Home "ধারাবাহিক গল্প "চিরদিনই তুমি যে আমার চিরদিনই তুমি যে আমার পর্ব-০১

চিরদিনই তুমি যে আমার পর্ব-০১

0
1

#চিরদিনই_তুমি_যে_আমার
#নূরা_ফাতেহা
#সূচনা

বাসর ঘরে একহাত ঘোমটা দিয়ে বসে আছে তারীন। হুট করে তার বিয়ে হয়েছে তাও তারই কলেজের প্রফেসর সাথে তারই অমতে।

আজ কলেজ থেকে আসতে না আসতেই শুনলো তাকে নাকি আজ দেখতে আসবে পাত্রপক্ষ। পছন্দ হলে আজই বিয়ে হবে কথাটা শুনা মাত্রই তারীন এর মাথায় যেনো বাজ ভেঙ্গে পড়লো। সে অন্য একজনকে পছন্দ করে কথাটা সে তার বাবা মা কে জানায় কিন্তু তার বাবা মা এতে ঘোর আপত্তি জানায়।

তারীন যাতে কারোর সাথে যোগাযোগ করতে না পারে তার জন্য ফোনটা পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিলো।

হাজার মিনতি করেও সে বিয়েটা আটকাতে পারেনি। অবশেষে বিয়েটা হয়ে যায় তারই কলেজের প্রফেসর আযরাফ চৌধুরীর সাথে সে এমন একটা লোক যে ওনার ক্লাসে সকলে থরথর করে কাঁপে যার কন্ঠে আছে কঠোরতা।
বেশ লম্বা চড়া, জীম করে, শ্যামলা পুরুষ, চোখ দুটো ধূসর রং এর। ওনার চোখ দুটো ধারালো ছুরি মতো তাকালেই মনে তার দৃষ্টি দিয়ে এ’ফোঁ’ড় ও’ফোঁ’ড় করে দিবে। উফ্ কি ভ’য়কর? এই লোকটার সাথেই নাকি তাকে সারা জীবন এখন কাটাতে হবে। ভাবলেই ভয়ে হাত পা কেঁপে উঠছে।

তারীন এইবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের পড়ে। মানবিক শাখায়।

ওর ভাবনার মাঝে এক জোড়া পা এ শব্দ শুনা যাচ্ছে মনে হচ্ছে আযরাফ চৌধুরী আসছে।

ঠিক তাই হলো ঘরের দরজাটা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো আযরাফ। ঘরের দরজাটা খট করে লক করে দিলো।

ভয়ে একটা বড়সড় ঢোঁক গিললো তারীন। তারপর একটু নড়েচড়ে বসলো। তার ঠোঁট জোড়া কেমন শুকিয়ে গেছে, তাই সে জীভ দিয়ে ঠোঁট টা ভিজিয়ে নিলো।

আযরাফ এগিয়ে গেলো বেডের কাছে। তারীন এর পাশে বসে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,

— আজকে তোমার সাথে ছেলেটা কে ছিলো তারিন?

তারীন হাত জোড়া কচলাতে শুরু করলো। কথা বলতে গেলেও যেনো মনে হলো, কেউ গলা চিপে ধরেছে।

তারীনে চুপ থাকাটা দেখে বেশ রেগে গেলো আযরাফ। এইবার বেশ জোড়ে ধমক দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

— হুয়াই দ্য হেল আর ইউ সাইলেন্ট? আন্সার হোয়াট আই আস্ক্‌ড ইউ!

ভয়ে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলেছে তারীন। এখনো কিছু বলছে না তারীন।

এইবার খুব রেগে গিয়ে তারীনের দুপট্টা টেনে ফেলে দিয়ে তারীনের চুলের মু*ঠি ধরে টেনে নিজের কাছে টেনে নিয়ে দাঁতে দাঁত কি*ড়মিড় করতে করতে বললো,
— বলছিনা কেনো?

তারীনের চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো, তারিন অনেক কষ্টে কম্পিত কন্ঠে বললো,

— এলাকার সিনিয়র ভাই।

আযরাফ বাঁকা হেসে বললো,

— ভাই না কি নাগর, কোনটা?

— ছাড়ুন লাগছে।

আযরাফ তার তার আঙুলটা দিয়ে তারীনের কম্পিত ঠোঁট জোড়া স্লাইড করতে লাগলো। তারপর বললো,

— বেবীডল ছাড়বো বলে তো আর ধরিনি তোমায় আজীবনের জন্য ধরে রেখেছি। বিগত এক বছর ধরে আমি তোমাকে ভালোবাসি, আড়ালে আবডালে ছায়ার মতো লেগে ছিলাম আর তুমি কি না অন্য একজনকে পছন্দ করে নিলে সেইটা কি করে হয় মেরি জান? তার থেকে ভালো নিজের জিনিস নিজের কাছেই থাকুক।

— আপনি জেনে শুনে আমাকে বিয়ে করেছেন। আপনার জন্য আমি আমার ভালোবাসা পাইনি। আমি ভালোবাসি ওনাকে আপনার জন্য সবটা ন*ষ্ট হয়ে গেলো।

আযরাফ গালটা চেপে ধরে বললো,

— লজ্জা করে না তোর জামাই পাশে থাকতে অন্য এক পুরুষকে ভালোবাসার কথা বলিস তোর কলিজাটা টেনে ছিঁ*ড়ে ফেলবো বউ।

— মানি না এই বিয়ে মানি না আপনাকে জামাই বলে। চুপ করুন! আপনার কথাগুলো বি*ষের মতো লাগছে। কথাটা বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলো তারিন।

আযরাফ আর একটি কথাও বলল না। নিঃশব্দে তারিনের ঘন চুলের ভাঁজে আঙুল গুঁজে দিয়ে আচমকা টেনে ধরল। চুলের টানে তারীনের মুখটা এক ঝটকায় সামনে এসে পড়ল, আর ঠিক সেই মুহূর্তে আযরাফ নিজের ঠোঁ*ট জোড়া চেপে বসাল তারিনের ঠোঁ*টের উপর।

তারীন ছটফট করছিলো, প্রাণপণে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলো, কিন্তু আযরাফ তখনও গভীরে ডুবে ঠোঁটের গহীনে, স্পর্শের হিং*স্রতায়।

ধীরে ধীরে তার এক হাত নামিয়ে আনল শাড়ির কোঁচড় বরাবর। নিঃশব্দে শাড়িটা খুলে ফেলল, যেন কোনো বাধাই তার সামনে দাঁড়াতে পারে না। শাড়ির আড়াল সরতেই তারীনের উন্মুক্ত পে*টে জেগে উঠল আযরাফের নিষ্ঠুর হাতদুটি।

ঠান্ডা আঙুলের ছোঁয়ায় কেঁপে উঠল তারীন। শরীরটা সরে যেতে চাইল, কিন্তু আযরাফের পুরুষালি শক্তির সামনে সে ছিলো একেবারে অসহায় একটা ক্ষুদ্র পিঁপড়ার মতো, যা এক পায়ের চাপে মরে যায় নির্বিচারে।

তারীনকে ধীরে ধীরে বিছানায় শুইয়ে দিল আযরাফ। চোখে তখনো আগুনের মতো দাহ, আর স্পর্শে ছিলো নিঃশব্দ হিং*স্রতা। মুহূর্তেই ঝুঁকে পড়ল সে তারীনের ওপর গলার ভাঁজে ঠোঁ*ট চেপে বসিয়ে দিলো গভীরভাবে। একটানা কিছুক্ষণ ধরে শু*ষে নিতে থাকলো সেই কোমল ত্বকের অংশটা, যেন দাগ ফেলে দখলের চিহ্ন রেখে যেতে চায়।

তারপর হঠাৎই তার বাম হাতটা তুলে নিয়ে আযরাফ শক্ত করে চেপে ধরলো তারিনের মুখ। নিঃশ্বাস আটকে আসতে লাগলো তারিনের। পরক্ষণেই আযরাফ দাঁ*ত ব*সিয়ে দিলো তারীনের গলায় একটা নীরব হিংস্রতা যেন ছড়িয়ে পড়লো ত্বক জুড়ে।

তীব্র ব্যাথায় হঠাৎই গুমরে উঠলো তারীন বালিশের দুই প্রান্ত আঁকড়ে ধরলো সে, যেন তীব্র যন্ত্রণা কোনোভাবে হাতের মুঠোয় আটকে রাখা যায়। চোখ দিয়ে নীরব অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়তে লাগলো নিঃশব্দে।

গলা থেকে ধীরে ধীরে মুখ তুলে আযরাফ নীচে নামালো। তার নিঃশ্বাস ঠান্ডা হয়ে আসলো তারীনের কোমল পে*টের ওপর। চোখে অন্ধকার, হাতে অদম্য শাসন, আর ঠোঁটে ছিলো এক অনিবার্য দাবি।

এক মুহূর্তের জন্য থেমে থেকে সে তারীনের পেটের কাছে মুখ গুঁজে দিলো। ঠোঁট স্পর্শ করল মসৃণ, কোমল ত্বকের ওপর, নিখুঁত যত্ন নয় বরং এক জোরালো, দাবিদার স্পর্শ।

তারীনের গা কেঁপে উঠলো, নিঃশ্বাস ফেঁপে উঠলো স্তব্ধ হাওয়ার মতো।

আযরাফ ধীরে ধীরে ডুবে গেলো তারীনের মধ্যে। আর তারীন জ’বা’ই করা মুরগী মতো ছটফট করতে লাগলো।

__________________________

রাত তিনটা বাজে।

অমানবিক নিষ্ঠুরতায় আচরনে অচেতন প্রায় তারীন শুয়ে আছে বিছানাতে। নাড়াচাড়া করার শক্তিটুকু ও নাই। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।

আযরাফ বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। আযরাফ চৌধুরী বাবা ছাড়া এই দুনিয়াতে কেউ নেই। এক আছে ফুফু যিনি বিদেশে থাকেন।

তার নিঃসঙ্গ জীবনে এক পলাশ বৃষ্টির মতো আগমন ঘটে তারীনের। সেই দিন ছিলো বৃষ্টির দিন। কলেজের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলো ঠিক তখনই তার নজর আটকে যায়, এক মায়াবীর কন্যতে। কি সুন্দর তার হাসি? উফ্! আজও তার চোখের সামনে দৃশ্যটি ভেসে উঠে।

ধীরে ধীরে তাকে নোটিস করে, আস্তে আস্তে তার প্রতি ভালো লাগা সৃষ্টি হয়। তারপর তার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তাও ভ*য়ঙ্কর ভালোবাসা।

বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলো একবছর আগেই তখন তার বাবা রাজি হয়নি বলেছিলো ১৮ বছর হলে তারপর ওর সাথে বিয়ে দিবে ততদিন যেনো বিষয়টি লুকনো থাকে।

সেও তাই করলো। আড়ালে আবডালে তার যত্ন নিতো, খেয়াল রাখতো।

বাট বিগত কিছুদিন যাবত তার আচারণ পরিবর্তন হতে থাকে, আর প্রায়ই ওই ছেলেটির সাথে দেখা যেতো। আজ তার ১৮ বছর পূর্ণ হতেই বিয়ে করে নিয়ে এলো।

তপ্ত শ্বাঃস ফেলে সিগারেট টা ফেলে দিয়ে পা দিয়ে পিষে ফেললো আযরাফ। তারপর বেলকনি থেকে রুমে আসলো।

তারীনের কাছে গেলো। অতঃপর ঝুঁকে তারিন কে কোলে তুলে নিয়ে ওয়াশরুম দিকে গেলো ফ্রেশ করানোর জন্য।

তারপর আলমারি খুলে একসেট কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,

—তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হবে। আমি খাবার নিয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করচ্ছি।

আযরাফের গম্ভীর কন্ঠ শুনে তারীনের শরীর টা কেমন যেনো কাটা দিয়ে উঠলো এই নিস্তব্ধতা পরিবেশে এই কন্ঠটা কেমন যেনো ভয়ঙ্কর শুনালো। তারিন তারাতাড়ি দরজাটা লাগিয়ে নিলো।

