Home "ধারাবাহিক গল্প ঝরা শিউলির দিনে ঝরা শিউলির দিনে পর্ব-০৩

ঝরা শিউলির দিনে পর্ব-০৩

0
667

#ঝরা_শিউলির_দিনে
#পর্ব ৩
#তামান্না_ইসলাম_শিমলা

_______________________

উত্তপ্ত গা জ্বালা রোদ। রিকশা ছুটছে হাসপাতাল থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে। অপরূপার কোলে ছোট্ট পিহু, পাশেই তার মা আমেনা বেগম। ডাক্তার বেশ কিছু ওষুধপত্র লিখে দিয়েছে, সাথে রেস্টে থাকতে বলেছে। আমেনা বেগম মেয়ের এই অবস্থা দেখে অস্থির। রিকশা থামল বাড়ির সামনে। অপরূপা নামল। আমেনা বেগম রিকশা ভাড়া মিটিয়ে ভেতরে এলেন। অপরূপা সোজা নিজের ঘরে এসেছে। বিছানার উপর থাকা ফোনটা কর্কশ আওয়াজ তুলে বাজছে।

ফোনটা সে রেখেই গিয়েছিল। পিহুকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে অপরূপা এগিয়ে এলো ফোনের কাছে। স্ক্রিনে ভাসমান নাম্বার দেখেই মস্তিষ্ক ভার হলো তার। গলা শুকিয়ে এলো। স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে সৈকতের নাম। অপরূপা সামলে নিল নিজেকে। হাত বাড়িয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে কলটা রিসিভ করল। তৎক্ষনাৎ ওপাশ থেকে ভেসে এলো সৈকতের ধীর স্থির স্বাভাবিক কণ্ঠস্বর। যেন সব কিছুই স্বাভাবিক।

“কেমন আছো?”

অপরূপা প্রশ্নের বিপরীতে নিশ্চুপ। আগুনে ফেলে কি-না জিজ্ঞেস করছে কেমন আছো? হাস্যকর বটে। অপরূপার জবাব জবাব না পেয়ে সৈকত আবারো ডাকল,

“অপু, শুনছো?”

চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিল অপরূপা। শক্ত হলো চোয়াল। দাঁতে দাঁত পিষে বলল,

“ডাকবেন না, ডাকবেন না এই নামে।”

পরপর আবারো শোনা গেল সৈকেতের কণ্ঠস্বর,

“তুমি এখনো রেগে আছো, অপু?”

ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল অপরূপার। খেঁকিয়ে উঠল পরমুহূর্তেই,

“বলেছি না অপু নামে ডাকবেন না। অপরূপা বলুন, অপরূপা। কেন ফোন করেছেন? কী দরকার?”

সৈকত যেন চিনতে পারল না অপরূপাকে। মেয়েটার নরম কোমল দিকটাই তো সে দেখে এসেছে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কণ্ঠে গম্ভীর্যতা টানল। বলল,

“শোনো অপরূপা, ফিরে এসো।”

ভ্রু কুঁচকে গেল অপরূপার। ফিরে যাবে মানে? কোথায় ফিরে যাবে? অপরূপা কিছু বলার আগেই সৈকত আবার বলল,

“দেখো, তুমিও আমার স্ত্রী। তোমার প্রতি আমার দায়িত্ব কর্তব্য যা আছে সব পালন করতে রাজি, এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।”

অপরূপা শব্দ করে হেসে উঠল। চোখ জোড়া তার টলমল করছে অশ্রুজলে। তবুও একরাশ বিদ্রুপ নিয়ে আওড়াল,

“আমার সমস্যা আছে, অনেক অনেক অনেক বেশি সমস্যা। আপনি আমাকে দিনের পর দিন ঠকিয়েছেন।”

সৈকত বিরক্ত ভঙ্গিতে জবাব দিল,

“এত বেশি জলঘোলা করো না তো। মানুষ দুই বউ নিয়ে সংসার করে না? আর আমি তো তোমাকে কোনো কিছুর অভাবে রাখছি না।”

“কী? কী বললেন?”

