first love Part-21+22

0
648

first love….
Samira Afrin Samia (nipa)
Part: 21+22

তানভীরঃ ঐদিন কি আলিফ আসছিলো?
সামিহার বাবা আলিফকে মেনে নিছিল।তাহলে এমন কি হলো যার কারনে আমার সাথে সামিহার বিয়ে দিতে হলো। কি হয়েছিল দুই বছর আগে আমাকে তা জানতেই হবে।
সামিহা কোথায় গেল?

আমিঃ একা রাস্তায় কাঁদতে কাঁদতে হাঁটছি। এমন কেন হয় আমার সাথে। সব সময় আমার ভালোবাসার মানুষ গুলোই কেন আমার থেকে দূরে সরে যায়।আমার মনে শুধু এক জনই আছে। তাকে ছাড়া আমি আর কাউকে আমার মনে জায়গা দিতে পারবে না। পারবো না কোনো দিনও কাউকে নতুন করে ভালোবাসতে।

তানভীরঃ পার্টিতে কোথাও সামিহাকে না পেয়ে বাসার চলে আসলাম। ভাবছি ও হয়ত একাই বাসায় চলে আসছে। কিন্তু বাসায় এসে দেখি সামিহা এখনও বাসায় আসেনি।
তাহলে সামিহা কোথায়?
আবার কার নিয়ে সামিহা কে খোঁজতে বের হলাম।
অনেকক্ষণ খোঁজার পর সামিহাকে পেলাম।
একা একা রোডের মাঝে হাঁটছে আর কাঁদছে।

আমি কার থেকে নেমে সামিহার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
কান্না করে চোখ ফুলে লাল হয়ে গেছে।
প্রব্লেম কি তোমার এতো রাতে এভাবে একা একা রোডে হাটছো কেন? আর এখনও বাসায় যাও নি কেন?

আমিঃ আপনি এখানে কেন আসছেন? আমি আপনাকে আমার চোখের সামনে দেখতে চাই না।
আপনি এখান থেকে চলে যান বলছি।

তানভীরঃ পার্টিতে যা হয়েছে তার জন্য সরি।আমি জানতাম না তুমি অন্য কাউকে ভালোবাস।

আমিঃ ওনার কথা শুনে অবাক হয়ে ওনার দিকে তাকালাম।

তানভীরঃ তুমি যাকে ভালোবাস তার কাছে যেতে চাইলে আমি তোমাকে আটকাবো না।

আমিঃ আপনি আমার সাথে মজা করছেন? আমি যাকে ভালোবাসি তার কাছে যেতে পারলে অনেক আগেই চলে যেতাম। ওকে ছাড়া এতো দিন থাকতাম না। নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে ছেড়ে থাকার কষ্ট কতটা তা আপনি কি করে বুঝবেন।
(কথা গুলো বলে কান্না করতে করতে রোডে বসে গেলাম)

তানভীরঃ সামিহা এসব কি বলছে। সামিহা ওর ভালোবাসার মানুষটার কাছে কেন যেতে পারবে না?
এখন ওকে এসব কিছু জিঙ্গেস করা ঠিক হবে না। এমনিতেই অনেক কান্না করছে। (মনে মনে….)

এখন রোডের মাঝে বসে না থেকে কারে এসে বসো। অনেক রাত হয়ছে। এতো রাতে এভাবে রোডে থাকাটা ঠিক হবে না।
কি হলো আসতে বলছি তো!!!

