#জোয়ার_ভাটা
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
১৫।
বর্ষাকালের শেষ দিন আজ। তাই হয়তো ঝুম বৃষ্টি? পার্টি শেষে দাঁড়িয়ে আছে মার্জান, নিজ গন্তব্য পৌঁছাবার মতো কোন যানবাহন আপাতত পাচ্ছে না। এদিকে সোফিয়া কোনো এক দরকারে পার্টি থেকে অনেকক্ষন আগেই চলে গেছে। মার্জান শুধু রয়ে গেছিলো গ্রীষ্মের হ্যাঁ কিংবা না শোনার জন্য। কিন্তু ব্যাটা পরে জানবে বলে দিলো। মার্জান বৃষ্টির ঠান্ডা ফোঁটা গুলো স্পর্শ করলো। প্রতিশোধের তাড়নায় কতকিছু করতে হচ্ছে তাকে।মার্জান সুরভী আর রিয়ানাকে হারাতে চায়, জিততে চায় ওর মায়ের সব অর্থ সম্পদ। কিন্তু মার্জান যে দূর্বল? ওঁকে শক্ত-পোক্ত হতে স্বাবলম্বী হতে হবে। মার্জান চোখ বুঝলো। গাড়ির হর্ণের আওয়াজে চোখ মেলে চাইলো। সামনে গ্রীষ্মের গাড়ি দেখে খানিকটা হকচকিয়ে উঠলো। গ্রীষ্ম গাড়ির দরজা খুলে বেড়িয়ে এসেছে ততক্ষণে,
” মার্জান এসো আমি তোমাকে বাড়ি ছেঁড়ে দিচ্ছি।”
মার্জান না বোধক মাথা নাড়ালো,
” আমি ঠিক আছি মি: গ্রীষ্ম থ্যাংকস ফর কন্সার্ন। ”
গ্রীষ্ম ফিচেল হাসলো,
” তোমার ধন্যবাদ আমারো কোনো কাজে আসবে? মিস মার্জান?”
এর পর কাধ উঁচকিয়ে বলল,
” নো, নেভার। আর এখন যে বর্ষণ হচ্ছে, কোনো যানবাহন পাওয়া দুষ্কর। এখানে বসে অবশ্যই তুমি কারো খাবার হতে চাইবে না?”
গ্রীষ্মের কথা রাগ হলো মার্জানের, বলতে ইচ্ছে করলো,
“সব থেকে বড় খাদক তো আপনি মি: গ্রীষ্ম!”
কিন্তু আশেপাশে তাকিয়ে কথাটুকু গিলে ফেললো। সময়কাল বিলম্ব না তরে উঠে পরলো গাড়িতে। গ্রীষ্মের ঠোঁটের কোনে তীর্যক হাসির রেখা ফুটে উঠলো। গাড়ি চলতে শুরু করলো। বৃষ্টির ঘন বর্ষণের বুক চিঁড়ে এগিয়ে যাচ্ছে ওঁরা। পিনপতন নীরবতা বিরাজিত। কুহু জালানা দিয়ে বাহিরে দেখছে, গ্রীষ্ম ড্রাইভ করছে। মার্জানের চোখে আজ মেদুর ছাপ দেখে বড্ড মায়া লাগছে গ্রীষ্মের। কেনো যেন মেয়েটি অল্প কদিনেই ওঁর খুব কাছে চলে এসেছে, মেয়েটিকে সে ভালোবেসে ফেলেছে।কিন্তু বরাবরই মেয়েটির চোখে মুখে কেমন জন্য দুঃখ কষ্টের ছাপ দেখকে পায় ওঁ। যেমনটি আজ-ও দেখছে। গ্রীষ্ম এবার পিনপতন নিরবতা ভেঙ্গে দিলো,
“মিস মার্জান, আমি আপনাদের সাথে কাজ করতে রাজি আছি।”
মার্জানের মুখের মেদুর ছায়া হারিয়ে গেলো। চকচক করে উঠলো চোখ দু’টি। কিন্তু পরক্ষণেই বিস্মিত হলো।
” কিন্তু আমার একটি শর্ত আছে মিস।”
মার্জান বলল,
” কিসের শর্ত?”
” ম্যারি মি!”