অবাক হওয়ার সুরে কথাখানা বলল অপরূপা। তারপর আবারো হেসে বলল,

“আপনি আসলেই একটা অমানুষ জানেন তো, সৈকত?”

তৎক্ষনাৎ ধমক এসে পড়ল অপরূপার উপর,

“অপরূপা! মুখ সামলে কথা বলো।”

“ঠিকই তো বলছি। এই, আপনার লজ্জা করছে না বলুন তো? লজ্জা করছে না আমাকে এসব বলতে?”

হুট করেই শান্ত হলো সৈকত। বিরক্তি আর প্রকাশ করল না। বরং স্বাভাবিক ভাবেই বলল,

“স্বামীর ঘর ছেড়ে কতদিন বাপের বাড়িতে থাকবে? লোকে কী বলবে? ফিরতে তো হবেই, তাই চলে এসো চুপচাপ।”

অপরূপা পাথরের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে তার। নিজেকে সামলে নিয়ে গম্ভীর স্বরে আওড়াল,

“তালাক চাই আমার। বিচ্ছেদ চাই।”

সৈকত এতে অবাক হলো বেশ! অপরূপা বরাবরই নরম ধাঁচের মেয়ে। অন্তত এই চারবছর সংসার জীবনে এটাই তার মনে হয়েছে। অথচ এই মেয়েই নাকি তার কাছে তালাক চাচ্ছে? সৈকত অবাক হয়েই বলল,

“মাথা খারাপ হয়েছে তোমার? চুপচাপ ফিরে এসো।”

“কখনোই না।”

“ডিভোর্সি মহিলাদের এই সমাজ টিকতে দেবে না।”

“না দেক। দরকার পড়লে মা মেয়ে দুজনেই এক সাথে মরব। তবুও আপনার কাছে এই অপরূপা হাওলাদার কখনো ফিরবে না।”

সৈকতের চোয়াল শক্ত হলো। কণ্ঠের ভার আছড়ে পড়ল,

“বাড়াবাড়ি হচ্ছে না? সুখে আছো ভালো লাগছে না তাই না? নিজে তো বদনাম হবেই, সাথে আমাকেও করবে। ওহ হ্যাঁ, তালাক হলে তো আসার নামে কেস করতে পারবে তাই না? কাবিনের পাঁচ লাখ টাকাও পাবে। লোভের জন্য সংসার ভাঙছো?”

সৈকতের মনোভাব বুঝতর বাকি নেই অপরূপার। পুলিশের কেসের ভয়েই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছি অপরূপাকে। আর দ্বিতীয়ত টাকা। অপরূপা বসল বিছানায়। শব্দ করে হাসলো, সেই হাসিতে তার বিষাদের গল্পটাও প্রকাশ পেল। প্রকাশ পেল নিজের জীবনের প্রতি বিদ্রুপ। চোখের পানি মুছে নিল আলগোছে। লম্বা শ্বাস টেনে কান্না আঁটকে বলল,

“চিন্তা করবেন না, কেস আমি করব না। করতেও দেব না। এই মানুষের আদালতে বিচার হয় নাকি? আপনার বিচার হবে হাশরের দিনে, আর বিচারক হবে আসার আল্লাহ। সেদিন আর পার পাবেন না।”

অপরূপা থামল। সৈকত কিছু বলতে নেবে তার আগেই আবারো অপরূপা শব্দ তুলল,

“আসার সময় একটা সুতো পর্যন্ত আনিনি, আপনি ভাবলেন কী করে আমি কাবিনের টাকা নেব? ডিভোর্সের ব্যবস্থা করুন। এই মিথ্যা একটা সম্পর্কের কোনো অস্তিত্ব আর টিকে না থাকুক। ভালো থাকবেন আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে, যার জন্য আপনি আমাকে ঠকালেন।”

