Home "ধারাবাহিক গল্প তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-০২

তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-০২

0
1961

#তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
#পর্বঃ২
#লেখনীতে_তানিয়া

“স্বামী রেখে যে বউ আরেক পুরুষ মানুষ এর সাথে রাত কা”টায় ফেরে তারে আর যাই হোক ভালো মেয়ে মানুষতো বলা যায় না। দেখো গিয়ে এই চাকরি পাইতেও নিজের রুপ ধোয়া পানি আর কার কার পায়ে ঢালছে কে জানে। তবে একটা কথা কিন্তু সত্যি এই মহিলা মনে হয় সব জায়গাতেই নিজের সেরা পারফর্ম্যান্স টাই দেয়। সেটা হোক নিজের স্বামী বা আরেকজন। এদেরই জীবন। ঘরেও একটা পায় বাহিরেও আরেকটা নিয়ে থাকে “।

হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় এর মুখে নিজের নামে এসব কু”ৎসিত কথা শুনে লজ্জায় অপমানে মাথা হেইট হয়ে আসলো তুরফার। তার কেবলই মনে হচ্ছে এটা একটা দুঃসপ্ন যেটা একটু পরেই ভেঙে যাবে কিন্তু না যা হচ্ছে সব বাস্তব। সবকিছুই বন্যার মতো ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার কলিগ ফোন করে জানিয়েছে নিয়াজ এর শরীর ভালো না। স্ট্রোক করেছে। এর বেশি কিছু জানে না। তুরফার ভেতরটা অদ্ভুত ভাবে গ্রাস হতে শুরু করেছে। কোন মুখ নিয়ে সে নিয়াজের মুখোমুখি হবে? তুরফার মাথা ছিড়ে যাচ্ছে। কাল অবধি সব ঠিক ছিলো আর আজকে? তুরফাকে নিয়াজের কাছে পৌছাঁতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। কোনোরকমে হসপিটাল থেকে বেড়িয়ে সে রাজশাহীর উদ্দেশ্য রওনা দিলো। বাবা নামকরা ডাক্তার। তাই মেয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর তাকে গাড়ি উপহার দিয়েছে যাতে মেয়ের কোনো অসুবিধা না হয়। গাড়িতে উঠেই সিটে মাথাটা এলিয়ে দিলো তুরফা। ড্রাইভারকে বললো,

” রাজশাহী যাবো। নিয়াজের কাজের জায়গায় “।

গাড়ি চলতে শুরু করলে তুরফা চোখ বন্ধ করে অতীতে ফিরে যায় যখন সে মেডিকেল কলেজের দিনগুলোতে নিয়াজের মুখোমুখি হয়েছিলো।

অতীত,

“কলেজ গেট দিয়ে প্রথম যে ছেলেটি আসবে তাকে গিয়ে তার সামনে হাটুঁ গেড়ে বসে তোকে আই লাভ ইউ বলতে হবে। এইটাই হচ্ছে তোর ডেয়ার। এখন আমরা জানিনা সে কে হবে? কিন্তু যে ছেলেই হবে তাকেই বলতে হবে। বল রাজি”?

বন্ধু বান্ধবদের দেওয়া ডেয়ার শুনে চোখ কপালে উঠলো তুরফার। সবে প্রথম প্রফ শেষ করে দ্বিতীয় বর্ষে পা রেখেছে তারা। সারাদিন ক্লাস, পড়াশোনা, আইটেম ক্লিয়ার, ভাইভা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও সুযোগ পেলে বাদরামো করতে কেউ পিছপা হয় না৷ প্রতিদিন কোনো না কোনো দুষ্ট বুদ্ধি মাথায় চাপবেই। আজকেও সিংগারা আর চা খাওয়ার ফাঁকে এই ডেয়ার দিয়েছে তারা তুরফাকে। তুরফা বড় লোক বাড়ির মেয়ে৷ বাবা এই মেডিকেল কলেজেরই ডাক্তার সেই সাথে তাদের প্রফেসরও। সবসময় চোখে মুখে অন্যরকম একটা ভাব নিয়ে থাকে কিন্তু মিশুক ধরনের। সবার সাথেই মিশবে কিন্তু বন্ধুত্ব বেছে বেছে করবে। দেখতে সুন্দরী হওয়া ব্যাচমেট থেকে সিনিয়র অনেকেই তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। অন্যদিকে তুরফার এদের প্রতি মন নেই। সে মন দিয়ে বসে আছে তাকে যে তার দিকে ফিরেও তাকায় না। তুরফা একটা লম্বা স্বাস নিলো। তার বান্ধবী রিমি তাকে কনুই দিয়ে গুতো দিয়ে বললো,

“কি রে কি ভাবছিস? এই ডেয়ার কিন্তু তোকে নিতেই হবে। আমরা কোনো কথাই শুনবো না। বল রাজি”?