মার্জানের চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেলো,
” সরি মিস গ্রীষ্ম আই এ্যাম নট ইন্টারেস্টটেট।”
গ্রীষ্ম বাঁকা হাসলো,
“দেন উড বি মাই গার্ল ফ্রেন্ড। ”
মার্জান তাতেও নারাজ। এবার গ্রীষ্ম ব্রেক কসলো। মুখের মাঝে গম্ভীরতার ছাপ স্পষ্ট,
” দেখো মার্জান, তুমি যদি আমার কোনো কথায় রাজি না হও? তাহলে আমি তোমাদের কোনো ভাবেই সাহায্য করবো না। এর পর তোমার ইচ্ছে। ওকে বায়। ইউ ক্যান গো নাউ।”
মার্জান অবাক হয়ে গেলো, মধ্যরাস্তায় ওঁকে ছেঁড়ে দিচ্ছে কি-না লোকটি? মার্জান কোনো কিছু না বলেই বেড়িয়ে আরেক দফা চমকালো। ওঁ তো নিজের বাসার সাসনেই। পিছনে ফিরতেই গ্রীষ্মের গাড়িটি ছুমন্তর হয়ে যেতে দেখলো। মার্জান গ্রীষ্ম শ্বাস ছাড়লো। মার্জান গ্রীষ্মের কথা গুলো ভাবতে লাগরো। কিন্তু ওঁ নিজের লাইফে আর কাউকে চায় না। মৃণাল ছাড়া আর কারো দরকার নেই ওঁর জীবনে…
————–
বড্ড ভাড়ী লাভের শরীর। শীপ্রা ছেলেটিকে কোনো রকম সামলে ওঁর ফ্ল্যাটের পার্কিং থেকে লিফটের দিকে যাচ্ছে। নেশায় বুঁদ লাভ আবোলতাবোল বলছে। শীপ্রা পুরো বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ওঁর বিরক্তি এবার ভয়ে ট্রান্সফার করে দিতেই পৌঁছালো তায়ান আর ওঁর লোকজন। এদেরকে ওঁর দিকে আসতে দেখেই ঘাবড়ে গেলো ওঁ, লুকিয়ে পড়ার অবস্থায় রইলো না। এদিকে তায়নের লোকেরা লাভের কাছে এসে ওঁরে সামলে নিয়ে উপরে চলে গেলো। তায়ান তখন দাঁড়িয়ে আছে সটান,শীপ্রার দিকে তাকিয়ে। শীপ্রা নিজেকে স্পষ্ট করে বলল,
” দেখুন, আপনি যা ভাবছেন তেমনটি না। আমি সত্যি ওঁকে দিতে..। ”
শীপ্রা থেমে গেলো। কোনো লাভ হবে কি ওঁর ব্যাখায়? তাই চুপ করে রইলো। তায়নাশাহ্ এগিয়ে এলো দু’কদম। শীপ্রার দিকে খানিক ঝুঁকে বলল,
” আমি তোমার কাছে কোনো এক্সপ্লানেশন চেয়েছি?”
শীপ্রা চকিতে তাকালো। তায়নাশাহ্ ঘুরঘুর করা নজরে কিছু বুঝতে চেষ্টা করলো, লোকটি আসলে চায় কি? কিছু বুঝে না শীপ্রা। তায়ানশাহ্ সটান হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। শীপ্রা কিছুটা ঘাবড়ে গেলো। তায়ানশাহ্ বড় বড় পা ফেলে গাড়ির কাছে চলে গেলো। শীপ্রাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
” গাড়িতে বসো।”
শীপ্রা তখন নিজ ধ্যানে মগ্ন। তায়ানশাহ্ পরবর্তী ধমক খেয়ে লাফিয়ে উঠে এক প্রকার। এতে তায়নশাহ্ আরো রেগে যায় । শীপ্রা বুঝতে পেরেই বসে পড়ে। এবং তায়ানশাহ্ গাড়ি চালাতে শুরু করে।কিছুক্ষণ পর গাড়িটি একটি ক্লাবে এসে থামে। শীপ্রা জিজ্ঞেস করে,
” মি: তায়ান আপনি আমাকে এখানে কেনো এনেছেন?”
তায়ান জবাব দেয় না। গাড়ি থেকে বের হয়ে শীপ্রাকে টেনে বের করে ভিতরে চলে যায়। তায়ান গ্যাম্বলিং এর দিকে চলে গেলো। যেখানে অল রেডি তিন চার জন লোক তাদের গার্লফ্রেন্ড নিয়ে বসে আছে। তার মাঝে লাল জ্যাকেট পড়া লোক বরে উঠলো,
” মি: তায়ান আই এম সারপ্রাইজড, তুমি আসবে ভাবতে পারেনি।”
বলেই ব্যক্তিটি জড়িয়ে ধরতে নিলো তায়ানকে। তায়ান হাত দেখিয়ে থামিয়ে দিলো। বলল,
” খেলা শুরু করা যাক!”
ব্যক্তিটি লজ্জিত অনুভব করলো তায়ানের ব্যবহারে বলে উঠলো,
” হাউ রুড ডুড। ওকে এর বদলা না হয় গেইম জিতেই নিবো।”
তায়ান বাঁকা হাসলো। ব্যক্তিটি আবার বলল,
” আজ একটু অন্য ধাঁচে খেলা যাক? আজ আমরা আমাদের গার্লফ্রেন্ডদের বাঁচি লাগাবো। যে হারবে, সে অন্য জনের পার্টনারের সাথে রাত কাঁটাবে।”
ব্যক্তিটির এমন কথা শোনে শীপ্রার শরীর কেঁপে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে উঠে যেতে লাগলো। তখনি তায়ান ওঁর হাত ধরে কাছে টেনে নিলো। এবং কোলে বসিয়ে নিলো। শক্ত করে চেপে ধরলো ওঁর কোমল কোমরে। শীপ্রা ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো। চেঁচিয়ে বলল,
” নিকৃষ্ট লোক আপনি এইসব ইচ্ছে করছো না? আমি তোমার কোনো গেইমে সঙ্গী হবো না ছাড়েন আমাকে।”
তায়ান ঠান্ডা দৃষ্টি তাকালো ঘাড় বাকিয়ে শীপ্রার দিকে। শীপ্রা স্তব্ধ । তায়ানের দৃষ্টি বলে দিচ্ছে,
” আমার কথা মানা ছাড়া তোমার কোনো রাস্তা আছে!”
শীপ্রা নিজেকে এবার অসহায় মনে হচ্ছে। ওঁ নিরবে জল ফেলছে। এদিকে গেমিং শুরু হয়েছে এবং ওই ব্যক্তিটি জিতে যেতেই শীপ্রার দিকে হাত বাড়ায়। তায়ান কিছু বলে না। ব্যক্তিটি যখনি সকলের সামনে শীপ্রার কাপড়ে হাত দেয়, সাথে সাথে একটি গুলি লোকটির হাত স্পর্শ করে বেড়িয়ে যায়। লোকটি কুকিয়ে উঠে। তায়ানের দিকে তাকিয়ে নিজের বন্দুক বের করার আগেই ব্যক্তিটির বুকে গুলি করে এবংওঁর সাথে থাকা প্রতিটি ব্যক্তিদের। প্রত্যকের নিথর দেহো সেখানেই পড়ে রয় যা দেখে শীপ্রা শক্ড। রক্তে রাঙ্গা ঘরটি দেখে গা গুলিয়ে আসতে চাইছে শীপ্রার। কারো স্পর্শ ওঁ চমকে তাকায়, তায়ানশাহ্ ওঁকে কোলে তুলে পাশের রুমে চলে গেলো। শীপ্রা তখন ঘোরের মাঝে। তায়ানশাহ্ শীপ্রাকে একটি বিছানায় শুয়ে দেয়। এবং ওঁ নিজে ঘনিষ্ঠ হতে থাকে শীপ্রার সাথে। শীপ্রা নিজের ভাবনায় বুঁদ তখন, একটি লোক কতটা ভয়ানক হলে, এক সাথে এতো মানুষ মেরে আবার শীপ্রার সাথে রাত কাঁটাতে ভাবে? শীপ্রা জানে তায়ানমাহ্ মাফিয়া পরিবারের ছেলে, কিন্তু কখনো শীপ্রার সামনে কাউকে খুন করে নি তায়ান। আজকের এই ঘটনা কতটা নির্দয় তায়ান বুঝিয়ে দিলো শীপ্রাকে। শীপ্রার মনে এখন ভয় ঘর করে বসেছে, ওঁর বোন আর ভাইকে নিয়ে। শীপ্রা আর সাহস করতে পাড়লো না তায়ানকে কিছু বলতে, বা নিজে কিছু করতে। শুধু তায়ান যা করতে চািছে তাই করতে দিচ্ছে। শীপ্রার চোখে এখন জল টলমল করছে।
————-
কড়া রোদ। রোদের তাপে পুড়ছে সবাই। মার্জান পথের ধারে হেটে চলেছে । মাথায় বড় বড় চিন্তার রেখা। আজ শুটিং স্পটে সায়নের কথায় নিজে অসহায় মনে হচ্ছে । সায়ন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে,
” হয় গ্রীস্মকে আনবে, নয়তো তোমাকে আমার রিপ্লেস করতে হবে।”
মার্জান তখন থেকেই চিন্তিতো। কারন একজন আপ কামিং অ্যাক্টরস শো শুরু হওয়ার রিপ্লেস হলে ওঁর কাজে অনেক প্রভাব পরবে, এর পরবর্তীতে কোনো রোল পাওয়াো মুশকিল হয়ে যাবে। তার উপর মৃণালের ট্রিটমেন্টের খরচ কিভাবে জোগাড় করবে? আর ওঁর প্রতিশোধ নিবার কোনো পথ থাকবে না। রিয়ানা এখন মিডিয়া জগতের ফেমাস নাম, ওকে হারাতে যে মার্জানকেও ফেমাস হতে হবে! কিন্তু এই সব কিছু স্বপ্নই মনে হচ্ছে মার্জানের। তাই ঠিক করলো মার্জান ওঁ গ্রীষ্মের মর্তে রাজি হয়ে যাবে। এ ভেবেই মার্জান কল করে গ্রীষ্মকে। মার্জানের কল দেখে ঠোঁটের কোনে হাসি ফুঁটে উঠলো গ্রীষ্মের। গ্রীষ্মের মর্তে রাজি জানাতেই গ্রীষ্ম বরে উঠে,
” ওকে সি ইউ টুমোরো নাইট।”
মার্জান সম্মতি জানালো। এবং পরের দিন সময় মতো লাভ ফেরি হোটেলে চলে এলো। গ্রীষ্ম আজ পরিপাটি। নিজেকে চার্মিং লুকে সাজিয়েছে, মার্জান নিজেও গ্রীস্মের দেওয়া গাউন গায়ে পড়েছে। দু’জনকে মেইড ফর ইচ আদার লাগছে। তখনি গান শুরু হলো,
Tere saamne aa jaane se
Yeh dil mera dhadka hai
Yeh galti nahi hai teri
Kasur nazar ka hain
Jis baat ka tujhko darr hai
Woh karke dikha dunga
Aise na mujhe tum dekho
Seene se laga lunga
Tumko main chura lunga tumse
Dil mein chupa lunga..