সামিহার দিকে তাকিয়ে দেখি ওর রোডের মাঝে পড়ে আছে। মনে হয় অনেক কান্না করার কারনে সেন্স লেস হয়ে গেছে।
ওকে কোলে করে কারে এনে বসালাম।
কার ড্রাইভ করে বাসায় এসে সামিহাকে কোলে করে রুমে নিয়ে এসে বেডে শুইয়ে দিলাম।

যত তারাতারি সম্ভব আমাকে জান্নাতের সাথে কথা বলতে হবে।
ফ্রেস হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে চলে গেলাম।।।

কয়েক সপ্তাহ পর……

তানভীরঃ আজ জান্নাত সিয়াতের সাথে আমাদের বাসায় আসবে। সামিহা মামনির সাথে কিচেনে রান্না করছে। আমি শুধু অপেক্ষা করছি জান্নাত কখন আসবে আর আমি কখন সত্যিটা জানতে পারবো।

আমিঃ জান্নাতের পছন্দ মত সব কিছু রান্না করলাম। বলতে গেলে আমি রান্না করিনি মামনি রান্না করছে আমি শুধু মামনির সাথে একটু হেল্প করছি।

তানভীরঃ ঐ দিন পার্টির পর থেকে দুই তিন দিন সামিহা আমার সাথে কোনো কথা বলেনি।কিন্তু কিছু দিন পর সব ঠিক হয়ে গেছে।

আমিঃ হঠাৎ কলিংবেল বাজলো। আমি দৌঁড়ে গিয়ে ডোর খুলে দেখি জান্নাত আর সিয়াত ভাইয়া আসছে।

জান্নাতঃ সামিহা কেমন আছিস তুই?
সেই পার্টি থেকে আসার পর তো তোর কোনো খোঁজ খবরই নাই।

আমিঃ আমি ভালো আছি। আর তোকে দেখে তো মনে হচ্ছে তুই আমার থেকেও বেশি ভালো আছিস।

জান্নাতঃ ভালো তো থাকবোই।

আমিঃ হুম এখন ভিতরে আসেন মহা রানী। বাহিরেই দাড়িয়ে থাকবেন নাকি।
সিয়াত ভাইয়া ভিতরে আসো।

সিয়াতঃ তাহলে আমার কথা মনে আছে তোমার? আমি তো ভাবলাম ফ্রেন্ডকে পেয়ে আমাকে ভুলেই গেছ।
আর তানভীর কেমন আছিস তুই?

তানভীরঃ হুম ভালোই। তোর কি খবর?

সিয়াতঃ এনগেজমেন্টের পর থেকে তো আমার সব সময় তেরোটার খবরই দেখা যাচ্ছে।

জান্নাতঃ তেরোটার খবর মানে?
কি বললা তুমি?

সিয়াতঃ আমি আবার কখন কি বললাম? এই তানভীর সামিহা আমি কি কিছু বলছি?

আমিঃ জান্নাত সিয়াত ভাইয়া কখন কি বললো?

জান্নাতঃ শেষে তুই ও সিয়াতের পক্ষ নিলি।

মামনিঃ (কিচেন থেকে এসে) অনেক হয়ছে এখন চলো সবাই।।।।

তানভীরঃ সবাই এক সাথে লাঞ্চ করে। এখন হলরুমে বসে গল্প করছে আর টিভি দেখছে। আমার জান্নাতের সাথে একা কথা বলতে হবে।
সবাই টিভি দেখ ছিল আমি জান্নাতকে ইশারায় ডেকে এদিকে আনলাম।

জান্নাতঃ কিছু বলবেন ভাইয়া?

তানভীরঃ ঐদিন কি হয়েছিল প্লিজ একটু বলো।আমার জানাটা খুব জরুরি।

জান্নাতঃ ঐদিন কি হয়েছিল ওটা বলার জন্যই আজ আমি আপনাদের বাসায় আসছি।

ঐদিন যে দিন সামিহাদের বাসায় আলিফ ভাইয়ার আসার কথা ছিল…….।।।

বাবাইঃ কি হলো মামনি কখন আসবে আলিফ? দুপুর পার হয়ে বিকেল হয়ে গেল কোথায় ও।
আলিফ কি আসবে না?

সামিহাঃ আসবে বাবাই।ও আমাকে অনেক ভালোবাসে।
কখন থেকে ওর ফোনে ট্যাই করছি। কিন্তু ফোন সুইচ অফ আসছে।

ফোন সুইচ অফ বলছে কেন। এখন তো আমার একটু টেনশন হচ্ছে। কোথায় আলিফ?( মনে মনে…)

আননোউন নম্বর থেকে ফোন আসলো।
আমি ফোন রিসিভ করলাম।

হ্যালো কে বলছেন?

ঐ পাশ থেকেঃ আপনি কি মি.আলিফের রিলেটিভ?

সামিহাঃ হুম। কিন্তু আপনি কে বলছেন?

ঃ আমি ইনেকপেক্টর জামান বলছি মি. আলিফের এক্সিডেন্ট হয়েছে। ওনি এখন সিটি হসপিটালে আছেন। মি. আলিফের ওয়ালেটে ওনার আইডি কার্ড ছিল তার থেকেই আমরা ওনার নাম জানতে পেরেছি। আর ওনার কল লিস্টে লাস্ট নম্বরটা আপনার ছিল তাই আপনাকে জানালাম।ওনার কিটিক্যাল কন্ডিশন ডক্টর কিছু বলতে পারছেন না। আপনারা যত দ্রুত সম্ভব হসপিটালে চলে আসুন।

সামিহাঃ হাত থেকে ফোন পড়ে গেল। ফ্লোরে বসে পড়লাম। আমি আমার নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

বাবাইঃ কি হয়েছে মামনি। কার ফোন ছিল। কি বলছে?

সামিহাঃ বাবাই আলিফ আ……
এটুকু বলার পর আমার আর কিছু মনে নেই।

হসপিটালে আমার সেন্স আসলে।আমি সাথে সাথে আলিফকে দেখতে চাই। কিন্তু কেউ আমাকে আলিফের কাছে যেতে দিচ্ছিল না।
বাবাই আমাকে আলিফের কাছে নিয়ে যাও।আলিফ কোথায়। আমি আলিফের কাছে যাবো।

আমি দৌড়ে ক্যাবিন থেকে বের হয়ে ডক্টরের কাছে এসে আলিফের কথা জানতে চাইলাম। ডক্টর কোনো কথা বলছে না কেন। আমার আলিফ কোথায়। আর ইনেকপেক্টর কেন বললো ওর এক্সিডেন্ট হয়েছে।

আলিফের বাবাঃ ডক্টর আমার ছেলে এখন কেমন আছে। ও ঠিক হয়ে যাবে তো?

ডক্টরঃ সরি আমরা ওনাকে বাঁচাতে পারিনা। মাথায় অতিরিক্ত আঘাত লাগার কারনে অনেক ব্লিডিং হওয়ায়।
আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি কিন্তু……..

আলিফের বাবাঃ কি বলছেন এসব ডক্টর?

সামিহাঃ কি সব যা তা কথা বলছেন। আমার আলিফের কিছু হতে পারে না। আমি ওকে দেখব।ও কোথায়?
আমাকে আলিফের কাছে নিয়ে যান।( কান্না করে…)

জান্নাতঃ সামিহা শান্ত হ প্লিজ।

সামিহাঃ দেখ না জান্নাত সবাই এমন কেন করছে। কেউ আমাকে আলিফের কাছে যেতে দিচ্ছে না।
আর ডক্টর এসব কি বলছে?

ডক্টরঃ আপনারা সবাই আমার সাথে আসুন।

সামিহাঃ আলিফকে একটা বেড়ে শুইয়ে রাখছে। ওর গায়ের সাদা শার্ট রক্তে লাল হয়ে গেছে।। আমি আস্তে আস্তে ওর কাছে এগিয়ে আসলাম। আলিফ এই আলিফ ওঠ না।দেখো সবাই কি বলছে।
তুমি ওঠে ওদের সবাইকে বলে দাও তুমি তোমার সামিহাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারো না।
তোমার তো আজ আমাদের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল।
তাহলে তুমি এখানে এভাবে শুয়ে আছ কেন।
ওঠ না প্লিজ ওঠ।
আমার কিন্তু এখন আর ভালো লাগছে না। অনেক ফান হয়ছে এখন ওঠ।

বাবাইঃ মামনি চুপ কর প্লিজ আলিফ আর উঠবে না।

সামিহাঃ কি বলছো এসব বাবাই। আলিফ কেন উঠবে না? ও আমাকে অনেক ভালোবাসে ও আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না।(চিৎকার করে….)

আলিফের কাছে গিয়ে ওকে ঝাকাতে ঝাকাতে। তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারো না।তুমি বলেছিলে তুমি সব সময় আমার কাছে আমার পাশেই থাকবে।
তাহলে আজ কেন তুমি আমাকে একা রেখে চলে গেলে।প্লিজ আলিফ ওঠ আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।

তানভীরঃ আলিফ বেঁচে নেই ও মারা গেছে?
জান্নাতঃ হুম। আলিফ ভাইয়া মারা গেছে।

আলিফ ভাইয়া সামিহাদের বাসায় আসার সময় রোডের একপাশ থেকে সামিহার জন্য ওর পছন্দের ফুল নিতে গেছিল। ঠিক তখনই পিছন থেকে একটা ট্রাক এসে…..

তানভীরঃ সামিহা ওর ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়ে ফেললো। ও তো ওর ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার আগেই ওর সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।

জান্নাতঃ আলিফ ভাইয়া মারা যাওয়ার পর সামিহা নিজেকে এক ঘোরে করে নিছিল।কারো সাথে কথা বলতো না। এমন কি নিজের রুম থেকে ও বের হতো না।
হাসতে ভুলে গেছিল। নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে হারানোর কষ্ট ও সহ্য করতে পারেনি।ও কথা বলতে ও ভুলে গেছিল। আঙ্কেল আন্টির সাথেও কোনো কথা বলতো না। ওর অবস্থা দিনে দিনে খারাপ হচ্ছিল।

তানভীরঃ তাহলে ও আমাদের বিয়েতে রাজি হলো কেন। আর ওর ঠিক হলোই বা কি করে?

চলবে……

first love….
Samira Afrin Samia (nipa)
Part: 22

জান্নাতঃ আঙ্কেল ওনার একমাত্র মেয়েকে নিজের চোখের সামনে এভাবে দেখতে পারছিলো না। যার কারনে আঙ্কেলের একটা বড় স্টোক হয়ে যায়।ওনি প্রায় মারা যেতে যেতে বেঁচে যান।ডক্টর বলছিল আঙ্কেল কোনো বিষয় নিয়ে টেন্স হলে প্যারালাইজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সামিহা ওর বাবাইয়ের জন্য আবার হাসতে শুরু করলো।নিজের কষ্ট গুলোকে নিজে মাঝেই চেপে রাখলো। ওর বাবা মার জন্য আবার আগের মতো হাসতে খেলতে শুরু করলো।ও তো ওর বাবাইকে অনেক ভালোবাসে। ওর জন্য ওর বাবাইয়ের কিছু হোক এটা ও চাইত না।নিজের কষ্ট গুলো কখনও কারো সাথে শেয়ার করেনি। ওকে দেখে কেউ বলতেই পারবে না। ওর মনের মাঝে এতো কষ্ট লুকিয়ে রাখছে।সামিহা এখনও আলিফকে ভুলতে পারেনি।এখনও আলিফকে ভালোবাসে। কিন্তু এখন আলিফের কথা মনে হলে আর কান্না করে না। আলিফ সব সময় ওর মুখে হাসি দেখতে চাইত।তাই হাজার কষ্টের পর ও সামিহার মুখ থেকে হাসি ফুরোয় না।

তানভীরঃ সামিহার দিকে তাকিয়ে দেখলাম টিভিতে কার্টুন দেখছে আর হাসতে হাসতে তুহির উপর পড়ে যাচ্ছে।
মাঝে মাঝে সামিহাকে একদম ছোট বাচ্চাদের মত লাগে।

যাকে এতটা ভালোবাসতো তাকে হারানোর কষ্টটা অনেক। কিন্তু ওকে দেখে আমি কখনও বুঝতেই পারিনি ওর মনে এতো কষ্ট লুকানো আছে।

আমি তোমার first love না হলেও তুমি আমার first love। আমি তোমাকে আর কোনো কষ্ট পেতে দিব না। কোনো কষ্ট তোমাকে স্পর্শ করবে তো দূর তোমার আসে পাশেও আসতে পারবে না। আমার ভালোবাসা দিয়ে আমি তোমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দিব।তুমি আমাকে ভালোবাসতে না পারো তাতে কি আমার ভালোবাসাই আমাদের সুখে থাকার জন্য যথেষ্ট। তোমার আলিফকে ভুলতে হবে না। কারণ First love কখনও ভুলা যায়না। কিন্তু আমি তোমাকে এতোটা ভালোবাসবো যাতে করে তুমিও আমাকে না ভালোবেসে থাকতে পারবে না। তুমি আমাকে ভালোবাসতে বাধ্য হবে।( মনে মনে….)

আমিঃ (জান্নাত সেই কখন থেকে তানভীরের সাথে যেন কি কথা বলছে)
ওই শাঁকচুন্নি কখন থেকে ঐখানে দাঁড়িয়ে কি এত কথা বলছিস?
এখানে আয় ফইন্নি।

জান্নাতঃ কেন রে তোর হাজব্যান্ডের সাথে কথা বলছি তাই এরকম জ্বলছিস নাকি?

আমিঃ তোর ইচ্ছে থাকলে আমি নিজে ঐ উল্লুকটাকে তোকে দিয়ে দিব।
নিবি নাকি তা বল?

জান্নাতঃ চুপ কর ফইন্নি। আমার আর কাউকে লাগবে না।
কেমন মেয়ে তুই নিজের হাজব্যান্ডকে অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার কথা বলছিস।
ফইন্নি হাজব্যান্ডের প্রতি কোনো মায়া দয়া প্রেম ভালোবাসা বলতে কিছুই নাই।

আমিঃ উহু কি আমার হাজব্যান্ড।এমন ইংরেজ হাজব্যান্ড থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।(মনে মনে…)

তানভীরঃ একদিন তুমি তোমার এই ইংরেজ হাজব্যান্ডকেই নিজের থেকে বেশি ভালোবাসবে।এমনকি আলিফের থেকেও বেশি।আমি আজ থেকেই তোমার মনে আমার জন্য ভালোবাসার বীজ বুনতে শুরু করবো। তুমি আমাকে না ভালোবেসে কোথায় যাবে?( মনে মনে….)

রাতে……..

আমিঃ(বালিশ আর চাদর নিয়ে সোফায় যাচ্ছি এমন সময়…..)

তানভীরঃ কোথায় যাও?

আমিঃ সোফায়।

তানভীরঃ কেন?

আমিঃ কেন কি। আপনি বেডে শুয়ে আছেন। আমি কোথায় শুব?

তানভীরঃ এই বেডটা যথেষ্ট বড় তুমিও এখানে শুতে পারবে।

আমিঃ আমি আপনার সাথে এক বেডে শুব না।

তানভীরঃ না।তুমি আজ বেডেই শুবে।

আমিঃ তাহলে আপনি সোফায় যান।

তানভীরঃ কেন? আমিও বেডেই শুব।

আমিঃ কি আজব!! আপনি আপনার বেডেই ঘুমান তো। আমার বেড লাগবে না।

তানভীরঃ আজ তুমিও বেডে শুবে আর আমিও।

আমিঃ কি নাটক শুরু করলেন বলেন তো?

তানভীরঃ কোনো নাটকই শুরু করিনি।
আমি বেডে শুব আর আমার বউ সোফায় শুবে এটা আমি হতে দিতে পারি না। এখন আসো। আর সোফায় না বেডে শুয়ে যাও।

আমিঃ আপনি কেন এসব নাটক করছেন?
আমি তো বলছি আপনাকে ভালোবাসি না।

তানভীরঃ আমি কি তোমাকে বলছি আমাকে ভালোবাসতে? তোমার ভালোবাসা আমার লাগবে না। আমার ভালোবাসাই যথেষ্ট।

আমিঃ আমি আলিফকে…
(কথাটা বলার আগেই তানভীর আমার দুই হাত ওর দুই হাতে মধ্যে নিয়ে বলতে শুরু করে দিল)

তানভীরঃ আমি তোমার অতীত সম্পর্কে কিছু জানতে চাই না। তোমার লাইফে কি হয়েছে না হয়েছে তা এখন জেনে আমি কিছু করতে পারবো না। কিন্তু বর্তমানে তোমাকে নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে চাই। প্লিজ সামিহা আমাকে একটা চান্স দেও।

আমিঃ আপনাকে দেওয়ার মতো আমার মনে একটুও ভালোবাসা নেই। আমার মনে যেটুকু ভালোবাসা ছিল সব আলিফকে দিয়ে এখন আমার কাছে আর কিছুই বাকি নেই।

তানভীরঃ তোমার ভালোবাসা আমার চাইনা।কিন্তু তুমি আমার ভালোবাসা প্রত্যাখান করতে পারবে না।

আমিঃ আপনি আমাকে নিয়ে সুখী হতে পারবেন না। আমি কোনো দিনও আপনাকে আমার মনে জায়গা দিতে পারবো না। কখনও আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না।

তানভীরঃ তা পরে দেখা যাবে। তুমি আমার সাথে থাকলে আমি এমনিতেই সুখী হবো। কে কখন কার মনে জায়গা করে নেয় তা কেউই বলতে পারে না। তোমার মনেও আমার জন্য একদিন না একদিন ঠিকই ভালোবাসা জন্ম নিবে। তুমি তোমার অতীতটাকে আকড়ে ধরে বাঁচতে চাইছ। যা তোমার লাইফ থেকে চলে গেছে তা আর কখনও ফেরত আসবে না। আর তুমি এখনও এমন কাউকে ভালোবাসো যাকে তুমি আর কখনও পাবে না। আলিফ তোমাকে সব সময় সুখী দেখতে চাইছিল। সব সময় তোমার মুখে হাসি দেখতে চাইত। যে হাসিটা তোমার মন থেকে আসতো।

তোমাকে এভাবে দেখে আলিফ কি কষ্ট পাচ্ছে না?

আমিঃ কি বলবো আমি? ওনি তো ভুল কিছু বলছেন না।( মনে মনে…)

(আমি ওনার হাত থেকে আমার হাত সরিয়ে নিয়)

আমি ভালোবাসায় বিশ্বাস করি না।আগে জানতাম সত্যিকারের ভালোবাসা কখনও হারায় না।
কিন্তু আমি তো আলিফকে হারিয়ে ফেলছি।আল্লাহ সত্যিকারের প্রেমিক প্রেমিকা কে কখনও আলাদা করেন না। তাহলে আমাদের কেন আলাদা করে দিল।আমাদের ভালোবাসা কি সত্যি ছিল না?

তানভীরঃ আমি তোমার ভাগ্যে ছিলাম তাই হয়ত আল্লাহ তোমার থেকে আলিফকে আলাদা করে দিছেন। ভাগ্যকে কেউ কখনও বদলাতে পারে না। আমার ভাগ্যে তুমি ছিলে। আর তাই তো তোমাকে আমার জীবন সাথী হিসেবে পেয়েছি।

এভাবে কয়েক মাস কেটে গেল…….

জান্নাতঃ তুই কি সত্যিই তানভীর ভাইয়াকে ভালোবাসিস না?

আমিঃ জানু সব কিছু জানার পরও তুই এই কুয়েশন করছিস।আমি শুধু আলিফকেই ভালোবাসি।

জান্নাতঃ আমি জানি তুই আলিফ ভাইয়াকে ভালোবাসতি।কিন্ত এখন আমার মনে হয় তুই তানভীর ভাইয়াকে ভালোবাসিস।

আমিঃ তুই এসব নিয়ে কথা বললে আমি আর কোনো দিনও তোর বাসায় আসবো না।

জান্নাতঃ আরে রাগ করিস কেন?
তানভীর ভাইয়া তোকে অনেক ভালোবাসে।তানভীর ভাইয়া অনেক ভালো মনের মানুষ।

আমিঃ আমি তো খারাপ বলিনি। কিন্তু আমি ওনাকে ভালোবাসতে পারবো না।

জান্নাতঃ তানভীর ভাইয়া তোর মনে জায়গা করে নিছে।
তুই ঠিকই একদিন তানভীর ভাইয়াকে ভালোবাসবি।আর ঐ সময়টা বেশি দূর না।(মনে মনে…)

আমিঃ জান্নাতের বাসা থেকে বিকেলে বাসায় চলে আসলাম।

মামনিঃ সামিহা আমি আর তোর বাবা কিছু দিনের জন্য আমাদের গ্রামের বাড়িতে যাবো। ওখানে আমাদের জমি নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে।

আমিঃ কবে যাবে মামনি?

মামনিঃ আজ রাতের ট্রেনেই যাবো।তুহির এক্সাম শেষ তাই তুহিকে ও সাথে করে নিয়ে যাবো।

আমিঃ তাহলে আমি কি বাসায় একা থাকবো?
আমাকে ও তোমাদের সাথে নিয়ে যাও।

মামনিঃ ধুর পাগলী তুই একা কেন থাকবি।তানভীর ও তো থাকবে। আর তোকে নিয়ে গেলে তানভীর কি বাসায় একা থাকবে?

আমিঃ তোমার ছেলে তো সারা দিন অফিসেই থাকে। বাসায় তো আমি একাই থাকবো।

মামনিঃ আমি তানভীরকে বলে দিব এই কিছু দিন যেন তারাতারি অফিস থেকে চলে আসে।

আমিঃ আচ্ছা।

তানভীরঃ সন্ধ্যার দিকে বাবা মামনি তুহি গ্রামের উদেশ্যে রওনা দিল। আমি গিয়ে সবাইকে ট্রেশনে দিয়ে আসলাম।

আমিঃ মামনি রাতের জন্য রান্না করে রেখে গেছে। মামনি তো জানে আমি রান্না করতে পারি না।
ধুর ভালো লাগে না। মামনি আমাকে কেন সাথে করে নিয়ে গেল না?

সকালে…….

তানভীরঃ সেই কখন থেকে কিচেনে কি করছো।তুমি কি রান্না করতে পারো?

আমিঃ এতো চেচাঁমেচি করেন কেন রান্না করতে সময় লাগে। মুখে বললে তো আর রান্না হয়ে যায় না। খেতে হলে চুপচাপ বসে থাকেন। একদম কোনো কথা বলবেন না।

তানভীরঃ যা বাবা কি এমন বললাম আমি।এতো রাগ দেখাচ্ছে কেন?

আমি গিয়ে দেখিতো কিচেনে এতহ্মন কি করছে।
কিচেনে এসে দেখি। যা অবস্থা করছে কিচেনের মনে হয় না জীবনে কোনো দিন কিচেনে গেছে।(মনে মনে…)

জীবনে কোনো দিন ও কারো জন্য কিছু রান্না করছো বা কোনো দিন কিচেনে আসছো?

