Marriage With Benefits 2 Part-07

0
3467

#Marriage_With_Benefits_2
#Part_7
Writer:: Sanjida Nahar Shaanj
.
.
কলি জিসানের কথা গুলো শুনে চুপ করে আছে।সত্যিই তো মেয়ের প্রেমে অন্ধ হয়ে ছোটো ছোটো বাচ্চাগুলো থেকে ও আস্থাকে আলাদা করেছে।অনেক নিকৃষ্ট কাজ ছিলো এইটা।যখন আস্থা ফিরে আসবে তখন কি ক্ষমা করবে?আমি ওর মা হয়ে কি করে ওর বাচ্চাদের থেকে আলাদা করলাম?আমি খুব খারাপ মা।আমি ওর ভালো মা হতে পারিনি।আমি নিজের হাতে নিজের মেয়ের সংসার নষ্ট করে দিয়েছি।নিজের হাতে ওর ভবিষ্যত নষ্ট করে দিয়েছি?ওর জীবনে এত দুঃখ শুধু মাত্র আমার জন্য।আমি কি করে পারলাম এই সব আমার মেয়ের সাথে করতে।
বলতে বলতে কলি কাদতে শুরু করলো।

জিসান দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে আগে হলে কলিকে শান্ত করার চেষ্টা করতাম।কিন্তু না এখন এই কান্না ওর প্রাপ্তি। ও সত্যিই একটা নিকৃষ্ট কাজ করেছে।যে কাজের কোনো ক্ষমা হয় না।একটা মাকে তার বাচ্চাদের থেকে আলাদা করার মত পাপ কাজ ও করেছে।এখন এক মাত্র আস্থাই যদি ওকে ক্ষমা করতে পারে।(জিসান মনে মনে)

আমি আভির কাছে যাবো(কলি চোখ মুখ মুছে)

তুমি এখনও ওদের আলাদা করার চেষ্টা করবে?আবার শুরু করবে তোমার নোংরা খেলা?এইবার কিন্তু তোমাকে কিছু করতে দিবো না আগেই বলে দিয়েছিলাম।(জিসান রেগে)

আমি কিছু করবো না জিসান!বিশ্বাস করো।শুধু আমি আভির কাছ থেকে ক্ষমা চাইবো।আভি যদি আমাকে ক্ষমা না করে তাহলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।প্লিজ আমাকে আভির কাছে নিয়ে চলো।প্লিজ।(কলি কাদতে কাদতে)

যদি এইটাই তোমার উদ্দেশ্য হয় তাহলে আমি নিয়ে যাবো।
বলেই জিসান কলিকে নিয়ে আভির কাছে গেলো।


আভি,,আয়ুশ হসপিটালের কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।ডক্টর এখনও ভিতরে যাওয়ার পারমিশন দেয় নি।তবে ডক্টর এখনও ভিতরে ঢুকে আস্থার চেক আপ করছে।আস্থার জ্ঞান এখনও ফিরে নি।আরিফ গেছে ডক্টরের দেওয়া ঔষুধ গুলো আনতে।মিস সবিনা বাচ্চাদের নিয়ে বাসায় চলে গেছে ডিরেক্ট অফিস থেকে।ওরা আস্থার অজ্ঞান হওয়ার কথা কিছুই জানে না।জানলে শুধু শুধু ভয় পেয়ে যাবে।এমনিতেই ওরা অনেক ভয় পেয়ে আছে।বাসায় গিয়েও ফোন দিয়ে কান্না কাটি করছে বলছে আন্টির কোনো দোষ নেই।

সুমু ফোন দিয়ে,,,
মা।কেনো ফোন দিয়েছো?(আভি ফোন ধরে)

বাচ্চা দুটো সেই কখন থেকে কেদে যাচ্ছে।কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না।সেই সকালে খেয়েছে।এখন সন্ধ্যা হতে চললো।ওদের মুখে একটা দানাও দিতে পারলাম না।তুইই ওদেরকে একটু বুঝা।নে কথা বল(সুমু)

আচ্ছা দাও(আভি)

পাপা?(আরাভ ফোন কাদতে কাদতে)

বাবা তুমি কাদঁছো কেনো?(আভি)

বাবা।আণ্টি কিছু করে নি।(আরাভী কাদতে কাদতে)

আমি জানি মা।উনি কিছু করেনি।(আভি)

বাবা তুমি কিছু করো না আন্টিকে!(আরাভ)

আরাভ আরাভী।আমি কিছু করবো না উনাকে।কিন্তু তোমাদের প্রমিজ করতে হবে।দাদীমার সব কথা শুনে চলবে।ঠিক মত খাবার খাবে আমি কাল সকালেই আসবো।তোদের সবার সাথে আমার কথা আছে।তাই ততক্ষণ পর্যন্ত লক্ষী হয়ে থাকবে।ওকে?(আভি)

ওকে পাপা আমরা অনেক লক্ষী হয়ে থাকবো।দাদীমার সব কথা শুনবো।তুমি শুধু আন্টিকে কিছু বলো না।(আরাভ আর আরাভী)

ওকে।আমার লক্ষী সোনা।খোদা হাফেজ।
বলেই আভি ফোনটা কেটে দিলো।


ভাই তুমি ওদের বললে না কেনো যে আস্থাই ওদের মা?(আয়ুশ অবাক হয়ে)

আমি ওদের সামনা সামনি বলতে চাই।এখন শুনলে ওরা বিষয়টাকে কোন হিসেবে নিবে আমি জানি না।তাই সামনাসামনি বললে ওরা যেই হিসেবেই নিক না কেনো আমি সামলে নিতে পারবো।আমি চাই আর যায় হোক না কেনো ওরা যাতে আস্থাকে ঘৃণা না করে।যদিও আমি ওদের আস্থার ব্যাপারে কিছুই বলিনি তবে ওদের মনে আস্থাকে নিয়ে কখনও কোনো ঘৃণা জন্মাতে দেই নি।(আভি কেবিনের দরজাটা লাগানো কাছের একটা ছোটো জানালা দিয়ে আস্থার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কথা গুলো বললো)

ভাই।আস্থার মনে পড়বে তো সব কিছু?(আয়ুশ আভির কাধে হাত রেখে)

মনে পড়তেই হবে।যদি এমনি এমনি না পরে তাহলে আমরা জোর করে করাবো।(আভি মুষ্টি বদ্ধ করে)

ভুলেও এমনটা করতে যেও না।
পিছন থেকে কলি বলে উঠলো।

আপনি এখানে?আবার এখানে কেনো এসেছেন?আপনি যতই চান এখন আমাকে আর আস্থাকে আলাদা করতে পারবেন না।চলে যান এখান থেকে।(আভি রেগে)

আমি তোমাকে আর আসুকে আলাদা করবো না(কলি)

আভি তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে
আমাকে আর হাসাবেন না?আপনাকে আমি আমার নিজের মায়ের মত ভাবছি।মা চলে যাওয়ার পর থাকে আমি আপনাকেই মা বলে জেনে আসছি।আর সেই আপনি আমার কাছ থেকে আমার ভালোবাসার মানুষকে কেড়ে নিলেন।আর নিলেন তো নিলেন আমার সন্তানদের অনাথ করে।আর কি বলে নিয়ে গেলেন,,ও মারা গেছে?লজ্জা করে নি আপনার নিজের মেয়েকে মৃত্যু বলতে?আরে আপনি তো বছরের পর বছর নিজের সন্তান হারা ছিলেন।জানেন না কেমন লাগে আপনজন হারা থাকতে?এইসব জানার পরও কি করে আপনি পারলেন আমার সন্তান গুলোকে অনাথ করতে।আপনার রাগ ছিলো আমার উপর আমার বাচ্চারা কি দোষ করেছিলো?আর যেই আস্থার জন্য আপনি এইসব করেছেন সেই আস্থা যদি জানে আপনি এতো নোংরা কাজ করেছেন। সে কি ক্ষমা করবে আপনাকে?আস্থার কাছে পরিবার কি ছিলো তা কি আপনি জানেন না? ও পরিবারের জন্য কি কি করতে পারে?কি কি করেছে তা কি আপনি জানেন না? ও সব সময় চেয়েছিলো ওর একটা পরিবার থাকবে যেটাকে ও নিজের বলে জানবে।যেটা হবে ওর নিজের পরিবার।কিন্তু ও যখন জানবে ওর মাই ওর পরিবারকে ওর থেকে ছয় ছয়টা বছর দূরে রেখেছে তখন ওর মনের অবস্থা কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন?আর আমার সন্তানরা এতো বছর মা ছাড়া থেকেছে।ওদের কতো কষ্ট হবে এই সত্যিই টা গ্রহণ করতে একবার ভেবে দেখেছেন?কিছুই ভেবে দেখেন নি।সার্থপরের মত আপনি নিজেরটা ভেবে গেলেন।আর নিজেরটা মেয়ের ভালো করতে গিয়ে ওর বাচ্চা,,ওর ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে ওর ছয়টি বছর কেড়ে নিলেন।(আভি সব রাগ কলির উপর জেরে)

আর কিছু বলো না আভি।আমি এমনিই অনেক অনুতপ্ত আমার কাজের জন্য।তোমার কাছে কোন মুখে ক্ষমা চাইবো আমি নিজেও জানি না।খুব খারাপ মা আমি।আসলে মেয়েটাকে পেয়ে আমি দুনিয়াই ভুলে গেছি।তাই তো ভালো করতে গিয়ে ওর এতো বড় ক্ষতি করে ফেলেছি।আমাকে ক্ষমা করে দাও আভি।(কলি হাত জোড় করে)

আমার উপর করা অন্যায়ের কারণে আমি ক্ষমা করলেও আমার সন্তানের প্রতি করা অন্যায়ের ক্ষমা আমি কিছুই করতে পারবো না।মিসেস খান।আমার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে তুচ্ছ করবেন না।(আভিও হাত জোড় করে)

