first love 15+16

0
660

15+16part
first love…..
Samira Afrin Samia (nipa)
Part: 15

আমিঃকি ব্যাপার এখনও চিৎকার দেয় না কেন?এই তুহিটা মিথ্যা বলছে নাকি।

আ…আ…..আহ…..
সাপ… সাপ…সা…

আমিঃ চিৎকার শুনে তাকিয়ে দেখি ওনি বেড থেকে এক লাফ দিয়ে মেঝেতে দাঁড়িয়ে সাপ সাপ বলে চিৎকার করছে।

ছেলেরা ও ভয় পেয়ে এভাবে মেয়েদের মত চিৎকার করে। তা আগে জানতাম না।

তানভীরঃ কম্বলে যেন কি ছিল। তা দেখার জন্য লাইট অন করলাম। লাইট অন করে যা দেখলাম। কম্বলে একটা সাপ ছিল।

আমি তেমন কিছু ভয় পায় না শুধু সাপ ছাড়া। ছোটবেলায় একবার সাপে কাটছিল তার পর থেকেই সাপ ভয় লাগে।

আমিঃ এতক্ষণে আমি হাসতে হাসতে বেডে শুয়ে গড়াগড়ি শুরু করে দিলাম। সামান্য একটা রাবারের সাপ দেখে এই অবস্থা।

তানভীরঃ এভাবে হাসার কি আছে?
সব মানুষেরই কিছু না কিছুতে ভয় লাগে।

আমিঃ সাপটাকে হাতে নিয়ে। হুম আমি না করছি নাকি। (সাপ হাতে সামনে এগিয়ে আসতে আসতে)

তানভীরঃ এটাকে হাতে নিলা কেন? কাটতে পারে তো।

আমিঃ রাবারের বেচারা সাপ আপনার চিৎকারে যা ভয় পাইছে এখন এই জন্মে আর কাউকে কাটবে বলে মনে হয় না।

তানভীরঃ তার মানে এটা রিয়েল স্নেক না?

আমিঃ হাতে নিয়েই দেখেন এটা রিয়েল নাকি ফেইক।
বেচারা সাপের কান নষ্ট হয়ে গেছে মনে হয়। আপনি যা চিৎকার দিলেন।
আপনাকে khatron ki khiladi season 10 এ পাঠাবো সেই মজা হবে। ভাবতেই হাসি পাচ্ছে। আপনার উপর সাপ ছেড়ে দিলে আপনি মেয়েদের মতো নাচতে নাচতে চিৎকার শুরু করে দিবেন।(হাসতে হাসতে….)

তানভীরঃ এবার আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারলাম না। সামিহার এক হাত পিছনে নিয়ে দেওয়ালের সাথে ওকে আটকে ধরলাম।
অনেক বেড়েছ তুমি। সেই প্রথম দিন থেকে এটা সেটা করেই যাচ্ছ কিছু বলছি না।
আজ যা করলে তার পর তোমাকে কিছু না বললে মাথায় উঠে নাচতে শুরু করবে।

আমিঃ এতো জোরে হাতে ধরে রাখছে। তার উপর কত কথা শুনাচ্ছে।
আহ লাগছে ছাড়ুন। ছাড়ুন বলছি।।।

তানভীরঃ লাগুক। আজ তোমাকে একটা শিক্ষা দিতেই হবে। এতো সাহস কোথায় পাও তুমি?
একটা মিনিট ও শান্তিতে থাকতে পার না। সারাক্ষণ উল্টা পাল্টা কিছু করেই যাচ্ছ।

আমিঃ এতোবার বলার পর ও হাতটা ছাড়লো না। হাতে অনেক ব্যাথা পাচ্ছি।
চোখ দিয়ে এমনিতেই কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
হয়ত হাতের ব্যাথা চোখের পানি দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে।

তানভীরঃ হঠাৎ করে দেখি সামিহার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। সাথে সাথে ওর হাত ছেড়ে দিলাম। আর কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে এলাম।

আমিঃহাত লাল হয়ে গেছে উল্লুকটার কত শক্তি। হাতটা ভেঙ্গেই দিল।
হাতের লাল হয়ে যাওয়া জায়গায় অন্য হাত বুলাতে বুলাতে বেডে শুয়ে গেলাম।

তানভীরঃ এটা কি করলাম আমি। এতো জোরে হাতে না ধরলে ও পারতাম।একটু বেশিই রেগে গেছিলাম।
কেউ অনেক কষ্ট না পেলে কি কান্না করে?
আজ প্রথম এই ফাজিল মেয়েটার জন্য এতো খারাপ লাগচ্ছে। একজন মানুষ এতো দুষ্টুমি কি করে করতে পারে। আর ও জানলো কি করে আমি সাপকে ভয় পায়?

