Home "ধারাবাহিক গল্প খুঁজেছি তোকে খুঁজেছি তোকে পর্ব-০১

খুঁজেছি তোকে পর্ব-০১

0
362

#খুঁজেছি_তোকে (০১)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

২ বছর আগে যাকে বিয়ে করে সংসার করব না বলে বাসা থেকে পালিয়েছিলাম আজ তাকে নিজের ভার্সিটির স্যার রুপে দেখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ‘থ’ হয়ে গেল নুরা। চোখের পল্লব ঝাপটিয়ে সত্যি কি না দেখার জন্য মেয়ে টা আবার চোখ মেলে তাকায়। সদ্য জয়েন হওয়া স্যার কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নূরা ভরকে গেলো। স্যারের থেকে নিজে কে আড়াল করার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রথম সাড়িতে বসে থাকায় নিজেকে আড়াল করতে পারল না নূরা। নূরার ভয়ে গলা শুকিয়ে যায়। বার কয়েক শুকনো ঢোক গিলে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আশেপাশে তাকায়। অধিকাংশ মেয়েরা স্যারের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আর তাকিয়ে থাকবেই না বা কেন? স্যার যে অত্যাধিক হ্যান্ডস্যাম। যেকোনো মেয়েই প্রথম দেখায় হা হয়ে যাবে। নূরা কিছু মেয়েদের থেকে অপ্রত্যাশিত বাক্য শুনতে পেলো। একটা মেয়ে বলছে,

“- দোস্ত দেখ না নতুন স্যার টা কত হট।

মেয়েটার কথা শুনে নূরা’র মাথায় ধপ করে রাগ চেপে বসল। রেগে তাকালো মেয়ে টার দিকে কিন্তু মেয়ে টার সে দিকে কোনো খেয়াল নেই সে তো এক ধ্যানে তাকিয়ে স্যারকে গিলে খাচ্ছে। মেয়ে টার সাথে আরও কিছু মেয়েও আছে।

নূরা’র হাজারো কল্পনা জল্পনার মাঝেই ডিপার্টমেন্টের প্রধান মিজানুর রহমান স্যার সকল কে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“- এভরিওয়ান ইনি তোমাদের নতুন স্যার। আজ থেকে ম্যাথ ক্লাস উনিই নিবেন। তোমাদের স্যারের নাম ফাইয়ান চৌধুরী সামির। ডাকনাম সামির। তোমরা সবাই স্যারের সাথে পরিচিত হয়ে নাও। আমার কিছু জরুরি কাজ আছে আমি গেলাম। বলে মিজানুর রহমান স্যার চলে গেলেন।

নূরা ম্যাথমেটিক্স ডিপার্টমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষের স্টুডেন্ট। নূরা’র পুরো নাম মাইশা আহমেদ নূরা। সবাই নূরা বলেই ডাকে। নূরা বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। নূরা’র বড়ো ভাই আছে। নূরা’র বাবা পেশায় একজন উকিল। নূরা’র মা গৃহিণী। ভাই মাস্টার্স শেষ করে সদ্য চাকরিতে জয়েন হয়েছে। নূরা’র ভাবনার মাঝেই সামির স্যার নূরা’র সামনে এসে দাঁড়ালেন। নূরা’র সেদিকে খেয়াল ছিল না। সামির স্যার তাকে কয়েক বার ডাকেন কিন্তু নূরা শুনতে পায়নি। সে তো ভাবনা তে বিভোর ছিল। স্যার এবার রেগে সজোরে টেবিলে থাবা মারেন। চেচিয়ে বলেন,

“- হেই স্টুপিড গার্ল? কানে শুনতে পাও না?

নূরা ভয়ে কেঁপে ওঠে। ভয়ার্ত চোখে স্যারের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলে,

“- জ্বি স্যার, কিছু বলছেন?

সামির স্যার গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,

“- স্ট্যান্ড আপ।

নূরা সোজা হয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়ায়। সামির স্যার দু হাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে নূরা’র দিকে তাকিয়ে বলল,

“- লুক এট মি!

নূরা স্যারের দিকে তাকালো। স্যার বললেন,

“- এই মেয়ে কানে কম শোনো? আই মিন তোমার কানে কি প্রবলেম আছে? ডাক্তার দেখিয়েছো?

স্যারের কথা শুনে নূরা আকাশ থেকে পড়ল। অবাক হয়ে বলল,

“- আমি কেন কানে কম শুনতে যাবে স্যার? আমার কান তো ঠিকঠাক ই আছে।

সামির স্যার বাঁকা হাসলেন।তারপর বললেন,
“- তাহলে এতক্ষণ ডাকার পরও কেন ডাক শুনছিলে না তুমি?

নূরা মাথা নত করে বললেন,

“- সরি স্যার। আসলে আমি খেয়াল করি নাই।

“- মন কোথায় ছিলো?

স্যারের কথা শুনে নূরা আরেক দফা অবাক হলো। মনে মনে বলল, কি নির্লজ্জ ব্যাটা রে বাবা। আমাকে বলে, মন কোথায় ছিল? শা*লা খচ্চর ব্যাটা।এর জন্য ই তো তোকে ছেড়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলাম।

নূরা কে বিরবির করতে দেখে স্যার বাঁকা চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেন,

“- কি বিরবির করছো? স্পষ্ট করে বলো সবাই শুনুক?

নূরা দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
“- শা*লা তোকে একবার বাগে পায় তারপর বুঝাবো এই নূরা কি জিনিস। নূরা মুচকি হেঁসে বলে,

“- কই স্যার, আমি তো কিছু বলি নাই।

হঠাৎ করে সামির স্যার আরও গম্ভীর হয়ে গেলেন। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন,

“- তোমার পরিচয় দাও?