গ্রীষ্ম ডান্স ফ্লোরে মার্জানের সাথে ডান্স করছে। মার্জান এদিকে আনিজি ফিল করছে তো উল্টো দিকে গ্রীষ্মের ঠোঁটের কোন থেকে হাসি মুচ্ছে না। গ্রীষ্ম বড্ড খুশি। মার্জানের আগমে ওঁর বাইপোলার ডিসওর্ডার হচ্ছে না। মুলত এই কারণেই থাকতে চায় গ্রীষ্ম। ওঁরা ডান্স শেষে ডিনার করলো। গ্রীষ্ম বলল,
” আমি আজ খুব খুশি জান তোমাকে আমার গার্ল ফ্রেন্ড পেয়ে!”
মার্জান শুধু হাসার চেষ্টা করলো। ওঁ এখনো লড়াই করছে মনের সাথে, ওঁ কি ঠিক করছে ওঁর ঝামেলার সাথে গ্রীষ্মকে জড়িয়ে? কিন্তু মুখে কিছু বলল না। গ্রীষ্ম মার্জানকে এত চুপচাপ দেখে বরে উঠলো,
” আই হ্যাভ এ সারপ্রাইজ ফর ইউ।”
মার্জান অবাক হয়ে গেলো,
” কিসের সারপ্রাইজ?”
গ্রীষ্ম মুচকি হাসলো। মার্জানের কাছে এসে ওঁর গালে চুমু খেলো। লজ্জা লাল হয়ে গেলো মার্জান।গ্রীষ্ম মার্জানকে এবার একটি লাল কাপড় বেঁধে দিলো ওঁর চোখে। এবং কোলে তুলে নিলো। এরপর পা বাড়ালো গাড়ির দিকে। মার্জান পর পর গ্রীষ্মের কান্ডে বিষ্মিত। জিজ্ঞেস করলো,
” আমরা আবার কই যাচ্ছি? ”
গ্রীষ্ম বলল,
” কিছুক্ষণের মাঝে বুঝতে পারবে।”
মার্জান খানিকটা ভয় আর উৎসুক মন নিয়ে বসে রইলো। আজ জীবন ওঁকে কোথায় এনে ফেলেছে? কোথায় ওঁ ছিলো টগরের আদরের মার্জান, আর এখন এই মার্জান নিজের প্রতিশোধের নেশায় বুঁদ। জীবনের জোয়ার-ভাটা বুঝি এঁকেই বলে, টগর বলতো,
“মার্জান আমাদের লাইফ প্রতিটি ধাপে ধাপে আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে যায়, যেমন একটি শিশু জম্মের পর মা ছাড়া কিছু বুঝেই না। ধীরে ধীরে মাকে ছাড়া থাকেও শিখে যায়, ইউস টু হতে শিখে পরিবেশের সাথে, খাপ খাওয়াতে থাকে নিজেকে। জীবন তাড়নায় উঁচু নিচু থাকবেই তাই বলে ভেঙ্গে পড়তে নেই। পদে পদে শক্ত হতে শিখতে হয়। আর একজন মেয়ে থেকে যখন মা হতে শিখে তখন ওঁর থেকে শক্তিশালী আর কেউ হয় না। ”
মার্জান মৃণালের জম্মের পর থেকেই তা মিলিয়েছে। ওঁ গর্বিত মৃণাল ওঁর জীবনে এসেছে। মার্জানের ভাবনার মাঝে গাড়ি থেমে যায়। মার্জানের হাত ধরে গাড়ি থেকে নামায় গ্রীষ্ম। মার্জানের চোখের কাপড় খুলে ফেলে, মার্জান চোখ মেলতেই খুশিতে ওঁর চোখ টলমল করে উঠে। গ্রীষ্ম মার্জানকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওঁর ঘন কালো চুলে চুমু খায়। এবং কানের কাছে স্লো ভয়েসে বলে উঠে,
” আমার বিউটিফুল ওমেনের জন্য, বিউটিফুল গিফট।”
মার্জান এবার অঝড়ে কেঁদে উঠে উল্টো ঘুরে গ্রীষ্মের বুকে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠে। গ্রীষ্ম হাসে। মার্জানকে শক্ত করে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে,
” ডোন্ট ক্রাই মাই প্রিন্সেস…।”
কিন্তু মার্জানের কান্না থামে না। এ যেন অনেক বছরের জমানো কান্না, আবেগ, অনুভূতি। যা বেড়িয়ে আসছে।
চলবে,
#জোয়ার_ভাটা
#সুরাইয়া সাত্তার ঊর্মি
১৬।
ঝলমলে রাত। মৃদুমন্দ হাওয়ায়। ঝিলমিল মরিচ বাতি। হালকা সোনালী আলোয়… শেখ বাড়িটি তাকিয়ে আছে মার্জানের দিকে। যেন অধির আগ্রহ নিয়ে বলছে,
” মার্জান এসো, তোমার বাড়ি তোমার অপেক্ষায়।”
মার্জান গ্রীষ্মের বুকে এখনো মুখ লুকিয়ে কাঁদছে। গ্রীষ্ম এবার বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো,
“মার্জান তুমি কাঁদছো কেন? সারপ্রাইজ পছন্দ হয়নি।”
মার্জান ম্লান মুখে বাড়িটির দিকে চাইলো, আহত কন্ঠে বলে উঠলো,
” আপনি এখানে কেন নিয়ে এসেছেন? এখানের মানুষদের সাথে আমার সম্পর্ক কবেই ছিন্ন হয়ে গেছে।”
গ্রীষ্ম ব্রু কুটি কুঁচকে ফেলল,
“এ বাড়িতে কোনো মানুষ নেই মার্জান।”
মার্জান চকিতে তাকালো, গ্রীষ্মের চোখে চোখ রেখে বলে উঠলো,
“বাড়িতে মানুষ নেই মানে?”
