#তুমি_আছো_তাই
#পর্ব_০৩
#লেখিকা_তাসনিম
“শাকিল,কেমন আছো বাবা”
“জ্বি আন্টি ভালো,আপনি”
“হ্যা বাবা,আল্লাহ রেখেছে ভালো,ও হলো রায়হান আনিকার হাসবেন্ড, সেদিন তো ওর কাজ ছিল তাই আসতে পারিনি”
“হ্যালো ভাইয়া”
“তুমি তো ইউএসএ থেকে স্ট্যাডি কমপ্লিট করে এােছো শুনলাম,তো ওখানেই তো জবের অফার পাওয়ার কথা তাই না”
“হুমমম,বাবা মার জন্য ঢ়েতে পারছি না,বাট আই নিড ইট”
“হুমম এতো ভালো অফার কেই বা হাত ছাড়া করতে চায়,বিয়ের পর বুঝিয়ে বলো”
“হুমম দেখি”
“এই আনিকা,অনু কোথায় ওকে ডাক দেও শাকিল কখন থেকে বসে আছে”
“আরেহ অনু যে রুমে গেছে আর আসছে না দেখি”
“থাক না উনার আসতে হবে কেন,আমি আপনাদের সাথে কথা বলছি তো”
“ভাই তুমি তোমার হবু বউ কে আপনি করে বলো”
“সেটাই তো, শাকিল এ কি অবস্থা”
“নাহ মানে এমনি আর কি”
“এমনি ওমনি বুঝি না, ওকে তুমি করে বলবে”
“ওকে”
“আচ্ছা আমি অনুকে ডেকে নিয়ে আসি”
অনু রুমে হাটাহাটি করছিল,এমন সময় আনিকা আসলো।
“কিরে,তোর জামাই ওখানে এসে বসে আছে, আর তুই এখানে ম্যারাথোন দৌড় লাগিয়েছিস”
“আপু বিয়ে হয়নি এখনো কি জামাই জামাই লাগিয়েছো”
“চল আমার সাথে”
“আপপুু আমি যাবো না”
“কেন”
“যাবো না”
“ওকে পাঠাবো”
“নাহহহ,আমার যাওয়ার কি দরকার”
“কোনো সমস্যা”
“না কি সমস্যা হবে”
“তাহলে চল,এতো কথা বলিস না”
আনিকা অনুকে জোর করে নিয়ে আসলো,শাকিলের পাশে বসতে বলে, রায়হানকে নিয়ে আনিকা রুমে চলে গেল। শাকিল ফোন টা হাতে নিয়ে বললো,
“বাসায় তো না করেননি বোঝায় যাচ্ছে”
“আপনি কি চান আপনার একটা জবের জন্য একটা নিরীহ মেয়ের জীবন চলে যাক”
“তুমি যেমন ঢং করছো এটা এতো কঠিন কিছুও না”
‘তুমি’ করে বলাতে অনু শাকিলের দিকে তাকালো, শাকিল বললো,
“তোমার বোনই বলেছে তুমি করে বলতে,আর আমিও ভাবলাম তুমি তো বয়সে ছোটই আমার তো তুমি বলাই যায়,এখন এসব বাদ দিয়ে প্লিজ তোমার বাবা কে বলো তুমি এ বিয়ে করবে না,উনি মেনে নিবে”
“আপনি জানেন কালকে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার কারণে বাবা কে কতক্ষণ বকাঝকা করেছে,আমার বাসার বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, আমার ফাইনাল পরীক্ষা কিছুদিন পর কিন্তু আমার ভার্সিটি যাওয়া বন্ধ”
“কেন বলো নি তুমি আমার সাথে দেখা করতে গেছো”
“সো হোয়াট,আমি বলতে পারবো না কিছু”
“আরেহ তুমি তো মেয়ে বাবারা মেয়েদের একটু বেশি ভালোবাসে উনি তোমার কথা শুনবে,বলো একটু প্লিজ একটু হেল্প করো আমাকে”
শাকিল অনুর হাত ধরে কথা টা বললে, অনু ওর থেকে হাত টা সরিয়ে নেই।
“আমার পারমিশন ছাড়া আমাকে টাচ করবেন না”
“হাতই তো ধরেছি,ইউএসএ তো এটা কিছুই না”
“এটা আপনার ইউএসএ না,আপনার ওখানের কালচারের সাথে এখানের কালচারের অনেক ডিফারেন্ট আছে,সো প্লিজ”
“ওকে আ’ম সরি,বাট প্লিজ হেল্প মি”
আনিকা এর মধ্যে চলে আসে,ওকে দেখে শাকিল চুপ হয়ে যায়।আনিকা ওদের পাশে বসে বললো
“বাবা রে বাবা দুজনের কত কথা জমে ছিল,শেষই হয় না,কিন্তু শেষ না হলেও শাকিল চলো এখন খাবে”
“আমি রুমে যায় আপু”
“কেন রুমে যাবি কেন,তুইও ওর সাথে খেতে বসবি”
“আমার ক্ষুধা নেই,দুলাভাই কে বলো”
“এহহ আমি আমার জামাইয়ের সাথে খাবো”
