তুমি আছো তাই পর্ব-০১

0
994

#তুমি_আছো_তাই
#সূচনা_পর্ব
#লেখিকা_তাসনিম

“আপনি আমাকে বিয়ে কেন করতে চান”

এক সপ্তাহ আগে যার সাথে এঙ্গেজমেন্ট হয়েছে তার মুখে এমন একটা প্রশ্ন শুনে কিছুটা অবাক হলো অনু।ওকে চুপ করে থাকতে দেখে ছেলেটা বললো,

“আপনার নিরবতাকে কি আমি ধরে নিব এ বিয়েতে কোনো মত নেই আপনার”

“আমার বাবা-মা চাই আমি যেন আপনাকে বিয়ে করি,তাদের সম্মতিতে সব হচ্ছে”

“বাবা-মা,দ্যান হোয়াট এবাউট ইউ এন্ড মি,সারাজীবন একসাথে আমরা থাকবো ডিসিশন টাও আমাদের হওয়া উচিত তাই না”

“আপনার যদি প্রবলেম থাকে তাহলে আপনি সেদিন বললেন না কেন”

“ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল বুঝেন,আমার বাবা মা চাই আমি যেন তাদের সাথে এখানে বিয়ে করে থেকে যায়,মানে এটা কোনো কথা,আমি ইউএসএ থেকে স্ট্যাডি কমপ্লিট করেছি,ইনফ্যাক্ট আমার জবের অফারও আছে ওখানে,কিন্তু জা

স্ট বিকজ অফ মাই পেরেন্টস আই কান্ট গো,বিয়ে বিয়ে করে আমার মাথা খেয়ে ফেলতেসে,আমি বাধ্য হয়ে সেদিন আপনাদের বাসায় গিয়েছিলাম,এন্ড একপ্রকার জোর করা হয়েছে আমার উপর”

“আপনি কোনো বাচ্চা না যে আপনার উপর তারা জোর করবে,আপনার যখন এতোই সমস্যা ছিল,তাহলে আপনি আপনার বাবা মা কে বুঝিয়ে বলতেন”

“তো আপনার কি মনে হয় আমি তাদেরকে বোঝাইনি, তারা আমাকে বুঝতে চাইছে না কি বলছি আপনাকে”

“এখানে আমার কি করার আছে”

“আপনি আপনার বাবা মা কে বলবেন আপনি আমাকে বিয়ে করবেন না,আপনার আমাকে পছন্দ হয়নি দ্যাট’স ইট”

“হাউ ফানি”

“হোয়াট ফানি,এখানে ফানি কি হলো”

“আমি আপনার জন্য আমার বাবা মার কাছে মিথ্যা বলবো,মিথ্যা বলা মহাপাপ আমি এ কাজ করবো না আর আপনার আমার বাবা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই আমি এ কথা বললে উনি আমাকে মেরেই ফেলবে কারণ আমাদের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, উনার কাছে উনার সম্মান সবার আগে”

“বুঝিয়ে বলবেন একটু,আচ্ছা আপনিই বলুন আপনার কাছে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার এতো বড় সুযোগ থাকতো তবে কি আপনি পিছিয়ে যেতেন এভাবে”

“সব সময় পরিস্থিতি সহায় হয় না,কখনো কখনো ছেড়ে দিতে হয় অনেক কিছু”

“অন্যের সময় এটা বলা অনেক সহজ,আপনি কোথায় যেন পড়ছেন”

“জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি”

“ইয়াহ,ভেরি ওয়েলনোউন ভার্সিটি,সো আপনার জীবনে কি লক্ষ্য এটাই স্ট্যাডি কমপ্লিট করবো তারপর বিয়ে করে বাচ্চা লালন পালন করবো,ইট’স ইউর লাইফ গোল,ইট’স ইউর এইম”

“প্রত্যেকটি মেয়েকে তার সংসার বাচ্চা লালন পালন করতে হয়,এটা সবাই করে আসছে ভবিষ্যতেও করবে,আমাদের মা খালারাও তাই করছে,তাদের এ কাজ টাকে ছোট করে আপনি কিছু বলতে পারেন না,এখন আমি ওনাদের হয়ে কথা বলছি বলে এটা নয় যে,আমি বলছি যে বাসার কাজ করাই শুধু মেয়েদের কাজ,অবশ্যই একজন মেয়ের উচিত কিছু না কিছু করা,সেটাই তার জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত, কিন্তু তাই বলে আমাদের শরিয়ত কি বলে সেটা ভুলে গিয়ে নয়,একটা বিশস্ত হাত পাশে থাকলে মেয়েরা ঘরের কাজ সামলে বাইরেও লড়াই করতে পারে, শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রে নয় ছেলেদের ক্ষেত্রেও একি,আপনি যেখানে আছেন সেখানে থেকেও আপনি আপনার শিক্ষা,মেধা কাজে লাগাতে পারেন,তার জন্য শুধু দরকার আপনার নিজের ইচ্ছাশক্তি,আর সার্পোট”

“আপনি আমাকে থেকে যেতে বলছেন”

“সে অধিকার আমার নেই,আপনার জীবনের ডিসিশন টোটালি আপনি নিবেন,সেখানে হস্তক্ষেপ আমি করবো না,আমি শুধু আপনাকে বললাম যে নিজের ইচ্ছে থাকলে অসম্ভব কেও সম্ভব করা যায়,আপনার আমার থেকে মেধা,বুদ্ধি, জ্ঞান সবই অনেক বেশি,আপনার থেকে আমি সবকিছুই অনেক কম বুঝি,কিন্তু আমার যেটা মনে হয় আমি যা বিশ্বাস সেটা বললাম আপনাকে,আপনার যেটা ভালো মনে হয় আপনি করতে পারেন”