গ্রীষ্ম হাসি মুখে মার্জানের দু’বাহু ধরে বলে উঠলো,
“কারণ এটা তোমার বাড়ি, তোমার আর মৃণালের।”
মার্জান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো গ্রীষ্মের দিকে। গ্রীষ্ম বুঝতে পেরে আবার বলল,
“অবাক হচ্ছো কেন? আমি সত্যি বলছি।”
মার্জান বলল,
“কিন্তু তা কিভাবে সম্ভব? ”
গ্রীষ্ম হাসলো। মার্জানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো। মার্জান অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে হাত এগিয়ে দিতেই বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো গ্রীষ্ম। চতুর্দিকের সাজানো গোছানো সব কিছু। ঠিক আগের মতোই আছে, যেমনটি মার্জান লাষ্ট দেখে গেছিলো।
মার্জান আবারো প্রশ্ন করলো,
“কিভাবে সম্ভব? ”
গ্রীষ্ম মার্জানের হাতে হাত রেখে বলল,
“কেনো নয় সম্ভব? তুমি আমার গার্ল ফ্রেন্ড, আর আমি আমার গার্ল ফ্রেন্ডকে অবশ্যই ছোট খাট কিছু দিতে পারতাম না!”
মার্জানের চোখের কোনে আবারো জমাট বাঁধছে জল।গ্রীষ্ম মার্জানের মুখটা দু’হাতে তালুতে ভরে নিলো,
” মার্জান নিজের ইমোশন কন্ট্রোল করতে শেখো। আমার অন্য কোনো ইনটেনশন ছিলো না। আমি গোপনে খবর পেয়েছিলাম, তোমার পরিবারের সদস্য বাড়িটি বিক্রি করে দিচ্ছে। তুমি খুশি হবে ভেবেই কিনে ফেলেছি।”
মার্জান আরো এক দফা অবাকের শির্শীর্ষে। কিন্তু এবার যেন ঝটকা খেলো মার্জান,
“আজ থেকে তুমি এ বাড়ি মালিক।”
এবার ঝড়ে পড়লো জমাইতো অশ্রু। গ্রীষ্মকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
“এটা আমি নিতো পারবো না, মি: গ্রীষ্ম।”
মার্জানের ভিতরে এ মুহূর্তে মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। একদিকে মনের বিভীষিকা বলে চলছে,
“মার্জান তুই একটি বাড়ির জন্য নিজেকে বিকি দিস না।”
তো অন্যদিকে মস্তিষ্ক চিৎকার করে বলছে,
“খারাপ কি মার্জান? তুই তো এই জন্যই এসেছিলি?”
কিন্তু বেচারা মার্জান ভাবনার তলে ডুবে চলে। গ্রীষ্ম এবার ওঁর কাঁধে হাত রাখে,
“মার্জান, এই বাড়ি আগেও তোমার ছিলো, এখনো তোমার আছে, পার্থক্য শুধু সময়ের। আমি বলবো না, তুমি এখনি বাড়িটি গ্রহন করো। বাড়িটি তোমার ছিলো, থাকবে, আছে।”
মার্জান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো গ্রীষ্মের দিকে। লোকটি বুঝি তাকে সত্যি ভালোবাসে? নাকি সবার মতো কোনো মতলব এঁটে আছে?
———
দিনটি আজ মরা মরা। আকাশে গোলাকার সূর্যের আজ তেজ নেই। মেঘলা দিনের মতো আকাশের বুকে ঘিরা নরম তুলতুলে মেঘমালা। এমন দিনের শুটিং স্পটে সায়নের মেজাজ আজ ফুরফুরে। ওদের অফিসিয়ালী ড্রামাটি আজ মুক্ত পাবে টিভির বিখ্যাত একটি চ্যানালে। তবে ওঁর রেটিং এর উপর ডিপেন্ডেবল সায়নের শোটি চলবে কি না! ঠিক ওই সময় সায়নের কেবিনে কড়া নারলো কেউ,
“কামিং।”
বলতেই রিয়ানা এসে ঢুকলো। রিয়ানার মতো এত বড় নায়কাকে ওঁর কবিনে দেখেই সায়ন বিস্মিত,
“মিস রিয়ানা, আপনি এখানে?”
রিয়ানার পেট এখন অনেকটাই ফুলেছে, পাঁচ মাস ক্রস করে ছ’মাসে পড়েছে। কিছুটা হেলদি ও হয়েছে বটে। নিজের পেটে হাত রেখে ভিতরে ঢুকলো ওঁ,
“আপনার সাথে কাজ আছে আমার।”
সায়ন চিন্তায় পড়ে গেলো। রিয়ানার মত নাম করা হিরোইন ওঁর সাথে কি কাজ। সায়ন ভালো করে জানে, এই ব্যক্তিটি, কখনোই নিজের স্বার্থ ছাড়া এক পা বাড়াবে না।নির্ঘাত কোনো মতলব এঁটে এসেছে তাই বলল,
“হ্যাঁ বলে ফেলুন তাহলে।”
রিয়ানা কালবিলম্ব না করেই গড়গড় করে বলে উঠলো,
“আমি চাই আপনিই মার্জানকে রিপ্লেস করে অন্য কাউকে নিন।”
সায়ন হেলে বসলো চেয়ারে। গম্ভীর কন্ঠে বলল,
” আর তা আমি কেনো করবো?”
রিয়ানা রেগে বলল,
” কারণ আমি বলছি।”
সায়ন ঠোঁট বাকিয়ে ফেললো,
” আপনি অবশ্যই আমার কাছে এমন কোনো ব্যক্তি নন, যার জন্য আমার হিট যাওয়া শোর মেিন লিড বাদ দিবো।”
রিয়ানা ক্ষেপে গেলো,
” সায়ন আমি চাইনা আমাদের পার্সোনাল মেটারের সাথে তুমি প্রোফেশনাল মেটার গুলো মিলিয়ে ফেলো।”
সায়ন রিয়ানার কথা রিপিট করে বলে উঠলো,
” আমিও একই কথা বলতে পারি।”
রিয়ানা রাগে পা মারিয়ে চলে গেলো কেবিন থেকে। সায়ন দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো চোখ বুঁজে। একটা সময় ছিলো, রিয়ানার সাথে ওঁর প্রণয় ছিলো। কিন্তু হুট করেই পালটে গেলো সব। রিয়ানা ওঁর হাত ধরেই ফিল্মি ইন্ডাস্ট্রিজ পা রেখেছিলো। কিন্তু ও যেই ফেমাস হলো? ছুঁড়ে ফেললো সায়নের ফিলিংস। পরবর্তীতে সায়ন জানতে পারে, সায়নকে শুধু রিয়ানা ইউস করেই গেছে। ভালোবাসে তো সে ভাদ্রকেই। এদিকে রাগে গজগজ করতে করতে রিয়ানা বের হচ্ছিলো অফিস থেকে। ঠিক সেই মুহূর্তে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে যায় রিয়ানা। মার্জান নিজেও চমকে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই সামলে নেয়। রিয়ানা মার্জানকে দেখেই চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
” তোমার সাহস কত আমাকে ধাক্কা দিবার?”
মার্জান কিছু বলবে তার আগেই কেউ ওঁর বাহু ধরে টান দিয়ে ঠাস করে চর বসিয়ে দিলো। মার্জান হতভম্ব।
” তুমি রিয়ানাকে ধাক্কা দিলে কোন সাহসে?”
মার্জান কিছুই বুঝলো না। ওঁ রিয়ানার দিতে তাকাতেই রিয়ানার শয়তানী মার্কা হাসি দেখে মার্জান বুঝে গেলো। এ সব রিয়ানার প্লেন। ভাদ্র রিয়ানাকে সাহায্য করে তোললো। মার্জান মুচকি হেসে হাতে তালি বাজি বলে উঠলো,
” রিয়ানা? তোমার কি মনে হয় না… এসব ট্রিক্স পুরনো হয়ে গেছে? আপডেট কিছু করা উচিত? ”
রিয়ানা কাঁদো কাঁদো মুখ ভঙ্গি করে আছে ভাদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল,
” ভাদ্র আমার মনে হয়, এই মেয়ে পাগল হয়ে গেছে, দেখ কেমন আবোলতাবোল বকছে। মানছি ওঁকে আমি দেখতে পারি না। তবে আমি এতটাই কি নিচ বলো? ওঁর জন্য আমার সন্তানকে কষ্ট দিবো?”
ভাদ্রের চোখে মুখে লাভা,
” মার্জান কেন করছো এমন? কমছে কম এই ছোট জানটিকে ছেঁড়ে দিতে?”
মার্জান এবার হো হো করে হেসে ফেললো,
” ওহো প্লিজ, তোমাদের এ সব ড্রামা বন্ধ করো। আমার কোনো শখ নেই তোমাদের মুখ লাগবার। ওকে। আর রইলো তোমাদের বাচ্চার কথা? আমি মাত্র যা দেখলাম তাতে আমার মাথায় দুটো প্রশ্ন জাগছে, ১। বাচ্চাটা চিন্তা কি আসলেই আছে রিয়ানার? ২। বাচ্চাটা কি আসলেই তোমার ভাদ্র? ”
ভাদ্র এবার চিন্তায় পড়ে গেলো। আর রিয়ানার মুখে চিন্তা আর ভয় মিশ্রিত ছাপ। তোতলান কন্ঠে বলল,
” এই এই মেয়ে পাগল হয়ে গেছে, কি উল্টো পাল্টা বকছে।”
মার্জান শুধু ওঁদের উপর তাচ্ছিল্য ছুঁড়ে দিলো। এর পর চলে গেলো নিজ গন্তব্যে। ভাদ্র মার্জানের যাওয়ার পথে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,
” রিয়ানা, মার্জানের হাবভাব ভালো ঠেকছে না আমার কাছে, তুমি জানো তোমার নানাজানের বাড়িটা যে মার্জান কিনেছে?”
চমকে তাকালো রিয়ানা। চোখ দুটো যেন কৌটা থেকে বেড়িয়ে আসবে,
“কি বলছো এসব?”
“সত্যি বলছি।”
রিয়ানা মনে মনে ভাবলো,
” এর পিছনে সায়ন তো নয়? এই জন্যই বুঝি ওঁকে বের করছে না? কিন্তু তা কিভাবে সম্ভব, সায়ন তো বিয়ে করে ফেলেছে আর ওঁর বাচ্চাও আছে,ওকে আমি ভালো মতোই চিনি ওঁ কখনো ঠকাবে না ওঁর বউকে, তাহলে এর পিছনে কে?”
————–
আজ সাত দিন যাবত কোনো খবর নেই গ্রীষ্মের। মার্জান নিজেও আর কল করে না। ও যেন বেমালুম ভুলেই গেছে। মৃণাল ওঁর মমিকে প্রতিটা সময় পর্যবেক্ষণ করছে। মৃণাল বলল,
” জান? সামার আঙ্কেল এখন আসে না কেন? সে কি আমাদের উপর রাগ করেছে?”
মার্জান মৃণালের জন্য ফল কাঁটছিলো। মৃণালের কন্ঠে হাত থেমে গেলো। পরক্ষণেই বলল,
” না, হয়তো তোমার সামার আঙ্কেল ব্যস্ত।”
মৃণাল আর কিছু বলল না। তখনি উপস্থিত হলো রাফান। হাতে এক গাদা শপিং ব্যগ। মৃণালকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
” মৃণাল , আঙ্কেল তোমার জন্য গিফট এনেছে।”
মৃণাল মুখ বাকিয়ে বলল,
” আঙ্কেল মৃণালের কাছে ওল রেডি এত এত গিফট আছে, ওঁ আর কি করবে এসব দিয়ে?”
মৃণালের কথায় রাফান খানিকটা অপমানিত বোধ করলো। তা বুঝতে পেরে মার্জান বলল,
” রাফান তুমি কেন এসব আনতে গেলে।”
” কেন মৃণাল আমার কি কিছু হয় না?”
মার্জান হাসলো। এরপর দু’জন কথা বলতে বরতে বেড়িয়ে গেলো, কেবিন থেকে। মৃণাল চট করে তখন ওঁর ফোন বের করে মেসেজ করলো গ্রীষ্মকে।
” সামার আঙ্কেল? আপনি কি রাগ করেছেন আমাদের উপর? আপনি কি জানেন? জানের মন জয় করার জন্য রাফান আঙ্কেল কত কসরত করছে? আমার মনে হচ্ছে রাফান আঙ্কেল আমার পাপা হতে চলেছে।”
মৃণাল ফোন রেখে দিলো। মার্জানের কাঁটা ফল খেতে খেতে মুচকি হাসলো। ওঁর মায়ের জন্য সামার আঙ্কেল বেষ্ট। সামার আঙ্কেল ছাড়া কাউকে চায় না মৃণাল।
———–
একটা সুপার শপে ঢুকেছে শীপ্রা। বাসায় আজ ওঁর ভাই রান্না করবে, দু’বোনের শুধু দায়িত্ব্য কব্জি ডুবিয়ে খাবে। কিন্তু বাড়িতে বাটার আর চিজ ছিলো না। তাই নিতে এসেছে ওঁ। শীপ্রা শপের ভিতরে ঢুকে নিজের জিনিজ গুলো নিলো। পাশেই ছিলো কিছু স্নাক্স এর প্যাকেট ও গুলো দেখতে লাগলো। ঠিক তখনি একটি পরিচিত গলা ভেসে আসতে লাগলো। শীপ্রার বুকের মাঝে ধক করে উঠলো। পিছনে ফিরে ওঁর চিরচেনা লাভকে দেখে থমকালো। লাভ একটি মেয়েকে নিয়ে শপিং করছে। শীপ্রা মেয়েটিকে দেখলো ভালো করে, লাভের ছোট হবে মনে হচ্ছে, সুন্দর আর পরনের শর্ট টপস আর জিন্সে আরো সুন্দর লাগছে। যেন মেইড ফর ইচ আদার। শীপ্রা আহ্ করে শ্বাস ছাড়লো। লাভ ওঁকে সত্যি ডিজার্ভ করে না। ওঁর উচিত শীপ্রা থেকে দূরে থাকবার। শীপ্রা পাশ কেঁটে এবার চলে যাচ্ছিলো। চোখে ওঁর জালা করছে যে কোনো মুহুর্তে উপচে পরবে পানি। কিন্তু ওঁর বুকে জ্বালা বাড়িয়ে দিতে লাভ ওঁকে ডাকলো। লাভ শীপ্রাকে দেখেই ওঁর জসানো অভিমান ঝেঁকে বসেছে। ও ওঁর পাশের মেয়েকে শক্ত করে ওঁর হাত ধরে টেনে নিয়ে এসে দাড় করালো শীপ্রার সামনে,
” হোয়াট এ কোইন্সিডেন্স শীপ্রা। বাই দ্যা ওয়ে, আসো তোমাদের পরিচয় করিয়ে দেই, শীপ্রা মিট মাই ফিয়ান্সে রাত্রী। রাত্রী, ওঁ হচ্ছে শীপ্রা আমার এক্স। ”
