গল্প:-#এমনটা কথা ছিলো না পর্ব-১১(শেষ পর্ব)
লিখা:- AL Mohammad Sourav
।
আমার ছেলেটাকে ফুসলিয়ে বাড়ী থেকে বেড় করে এনে একা একা কত সুখে সংসার করতেছো? আর সেদিকে আমি প্রতিনিয়ত কেঁদে যাচ্ছি সেই দিকে কি তোমার খেয়াল আছে? কোথায় আমার ছেলে সৌরভ? আমি এখুনি ওকে বাড়ীতে নিয়ে জেতে এসেছি। দরজাটা খুলার সাথে সাথে আমার শ্বাশুড়ি কথা গুলি বলে উঠে। আমি সব শুনে হাসি মুখে বলি।
সুমি:- মা বাহিরে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? আসুন ভিতরে আসুন। ওনি অনেকটা রাগান্বিত ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তাও আমি হাসি মুখে ওনাকে আবার বলি। মা ভিতরে আসুন যা বলবেন ঘরে গিয়ে বসে বলেন।
শ্বাশুড়ি:- আমি এই কুঁরের ঘরের ভিতরে ঢুকতে আসিনি। কোথায় আমার ছেলে ওকে ডাক দাও। আমি ওকে নিয়ে জেতে এসেছি।
সুমি:- ওনি তো অফিসে চলে গেছে। তখনি আমার শ্বাশুড়ি রেগে গিয়ে বলে।
শ্বাশুড়ি:- অফিসে গেছে মানে? ওর তো চাকরি চলে গেছে। তাহলে ও কিসের অফিস গেছে?
সুমি:- কি ওনার চাকরি চলে গেছে! কিন্তু ওনি তো রোজ সকালে অফিসে যায়।
শ্বাশুড়ি:- সৌরভ অফিসে যায় না। সে রাস্থায় রাস্থায় হেটে দোকানে দোকানে গিয়ে মাল বিক্রি করে। আমার যেই ছেলে বাইক ছাড়া কোথাও যায়নি আর সেই ছেলেটা এখন হেটে হেটে রাস্থায় ঘুরে ঘুরে দোকানে দোকানে যায়। সবকিছু তোমার জন্য হয়ছে। তুমি ওকে কি তাবিজ করেছো বল?
সুমি:- মা আপনি সবসময় আমার দোষ দেন কেনো! আমি কোনো তাবিজ করিনি! সৌরভ আমাকে ভালোবাসে আর আমিও ওকে অনেক ভালোবাসি। আমি তো জানি না ওনার চাকরিটা চলে গেছে আর ওনি এখস মার্কেটিং কাজ করে।
শ্বাশুড়ি:- তুমি সব জেনে এখন না জানার বান করে আছো। শুনো সুমি সৌরভ আসলে বলবে আজকেই জেনো বাড়ীতে চলে যাই। আর যদি আজকে সৌরভ বাড়ীতে না যায় তাহলে আমি মনে করবো তুমি ওকে বাড়ীতে জেতে বারণ করেছো। আর তুমি ওকে তাবিজ করে আটকিয়ে রেখেছো।
সুমি:- দেখুন মা আমি আপনার ছেলেকে কোনো তাবিজ করিনি। আর তাছাড়া আমি কোনো কিছু বলতে পারবো না। দরকার হলে আপনি ফোন করে বলেন আপনার ছেলেকে। যদি আপনার ছেলে জেতে চাই তাহলে আমি বাঁধা দিবো না।
শ্বাশুড়ি:- আমাদের সবার নাম্বার সৌরভ বল্ক করে রাখছে। তানা হলে কি আমি তোমার সাথে এত কথা বলতাম। আর তাছাড়া তোমার মত পরিবারের মেয়েদের আমি খুব ভালো করে চিনি। নিজের স্বার্থের জন্য সব করতে পারো।
সুমি:- হ্যা সব করতে পারি তবে স্বামীর সুখের কথা চিন্তা করে সব করতে পারি। আমাদের মত পরিবারের মেয়েরা আর যাই করুক অন্তত স্বামীর কথার উপরে কথা বলাটা আমাদের বাবা মা শিখিয়ে দেয়নি।
শ্বাশুড়ি:- ঠিক আছে আমি এই কথা গুলির প্রতিশোধ নিবো। আমার ছেলেটাকে তাবিজ তুমি ভালো করেই করেছো। আমিও আমার ছেলেটাকে বাড়ীতে নিয়ে যাই এরপর হবে বাকি কথা।
সুমি:- ঠিক আছে আমিও দেখবো। তখন শ্বাশুড়ি রাগ করে চলে গেছে। আমি একটু এগিয়ে গেছি তখন চেয়ে দেখি গাড়ীর সামনে বড় ভাবি দাঁড়িয়ে আছে। শ্বাশুড়ি সামনে জেতেই বড় ভাবি কিছু জিজ্ঞেস করেছে। শ্বাশুড়ি কিছু না বলেই গাড়ীতে উঠে গেছে। আমি আবার ঘরে চলে এসেছি তখনি মা ফোন করেছে রিসিভ করতেই বলে।
আম্মা:- সুমি জামাই বাবা ফোন করেছে তুই নাকী হাসপাতালে যাবি চেকআপ করাতে?
সুমি:- হ্যা মা যাবো। তুমি এসো আমি অপেক্ষা করছি। মা ঠিক আছে বলে ফোনটা কেটে দিছে। আমি মন খারাপ করে বসে আছি। সৌরভের চাকরিটা চলে গেছে একবারও আমাকে বলেনি। আবার আমাকে বলে সব কথা ওনাকে বলতে। নিজে যে আমার কাছ থেকে এত বড় একটা কথা লুকিয়ে গেছে সেইটার কি কোনো জবাব আছে ওনার কাছে? তাঁর জন্য বলে অফিসে কাজের চাপ বারছে তাই সকালে জেতে হয় আর দেড়ী করে বাড়ীতে ফিরতে হয়। তাই তো বলি প্রতিদিন রাতে কেনো মাঝ রাতে উঠে নিজেই নিজের পা গুলি টিপে। আজ বুঝতে পারছি সারাদিন অনেক হাটাহাটি করে আর রাতে পা ব্যথা করে তাঁর জন্য এমনটা করে। আজ আসুক বাড়ীতে তাঁর পর আমিও কি জিনিস বুঝাবো। সবসময় শুধু আমাকেই সবকিছু থেকে বাচিয়ে নিবে আর নিজে কষ্ট করবে এইটা আর হবে না। কিন্তু একটা কথা কিছুতেই মাথায় আসতেছে না। শ্বাশুড়ি মা আমাদের ঘরের ঠিকানা জানলো কি করে? সৌরভ তো বলেনি তাহলে কে বলেছে? এমন সময় মা এসেছে।
আম্মা:- সুমি চল।
সুমি:- হ্যা মা চলো। মায়ের সাথে আমি বেড়িয়ে এলাম। একটা রিকশা নিয়ে দুজনে হাসপাতালে এসেছি। ডাক্তারের দেখিয়ে নিলাম সবকিছু ঠিকঠাক আছে তবে একটা সুসংবাদ দিয়েছে আমাদের দুইটা বেবী হবে। একটা ছেলে আরেকটা মেয়ে। আমি জানি সৌরভকে এইটা বললে অনেক খুশি হবে। কিন্তু যদি সিজার করানো লাগে তাহলে তো অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। এখন সৌরভের চাকরিটা নেই তাঁর উপরে ওর বাবা মায়ের সাথেও সর্ম্পকটা ভালো নেই। আর আমাদের যে অবস্থা মনে মনে দুআ করছি আল্লাহ যেনো সবকিছু নরমাল ভাবে করে দেয়। এসব চিন্তা করতে করতে যাচ্ছি তখনি চেয়ে দেখি সৌরভ একটা ভ্যান গাড়ীর পেছনে বসে যাচ্ছে। দেখে বুকের ভিতরে কেমন চিন করে উঠেছে। তাহলে শ্বাশুড়ি মা যা বলেছে তাই সত্যি সৌরভের আগের চাকরিটা চলে গেছে। আমি ডাক দিতে যেয়েও দেয়নি কারণ সৌরভ খুব কষ্ট পাবে তাই। আজ বাসায় আসুক ওকে ওর বাড়ীতে পাঠিয়ে দিবো। তাও এতটা কষ্ট করতে আমি দিবো না। শুধু ওকে বলবো আমার ডেলীবারির সময় যেনো পাশে থাকে বাছ আর কিছু দরকার নেই। এসব ভাবতে ভাবতে আমি বাড়ীতে এসেছি।
আম্মা:- সুমি আমি তাহলে যাই। আর বাবা সৌরভ আসলে ওকে বলিস তোকে আমাদের বাড়ীতে পাঠিয়ে দিতে। তোর এখন একদম একা থাকা ঠিক হবে না।
সুমি:- মা এখন না আমি আরও কিছুদিন পরে যাবো। তুমি এখন যাও সময় হলে আমি নিজেই আসবো। মা চলে গেছে আমি বসে আছি একদিকে মনটা খুব খুশি অন্য দিকে খুবই খারাপ লাগছে সৌরভের জন্য। এত বড় লোকের ছেলে কিনা রাস্থায় হেটে হেটে কাজ করবে? আজ আসুক ওনি বলে গিয়ে রান্না বসিয়েছি। রান্ন শেষ করে ঘরে এসে নামায পড়ে নিলাম। খাওয়া দাওয়া করে একটু ঘুমিয়েছি ঘুম থেকে উঠে কিছুটা হাটাহাটি করে ঘরে বসে আছি। দেখতে দেখতে রাত দশটা বাজে তখন সৌরভ এসেছে। আমি কাছে গিয়ে সার্টের বোতাম গুলি খুলতেছি তখনি সৌরভ বলে।
সৌরভ:- ডাক্তারের কাছে গেছিলে?
সুমি:- হ্যা।
সৌরভ:- ডাক্তার কি বলেছে?
সুমি:- সবকিছু ঠিকঠাক আছে।
সৌরভ:- আমাদের রাজকন্যা হবে তাইনা?
সুমি:- নাহ রাজ কুমার। তখনি সৌরব তাঁর চেহারাটা হাল্কা কালো করে নিছে। তখনি বলি। মিষ্টার আমাদের দুইটাই হবে রাজকুমার আর রাজকন্যা তখনি সৌরভ আমাকে কুলে তোলে নেই আর খুশিতে আত্ম হারা হয়ে যায়। আমি সৌরভকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরি আর ওর কপালে ছোট করে চুমু দিয়ে বলি। আজকে না মা এসেছিলো।
সৌরভ:- হ্যা আমি তো ফোন করে বলেছি তোমার মাকে আসতে। আর তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে জেতে।
সুমি:- আমার মা না। আপনার মা। তখনি সৌরভ রেগে গিয়ে বলে।
সৌরভ:- মা আমাদের বাসার ঠিকানা পেলো কোথায়? তুমি মাকে ফোন করে ঠিকানা দিয়েছো?
সুমি:- না আমি তো ঠিকানা দেয়নি। আমি তো মনে করেছি আপনি ঠিকানা দিয়েছেন।
সৌরভ:- মা এসে কি বলেছে?
সুমি:- বলেছে আপনাকে আজকের মধ্যে বাড়ীতে চলে জেতে। যদি বাড়ীতে না যান তাহলে নাকী অনেক খারাপ হবে।
সৌরভ:- আর কি বলেছে?
সুমি:- বলেছে আমি নাকী আপনাকে তাবিজ করে বাড়ী থেকে বেড় করে নিয়ে এসে আলাদা করে থাকতেছি।
সৌরভ:- বুঝতে পারছি। আচ্ছা বাদ দাও এসব কথা। আবার যদি এসে তখন বলবে আমাকে কিছু না বলে আপনি আপনার ছেলেকে বলেন। আমি এই ব্যাপারে কোনো কিছু জানি না। এখন বলো তুমি কি চাও আজ তুমি আমাকে যা শুনিয়েছো তা শুনে আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। এখন বলো তুমি কি চাও।
সুমি:- আমার কিছু লাগবে না। আপনি তো আমার সব তবে আজ একটা কথা জানতে চাই আপনি সত্যি করে বলেন আপনি এখস কিসের কাজ করেন?