তুরফা বললো,

” তুরফা রাজি। অবশ্যই রাজি। এতো সহজে তুরফা হার মানে না। ডেয়ার মঞ্জুর “।

সবাই অধীর আগ্রহে মেইন গেইট এর দিকে তাকিয়ে আছে। কে আসতে পারে । সাধারণত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে সাধারণত মহিলা রোগীদের আসা যাওয়া বেশি। তুরফা ওরনার মধ্যে নখ গলিয়ে গিট্টু দিচ্ছে আর ছাড়াচ্ছে। সেও চিন্তায় আছে। কোনো আধপাগল বুড়ো বা ফকির যেনো কেউ না হয়। ঘড়ি ধরে ঠিক পাচঁ মিনিট পর একজন লম্বা, চওড়া দেখতে সুদর্শন যুবক কালো পলো টি শার্ট, চোখে চশমা আর হাতে সাদা এপ্রোন পড়ে গেইট দিয়ে ঢুকলো। তুরফা শ্বাস ধরে চোখ বন্ধ করে ছিলো এক প্রকার। বন্ধুরা চিৎকার দিয়ে উঠলো

” তুরফা তোর হিরো আসছে। যা এই সুযোগ। ডেয়ার মিস করিস না “।

তুরফা বুকে হাত দিয়েছিলো। প্রচন্ড নার্ভাস লাগছে তার। বন্ধুদের চিৎকারে চোখ খুলে দেখলো সামনে যে ছেলেটি আসছে সে আর কেউ নয় যার প্রেমে সে হাবুডুবু খাচ্ছে। যে ছেলে আশেপাশে মেয়ে মানুষকে দেখেও দেখে না। কেউ ডাকলেও প্রয়োজনের বাহিরে কথা বলে না। ফাইনাল ইয়্যারের সিনিয়র নিয়াজ রাশিদ। তার এই চলন বলন এর জন্য কত মেয়ে ফিদাহ হয়ে আছে তার উপর। তুরফাও তাদের একজন। বন্ধুরা তুরফাকে সামনের দিকে এক প্রকার ধাক্কা দিতে দিতে ঠেলে পাঠালো। নিয়াজ প্রায় মেইন করিডোরের কাছাকাছি চলে এসেছে। তুরফা আকস্মিক এক ঝড়ো হাওয়ার মতো নিয়াজের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। দুজনের মধ্য দুরত্ব পাচঁ মিটারেও কম। তুরফা নিয়াজের সামনে হাটুঁ গেড়ে বসে পড়লো ঠিক যেমন করে কেউ কাউকে প্রপোজ করে। নিয়াজ থমকে যাওয়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে। তুরফা সাহস করে বলে উঠলো,

” আমি আপনাকে ভালোবাসি নিয়াজ ভাইয়া। মেডিকেল কলেজে আসার শুরুর দিনগুলো থেকেই আপনাকে আমার ভীষণ ভালো লাগে। আপনার কথা বলার স্টাইল, হাটাঁ, চলা সবই ভালো লাগে। আই লাভ ইউ। আমি আপনাকে সত্যি ভীষণ ভালোবাসি”।

একরকম জোরেই এক শ্বাসে কথাগুলো বলে থামলো তুরফা। তার বুকের মধ্যে দুরুম দুরুম করছে। মনে হচ্ছে হৃদপিন্ড এখন মুখ দিয়ে বের হয়ে আসবে। আশেপাশের মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। নিয়াজ ব্যাপারটা বুঝলো। ব্যাপারটা বেশি বেগতিক আর অস্বস্তিকর হওয়ার আগেই সে বললো

” প্রপোজ করার স্টাইলটা ভালো লাগেনি। আরও প্র্যাকটিস করে এসে পরেরবার ভালো জায়গা বুঝে প্রপোজ করবেন। হাসপাতাল এসবের জায়গা না “।

নিয়াজ কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা চলে গেলো তার ক্লাসের দিকে। আর কয়দিন পরেই ফাইনাল প্রফ। সময় বেশি নেই। মাস দুয়েকের মতো হাতে আছে। এখন পড়াশোনার প্রচুর চাপ। নিয়াজের এসব নিয়ে কোনোদিনও মাথা ব্যাথা ছিলো না। এই কবছরে সে অনেক প্রপোজাল পেয়েছে কিন্তু কারো সাথে প্রেম করার ইচ্ছা তার হয়ে উঠেনি কোনো এক অজানা কারনে। তুরফা নিয়াজের কথা শুনে থ মেরে আছে। সে নিজে নিজেই বিড়বিড় করছে

“কি বললো ছেলেটা? প্রপোজ করার স্টাইলটা ভালো লাগেনি। আরও প্র্যাকটিস করতে হবে। এতো ভাব!! নিজেকে কি মনে করে? হলিউড সিনেমার নায়ক টম ক্রুজ! হুহ্”। যাক তবুওতো ভালো মন্দ কিছু বলেছে। এই তুরফাও হার মানার পাত্রী নয়। নিয়াজতো তুরফাকেই হ্যাঁ বলবে “।

তুরফার বন্ধুরা হৈ হৈ করতে করতে তুরফাকে ঘিরে ধরলো। রিমি বলে বসলো,

” যে মেয়ে তুই কলেজের এর সবার ক্রাশ৷ তোরে দেখলে অন্য ছেলেদের বুক ধড়ফড় করে আর সেই কলেজের এক ছেলেই তোকে কোনোভাবেই পাত্তা দিচ্ছে না। কিরে এখন কি করবি? বাড়ি গিয়ে কি আরও প্র্যাকটিস করবি যেভাবে বলে গেলো”?

তুরফা সামনের দিকে তাকিয়ে বললো,

” বলেছে যখন সেটাই করতে হবে। যত যাই হয়ে যাক না কেনো এই তুরফার প্রেমেই নিয়াজকে পড়তে হবে”।

সেদিনের মতো সবকিছু ইস্তফা দিয়ে সবাই ক্লাসে ছুটলো। সেদিন এর পর পার হলো আরও বেশ কয়েকটা দিন। এর মধ্য নিয়াজের সামনে তুরফা আর আসে নি। চোখের দেখাতেও নিয়াজ তাকে আর দেখেনি। সেদিনের পর হঠাৎ করে নিয়াজের মধ্য তুরফাকে নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা চলে এসেছে অজান্তেই। এর আগে বহু মেয়ের কাছ থেকে প্রপোজাল পেয়েছে সে কিন্তু ফিরিয়ে দেবার পর কোনোটাই তাকে ভাবায়নি। এই প্রথমবার তুরফার বিষয়টা তাকে ভাবাচ্ছে। এই কয়দিন সে তুরফাকে নিয়েই ভেবেছে। বার বার সেদিন এর সেই প্রপোজ করার দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে৷ এই কয়দিন যখনই সেই করিডোরের সামনে দিয়ে নিজের ক্লাসে যায় তখনই মনে পড়ে তুরফার কথা। হঠাৎ করেই আজকে ভীষণ মনে পড়ছে৷ এদিক ওদিক তাকাতেই তুরফার ব্যাচের কয়েকজন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। নিয়াজকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সবাই তাকে সালাম দিলো। একজন ছেলে বললো,

” কেমন আছেন ভাইয়া”?

নিয়াজ হালকা হেসে বলে,

” আছি আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তোমাদের খবর কি? কেমন আছো? পড়াশোনা কেমন চলছে”?

_ আলহামদুলিল্লাহ ভাইয়া আমরাও ভালো আছি।

নিয়াজ মনে মনে তুরফার কথা ভাবছে। ওদের জিজ্ঞেস করবে কিনা সেটা নিয়ে ইতস্তত করছে। যদি উল্টো পালটা কিছু ভাবে? তারপরেও বেশ কৌশলে জিজ্ঞেস করলো,

_ ” তোমাদের দলের সেনাপতি কোথায়? তাকে দেখা যাচ্ছে না যে?

সবার বুঝতে সময় লাগলো। তারা প্রথমে ঠিক বুঝলো না নিয়াজ কার কথা বলছে। সবাই একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে। নিয়াজ সেটা বুঝতে পেরে বললো,

_ “সেদিন যে মেয়েটা কি যেনো নাম এখানে আমার সাথে কথা বললো সে কোথায় তাকে দেখছি না যে”?

সবাই এবার বুঝতে পারলো নিয়াজ তুরফার কথা জানতে চাইছে। বেশ অবাকই হলো তারা। তাদের একজন বললো,

_ “তুরফার কথা জানতে চাইছেন ভাইয়া? ও আজ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ। আবহাওয়া চেইঞ্জ হচ্ছেতো জ্বর, ঠান্ডা আর কাশি হয়েছে খুব। তাই কলেজে আসছে না”।

নিয়াজ মনে মনে বেশ চিন্তিত হলো বটে কিন্তু বাহিরে প্রকাশ করলো না৷ সবাইকে বিদায় জানিয়ে নিজের কাজে গেলো। বাকিরাও আর মাথা ঘামালো না এই বিষয় নিয়ে৷ নিয়াজের এই অস্থিরতা আরও বাড়লো রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে যখন তুরফার কথা আরও বেশি মনে পড়ছিলো তার। মেয়েটা কেমন আছে জানতে ইচ্ছে হচ্ছে তার। এই প্রথম সে বুঝতে পারছে তার সাথে কিছু একটা হচ্ছে যা সে আগে অনুভব করেনি। একটু অন্যরকম কিছু। যা তাকে শান্তি দিচ্ছে না। অস্থির করে তুলছে। কিন্তু কেনো? কি এমন হলো? কি আছে এই মেয়ের মধ্য? দেখতে দেখতে পার হলো আরও তিনদিন। তুরফা এখনো ক্যাম্পাসে ফেরেনি। নিয়াজ প্রতিদিন তুরফাদের ক্লাসের করিডোরের দিকে চেয়ে থাকে কিন্তু তুরফার দেখা মেলে না৷ বিষন্ন মনে আবার সে ফিরে যায় নিজের ক্লাসে। পরের দিন নিয়াজ রাতের বেলা কোচিং এ ক্লাস নিয়ে হোস্টেলে ফিরছিলো। পায়ে হেঁটেই ফিরছিলো। অনেকটা অন্যমনস্ক হয়েই হাঁটছিলো সে। হঠাৎ করে কখন যে অসাবধনতায় রাস্তার মাঝখানে চলে এসেচ্ছে বুঝতেই পারেনি। ঠিক তখনই সামনে থেকে আসা একটা কালো গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে৷ নিয়াজ টাল সামলাতে না পেরে ছিটকে পড়ে যায় রাস্তার ধারে। ইতিমধ্যে ভীর হয়ে গেছে। গাড়ি থেকে একজন মধ্য বয়স্ক লোক আর তার সাথে একজন মেয়ে বের হয়ে আসে। ভীর ঠেলে তারা কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই মেয়েটা চিৎকার করে উঠে,

_”নিয়াজ ভাইয়া ”

মেয়েটি আর কেউ নয় তুরফা নিজেই। তুরফার বাবাও নিয়াজকে চিনে ফেললো। তারই ছাত্র নিয়াজ। তুরফা হতভম্ব হয়ে নিয়াজের র/ক্ত মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। কপাল চুয়ে চুয়ে লাল স্রোত নেমে যাচ্ছে। তুরফা দৌড়ে গিয়ে নিয়াজের মাথাটা আলতো করে নিজের কোলে তুলে তাকে ডাকতে শুরু করলো। নিয়াজ অসাড় হয়ে অচেতন হয়ে আছে। এদিকে তুরফার অবস্থা বেগতিক। সে আতংকিত গলায় তার বাবাকে বললো,

” বাবা তাড়াতাড়ি নিয়াজ ভাইয়াকে হসপিটালে নেওয়া দরকার। মাথায় ব্যাথা পেয়েছে। হাতটাও ফ্র্যাকচার হয়েছে মনে হয়। ভাইয়া চোখ খুলুন। কিছু হয়নি। আমরা হাসপাতালে যাবো এখনই “।

তুরফার বাবা বিন্দুমাত্র সময় অপচয় না করে ড্রাইভারের সাহায্যে নিয়াজকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা দিলো। মিনিট পাঁচকের মধ্য পৌছে গেলো তারা। হাসপাতালের কাছে গাড়ি এসে থামতেই ওয়ার্ড বয় স্ট্রেচার নিয়ে এসে দাঁড়ালো। সবাই মিলে ধরাধরি করে নিয়াজকে স্ট্রেচারে করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলো। তুরফা ছেলেটার মাথায় তার ওরনা দিয়ে চেপে ধরেছিলো এতোক্ষন। সেটা সহই তাকে ভেতরে নিয়ে গেলো। তুরফার বাবা যেহেতু সিনিয়র ডাক্তার তিনিও সাথে গেলেন। তুরফা বাহিরে অস্থিরতা আর উৎকন্ঠা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় আধাঘন্টা পর তুরফার বাবা জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে আসলো। সাথে আরও একজন সিনিয়র ডাক্তার। বাবাকে দেখেই তুরফা এগিয়ে গিয়ে বললো,

_ কি অবস্থা বাবা এখন নিয়াজ ভাইয়ার? উনি ঠিক আছে? গুরুতর কিছু নাতো?

তুরফার বাবা মেয়ের দিকে এক পলক তাকালেন। মেয়েটা কয়েকদিন এর জ্বরে একদম কাহিল হয়ে গেছে। ভাগ্য ভালো ডেংগু টাইপ কিছু হয়নি। মেয়ের অস্থিরতা দেখে বললেন,

_ নিয়াজ ঠিক আছে। খুব বেশি ব্যাথা পায়নি। যে আশংকা করেছিলাম তেমন কিছু হয়নি। অল্পের উপর দিয়ে গেছে। মাথায় ব্যাথা পেয়েছে। চামড়ার উপর দিয়ে গেছে বিধায় ব্লা/ড বেশ খানিকটা বের হয়ে গেছে। হাতে ব্যাথা পেয়েছে কিন্তু ফ্র্যাকচার হয়নি। অল্পের জন্য বড় একটা দূর্ঘটনার হাত থেকে বেচেঁ গেছি আমরা। হলেতো আরও বড় কিছুই হতে পারতো। গাড়ির স্পিড স্লো ছিলো তাই রক্ষা যাত্রায়। হঠাৎ করে এমন হয়েছে তাই জ্ঞান হারিয়েছে। স্যালাইন চলছে।

তুরফা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো যেনো। এতোক্ষনে জানে পানি আসলো তার। একটু এদিক ওদিক হলে কি থেকে কি হয়ে যেতে পারতো।মনে মনে আওড়ালো

_”আচ্ছা লোকটা এরকম অন্যমনস্ক হয়ে রাস্তায় হাঁটছিলো কেনো? এতো কেয়ারলেস কিভাবে হয় একজন মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট? সুস্থ হোক তারপর এই নিয়ে বকা ঝকা করতে হবে। নিজে যদি এরকম কেয়ারলেস হয় তাহলে দুদিন বাদে ডাক্তার হয়ে রোগীকে ট্রিটমেন্ট দিবে কিভাবে?

তুরফা তার বাবাকে ফের বললো,

” _বাবা আমি একটু ভাইয়াকে দেখে আসি?

তুরফার বাবা বললো

_ হ্যাঁ যাও কোনো সমস্যা নেই। জ্ঞান ফিরেছে এখন ওর। যদিই ঘুমের ওষুধু দেওয়া হয়েছে।

তুরফা বাবার অনুমতি পেয়ে ধীর পায়ে কেবিনে ঢুকলো। ভেতরে ঢুকতেই দেখা পেলো নিয়াজের। সাদা চাদরে আধা শরীর ঢেকে আছে। মাথা আর হাতে ব্যান্ডেজ করা। ক্যানোলা করা। স্যালাইন চলছে। নিয়াজ ঘুমিয়েছে কিনা বুঝতে পারছে না। তুরফা ডাকবে কিনা সেটাও বুঝে উঠতে পারছে না। তুরফা নিয়াজকে ভালোমতো দেখে আবার ফিরে যেতে নিলে নিয়াজ তাকে ডেকে উঠে,

_ মিস তুরফা

তুরফার বুকটা ধক করে উঠলো যেনো। নিয়াজ জেগে আছে। তার মানে এখনো ঘুমায়নি। তুরফা বললো,

_ আপনাকেতো ঘুমের ঔষধ দেওয়া হয়েছে। ঘুমাননি?

নিয়াজ তার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার অসুস্থতায় মুখ শুকিয়ে গেছে কয়েকদিনে। মনে হচ্ছে জ্বর ভালো কাবু করেছে তাকে। নিয়াজ এর চোখ ধরে আসছে ঘুমে। চোখ লেগে আসছে তার। ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার আগে জড়ানো গলায় বললো,

_ একটা কথা ছিলো মিস তুরফা।।।।।

চলবে…………