রুমে গিয়ে দেখি মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে। যে হাতে ধরছিলাম ওই হাতটা লাল হয়ে গেছে। হয়ত অনেক ব্যাথা পাইছে। ঘুমিয়ে থাকা এই মেয়েটাকে দেখলে কেউ বলতেই পারবে না এই মেয়েটা যে এত দুষ্টু।
সব সময় মাথায় শয়তানি বুদ্ধি ঘুরে বেড়ায়।
একদম ছোট বাচ্চাদের মত ঘুমাচ্ছে।
ওর ঘুমন্ত ফেস এতো কাছ থেকে আজ প্রথম বার দেখছি। অনেক মায়াবী লাগছে।
কিছু চুল মুখে এসে আছে।ইচ্ছে করছে চুল গুলো কানের পিছনে গুঁজে দেই।
এসব কি ভাবছি আমি? আমি তো ওকে ওয়াইফ হিসেবে মানি না।
সামিহা ও তো এই বিয়েটা মানে না।

আমি কি ওর প্রতি কিছু ফিল করতে শুরু করছি। আমি কি ওকে ভালোবেসে ফেলছি।

সামিহার গায়ে কম্বল টেনে দিয়ে আমি সোফায় শুয়ে পড়লাম।

সকালে……
আমিঃ তুহি ।।।।।।। তুহি…..

তুহিঃ হুম…. ভাবি বলো কি বলবে।

আমিঃ আজ তোমার স্কুলে না গেলে হয় না?

তুহিঃ আমার তো সামনে এক্সাম এখন স্কুলে না গেলে………. তোমার কি কোনো দরকার আছে?

আমিঃ তেমন কিছু না। একটু শপিং এ যেতে ইচ্ছে করছে। বাসায় থাকতে তো বাবাই নিয়ে যেত।
এখানে কে নিয়ে যাবে? আমি একা যেতে পারবো কিন্তু আমার কাছে তো টাকা নেই।

তুহিঃ আরে ভাবি কে নিয়ে যাবে মানে?
ভাইয়া কে বলো।আর তুমি টাকা দিয়ে কি করবে।
তোমার হ্যাসব্যান্ড এর টাকা তো তোমার টাকাই তাই না।
আমি ভাইয়া কে বলে দেই তোমাকে শপিং এ নিয়ে যেতে।

আমিঃ রাতের কথা মনে করে হাতের দিকে একবার তাকিয়ে দেখলাম। এখনও লাল হয়ে আছে।।।।
উল্লুকটা আমাকে শপিং এ নিয়ে যাবে।
ওনাকে বলার থেকে ভালো আমি শপিংই করবো না।(মনে মনে…)

তুহিঃ আচ্ছা ভাবি আমি স্কুলে যায়। বাই ভাবি।

আমিঃহুম যাও।।।

আমি মন খারাপ করে রুমে এসে বেডে বসে পা নাচাচ্ছি।

তানভীরঃ(রুমে এসে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হতে হতে)
বিকালে রেডি হয়ে থাকবে।

আমিঃ কেন?

তানভীরঃ তোমাকে আর তুহিকে নিয়ে শপিং এ যাবো।

আমিঃ omg এ তো মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। উল্লুকটা বুঝলো কি করে আজ আমার শপিং এ যেতে ইচ্ছে করছে।(মনে মনে….)
(একটু ভাব নিয়ে বললাম) আমি যাবো না। আপনি তুহিকে নিয়ে যান।

তানভীরঃ একটু আগে নিজেই বলছিল আর এখন ভাব
নিচ্ছে। (মনে মনে…)
ঠিক আছে তুমি না গেলে আর কি করবো। তুহিকে নিয়েই চলে যাবো।

আমিঃ উল্লুকটা বলে কি?…।।।
কই একটু জোর করবে তা না এ তো আমাকে রেখে যাওয়ার কথা বলছে। (মনে মনে…)
না না আমি তো যাবো।

তানভীরঃ কি ভাবছিলে তোমাকে জোর করে নিয়ে যাবো। (মনে মনে..)
একটু আগেই তো বলছো যাবে না।

আমিঃ ওটা তো এমনি বলছি।

তানভীরঃ তুমি যখন তুহির সাথে কথা বলছিলে।
তখন তুহির রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তোমার আর তুহির কথা গুলো শুনে নেই। (মনে মনে…)

বিকেলে…….
আমিঃ তুহি তুমি আমাদের সাথে যাবে না?