নূরা অবাক হয়ে বলল,

“- আমার পরিচয় আপনি জানেন না স্যার?

“- নো ।

স্যারের সোজাসাপটা না টা ঠিক হজম হলো না নূরা’র। নূরা রাগে গজগজ করতে করতে বিরবির করে বলে,

“- শ্লা’র বজ্জাত ব্যাটা আম্রে নাকি চিনে না৷

“- কি হলো চুপ করে আছো কেন? ফাস্ট বলো? শুধু তোমার এখানে এত সময় ওয়েস্ট করলে হবে না আমার। সবার পরিচয় জেনে তারপর ক্লাস নিতে হবে।

স্যারের ধমকে কেঁপে উঠল নূরা। তারপর বলল,

“- নূরা আমার নাম।

স্যার চোখ কুঁচকে বলেন,
“- জাস্ট নূরা। পুরো নাম বলুন।

নূরা’র মেজাজ ধীরে ধীরে খারাপ হতে লাগল। তবুও ভার্সিটি বলে চুপ করে রয়েছে। নূরা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

“- মাইশা আহমেদ নূরা। বাবা সুলাইমান আহমেদ, মা স্বপ্না আহমেদ ভাই নিহাল আহমেদ। আর কিছু জানতে চান স্যার?

সামির স্যার মনে মনে হেঁসে বললেন,

“- সিট ডাউন।

নূরা শব্দ করে বেঞ্চে বসে। স্যার আরেকজনের সাথে পরিচিত হতে যান। নূরা’র রেগে বসা তিনি আড়চোখে দেখেন। মেয়ে টা রেগে চোখ মুখ লাল করে ফেলেছে।

স্যার সবার সাথে পরিচিত হয়ে ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। প্রথম দিন ক্লাস নেওয়ায় সবাই অসন্তুষ্ট হয়। কেন না নতুন নতুন ক্লাসে আসছে তাদের সাথে গল্প করুক আড্ডা দিক কিন্তু তিনি তা না করে ক্লাস নিতে শুরু করছেন। নূরা তো বিরক্তি তে চোখ মুখ কুচকে আছে।

স্যার যখন বোর্ডে একটা অংক বোঝান। তখন নূরা’র পাশ থেকে একটা মেয়ে বলে,

“- দোস্ত জানিস, সামির স্যার নাকি খুব রাগী। তিনি অতিরিক্ত কথা বলা পছন্দ করেন না। এমনকি ক্লাস চলাকালীন কেউ ডিস্টার্ব করলে তাকে নাকি শাস্তি দেন।

মেয়ে টার আরেক টা বান্ধবী বলে,

“- তুই এসব জানিস কি করে?

“- আরে আমার চাচাতো ভাই বলছে। আমি তো জানতাম আজ স্যার জয়েন করবে। বাসা থেকে আসার সময় ভাইয়া ই আমাকে বলেছে যেন কোনো দুষ্টামি না করি।

“- ঠিক আছে। তাহলে চুপচাপ ক্লাস কর নয়তো ঝড় কিন্তু আমাদের দিকেই আসবে।

মেয়ে টার বলতে দেরি কিন্তু স্যারের সেখানে আসতে দেরি হয় না। স্যার এসে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,

“- হেই ইউ স্ট্যান্ড আপ।

মেয়ে দুটো চমকে তাকালো। মেয়ে টা কাঁপা গলায় বলে,

“- জ্বি স্যার,

“- তোমরা দুজনেই উঠে দাঁড়াও।

মেয়ে দুটো ভয়ে ভয়ে দাঁড়ালো। ক্লাসের সকলের দৃষ্টি তখন তিনজনের উপর। মেয়ে দুটো ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তখনই স্যারের কণ্ঠে ভেসে এলো।

“- তোমরা দু’জন কি গল্প করছিলে?

মেয়ে দুটো আবারও কেঁপে উঠল। একটা মেয়ে বলল,

“- তেমন কিছু না স্যার।
“- তোমাদের দু’জনের নাম কি যেন বললে?

“- জ্বি স্যার আমার নাম সাদিয়া আর ওর নাম শারমিন।

“- তো মিস সাদিয়া ওর শারমিন নেক্সট টাইম যেন সেম কাজ করতে না দেখি। আজ আমার ক্লাসের ফাস্ট দিন সেজন্য কিছু বললাম না। মাফ করে দিলাম বাট নেক্সট টাইম কিন্তু মাফ করবো না। ভুল করলে পানিশমেন্ট পেতে হবে।

সাদিয়া মাথা নিচু করে বলে,

“- সরি স্যার, এমন ভুল আর দ্বিতীয় বার হবে না।
“- ওকে বাট কেয়ারফুল।

“- জ্বি স্যার।

“- সিট ডাউন।
বলে স্যার গট গট পায়ে বোর্ডের কাছে চলে গেলেন। এদিকে স্যারের এমন রুপ দেখে কিছু টা ভ্যাবাচ্যাকা খেলো নূরা৷ চোখ ছোটো ছোটো করে কিছুক্ষণ স্যারের দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু এই তাকিয়ে থাকায় যে তার সর্বনাশ হবে কে জানতো? যদি জানতো তাহলে নূরা কখনোই ওই অসভ্য স্যারের দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের বিপদ বাড়াতো না। এই বিপদ থেকে তাকে এখন কে বাচাবে? স্যার নিশ্চয়ই তাকে সেদিনের অপমানের প্রতিশোধ নিবেন। নূরা’র গভীর ভাবনার মাঝেই স্যার বললেন,

“- মিস নূরা কাম হেয়ার।

চলবে~