“আমি কি করবো,করতে তো আপনাকে হবে,কারণ আমার মনে হয় না এ দেশে আমার কিছু হবে”

“আমি হয়তো আমার বাবা মা কে বললাম আমার আপনাজে ভালো লাগে নি,আমার বাবা না হয় রাগ হলেন,তারপর বিয়ে টা না হয় ভেঙেই দেয়া হলো এতে আপনার কি উপকার হবে,আপনার বাবা মা আবার অন্য কাউকে দেখবে,তার সাথে আপনার বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে”

শাকিল অনুর কথা শুনে চুপ হয়ে গেল,এ কথাটা তো তার মাথায় আসেনি।

শাকিলের নিরবতা পালনের মাঝে তাদের একটা ছোট্ট পরিচয় দিয়ে ফেলি।

অনামিকা আহমেদ(অনু) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথমেটিকস নিয়ে পড়ালেখা করছে,সে মোটামুটি সচ্ছল পরিবারের সন্তান, তার বাবা(আফজাল আহমেদ) একজন সরকারি কর্মকর্তা ভিষণ রাগী একজন লোক,তার আশেপাশের সকলে তাকে অনেক ভয় পায়,কিন্তু সে তার মেয়েদের অনেক ভালোবাসে, অনুর মা(রেহানা আহমেদ) অনু ছোট থাকতে একটা স্কুলের টিচার ছিল,কয়েকবছর আগে ভিষণ অসুস্থ হয়ে পড়লে সে চাকরি ছেড়ে দেয়,অনুর বড় বোন(আনিকা আহমেদ) দুবছর আগে তার বিয়ে হয়ে গেছে,বাবা একটু রাগী হলেও হ্যাপি ফ্যামিলি তাদের, বড় বোনের বিয়ের পর এখন অনুর জন্য ছেলে দেখা হচ্ছিল, অনুর পড়া প্রায় শেষ পর্যায়ে,অনুর বাবার বন্ধুর ছেলে শাকিল রহমান,ইউএসএ থেকে স্ট্যাডি কমপ্লিট করে এসেছিল বন্ধুবান্ধব আর বাবা মার সাথে কিছুদিনের জন্য দেখা করতে কিন্তু তার বাবা মা তার জন্য বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে অনুর সাথে, তাকে জোর করেই অনুদের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় সেখানেই গত সপ্তাহে অনু আর শাকিলের আংটিবদল হয়।তখন শাকিল অনুকে কিছু বলতে পারেনি বলপ আজ ওকে দেখা করতে বলেছে।

“দেখুন আপনি ভাবুন যা ভালো মনে হয় তাই করুন,তাড়াহুড়োয় কোনো ডিসিশন নিবেন না,আজ আসি আমি সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, দেরি হলে বাবা পরে রাগ করবে”

“রাগ করবে না,আছেন তো ফিউন্সের সাথেই, এটলিস্ট আমার বাবা মা তো চাই আমি যেন সারাদিন আপনার সাথেই থাকি,সো আপনার বাবা কে ম্যানেজ করে নেবে তারা,আজ যখন আমি বললাম, আপনার সাথে দেখা করবো আমার বাবা মার আনন্দ দেখে মনে হলো না জানি কি বলে ফেলেছি আমি,আমি নিজেই বেকুব হয়ে গেছিলাম”

অনু হেসে দিলো ওর কথা শুনে,শাকিল ওর দিকে তাকালো,তারপর বিরক্তির সুরে বললো,

“আপনি হাসছেন,আমি এখানে আমার জ্বালায় মরতেছি,কেউ বুঝতেছে না আমাকে”

“আসি আমি”

“হুমম আসুন,আমি একটু একা থাকি”

“এক্সকিউজ মি. একটু আগে বললেন আপনি আমার ফিউওন্সে,আর এখন অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে এমন সময় আমাকে একা চলে যেতে বলছেন”

“ইউএসএ তে রাতের দুইটা তিনটা বাজেও মেয়েরা একলা চলাচল করে”

“এটা আপনার ইউএসএ না, ওকে ফাইন আপনি বসে থাকুন”

“হেই ওয়েট,পরে কিছু হয়ে গেলে আপনার বাবা মার কথা তো দূরেই থাক আমার মা বাবাই আমাকে মেরে ফেলবে”

অনু আবার হাসতে লাগল, শাকিল ওর দিকে তাকিয়ে বললো,

“আপনি এভাবে হাসেন কেন,আমার সামনে এতো হাসবেন না,আমি চলে গেলে পরে হাসবেন”

“কেননন,সবাই তো আমার হাসি সুন্দর”

“তোহহ আমি কি বলেছি সুন্দর না”

“হাসতে বারণ করলেন যে”

“উফফ কিছু না, আসুন”

“ইউএসএর মানুষের মাথা স্ক্রু ঢিলা থাকে নাকি”

“হ্যাঁ বপনি টাইট করে দিয়েন”

অনু হাসতে হাসতে গাড়িতে বসলো,শাকিল গাড়ি চালাতে লাগলো।অনুকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে শাকিল বাসার উদ্দেশ্য গেল।

#চলবে