তবু কেন এত অনুভব পর্ব-০৭

0
605

#তবু_কেন_এত_অনুভব🕊
#written_by_Liza
#৭ম_পর্ব

আপনি বললে আমি দরজার বাহিরে পাহারাদার হয়ে থাকবো। আপনাকে নজরে রাখবো। (ইনান)

বেশি কথা না।যা বলেছি তাই করো তুমি,দোয়াকে পাঠিয়ে দিও। (তানাফ)

আচ্ছা বলে ইনান সার্ভেন্টদের’কে ডাকতে চলে যায়। তানাফ রুমে গিয়ে তার বাবাকে ফোন দেয়,

আব্বু ক্লিনিকে অনেক কাজের চাপ তাই আসতে পারবো না,আপনি আম্মুকে জানিয়ে দিয়েন, আম্মু নাহলে চিন্তা করবেন। (তানাফ)

ঠিক আছে,কাজ সেরে যদি পারো ফিরে আসার চেষ্টা করো। বাহিরের দিনকাল ভালো না তানাফ। তোমাকে নিয়ে আমাদের খুব ভয় হয়।সাবধানে থেকো (তানাফের আব্বু তোহিদ আজমী)

তানাফ ফোন রেখে দেয় কথা শেষ করে,এদিকে ইনান এসে তানাফকে খাবার এগিয়ে দেয় আর বলে “স্যার খেয়ে নিন খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে”

তুমি খাবেনা? তুমি কী এখন হাওয়া খাবে? তোমার প্লেট কই? (তানাফ)

স্যার রাফি ভাইয়ের ছুছু দেখে আমার খাওয়ার স্বাদ মিটে গিয়েছে। জোর করবেন না স্যার তখন এখানেই ব*মি করে দেবো (ইনান)

তানাফ খাবার এক চামচ মুখে দিতেই ইনানের কথা শুনে বেসিনের দিকে দৌড়ে যায়, ইনান বুঝতে পেরে বলে “হায় আল্লাহ স্যার কি করে এটা সম্ভব?আমি মানতে পারছিনা। দাড়ান স্যার আমি প্রেগ্ন্যাসি কিট টা নিয়ে আসি। একবার চ্যাক করে দেখুন সত্য কি-না। কবে কিভাবে স্যার এই আকামটা করলেন আপনি। আমি মুখ দেখাবো কি করে,থুক্কু আপনি মুখ দেখাবেন কি করে”!

তানাফ মুখ ধুয়ে রাগান্বিত চোখে ইনানের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে ” ইনান তুমি এখান থেকে যাও এক্ষুনি”

ইনান মুখে হাত গুজে ফিল্মি স্টাইলে স্লো মোশনে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে, ইনান দৌড়াতে দৌড়াতে বলছে “না, এ হতে পারে না।এ বাচ্চা মেনে নেওয়া যায় না”

ওদিকে সবাই অন্যরুমে শিফট করেছে, রাফি উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। রাফির বা*ম বাতাস করছে রাফির বন্ধুরা হাতপাখা দিয়ে।
তাদের রুমে খাবার আসতেই সবাই ওঠে বসে খাওয়ার জন্য। এদিকে রাফি বলে ওঠে “মনে হচ্ছে আমার বা*ম আমাকে খেতে দিবে না। মাগো এত জ্বালাপোড়া হচ্ছে।”

_________________________

নাদিম শেখ বেলকনিতে দাড়িয়ে প্ল্যান করছে আজীম শেখ’কে মা*রার। নাদিম শেখ মনে মনে বলছে “আমার পথের কাঁটা প্রথম তুই। তোকে উপড়ে না ফেলা অব্দি আমি নিস্তার নেই,তুই উপড়ে গেলে সম্পত্তি আমার। তোর বউ বাচ্চা আমার দাসী”

পকেটে রিভলবার ঢুকিয়ে রুমের দিকে চললো৷ আজীম শেখ ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছে। নাদিম শেখের উপর কড়া নজর রেখেছে তার স্ত্রী। নাদিম শেখ যেই না রুমে ঢুকতে যাবে, তার আগেই নাদিম শেখের হাত চেপে ধরে তার স্ত্রী। নাদিম শেখ ভয়ে আৎকে ওঠে।