ঠিক আছে।আমি আমার প্রায়শ্চিত্ত করবো।কিন্তু আভি আমার একটা কথা রাখবে?(কলি মিনতি করে)

কি কথা?(আভি কড়া গলায়)

আস্থাকে জোর করে কিছু মনে করানোর চেষ্টা করো না।(কলি)

এইটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।এইটা নিয়ে আপনার মাথা না ঘামালেও চলবে।
বলেই আভি সেখানে থেকে চলে যেতে লাগলো।

আভি একবার পুরো কথাটা শুনে নাও(জিসান)

ঠিক আছে বলুন।(আভি থেমে গেল)

আস্থাকে জোর করে কিছু মনে করানোর চেষ্টা করো না।কারণ অ্যাকসিডেন্ট ওর ব্রেনে অনেক চাপ পড়েছিল।আর এই চিকিৎসা অনেক পড়ে করানো হয়েছিলো।কারণ যদি ওর ব্রেনের চিকিৎসা আগে করানো হতো তাহলে ওর বাচ্চা মারা যেতো।তাই ওর ডেলিভারি আগে করানো হয়েছে।আর এই জন্য ওর ব্রেনের অনেক সমস্যা হয়েছিলো।এই জন্য যখনই ও নিজে নিজে কিছু মনে করতে যায় তখনই ওর ব্রেনে প্রেসার পরে আর মাথা ব্যাথা শুরু হয়।যা ওর পক্ষে ক্ষতিকর।আর আজ তোমরা ওকে এতো জিজ্ঞাসা করার কারণে ওর মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে আর ও অজ্ঞান হয়ে গেছে।ডক্টর বলেছেন যদি ওর মনে হয় তাহলে আপনাআপনিই হবে আর যদি জোর করে ওর স্মৃতি শক্তি ফিরানোর চেষ্টা করে তাহলে ওর মাথায় রক্ত ক্ষরণ হয়ে ও কোমায় চলে যাবে আর না হয় ও,,,
বলেই কলি থেমে গেলো।

নাহলে ও কি?(আভি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে)

নাহলে ব্রেনের অতিরিক্ত রক্ত খরণের কারণে মারা যাবে।
বলেই কলি কাদতে শুরু করেছে।

আভি ভয়ে ভয়ে শুকনো ঢোক গিলল।
এখন আমি কি করতে যাচ্ছিলাম।ওকে সব কিছু মনে করাতে গিয়ে আমি অনেক মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে লাগলাম।না না ও আমাকে মনে রাখুক আর নাই রাখুক।ওর বেচেঁ থাকাটাই আমার জন্য অনেক।(আভি মনে মনে)

এখন কি করবে তুমি?(জিসান আভির কাধে হাত রেখে)

দরকার পড়লে ওকে কিছু মনে করতে দিবো না।তবুও ওকে আমার কাছেই রাখবো।ওই সব কষ্টের কথা ওর মনে না রাখলেও চলবে।এখন আমি আর আমার বাচ্চাগুলো মিলে ওকে নতুন স্মৃতি দিবো নতুন মুহুর্ত গুলো দিবো।ওকে এত ভালো ভালো মুহুর্ত গুলো দিবো যেটা দিয়েই ওর মন ভরে যাবে।ওর আগের পুরানো স্মৃতি গুলো লাগবেই না ওর তখন।আর ভালোবাসা?ওইটা আবার না হয় আমরা একে অপরের ভালোবাসার মায়াতে পড়লাম।তখন তো marriage with benefits এর কারণে আমাদের ভালবাসা জন্ম হয়েছিল।এখন আমাদের ভালোবাসা কোনো বেনিফিটস্ এর মধ্যে থাকবে না।এই ভালোবাসার কোনো বেনিফিটস্ নেই।যদিও থাকে তাহলে সেই বেনিফিটস্ টা হবে শুধু ভালোবাসার বেনিফিটস্।আমি আস্থাকে ওই সব মুহূর্ত গুলো দিবো যেটা আমি ওকে আমাদের বেনিফিটস্ এর বিয়ে দিতে পারি নি।ওকে আবারও আমি আমার করে নিবো।(আভি মুচকি হাসি দিয়ে)

ঠিক আছে তুমি জানো তুমি কি করছো!আমার আর বেশি কিছু বলতে হবে না।(কলি)

সরি কলি আণ্টি আপনি আমাকে সব ইনফরমেশন দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু আমি আপনাকে এখনও আস্থার সাথে দেখা বা কথা বলতে দিবো না।কারণ এখনও আমি আপনাকে বিশ্বাস করতে পারি নি।(আভি)

আমরা জানি বাবা।বিশ্বাস এক বার ভাঙলে তাতে জোড়া লাগানো খুব কঠিন।তাই আমরাও তোমাদের অনুমতি ছাড়া আস্থার কাছে যাবো না।(জিসান)

আমার মেয়েটার খেয়াল রেখো।(কলি আভির হাত ধরে)

সারাজীবন রাখবো।(আভি)

পরেই জিসান কলিকে নিয়ে হসপিটাল থেকে বেরিয়ে গেলো কাদতে কাদতে।


চলবে,,,,❄️