লালগোলাপ Part-05+6

0
2789

লালগোলাপ
Part-05+6
Writer-Moon Hossain

-একটা বলবো শ্রেয়সী?
-কথা বলতে নিষেধ করেছি?
-শ্রেয়সী?
শীতল ব্যাগ গোছানো বন্ধ রেখে বলল – কি?
-আসসালামু আলাইকুম!
-ওয়ালাইকুম আসসালাম। আরকিছু?
-তুমি ব্যাগ গোছাচ্ছো কেন?
-চলে যাব।
-কোথায়?
-আমার বাড়ি।
-তোমার বাড়ি তো এটা।
-এটা আপনার বাড়ি।
-আমার বাড়ি তো তোমার বাড়ি।
-মোটেই না। আপনি আমার কেউ না। যদি হতেন তাহলে এমন করতে পারতেন না।
শীতল কাঁদছে জোরে জোরো।
-প্লিজ কেঁদো না। আমারও কাঁদতে ইচ্ছে করছে, বলেই রাজ শীতলের সাথে তাল মিলিয়ে কাঁদতে থাকল।
-কেঁদে লাভ নেই মহাশয়। আমাকে ভোলাতে পারবেন না। আমি চললাম বাপের বাড়ি।
-শীতল চেইন লাগাতে পাচ্ছে না কিছুতেই।
-চেইনটা লাগিয়ে দিন তো?
রাজ চেইনটা লাগিয়ে দিলো না।
-আমি চেইন লাগাবো না। তাহলে তুমি বাপের বাড়িও যেতে পারবে না।
-সময়ে কায়দা করে কথা বলতে পারেন দেখছি। না লাগিয়ে দিলে ব্যাগ ছাড়াই চলে যাব। নতুন জামাকাপড় বাড়ি গিয়ে কিনে নেব।
নতুন জামা পড়ে সেজেগুজে একা একাই ঘুরতে যাব।
-আমাকে নেবে না তোমার সাথে?
-হ্যাঁ আপনাকে নেই আর আপনি সবার সাথে মারামারি করবেন। প্ল্যান ভালোই করেছেন।
-শ্রেয়সী?
-কি?
-আই এম ভেরি ভেরি সরি।
শীতল ব্যাগ রেখে বিছানায় বসে পড়লো।
-তুমি কাঁদছো কেন?
-আমার ইচ্ছে।
-আমি কি করব বলো? ঐ লোক গুলো তো আমাকে মেরেছিল। এজন্য আমিও ওদের মেরেছি।
-আপনি আমাকে দুঃখ দিয়েছেন আজকে।
অনেক কষ্ট দিয়েছেন।
দেখেছেন একবার নিজেকে আয়নায়?
কপাল কেটেছে কতটা।
হাতেও ব্যথা পেয়েছেন।
আর না জানি কোথায় ব্যাথা পেয়েছেন।
-আমার একটু লাগেনি। এই দেখ শ্রেয়সী, বলেই রাজ কেটে যাওয়া স্থানে জোরে চাপ দিলো।
-কি করছেন কি?
-আপনি মানুষ নাকি?
-তুমি বাপের বাড়ি গেলে আমি কিন্তু ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ব। কথাটা বলেই রাজ হাসিতে ভেঙে পড়লো।
শীতল সঙ্গে সঙ্গে রাজের ঠোঁটে আঙুল দিলো।
শীতল কথা শুনে বেশ ভয় পেয়েছে।
-আল্লাহর দোহায় আর কখনো এমন কথা বলবেন না।
-তাহলে তুমি বাপের বাড়ি যাওয়া ক্যান্সেল কর।
-আচ্ছা বাবা ক্যান্সেল। তবে আর কখনো কাউকে মারবেন না।
-তোমার সব কথা শুনব।
রাজ ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে শীতলের হাত ধরলো একহাতে খুব শক্ত করে যেন শীতল সত্যি সত্যি তাকে ছেড়ে চলে গেলো।অন্য হাতে শীতলের চোখের পানি মুছে দিলো।
শীতল রাজের চোখের পানি মুছে দিলো।
-ডক্টর আসবে এখুনি। আপনি ভালো ছেলের মতো চুপচাপ বসে থাকবেন। ডক্টর যেখানে যেখানে কেটেছে সেখানে সেখানে ঔষধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করবে।
রাজ মাথা নাড়ালো।
.
রাতে রাজের খুব জ্বর হলো। শীতল মাথায় পানি দিয়েছে কিছুক্ষণ আগে।
রাজ শীতলের এক হাত বুকের মাঝে ধরে জ্বরের ঘোরে মা মা বলে ডাকতে লাগলো। শীতলের চোখের পানি রাজের মুখে পড়ছে।
শীতল সব দোয়াতে তার স্বামীর সুস্থতা কামনা করে।
রাজ অসুস্থ থাকলে তার মাথায় যন্ত্রণা শুরু হয়।
-মাথায় যন্ত্রণা, মাথায় যন্ত্রণা। খুব কষ্ট হচ্ছে।
-আমি আছি। আল্লাহর কসম যদি আমি আপনার মাথার যন্ত্রণা নিতে পারতাম তাহলে এতোক্ষণে নিয়ে নিতাম।
তখন আপনাকে দেখে রাখতে পারিনি বলেই আজ এতোটা কষ্ট পেতে হচ্ছে আপনাকে।
রাজ শীতলের এক হাত নিজের মাথায় দিলো হাত বুলানোর জন্য।
রাজের করুণ অবস্থা দেখে শীতল কোরআন তেলওয়াত করতে বসলো। কোরআন শরিফ ভিজে গেলো রাজের চোখের পানিতে। ” আল্লাহ বলেনঃ “আমি কুরআনকে রোগের নিরাময় হিসেবে পাঠিয়েছি ” [কুরআন–১৭:৮২] শীতল নফল নামাজ পড়ে সারারাত দোয়া করলো রাজের সুস্থতার।
ডক্টর এসে শীতলের শশুর কে ঔষধ বুঝিয়ে দিয়ে গেলো।
শীতল তার শশুরের কাছ থেকে ঔষধ বুঝে নিলো।
-বৌমা চিন্তা করো না।
ওর আরও কতবার এরচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়েছে। ও একটু সুস্থ হয়েই দেখবে তোমাকে জ্বালানো শুরু করেছে।
-বাবা রাত হয়েছে।
কিছু খেয়ে ঔষধ খেয়ে নিন চলুন।
-তুমিও তো কিছু খাওনি।
চলো খাবে কিছু।
-মাফ করবেন। আপনার কথা রাখতে পারবনা।
উনি কিছু মুখে দিতে পাচ্ছেনা। এই অবস্থায় আমার মুখে খাবার ঢুকবে না।
বড় আপা আপনি আপনার ভাইয়ের পাশে বসুন।
আমি বাবাকে খাবার খাইয়ে ঔষধ দিয়ে আসছি।
-তুমি যাও। একটু ফ্রেশ হয়ে নিয়ো। আমি আছি।
রাফিয়া রাজের পাশে বসে আছে।
ভাইয়ের পাশে বসে বসে ভাবতে থাকলো কিভাবে এই কয়েক বছরে কি হয়ে গেলো। মা কে খুব ভালোবাসতো ভাইয়া তাইতো মায়ের চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেনি।
যে বেশি কষ্ট দেয় তার কথায় মনে পড়ে বেশি বেশি। রাজের অবস্হাও তাই।
রাতে শীতল নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ তেলওয়াত পড়লো। তারপর রাজের পাশে বসলো। রাজের কপালে হাত রেখে দেখলো প্রচুর জ্বর। শীতে কাপছে সে। শীতল দুটো কম্বল দিয়েও রাজের শীত কমাতে পাচ্ছেনা। রাজ হঠাৎ করে শীতল কে জড়িয়ে ধরলো। রাজ প্রথমবার শীতলকে এতো কাছে জড়িয়ে ধরেছে।
শীতলের হৃদয়ের স্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে। প্রথমবার কোন পুরুষের এতো কাছ থেকে ছোঁয়া পেলো সে।
হঠাৎ শীতল রাজকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিলো।
শীতল ওয়াশরুমে গিয়ে মুখে পানি দিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলো তারপর শান্ত হয়ে রাজের কাছে গেলো।
রাজ বিরবির করে শ্রেয়সী বলে তাকে ডাকছে আর প্রচন্ড কাঁপছে। এভাবে আর কিছুক্ষণ চললে রাজের কিছু একটা হয়ে যাবে।
শীতল সব ভুলে রাজকে জড়িয়ে ধরলো। রাজও খুব শক্ত করে শীতল কে আরও নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।শীতল রাজের কানে ফিসফিস করে বলল -আমি আছি। আমি আছি। কোথাও যাবনা। আমি আপনার সাথেই থাকব। শীতল রাজের বুকে মাথা রেখে অনেক দিন পর শান্তি নিয়ে ঘুমালো । রাজও শীতলের ছোঁয়া পেয়ে মাথার যন্ত্রণা কষ্ট ভুলে গেলো। একে ভালোবাসা বলে কিনা তা শীতল জানেনা।
রাজ এখন অনেকটা সুস্থ। এই কয়দিন শীতল রাজের সাথেই ঘুমিয়েছে।
রাজের সেবা করেছে দিনরাত। দিনরাত নামাজ পড়েছে, কোরআন পড়েছে।
এরমধ্যে শীতলের এক ক্লাসমেট এসে শীতল কে দেখে গেলো।
-শীতল ভালোই আছিস বল?
