তুমি আছো তাই পর্ব-০৬

0
391

#তুমি_আছো_তাই
#পর্ব_০৬
#লেখিকা_তাসনিম

“আপু এটা কেমন কথা,একজন যেতে না যেতেই বাবা আরেকজন কে নিয়ে এসেছে, মানে আমি কি কোনে সমস্যা করছি তোমাদের এভাবে তাড়ানোর জন্য পাগল হয়ে উঠেছো,আমি যাবো না কারো সামনে”

“দেখ বাবার মুখের উপর তো আমরা কেউই কথা বলি না,তুই যা একটু না হলে তো বাবা রাগ করবে,আম্মু বলো না ওকে”

“কি বলবো,শাকিল ছেলে টা একটা ভুল করেছে মানলাম,কিন্তু এখন তো ভুল বুঝতেও পেরেছে একটা সুযোগ কি দেয়া উচিত না”

“মা…. আমরা বাবা আর নতুন পাত্রপক্ষ নিয়ে কথা বলছি তুমি এখন শাকিলের টপিকেই রয়ে গেছো”

“ছেলেটা তো ভালো,তোর বাবা একটু বল না,ওদের এঙ্গেজমেন্ট হয়ে গিয়েছিল, এখন একটা ভুলের জন্য এভাবে সব শেষ করে দেয়ার কোনো মানে হয়,আর শাহেদ ভাই তো আমাদের আত্মীয়,তাদের দিক টাও তো একটু দেখতে হবে”

“অনু,মার তো দেখি শাকিলকে বেশ পছন্দ হয়েছে,তোর কি অবস্থা তুইও কি শাকিলের জন্যই না করছিস”

“এমন কিছু না,তোমরা যা বলবে আমি তাই করবো”

“তাহলে রেডি হয়ে নে,পাত্রপক্ষ চলে আসবে তো”

“কিন্তু আম্মু যে বললো….”

আনিকা আর রেহানা বেগম একসাথে হেসে উঠলেন অনুর চেহারা দেখে,অনু কিছু বললো না, এর মধ্যেই আফজাল সাহেব চলে এলেন,তাকে দেখে সবাই চুপ হয়ে গেলেন।অনুর দিকে তাকিয়ে বললেন,

“তুমি এখনো রেডি হওনি কেন,আনিকা ওকে রেডি করোনি কেন”

“বাবা,আসলে তোমাকে কিছু বলার ছিল,তুমি রাগ করো না”

“আমি বুঝতে পারছি না আজকাল তোমাদের এতো কথা বলার থাকে কেন,আগে আমি যা বলতাম তাই হতো,কিন্তু এখন তা হয় না,বল কি বলবে”

“আমি বলছি,আনিকার বাবা বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে আমি কখনোই আপনার মুখের উপর কোনো কথা বলিনি,আপনি যা বলেছেন তা মেনে নিয়েছি,হ্যা এটা ঠিক আপনি সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেন,তাই মেনে নেওয়া,কিন্তু আজ আমি আপনার কাছে একটা অনুরোধ করবো,আমার কথা টা রাখবেন,মেয়ে তো আপনার একার না আমারও আমি চাই অনুর বিয়ে টা শাকিলের সাথেই হোক,এঙ্গেজমেন্ট হয়ে গেছে ওদের অনেকে বিষয়টা জানেও,এখন যদি আমরা অনু কে অন্য জায়গায় বিয়ে দেয় এটা নিয়ে পরে কথা উঠবে,কেউই ভালো চোখে দেখবে না সবাই ভাববে হয়তো মেয়ের দোষ ছিল,এজন্য একজন না যেতেই বাবা আরেকজনের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে,আমি আপনাকে শাকিলের সাথে বিয়ে দেয়ার কথা টা বলতাম না যদি শাকিল নিজে থেকে ক্ষমা চাইতে না আসতো,আপনি যদি ভালো করে বিষয় টা দেখেন তাহলে কিন্তু এখানে শাকিলের ও দোষ নেই ওর বয়সই কত ও ভেবেছিল ইউএসএ ও ভালো জব করবে ভালো থাকবে,তাই এমন জেদ ধরেছিল,কিন্তু যখন ওর ভুল বুঝতে পারলো তখন নিজে থেকে ফিরে এলো,সবার কাছে ক্ষমা চাইলো,এখন কি আমাদের উচিত না ওকে একটা সুযোগ দেয়া”

আফজাল সাহেব কিছু বললেন না চুপ করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন,আনিকা বললো,

“বাবা,কিছু বললো না আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না”

“ঝড় আসার আগে আবহাওয়া এমনই থাকে,কিন্তু আম্মু তুমি তো আমাদের ইমপ্রেস করে দিলে”

“আসলেও আম্মু তুমি তো জিনিয়াস”

“কিন্তু এখন কি আমি রেডি হবো”

“রেডি হয়ে বসে থাক,পাত্রপক্ষ আসলে সামনে যাবি আর না হয় কয়েকটা ছবি তুলে আপলোড দিয়ে দিবি ফেইসবুকে”

“আপু তুইও না”

“আচ্ছা তোরা বোস আমি একটু দেখি আসি”

“সাবধানে আম্মু”

রেহানা বেগম চলে গেলেন রুম থেকে, আনিকা আর অনু গল্প করতে লাগলো।পাত্রপক্ষ আর দেখতে এলো না আজ,অনু পড়ার টেবিলে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল,হালকা হালকা কুয়াশা ভাব,এমন সময় ফোন টা বেজে উঠলো।অনু কল টা রিসিভ করলো,

“হ্যালো কে বলছেন”

“কে বললে খুশি হবে”

“সরি,কে আপনি”

“উমমম,ইউর ভেরি গুড ফ্রেন্ড এন্ড ফিউচার হাসবেন্ড”

“প্রথম টা ঠিক থাকলেও শেষ টা এখনো অনিশ্চিত”

“ও হ্যালো ম্যাডাম,আপনি শুধু আমারই হবেন,আপনার রাগী বাপজান আপনাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যেতে পারবে না”

“আপনি গেলেন না কেন,আপনার এই ইউএসএ যাওয়ার জন্য কতকিছু হলো আর শেষে আপনি গেলেনই না”

“চলে গেলে খুশি হতে”

“সেটা বলেনি,কেন যান নি সেটা জিজ্ঞেস করেছি”

“তোমাদের মায়া যেতে দিলো না,আর তুমি বলেছি থেকে যেতে এজন্য থেকে গেলাম,তুমিই তো বলেছি ইচ্ছা থাকলে আর একজন ভরসাযোগ্য মানুষের সার্পোট থাকলে সবকিছু করা সম্ভব, ইচ্ছা টা পুরোপুরি এখনো না থাকলেও ভরসাযোগ্য মানুষটাকে পেয়ে গেছি,যে পাশে থাকলে আমি সব করতে পারবো,আর এতে সবাই হ্যাপিও থাকবে,তো আমি একা হ্যাপি হওয়ার জন্য ইউএসএ গিয়ে কি লাভ”

“কিন্তু বাবা…….”

“রাখো তোমার বাবা,তুমি আমাকে বিয়ে করবে কি না বলো”

“আমি বাবার মুখের উপর কথা বলি না জীবনে একবার বলে শিক্ষা হয়ে গেছে আমার”

“আর একবার না হয় বলবে”

“হ্যাঁ,আর একটা চড় খাওয়ার ইচ্ছে নেই আমার”

“উহমম,তোমার গায়ে হাত উঠানো তো দূরে থাক তোমাকে ধমক দেয়ারও কারো অধিকার নেই”

“বাবা হোন আমার,তার সব অধিকার আছে”

“সেটা তুমি যখন অপরাধ করবে তখন,শুধু শুধু তার কোনো অধিকার নেই তোমাকে মারার,এন্ড তোমার লাইঔের ডিসিশন তুমি নিবে এটাই নরমাল”

“হ্যাঁ,এইজন্য একবার বলবো আমি বিয়ে করবো না আবার বলবো বিয়ে করবো,কে এগুলো মেনে নিবে”

“আচ্ছা একবার ভুল হয়েছে আর হবে না এমন আই প্রমিজ,একটু বিশ্বাস করো”

“আম্মুর কোনো আপত্তি নেই”

“সেটা তো আমি জানিই আমার শাশুড়ী অনেক ভালো,শুধু শশুর টায়….”

“মোটেও আমার বাবা কে কিছু বলবে না”

“কই কি বললাম,বাই দ্য ওয়ে রাগ কিন্তু আমারও আছে,তোমার বাবা অলটাইম রাগ দেখিয়ে চলে আর আমি রেগে গেলে একবার সে রাগ ভাঙাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয় আর কি,আই থিংক যেহেতু তুমি এমন একজন রাগী বাবার মেয়ে তুমি এটা হ্যান্ডেল করতে পারবে”

“ভয় দেখাচ্ছেন আমাকে”

“নাহহ বললাম আর কি একটু একটু রাগ আমারও আছে,শ্বশুর আব্বা বেশি রাগ দেখালে তার মেয়ে কে আমি তুলে নিয়ে যাবো”

“আমি যাবে নাহ আপনার সাথে, যদি বাবার রাগ ভাঙিয়ে নিয়ে যেতে পারেন তবেই যাবো”

“ওকে ওকে,ঘুমাও এখন অনেক রাত হয়েছে, গুড নাইট”

“গুড নাইট”

অনু ফোন টা রেখে মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো,এমন সময় আফজাল সাহেব রুমে আসলেন,ওনাকে দেখে অনু বই খুলতে লাগলো,

“আমাকে দেখে বই খোলা লাগবে না,কার সাথে কথা বলছিলে, মিথ্যা কথা বলবা না”

“বাবা, আসলে……”

“শাকিল কল দিয়েছিল”

“হুমম”

“নেক্সট টাইম থেকে কল দিলে কথা বলবে না,যদি ভেবে থাকো তোমার মার কথা শুনে আমি গলে গেছি তাহলে ভুল ভাবছো,পাত্রপক্ষ আসেনি ঠিকই কারণ আমি না করেছি,কিন্তু তাই বলে তোমাকে শাকিলের সাথে বিয়ে দিবো এটা ভেবো না, ঘুমিয়ে পড়ো”

“বাবা…….”

“শাকিলকে তোমাদের ভালো লাগলেও আমার কিছু করার নেই”

“কিন্তু বাবা,ওনাকে একটা সুযোগ কি দেয়া যায় না”

“সুযোগ,কেমন সুযোগ দিতে বলছো তোমরা, তুমি কি চাও বিয়ের কয়েকদিন পর শাকিল বলুক আমার এখানে ভালো লাগছে না আমি ইউএসএ চলে যাবো,ডির্ভোস দিয়ে দিবো তোমাকে এমন সুযোগ দিতে বলছো আমাকে,আমি আমার মেয়েকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিবো,যে ছেলে দু মিনিটের মধ্যে লাইফ ডিসিশন বদলে ফেলে তার হাতে আমি আমার মেয়ে কে তুলে দিবো,ভুলে যাও ওকে”

আফজাল সাহেব ঠান্ডা গলায় কথা গুলো বলে বেরিয়ে গেলেন,অনু কিছু বললো না, বলার মতো কিছু পেলো না,তার বাবা তো ভুল কিছু বলে নি,কি করা উচিত তার এখন।

#চলবে

(ভুল ক্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন)