Second marriage পর্ব – ৫+৬

0
2101

গল্পঃ Second_marriage
পর্ব – ৫+৬
লেখিকাঃ #Ritiva_Jahan_Riti
১১ বছর আগে….
আমি তখন অনার্স ৪র্থ বর্ষে পরি।ক্লাস শেষে লাইব্রেরিতে গেলাম।তখন হয়তো বিকেল ৪ টা বাজে। সেদিন লাইব্রেরিতে বেশি কেও ছিল না।
লাইব্রেরির জানালার সামনে বসে ছিলাম।তখন জানালার দিয়ে অপর সাইডে দেখি একটি মেয়ে নাচছে….
কেন যানি সেখানেই চোখ আটকে গেল….
এর আগে কোন মেয়ের দিকে তাকায় নি কিন্তু ঐ মেয়েটির প্রতি কেন যানি একটা আকর্ষণ সৃষ্টি হল….
কিন্তু আমি মেয়েটির চেহেরা দেখি নি…
কারণ মেয়েটি আমার দিকে পিঠ করে নাচছিল….
মেয়েটির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম…..
ওর নাচ দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না….
সেদিন রাতে ঘুমাতে পারি নি…
সারারাত মেয়েটিকে নিয়ে ভাবছিলাম…
পরেরদিন বন্ধুর কাছে জানতে পারলাম যে আমাদের ভারসিটিতে ৩ মাস পর dance compition তাই মেয়েরা সেখানে practice করে….
আমি ক্লাস শেষে সেখানে গিয়ে দেখি দরজা বন্ধ…
মেয়েটিকে জানার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল কিন্তু সেদিন আম্মুকে নিয়ে হাস্পাতালে চেকাপ এর জন্য যেতে হত…..
তাই একটি চিঠি রুমের বাইরের লকের সেখানে রেখে এসে পরলাম….
কিন্তু নিজের নাম লিখতেই ভুলে গেছিলাম….
চিঠিতে ছিলঃ
“তোমার নাচ খুব সুন্দর। দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মনে হচ্ছিল ময়ূরী নাচছিল।
ওগো ময়ূরী তোমার নামটা যানতে পারি”
পরেরদিন যেয়ে দেখি সেখানে আরেকটি চিঠিঃ
“এই যে মিঃ লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়েদের নাচ দেখতে লজ্জা লাগে না।দেখেন রাতে ভুত ধরবে….হি…হি…
কিন্তু আমার নাচের তারিফ করলেন তাই মাফ করে দিলাম।
আসলে ৩ মাস পর dance compition এর খুব tansion ছিল।আমার আবার হারা পছন্দ না।কিন্তু আপনার কথা থুক্কু লেখা চিঠিটা দেখে মনটা খুব হালকা লাগছে।যাই হোক ময়ুরী বলেছেন তাইলে দেখি ৩ মাস পর Dance Compition এ চিনতে পারেন নাকি….
আর হে No chiting এ রুম থেকে বের হওয়ার বা ডুকার সময় দেখবেন না কিন্তু…
এর আগে না আপনি আমার পরিচয় জানতে চাবেন না আমি আপনার….
Promise…. ok
Promise ভাংলে কিন্তু রাতে ভুত-জ্বীন সব আসবে আর পেত্নী ধরে নিয়ে যেয়ে বিয়ে করবে কিন্তু বলে দিলাম….
আর হে কালকে আবার সেখানে চিঠি রেখে যাবেন।
আমরা চিঠি চিঠি খেলব হিহি…..”
এভাবে আমাদের প্রতিদিন চিঠি নেওয়া দেওয়া হত….
একসময় আমার ওর দুষ্ট মিষ্টি কথাগুলো ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা রুপ নেয় প্রতিসাপ্তাহে আমাদের যে দুইদিন ভারসিটি অফ থাকতো সে দুইদিন যেন প্রতি মুহুর্ত শত বছরের মত লাগত।
এভাবে কথা বলতে বলতে ২.৫ মাস কেটে যায়….
হঠাৎ তিনদিন ধরে ওর চিঠি পাই না….
তখন বুকটা ফেটে যাচ্ছিল….
ওর promise না ভেংগে থাকতে পারলাম না”
ওর নাচ রুমের সামনে দারিয়ে রইলাম…
দেখি রিয়া রুম থেকে বের হয়ে আসলো আমাকে দেখে থ খেয়ে গেল….
তখন আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলামঃ
আয়ানঃ তুমি প্রতিদিন এখানে Dance practice কর।
রিয়াঃ তুমি সে যে আমায় চিঠি দিতে….
আয়ানঃহ্যাঁ কিন্তু এই তিনদিন ধরে আর চিঠি দেও না কেন…
ও কিছু না বলে চলে যাচ্ছিল ওর হাত ধরে ফেললাম….
আয়ানঃ কি হল বল….
রিয়াঃ আর আপনার মায়ায় জরাতে চাই না তাই….চিঠি দিতে দিতে কবে ভালবেসে ফেললাম বুঝতেই পারলাম না….
তাই….
ও কিছু বলার আগে ওকে জরিয়ে ধরে ফেলি…..
আয়ানঃ তুমি জানো না এ তিনদিন তোমার চিঠি ছাড়া কিভাবে দিন কাটছিল।
খুব কষ্ট হয়েছে…
আমি যে ভালবেসে ফেলেছি আমার ময়ুরিকে….
রিয়াও আমাকে জড়িয়ে ধরল…..
তারপর থেকে আমাদের রিলেশন…..
কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য ঐ একদিন ই আমার ময়ূরীর নাচ উপভোগ করতে পারলাম।
সে তিনমাস ও জানালা বন্ধ রাখত।আমায় চিঠিতে বলেছিল যদি দেখি তবে promise নাকি নষ্ট হয়ে যাবে…..
আর আমাদের রিলেশনের ৬ দিন পর compitition ছিল বলে আর রিয়াকে জোর করি নি আমিই বলেছিলাম ওর নাচ একবারে dance competition এ দেখব।
তারপর যেদিনের অপেক্ষা ছিলাম সেদিন আসল ঠিকই কিন্তু মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আর competition এ যেতে পারি নি….
পরেরদিন শুনি ও নাকি হেরে গেছে একটি 1st year এর মেয়ে নাকি জিতল….
রিয়া পুরা ভেংগে গিয়েছিল…. ও লাস্ট তিন বছর ধরে এ competition এ বিজয়ী হচ্ছিল….
আর খুব different মার্ক এ হেরে যাওয়ায় ও decide করে ও আর dance করবে না….
আমার খুব ইচ্ছা থাকলেও রিয়াকে আর dance এর জন্য বলি নি…
তারপর কি অনার্স শেষে বিয়ে আর এক বছরের মধ্যে আরিয়ান আসল আমাদের জীবনে…
খুব সুখেই চলছিল আমাদের জীবন। কিন্তু বলে না এত সুখ ভাগ্যে থাকে না।
৩ বছর আগে রিয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে accident এ মারা যায়….
খুব কষ্টে নিজেকে সামলেছি…আরিয়ানের জন্য…..
এই ছিল আমাদের অস্পুন্য ভালবাসার গল্প….
তাকিয়ে দেখি আমার গল্প শুনে রিতি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে…
আয়ানঃ কি হল এভাবে তাকিয়ে আছ কেন….
রিতিঃ আপনাকের গল্পে হারিয়ে গেছিলাম….
আয়ানঃ এবার তোমারটা বল…
মুহূর্তেই রিতির মুখ কালো হয়ে গেল….
আয়ানঃ আচ্ছা বাদ দেও….
রিতিঃ না… না….