-আলহামদুলিল্লাহ।
-তোর শশুর বাড়ি দেখেই বোঝা যায় কত টাকা তাদের।
-তোর শশুর বাড়িও এমন হবে আল্লাহ চাইলে।
– নারে হবে না। তোর মতো কপাল নেই আমাদের।
আচ্ছা শোন, তোর কোন পাগল দেবর আছে?
-না। কেন?
-না মানে তাহলে আমিও বিয়ে করতাম। তারপর তোর মতো এমন রাজরানি হতাম।
শীতলের মুখটা মেঘে ঢেকে গেলো। তাকে যা ইচ্ছে বলুক। তাই বলে স্বামী কে নিয়ে কেউ হাসিঠাট্টা করলে তার ভালো লাগেনা।
শীতলের বান্ধবী রহিমা হাসতে হাসতে বলল- একটু মজা করলাম। কিছু মনে নিস না।
শীতল হাসি মুখে বলল – আজ দুপুরে খেয়ে যাবি। আমাদের নিজেদের পুকুরের মাছ আনা হয়েছে। নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি বিশেষ অর্ডার করে আনা হয়েছে। তুই প্রথমবার এলি তাই তোর জন্য সামান্য স্বর্নের উপহারও আছে।
শীতল কে যে যাই বলুক না কেন, সে কাউকে কষ্ট দিয়ে কথা বলেনি আজ পর্যন্ত। হাসিমুখে সবার সাথে কথা বলে সে। সবার বিপদে এগিয়ে আসে। ওদের নেত্রকোনা থেকে যেকোন লোক সাহায্যের জন্য ময়মনসিংহ এলেই শীতল সাদরে সমাদর করে।
.
-আচ্ছা রাফিয়া অর্থ জানো?
-জ্বি। রাফিয়া ইসলামিক নাম। যার অর্থ উন্নত।
-সবকিছুই জানো দেখছি।
-আপনিই বলেছিলেন।
-ওআচ্ছা। মনে পড়েছে।
রাফিয়া চোখ গরম করে বাহিরে তাকালো।
রাফা বলল – হাসান ভাই। রাফা অর্থ কি যেন বলেছিলেন?
-সুখ।
-আপার নামের মতো এটিও কি ইসলামিক?
হাসান রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল -হ্যাঁ। নাও এবার এই অংক টা করে দেখাও। আগের নিয়মের মতো।
রাফা মাথা নাড়ালো। যদিও নিয়ম গুলো তার মাথায় ঢুকেনি। তবুও এমন ভাব করলো যেন এসব নিয়ম মনে রাখা তুরির ব্যাপার।
-হাসান ভাই নতুন কিছু পড়াবেন? না চলে যাব?
-আইসিটির লজিকের অংক গুলো করে দেখাও।
শীতল রাফা আর রাফিয়া কে হাসানের সামনে হিজাব পড়ে যেতে বলেছে, অকারণে কথা বলতেও নিষেধ করেছে। শীতলের একদম অপছন্দ তার ননদদের কোন ছেলের কাছে টিউশন পড়া।
শীতল পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আর লক্ষ্য রাখে ওদের প্রতি।
রাফিয়া লজিক গেইট খাতায় মনযোগ সহকারে মিলিয়ে মিলিয়ে দেখছে। রাফিয়া তাকাতেই হাসানের চোখে চোখ পড়লো।
হাসান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাফিয়ার দিকে। পৃথিবীতে এই একটা মেয়েকে দেখলেই তার পুরো পৃথিবী থমকে যায়। রাফিয়ার গায়ের রং অত্যন্ত কালো। কোন ছেলে ওকে এপর্যন্ত প্রপোজ করেছে কিনা সন্দেহ আছে। হাসান নামের অতি সুদর্শন ছেলেটার জীবনে ও কি তাও বোধহয় জানেনা এই কালো মেয়েটা।
রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হাসানের ভেতর অস্হিরতা শুরু হয়েছে। মনে হচ্ছে এখুনি হার্ট-অ্যাটার্ক হবে। মেয়েটা কি একদমই বুঝতে পারেনা হাসান কে?
মেয়েরা এতো নিষ্ঠুর মনের কেন? এই মেয়েটার মন কি অন্ধ? হাসান অস্থিরতায় মরে গেলেও এই মেয়েটা একবার আহারে! বলবেও না।
-অনেক ক্ষিদে লেগেছিলো আজ কে?
-তা আর বলতে। আজ পেটে খুব ক্ষিদে ছিলো।
-হা করুন। কত বড় হয়েছেন এখনো খাইয়ে দিতে হয়?
-আমি কবে বড় হলাম?
বড় হলে তো জব অথবা বিজনেস করতে হয়।
আমি তো তোমার সাথে বাসায় বসে বসে থাকি।
-খুব কায়দা করে কথা বলতে পারেন তো।
-আমি তোমার হাত ছাড়া খেতে পারিনা।
-আপনার হাত থাকতে আমার হাতে খেতে হবে কেন?
রাজ তাড়াতাড়ি হাত পেকেটে রেখে দিলো।
-কোথায় আমার হাত?
দেখাও দেখি।
-পাগল একটা!
-তোমার জন্য।
শীতল অবাক হয়ে বলল -কি বললেন?
-কি বললাম?
-নাথিং। হা করুন।
রাজের কথাবার্তা মাঝে মাঝে কেমন সুস্থ মানুষের মতো হয়ে যায়।
সব সময় ছেলেমানুষী টাইপ স্বাভাবিক কথায় বলে শীতলের সাথে। শুধু বাহিরের লোকজন দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায়। সবাই কে আঘাত করে। আত্মহত্যা প্রবণতাও দেখা দেয়।
-উফফ, আঙুলে কামর দিতে দিতে আঙুল খেয়ে ফেলবেন নাকি?
আমিও সুযোগ পেলে আপনার আঙুল ভাজি করে খেয়ে ফেলব।
রাজ আরেকটা কামর দিয়ে বলল- তোমার আঙুল খুব মিষ্টি। মধু মাখিয়েছো নাকি শ্রেয়সী?

.
শীতলের জোহরের নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে বসে প্রতিদিনের মতো মহানবী (সাঃ) এর বলা দুআটি পড়তে থাকলো আর রাজ শীতলের গায়ের সাথে ঘেঁষে বসেছে মাথায় টুপি পড়ে। শীতলের গলা জরিয়ে ধরে শীতলের ঘাড়ে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছে সে।
#দুআটি_দৈনিক_পড়ুন নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন, – যে লোক দৈনিক একশোবার এ দুআটি পড়বে, দুআটি হলো, َ* لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ‏ . * উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওলাহুল হামদু ও হুয়া আ’লা কুল্লি শাইইন কদীর। * অর্থ : আল্লাহ তা’য়ালা ব্যতিত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তাঁরই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। তাহলে তার আমলনামায় দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব হবে। তার জন্য একশটি সওয়াব লেখা হবে এবং আর একশটি গুনাহ মিটিয়ে ফেলা হবে। ঐদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে। কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে ঐ দুআটির আমল বেশি পরিমাণ করবে। বর্ণনাকারী সাহাবী হলেন হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হাদিসটি বুখারী শরীফ থেকে সংগৃহীত। (হাদিস নং 3293) “ ইবনে খায়ের ”
রাজ সব সময় শীতলের নামাজ পড়া কালীন জায়নামাজের পাশে বসে থাকে মাথায় টুপি পড়ে। শীতল দুআ -দুরুদ পড়ার সময় তাকে জরিয়ে ধরে। শীতল দুআ পড়তে থাকে আর রাজ ঘুমুতে থাকে গলা জরিয়ে।
.
ভোরে রাজ আর শীতল বাগানে ফুলে পানি দিচ্ছিল। শীতল রাজকে দুষ্টুমি করে ভিজিয়ে দিলো। রাজও কম যায় না। সেও শীতল কে ভিজিয়ে কাকতাড়ুয়া বানিয়ে দিলো।
শীতল রাজের কোমরে চিমটি দিয়ে প্রতিশোধ নিলো। রাজ শীতলের কাছে এসে সোজা ঘাড়ে একটা কামড় দিয়ে পাল্টা প্রতিশোধ নিলো। শীতল কোমড়ে শাড়ির আচল গুজে নিলো। তারপর কামড় দিতে গেলে রাজকে নিয়ে সোজা ভিজে মাটিতে পড়ে গেলো।
-আমার কোমড় ভেঙে গেলো। দুষ্টু লোক কোথাকার।
-আমাকে কামড় দিতে গেলে তোমাকে ফেলে দিয়ে বার বার পাল্টা প্রতিশোধ নেব শ্রেয়সী হা!হা!হা!
চলবে……..❤❤❤

#লালগোলাপ❤
Writer-Moon Hossain
Part-06
-যদি এনি চান্স সর্দি হয় তাহলে আপনার খবর আছে।
-কটার খবর?
-বারো টার।
-আমার লাগছে শ্রেয়সী।
-তোয়ালে দিয়ে মুছে আজ সব চুল ছিড়ে ফেলব।
-ভালোই হবে। ন্যাড়া হয়ে যাব। সবাই বলবে, মাথা ছিলে টিং টিং এক আনা দিয়ে বউ কিন, মাথা ছিলে টিং টিং এক আনা দিয়ে বউ কিন।
-কি? বউ মানে?
আপনি আবার বিয়ে করবেন আমাকে রেখে?
– নো, নো।
-এই দিনও আমাকে দেখতে হলো? এটা করতে পারবেন আপনি?
-আমি কি তাই বলেছি? সবাই বউ কিনবার কথা বললেই কি কিনব নাকি!
-আপনার তো টাকা আছে কিনতেই পারেন।
-আমার টাকা নেই। বাবার আছে?
-বাবা টা কার?
-আমার।
-তাহলে টাকাও আপনার। বাবার টাকা ছেলেমেয়েদের হয়। বাবার টাকা শুধু আপনাদের তিন ভাই বোনের।
-তাহলে আমি সব টাকা সমুদ্রে ফেলে দেব।
-কেন?
-টাকা না থাকলে তো বউ কিনতে হবে না। আমি তোমাকে ছাড়া কিছু কিনব না। প্লিজ শ্রেয়সী আমার চুল ছিড়ে দিওনা। মাথার চুল থাকলে কেউ তো বউ কিনতে বলবে না।
-এবার কিন্তু আমি খুব কাঁদব বলে দিলাম। চুপ করুন অনেক হয়েছে।
শীতল তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নিলো। সব সময় তার স্বামী এমন এমন কথা বলে যা মন ছুঁয়ে দিয়ে যায়।
হৃদয় তোলপাড় হয়ে উঠে। সুখে পানি চলে আসে চোখ জোড়ায়।
শীতল নিজেকে সামলে নিয়ে বলল – আবার হাসা হচ্ছে। সকাল সকাল আমাকে ভিজিয়ে খুশি লাগছে অনেক?
-তুমি তো আগে ভিজিয়ে দিলে।
-আমি যদি আপনাকে আঘাত করি তাহলে আপনিও আমাকে আঘাত করবেন?
– না।
-কেন?
-আই হ্যাভ নো আইডিয়া শ্রেয়সী। তোমাকে আঘাত করতে পারবে না আমার হাত।
-থাক হয়েছে। আর বলতে হবেনা। কোনদিন না জানি আমাকে মেরেই ফেলেন।
রাজ শীতলের চুলে হাত দিয়ে বলল -আমিও তোমার মাথা মুছে দেব। তোয়ালে দাও।
শীতল হেসে বলল – আচ্ছা।
রাজ শীতলের এতো এতো চুল সামলাতে পাচ্ছে না মোছা দূরের কথা। সে হিমশিম খেয়ে ক্লান্ত হয়ে গেলো।
-উফফ, এতো চুল কেন তোমার মাথায়?
কত লং চুল তোমার।
হাঁটু পর্যন্ত চুল। আরেকটু বড় হলে রুম ঝাড়ু দেওয়া যেত।
-তাহলে কেটে ফেলব?
ন্যাড়া হয়ে যাব?
– নো, নো। তোমাকে ভালো দেখাবে না।
-আরে লাগবে। তখন সবাই আমাকে বলবে, মাথা ছিলে টিং টিং এক আনা দিয়ে বর কিন।
– তুমি বর কিনবে না শ্রেয়সী।
-কেন? আমি কিনব।
তারপর সেই বর কে সেবাযত্ন করব আপনার মতো।
– আমার মতো সেই বর কে খাওয়াবে?গোসল করাবে?ঘুম পাড়িয়ে দেবে? খেলবে?
-আপনার মাথায় অনেক বুদ্ধি তো।
-তুমি এমন করতে পারবে?
-খুব পারব। আফটার অল হি ইজ মাই হাসব্যান্ড।
তাকে অনেক আদরও করব।
শীতল রাজের দুই গাল টেনে বলল -ঠিক এভাবে।সেই বর আমার সব কথা শুনবে।
রাজ চিৎকার করে বলল – আই উইল কিল হিম। আমি খুন করে ফেলব ঐ বর কে। তারপর তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসব।
তুমি ঐ বরের কাছে যেওনা শ্রেয়সী। তাহলে আমি মারা যাব।
রাজের ঠোঁটে আঙুল দিলো শীতল।
– আমি কোথাও যাব না। আপনার কাছ থেকে কোথাও গিয়ে শান্তি পাব না। আমার ভুল হয়েছে এমন কথা বলে। এই কান ধরছি আর হবে না।
.
শীতল রান্না করছে। অমনি রাজ পেছন থেকে শীতল কে জড়িয়ে ধরলো।
শীতল পরম আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
-কি চাই মহাশয়?
-তোমাকে দেখছিনা আমার কাছে।
-কতদিন ধরে দেখছেন না আমাকে? এক বছর? পাঁচ বছর? বারো বছর? নাকি এক শতাব্দী?
– আমি জানিনা।
তোমাকে মনে হয় যুগ যুগ ধরে চিনি।
-তাই বুঝি?
-ইয়েস!
রাজ শীতল কে জড়িয়ে ধরলো খুব শক্ত করে।
শীতল যখন রান্না করতে যায় তখন রাজ এই কাজটাই করে।
পেছন থেকে চুপচাপ এসে জড়িয়ে ধরে যেন শীতল বুঝতে না পারে।
রাজ আশেপাশে থাকলেই শীতল বুঝতে পারে রাজ এসেছে। শীতল রাজের সারপ্রাইজ নষ্ট করতে চায়না। এমন ভাব করে যেন সে বুঝতে পারেনি রাজ এসেছে।
রাজ আর শীতলের লাগানো গোলাপ গাছ গুলো বারন্দার রেলিং বেয়ে উপরে উঠেছে।
লাল টুকটুকে হয়ে আছে। রাজের পছন্দ লাল গোলাপ। আশ্চর্য বিষয় হলো শীতলের ভালো নাম আরবিতে ওয়ার দুন যার বাংলা মিনিং গোলাপ। রাজ কে বললে সে তো নামের বিশেষত্ব বুঝবেই না। শীতলের মন টা খারাপ হয়ে গেলো। রাজ ঘুম থেকে উঠে চোখ মুছতে মুছতে বারান্দায় গেলো।
-কে?
রাজ হাসছে।
-আমার চোখ ধরেছে কে?
রাজ হেসে কুটি কুটি।
– এতো বড় সাহস কার যে এই বাড়ির বউয়ের চোখে ধরে?
আমি মামলা করব তার নামে।
রাজ নিঃশব্দে খুব হাসছে শীতল কে বোকা বানাতে পেরে। এদিকে শীতল খুব ভালো করে জানে এটা তার দুষ্টু স্বামী।
-কে? কে? আমার খুব ভয় লাগছে কে?
রাজ চোখ ছেড়ে দিয়ে বলে – বোকা মেয়ে, এটা আমি।
তুমি হা! হা! রাজ হাসির জন্য কথা বলতে পাচ্ছেনা।
শীতলের মন খারাপ ভালো লাগাতে পরিনত হয়েছে।
সহজ সরল লোকটার হাসি তার সব দুঃখ ভুলিয়ে দেয়।
রাতে রাজ দুধ খাবেনা বলে দিয়েছে। কারণ দুপুরে রাজ যখন ঘুমিয়ে ছিলো তখন সে রাফার স্কুলের মিটিংয়ে গিয়েছিলো। রাজ ঘুম থেকে উঠে শীতল কে দেখতে না পেয়ে খুব অভিমান করলো।
সবাই তাকে বোঝালো শীতল চলে আসবে এখুনি।
বাবা রাজের মাথায় হাত রেখে বলল – নাশতা করে নাও। বৌমা চলে আসবে।
-আমি কি খেতে পারি? শ্রেয়সী আমাকে খাইয়ে দেয়।
-বাবা শান্ত হও। ও চলে আসবে।
নাশতা আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
-নো , নো। আমি তোমার হাতে খাব না।
-আমি খাইয়ে দেব ভাইয়া?
– নো, নো। আমি তোমার হাতেও খাব না রাফিয়া।
-আজ আমাকে ভাবি বলেছে তোমাকে নাশতা খাইয়ে দিতে।
-বলেছে নাকি?
-হ্যাঁ। বলেছে, রাফিয়া উনি ঘুম থেকে উঠলে নাশতা খাইয়ে দেবে।
-সত্যি বলেছে?
-তো মিথ্যে বলছি নাকি? উনি মানে তোমাকে বুঝিয়েছে। ভাবি ছাড়া তোমাকে কেউ উনি ডাকে?
-নাতো।
-তুমিই ভাব। আমরা তো তোমাকে উনি বলিনা। উনি বলে ভাবি সো ভাবি তোমাকে খাইয়ে দিতে বলেছে।
-তাহলে খাইয়ে দাও। ও যখন বলেছে।
-এই তো। আমার সুইট ভাইয়া।
রাজ চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলল – নাশতা ঢুকছে না গলা দিয়ে রাফিয়া।
-আহা! আমার সুইট কিউট ভাইয়া।
-রাফিয়া গলা দিয়ে নামছে না।
-এইতো নামবে। গিলে ফেলো।
রাজ বহু কষ্টে একটু নাশতা খেলো শীতল হাত ছাড়া রাফিয়ার হাতে।
শীতল রাফা কে নিয়ে গাড়ি করে আসছে। রাফা কখনো ক্লাসে অংক কষতে পারেনা। স্কুলে পড়াশোনা একদিও শিখে আসেনা। স্কুলে সেজেগুজে এসে পাশের পার্কে ফুচকা খেতে যায়। কিছএ ছেলে নাকি উত্যক্ত করেছে তাকে।
কোন ম্যাডাম যেনো দেখেছে তাই আজ মিটিং বসেছে রাফা কে নিয়ে। মোটা সোটা ম্যাডাম টা খুব জোরে শীতল কে ধমক দিয়েছে।
-কেমন গার্ডিয়ান আপনি? দেখে রাখতে পারেন না এই বেয়াদব মেয়েটাকে। সেজেগুজে হুর পরি হয়ে আসবে পড়া শেখার বদলে।
রাফা ভয়ে আটখানা হয়ে আছে।
-ভাবি খুব রাগ করেছো?
-না।
রাফা শীতলের হাত ধরতেই শীতল ঝটকা দিয়ে সরিয়ে বলল – তোমার নামে এতো কমপ্লেইন কেন? আজ পার্কে যদি কিছু হতো তোমার? এতো সাজগোছ কেন? হিজাব কোথায় তোমার? স্কার্ফ কি কোমরে বাঁধার জিনিস?
আল্লাহ তায়ালা বলেন ;
“হে নবী তুমি তোমার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে কে বল,তারা যেন তাদের ওড়না ও চাদরের কিছু অংশ নিজেদের (চেহেরার ও বুকের) উপর টেনে দেয়।এতে তাদের চেনা সহজতর হবে,(বোঝা যাবে তারা স্বাধীন ও সম্ভান্ত্র ) ফলে তাদের কে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সূরা আল -আহযাব ৫৯
-আমি অন্যায় করে ফেলেছি।
বাবা কে কিছু বলো না। কষ্ট পাবে।
-সেটা আগে ভাবার দরকার ছিলো।এখন থেকে বিনোদন বন্ধ। আমি তোমাকে পড়াব। কথা টা যেন মনে থাকে।
রাফা মাথা নাড়ালো। মনে মনে খুশি হলো। তার এখন গজাল গাইতে ইচ্ছে করছে। এই যাত্রায় বেঁচে গেলো। যাইহোক, কাল সে পার্কে নতুন মামার হাতের ফুচকা খাওয়াবে বলে কথা দিয়েছে বান্ধবীদের। কাল কিভাবে সাজবে সেটার কথায় চিন্তা করতে লাগলো রাফা।
-আজ আমি রাগ করেছি।
-খুব রাগ?
-ইয়েস। আমি অনেক অনেক বেশি রাগ করেছি।
আমার রাগ ভাঙাও।
রাজ উল্টো দিকে মুখ করে বসে আছে।
-আচ্ছা বাবা কান ধরছি।
এবার থেকে কোথাও যাবনা আপনাকে ছেড়ে।
কথা বলুন? একটু তো মুখ ঘোরান।
রাজ মাথা নাড়ালো।
-রাগ ভাঙেনি।
-তাহলে আমি এক পা উঠিয়ে দাড়িয়ে থাকলাম।
শীতল এক পা উঠিয়ে দাড়িয়ে রইলো।
রাজ আড়চোখে দেখার চেষ্টা চালালো তার শ্রেয়সী কি করছে।
রাজ অন্য দিকে মুখ করে বলল – আর যেন না হয়। আমাকে সারারাত কোলে মাথা রেখে ঘুমাতে দিতে হবে। একটুও দূরে যাওয়া যাবেনা।
শীতল দৌড়ে এসে রাজের হাত ধরে বলল – আমি দুই পায়ে রাজি।
আমাকে ক্ষমা করা হয়েছে তো?
রাজ মাথা চুলকিয়ে বলল-ভেবে দেখব।
রাজের গাল দুটো টেনে দিলো শীতল। রাজ সব ভুলে হেসে উঠলো। শীতল কে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো বুকের মাঝে।
শীতল কোরআন তেলওয়াত করছিলো। রাজ শীতলের হাঁটুতে মাথা রেখে ঘুমুচ্ছে।
রাজ জেগে উঠে বলল – শ্রেয়সী চলো আমরা খেলি।
-কি খেলব?
-ভেবে বলি।
-জ্বি বলুন।
-কানামাছি।
রাজ শীতলের চোখে ওড়না বেঁধে দিলো।
-কোথায় আপনি?
-আমাকে ধরো, আমাকে ধরো।
-উফফ, আমাকে চিমটি দেবেন না। কি আশ্চর্য!
-তুমি আমার কোমরে অনেক চিমটি দাও। আমিও দেবো।
এই নাও চিমটি।
শীতল দুই হাত দিয়ে খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ কে।
-ধরো আমায়, ধরো আমায়। বলতে বলতে রাজ শীতল কে চিমটি কাটছে।
শীতল ক্লান্ত হয়ে বলল – আর খেলব না।
-না আরেকটু। আরেকটু খেলো।
-না, বাবা না।
-ইয়েস, আমি জিতেছি। শ্রেয়সী হেরেছে।
-এখন কি করতে হবে আমায়?
-আমি যা বলব।
শীতল রাজের গালে হাত রেখে বলল- সুস্থ থাকলে, যা বলবেন আপনি তা শুনে খুব ভয় পেতে হতো আমাকে।
-এখন অন্য খেলা হবে।
-কি খেলা?
-তুমি দৌড়াবে এবং আমি তোমাকে ধরব।
-আমি রেডি। শীতল কোমরে শক্ত করে আঁচল বেঁধে নিয়ে এক দৌড়। তাদের রুমটা মাঠের মতো বড়।
-এবার ধরে দেখান আমাকে।
-একটু স্লো স্লো দৌড়াও শ্রেয়সী।
-কি বললেন?আরও স্প্রিরিট? শীতল দৌড়াতে দৌড়াতে ইচ্ছে করেই রাজের কাছে ধরা দিলো।
রাজের হাত টেনে সোজা বিছানায় গিয়ে পড়লো।
দু-জনে হাঁপাচ্ছে। একে অন্যের নিশ্বাস নিজের ভেতর নিচ্ছে। রাজ ক্লান্ত হয়ে চোখ একবার খুলছে আরেকবার বন্ধ করছে।
শীতল রাজের হাত নিজের কোমরে রেখে হেসে বলল – কিছু ফিল করছেন? রাজ মাথা নাড়ালো।
-আমার বুকে কেমন যেন করছে। শুনে দেখবেন?
-ঔষধ খাবে তুমি? তাহলে বুকে ব্যাথা করবেনা।
– এই ব্যথা সেই ব্যাথা না।
– বুঝতে পেরেছি তুমি তেঁতুল খেয়েছো তাই ব্যাথা। বেশি তেঁতুল খেলে ব্যথা হয়।
রাজের গলা চেপে ধরে শীতল বলল -এতো গর্দভ কেন আপনি? আমার বুকে নয় হৃদয়ে ব্যাথা। ঔষধ লাগবে আর ঔষধ এর নাম আদর।
-আদর?
– জ্বি মহাশয়। আমাকে একটু আদর করুন এখন।
রাজ মাথা চুলকিয়ে হঠাৎ শীতলের মাথায় হাত বুলিয়ে তার মতো বোঝে আদর করতে থাকলো।
রাজের মাথায় আদর বলতে যেটা সে বুঝেছে সেটাই করছে।
শীতল এতেই পরম সুখ অনুভব করলো।
.
শীতল রাতে বেশ বড় দুটো গামলায় পানি নিয়ে তার শশুর সাহেবের বেলকুনিতে রাখলো।বয়স হয়েছে তাই পায়ে ব্যাথা অনুভব করে ন তিনি। নিজ হাতে পানি দিয়ে পা ধুইয়ে মালিশ করে দেবে তিনি অফিস থেকে এলে।তিনি পানিতে পা ডুবিয়ে পেপার পড়তে পছন্দ করেন।
রাজ শীতল কে খুঁজতে এসে বাবার বেলকুনিতে দেখলো। পানি দেখে দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় এলো।
শীতল বোঝে উঠার আগে রাজ গামলার পানি ঢেলে দিচ্ছে তার উপর।
শীতলের আর্তচিৎকারে পুরো বাড়ি স্তব্ধ হয়ে গেলো। কারণ গামলার পানি প্রচন্ড গরম ছিলো। শীতল এক গামলার ঠান্ডা পানি গরম পানির গামলার উপর ঢালার আগেই রাজ এই ভয়ংকর কান্ড করলো। শীতলের চিৎকারে রাজ মজা পেয়ে অট্টহাসিতে ভেঙে পড়ছে।
.
.
চলবে…