তুহিঃ না ভাবি। আমার এক ফেন্ডের কাছ থেকে নোট আনতে যেতে হবে। তাই আমি যাবো না।

আমিঃ তুমি গেলে অনেক ভালো হতো।

তুহিঃ আজ তুমি একাই যাও অন্য কোন দিন না হয় আমি যাবো।
আর ভাইয়া তো তোমার সাথে আছেই।

চলবে…….

first love…..
Samira Afrin Samia
Part: 16

শপিং করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।
অনেক অনেক শপিং করলাম। বাবা মামনি তুহির জন্য অনেক কিছু নিছি। আর আমি বেশি কিছু না শুধু কিছু কসমেটিক্স নিলাম। আসলে কসমেটিক্স দেখলে আমার আর কিছু নেওয়ার কথা মনেই থাকে না

তানভীরঃ মেয়েটা পাগল নাকি আল্লাহই জানে। অন্য কিছুই নিল না শুধু কিছু কসমেটিক্স নিল।
কিছু ইয়াররিং,চুড়ি আর নুপূর নিলো।ওর অবস্থা দেখে হাসি পাচ্ছিল।কোনটা রেখে কোনটা নিবে তা ও নিজেই
ডিসাইড করতে পারছিল না।

তাই আমি বললাম যা যা ভালো লাগে সব নিয়ে নেও।
সামিহা শুধু আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল।আর যা যা পছন্দ হলো সব নিয়ে নিল।
নানান কালারের চুড়ি, অনেক ডিজাইনের ইয়াররিং আর নুপূর নিল।

আমিঃ ওনাকে যতটা খারাপ ভাবতাম ওনি ততটা খারাপ না। আমাকে কত কিছু কিনে দিল।
আমার যা যা ভালো লাগছে সব নিতে বললো।

শপিং মল থেকে বের হয়ে…..
তানভীরঃ তুমি কিছু খাবে?

আমিঃ না,,, এখন বাসায় যাবো।আমার মনে হয় কিছু শপিং ব্যাগ ভিতরে রেখে আসছি।

তানভীরঃ আচ্ছা তুমি কারে গিয়ে বসো।আমি ব্যাগ গুলো নিয়ে আসি।

আমিঃহুম।।।।
কারের দিকে যেতে লাগলাম।
হঠাৎ নাহিদ আমার সামনে এসে দাঁড়াল।

নাহিদঃ জানে মান বরের সাথে শপিং এ আসছ।
তা আমাকে ভুলে গেলা কি করে?

আমিঃসামনে থেকে সরে দাঁড়া বলছি। এখানে কোনো
সিন ক্রিয়েট করবি না।

নাহিদঃতুমি আমাকে ভুলে স্বামীর সাথে সুখে সংসার করবে তা তো আমি হতে দিব না।

আমিঃ আরে তকে মনে রাখলে তো ভুলবো।এখন আমার চোখের সামনে থেকে দূর হ বলছি।
আমার হাতে মার না খেতে চাইলে চলে যা তুই।

নাহিদঃ তোমার হাতে মার কেন। বিষ ও খেতে পারবো।

আমিঃতোর তো আসলেই কোনো লজ্জা নেই।একটা উস্টা মারমু।কুত্তা কোনে কার দূর হ এখান থেকে। সরে মর।যা বলছি।।

নাহিদঃযাবো ই তো। কিন্তু তোমাকে সাথে করে নিয়ে তার পর যাবো।

আমিঃ নাহিদ যেই আমার হাত ধরতে আসবে ঠিক তখনই তানভীর এসে নাহিদের গালে ডিসুম করে একটা বসিয়ে দিল।

তানভীরঃআমি শপিং মলের বাহিরে এসে দেখি একটা ছেলে সামিহার সাথে অসভ্যতামি করছে।

তর সাহস হয় কি করে আমার ওয়াইফের গায়ে র্টাচ করার।

আমিঃ কি হলো এটা???
ফিল্মের হিরোর মতো নাহিদ কে মারতে মারতে তক্তা বানাচ্ছে।
আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি।

আরে আরে করছেন কি।মেরে ফেলবেন নাকি?
ছাড়ুন বলছি মরে যাবে তো।

তানভীরঃ মরে যাক তাতে তোমার কি।ও তোমার কে হয়।ও তোমাকে র্টাচ করবে কেন?