টর্চ জ্বালিয়ে তার স্ত্রীর মুখ দেখার পর, রেগে গলা টিপে মাথা দেয়ালের সাথে ধাক্কা দেয় নাদিম শেখ। মাথায় খানিকটা আঘাত পাওয়ার পর পিও’র মা মাথা চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পরে।

নাদিম শেখ হাটু গেড়ে বসে চুলের মুঠি ধরে বলে “আমার খেয়ে অন্যের জন্য চামচামি তোকে করতে বলেছে কে? আরেকবার যদি বাঁধা হতে আসিস তাহলে তোকে প্রথম খু**ন করবো”

আজকের প্ল্যানটাই ভেস্তে গেলো নাদিম শেখের। নাদিম শেখ রুমে এসে বসে আছে, পিও ওয়াশরুমে যেতেই মেঝেতে কেউকে পরে থাকতে দেখে সামনে এগিয়ে আসে। মোবাইলের ফ্লাশ দিয়ে দেখে তার মা মেঝেতে পরে আছে। পিও চিৎকার করে ওঠে। ফ্লোরে র*ক্তে ভেসে যাচ্ছে। পিওর চিৎকারে সবাই ঘুম থেকে ওঠে যায়।

নাদিম শেখ হায় তুলতে তুলতে ঘুমের ভান ধরে এসে সামনে দাড়ায় আর বলে “কি হয়েছে মা এত রাতে কি করছিস এখানে?”

পিও কান্না ভেজা কন্ঠে বলে ওঠে “দেখো না বাবা মাকে কে যেনো আঘাত করেছে”

নাদিম শেখ মুহুর্তেই কান্নার ভঙ্গি করে কপাল চাপড়াতে শুরু করে আর বলে “এ আমার কি হলো৷ আমার পিও’র মাকে কারা এভাবে মেরেছে।ওগো উঠো। কতবার বলেছি রাত বেরাতে বের হইয়ো না। কে শুনে কার কথা।”

দোয়ার মা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নাদিম শেখের দিকে তাকিয়ে আছে, দোয়ার মায়ের চোখের উপর চোখ পরতেই কান্নার আওয়াজ বেড়ে যায় নাদিম শেখের। দোয়ার মা স্পষ্ট বুঝতে পারছে এটা নাদিম শেখের কাজ। দোয়ার মা উপযুক্ত প্রমাণ হাতের কাছে না পাওয়াতে চুপ করে আছে।

পিও’র মাকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। আর্জেন্ট অপারেশনের তলব পড়ে।

এদিকে তানাফ তড়িঘড়ি করে বেরোচ্ছে, কে যেনো ফোন করে যেতে বলেছে।

তানাফ ইনানকে সকল কাজ বুঝিয়ে দিয়ে বের হয়ে যায়। ইনান সবাইকে নিয়ে থেকে যায় রুমে তানাফের কথামতো৷

পিও’র মাকে ওটিতে ঢোকানো হয়েছে। তানাফ অপারেশন সরঞ্জাম গুছিয়ে নিচ্ছে, স্যাভলন দিয়ে হাত পরিষ্কার করছে, ওটির পাশে নাদিম শেখ ঘুরঘুর করছে। দোয়ার মায়ের কাছে ব্যাপারটা মোটেও ভালো ঠেকছে না।।

আজীম শেখ’কে দোয়ার মা বলে “তোমার ভাইকে এখানে বসতে বলো। ওটির সামনে এভাবে পায়চারি করছে কেন? আমার কেমন যেনো লাগছে”

আহ সবকিছু নিয়ে এত ভেবো না। ওর ওয়াইফ, ওর চিন্তা হচ্ছে বলেই তো এমন করছে। পজিটিভ নিতে শেখো (আজীম শেখ)

দোয়ার মা কথা না বাড়িয়ে কান্ড দেখছে নাদিম শেখের, ওটির ভেতর থেকে নার্স বের হয়ে আসে হাতে একটা ফাইল নিয়ে,আর বলতে থাকে
” পেশেন্টের হাসবেন্ড বা বাবা থাকলে সাড়া দিন। ”

নাদিম শেখ তড়িঘড়ি করে বলে ” আমি হাসবেন্ড, বলুন। পেশেন্ট কী মা*রা গিয়েছে? কখনো বের করবে লা*শ?”

নাদিম শেখের এমন আচরণে নার্স ভ্রু কুঁচকে ফেলে, অনিচ্ছাসত্ত্বে নার্স বলে ওঠে “এখানে সাইন লাগবে,পেশেন্টের মাত্র অপারেশন শুরু হবে৷ পেশেন্টের কিছু হলে আমরা দায়ী নয়৷ তাই সাইন লাগবে কেউ করে দিন ”

নার্সের হাত থেকে ছোঁ মেরে ফাইল নিয়ে সাইন করে নাদিম আর বলতে থাকে ” কোনো সমস্যা নেই, মা*রা গেলে কি আর করার। আমরা কেউ দায়ী করবো না। যা ইচ্ছা করুন ”

নার্স বিড়বিড় করে ওটিতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়, তানাফ অপারেশন সাক্সেস করে ওটি থেকে বেরিয়ে পড়ে, তানাফকে বের হতে দেখে নাদিম শেখ দাড়িয়ে যায়। তানাফকে নাদিম শেখ জিজ্ঞেস করে “বাঁচাতে পারেন নি নিশ্চয়? জানতাম ও বাঁচবে না। কপালের দোষ। ম*রে গেলো পিও’র মা।”

তানাফের মনে খানিকটা খটকা লাগে নাদিম শেখের এমন কথায়৷ তানাফ শান্তস্বরে নাদিম শেখ’কে বলে “চিন্তা করবেন না অপারেশন সাক্সেস। পেশেন্টের জ্ঞান ফিরলে দেখা করতে পারবেন”

এই বলে তানাফ চলে যায় ডক্টর রুমে। নাদিম শেখ দাঁতে কিড়মিড় করে চুপ করে আছে। দোয়ার আম্মু সবটা খেয়াল করে।
আজীম শেখ এসে নাদিম শেখের কাঁধে হাত রাখে আর বলে “ডক্টর কি বলেছে?”

অপারেশন সাক্সেস,জ্ঞান ফেরার অপেক্ষা (নাদিম শেখ)

আজীম শেখ খুশি হয়ে শুকরিয়া ফরিয়াদ করে আল্লাহ’র কাছে। সবাইকে বলে আজীম শেখ “অপারেশন আলহামদুলিল্লাহ। দোয়া করো যাতে জ্ঞান ফেরে”

নাদিম শেখ মনে মনে বিড়বিড় করে বলে “আমি থাকতে এখান থেকে জীবিত বের হতে পারবে না সে,জ্ঞান ফেরা তো দূরের ব্যাপার।”

নাদিম শেখ সকলের মাঝখান থেকে চলে যায়। তানাফ ইনানকে ফোন করে বলে “ইনান আবারো সাক্সেস আমরা।”

ইনান খুশি হয়ে তানাফকে বলে “আপনি থাকলে এভাবেই সাক্সেস হবো। আমাদের কোনো চিন্তার কারণ নেই।”

তানাফ ফোনে কথা বলছে এদিকে নাদিম শেখ ডক্টর রুমে ঢুকে পরে, না বলে। তানাফ নাদিম শেখ’কে দেখে ফোন রেখে দেয়। তানাফ মনে মনে বলে
“এই লোকটাকে আমার মোটেও ভালো লাগছেনা। কথাবার্তা খুব’ই অদ্ভুত। কী চায় ইনি!”

নাদিম শেখ বিশ্রী হাসি দিয়ে চেয়ার টেনে তানাফের সামনে বসে, তানাফ কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই নাদিম শেখ কিছু টাকার বান্ডিল টেবিলে রাখে আর বলে “টাকাগুলো তোমার জন্য। আমার একটা কাজ করে দাও। তাহলে দ্বীগুন পাবে”

তানাফ মুখের মাস্ক খুলতে চেয়েও খুলেনি,তানাফ নড়েচড়ে বসে মনে মনে বলে “যা ভেবেছি তাই,এই লোক অত্যন্ত জঘন্য মনে হচ্ছে। যাক জিজ্ঞেস করে দেখি আগে কী কাজ”

হুম বলুন কী কাজ? কী করা লাগবে আমার? (তানাফ)

নাদিম শেখ কাছে গিয়ে আস্তে আস্তে বলে,
” কি*ডনি নিয়ে ফেলুন পেশেন্টের,যত চাইবেন তত দেবো। ডিল করুন আপনার’ই লাভ ”

চলবে….