আর একটা কথা বলার সুযোগ দিল না অপরূপা। কল কেটে দিল। ফোনটা ছুঁড়ে মারল বিছানায়। এতটা সময় আঁটকে রাখা কান্না গুলো বেরিয়ে এলো এবার। শব্দ করে কেঁদে উঠল সে। সেই কান্নার আওয়াজে ছুটে এলো আমেনা বেগম ও লুপা। মেয়ের আহাজারিতে মেয়েকে জাপ্টে ধরলেন আমেনা বেগম। অপরূপাও নিচে বসে পাগলের মতো চিৎকার করে কাঁদল। কেঁদে কেটে ভেজাল পুরো চোখ মুখ। বারবার কেবল একই কথাই আওড়াল,

“ও আমাকে ভালোবাসেনি আম্মু, ও আমাকে ঠকিয়েছে। সৈকত আমাকে ঠকিয়েছে।”

_____

অতঃপর সময় কাটল। আইনি ভাবে দু’জনের তালাক হলো। দুজনের পথ হলো আলাদা। যেদিন অপরূপার ডিভোর্স হলো সেদিন সে একটা বারের জন্যেও সৈকতের দিকে তাকায়নি। একটুও কাঁদেনি। বরং সে মুক্ত হয়েছে, মুক্ত হয়েছে তার আত্মা। তারপর কেটেছে অনেক গুলো মাস। পিহুর বয়স এখন নয় মাস। মেয়েটা এখন হামাগুড়ি দিতে শিখেছে। ফর্সা গোলগাল মুখখানা কী যে মায়াবি। মেয়েটা সারাদিন হাসে, প্রাণবন্ত একটা প্রাণ। বর্তমানে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছে অপরূপা। ভাই তো বিদেশেই থাকত। সেই সূত্রে লূপার বেশির ভাগ সময় কাটত বাপের বাড়িতে।

মাস খানেক হয়েছে ছুটিতে দেশে ফিরেছে পলাশ। বয়সে অপরূপার থেকে বেশি একটা বড় নয় সে। এই দুই আড়াই বছরের বড় হবে। পলাশ দেশে আসায় লুপাও বর্তমানে শ্বশুর বাড়িতেই আছে। অপরূপার ডিভোর্সটা সে মোটেও ভালো নজরে দেখে না। ডিভোর্সের পর থেকে সে একদমই অপরূপার সাথে কথা বলে না। আমেনা বেগমের সাথেও তার তেমন জমে না। যে দুই একদিন আসে, মেহমানের মতোই থাকে। এখনো তাই। বাড়ির সব কাজকর্ম আমেনা বেগম একা হাতেই করে।

অপরূপা তো মেয়ের জন্য কাজে হাতই লাগাতে পারে না। আর লুপা তো আছে তার স্বামী নিয়ে। একটা কাজও করে না, উল্টো মুখ চুন করে রাখে। আমেনা বেগম আর অপরূপা, দুজনের একজনেরও বোধগম্য হয় না লুগার এরূপ আচরণের কারণ। তারাও আর ঘাটায় না। কী দরকার? আজ পিহুর টিকার তারিখ। মেয়েটাকে টিকা দিয়ে মাত্রই বাড়ি ফিরেছে অপরূপা। নিজের ঘরে আসতেই দেখা মিলল লুপার। ড্রেসিং টেবিলের সামনে সাজিয়ে রাখা পারফিউম, পিহুর জন্য আনা তেল, বডিওয়াশ এগুলোই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে সে। এগুলো পলাশের আনা।

আয়নাতে অপরূপাকে নজরে পড়তেই পারফিউমের বোতলটা নামিয়ে ঘুরে দাঁড়াল লুপা। অপরূপা নিশ্চুপ। সে হাসি মুখেই মেয়েকে নিয়ে এগিয়ে এলো। পরনে তার সবুজ রঙের সুতি শাড়ি। ডিভোর্সের পর থেকেই অজানা কারণেই অপরূপা শাড়ি পরে। বেশ সুন্দর করে সামলাতেও জানে সে। পিহুকে শুইয়ে দিয়ে সে তাকাল লুপার দিকে। মৃদু হেসে বলল,

“দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসো?”

লুপার চোখ মুখ কেমন একটা থমথমে। সে পা থেকে মাথা অব্দি পর্যবেক্ষণ করল অপরূপার। অতঃপর এসে বসল বিছানার এককোনায়। অপরূপা পিহুকে শুইয়ে দিল। জ্বরের ওষুধ খাইয়ে দিল ঝটপট। যা মোটা মোটা সুই পড়েছে শরীরে, জ্বর তো আসবেই। তবে পিহু শান্ত মেয়ে। কান্না কাটি খুব কম করে। তবে মায়ের পিছ ছাড়ে না। পিহুকে ঘুম পারিয়ে অপরূপা উঠতেই লুপা নড়েচড়ে বসল। অপরূপা প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

“কিছু বলবে?”

লুপা কেমন করে যেন হাসল। জবাবে বলল,

“কী আর বলব, আপা? তা কেমন চলছে আপনার দিনকাল?”

অপরূপা স্বাভাবিক ভাবেই জবাব দিল,

“এইতো, আলহামদুলিল্লাহ।”

চটপট প্রশ্নের ফোয়ারা ছুড়ল লুপা,

“আপনার ভাই নাকি আপনার আর মায়ের জন্য সোনার গলার চেইন এনেছে?”

লুপার এহেন প্রশ্নে অপরূপা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ল। চুল গুলো খোঁপা করতে করতে বলল,

“সে তো তোমার জন্যেও এনেছে।”

“তা তো আনবেই। শুধু মা বোনের জন্য আনবে, বউয়ের জন্য আনবে না বুঝি?”

লুপার ঠেস দিয়ে বলা কথাগুলো অপরূপার পছন্দ হলো না। কিছুটা গম্ভীর স্বরেই বলল,

“তা কখন বললাম? তুমি ভাইয়ার বউ, তোমার জন্যই তো বেশি আনবে। এটা আবার বলার কী আছে?”

লুপা পায়ের উপর পা তুলল। চোখ সরিয়ে নিজের হাতের নখ খুটাতে ব্যস্ত হলো। বলল,

“যতই হোক, ওর কাছে আপনাদের গুরুত্বই বেশি। হবেই তো, আমি কে? আমি তো বাইরের মেয়ে। আমার কথার গুরুত্ব কেনই বা থাকবে?”

ভ্রু জোড়ার মাঝ বরাবর তীক্ষ্ণ ভাজের সৃষ্টি হলো অপরূপার। কথার মানে না বুঝতে পেরে শুধালো,

“মানে? বুঝলাম না ঠিক।”

লুপা চোখ তুলল। নাক টেনে বলল,

“কিছু না আপা, বাদ দেন।”

“কী হয়েছে বলো?”

লুপা যেন গলে পড়ল। নাক টেনে কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,

“জানেন তো আমার ছোট বোন এবার মাধ্যমিক দিল। বলেছিল এ প্লাস পেলে ওকে যেন একটা ফোন কিনে দেই। আমি কত বড়মুখ করে বলেছিলাম তোর দুলাভাইকে নিয়ে আসতে বলব। মেয়েটা প্লাস ঠিকই পেল, কিন্তু আপনার ভাই আমার ছোট্ট বোনটার জন্য মোবাইল আনল না। এখন আমার বোনটা মন খারাপ করে বসে আছে। আমার কষ্ট লাগবে না বলুন? আমার জন্য আনা চেইনটাও আপনার ভাই নিজে হাতে পরিয়ে দিয়েছে। বলেছে এটা যেন কোনো দিন না খুলি। না-হয় এটা বিক্রি করেই বোনকে একটা ফোন কিনে দিতাম। আমার একটা মাত্র ছোট বোন, আমারও তো দিতে ইচ্ছে করে। আপনার ভাই তো আর আমার বোনকে নিজের বোন মনে করে না, তাই ফোন আনল না।”

কথা গুলো বলতে বলতে কান্নার গতি বাড়ল লুপার। অপরূপার নিজেরও কিছুটা খারাপ লাগল। তার ভাই তো এমন না। কম টাকা পয়সা তো খরচ করেনি, একটা ফোন কিনতে আর কত টাকাই বা লাগত? এইতো দেশে আসার পর পিহুকে চেইনটা উপহার দিয়েছে পলাশ। যা পিহুর তা তো অপরূপারই। তবে শালিকার জন্য একটা ফোন আনা গেল না? অপরূপা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

“থাক কেঁদো না, ভাইয়াকে আমি বলবনি। মন খারাপ করো না।”

লুপা চটজলদি চোখ মুছল। আপত্তি জানাল তৎক্ষনাৎ।

“না না আপা, দরকার নেই। এমনিতেই পরের বাড়ির মেয়ে আমি, দোষের শেষ নেই। চেইনটাই বিক্রি করে বোনকে ফোন কিনে দেই বরং, বলব তোর দুলাভাই কিনে দিয়েছে। আমার এত সোনা গয়নার প্রয়োজন নেই।”

অপরূপার খারাপ লাগল বিষয় না। সে বিছানা ছাড়ল। আলমারির কাছে এসে দাঁড়াল। টিউশনি করিয়ে কিছু টাকা জমিয়েছিল কয়েকমাসে। সেগুলো আর ভাঙেনি দরকার ছাড়া। সব মিলিয়ে আটাইশ হাজার টাকার মতো আছে। সেখান থেকে বিশ হাজার টাকা বের করল অপরূপা। আলমারি লক করে টাকাটা নিয়ে এগিয়ে এলো লুপার কাছে। টাকাটা এগিয়ে দিয়ে বলল,

“এটা দিয়ে ফোন কিনে দাও আপাতত। ভাইয়াকে বলে দেব সামনের বার যেন ভালো দেখে একটা ফোন পাঠায়।”

লুপা চোখের পানি মুছে উঠে দাঁড়াল। টাকা গুলো ধরে ‘চ’ শব্দ উচ্চারণ করল।

“আরে আপা, কী করছেন? আমি কি আপনার কাছে চেয়েছি নাকি? ফোন আমিই কিনে দেব।”

অপরূপা হাত রাখল লুপার গালে। হেসে বলল,

“তুমি আমার বোনের মতোই। রাখো টাকাটা। আর তোমার বোনকে বলো এটা ভাইয়া কিনে দিয়েছে।”

টাকা গুলো হাতে নিল লুপা। চোখ মুখ কুঁচকে বলল,

“কী যে করেন না, আপা। ইশ কতগুলো টাকা নষ্ট করছেন আমার পেছনে।”

কথা গুলো বলতে বলতেই টাকা গুলো ঝটপট গুনে নিল অপরূপার সামনেই। অপরূপা নিশ্চুপ। লুপা হাসলো। হেঁসেই অপরূপার হাতটা নিজের মুঠোয় চেপে ধরল। বলল,

“ইস, আপনার মতো একটা বড় বোন যদি আমার হত। কতই না ভালো হত বলুন?”

অপরূপা ছোট্ট শ্বাস ফেলে অধর প্রসস্থ করল। বাহুতে হাত রেখে বলল,

“আমি তো তোমার বড়বোনের মতোই।”

লুপা দাঁত বের করে হেসে উপরনিচ মাথা নাড়ল। জবাবে বলল,

“হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক। আমি বরং যাই আপা, কেমন?”

অপরূপা ইশারায় সম্মতি প্রকাশ করল। তৎক্ষনাৎ বেরিয়ে গেল লুপা। অপরূপা তাকিয়ে দেখল লুপার যাওয়া। পরপর কেঁদে উঠল পিহু। কিছু কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে অপরূপা ছুটল মেয়ের কাছে।

_______

#চলবে