গোধূলীতে তুমি প্রিয় পর্ব-১৫+১৬

0
769

#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_১৫
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া

ঠাস-ঠাস করে পরপর দুটো থাপ্পর খেলো ইহান।গালে হাত দিয়ে ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে ফারিহার দিকে।ফারিহার চোখে ওর জন্য স্পষ্ট ঘৃণা দেখতে পাচ্ছে সে।ফারিহার এমন কাজে সবাই জানো স্তব্দ হয়ে গেছে।লাবিবা পাথর হয়ে দাড়িয়ে আছে।তার পুরো বিষয়টা জানো মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।ঠিক তখনই ফারিহা ডুকরে কেদে বলে উঠলো,,

ফারিহা—-ছিহ ইহান!আমার ঘৃণা হচ্ছে যে আমি তোমার মতন একটা সয়তানকে ভালোবেসেছিলাম যে কিনা তার ভাইয়ের ক্ষতি করতে চায়।একটাবার লাবিবার কথা ভাবলেনা তুমি?এমনকি আমাকেও তোমার এই জঘন্য খেলার গুটি বানালে?আমাকে বিয়ে করলে শুধুমাত্র লাবিবা আর ইথান ভাইয়াকে আলাদা করার জন্য?

ফারিহার কথাগুলো জানো ইহানের কলিজায় গিয়ে লাগলো।ইহান ছলছল চোখে তাকিয়ে বলে উঠলো,,

ইহান—-বিশ্বাস করো ফারিহা আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।মানছি আমি তোমাকে ইথান আর লাবিবাকে আলাদা করার জন্য ব্যাবহার করেছি কিন্তু বিশ্বাস করো আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।তোমাকে ছাড়া আমি বাচবো না।

কথাটা বলতে দেরী আছে কিন্তু ইহানের গালে আরেকটা চড় পরতে দেরী নেই।ফারিহা রেগে চেচিয়ে বলে উঠলো,,

ফারিহা—-তোমার ওই পাপী মুখ দিয়ে ভালোবাসি শব্দটা উচ্চারণ করবে না একদম।যে নিজের সার্থের জন্য আমাকে ব্যাবহার করে সে যে আমাকে ঠিক কতটা ভালোবাসে তা আমার জানা আছে।

ফারিহার কথা শুনে ইহান রেগে ওর বাহু চেপে ধরে বলে উঠলো,,

ইহান—-এতো বড়বড় কথা বলছো কেনো?তোমার আর আমার ভবিষ্যতে ভালোর জন্যই আমি এই কাজ করেছি বুজেছো।

ফারিহা নিজের বাহু ঝটকা মেরে ইহানের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠলো,,

ফারিহা—-আমাদের ভালোর জন্য মানে?কি ভালো হয়েছে এতে আমাদের?এতো জঘন্য কাজ করে বলছো আমাদের ভালোর জন্য করেছো?

ইহান—-হ্যা আমাদের ভালোর জন্যই করেছি।ইথান আর লাবিবার বিয়ে না হলে ইথান আর কাউকে বিয়ে করতো না কারন ও লাবিবাকে ছাড়া আর কিছুই বুজে না।আর ওর কোনো উত্তরাধীকারী ও থাকতো না সম্পত্তির নেয়ার জন্য।ফলে ওর সব সম্পত্তি আমার সন্তান পেতো।আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হতো।এইজন্য আমি ওর মিথ্যা রিপোর্টের নাটক করি।

ইহানের কথা শুনে ফারিহার জানো গা জ্বলে যাচ্ছে।নিজের ভালোবাসার মানুষের এমন রূপ মেনে নিতে পারছেনা সে।কি দোষ করেছিলো সে যে তাকে এতো কষ্ট পেতে হচ্ছে।ফারিহা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো,,

ফারিহা—-তুমি খুব বড় ভুল করছো ইহান।সম্পত্তির লোভে পরে পুরো পরিবারের সবাইকে কষ্ট দিছো।সবথেকে বেশি কষ্ট ইথান ভাইয়াকে দিছো।প্রতি মূহুর্তে যন্ত্রনায় ছটফট করেছে সে তবুও নিজের কষ্ট কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারিনি।আর লাবিবার তো তোমার বোন হয়।একবারো কি ভেবে দেখছো ওর কি অবস্হা হয়েছিলো যখন আমাকে আর ইথানকে একসাথে দেখেছিলো।ও বেচারীর কি দোষ ছিলো??

