first love Part-23+24

0
602

first love….
Samira Afrin Samia (nipa)
Part: 23+24

আমিঃ সারা দিন এতো বড় বাসায় আমি একা।টিভি আর ফোন নিয়ে কতহ্মন থাকা যায়। দুপুরে কি খাবো।কি দিয়ে কি রান্না করে কিছুই তো জানি না। কোনো রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার আনাবো তার ও কোনো উপায় নেই। টাকা ছাড়া তো আমাকে কেউ এমনিতেই খাবার দিবে না। আজ মনে হয় আমার কপালে খাবার জুটবে না। কি আর করবো ছাদে গিয়ে বাতাস খেয়ে পেট ভরতে হবে।

তানভীরঃ অফিসে লাঞ্চ টাইমে সামিহার কথা মনে হলো। ও তো বাসায় একা আছে। রান্না ও করতে জানে না। না খেয়ে আছে মনে হয়।

আমিঃ ছাদে দোলনায় বসে আছি। আল্লাহ খোদাই পেট চোঁচোঁ করছে। মনে হয় পেটের ভেতরের ইঁদুরের বাচ্চা গুলো না খেতে পেয়ে মারা গেছে।
হঠাৎ কলিংবেল বাজার শব্দ পেলাম। এমন সময় আবার কে আসবে। চোর ডাকাত না তো?
ধুরর কি ভাবছি,,, এমন দিনের বেলা চোর ডাকাত কি বাসায় আসার জন্য কলিংবেল চাপবে।
নিচে এসে মেইন ডোর খুলে একজন লোককে দেখতে পেলাম।

লোকটাঃ এটা কি মি.তানভীর চৌধুরীর বাসা?
আমিঃ হুম।। কেন?
লোকটাঃ এই পার্সেলটা ওনার ওয়াইফ সামিহা চৌধুরীর জন্য। স্যার পাঠিয়েছেন।
আমিঃ আমিই ওনার ওয়াইফ। পার্সেলটা আমাকে দিন।
লোকটাঃ ম্যাম এখানে আপনার একটা সাইন লাগবে।
আমিঃ সাইন করে পার্সেলটা হাতে নিয়ে ভিতরে চলে আসলাম।
আমার জন্য আবার উল্লুকটা কি পাঠালো।কি আছে এটাতে?
খোলে দেখি তো কি আছে।

পার্সেলটা খোলে আমি তো অবাক।।।
কয়েকটা চকলেট বক্স। কিছু খাবার। আমার ফেভারিট চিংড়ি মাছ। আর একটা কার্ড। কার্ডটা খুলে দেখলাম।
কার্ডে লিখা ছিল……….

সরি সামিহা।
সকালে তোমার সাথে ওই রকম ব্যাবহার করার জন্য। আমি জানি তুমি কথা গুলো মজা করে বলেছিলে। কিন্তু হঠাৎ করে কথা গুলো শুনে আমার রাগ উঠে গেছিল। তুমি না খেয়ে আছো ভেবে তোমার জন্য কিছু খাবার পাঠিয়ে দিলাম খেয়ে নিও।

কার্ডের লিখা গুলো পড়ে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।কোথায় আমার সরি বলার কথা ছিল।কিন্তু এখানে তো পুরো ঘটনাটাই উল্টো হলো।ওনি আমাকে সরি বলছেন। নিজের কোনো দোষ না থাকতে ও ওনি আমাকে সরি বললেন। এক এক সময় আমি বুঝে উঠতে পারি না। মানুষটা খারাপ নাকি ভালো।

এখন এতো কিছু না ভেবে আগে খেয়ে নেই। এমনিতেই পেটের ভেতরের ইঁদুরের বাচ্চা গুলো মারা গেছে। একটু পর বড় ইঁদুর গুলো ও মারা যাবে।

বিকেলে কিছুহ্মন শুয়ে ছিলাম। তার পর ছাদে গিয়ে বিকেলের পরিবেশটাকে উপভোগ করতে লাগলাম। সূর্য দূর আকাশে হেলে পরেছে। চারিদিকে হালকা অন্ধকার অন্ধকার ভাব।খোলা আকাশে উড়ে বেড়ানো পাখি গুলো দিনের শেষে নিজ নিজ বাসায় তাদের বাচ্চাদের কাছে খাবার নিয়ে যাচ্ছে।

রাত প্রায় আটটা পর্যন্ত ছাদে ছিলাম। একটু একটু ভয় লাগতেছিল তাই রুমে এসে গেলাম। কখন আসবেন ওনি।সারাটা দিন একটা ফোনও দিল না। এতো কিপ্টা ফোনের টাকা শেষ হয়ে যাবে তাই বলে কি একটা বার ও আমার খোঁজ নিবে না। বাসায় আমি একা আছি তার কোনো খেয়ালই নেই।

রাতে কখন ঘুমিয়ে গেলাম তা আমি নিজেও জানি না।।
রুমে কিছু একটা আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল।চোর আসলো নাকি বাসায়। ওয়াশরুমে গেল নাকি চোরটা।চোরের বাসায় কি ওয়াশরুম নেই?

তানভীরঃ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখি। সামিহা বেডে বসে দাঁত দিয়ে নখ কাটছে আর কি যেন ভাবছে।
সামিহার সামনে এসে।
এতো কি ভাবছো?

আমিঃ আপনি কখন আসলেন। আর চোরটা কোথায়?

তানভীরঃ আমি তো সেই কখনই আসছি।কোন চোরের কথা বলছো।বাসায় কি চোর আসছিল?

আমিঃ বাসায় একটা চোর আসছিল। মনে হয় চোরটার বাসায় ওয়াশরুম নেই। তাই আমাদের ওয়াশরুমে গেছিল।

তানভীরঃ সামিহার কথা শুনে হাসি আটকে রাখতে কষ্ট হচ্ছে। চোর বাসায় এসে চুরি না করে ওয়াশরুমে গেছে। চোরের বাসায় নাকি ওয়াশরুম নেই।(মনে মনে…)

আমিঃ আপনি ওয়াশরুম থেকে বের হলেন তাহলে চোরটা কোথায় গেল?

তানভীরঃ বাসায় কোনো চোর আসেনি। আমি আসছি আর তুমি আমার বাসায় আমাকেই চোর বানিয়ে দিলা।
আমার কাছে বাসার ডুপ্লিকেট চাবি ছিল। এটা দিয়েই ভিতরে আসছি। তুমি ঘুমিয়ে ছিলা তাই আর তোমাকে ডাকি নি।

আমিঃ ওহ তাহলে ওয়াশরুমে চোর ছিলনা। আপনি ছিলেন।

আচ্ছা নিচে আসুন আমি আপনার জন্য ডাইনিং টেবিলে খাবার দিচ্ছি।
(এটা বলে রুমে থেকে বের হয়ে নিচে চলে আসলাম)

তানভীরঃ নিচে এসে আমি আমার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। চিংড়ি মালাইকারি,চিংড়ি মাছের পাতুরি,রুই মাছের কালিয়া,পালং ইলিশ,চিকেন। এতো খাবার তো সামিহা জীবনেও রান্না করতে পারবে না। আর এই খাবার গুলো কোনো রেস্টুরেন্টে ও পাওয়া যাবে না।
তাহলে খাবার গুলো আসলো কোথা থেকে?

আমিঃ এভাবে হা করে খাবারের দিকে তাকিয়ে আছেন কেন। দাঁড়িয়ে থাকবেন নাকি খেতে বসবেন।

তানভীরঃ (চেয়ার টেনে বসে) এতো খাবার কই পাইলা।কার বাসা থেকে চুরি করছ?

আমিঃ (কোমরে হাত দিয়ে রাগী লুক নিয়ে ওনার দিকে তাকিয়ে) আমাকে কি আপনার চুন্নি মনে হয়?

তানভীরঃ না। তা না। কিন্তু এই খাবার গুলো তো তুমি রান্না ও করতে পারবে না। তাহলে খাবার গুলো আসলো কোথায় থেকে?

আমিঃ আপনি এমন কেন ভাবছেন খাবার গুলো আমি রান্না করতে যাবো।আমি রান্না করিনি।
পাশের বাসার আন্টি দিয়ে গেছে। দুপুরে মামনির সাথে দেখা করতে আসছিল। এসে দেখলো মামনি বাসায় নেই। আন্টি হয়ত বুঝতে পারছে আমি রান্না করতে জানি না। তাই রাতে এই খাবার গুলো দিয়ে গেছে।
আপনি না খেলে বলুন আমি একাই খেয়ে নিব।আমার অনেক খোদা লাগছে।

তানভীরঃ এতো খাবার তুমি একা খেতে পারবে?

আমিঃ দেখুনই না খেতে পারি কি না।

আচ্ছা আপনি আমাকে সরি বলেছেন কেন।সরি তো আমার বলা উচিত ছিল।আমি সকালে কথা গুলো ওভাবে বলতে চাইনি।আমি আপনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য কথা গুলো বলিনি।(খেতে খেতে)

তানভীরঃ আমি জানি তুমি আমাকে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছেতে কথা গুলো বলোনি।
আর আমি তোমাকে সরি বলছি। কারণ আমার বুঝা উচিত ছিল তুমি মজা করছ।রাগ করাটা আমার ভুল ছিল তাই তোমাকে সরি বলছি। আমি আর কখনও তোমার কোনো কথাতেই রাগ করবো না।

আমিঃ একটা মানুষ এতোটা ভালো হয় কি করে। আমি ওনাকে কত জ্বালিয়েছি।ওনাকে ভুল বুঝেছি কষ্ট দিছি।
আর ওনি কি না….

তানভীরঃ এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে আমি খাবো কি করে? আমার বুঝি লজ্জা লাগে না।( নিচের দিকে তাকিয়ে খেতে খেতে কথাটা বললো)

আমিঃ এখনতো ওনার কথা শুনে আমিই লজ্জা পেয়ে গেলাম।
আমিও একটা আস্ত পাগলী এভাবে ওনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কি ভাববেন ওনি?(মনে মনে…..)

তানভীরঃ তুমি তোমার হাজব্যান্ডের দিকে তাকিয়ে থাকবে। তাতে আমি কেন কিছু ভাববো।(খেতে খেতে)

আমিঃ হায় আল্লাহ। আমি তো কথা গুলো মনে মনে বলছি।ওনি শুনলো কিভাবে?(মনে মনে)

তানভীরঃ তোমার মনের সব কথা আমি শুনতে পারি। (আমার দিকে তাকিয়ে)

আমিঃ(কথা গুড়ানোর জন্য) এটাই তো ভালো হলো।আমার আর কষ্ট করে আপনাকে মুখে বকতে হবে না। মনে মনে বকা দিলেই আপনি শুনতে পাবেন।

তানভীরঃ তুমি যতই কথা গুড়াও না কেন। একদিন তুমি ঠিকই স্বীকার করবে তুমি আমাকে কতটা ভালোবাস।(মনে মনে)

কাল আমি অফিসে যাবো না। কালকে আমরা ঘুরতে যাবো। বাহিরে লাঞ্চ করে রাতের জন্য খাবার নিয়ে আসবো।আমি আর তোমাকে রান্না করে খাওয়াতে পারবো না। এখন থেকে মামনি আসলে মামনির কাছ থেকে একটু রান্না করতে শিখে নিও।ফিউচারে তোমারই কাজে লাগবে।

আমিঃ আপনি অনেক ভালো রান্না করতে জানেন। তাই ফিউচারে ও আপনিই রান্না করবেন। আমার আর কষ্ট করে শুধু শুধু রান্না শিখতে হবে না।

তানভীরঃ ফিউচারে আমি রান্না করবো?(একটু অবাক হয়ে)

আমিঃ হুম। আপনার রান্না খেতে আমার তেমন প্রব্লেম হবে না। আর আপনি রান্নার কাজ করলে মামনিরও কষ্ট কম হবে।

তানভীরঃ তুমি তো আমাদের বিয়েটা মানো না।আর আমাকেও ভালোবাসো না। তাহলে শুধু শুধু কেন আমার সাথে তোমার পুরো লাইফটা কাটাবে?

আমিঃ তাই তো। আমি তো ওনাকে ভালোবাসি না। তাহলে কেন ওনার সাথে থাকার চিন্তা করছি। যাকে ভালোবাসি না তার সাথে কেন থাকবো?( মনে মনে)

তানভীরঃ কি হলো কিছু বলো।

আমিঃ আমার ঘুম পাইছে। আমি রুমে গেলাম।

তানভীরঃ (সামিহার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হেসে)
আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো।আমার সাথে তোমার পুরো লাইফ কাটাতে চাও।এখন শুধু তোমার মুখে স্বীকার করার পালা। তুমিও যে আমাকে ভালোবাসো।

আমি রুমে গিয়ে দেখি সামিহা বেডে ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে।
সামিহা কাল মামনিরা বাসায় আসবে।

আমিঃ হুম।।।

তানভীরঃ আমি লাইট অফ করে। সামিহার পাশে গিয়ে শুয়ে গেলাম।

পরের দিন……..
আমিঃ আজ সারা দিন অনেক ঘুরে দুপুরে একটা রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করে। বিকেলের দিকে একটা পার্কে গেলাম। পার্কের চার পাশে অনেক ক্যাপেল আছে।মনে হয় এখানে সিঙ্গেলরা খুব কমই আসে।
অনেক হাটছি আর হাটতে পারবো না। আমি দাঁড়িয়ে গেলাম।

তানভীরঃ কি হলো এখানে দাঁড়িয়ে গেলে কেন?
আমিঃ আমি আর এক পা ও হাঁটতে পারবো না।(এটা বলে পাশের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম)
তানভীরঃ হাঁটতে না পারলে আর কি করবো?
আমিঃ ওনি আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
এখন কি ওনি আমাকে ফ্লিমের হিরোদের মতো সবার সামনে কোলে তুলে নিবেন। (মনে মনে)

তানভীরঃ কি সব যা তা ভাবছো।আমি কোনো ফ্লিমের হিরো না আর তুমিও কোনো হিরোইন না সুতরাং তোমাকে কোলে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না।

আমিঃ কি আপনাকে কখন বললাম আমাকে কোলে নেওয়ার কথা।( মুখ ভেংচি দিয়ে)

তানভীরঃ মুখে বলোনি কিন্তু মনে মনে তো বলছো।

আমিঃ আপনি আমার মনের কথা শুনেন কেন? যতসব ঢং।আর আপনি চাইলে ও ফ্লিমের হিরো হতে পারবেন না।

তানভীরঃ হতে পারবো কি না পারবো তা তুমিও খুব ভালো করেই জানো।
আর আমার এত শখ নেই তোমার মত আটার বস্তাকে কোলে নেওয়ার।
মনে মনে এসব উল্টা পাল্টা চিন্তা করা অফ করো।

আমিঃ( বসা থেকে দাঁড়িয়ে) কি…. আপনি আমাকে আটার বস্তা বললেন?আমি আর এক মূহুর্ত ও এখানে থাকবো না। আমি একাই বাসায় চলে যাবো। (এটা বলে পার্ক থেকে বের হয়ে মেইন রোড দিয়ে হাটতে লাগলাম)

তানভীরঃ যাহ আবার রাগ করলো।আমি সব সময় কেন একটু বেশি কথা বলি।

সামিহার পিছন পিছন যেতে লাগলাম। আরে হেঁটে যাচ্ছ কেন। আমার কার নিয়ে যাও।আমি না হয় হেঁটে বাসায় যাবো।

আমিঃ আমার আপনার কারের কোনো প্রয়োজন নেই। আমি হেঁটেই যেতে পারবো।
হঠাৎ করে পিছনে কিসের যেন আওয়াজ হলো।পিছন ফিরে দেখি। অনেক লোক ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে। কি হলো ওখানে। আর ওনিই বা কোথায় গেলেন?

আমি ভিড়ের মাঝে লোক গুলোকে সরিয়ে দেখলাম। ওনি রাস্তায় উপর হয়ে পড়ে আছেন।রক্তে পুরো রোড ভেসে যাচ্ছে।
আমি দৌড়ে ওনার কাছে গিয়ে বসে ওনার মাথা আমার কোলে তুলে নিয়ে চিৎকার করে কান্না করতে লাগলাম।

কি হলো আপনার। আপনার এ অবস্থা কি করে হলো?
কথা বলুন।

একটা লোকঃ ওনি যেন কার পিছনে যাচ্ছিল।হঠাৎ পিছন থেকে একটা কার এসে ওনাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল।

আমিঃ ওনাকে হসপিটালে নিতে হবে। ওনাকে হসপিটালে নিতে আপনার আমাকে একটু সাহায্য করুন প্লিজ।
(কিছু লোকের সাহায্য নিয়ে ওনাকে হসপিটালে নিয়ে আসলাম। ওনি এখন ICU তে আছেন।আমি এখন কি করবো এখানের কাউকে তো ভালো করে চিনি না।কিছু ভেবে না পেয়ে বাবা কে ফোন করলাম। বাবা মামনি ট্রেশন থেকে সোজা হসপিটালে চলে আসলেন।)

মামনিঃ( দৌঁড়ে আমার কাছে এসে কান্না করতে করতে )আমার তানভীরের কি হয়েছে।ওর এ অবস্থা হলো কি করে। এখন ও কোথায় আছে?
আমি আমার তানভীরের কাছে যাবো।

আমিঃ মামনি আমি আর তোমার ছেলে আজ বাহিরে ঘুরতে গেছিল। রোড দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ পিছন থেকে একটা কার এসে …..

ডক্টরঃ এখানে মি.তানভীরের রিলেটিভ কে আছেন?

বাবাঃ আমি তানভীরের বাবা। আমাকে বলুন ডক্টর। আমার ছেলে এখন কেমন আছে। ওর কিছু হবে না তো?

ডক্টরঃ ওনার অনেক ব্লিডিং হয়েছে। ২৪ ঘন্টার আগে আমরা কিছুই বলতে পারবো না। এখন সব কিছু আল্লাহর কাছে।

আমিঃ আমার আলিফের কথা মনে হয়ে গেল। আলিফ ও আমাকে এভাবে ছেড়ে চলে গেছে। এখন কি ওনি ও আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন।
আমার জন্যই ওনার এই অবস্থা। আমি যদি রাগ করে চলে না আসতাম তাহলে ওনিও আমার পিছনে আসতেন না। আর ওনার এক্সিডেন্ট ও হতো না।(মনে মনে)
আমি কান্না করতে করতে ফ্লোরে বসে গেলাম। সব কিছু আমার জন্য হলো আজ বাহিরে ঘুরতে না গেলে এমনটা হতো না।

চলবে…..

first love….
Samira Afrin Samia (nipa)
Part: 24

তুহিঃ ভাবি তুমি নিজেকে দোষ দিয় না।তুমি কি জানতে নাকি আজ বাহিরে গেলে ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হবে। তুমি কান্না না করে ভাইয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো।

আমিঃ পুরো রাত কেটে গেল। বাবা মামনি তুহি সবাই ICU এর বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে। সকালে ডক্টর এসে বললো ওনার জ্ঞান ফিরেছে।

ডক্টরঃ একটু পর ওনাকে ক্যাবিনে শিফ্ট করা হবে। তখন আপনারা ওনার সাথে দেখা করতে পারবেন।

আমিঃ ওনি ঠিক আছেন তো। ওনার কিছু হয়নি তো?

ডক্টরঃ ২৪ ঘন্টার মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে কোমায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এখন ভয়ের কিছু নেই। ঠিক মতো খেয়াল রাখলে ওনি কিছু দিনের মধ্যেই সেরে যাবেন।

আমিঃ কিছুহ্মন পর ওনাকে ক্যাবিনে শিফ্ট করা হলো।বাবা মামনি তুহি আমি সবাই ওনাকে দেখতে ক্যাবিনে গেলাম। মাথায় ব্যান্ডেজ করা হাতে স্যালাইন লাগানো। হাতে ও মুখের কিছু অংশে ছিলে গেছে।

মামনিঃ কেমন আছিস তুই। তোর বেশি কষ্ট হচ্ছে না তো। কেমন করে হলো তোর এই অবস্থা?

তানভীরঃ (আস্তে আস্তে চোখ খোলে মামনির দিকে তাকিয়ে) আমি একদম ঠিক আছি মামনি।আমার কিছুই হয়নি। তোমরা শুধু শুধু চিন্তা করছো।

তুহিঃ ভাইয়া তুই একদম কথা বলবি না। রোডে চলার সময় চোখ কোথায় থাকে তোর। কানার মতো চলাফেরা করিস কেন?

তানভীরঃ তুই কি আমাকে শাসন করছিস?
ভুলে গেলি নাকি আমি তোর বড়। আরে পাগলী আমার কিছুই হয়নি রে আমি একদম ভালো আছি।তোরা থাকতে আমার কিছু হতে পারবে নাকি।

বাবাঃ সামিহা ঐখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন। এদিকে আয়।

তুহিঃ বাবা মামনি এখন চলো বাসায় যাই।ভাবি তো আছে ভাইয়ার সাথে। এর পর তোমরা অসুস্থ হয়ে গেলে তোমাদেরকে ও হসপিটালে ভর্তি করাতে হবে। তখন তোমাদের কে খেয়াল রাখবে।

মামনিঃ হুম চল।।
সামিহা আমরা একটু পর আবার আসবো। তুই তো কাল থেকে কিছুই খাসনি।এভাবে না খেয়ে থাকলে তুই ও তো অসুস্থ হয়ে পড়বি। তুই কিছু খেয়ে নে।

আমিঃ হুম।।।
(মামনি বাবা তুহি চলে গেল।)

তানভীরঃ সামিহাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক কান্না করছে। পুরো রাত একটু ও ঘুমোয়নি।চোখ ফুলে লাল হয়ে গেছে। এক রাতের মধ্যে কি অবস্থা করছে নিজের।(মনে মনে)
এদিকে আসো। ঐখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?

আমিঃ ওনার কাছে গিয়ে ওনার পাশে বসে ওনার হাত ধরে কান্না করে দিলাম।

তানভীরঃ (মনে হয় আমার বলার অপেক্ষাতেই ছিল। আমি বলার সাথে সাথে আমার কাছে এসে কান্না করে দিল। আমাকে ভালোবাসে ঠিকই কিন্তু প্রকাশ করবে না)
আরে কাদছ কেন?
আমি তো একদম ঠিক আছি। কিছু হয়নি আমার।

আমিঃ আমার জন্যই আজ আপনার এই অবস্থা। আমি যদি রাগ করে চলে না আসতাম তাহলে আপনার এই অবস্থা হতো না। আপনি আমাকে হ্মমা করে দিন।

তানভীরঃ তোমার জন্য কেন হবে। তুমি আমার এক্সিডেন্ট করেছ নাকি।তুমি কি আমাকে কার দিয়ে ধাক্কা দিয়েছ?

আমিঃ আমার জন্যই তো। আপনি আমার পিছনে পিছনে না আসলে এমনটা হতো না।

তানভীরঃ আগে তুমি কান্না থামাও।পরে কথা বলো।তুমি কান্না করে কথা বললে কোনো কথাই স্পষ্ট হয় না।
আচ্ছা তুমি এই জন্য কাঁদছো না তো।
আমি বেঁচে গেলাম।এখন তোমাকে আবার বিরক্ত করবো। তার থেকে তো আমি মারা গেলে কেউ আর তোমাকে ভালোবাসি ভালোবাসি বলে বিরক্ত করত না।

আমিঃ( ওনার মুখে হাত দিয়ে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলাম।)
আমার মনে হয়েছিল আপনিও আলিফের মতো আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন। আলিফ তো কথা দিয়ে কথা রাখেনি। আপনি ও কি কথা দিয়ে কথা রাখবেন না। আপনি বলেছিলেন আমাকে ছেড়ে কখনও যাবেন না।

তানভীরঃ আমি তোমাকে ছেড়ে চলে গেলে তুমি কষ্ট পাবে?

আমিঃ আমি আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।আলিফকে হারিয়েছি এখন আপনাকে হারাতে পারবো না। আপনি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে আমি বাঁচব না।

তানভীরঃ একদম এসব কথা মুখে আনবে না। আমি তোমাকে ছেড়ে কখনও কোথাও যাবো না। সারা জীবন তোমার পাশে থাকবো। মৃত্যুও আমাকে তোমার থেকে আলাদা করতে পারবে না। আমি মৃত্যুর সাথে ফাইট করে তোমার কাছে চলে আসবো।

কয়েক দিন পর হসপিটাল থেকে ওনাকে রিলিজ করে দিলে ওনাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
আমি কিচেনে ওনার জন্য সুপ আনতে গেলাম। হঠাৎ করে আননোউন নম্বর থেকে ফোন আসলো।
আমি রিসিভ করলাম।

হ্যালো কে বলছেন?

ঐ পাশ থেকে কেউ এক জনঃ আমাকে চিনতে পারছ না?

আমিঃ নাহিদ তুই?

নাহিদঃ ওহহ বাবা আমাকে এতো তারাতারি চিনে গেলা। ভুলনি আমাকে। আমার কথা তোমার মনে পড়ে না? সুইট হার্ট।।।

আমিঃ আজে বাজে কথা বলবি না। কেন ফোন দিছস?

নাহিদঃ তোমার হাজব্যান্ড কেমন আছে। বেঁচে আছে তো।এই যাত্রায় একটুর জন্য বেঁচে গেল। কিন্তু নেক্সট টাইম আর না ও বাঁচতে পারে। কারণ নেক্সট টাইম কার টা আমি ড্রাইভ করব।এ ভুল আর হবে না। কার টা সোজা তোমার হাজব্যান্ডের উপর দিয়ে যাবে।

আমিঃ কুত্তার বাচ্চা আমি তোকে খুন করে ফেলব।এসব তাহলে তোর কাজ। সাহস থাকলে সামনে আয় ভীতুর মতো লুকিয়ে আছিস কেন?

নাহিদঃ ঐদিন শপিং মলে বলেছিলাম তোমাকে আর তোমার হাজব্যান্ডকে দেখে নিব মনে নাই সুইট হার্ট?
আর সামনে তো আসবোই। সঠিক সময়ে অবশ্যই তোমার সামনে আসবো।
এখন গিয়ে দেখো তোমার হাজব্যান্ড রুমে কি করছে। ভালো করে হাজব্যান্ডের খেয়াল রেখ।কখন কি হয়ে যায় কেউ তো বলতে পারবে না।

আমিঃ (হাত থেকে ফোন পড়ে গেল। আমি দৌড়ে রুমে চলে আসলাম। রুমে এসে দেখি ওনি বালিসে হেলান দিয়ে বসে আছেন।)
আপনি ঠিক আছেন তো?

তানভীরঃ( হঠাৎ করে সামিহা রুমে এসে জিঙ্গেস করলো আমি ঠিক আছি কি না।)
আমি তো ঠিকই আছি।আমার আবার কি হবে।আর হঠাৎ করে এই কোয়েশন কেন?
ওহ বুঝতে পারছি।।।
তুমি আমাকে এতটা ভালোবাস।তুমি সারাক্ষণ আমাকে নিয়েই চিন্তা করো।আমাকে চোখের আড়াল করতে চাও না।

আমিঃ কে বললো আমি আপনাকে ভালোবাসি?
আমি তো বলিনি।

তানভীরঃ(এতকিছুর পর ও এই কথা) তুমি না বলো আমি বুঝে নিছি।

আমিঃ এত বেশি বোঝেন কেন? বেশি বুঝা স্বাস্থ্যের জন্যে হানিকারক।

তানভীরঃ(সামিহার হাত ধরে টান দিয়ে আমার কাছে এনে) তুমি কি সত্যিই আমাকে ভালোবাস না?
আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে পারবে তুমি আমাকে ভালোবাস না।

আমিঃ( ওনি হাত ধরে টান দেওয়াতে।আমি তাল সামলাতে না পেরে ওনার বুকের উপর গিয়ে পড়লাম)
ওনার দিকে তাকিয়ে যেই বলতে যাবো…..

তুহিঃ সরি সরি। আমি ভুল টাইমে এসে গেছি।( চোখে হাত দিয়ে)আমি কিছু দেখিও নি।আমি চলে যাচ্ছি।আসলে ভাবি তোমার ফোনটা নিচে পড়ে ছিল।ওটা নিয়েই আসছি।

আমিঃ তুহি হঠাৎ করে রুমে চলে আসলো।আমি ওঠে দাঁড়িয়ে গেলাম। ছিঃ ছিঃ কি ভাববে তুহি। সব কিছু ওনার জন্য। এখন আমি তুহির সামনে যাবো কিভাবে?

তানভীরঃ (আমার বোনটা সব সময় সব জায়গাতেই ভুল করে চলে আসে।)
এসেই যখন পড়েছিস তাহলে ফোটা দিয়েই যা।

তুহিঃ এই নেও ভাবি তোমার ফোন।
আর রোমান্স করার আগে দরজা অফ করে নিও।(কানের কাছে এসে)

আমিঃ আমি তো লজ্জায় লাল নীল বেগুনী হচ্ছি।

কিছু দিন কেটে গেল……..
ওনি ও সুস্থ হয়ে গেছেন। এখন রোজ অফিসে যায়। বিকেলে কফির মগ হাতে নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কফি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ফোনটা বেজে উঠলো। টেবিলের উপর মগ টা রেখে ফোন হাতে নিয়ে রিসিভ করলাম।

হ্যালো কে বলছেন?

ও পাশ থেকেঃ আমাকে ভুলে গেলা জানে মান।

আমিঃ তুই। তুই আবেগ কেন ফোন দিয়েছিস?

নাহিদঃ তোমার হাজব্যান্ড তো এখন অফিস থেকে আসেনি তাই না?

আমিঃ (হঠাৎ করে ওনার কথা বলতে আমি চমকে উঠলাম।)
তুই ওনার কথা জিঙ্গেস করছিস কেন?

নাহিদঃ এখনও বাসায় আসেনি হতে পারে আর বাসায় আসবেও না।

আমিঃ কি বলছিস তুই। ওনার সাথে তোর কিসের শত্রুতা।ওনি তো তোর কোনো হ্মতি করেনি তাহলে তুই কেন ওনার হ্মতি করতে চাইছিস?

নাহিদঃ আমি তো তোমার হাজব্যান্ডের কোনো ক্ষতি করতে চাই না। তুমিই তো আমাকে বাধ্য করলে ওনার ক্ষতি করার জন্য।

আমিঃ আমি তোকে বাধ্য করছি?

নাহিদঃ হ্যা তুমিই তো।
আমি তোমাকে ভালোবাসি তা জেনেও তুমি কোনো দিনই আমার ভালোবাসার মূল্য দেওনি।তুমি বলেছিলে তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো আমি তা মেনে নিয়ে তোমার লাইফ থেকে দূরে সরে গেছিলাম। কিন্তু তুমি এখন অন্য কাউকে বিয়ে করে ওর সাথে সুখে সংসার করবে তা তো আমি হতে দিব না। তুমি আমার না হলে অন্য কারো হতে পারবে না। আমি হতে দিব না। তোমার আর আমার মাঝে যে আসবে আমি তাকেই শেষ করে দিব।

আমিঃ আমি তোকে ভালোবাসি না। তোর মত মাইক্রোকে আমি কখনও ভালোবাসবো না। আর এখন আমি বিবাহিত। তুই আমার হাজব্যান্ডের কোন ক্ষতি করতে চাইলে আমি তোকে ছাড়বো না।

নাহিদঃ হাজব্যান্ডের প্রতি দেখছি অনেক ভালোবাসা জন্ম নিছে।তোমার এই ভালোবাসা তোমার হাজব্যান্ডের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে। তুমি আমাকে চিননা।আমি তোমাকে পাওয়ার জন্য কি কি করতে পারি তা তুমি কল্পনা ও করতে পারবে না।

আমিঃ( ফোন কেটে গেল) কি করবে নাহিদ। ও কি সত্যিই ওনার কোনো হ্মতি করে দিবে?

রাতে……
তানভীরঃ (অফিস থেকে এসে ফ্রেস হয়ে রুমে এসে দেখি সামিহা রুমে নেই। এত রাতে কোথায় গেল। বেলকুনিতে গিয়ে দেখি অন্ধকারের মধ্যে একা দাঁড়িয়ে আছে। কয়েক দিন ধরে দেখছি সামিহা কেমন অন্যমনস্ক হয়ে থাকে। কি হয়েছে ওর।সামিহার কাছে গেলাম)
কি হয়েছে তোমার। তোমাকে এত টেন্স দেখাচ্ছে কেন। কিছু দিন ধরে দেখছি তুমি যেন সব সময় কি ভাবো।কোনো প্রব্লেম হয়েছে নাকি?

আমিঃ তেমন কিছু হয়নি।

তানভীরঃ কিছু না হলে এখানে অন্ধকারে এভাবে দাড়িয়ে আছো কেন?

আমিঃ ভালো লাগছিল না তাই এমনি এখানে দাঁড়িয়ে আছি।

তানভীরঃ এভাবে অন্ধকারে দাড়িয়ে থাকলে ভালো লাগবে?
আমি জানি তুমি মিথ্যা বলতে পারো না। তোমার চোখই বলে দিচ্ছে তুমি মিথ্যা বলছো।কি হয়েছে আমাকে বলো।

আমিঃ আপনি কোনো দিনও আমাকে ছেড়ে যাবেন না তো?

তানভীরঃ হঠাৎ করে এমন কোয়েশন?
যাই হোক কোয়েশন যেহেতু করেছ।তাহলে আন্সটাও দিয়েই দিই।
আমি জানি না তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো।এটা জানি আমি তোমাকে আমার জীবনর থেকেও বেশি ভালোবাসি।আমার ভালোবাসা বলে বুঝাতে পারবো না। দেখাতেও পারবো না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।আমি কখনও তোমাকে ছেড়ে যাবো না।

আমিঃ কিছু না বলে ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।

তানভীরঃ তুমি তো বলো তুমি আমাকে ভালোবাসো না। তাহলে আমাকে হারানোর এত ভয় করো কেন?

আমিঃ জানি না।

তানভীরঃ তুমি যে আমাকে ভালোবাসো এটা কি কোনো দিন প্রকাশ করবে না?

আমিঃ নিশ্চুপ।।।

তানভীরঃ তুমি বলতে না চাইলে আমি জোর করবো না। আমার বিশ্বাস তুমি ঠিকই একদিন আমাকে তোমার মনের কথা বলবে। আমি সেই দিনটার অপেক্ষা করে থাকবো। (অনেক রাত হয়েছে এখন রুমে গিয়ে শুয়ে যাও)

সকালে……

তুহিঃ ভাবি ভাইয়া কোথায়?

আমিঃ অফিসে চলে গেছে।

তুহিঃ ভাবি ভাইয়ার ফ্রেন্ডসরা আজ রাতে একটা পার্টি রাখছে।তোমরা কি যাবে?

আমিঃ না তুহি আমার পার্টিতে যাওয়া একদমই ভালো লাগে না। তুমি আর তোমার ভাইয়া যেও।

তুহিঃ ধুর ভাবি কি যে বলো পার্টিটা শুধু ক্যাপেলদের জন্য রাখছে। আমি যাবো কি করে?

আমিঃ ওহ আমি তো জানতাম না।

তুহিঃ তুমি না গেলে তো ভাইয়া ও যাবে না। ভাইয়ার সব ফ্রেন্ডস আসবে।

আমিঃ তোমার ভাইয়া তো আমাকে পার্টির কথা বলেইনি।ওনি যাবে নাকি তাও বলেনি।পার্টিতে যে আমাদের ইনভাইট করছে আমি তো তাও জানি না।

দুপুরে ওনি ফোন দিলেন।

তানভীরঃ সামিহা আমার ফ্রেন্ডসরা একটা পার্টি রাখছে। তুমি কি যাবে?
তোমার ভালো না লাগলে যেতে হবে না। আমি ওদের কে না করে দিব।

আমিঃ (আমি প্রথমে যেতে না চাইলেও ওনার কথা ভেবে রাজি হয়ে গেলাম।আমার জন্য ওনি পার্টিতে না যেতে পারলে ওনার ফ্রেন্ডদের সামনে ওনি ছোট হয়ে যাবেন)
না আমি যাবো। আমার কোনো প্রব্লেম হবে না।

তানভীরঃ তুমি সিউর তো। তুমি যাবে। তোমার তো পার্টিতে যেতে ভালো লাগে না।

আমিঃ হুম আমি সিউর। আমি যাবো।

তানভীরঃ আচ্ছা তুমি রেডি হয়ে থেকো। আমি পার্টিতে যাওয়ার সময় তোমাকে বাসা থেকে পিক করে নিব।

আমিঃ আপনি বাসায় আসবেন না।

তানভীরঃ না। আমি অফিস থেকেই পার্টতে চলে যাবো।
আচ্ছা এখন রাখি।

আমিঃ রাতে পার্টিতে গেলাম। অনেক ক্যাপেল আসছে পার্টিতে। আমি এদের কাউকেই চিনি না।
ওনার কয়েক জন ফ্রেন্ড আসে ওনাকে নিয়ে ওদিকে চলে গেল।ওনি যেতে চায়নি ওনার ফ্রেন্ডরাই জোর করে নিয়ে গেল। আমি একা দাড়িয়ে আছি।

কিছুক্ষণ পর একটা ছেলে আমার কাছে আসলো।

ছেলেটাঃ ভাবি আমি তানভীরের ফ্রেন্ড আমাকে চিনতে পারছেন?

আমিঃ (আমি আগে কখনও ওনাকে দেখিনি। ওনি যে তানভীরের ফ্রেন্ড তা ও জানতাম না)
ভাইয়া আগে তো কখনোই আপনাকে দেখিনি তাই ঠিক চিনতে পারলাম না।

ছেলেটাঃ না চেনারই কথা। আমি তো আপনাদের বিয়েতে আসিনি। আমার নাম জিসান। আমি আর তানভীর একই কলেজে পরতাম। ও লন্ডনে চলে যাওয়ার পর থেকে ওর সাথে তেমন যোগাযোগ নেই।

আমিঃ ওহহ

জিসানঃ আপনি এখানে একা দাড়িয়ে আছেন কেন।তানভীর কোথায়?

আমিঃ ওনি ওনার ফ্রেন্ডদের সাথে গেছেন।

জিসানঃ তানভীরটাও না আস্ত একটা গাধা। আমাদের এমন সুন্দর একটা ভাবিকে কেউ এভাবে একা রেখে চলে যায়। ভাবি ঐদিকে চলেন।ওখানে আমার ওয়াইফ ও দাড়িয়ে আছে।

আমিঃ আপনার সাথে আপনার ওয়াইফ ও আসছে?

জিসানঃ হুম। ও ওর কিছু ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে। আমি দেখলাম আপনি এখানে একা আছেন তাই আপনার কাছে চলে আসলাম।
এখন এতো কথা না বলে চলেন তো।
(আমার হাত ধরে ঐ দিকে নিয়ে যেতে শুরু করলো)

চলবে…..