আমিঃ আমি কেন কারো জন্যে কিছু রান্না করতে যাবো। আম্মু আমাকে কিচেনে যেতে দিলে তো রান্না যাবো।

তানভীরঃ বড় লোক বাবার একমাত্র মেয়েদের একটাই প্রব্লেম কোনো কাজ নিজে করতে পারে না।( বিরবির করে…)

আমিঃ কিছু বললেন কি?

তানভীরঃ না তো।।।

আমিঃ আপনাদের বাসায় রান্না করার লোক রাখেন নাই কেন?

তানভীরঃ তোমার শাশুড়ি মা কোনো কাজের জন্য কোনো লোক রাখতে দিলে তো রাখবো।

আমিঃ এখন কি আমার না খেয়ে থাকতে হবে?

তানভীরঃ তুমি যাও আমি কিছু একটা বানিয়ে দেই।

আমিঃ আপনি রান্না করতে জানেন নাকি?

তানভীরঃ একটু একটু তো জানিই। মানুষে খেতে পারবে এমন কিছু একটা করে দিতে পারবো।

আমিঃ আমিও রান্না করতে জানি। আমি কি আপনাকে বলছি কিচেনে আসতে। আপনি তো নিজে থেকেই আসছেন। আমার রান্না ও মানুষে খাওয়ার উপযোগী হয়।

তানভীরঃ দেখতেই তো পারছি কেমন রান্না করতে জানো।সেই তিন ঘন্টা অবধি শুধু একটা ডিমই ভাজছ।এখনও তোমার ডিম ভাজা হলো না।
তুমি রান্না করলে আজ আমাদের দু’জনকেই না খেয়ে থাকতে হবে।

আমিঃ একটু রান্না পারেন বলে এতো কথা। বাসায় রান্না করার জন্য লোক রাখলেই তো হতো এতো কাহিনীর প্রয়োজনই হতো না।

তানভীরঃ তুমি এখন কিচেনের বাহিরে যাও।আর ড্রেস চ্যান্জ করে নেও।রান্না করছো নাকি ড্রেস নষ্ট করছো আল্লাহই জানে।

আমিঃ রান্না করার থেকে কঠিন কাজ পৃথিবীতে আর কিছু নেই।(কিচেন থেকে বের হতে হতে)

ডাইনিং টেবিলে বসে ব্রেক ফাস্ট করছি।।।

ভালোই তো রান্না করতে জানেন। তা কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের সেফ ছিলেন। নাকি লন্ডনে লোকের বাসায় রান্নার কাজ করতেন?

তানভীরঃ কোনো হোটেল বা লোকের বাসায় কাজ করতাম না। মাঝে মাঝে নিজের জন্য রান্না করতাম। আর নিজের কাজ নিজে করা কোনো লজ্জার বিষয় না। অন্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের কাজ নিজে করাটাই সবচেয়ে ভালো।

তোমার কাছে আমার রান্না ভালো লাগছে এটাই অনেক।
(এটা বলে খাবার রেখে উঠে গেলাম)

আমিঃ আরে আরে।।। কোথায় যাচ্ছেন?
আপনি তো কিছুই খেলেন না।
না খেয়ে উঠে গেলেন কেন?

তানভীরঃ আমার খাওয়া হয়ে গেছে। আমি অফিসে গেলাম। তুমি মেইন ডোর লাগিয়ে দিয়।
আর বাসায় একা থাকতে পারবে তো?

আমিঃ হুম পারবো।

আমার কথা গুলো শুনে রাগ করে না খেয়েই উঠে গেল। আমি তো মজা করে কথা গুলো বলেছিলাম।ওনি রাগ করবেন তা তো আমি ভাবতেই পারিনি।
(মনে মনে….)

তানভীরঃ (কার ড্রাইভ করছি) এত কষ্ট করে ওর জন্য রান্না করছি। আর ও কি বললো। আমি কোনো হোটেলের সেফ ছিলাম নাকি লোকের বাসায় রান্না করছি।
আমার ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই ওর কাছে।
সামিহা কি আমার ভালোবাসা কোনো দিন ও বুঝবে না?

চলবে……