আমিঃ আমার কিছু না। আর ও আমার কেউই হয় না।
কিন্তু ও মারা গেলে জেলে কে যাবে ?আমার হাজব্যান্ড কে ই তো জেলে যেতে হবে।

জিহ্বাতে কামড় দিয়ে।।।। আল্লাহ এটা কি বলে ফেললাম আমি?

তানভীরঃ কি বললো সামিহা। ওর হাজব্যান্ড কে জেলে যেতে হবে। তার মানে সামিহা আমাকে ওর হাজব্যান্ড হিসেবে মেনে নিছে। (মনে মনে…)

নাহিদঃ চলে যেতে যেতে।।। তোমাকে আর তোমার হাজব্যান্ডকে তো আমি দেখে নিব।

আমিঃউহহুম এতক্ষণ মার খেতে খেতে মারা যাচ্ছিল।এখন আবার বড় বড় কথা।
যা যা পিক দিয়ে দিব ভালো করে দেখে নিস।

তানভীরঃ কারে গিয়ে বসো।

আমিঃকিছু না বলে কারে বসে গেলাম।

তানভীরঃ কার ড্রাইভ করতে লাগলাম। রাগ হচ্ছে ছেলেটা কে ছিল। আর সামিহার সাথে ঐ ছেলেটার কি সম্পর্ক?

আমিঃ এতো রেগে আছে কেন।মনে তো হচ্ছে এখনই আমাকে আস্ত গিলে খাবে। চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে।
মাঝে মাঝে আমার দিকে তাকাচ্ছে।
আমি তো বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছি। ওনার চোখ এতো লাল হয়ে আছে চোখের দিকে তাকাতেই তো ভয় লাগচ্ছে।

বাসায় এসে রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম। বাবা মামনি তুহির জন্য যা যা নিছিলাম। ওগুলো দিয়ে এসে আমার রুমে বেডে বসে চুড়ি গুলো হাতে পড়ছি।
অনেক কালারের চুড়ি আনছি।
ছোটবেলা থেকেই আমার চুড়ি পড়তে অনেক ভালো লাগে।

তানভীরঃ আমি রুমে গিয়ে দেখি সামিহা বেডে বসে হাতে চুড়ি পড়ছে।
আমি সামিহাকে ডাকলাম।
সামিহা।।।।। সামিহা

আমিঃউল্লুকটা ডাকে কেন?(মনে মনে…)
কি হলো ডাকেন কেন?

তানভীরঃ ছেলেটা কে ছিল?

আমিঃ কোন ছেলেটা?

তানভীরঃ তুমি জানো না আমি কোন ছেলের কথা বলছি?

আমিঃ যেই হোক তা জেনে আপনি কি করবেন?

তানভীরঃ আমি তোমার হাজব্যান্ড। আমি জেনে কি করবো মানে?

আমিঃ আমি এই বিয়েটা মানি না। আর আপনাকেও আমার হাজব্যান্ড হিসেবে মানি না।

তানভীরঃকি বললো সামিহা। ও আমাদের বিয়েটা মানে না। সামিহা আমাকে ওর হাজব্যান্ড হিসেবে মানে না।
আমি তো ভাবছিলাম সামিহা আমাকে ভালোবাসতে শুরু করছে।
তাহলে কি সামিহা ঐ ছেলেটাকে ভালোবাসে?(মনে মনে….)

আমিঃ ঐ ছেলেটা যে ই হোক না কেন তা দিয়ে আপনার কোনো কাজ নেই। আপনি আমার কোনো ব্যাপারে নাক গলাবেন না।