সৌরভ:- মা তোমাকে বলে দিছে আমি মার্কেটিং চাকরি করি তাইনা?
সুমি:- আপনি আমাকে এতদিন মিথ্যা বলেছেন কেনো?
সৌরভ:- মিথ্যা নয় আমি তো বলিনি তুমি এখন প্রেগন্যান্ট। এসব শুনলে অযথা চিন্তা করবে তাই তোমাকে কিছু বলিনি। আজকেও বলতাম না যদি না মা তোমাকে এসব বলতো। বাবা ঐদিন আমাকে রাত আটার সময় দেখে এক দোকানে অর্ডার নিতেছি। বাবা মনে হয় বাড়ীতে গিয়ে মাকে বলেছে। বাবা আমাকে বুঝিয়েছে বাড়ীতে যাবার জন্য কিন্তু আমি জেতে রাজি হয়নি। যে বাড়ীতে আমার বৌয়ের কোনো সম্মান নেই সেই বাড়ীতে আমি গিয়ে কি করবো বলো?
সুমি:- এতটা ভালোবাসেন আমাকে?
সৌরভ:- খুব খুব ভালোবাসি। আব্বা খুব করে আমরা কোথায় থাকি তা জানতে চাই তখনি ঠিকানাটা দেয় আর আব্বা মনে হয় আম্মাকে ঠিকানা দিয়েছে। জানো রিয়া যেদিন আমাকে ছেড়ে চলে গেছিলো সেদিন আমি প্রতিজ্ঞা করি যাকে বিয়ে করবো তাকে এতটা ভালোবাসবো যাতে করে সবাই আমার ভালোবাসা দেখে হিংসা করে। তখনি আমি ওনাকে আবার জড়িয়ে ধরি। আর পাগলের মত আদর করতে থাকি। ওনিও আমার ঠোঁটের মধে নিজে ঠোঁট গুজে দেয়। আমরা দুজনে দুজনকে আপন করে নেই। আমার ভাগ্যটা সত্যি অনেক ভালো যার জন্য এমন স্বামী পেয়েছি। আমাদের মাঝে এখন আরও সম্পর্ক ভালো দেখতে দেখতে আমার প্রেগন্যান্সির সারে আট মাস হয়ছে। আমার ডেলীবারির ডেট আর তিন দিন পরে দিছে। ডাক্তার বলেছে সিজার করাতে হবে। এখন আমি চিন্তা করতেছি এত টাকা সৌরভ কোথা থেকে পাবে? এসব চিন্তা করতে করতে আমার দিন গুলি পেরিয়ে গেছে আজ আমাদের ডেলীবারির সময় সৌরভ আমার হাতটা ধরে রাখছে তখনি ডাক্তার এসে বলে।
ডাক্তার:- দেখুন ওনার শরীরের যে কন্ডিশন এতে করে এ বি পজিটিভ র*ক্তে*র প্রয়োজন হতে পারে। আপনি র*ক্ত*টা জুগার করে রাখেন।
সৌরভ:- ডাক্তার ঠিক আছে। সৌরভ তাঁর কিছু ফ্রেন্ডকে ফোন করে বলেছে। আমি শুয়ে আছি কিছুক্ষণ পরে আমার ডেলীবারির জন্য অপারেশন করানো হবে। আমি সৌরভের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখছি।
সুমি:- একটা কথা বলবো?
সৌরভ:- এমন ভাবে বলছো কেনো? বলো কি বলবে?
সুমি:- যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলে আপনি আমার সন্তানদের কিন্তু আগলে রাখবেন। তখনি সৌরভ রেগে যায় আর বলে।
সৌরভ:- সুমি তোমার কি হয়ছে এমন করে কথা বলছো কেনো? আমি তো তোমার পাশে আছি। তোমার কিছু হবে না।
সুমি:- আমার খুব ভয় করছে! তখন আমি সৌরভের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ছে। তখন খুব শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরছে।
সৌরভ:- তুমি আগে যদি বলতে যে তোমার বাচ্চা নিলে ভয় করে তাহলে সারাটা জীবন আমি বাচ্চা ছাড়া থেকে জেতাম। সুমি তুমি নিজেকে শক্ত করো দেখো ইনশাআল্লাহ কিছু হবে না। তখনি একজন নার্স এসে বলে।
নার্স:- আপনি আসুন আমার সাথে কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার অপারেশন করানো হবে। তখন আমাকে নিয়ে গেছে। সৌরভ আমার পিছু পিছু এসেছে।
সৌরভ:- সুমি তুমি কোনো চিন্তা করো না। দেখবে সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। আমাকে একাই অপারেশন থিয়েটার রুমে নিয়ে গেছে। সৌরভ বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে। সাথে আমার মা বাবা আর ছোট ভাই বোন। তবে সৌরভের বাড়ী থেকে কেউ এখনো আসেনি। মনে হয় কেউ জানে না আজ আমার অপারেশন। কিছুক্ষণ পর একজন মহিলা ডাক্তার এসে আমাকে বলে।
ডাক্তার:- আপনি আল্লাহকে ডাকতে থাকুন ইনশাআল্লাহ আপনার কিছু হবে না। তখন ওনি ওনার কাজ করতে আরম্ভ করছে আর আমি মনে মনে আল্লাহকে ডাকতেছি। কতক্ষণ সময় লাগছে তা বলতে পারছি না তবে মিনিমাম দুই ঘন্টার বেশী সময় লাগছে সেইটা আনুমানিক হবে। আমার দুইটা কিউট বাচ্চা হয়ছে। একটা ছেলে আরেকটা মেয়ে। কিছুক্ষণ পর আমাকে একটা রুমে নিয়ে গেছে। আমার শরীরে পচন্ড জ্বর চলে আসছে। সৌরভকে দেখছি সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখছে। আর আমার শরীরের উপরে কম্বল দিয়ে রাখছে আমি শীতে কাপতেছি এক এক বাবা মা ভাই বোন সবাই রুমে এসেছে।
আম্মা:- সুমি কেমন আছিস? আমি ইশারা করে বুঝিয়েছি ভালোই আছি। আস্তে আস্তে আমি ঠিক হয়ে উঠেছি। আমাকে আমাদের বাড়ীতে নিয়ে এসেছে। দেখতে দেখতে ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। আমাদের মেয়ের নাম মুছাম্মত সুহানা আর ছেলে মোহাম্মদ সাবিদ। সৌরভ এসেছে।
সৌরভ:- সুমি চলো আমরা আমাদের বাসাতে যাবো।
আম্মা:- এত ছোট বাচ্চা নিয়ে সুমি একা সবকিছু সামলাতে পারবে না। আরও কিছুদিন যাক তখন যাবে।
সৌরভ:- মা আমি আছি আর তাছাড়া অফিস থেকে এখন আমাকে ফ্লাট দিয়েছে। একটা বাইক দিছে। এখন আর এত বেশী ডিউটি করতে হয়না।
সুমি:- মা ওনি যেহেতু বলছে আমি যাই। আর তাছাড়া মাঝে মাঝে তোমরা এসো তাহলে হবে। সৌরভ আমাদের সাথে করে নতুন বাসাতে এসে উঠেছি। আমাদের নতুন বাসার আজ এক সাপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। আমি আর সৌরভ আমাদের ছেলে মেয়ের সাথে দুষ্টমি করতেছি তখনি কলিং বেল বেজে উঠেছে। সৌরভ দরজাটা খুলে দেখে ওর পরিবারের সবাই এসেছে।
সৌরভ:- বাবা মা তোমরা এই বাসার ঠিকানা পেলে কোথায়?
শ্বশুর:- তুই আমাদের খুঁজ রাখিস না বলে আমরাও কি তোর খুঁজখবর রাখবো না। ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়।
শ্বাশুড়ি:- তা বাহিরে দাঁড় করিয়ে রাখবি নাকী ভিতরে আসতে বলবি?