ফারিহার কথা শুনে ইহান তাচ্ছিল্যের সুরে বলে উঠলো,,

ইহান—-আমি তো তাই চেয়েছিলাম।ইথান কষ্টে থাকুক।সেই ছোট থেকে সবার চোখের মনি ছিলো ও।সবসময় সবার মুখে শুধু ইথান।আমার জাস্ট অসয্য লাগতো।ওর খুশি সয্য হতো না।হিংসে হতো আমার।তাই তো ওকে কষ্ট দিতে চেয়েছিলাম আমি।খুব।কষ্ট দিতে চেয়েছিলাম।আর আমি জানতাম ওকে কষ্ট দেয়ার সবথেকে বড় হাতিয়ার হলো লাবিবাকে ওর থেকে দূরে সড়িয়ে দেয়া।এতে ও তিলে তিলে শেষ হবে।আর আমি তাই করেছি।আমি সফল হয়েছিও আমার কাজে।

কথাগুলো বলেই পাগলের মতন হাসতে রইলো ইহান।ফারিহা ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলপ উঠলো,,

ফারিহা—-তুমি একটা সাইকো ইহান।লোভ আর হিংসা তোমাকে পাগল বানিয়ে দিছে।আরে ওনি তো তোমাকে নিজের ভাইয়ের থেকেও বেশি ভালোবাসতো।আর তুমি কিনা এইরকম একটা জঘন্য প্রতিদান দিলে তাকে?ভাই নামের কলঙ্ক তুমি!কিন্তু তুমি তোমার জঘন্য কাজে সফল হয়নি।ভাগ্য ভালো যে ইথান ভাইয়া তোমার ভালো মানুষের আড়ালে থাকা সয়তানি মনটা দেখে ফেলেছিলো।নাহলে না জানি আর কতে জঘন্য কাজ করতে তুমি।

ফারিহার কথাগুলো জানো ইহানের কলিজায় লাগতে শুরু করলো।আর যাই হক ফারিহার কাছ থেকে এমন ব্যাবহার মোটেও আশা করেনি সে।ফারিহাকে এভাবে দেখে তার যে খুব কষ্ট হচ্ছে।

সবার মনে ইহানের জন্য ঘৃণা জন্মাতে শুরু করেছে।মনে মনে যে সে ইথানকে এতো ঘৃণা করতো তা তারা কেউই বুজতে পারিনি।কিন্তু এতে তাদেরও দোষ আছে।আসলেই তারা ইথানকে একটু বেশি ভালোবাসতো সবার থেকে।আর তাদের এমন কাজের জন্যই হয়তো ইহানের মন এতোটা বিষে ভরে গেছে।এইজন্য ছোট থাকতে সব বাচ্চাদের সনান ভালোবাসা দিতে হয়।তাহলে হয়তো কারোর মনে এমন বিষ তৈরী হতো না।যদিও ইথান সবসময় ইহানকে খুব ভালোবাসতো।নিজের খেলনা থেকে শুরু করে নিজের সবটুকু ভাগ করে নিতো ইহানের সাথে।কিন্তু পরিবারের এমন ব্যাবহার আজকে তার জীবনটাকে এখানে এনে দাড় করিয়েছে।

লাবিবা এতো চাপ নিতে পারছেনা।ইহানের এমন কাজ জানো তার বিশ্বাস হচ্ছে না।মাথা যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছে তার।মাথায় হাত দিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো,,

লাবিবা—-তোমরা সবাই প্লিজ চুপ করো।আমি আর নিতে পারছি না এইগুলো।

হঠাৎ লাবিবার চিৎকার শুনে সবাই ওর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চমকে উঠলো।মাথা চেপে দাড়িয়ে আছে সে।নাক দিয়ে রক্ত পরছে তার।পিংক কালারের লাহেঙ্গাটা রক্তে লাল হয়ে গেছে।ইথান লাবিবাকে দেখে একটা চিৎকার দিয়ে আভিদকে কোল থেকে নামিয়ে ছুটে লাবিবার কাছে চলে গেলো।লাবিবা এতোক্ষণে মাটিতে ঢুলে পরেছে।ইথান লাবিবার মাথাটা নিজের কোলের উপর রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো,,

ইথান—–এই লাবুপাখি!কি হয়েছে তোমার?এই রক্ত কি করে বেরুচ্ছে?প্লিজ কথা বলো।

ইথান লাবিবার হাত ধরতেই দেখতে পেলো ওর হাতটা ঠান্ডা হয়ে এসেছে।ভয়ে কলিজা কেঁপে উঠলো ইথানের।

ইথানের কান্না দেখে ইহানের মুখে সয়তানি হাসির রেখা ফুটে উঠলো,,,

#চলবে??
#গোধূলীতে_তুমি_প্রিয়
#পর্ব_১৬
#লেখিকা_রুবাইতা_রিয়া

লাবিবার এমন অবস্হা দেখে সবার মাথায় জানো আকাশ ভেঙে পরলো।লাবিবার মা পাগলের মতোন কাঁদতে শুরু করছে।ইথান লাবিবার হাত ঘষতে ঘষতে ওকে ডাকতে রইলো,,

ইথান—-এই লাবুপাখি চোখ খুলো।রেসপন্স করো।কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলো আমাকে?

লাবিবার এমন অবস্হা দেখে ফারিহা ডুকরে কেঁদে উঠলো।কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে উঠলো,

ফারিহা—-ইথান ভাইয়া লাবিবা কথা কেনো বলছেনা?ওর কি হয়েছে?হঠাৎ করে এমন নাক,গলা দিয়ে এতো রক্ত কেনো পরছে?আমি যতদূর জানি ব্লাড ক্যান্সার হলে এমন রক্ত পরে!কিন্তু ওর তো এমন কোনো রোগ নেই তাহলে?

ফারিহার কথা শুনে সবাই চমকে উঠলো।ইথানের বুকের মাঝে ধক করে উঠলো।সত্যি তো এইগুলো ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষন।ইথানের মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিলো।

ইহান ইথানের এমন অবস্হা দেখে বেশ মজা নিচ্ছে।তার মুখে জানো বিশ্বজয়ের হাসি দেখা যাচ্ছে।ঠিক তখনই ফারিহার চোখ যাই ওর উপর।ইহানের মুখে হাসি দেখে সে বেশ মজা নিচ্ছে।ফারিহার রাগে জানো গা জ্বলছে।নিজের ভাইয়ের সাথে তো অন্যায় করলো এখন আবার নিজের বোনের অসুস্থতা দেখে হাসছে।এ কেমন ভাই?ফারিহা উঠে ইহানের কাছে গিয়ে ওর সার্টের কলার ধরে চিৎকার করে বলে উঠলো,,

ফারিহা—-কেমন ভাই তুমি যে নিজের বোনের এমন অবস্হা দেখেও সয়তানের মতন হাসছো?তোমার কি এই নিষ্পাপ মেয়েটার জন্য একটুও চিন্তা হচ্ছে না?

ফারিহার কথা শুনে ইহান পাগলের মতন হাসতে রইলো।ইহানের হাসির শব্দ শুনে সবাই ওর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল।ইহান দাতে দাত চেপে ফারিহার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,,

ইহান—-আমার কেনো কষ্ট হবে?আমিই তো লাবিবার এই দশা করেছি।ওর মধ্যে আমি একজন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত পেশেন্টের ব্লাড ওর শরীরে একটু একটু করে ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করেছি।এখন লাবিবা ও ব্লাড কেন্সারে আক্রান্ত হয়ে গিছে যার শেষ ঘটবে ওর মৃত্যুতে।এখন ইথান চাইলেও লাবিবাকে বাচাতে পারবেনা।কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও না কারন ক্যান্সারের শেষ পরিনতি হয় মৃত্যু।লাবিবা মরবে।আর সেই শোকে ইথান পাগল হয়ে ঘুরবে,প্রতি মুহূর্তে তিলে তিলে শেষ হবে।আর ওর এই কষ্টতেই তো আমার শান্তি।ওকে তিলে তিলে মরে যেতে দেখতে চায় আমি।

ইহানের কথা শুনে সবাই স্তব্দ হয়ে গেছে।এইমুহুর্তে তারা জানো একটা ঘোরের মধ্যে আছে।ইহান যে এতো নিচে নেমে গেছে তা তারা স্বপ্নেপ ভাবতে পারিনি।ফারিহার মন চাচ্ছে এই মুহূর্তে ইহানকে খুন করতে।মানুষ কত নিচে নেমে গিছে।ফারিহা ইহানের সার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরে অনেক জোরে এজটা চড় বসিয়ে দিলো যার জন্য ইহানের ঠোঁট কেটে গেলো।হাল্কা রক্ত পরছে।ফারিহা চিৎকার করে বলে উঠলো,,

ফারিহা—-তুই মানুষ না বরং মানুষ রূপি একটা জানোয়ার যে কিনা নিজের প্রতিশোধের জন্য নিজের বোনকে মরণের রাস্তায় ঠেলে দেয়।লোভ আর হিংসায় নিজের ভাইয়ের সাথে এতো জঘন্য একটা কাজ করছে।আরে যেই সম্পত্তির জন্য তুই এতো কিছু করলি সেই সম্পত্তির কথা ইথান ভাইকে বললে ওনি তোকে এক কথায় দিয়ে দিতো।কারন ওনি তোর মতন জানোয়ার না।ওনি তোকে নিজের ভাইয়ের থেকেও বেশি ভালোবাসে।ছিহ!আমার ভাবতেও ঘৃণা লাগে যে আমি তোকে ভালোবেসেছিলাম।

ফারিহার কথাগুলো জানো ইহানের হৃদয়ে আঘাত করলো।আর যাই হোক না কেনো কিন্তু ফারিহার এক ফোটা অবহেলাও ইহান সয্য করতে পারে না।সেখানে এমন তুই করে কথা বলা জানো ওর হৃদয়ে আঘাত করছে।ইহান ফারিহার চোখে ওর জন্য স্পষ্ট ঘৃণা দেখতে পাচ্ছে।নিজের প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয় ক্ষণে ক্ষণে জেগো উঠছে তার মনে।ইহান ভয়ে ভয়ে ফারিহার হাত দুটো ধরে বলে উঠলো,,

ইহান—-ফারিহা তুমি এভাবে কেনো কথা বলছো?বিশ্বাস করো আমি সত্যি তোমাকে খুব ভালোবাসি।তোমাকে ছাড়া যে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।তুমি আমাকে আরো চর মারো,কেটে ফেলো যা খুশি করে কিন্তু প্লিজ আমাকে ছেরে যেও না।

ফারিহা রেগে চিৎকার করে বলে উঠলো,,

ফারিহা—-একদম চুপ।তোর ওই সয়তানি মনে ভালোবাসা থাকতেই পারে না।যে নিজের ভাইকেই ভালোবাসতে পারেনা,নিজের বোনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় নিজের ভাইকে কষ্ট দেয়ার জন্য, সে যে আমাকে কতটা ভালোবাসে তা আমার জানা আছে।না জানি কবে আমাকেই মেরে ফেলবে নিজের সার্থের জন্য।

ফারিহার কথাগুলো জানো ইহানের বুকে গিয়ে লাগলো।কথাগুলো শুনতে তেঁতো হলেও যে সত্যি।আসলেই সে ইথানকে কষ্ট দেয়ার জন্য নিজের বোনকে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।লাবিবার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকাতেই ইহানের চোখে পানি চলে আসলো।ছলছল চোখে সে তাকালো সবার দিকে।কিন্তু সবাই ওকে দেখো মুখ ফিরিয়ে নিলো ঘৃণায়।

ইথান ইহানের দিকে তাকিয়ে ঘৃণাভরা কণ্ঠে বলে উঠলো,,

ইথান—-তোর তো আমাকে নিয়ে সমস্যা ছিলো।যত রাগ ছিলো সেটা তো আমার উপর ছিলো।তাহলে লাবিবাকে কেনো এভাবে কষ্ট দিলি?ও কি ক্ষতি করছে তোর বল?

ইথানের কথা শুনে ইহান মাথা নিচু করে রইলো।আসলে এর কোনো জবাব নেই তার কাছে।কিছুক্ষণ চুপ থেকে ইহান বলে উঠলো,,

ইহান—-আমি যা করেছি শুধু তোকে কষ্ট দেয়ার জন্য করেছি।আমি জানি লাবিবা আঘাত পেলে সবথেকে বেশি কষ্ট তুই পাবি।ওকে তোর থেকে দূরে সরুয়ে দিলে তিলে তিলে শেষ হবি তুই।তাই আমি এমন করছি।তুই যেদিন রিমান আঙ্কেলের মেয়ের ডেলিভারির জনয় যাস সেদিনই আমি ওকে প্রথম ইনজেকশন পুশ করি।এরপর হস্পিটালে একজন লোককে পাঠায় কিন্তু ও সেখান থেকে পালিয়ে যায় ভয়ে।আর তারপর আমি নিজে লাবিবার রুমে ঢুকে ওর হাতে ব্লাড পুশ করি যখন তুই বাহিরে গেছিলি কিছু কাজের জন্য।

ইহানের বলা কথাগুলো শুনে ইথানের মাথায় জানো বাজ করলো।ইহান এতো দূর চলে গিয়েছে তা সে বুজতেই পারলো না।ঠিক তখনই একজন সার্ভেন্ট এসে বললো,,

সার্ভেন্ট—-স্যার লাবিবা মেমের এর আগেও রক্ত পরছে গলা দিয়ে।আমি রুম পরিস্কার করার সময় একদিন ওনার ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে রক্ত পেয়েছি।তারপর একদিন ইহান স্যার নিজে এসে আমাকে লাবিবা মেমের রুম থেকে রক্ত পরিষ্কার করতে বলেছিলো।আর আমাকে মানা করেছিলো যাতপ কাউকে কিছু না বলি।আমাকে কাজ থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি পর্যন্ত দিছিলো।ওনি নাকি বেপারটা মেনেজ করে নিবে।তাই আমিও ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি।

সার্ভেন্টের কথা শুনে সবাই ইহানের দিকে রাগি চোখে তাকালো।ইথানের বাবা রেগে বলে উঠলো,,

ইথানের বাবা—-তুই যদি আমার ভাইয়ের ছেলে না হতি তাহলে তোকে এতোক্ষণে আমি য্যান্ত পুতে দিতাম।তোকে তো মানসিক হাসপাতালে পাঠানো উচিত ছিলো।

ইহানের মাও চুপ করে আছে।নিজের ছেলের এমন জগন্য কাজ কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না সে।

অন্যদিকে ইথানের মনেও চলছে নিজের প্রাণ-প্রেয়সীকে হারানোর এক অজানা ভয়।ইথান এই একটা জিনিসকে যে বড্ড ভয় পায়।তার মাথায় কিছু কাজ করছেনা।ইথান সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,,

ইথান—-সবাই চুপ করো প্লিজ।বাবা তুমি তাতারি গাড়ি বের করো।এখন এম্বুলেন্স ডাকার সময় নেই।দেখোনা আমার লাবুপাখির কত রক্ত বের হচ্ছে।ও আগে কেনো আমাকে ওর অসুস্থতার কথা বললো না বলোতো?এতোটাই পর হয়ে গেছিলাম নাকি আমি?

ইথানের কথা শুনে লাবিবার মা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।তিনি বেশ বুজতে পারছেন যে এ মুহূর্তে ইথানের মনে বেশ বড় একটা ঝড় উঠেছে।নিজের প্রিয়কে হারানোর ভয়,,,

#চলবে?