে দেখতে পাই।

সামিহাঃ আঙ্কেল কেমন আছো তুমি? কতদিন ধরে তোমাকে দেখি না। তুমি তো আমাকে ভুলেই গেছ।

আঙ্কেলঃ আমি ভালো আছি। আরে পাগলী মেয়ে তোমাকে আমরা কি করে ভুলবো। তোমার স্টাডির জন্যই তো তোমাকে আমাদের কাছে আনিনি।

সামিহাঃ হুম বুঝছি।
আঙ্কেল এ হলো আমার বেষ্টু জান্নাত।

জান্নাতঃ আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল। কেমন আছেন?

আঙ্কেলঃ ওয়ালাইকুম আস সালাম। আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছো আর তোমাদের এক্সাম কেমন হলো?

জান্নাতঃ এক্সাম ভালোই হয়ছে।

আঙ্কেলের সাথে গ্রামের আঁকা বাঁকা মাটির রাস্তা দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম।
আঙ্কেল গাড়ি নিতে চাইলেও সামিহা গাড়ি নিতে দেইনি। ওর হেঁটে যাবে প্রামের প্রাকৃতিক সুন্দর্য দেখবে।

সামিহাঃ উফফ বাবা আর হাটতে পারবো না।
এটা বলেই বসে পড়লাম।
আঙ্কেল আমি আর এক পা ও হেঁটে যেতে পারবো না।

জান্নাতঃ তখন তো ট্রশনে গাড়ি নিতে দিলি না।তাহলে এখন হাটতে পারবি না কেন?
তোর জন্য আজ আমার পা শেষ হয়ে গেল।
এখন তুই আমাকে কোলে করে নিয়ে যা। আমি আর এক পা হেঁটে গেলে এখানেই মারা যাবো। সব তোর জন্য।

সামিহাঃ একটা কথা ও বলবি না। আমি গাড়ি নিতে না করছি বলে কি তোরা গাড়ি নিবি না।
আমি নিজেই মারা যাচ্ছি এখন তোর মতো মোটিকে কোলে নিলে আমার লাশটা ও পাওয়া যাবে না।
পারলে তুই আমাকে কোলে করে নিয়ে যা।

জান্নাতঃ শাকচুন্নি তুই আমাকে মোটি বললি কেন?
তুই মোটি শাকচুন্নি,পেত্নী, তেঁতুল গাছের ভুতনী।

সামিহাঃ তোর সাহস কি করে হয় আমাকে এসব বলার। আজ তো আমি তোর সব চুল ছিড়ে নিবো।
এটা বলে বসা থেকে দাড়িয়ে জান্নাতের দিকে যেতে লাগলাম।

আঙ্কেলঃ আরে আরে কি করছ তোমরা। এভাবে ছোট বাচ্চাদের মত ঝগড়া করছ কেন। সামিহা তুমি তোমার ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া করবে না।

সামিহাঃ দেখো না আঙ্কেল ও আমাকে শাকচুন্নি পেত্নী ভুতনী বলছে।

জান্নাতঃ আঙ্কেল সামিহা আমাকে মোটি বলছে কেন?
তাই তো আমি ওকে শাকচুন্নি বলছি।

সামিহাঃ আমি তোর সাথে আর কোনো দিনও কথা বলবো না।

জান্নাতঃ আল্লাহ বাঁচা গেল।

সামিহাঃ মনে থাকে যেন।

জান্নাতঃ হুম মনে থাকবে। তোর ও যেন মনে থাকে। একটু পরই আমার সাথে কথা বলতে আসবি না।

ফুপ্পির বাসায় চলে আসলাম।।।।।

ফুপ্পিঃ সামিহা কেমন আছিস তুই। কত দিন ধরে তোকে দেখি না। কত বড় হয়ে গেছে আমার ছোট রাজকুমারীটা।

সামিহাঃ বড় হবো না তো কি সব সময় ছোটই থাকবো।, তুমি তো আমাকে ভুলে গেলে কিন্তু আমি তো তোমাকে ভুলে থাকতে পারলাম না। তাই কিছু দিনের জন্য তোমার কাছে চলে আসছি।
ফুপ্পি এ হলো মোটি থুক্কু মোটি না জান্নাত। আমার বেষ্টু।
আমি একা বেড়াতে আসবো জানুকে একা রেখে।তাই জানুকে ও নিয়ে আসছি।

ফুপ্পিঃ ভালোই করছিস এখন কিছু দিন আমার কাছে থেকে তার পর যাবি।

সামিহাঃ সে কি ফুপ্পি আমি তো ভাবছিলাম এবার আর যাবোই না। তোমার কাছেই থেকে যাবো। এখন তো তুমি নিজেই আমাকে চলে যাওয়ার কথা বলছ।

ফুপ্পিঃ ধুরর পাগলী মেয়ে। এখন কি এখানেই দাড়িয়ে থাকবি নাকি রুমে যাবি।
জান্নাত আমাকে তোমার নিজের ফুপ্পি মনে করবে। কোনো কিছু লাগলে আমাকে বলবে।

জান্নাতঃ ঠিক আছে ফুপ্পি।

সামিহাঃ সারা দিক যার্নি করে আসাতে অনেক র্টায়াড লাগছে। তাই রাতে না খেয়েই শুয়ে পড়লাম।

সকালে……..
আবিরঃ আপু এই আপু। আপু উঠ না। তোকে ডাকতে ডাকতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেলাম।

সামিহাঃ আবির আমার ফুপ্পির একমাত্র ছেলে। এবার পি.এস.সি এক্সাম দিছে।
আরে নেংটি ইঁদুর যে কাল রাতে কই ছিলি দেখিনি তো।

আবিরঃ আপু আমাকে নেংটি ইঁদুর বলবা না। তুমি তো কাল সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে গেছো আমাকে দেখবে কিভাবে?