তানভীরঃ হঠাৎ সামিহার এমন কথা শুনে কেনোই যেন বুকের ভেতর ধুমরে মুচকে যেতে লাগলো। অনেক কষ্ট হচ্ছে ওর কথা গুলো শুনে। সামিহা আমাকে ভালোবাসে না।
কিন্তু আমি তো সামিহাকে ভালোবাসতে শুরু করছিলাম। কখনও কোনো মেয়ের জন্য এমন ফিল করিনি।। ওকে ভালোবেসে ফেলবো তা ও কোনো দিন ভাবিনি। কিন্তু কখন কিভাবে সামিহা আমার মনের ঘরে জায়গা করে নিলো তা আমিও বলতে পারবো না। আগে ওর কোনো কিছুই ভালো লাগতো না। এখন ওর ছোট বড় প্রতিটা জিনিস ভালো লাগে। ওর দুষ্টুমি গুলো ও এখন অনেক ভালো লাগে। মনে হয় ওর মায়াবী মুখটা দেখে আমার সারা জীবন পার করে দিতে পারবো।
ভালোবাসার অনুভূতি গুলো কি এমনই হয়?

কয়েক দিন পর………….

তানভীরঃ অফিসে বসে কিছু ফাইল দেখছিলাম। হঠাৎ সিয়াত আসলো।
।।।আরে সিয়াত তুই।এখানে হঠাৎ কি মনে করে।কোনো কাজ ছিল কি?

সিয়াতঃ কোনো কাজ না। কিন্তু তোকে একটা কথা বলবো। ভাবলাম ফোনে না বলে সরাসরি বললেই ভালো হবে। তাই তোর অফিসে আসলাম। বাসায় গেলে তো তোকে পেতাম না।

তানভীরঃ তা কথাটা কি?

সিয়াতঃআসলে কাল আমার আর জান্নাতের এনগেজমেন্ট। তুই আর সামিহা কিন্তু অবশ্যই আসবি।

তানভীরঃ কবে কি হলো কিছুই তো জানালি না।

সিয়াতঃ জান্নাতের ফেমিলি আমাদের রিলেশন মেনে নেওয়ায় হঠাৎ করেই কাল এনগেজমেন্ট রেখে দিল।।।
এখন আমি আসি।তোরা কিন্তু কাল অবশ্যই আসবি।

তানভীরঃ আচ্ছা আমরা আসবো।
তোর এনগেজমেন্টে আমরা না গেলে হবে নাকি?
তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তোর এনগেজমেন্টে আমি যাবো না এটা হয়?

সিয়াতঃ লাভ ইউ দোস্ত।

রাতে বেডে বসে এফ বি তে নিউজ ফিডে ঘুরাঘুরি করছি। এর মাঝেই তানভীর রুমে আসলো।

তানভীরঃ কাল রাতে সিয়াতের বাসায় পার্টি রাখছে। আমাদের ইনভাইট করছে।
রাতে রেডি থেকো।

আমিঃকিসের পার্টি। কি উপলক্ষে?

তানভীরঃকাল সিয়াত আর জান্নাতের এনগেজমেন্ট।

আমিঃ হায় হায় বলেন কি?
জানুর এনগেজমেন্ট আর আমি জানি না। জানু আমাকে কিছুই জানায়নি।

ফোনটা নিয়ে জানুকে কল করলাম।

জান্নাতঃ হুম সামিহা বল কি খবর তোর?

আমিঃ কুত্তি ফইন্নি আজ থেকে তোর সাথে ব্রেকআপ।
কোনো কথা নাই তোর সাথে।

জান্নাতঃ আরে শুননা প্লিজ। সব এতো তারাতারি হয়ে গেল কাউকে কিছুই বলতে পারিনি। তুই ও যদি আমাকে বুজতে না পেরে আমার সাথে রাগ করিস তাহলে আমি কোথায় যাবো বলতো

আমিঃ থাক থাক আর আগলা পিরিত দেখাতে হবে না।

জান্নাতঃ এখনও তো কিছুই হয়নি। কাল তো শুধু এনগেজমেন্ট। আর সিয়াত তো তানভীরের অফিসে গিয়ে ওকে বলে আসছে।

আমিঃ ওনাকে বলছে ওনি যাবেন। আমি যাবো না।

জান্নাতঃ প্লিজ ময়না রাগ করিস না।
তুই না আসলে …….
আমি……
আমি সবাইকে মিষ্টি খাওয়াবো।

আমিঃ হারামী আমি তো আসবোই। আর এসে তর এনগেজমেন্ট ভেঙ্গে দিব।তর চিকনা ফকিরের গলায় অন্য কোনো শাঁকচুন্নিকে ঝুলাবো। আর তোর বফের বিয়ের সাক্ষী হিসেবে তকে রাখবো।

জান্নাতঃ যা করার কাল এসে করিস। পরেও আসিস।

চলবে……