সৌরভ:- আসেন মা ভিতরে আসেন। সবাই এক এক করে ভিতরে এসেছে। আমার শ্বাশুড়ি এসেই আমাদের ছেলে মেয়েকে কুলে নিয়েছে।
শ্বাশুড়ি:- নাতী তো দেখছি একদম আমার মত হয়ছে। তখন সবাই মিলে অনেক দুষ্টমি করে আমাদের সন্তানদের সাথে। শ্বাশুড়ির মধ্যে অন্যরকম একটা পরিবর্তন এসেছে। তখনি ওনি বলে। বৌমা সবকিছু গুচিয়ে নাও আমরা তোমাদের নিতে এসেছি।
শ্বশুর:- সৌরভ হ্যা চল অনেক হয়ছে। তোর মা ভুল বুঝতে পারছে। আর সামনের সাপ্তাহ সোনালীর বিয়ে। চল আমাদের সাথে।
সৌরভ:- সরি বাবা আমার পক্ষে আর ঐ বাড়ীতে যাওয়া সম্ভব না। আমার ছেলে মেয়েকে দেখতে ইচ্ছে হলে আপনারা এসে দেখে যায়েন। আমি আর ঐ বাড়ীতে জেতে চাইনা।
শ্বাশুড়ি:- বাবা সৌরভ আমি অনেক অন্যায় করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দে বাবা। চল আমাদের সাথে সবাই মিলে এক সাথে থাকবো।
সৌরভ:- মা প্লিজ আমাকে এভাবে বলবেন না। দয়া করে আমাকে আমার সংসার নিয়ে আলাদা করে থাকতে দিন। যদি কখনো আপনাদের চলতে ফিরতে ঐ বাড়ীতে সমস্যা হয় তাহলে চলে আসিয়েন এই কুরের ঘরে। আমি আপনাদের সাদরে গ্রহন করে নিবো আর মাথায় তুলে রাখবো।
সফিক:- সৌরভ ভাই তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি তোর চাকরিটা নষ্ট করে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি কাজটা ঠিক হয়নি।
সৌরভ:- আমি জানতে পারছি তবে এসব নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। যা হবার তা হয়ে গেছে এসব নিয়ে এখন বলাটা বেকার। আর সোনালী তোর জন্য শুভকামনা রুইলো ভাইয়া তোর বিয়ের দিন আসবো তোর ভাবিকে নিয়ে।
শ্বশুর:- সৌরভ চল বাবা। বৌমা তুমি সৌরভকে বলো।
সৌরভ:- বাবা প্লিজ আমাকে এমন ভাবে বলবেন না। কাছে থেকে যেহেতু আমরা ভালো থাকিনি তাহলে দূর থেকে আপনাদের কাছে ভালো থাকি। তখন শ্বশুর শ্বাশুড়ি কেউ কোনো কথা বলেনি। সবাইকে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়ে সৌরভ বিদায় করে দিছে। সবাই চলে গেছে তখন আমি বলি।
সুমি:- আপনি রাজি হলেন না কেনো?
সৌরভ:- রাজি হয়ে কি হবে? এখন দূরে আছি ভালো আছি যখন কাছে যাবো তখন আবার খারাপ হয়ে জেতে পারি। আর শুনো এখন আরাম আয়েশ কম কিন্তু শান্তিতে আছি এইটাই তো চাই। এসো আমরা আমাদের ছেলে মেয়েকে আমাদের মত করে মানুষ তৈরি করি যাতে করে ওরা আমাদের করে সুন্দর ভাবে জীবন তৈরি করতে পারে। তখনি আমি সৌরভকে জড়িয়ে ধরি আর সৌরভ আমাকে জড়িয়ে ধরে। তারপর কুলে তোলে নেই। এখন আমাদের মাঝে আরও বেশী ভালোবাসা হয় সত্যি আমার স্বামীর জন্য আমি আজ এত সুন্দর একটা সংসার জীবন পার করতেছি। যদি স্বামী তার স্ত্রী পাশে থাকে তাহলে আর কি লাগে? আমার স্বামী আমার সবকিছু।
।সমাপ্তি।
।