আযরাফ ও চলে গেলো খাবার আনতে। আযরাফ কিচেন রুমে গিয়ে প্লেটে করে খাবার নিয়ে উপরে রুমে আসলো।

তারীন মাত্র দরজা খুলে বাহিরে এলো। ব্যাথায় হাঁটতে পাড়ছে না খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটছে সে।

আযরাফ ধুপধাপ পা পেলে তারীন এর কাছে গিয়ে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে খাবারের প্লেট থেকে একটু খাবার নিয়ে তারীন এর মুখের সামনে ধরলো, তারিন মুখে খাবার তুলে নিতে আযরাফ বললো,

— তখন যা করেছি তার জন্য সরি বলবো না কারন ওটা তোমার একটা শাস্তি। তবে তুমি খুব টে*স্টি।

এই রকম কথা শুনে তারীনের চোখ বড় বড় হয়ে যায় গলায় খাবার টা আটকে গিয়ে খুঁক খুঁক করে কেঁশে উঠলো। কান ঝাঁঝাঁ করে উঠল। ভদ্র প্রেফসর হঠাৎই যেনো অভদ্র হয়ে গেলো। আযরাফ দ্রুত পানি টা এগিয়ে দিলো তারিনের দিকে, তারিন পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে ঢক্ ঢক্ করে পানি খেলো।

আযরাফ বললো,

— এর পর থেকে তোমাকে হার্ড করবো না তবে তোমাকে আমার সব কথা শুনে চলতে হবে তুমি এখন বিবাহিত এক মহিলা তাই অন্য পুরুষ তোমার জন্য হারাম কেবল এই আযরাফ চৌধুরীই তোমার জন্য হালাল।

তারীন কিছু বললো না কেবল চুপ করে রইলো।

— নেও খেয়ে নেও।

তারীন হা করতে একের পর এক লোকমা ওর মুখে তুলে দিতেই খাবার টা খেয়ে নিলো। আযরাফ হাত টা ধুয়ে প্লেট গুলো টেবিলের উপর রেখে দু*ধের গ্লাস টা তারীনের দিকে দিলো।

তারীন দু*ধের গ্লাসটা ধরলো না নড়লো ও না সেইভাবে ছিলো সেই ভাবেই রইলো।

আযরাফ দু*ধের গ্লাস থেকে কিছুটা দু*ধ নিজের মুখে নিয়ে তারিনের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ওর গাল দুটো চে*পে ধরে হা করিয়ে ওর মুখের সাথে মুখ লাগিয়ে দিলো।
যতক্ষণ না তারীন দু*ধ টা খাবেনা ততক্ষণ ছাড়বে না তা বুঝতে পারলো তারীন তাই মুখের দু*ধ টা খেয়ে নিলো। তারীনের ঠোঁটটা ছেড়ে দিয়ে বললো,

— আমার সাথে ত্যাড়ামি করবে ঘাড়ের র”গ কেটে ত্যাড়ামি ছুটিয়ে দিবো। তাড়াতাড়ি ফিনিশ করো।

তারীনের হাতে দু*ধের গ্লাসটা ধরিয়ে বললো।
তারীন ধীরে সুস্থে দু*ধটুকো খেয়ে বেড সাইড টেবিলের উপর গ্লাস টা রাখলো।
আযরাফ তারীন কে আবার কোলে তুলে নিয়ে সোফায় বসিয়ে দিলো। বেডশিট টা তুলে নিয়ে আলমারি হতে নতুন বেডশিট বিছিয়ে দিয়ে আবার তারীনকে কোলে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে ড্রায়ার থেকে মেডিসিন বক্সটা নিয়ে সেইটা থেকে দুটো মেডিসিন নিয়ে তারীনকে খাইয়ে দিয়ে বললো,

— শুয়ে পড়ো।

তারীন চুপচাপ শুয়ে পড়লো। আযরাফ দরজা টা লক করে দিয়ে তারীনের পাশে শুয়ে পড়লো তারীনের কোমর ধরে হেঁচকা টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে তার মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে বললো,

— ❝পা*গলীরে আমার মতো,
কেউ কি আছে তোর?
তোরই দুঃখে এনে দিবে সুখেরি প্রহর❞

চলবে।