সামিহাঃ আচ্ছা তোর ঐ মোটকো গফটা এখনও আছে নাকি?

আবিরঃ আপু আমার কোনো গফ টফ নাই। আম্মু তোমাকে ডাকতে বলছিল তাই ডাকতে আসলাম এখন ইচ্ছে হলে নিচে আসো। সবাই তোমার জন্য ডাইনিং এ ওয়েট করছে।

সামিহাঃ আমার জানুটা কই রে?

আবিরঃ জান্নাত আপু সেই কখন নিচে চলে গেছে।

সামিহাঃ ওকে তুই যা আমি আসছি।

নিচে ডাইনিং টেবিলে……..।।।

ফুপ্পিঃ কিরে তোর ঘুম শেষ হলো?

সামিহাঃ হুম ঘুম তো সেই কখন শেষ হয়ছে।কিন্তু।।।

ফুপ্পিঃ কিন্তু কি?

সামিহাঃ আরে আর বলো না। আমার সব গুলো ক্রাশ এক সাথে স্বপ্নে এসে আমার জন্য ফাইট করা শুরু করে দিল।ওদেরকে থামাতে থামাতেই আমার ঘুম থেকে উঠতে লেইট হয়ে গেল।

আমার কথা শুনে ফুপ্পি আর আঙ্কেল হাসতে লাগলো।

আবিরঃ আপু তুমি আর তোমার স্বপ্ন দুটোই অদ্ভুত।

সামিহাঃ ওই নেংটি ইঁদুর এখানে অদ্ভুত এর কি দেখলি?
কথা বলতে বলতে খাচ্ছিলাম হঠাৎ করে আমার সরাসরি ডাইনিং টেবিলে বসে থাকা ছেলেটার উপর চোখ পড়লো। আমি ভাবলাম আমি হয়ত এখনও স্বপ্ন দেখছি।
ওই নেংটি ইঁদুর আমাকে জোরে একটা চিমটি কাটতো।

আবিরঃ আচ্ছা।

সামিহাঃ আউ ও রে বাবা রে।।।।। তোকে নেংটি ইঁদুর বলি দেখে এতো জোরে চিমটি কাটলি।

ফুপ্পিঃ কি হলো কি। এভাবে চিৎকার দিলি কেন?

সামিহাঃ না ফুপ্পি কিছু না।

ছেলেটা উঠে গেল কোনো কথা বললো না। হায় হায় বোবা নাকি? আল্লাহ এতো সুন্দর একটা ছেলেকে তুমি বোবা বানিয়ে পৃথিবীতে পাঠাইলা।(মনে মনে…)

ফুপ্পি ছেলেটা কে ছিল? বোবা নাকি। শুধু কি কথা বলতে পারে না। নাকি কানে ও কম শুনে?

আঙ্কেলঃ ওর আমার বোনের ছেলে। এবার হনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অচেনা কারো সাথে তেমন কথা বলে না। পড়াশোনায় অনেক ভালো। কিছু দিনের জন্য আমাদের বাসায় বেড়াতে আসছে।

সামিহাঃ ওহ আচ্ছা।।।।
সুন্দর ছেলেদের ওই একটাই প্রব্লেম পড়াশোনায় ভালো হবে। আর কারো সাথে কথা বলবে না দাম দেখাবে। কিন্তু আমি তো ছেলেটার উপর ক্রাশ খাইছি।(মনে মনে…)

জান্নাতঃ এটাকে ও ছাড়লি না। এর উপর ও ক্রাশ খাইলি।লুচ্চি মেয়ে একটা।( কানে কানে কথা গুলো বললো)

সামিহাঃ (রাগী লুক নিয়ে জান্নাতের দিকে তাকিয়ে) কুত্তি ধরলাম কখন যে ছাড়বো। ক্রাশ খাওয়ার মতো হলে ক্রাশ খাবো না তো কি করবো? (কানে কানে)

আবিরঃ কি আপু কেমন লাগলো আমার ভাইয়াকে?

সামিহাঃ নেংটি ইঁদুর আমি তোর ভাইয়াকে খেয়ে দেখছি নাকি ?কি করে বলবো কেমন লাগলো।

আবিরঃ আমি কি খাওয়ার কথা বলছি?
আমি বলছি দেখতে কেমন লাগলো।

সামিহাঃ দেখার কথা কখন বললি?
তুই শুধু বলছস কেমন লাগলো।

আবিরঃ ওই একই তো।। বুঝি বুঝি।। তোমার আর কিছু বলতে হবে না।

সামিহাঃ আজকাল ছোট ছোট পুলাপাইন গুলা কত কিছু বুঝে।

চলবে…..