আমার জীবন সম্পর্কে আপনার জানার অধিকার আছে….
আয়ানঃ না….
তোমার ইচ্ছা ছাড়া কারো তোমার জীবন সম্পর্কে কিছু জানার অধিকার নেই….
রিতিঃ আমার বলার ইচ্ছা নেই কে বলেছে…
আপনাকে বিশ্বাস করি তাই বলার ইচ্ছা আছে…..
আপনি আমায় বিশ্বাস করেছেন তাই বলেছেন আপনার জীবনের ঘটনা তাই না….
আর স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে ভালবাসা থাকুক না থাকুক বিশ্বাস থাকা লাগে…..
আয়ানঃ তাহলে বল….
রিতিঃ
অনার্স তৃতীয় বর্ষে থাকতে আমার আর রাফির দেখা হয়।
দেখাটা বিয়ের কারণেই হয়।
পারিবারিক ভাবে বিয়ে ঠিক করার পর ওর সাথে দেখা করি তার পর কথা শুরু হয়…..
কথা বলতে বলতে ও আমাকে নাকি ভালবেসে ফেলে কিন্তু আমি পারি না…..
আমার দিক দিয়ে ভাললাগা পর্যন্তই সীমিত ছিল।কারণ আমার ইচ্ছা ছিল স্বামী ছাড়া কাওকে ভালবাসবো না।আর তখনো বিয়ে ঠিক হলেও বিয়ে হয় নি।
মাঝে মধ্যে ও খুব মন খারাপ করত।
আমারও খারাপ লাগতো।
কিন্তু একদিন ওকে promise করেছিলাম যে বিয়ের পর আমার সবটা দিয়ে ওকে ভালবাসবো….
তখন ও খুব খুশি হয়…
ওর সব কষ্ট নাকি নিমিষেই দূর হয়ে যায়….
বিয়ে হয়।আমি আমার promise ও পূরণ করি।ওকে আমার সব দিয়েভালবাসি।অবশ্য ও কম বাসতো না।
ভালোই চলছিল আমাদের জীবন। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় বিয়ের ২.৫ বছর পর।
সবাই বলা শুরু করে যে বিয়ের এত বছর পর আমার বাচ্চা হচ্ছে না।
আমিও কনসিভ করতে পারছিলাম না।
তারপর থকে রাফি আমার অনেক কথায় বিরক্তিবোধ করত।
অবশ্য আমার কিছু বাচ্চামি স্বভাব নিয়ে আগেও বিরক্তি প্রকাশ করলেও তখন প্রায় আমার সব কাজেই বিরক্ত হয়ে ওঠত…..
আমরা ডাক্তারের কাছে কনসোল করি।তারপর দুজনই বিভিন্ন পরীক্ষা করি….
তারপর একদিন বাসায় রিপোর্ট আসে….
সেখানে লেখা থাকে আমি নাকি মা হওয়ার অযোগ্য।
আস্তে আস্তে পরিবারের সবার আমার প্রতি ব্যবহার চেঞ্জ হতে থাকে রাফির মা ছাড়া।তিনি আমায় খুব ভালবাসতেন।একদম তার মেয়ের মত।
একরাতে রাফি এসে বলে সে নাকি আমার থেকে ডিভোর্স চায়।
আমি যেন আকাশ থেকে পরলাম।
আমার চোখ দিয়ে যেন বন্যা বইছিল।
কারণ জানতে চাইলে সে আমায় বলল
যে আমি তাকে সন্তানের সুখ দিতে পারব না।
এ ছাড়া আমার বাচ্চামি স্বভাব গুলো তার কাছে বিরক্ত লাগে।
আমি ওকে কিছু বুঝানোর আগেই ও বলল।
ওর নাকি ওর পি.এ আয়েশার সাথে extra marital affair ছিল।সে তিন মাস থেকে এখন ঐ মেয়ে ওর বাচ্চার মা হতে যাচ্ছে।
তাই ও আমাকে ডিভোর্স দিয়ে আয়েশাকে বিয়ে করবে।
আমি আর কিছু না বলে ডিভোর্স পেপার সাইন করে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম।
অবশ্য মা অনেক থামিয়েছিল।কিন্তু ওখানে থাকার না ইচ্ছা ছিল না শক্তি।
সোজা বাসায় এসে সবাইকে সব খুলে বললাম।রাহাত ভাইয়া তো রাফিকে মেরে ফেলতে যাচ্ছিল।
কিন্তু আমি সবাইকে আমার কসম দিয়ে বললাম যানি ওদের কাওকে কিছু না বলে।
রুমে এসে অজোড় পানি পরছিল চোখ দিয়ে। চিৎকার করে কাঁদতে মন চাচ্ছিল।কিন্তু তাও পারছিলাম না।এমনি বাসার সবার অবস্থা খারাপ।
শুধু ভাবছিলাম এক সময় যে ব্যবহারের প্রেমে পাগল হয়ে গিয়েছিল আর সে ব্যবহার ই ওর অসহ্য লাগছে।
আর সেটা তো ২০১৫ তখন কত পদ্ধতিতে বাচ্চা নেওয়া যেত।
যদি আজ আসলে ভালবসতে তবে এভাবে ছেড়ে যেতে না।
তখন মনে হচ্ছিল বুকের ভিতর কেও ছুরি মারছে।খুব কষ্ট হচ্ছিল। আর সহ্য করতে পারছিলাম না তাই…..
বলেই রিতি থেকে গেল।
আয়ান রিতিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেখল ওর চোখে জম। আলতো করে রিতির মুখটা ওঠিয়ে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে দিল।
আয়ানঃতাই কি বল….
রিতিঃ না…কিছু না….
আয়ানঃবিশ্বাস কর না আমায়…
রিতি একবার করুন দৃষ্টিতে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলা শুরু করে….
রিতিঃ তাই sucide করার চিন্তা করি।
sucide এর কথা শুনেই আয়ানের খুব ভয় লাগছিল মনে হল বুকের নিচে কামড় দিল।
রিতিঃ সেদিন হাতটা কাটতে নিয়েছিলাম তখনই মাহি এসে দেখে আমাকে দুগালে দুইটা থাপ্পড় দিয়ে জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করে….
আমাকে এরপর থেকে কখনো একা ছাড়ে না।
মাহিন তখন ৭ বছরের ছিল।ও মাহিনকে ছেড়ে সারাদিন আমাকে বাচ্চার মত সামলাতো….
এসব এর ১ সপ্তাহের মধ্যেই শুনি রাফি নাকি আয়েশাকে বিয়ে করে ফেলেছে….
এই আর কি….
ওনার দিকে তাকিয়ে দেখলাম উনার চোখে পানি…..
আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না….
উনি কাদঁছে কেন…..
রিতিঃ কাদঁছেন কেন…..
উনি কিছু না বলে আমায় জরিয়ে ধরলেন….
আমি কিছুটা কেঁপে উঠলাম….
কারণ আমায় রাফি ছাড়া অন্য কোন ছেলে এ পর্যন্ত এত কাছে আসে নি….
ওনাকে সরাতেও পারছিনা…..
জরিয়ে ধরতেও পারছিনা…..
উনি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করলেন আমাকে জরিয়ে ধরেই…..
আয়ানঃ আমি জানি তোমাকে আমি ভালবাসি না….
কিন্তু কেন যানি তোমাকে হারিয়ে ফেলার কথা শুনলে বুকে খুব ব্যাথা হয়….
অজানা এক ভয় কাজ করে….
আমার প্রথম ভালবাসাকে হারানোর পর তোমাকে হারানোর শক্তি আমার নেই…..
please আমায় ছেড়ে যেও না…..
please riti….(কান্না করতে করতে)
বলেই আয়ান রিতিকে আরও শক্ত করে জরিয়ে ধরল…..

#Second_marriage
#part_6
#writer_ritiva_jahan_riti
উনি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করলেন আমাকে জরিয়ে ধরেই…..
আয়ানঃ আমি জানি তোমাকে আমি ভালবাসি না…
কিন্তু কেন যানি তোমাকে হারিয়ে ফেলার কথা শুনলে বুকে খুব ব্যাথা হয়….
আমার প্রথম ভালবাসাকে হারানোর পর তোমাকে হারানোর শক্তি আমার নেই…..
please আমায় ছেড়ে যেও না…..
রিতি কি বলবে বুঝতে পারছে না….
আয়ানের হুস ফিরলে ও রিতিকে ছেড়ে দেয়….
দুজনেই কিছুক্ষন নিরবতা পালন করে….
আয়ান প্রথমে নিরবতা ভেংগে বলে….
আয়ানঃ আচ্ছা আমরা friend হতে পারি না…
Friends…. (হাত বারিয়ে)
রিতিঃমুচকি হাসি দিয়ে…
Friends…. (হাত মিলিয়ে)
দুজনে ছাদে বসে বসে অনেকক্ষন কথা বলে…..
বলতে বলতে কখন যে দুজনেই ঘুমিয়ে যায় নিজেরাই জানে না…
হালকা সূর্যের কিরণ যখন আয়ানের চোখে পরে তার ঘুম ভেংগে যায়….
চোখ খুলে দেখে রিতি ওর বাহু জরিয়ে ঘুমুচ্ছে…
একটু সরতে চাইলে রিতি আরও জোরে তাকে জরিয়ে ধরে….
রিতির সূর্যের আলোর কারণে ঘুমের disturb হচ্ছিল।
আয়ান বুঝতে পেরে রিতির চোখের কিছু দুরুত্বে নিজের হাত রাখে যানো আলো ওর চোখে পরে রিতির ঘুম না ভাংগে…..
আর আয়ান রিতির দিকে তাকিয়ে আছে……
তার চেহেরার মায়া উপভোগ করছে…..
**নতুন নতুন রোমান্টিক গল্প পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ: “নিঃস্বার্থ ভালোবাসা”**
এভাবে কতহ্মন ছিলো কেও বলতে পারবে না।
রিতির ঘুম ভাংলে আয়ানের তাকানো দেখে ও লজ্জায় লাল হয়ে যায়…
দোলনা থেকে উঠতে যায় তখনই আয়ান ওর হাত ধরে রাগি লুক নিয়ে তাকায়…..
আয়ানঃ তোমাকে না কালকেই বুঝালাম যে একা উঠবা না….
রিতিঃ Sorry…..(ভয়ে ভয়ে)
আয়ান রিতিকে কোলে উঠিয়ে নিচে নেমে আসে….
মা,ভাবি ওদের দেখল।দেখে মুচকি মুচকি হাসা শুরু করল….
দুজনে ফ্রেশ হয়ে নিল।
মা দুইজনের জন্যে নাস্তা নিয়ে আসল….
পিছনে বাবাও আসল….
বাবাঃ কেমন আছিস মা….
রিতিঃ জ্বী বাবা ভালো…..
বাবাঃতোদের সাথে কথা ছিল….
সবাইকে বাইরে নাস্তার সময় বলে দিব তোদের এখন বলছি….
আয়ানঃ কি বাবা….
বাবাঃ ইশিকার হবু শশুড়বাড়ি থেকে ফোন আসছে।ফাহিমের বাবা চায় আগামী ১৫ দিনে engagement করতে।
রিতিঃ বাবা এটা তো খুশির খবর….
বাবাঃ তা তো বটে…..
কিন্তু তুমি তো অসুস্থ…..
রিতিঃ বাবা ততোদিনে ঠিক হয়ে যাবো….
বাবাঃ আচ্ছা মা তাহলে তাদের হ্যাঁ বলে দি……(মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে)
বাবা চলে গেলেন….
আয়ান রিতির পাশে খাবারের প্লেয়াট নিয়ে বসল…..
আয়ানঃ বাবাকে তো বললে ঠিক হয়ে যাবে আমার তো মনে হয় না….
রিতিঃকেন….
আয়ানঃআমার কথা যে কালকে বললাম একটাও তো শুন না….
রিতিঃ
আয়ানঃ Engagement পর্যন্ত না ঠিক হলে যেতে দিব না কিন্তু বলে দিলাম…হম….
রিতিঃ না না ঠিক হয়ে যাব…..
আয়ানঃ Good girl….
নেও এবার খেয়ে নেও….
রিতি-
আস্তে আস্তে ১৫ টি দিন চলে গেল আমি এখন অনেকটাই সুস্থ….
সবাই খুব খেয়াল রেখেছে আমার বিশেষ করে আয়ান আর আরিয়ান ও….
আজ ইশিকার engagement তাই ওকে সাজালাম….
ইশিকাঃ বাহ ভাবি তুমি এত সুন্দর সাজাও….
মাহিঃ সাজাবে না আমাদের ভারসিটির buety queen ছিল।
ইশিকাঃ সত্যি ভাবি….
রিতিঃ
মাহিঃআগে জানো এমনি কত সুন্দর এত মধ্যে সবসময় সাজুগুজু করত পুরো পরি পরি লাগত।
এখনই না আর সাজে না….
ইশিকাঃ ভাবি please আজ সাজো না….
প্লিজ প্লিজ….
রিতিঃনা…. ভালো লাগছে না….
সবার অনেক বলায় ও রিতি সাজলো না……
ছেলেপক্ষ থেকে সবাই আসল….
মেয়েপক্ষ ছেলেপক্ষকে স্বাগতম করতে গেল….
কিন্তু রিতি গিয়ে যা দেখল তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না….
রিতি আর সামনে এগোতে পারে না থেমে যায়….
মেহমানরা রিতিকে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে যায়….
মাহি রিতির পাশে গিয়ে দারায়….
দেখেই রিতির চোখে বিন্দু পরিমাণ জল পরে গেল….
মাহি রিতির কাধে হাত রাখল….
রাহাত এসে বলল…
রাহাতঃ এই রাফি…রাফি এখানে কি করে…..
আজ আমি আর ওকে ছাড়ছি না….
মেরেই ফেলব….
রাহাত সামনে এগোতেই রিতি রাহাতে হাত ধরে ফেলে….
রিতিঃ ভাইয়া তোমাকে আমার কসম দিয়েছিলাম ভুলে গেছো….
আর ও ছেলে পক্ষ থেকে আসছে please কোন তামাশা কর না…..
ইশিকার বিয়েতে কোন সমস্যা হোক তা আমি চাই না….
রাহাত কিছুটা বিরক্তি দেখিয়ে চলে যায়….
মাহিঃ তুই ঠি….
রিতিঃকথা থামিয়ে….
আমি ঠিক আছি…..(হাসি দিয়ে)
কিন্তু মাহি জানে এ হাসিতে কত কষ্ট লুকিয়ে আছে….
রিতিঃ আরে মাহিন তোকে ডাকছে তুই যা…..
মাহিঃকিন্তু….
রিতিঃআমি ঠিক আছি তুই যা….
রিতি পুরো engagement লুকিয়ে লুকিয়ে ফিরছে…..
ওর প্রচুর অসস্থি লাগছে…..
হঠাৎ কেও ওর সামনে এসে দাড়ালো…..
রাফিঃ আমার থেকে লুকাচ্ছো…..
রিতিঃজ্বী না….(মাথা নিচু করে যেতে নেয়)
রাফিঃসামনে এসে দাঁড়ায়…..
তাহলে লুকাচ্ছিলে কেন….
রিতিঃ আপনার কি….
রাফিঃ শুনলাম এ বাড়ির ছোট ছেলের সাথে বিয়ে করেছ……
রিতিঃনিশ্চুপ…..
রাফিঃ কি হল বল….
আয়ান পিছন থেকে এসে রিতির এক কাধে হাত রেখে….
আয়ানঃ হ্যাঁ ও এখন আমার wife…..
রাফিঃভালোই তো…..
অন্য কারো সাথে বিয়ে করলা….
এখন কি সুখে আছো….
আয়ানঃ হম রিতি বল তোমায় সুখে রেখেছি….
না ব্যর্থ হয়েছি…..
রিতি মাথা তুলে আয়ানের দিকে তাকিয়েই হাসি দিয়ে বলল….
রিতিঃ খুব সুখে আছি….
রাফিঃ তাই নাকি ভালোই তো…. (একটি রাগ আর বিরক্তি দেখিয়ে)
বলেই চলে যেতে নিল তখনই আয়েশা একটি মেয়েকে কোলে নিয়ে আসল….
আয়েশাঃরাফি তোমাকে কতক্ষন খুঁজলাম আর তুমি এখানে…
ও আচ্ছা তোমার ex-wife এর সাথে কথা বলছিলা নাকি…
তো রিতি কেমন আছো…..
রিতিঃ ভালো…
বাবুটা তো খুবই কিউট…. (বাচ্চা দেখলে রিতির সহ্য হয় না ছোট বেলার অভ্যাস)
রাফি আর আয়ান অবাক হয়ে রিতির দিকে তাকিয়ে রইল….
আয়েশাঃ দেখতে হবে না আমার আর রাফির মেয়ে…..
রিতি একটু কাছে গিয়ে বাচ্চাটার গালটা ধরতে নেয়…
তখনই আয়েশা ঝটকা দিয়ে হাত সরিয়ে দেয়….
আয়েশাঃ কি করছ হে….
যানো না বাঁচদের বাচ্চা ধরতে নেই….
রাফিঃ আয়েশা এভাবে কথা বলছো কেন…..(একটু রাগ দেখিয়ে)
আয়েশাঃ তাইলে কি করব জান বল….
নিজেতো কখনো মা হতে পারবে না আমার বাচ্চাকেযদি কিছু করে বসে…..
আয়ানঃ দেখুন…..
রিতিঃ কথা থামিয়ে…..
এক মিনিট…..
আরিয়ান….আরিয়ান….
আরিয়ান একটু দুরুত্বেই খেলছিল…
রিতির ডাক শুনে এক দৌড় দিয়ে চলে আসল….
আরিয়ানঃ মা ডেকেছো….
রিতিঃ এইযে আমার ছেলে আরিয়ান….
আয়েশাঃ
আরিয়ানঃ বাবুটা কত কিউট….
মা তুমি আমাকে এরকম একটা বাবু গিফট কর না…..
রিতি,আয়ান,রাফি সবাই চুপ হয়ে গেল….
আয়েশাঃ কি হল রিতি….
তুমি তোমার ছেলেকে একটা বাবু দিতে পারবা না….
ইসসস…কিভাবে দিবা তুমি তো মা হওয়ার ই যোগ্য না….
আরিয়ানঃ
এই ডাইনি আন্টি আপনার ডাইনি মার্কা হাসি বন্ধ করেন….
কে বলছে আমার আম্মু মা হওয়ার যোগ্য না আমি উনার ছেলে দেখেন না…..
আর হে আমার আম্মুকে আর কে আর খারাপ কিছু বললে কিন্তু আপনার নাক কেটে ফেলব….
বলে দিলাম…হম…
তো এখন চিন্তা করেন আপনাকে নাক ছাড়া কিরকম লাগবে….
বলেই হাসা শুরু করে দিল….
রিতিঃ বাবু বড় দের সাথে এভাবে কথা বলতে নেই…..
আরিয়ানঃ আমা আমি ভুল কিছু তো বলি নি….
বাবা তুমি ই বল ভুল কিছু বলেছে…
সবাই আয়ানের দিকে তাকায় দেখে মুখে চাপ দিয়ে হাসছে…..
আয়েশাঃ এসব এর মানে কি….
এবার জোরেই হেসে দিল….
আয়েশা রাগ দেখিয়ে চলে গেল….
আরিয়ানঃ মা খিদু লেগেছে….
রিতিঃ আচ্ছা চল খাইয়ে দি….
রিতিও আরিয়ানকে নিয়ে চলে গেল…..
রাফি যেতে নিচ্ছিল তখন আয়ান রাফিকে থামায়…….
আয়ানঃ একটু শুনেন….
রাফিঃ হম বলেন….
আয়ানঃ I want to thank you….
রাফিঃWhy……(অবাক হয়ে)
আয়ানঃ Because of you i get riti.
And my son ariyan gets his mother.
রাফিঃ What…..
আয়ানঃ Yes, see….
যদি আপনি রিতিকে না ছাড়তেন তাহলে আমরা ওকে কিভাবে পেতাম…..
আপনি নিযে নিজের সৌভাগ্য আমার হাতে তুলে দিলেন….(রিতি আরিয়ানকে খাওয়াচ্ছিল ওদিকে তাকিয়ে)
রাফি ও একবার সেদিকে তাকালো আবার আয়ানের দিকে তাকালো আয়ান রাফির কাঁধে দুবার হাল্কা থাপ্পড় দিয়ে বিদায় জানিয়ে হাসি দিয়ে এসে পরে…
রাতে সব মেহমান বিদায় হওয়ার পর রিতি রুমে আসে….
রিতিঃ আয়ান…
আয়ানঃহম…বল….
রিতিঃ আপনি জানলেন কিভাবে যে রাফি…মানে……
আয়ানঃ তোমায় আজ function এ খুজে পাচ্ছিলাম না….
তাই সবাইকে জিজ্ঞাসা করতে করতে রাহাতের কাছে গেলাম…
ও প্রথমে বলল জানি না কিন্তু ওর কথার ধরনে প্রচুর রাগ বুঝা যাচ্ছিল তারপর জোর দেওয়ায় বলে দেয়…..তারপর তোমায় খুজতে থাকি….
আর পেয়ে যাই….
রিতিঃ Thank You…..
আয়ানঃ কেন….
রিতিঃ আজ যে আমার সাথে ছিলেন তাই….
আয়ানঃ যানো না স্ত্রী সম্মান রক্ষা স্বামীর দ্বায়িত্ব আর কর্তব্য দুটোই….
রিতি ভাবছে এ মানুষ এত ভালো কেন।
যদি আজ তাদের #Second_marriage না হয়ে আগেই বিয়ে হত তাহলে আজ তাদের জীবনে কত খুশি থাকতো…..
রিতিঃ জানেন রিয়া আপু খুবই লাকি ছিল…..
আয়ানঃ কেন….
রিতিঃ আপনি তার স্বামী ছিলেন তো তাই….
আয়ানঃ তাহলে তো তুমিও খুব লাকি….
রিতিঃ কিভাবে….
আয়ানঃ কারণ আমি তো তোমার ও স্বামী…..
রিতিঃ তা বটে…..
কিন্তু সব সম্পর্ক তো আর এক হয় না…..
স্বামী স্ত্রী নাম থাকলেই সে সম্পর্ক গড়ে ওঠ না…..
আমরা কেও ই তো আর আমাদের প্রথম ভালবাসাকে ভুলতে পারবো না…..
তাই না….
আয়ানঃ(মনে মনে ভাবছি ওকে কি বলব বুঝতে পারছিনা)
চলবে…..