Home "ধারাবাহিক গল্প ঝরা শিউলির দিনে ঝরা শিউলির দিনে পর্ব-০২

ঝরা শিউলির দিনে পর্ব-০২

0
1230

#ঝরা_শিউলির_দিনে
#পর্ব ২
#তামান্না_ইসলাম_শিমলা

_______________________

আঁধার নেমেছে ধরণীর বুকে। আকাশের শেষ আলোটুকু ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমে। চারপাশে কেমন এক নরম অন্ধকার, যেন দিনের ক্লান্তি গায়ে মেখে পৃথিবী নিজেই বিশ্রামে যাচ্ছে। এই সময়টাতে সাধারণত ঘরের ভেতরেই সবাই গুটিয়ে থাকে।

বিশেষ করে এত ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে বাইরে বের হওয়া তো একরকম নিষেধই। অথচ সেই নিষেধ, সেই ভয়কিছুই মানেনি অপরূপা। কোলের ভেতর শক্ত করে আগলে রেখেছে তার ষোলো দিনের মেয়েটাকে। নরম কাপড়ে মোড়া ছোট্ট শরীরটা বুকের সাথে লেগে আছে। শিশুর উষ্ণতা আর দুধের গন্ধে ভরে আছে তার বুক।

সঙ্গে আছে শুধু বাপের বাড়ি থেকে দেওয়া একটুকরো স্বর্ণের চেইন আর দুল। সৈকত বা তার পরিবারের দেওয়া কিছুই নেয়নি সে। একটা চুড়িও না। মনে মনে শুধু একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে,

“যে মানুষটাই তার নয়,সেই মানুষটার দেওয়া কোনো কিছুই তার নয়। হতে পারে না।”

তন্মধ্যে ভেসে এল মাগরিবের আজান । আজান শুনে বুকটা হু হু করে উঠল অপরূপার। কেন যেন মনে হলো এই ডাকটা শুধু নামাজের জন্য নয়, তার ভাঙা মনটার জন্যও। আল্লাহ তাকে এ কোন কঠিন শাস্তি দিচ্ছে? এমন সময় বাসটা হঠাৎ করে একটা বড় ঝাঁকুনি দিল।

“আহ…”

চোখ-মুখ কুঁচকে গেল অপরূপার। সেলাইয়ের জায়গাটায় যেন আগুন ধরে গেল। পেটের নিচে টান পড়ে ব্যথা ছড়িয়ে গেল সারা শরীরে। তবুও সে কোনো শব্দ করল না। পিহু একটু কেঁপে উঠল,সাথে শব্দ করে কেঁদে উঠল। অপরূপা তাড়াতাড়ি তাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরল।

“চুপ… চুপ মা… কিছু হয়নি… আমি আছি…”

অস্থির হলো রমণী। মেয়েকে শান্ত করতে গিয়ে নিজেরই কান্না চলে এলো। নিজেকে বড্ড অসহায় লাগছে তার। বড্ড বেশি। কিন্তু এখন ভেঙে পড়ার সময় না। তার মেয়েটার জন্য হলেও তাকে শক্ত থাকতে হবে। রাত নামতে নামতে বাসটা থামল গ্রামের মোড়ে। বাস থেকে নামল অপরূপা।

নেমে আসতেই ঠাণ্ডা হাওয়া এসে গায়ে লাগল তার। চারপাশে অল্প আলো, দূরে কোথাও কুকুর ডাকছে। অপরূপা ধীরে হাঁটা ধরল। রাত এখন এগারোটার কাছাকাছি, রিকশা অটো কোনোটার দেখাই পাবে না। পিহু একটু পরপর কেঁদে উঠছে। মেয়েটার নিশ্চয় খিদে পেয়েছে। এদিকে এই অবস্থায় হাঁটতে পারছে না অপরূপা। কোমর ছিঁড়ে আসছে তার। পা জোড়া আর চলতে চাচ্ছে না।

শরীরটা তার ক্লান্ত, কিন্তু মনের ক্লান্তি তার থেকেও অনেক বেশি। নিজের সব যাতনা, ক্লান্তি ভুলে পা চালাল অপরূপা। নিজের বাড়ির সামনে এসে থামল সে। কতদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছে সে। অথচ আজ এই বাড়িটাও কেমন অচেনা লাগছে। প্রেগন্যান্সির সময় সৈকত তাকে আসতে দেয়নি। এমন কি বাচ্চাটাও তার কাছেই হওয়াল। সকলেন সামনে সে একজন যত্নবান, দায়িত্বশীল স্বামী হিসেবেই নিজেকে দেখিয়েছিল। আদতে ছিল সবই মিথ্যা।

চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ছুড়ল অপরূপা। হাত উঠিয়ে ধীরে ধীরে দরজায় কড়া নাড়ল। তাদের বাড়িটা পাকা বাড়ি হলেও উপরে টিন। পাশাপাশি চারটি রুম। অপরূপা ও তার মায়ের রুমটা লাগোয়া হওয়ায় তার মায়ের রুমের দরজাতেই গড়া নাড়তে হচ্ছে। বার কয়েক শব্দ করার পর ভেতর থেকে মৃদু শব্দ শোনা গেল। ভেতর থেকে শোনা গেল অপরূপার মা আমেনা বেগমের কণ্ঠ,

“কে?”

অপরূপা ক্ষীণ স্বরে জবাব দিল,

“আমি অপরূপা।”

মুহূর্তেই শব্দ করে খুলে গেল দরজা। দরজা খুলতেই আমেনা বেগম থমকে গেলেন। মুহূর্তেই চোখ বড় বড় হয়ে গেল তার। চমকে উঠে উচ্চারণ করল,

“অপরূপা!”

আমেনা বেগমের দৃষ্টি গিয়ে পড়ল অপরূপার কোলে। গত সপ্তাহেই আমেনা বেগম নিজ বাড়ি ফিরেছেন। মেয়ের জামাই মেয়েকে আসতে দেবে না বলে সেই গিয়ে থেকে এসেছিল মাস খানেক। আর হঠাৎ করে অপরূপা তার বাড়িতে! তাও আবার এত রাতে এই বাচ্চা মেয়েটাকে নিয়ে। অপরূপা চুপচাপ পাশ কাটিয়ে ভেতরে চলে এলো। লাইটটা জ্বালিয়ে বসল বিছানায়।

সেলাই বুঝি খুলেও যাবে এবার। অপরূপা পিহুকে শুইয়ে দিল তার মায়ের বিছানায়। নিজের বোরখাটা খুলে ফ্রেশ হয়ে এলো। বিছানার কাছে চিন্তিত মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে আমেনা বেগম। তার মন মস্তিষ্কে হাজারটা প্রশ্নের ছড়াছড়ি। সেসব যেন দেখেও দেখল না অপরূপা। এসে বসল বিছানায়। পিহুকে কোলে নিয়ে খাওয়াতে লাগল। আমেনা বেগম শাড়ির আঁচল ঠিক করে বসল তার সামনে। চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন করল,

“কী হয়েছে মা? তুই এভাবে এলি কেন? জামাই কোথায়?”

অপরূপার পূর্ন মনোযোগ পিহুর দিকে। সে পানেই তাকিয়ে জবাব দিল, “আমি আসাতে বেশ অসুবিধা হচ্ছে নাকি?”
আমেনা বেগম মেয়ের মুখে এহেন কথা শুনে অসম্মতি প্রকাশ করলেন।

“কী বলিস? অসুবিধা হতে যাবে কেন? এত রাতে একা বাচ্চাটাকে নিয়ে কেন এলি? যদি কিছু হতো?”

এ পর্যায়ে অপরূপা চোখ তুলে তাকাল। থমথমে স্বরে জবাব দিল,

“কী হতো মা? বেশি হলে দু’জনেই মারাই যেতাম। এর বেশি আর কী?”

আমেনা বেগমের অস্থিরতা বাড়ল। সে অপরূপার গালে হাত রেখে অস্থির চিত্তে শুধালেন,

“কী হয়েছে মা? জামাই এর সাথে ঝগড়া করেছিস? কিছু বলেছ সৈকত? কী হয়েছে বল?”

একটার পর একটা প্রশ্ন, কণ্ঠে স্পষ্ট উদ্বেগ আমেনা বেগমের। ঠোঁট শুকিয়ে গেছে অপরূপার। উত্তর দিতে ইচ্ছে করছে না তার, বা হয়তো পারছেও না। শুধু ছোট্ট করে বলল,

“কিছু না।”

ছোট ছোট, ভাঙা উত্তর। আমেনা বেগম আরও অস্থির হয়ে উঠলেন।

“কিছু না মানে কী? এই সময় বাচ্চা নিয়ে তুই একা এলি? জামাই জানে?”

অপরূপা একটু থেমে বলল,

“জানে।”

“তাহলে? সে কোথায়? তোকে নামিয়ে দিল না কেন?”

অপরূপা এবার কোনো উত্তর দিল না। শুধু চুপ করে বসে রইল। জবাব দেওয়ার মতো কিছু কি আছে? কী জবাব দেবে সে? তার নীরবতা যেন আরও অনেক কিছু বলে দিচ্ছে। আমেনা বেগম ধীরে ধীরে বললেন,

“মা… কিছু লুকাচ্ছিস না তো? আমার দিকে তাকিয়ে বল।”

অপরূপা মাথা তুলল না। পিহুকে ছাড়িয়ে ওর মুখপানে তাকিয়ে বলল,

“মা, আমি খুব ক্লান্ত।”

অপরূপার গলার স্বরটা এতটাই ক্লান্ত, এতটাই ভাঙা যে আর জোর করতে পারলেন না আমেনা বেগম। অপরূপা ধীরে পিহুকে তার কোলে তুলে দিল।

“রাতটা একটু রাখতে পারবে ওকে?”

আমেনা বেগম জিজ্ঞেসু দৃষ্টিতে চেয়ে শব্দ করলেন,

“হুঁ।”

“আমি একটু ঘুমাবো, খুব ঘুম পাচ্ছে।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ, যা মা। তুই তো একেবারে শুকিয়ে গেছিস, আগে বিশ্রাম নে।”

এবার আর কোনো প্রশ্ন করলেন না তিনি। নাতনির মুখের দিকে তাকিয়েই যেন সব ভুলে গেলেন। অপরূপা ধীরে ধীরে নিজের ঘরের দিকে গেল। ঘরে ঢুকেই দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল। কাঠের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা যেন তার জীবনের একটা অধ্যায় বন্ধ হওয়ার মতো শোনাল। ঘরটা অন্ধকার।

বাতিটা আর জ্বালানো হলো না তার। বিছানার ধারে গিয়ে বসে পড়ল সে। ধীরে ধীরে হাঁটু ভাঁজ করে মুখ গুঁজে দিল। সময়ের স্রোতে কাটল কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপে। বড্ড কান্না পাচ্ছে তার, অথচ কাঁদার মত শক্তি টুকুও তার মাঝে অবশিষ্ট নেই। নিজেকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অসহায় মনে হচ্ছে। বারবার ভেসে বেড়াচ্ছে সৈকতের নিষ্পাপ মুখশ্রী, তার বলা কথা, তার করা যত্ন।

সব মিথ্যা সব! এইতো পিহু যেদিন হলো সেদিনের কথা। অপরূপা ভয়ে এক প্রকার প্রেশার বাড়িয়ে ফেলেছিল। তখন তার স্বামী নামক মানুষটাই তো তার কাছে এসে তাকে শান্ত করেছিল। হাত ধরে কপালে চুমু খেয়ে বলেছিল,

“কিছু হবে না তোমার, আমি অপেক্ষায় রইলাম তোমাদের।”

ইস! অপেক্ষা? নাকি মনে মনে মৃত্যুটাই চেয়েছিল? তা-ই বোধ-হয়! চার চারটা বছর সংসার করার পর কি-না এখন এসে জানতে হচ্ছে সবই মিথ্যা ছিল। কী কপাল নিয়েই না অপরূপা এসেছে। অপরূপার শরীর কাঁপছে খুব। কপোল বেয়ে গড়াচ্ছে অশ্রুজল। তার যে কিছুতেই সহ্য হচ্ছে না। যে মানুষটাকে পাগলের মত ভালোবেসেছিল সে, অন্ধের মত বিশ্বাস করেছিল সে মানুষটা তাকে দিনের পর দিন ঠকিয়েছে। বাজ ভাবে ঠকিয়েছে।

“আপনার মত স্বার্থপর মানুষ আর কারো জীবনে না আসুক। এর থেকে মৃত্যু ভালো।”

মাথা তুলল অপরূপা। হাতের পিঠ দিয়ে চোখের পানি মুছে ফেলল। চোখদুটো লাল। শুয়ে পড়ল বিছানায়। শরীরটা আর চলছে না। চোখ লেগে এলো ক্লান্তিতে। তার ঘুম প্রয়োজন, একটা দীর্ঘ ঘুম।

_______

সময়ের স্রোতে কেটেছে সাতটা দিন। পিহুকে নিয়ে রান্নাঘরে বসে আছে অপরূপা। চোখ মুখ তার মলিন। এই সাতটা দিন বিষন্ন ছিল সে। পাশেই রান্না করছেন আমেনা বেগম। মেয়েকে কিছু জিজ্ঞেস করেও জবাব পায়নি সে। সৈকতকে কল করেছিল কয়েকদফা, তবে তারও ফোন বন্ধ। আমেনা বেগমের আর বুঝতে বাকি নেই যে বড় কিছু ঘটেছে। তবুও মেয়েকে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছে না।

ছোট্ট পিহু কাঁদছে খিদেতে। এদিকে সেই কান্না কানেই যাচ্ছে না অপরূপার। আমেনা বেগম রান্নার ফাঁকে মেয়ের দিকে তাকালেন। কিছুটা উচ্চস্বরেই ডাকলেন,

“অপরূপা? পিহু কাঁদছে শুনছিস না?”

অপরূপার ধ্যান ভাঙে। সে পিহুকে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। কিছু না বলেই চলে এলো ঘরে। তার মন মস্তিষ্ক কোনোটাই কাজ করছে না। এই সাতটা দিনে সৈকত একটা কলও করেনি। যোগাযোগও করেনি। অপরূপাকে সে ভালো না-ই বাসল। কিন্তু পিহু? পিহু তো তারই রক্ত, তারই সন্তান। মেয়ের জন্যেও কি তার মন পুড়ছে না? পুড়ছে না বলেই তো একটা বার কল করেনি। অপরূপার কষ্ট হয়, খুব বেশি কষ্ট হয়। সে আর নিতে পারছে না এই যন্ত্রণা।

পিহুকে ঘুম পারিয়ে উঠে বসল সে। এমন সময় ঘরে এলো অপরূপার ভাবি লুপা। পাঁচ মাস আগেই অপরূপার বড় ভাই পলাশ বিয়ে করেছে। ভাবিকে এতদিন ছবিতেই দেখেছে অপরূপা। আজ সরাসরি দেখা মিলল। আজ সকালেই বাপের বাড়ি থেকে ফিরেছে সে। লুপা এসে বসল বিছানায়। অপরূপা জোরপূর্বক হাসি টানল ঠোঁটে।

“কেমন আছেন ভাবি?”

লুপা নিজেও হাসলো। জবাব দিল,

“এই তো আপা৷ আপনার কী খবর? একা এলেন যে? ভাইয়া এলো না কেন?”

অপরূপা চোখ নামিয়ে নিল। হাত দুটো ব্যস্ত হলো পিহুর জামাকাপড় ভাজ করায়। সেভাবেই জবাব দিল,

“এমনি।”

“এমনি? এমনি আবার কী? কিছু হয়েছে? রাগ করে চলে এসেছেন নাকি? আপনার ভাইয়ের সাথে কত ঝামেলা লাগে, তাই বলে কি আমি বাপের বাড়ি চলে যাই নাকি? ধৈর্য্য না থাকলে সংসার হয় নাকি?”

লুপা কথা গুলো খোঁচা মেরেই যে বলছে সেটা অপরূপা বেশ ভালো মতোই বুঝতে পারছে। তবুও সে নিশ্চুপ। শুধু শুধু বাক্য অপচয় করার মানেই হয় না। আর না সে সেই পরিস্থিতিতে আছে। অপরূপাকে চুপ থাকতে দেখে লুপা মুখ কুঁচকে নিল।

“তাহলে আমার ধারণাই সত্যি?”

অপরূপা কথা ঘোরাল। প্রশ্ন করল,

“আপনি যেন কীসে পড়েন?”

লুপা চতুর মস্তিষ্কের মেয়ে। অপরূপা কথা ঘোরাচ্ছে তা ধরতে সময় লাগল না। তবুও আর কথা বাড়াল না। জবাব দিল,

“অনার্স তৃতীয় বর্ষ।”

অপরূপা জানে, তবুও কথা ঘোরানোর জন্য প্রশ্নটা করা। সে হেসে ফের বলল,

“আমার থেকে ছোটই, তুমি করে বলি কেমন?”

লুপা জোরপূর্বক হেসে উঠে দাঁড়াল। জবাব দিল,

“আরে বলুন, সমস্যা নেই। আমি বরং যাই, কত কাজ পড়ে আছে।”

অপরূপা বারতি কথা বলল না। লুপা একপলক তাকিয়ে বেরিয়ে গেল। অপরূপা পিহুকে পেটে নিয়েই অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। রেজাল্ট আসলে মাস্টার্সও করবে, এমনটাই পরিকল্পনা ছিল তার। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সপ্নটা ছোট থেকেই ছিল। সৈকতও তাকে বাঁধা দেয়নি। তবে এখন তো এছাড়া আর উপায় নেই। তাকে তো নিজের পায়েই দাঁড়াকে হবে।

সামনে যে আরো কত কী বাকি। মেয়ের ভবিষ্যত তো তার হাতেই। মাথা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল অপরূপার। মেয়ের পাশেই শুয়ে পড়ল সে। শরীরটা বড্ড খারাপ লাগছে তার। সেলাই এর জায়গায় দু’দিন ধরে বড্ড জ্বলছে। ডাক্তার দেখানো উচিত। যাবে যাবে করেও যাচ্ছে না। তবে আজ একটু বেশিই খারাপ লাগছে। একদিকে শরীর, একদিকে মন। আল্লাহ তাকে কেন যে এমন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন করল। না পারছে নিজেকে শক্ত রাখতে, আর না পারছে সহ্য করতে। আজাব লাগছে সব কিছু ।

__________

#চলবে