রাত্রী অদ্ভুত ভাবে তাকালো শীপ্রার দিকে। শীপ্রা নিজেও অস্বস্তি বোধ করতে লাগলো। তবুও চাপা হেসে বলে উঠলো,
” হ্যালো। কংগ্রাচুলেশন। তোমাদের দু’জনকে মানিয়েছে খুব, সুখী হও। ”
বলেই পা বাড়ালো সামনে। লাভ এতে আরো ক্ষেপে গেলো। লাইক সিরিয়াসলি, এই মেয়ের মনে ওঁর জন্য বিন্দু পরিমাণ ভালোবাসা জম্ম নেয় নি? লাভ রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালো, শীপ্রার হাত টেনে নিয়ে ওঁর মুখোমুখি দাঁড় করলো,
” ইউ নো হোয়াট শীপ্রা, আজ তুমি প্রামণ করে দিলে, তোমার জন্য আমার মনে বিন্দু পরিমাণ অনুভূতি ছিলো না।”
বলেই ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো। এবং রাত্রীর হাত টেনে নিয়ে চলে গেলো। শীপ্রা সেখানেই বসে পড়লো। এবং বুক ফাঁটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। নিজেকে ওঁর আজ শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে।
———-
মার্জান আর রাফান একটি কফি শপে বসে আছে। দু’জনের মাঝে চলছে ছোট বেলার বিষয়ক কথা বার্তা । মার্জান কথার এক পর্যায় বলে উঠলো,
” রাফান, তোমার মনে আছে ছোট বেলায় আমার আর তোমার পরিবার ঘুরতে গেছিলো বান্দরবান। তখন সেখানে আমার ছোট এক্সিডেন্ট হয়, এবং তুমি আমাকে বাঁচাও।”
রাফান মার্জানের হাতে হাত রেখে বলল,
” মনে কেন থাকবে না আমার, সেদিন তোমার কিছু হলে আমার কি হতো বলো?”
মার্জান চকিতে তাকালো। রাফান বরে উঠলো,
” হ্যাঁ মার্জান, আমি… আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। ছোট থেকেই। তোমাকে প্রপোজ কিভাবে করবো? ভেবেই পাচ্ছিলাম না। তাই আজ সুযোগ বুঝে বলেই ফেললাম।”
বলেই রাফান একটা রিং এর বক্স বের করলো,
” এটা আমি তোমার জন্য কিনেছিলাম মার্জান। যদি তুমি রাজি থাকো, আমি পড়াতে চাই।”
বলেই রিং বের করে মার্জানের হাত ধরলো। অকস্মাৎ ঘটনায় মার্জানের যেন কথা বলতেই ভুলে গেলো। রিং পরাবার ঠিক আগ মুহূর্তেই একটি হাত মার্জানের হাতেকে শক্ত করে চেপে ধরে উঠলো। চিৎকার করে বলল,
” জান, তুমি অন্য কোনো লোকের সাথে কি করছো? তুমি কি ভুলে গেছো? তুমি আমার সাথে চুক্তিবদ্ধ? তারপরেও সাহস কি করে হয় তোমার?”
মার্জান হঠাৎ করে গ্রীষ্মকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। গ্রীষ্সের রাগ সম্পর্কে ভালো ভাবে জানা মার্জানের। গ্রীষ্মকে দেখে থরথর করে কাঁপছে ওঁ। কোনো রকম নিজেকে সামলে বলে উঠলো,
” রাপান আমার বন্ধু। ”
গ্রীষ্ম ঠোঁট গোল করে বলল,
” বন্ধুরা বুঝি রিং পড়ায়?”
মার্জান কিছু বলতে পারলো না। কিন্তু গ্রীষ্মের রাগতো কমবার নয়। ওঁ মার্জানকে টেনে হিছড়ে সেখান থেকে নিয়ে আসে। মার্জানকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে বসায় । এবং নিজে ড্রাইবিং সিটে বসে ফুল স্পিডে গাড়ি চালাতে শুরু করে। মার্জানের যেন আত্মা বেড়িয়ে আসার উপক্রম। ভয়ে ওঁর গলা শুকিয়ে কাঠ, এক ফোঁটা রা নেই ওঁর মুখে। এর আগে যখন রাগ দেখিয়ে ছিলো ওঁ, তখন তো ওঁর জান টাই নিয়ে ফেলেছিলো প্রায়… এবার কি করবে এই পাগলটায়? কি করবে ওঁ?
চলবে,