শাকিল নিচের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো,আনিকাও হাসতে হাসতে চলে গেল।
“হয়েছে আর হাসতে হবে না,খাবেন চলুন”
“শুনো…”
“তোমাদের মধ্যে আনিকা আপু আর আন্টিই বেস্ট, আর তুমি আর তোমার বাবা হলে এক”
“কথা কম বলেন,আসুন”
“বিয়ে টা ভেঙে দেও প্লিজ”
অনু কিছু বললো না, অনুর মা অনেক আদর করে শাকিল কে খাওয়াচ্ছিলো, অনু শাকিলের পাশে বসে তা দেখছিল,আর ভাবছিল সত্যি বিয়ে টা তাকে ভেঙে দিতে হবে,কিন্তু শাকিল যে তার ভালো লেগে গেছে, বাবার ভয়ের চেয়েও তো বেশি শাকিলকে হারানোর কষ্ট হচ্ছে,পেয়েও হারিয়ে ফেলবো।খাওয়া শেষে শাকিল বেরিয়ে পড়ার জন্য সবার থেকে বিদায় নিচ্ছিল।অনু এগিয়ে দিতে আসলো,
“তাড়াতাড়ি বলো একটু,আমি টিকেট ম্যানেজ করে ফেলছি,যাতে নতুন কাউকে খোঁজার আগে আমি চলে যেতে পারি”
“থেকে গেলে হয় না”
“কিহহ”
“নাহহ,কিছু না”
“সামথিং রং,কি হয়েছে তোমার”
“না কিছু হয়নি,আমি বলবো বাবা কে”
“ওহহ থ্যাংক ইউ”
“হুমম”
“ওকে আসি তবে আজকে,আবার দেখা হবে”
শাকিল গাড়িতে করে চলে গেল,অনু বাসায় চলে আসলো,আনিকা ওর পিছুপিছু ওর রুমে আসলো।
“শাকিলকে কেমন লাগলো তোর বললি না”
“ভালো লাগে,এটা বলার কি আছে”
“আচ্ছা বুঝলাম না, তোকে দেখে কেন মনে হয় তুই অনেক টেনশনে আছিস,এতো সুন্দর হিরোদের মতো দেখতে জামাই এনে দিলো বাবা,কই সারাদিন হাসবি না কি মনমরা হয়ে বসে থাকিস,আমাকে দেখিসনি বিয়ের তিনমাস আগে থেকে নাচানাচি চালু দিয়েছিলাম”
“আপু একটা কথা বলবো”
“হুমম বল না”
“আমার না ওনাকে অনেক ভালো লেগেছে”
“আলহামদুলিল্লাহ এটা তো খুশির সংবাদ, তো এখন কি হয়েছে”
“কিছু না,যাও এখান থেকে”
“আচ্ছা, যাচ্ছি”
দুদিন পর……..
আজ অনুর জন্মদিন, সবাই হ্যাপি বার্থডে টেক্সট করছে,কেউ কেউ কল করছে,অনু ভাবছিল শাকিল কি উইশ করবে,পরে ভাবলো নাহ ও হয়তো জানে না।একটু পরে অনুর মা ফোন নিয়ে এলো শাকিলের মা কল দিয়েছে,
“আসসালামু আলাইকুম আন্টি”
“ওয়ালাইকুম আসসালাম,মা। শুভ জন্মদিন”
“থ্যাংক ইউ,কেমন আছেন”
“আলহামদুলিল্লাহ, মা তুমি কেমন আছো”
“আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি”
“এই শাকিল,কলে অনু আছে ওকে উইশ করে যা”
শাকিলের নাম টা শুনে অনুর মুখে হাসি ফুটে উঠলো।
“অনুর বার্থডে আজকে”
“হ্যাঁ,ধর ও লাইনে আছে”
“হেই বার্থডে গার্ল,হ্যাপি বার্থডে”
“থ্যাংক ইউ”
“সো পার্টি হবে না আজকে”
“বাবা জানে”
“ওহ ওকে,আচ্ছা আম্মুর সাথে কথা বলো,আমি একটু বাইরে যাচ্ছি”
“হুমম”
শাকিল ফোন ওর আম্মুর কাছে দিয়ে চলে গেল। অনু তার সাথে কথা বলে ফোন ওর মার কাছে দিয়ে আসলো,আসার সময় ওর মা বললো সন্ধ্যায় নাকি পার্টি হবে।শুনে অনু খুশি হলো তার মানে শাকিলও আসবে।
সন্ধ্যায় পার্টি শুরু হলে একে একে আত্মীয়রা আাতে লাগলো।কিছুক্ষণের মধ্যে শাকিল রা চলে এলো।শাকিল অনুর হাতে একটা গিফট দিয়ে আবার হ্যাপি বার্থডে বললো,অনুও থ্যাংক ইউ বললো।
“আচ্ছা অনু আর একটা নিউজ আছে”
“আপনি ইউএসএ যাচ্ছেন না”
“আরেহ কি অশুভ কথা বলছো,আমি টিকেট পেয়ে গেছি পরশু আমার ফ্লাইট, আজকে জাস্ট তুমি আংকেল কে বলে দেও তাহলেই হবে,আর দেখো আজকে বললে আংকেল রাগ করবে না”
“আজকে……..”
#চলবে
(ভুল ক্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন)