Home "ধারাবাহিক গল্প "দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা পর্ব-০৮

দৃষ্টির অন্তরালে নিস্তব্ধতা পর্ব-০৮

0
12

#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব :৮

ফারাজের অন করা ভিডিওতে স্পষ্ট ভেসে উঠেছে ইকবাল একটা ক্ল্যাবে কয়েকটা মেয়ের সাথে হেলেদুলে নাচছে।এমনকি মেয়েগুলোকে বাজে ভাবে স্পর্শ করছে কিন্তু মেয়েগুলো কোনো প্রতিবাদ করছে না আর না বিরক্ত হচ্ছে। ইয়াফা বাবা মার সামনে এসব দেখতে অস্তিত্ব হচ্ছে তাই সে চোখ নামিয়ে তার ঘরে চলে যায়।মফিজ ও তার ভাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ইকবাল যে এমন কিছু করেনি তা না সে তো বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজ করে বেড়ায়। মফিজ সেগুলো ঢেকে রাখে। ইয়াফার বাবা হতবাক হয়ে যায় এমন ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে চাইছে যার চরিত্র খারাপ!ইয়াফার বাবা বলিষ্ঠ গলায় বললো,
-“আপনাদের ভালোমানুষি মুখোসের পেছনে এসব!এই ছেলের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিবো না।”

-“আমার কথা শুনুন এই ছেলে আমার ভাইকে ফাঁসাসছে।”

-“আপনি আমার বাড়ি থেকে বের হোন।আপনাদের সাথে আমরা কোনো সম্পর্ক করবো না।”

মফিজ ফারাজের দিকে রাগী স্বরে বললো,
-“এর ফল ভালো হবে না। আমাকে অপমান করার মাশুল তোকে গুনতে হবে।”
মফিজ বড় বড় কদমে বেরিয়ে গেলো।তার স্ত্রী ও ইকবালও বেরিয়ে গেলো।

ইয়াফার মা সহজ সরল।তিনি সহজে মানুষকে আপন করে নেন।সেখানে ফারাজ তার মেয়ের জীবনকে বাঁচিয়েছে তাকে তো সে এখন পছন্দ করবেই।তিনি ফারাজের কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
-“তুমি বেঁচে থাকো বাবা।দোয়া করি অনেক বড় হও।”

-“জি আন্টি।দোয়া করবেন আপনার মেয়ের মতো যেনো একটা বউ পাই।”
সবাই শব্দ করে হেঁসে দিলো।

ইয়াফার মা তার ছেলের বউকে বললো,
-“বৃষ্টি ওকে নাস্তা দাও।”

-“জ্বি, মা দিচ্ছি।”

-“এসবের কী প্রয়োজন?”

-“বসো তো তুমি।তোমার পরিচয়টা যদি দিতে।”

ফারাজ বসে বললো,
-“আপনার মেয়ের বান্ধবী মেহেকের ভাই এবং এবার মেয়র পদে দাঁড়িয়েছি।আশা করি আপনাদের বাড়ি থেকে ভোটটা আমি পাবো।”

-” তুমি মেহেকের ভাই!তোমার মার্কায় আমরা ভোট দিবো।ইনশাআল্লাহ তুমি জয়ী হবে।”

-“আঙ্কেল আপনার ফোনটা দিন তো।”

ইয়াফার বাবা কোনো প্রশ্ন না করে তার ফোন দিলেন ফারাজকে।ফারাজ তার নাম্বার টুক করে সেভ করে দিয়ে বললো,
-“কোনো প্রয়োজন হলে অবশ্যই কল করবেন।”

ইয়াফার বাবা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলেন। প্রথমে না বুঝে খারাপ ব্যবহারের জন্য মাফ চাইলেন।
-“ক্ষমা করে দিও”

-“ছি ছি আঙ্কেল এসব কি বলছেন!আমি আপনার ছেলের মতো।আসি”

ইয়াফার মা বললো,
-“আবার এসো।”

ইয়াফা যেই ঘরে ঢুকেছিলো সেই ঘরের দিকে ফারাজ উঁকি দিয়ে মিটিমিটি হেসে বললো,

~”এই রঙের দুনিয়ায়
আমার চাওয়ার কিছু নাই
যদি তরে আমি পাই
তবে রাখুম বুকের পিঞ্জিরায়”

মেহেক সকালের নাস্তা করে তার ঘরের দরজা দিয়েছে তারপর আর বের হয়নি।হঠাৎ ঘর বন্ধি করে থাকার মেয়ে তো মেহেক না মনে সন্দেহ জাগতেই নিশাত আর রোদসী মেহেকের কাছে যায়।প্রথমে তো দরজা খোলছিলই না তারপর অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছে।
গাল ফুলিয়ে দুই বোনের মাঝে বসে আছে মেহেক।তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেও সে বলছে না।কিছু বলতে বললেই এক কথা বলবে তার নাকি ভালো লাগছে না।যেই মেয়ের মন সব সময় ফুরফুরে থাকে, অন্য কারো মন খারাপ থাকলে মন ভালো করার জন্য উঠেপরে লাগে।নিশাত আদুরে মাখা কন্ঠে বললো,
-“মেহেক বোন আমার বল না কী হয়েছে তোর?”

মেহেক কোনো উওর দিলো না চুপ করে বসে রইলো।নিশাত রোদসীর দিকে তাকায়।এবার রোদসী মেহেকের পেটে কুতুকুতু দিলো।নিশাতও তার সাথে সঙ্গ দিলো।দুই বোন মিলে মেহেককে হাঁসানোর জন্য উঠে পরে লাগলো।মেহেক অবশেষে হেঁসেই দিলো।তিন বোন তিন জনকে জড়িয়ে ধরে গল্প করলো।

———–
অফিসের কাজ শেষ করে উৎস অফিস থেকে বেরিয়ে যায়।চৌধুরী নিবাসে না গিয়ে সে সাদিফের কাছে যায়।গতকালও গিয়েছিল অফিসে আসার আগে কিন্তু আজ সব কাজ শেষ করে যাবে। মালিহাকে ফোন করে বলে দেয় আসতে দেরি হবে কিন্তু মালিহা রাজি হয়নি।এতো বছর পর দেশে ফিরেছে অফিস শেষে বাসায় এসে এক সাথে সবার সাথে খেতে বসবে কিন্তু এই ছেলে রাতে দেরি করে এসে একা খাবে!মালিহার জোরাজোরিতে উৎস রাজি হয় তারাতাড়ি চলে আসবে।

রাত নয়টা~
সবাই ড্রয়িং রুমে উপস্থিত কিন্তু উৎস এখনো বাসায় আসেনি।তাকে ফোন দিচ্ছে ফারাজ কিন্তু ফোন ধরছে না।সবাই অপেক্ষা করছে উৎসের জন্য।শাহাদাত চৌধুরীর ফোন বেজে উঠলো। ফোন ধরে দেখলো তার বোন ফোন করেছে। সিজানের বোন স্রোত বয়সে সিজানের ছোট কিন্তু নিশাতের বড়।তার বিয়ে ঠিক হয়েছে।আজ বিকালে ছেলের বাসা থেকে জানিয়ে দিয়েছে বিয়ের ডেট।সিজানের পরিবারেরও অমত নেই এই বিয়েতে তাই তারাও রাজি।সিজানের বাবা মার সাথে চৌধুরী নিবাসের সকল সদস্য কথা বলে নিলো দুই দিন পরেই বিয়ে।ছেলের দাদি মৃত্যুসজ্জায়ী তার ইচ্ছে মরে যাওয়ার আগে নাতির বউ দেখার তাই এতো দ্রুত বিয়ের তারিখ দেওয়া হয়েছে। সবাইকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলো এবং কালই যেনো যায়।কিন্তু হুট করে কাল চলে যাওয়া তো সম্ভব না সবার কাজ আছে তাই বললো কাল বাড়ির ছেলে মেয়েদের পাঠিয়ে দিবে।বোনের বিয়ে ভাই বোনরাই তো মজা করবে।স্রোতের বিয়ে শুনে মেহেক,এরিদ খুশিতে আত্মহার হয়ে গিয়েছে।
সবাই মিলে স্রোতকে অভিনন্দন জানালো কিন্তু স্রোত লজ্জা পেয়ে কারো সাথে কথা বললো না। বড়রা কথা শেষ করে ফোন কেঁটে দিলে হৈচৈ বেড়ে যায় কে কী পড়বে তা নিয়ে!মেহেক এরিদ বায়না ধরেছে তাদের কোনো জামা নেই তাদের নতুন জামা লাগবে।সুফিয়া রেগে বললো,
-“আলমারি ভর্তি জামা কাপড় তারপরও এই দুটো বলবে কোনো জামাই নেই পড়ার জন্য!যা আছে ওই গুলো দিয়ে সামনের বছর পার করবি।”

-“তুমি এতো কিপ্টেমি করো কেনো আম্মু?”

-“আমি কিপ্টেমি করি!দেখছেন আপনার মেয়ের সাহস কতো।”

-“মেজো ভাবি তুমিও না।এই বয়সেই তো ওরা আবদার করবে। বোনের বিয়ে নতুন ড্রেস না হলে কী চলে!”
মেহেক তার ছোট মায়ের গালে একটা চুমু দিয়ে বললো,
-“এ বাড়িতে শুধু তুমি আমার মনের কথা বুঝো আর কেউ না।তাই তো তোমাকে আমি বেশি ভালোবাসি।”

মালিহা অভিমানি স্বরে বললো,
-“হুম এখন ছোটোই সব আমি তো কেউ না।”
মেহেক তার বড় আম্মুর কাছে গিয়ে তার গলা ধরে বাচ্চাদের মতো করে বললো,
-“তুমি তো আমার বেস্ট মা তোমাকে তো সবার থেকে বেশি ভালোবাসি।”

সুফিয়া মেয়ের কথা শুনে বললো,
-“জন্ম যে দিয়েছে তার দাম নেই।আসিস আমার কাছে আবার।”
সবাই হো হো করে হেঁসে দিলো তাদের হিংসে দেখে।বাড়ির তিন বউয়ের মধ্যে নাফিসা সবচেয়ে বেশি ফ্রি বাড়ির মেয়েদের সাথে।যত সমস্যা সব নাফিসাকে আগে বলে নিশাত,রোদসী ও মেহেক।তার কাছে ওরা কেউ কিছু বলতে লজ্জা পায় না বান্ধবীর মতো কথা বার্তা বলে।মেহেকের মা মেয়েদের সাথে তত ফ্রি না কিন্তু মেয়েদের ভুল এুটি দেখলে শাসন করার জন্য প্রস্তুত থাকেন তবে ভালোবাসে প্রচুর। মালিহার সাথে ফ্রি না হলেও সব বিপদ থেকে তিনি ছেলেমেয়েদের বাঁচান।নিশাত,রোদসী তো কিছু করে না এরিদ ও মেহেক যা দুষ্টমি করে তাদের মায়ের থেকে বাঁচানো তার দায়িত্ব।বাড়ির কোনো সন্তানের ইচ্ছে তিনি অপূর্ণ রাখেন না।
সবাই কথা বলে ঠিক করলো সকালে যার যা কেনাকাটার আছে করে নিবে বাকিটা বরিশাল গিয়ে করবে। বিকালেই ফারাজ,উৎস তাদের তিন বোনকে নিয়ে রওনা দিবে ফুপুর বাড়ির উদ্দেশ্য।বড়রা তার পরের দিন যাবে।এরিদও ভাই বোনদের সাথে যাবে বলে বায়না ধরে কিন্তু সে ছোট দেখে নাফিসা রাজি হতে চায় না নিশাত ও রোদসী আস্বস্ত দেয় সামলে নিবে তারপর ঠিক হয় তাদের সাথে এরিদ যাবে।এরিদ খুশিতে লাফাতে থাকে।
হঠাৎ বাইরে বাইকের শব্দ শুনা গেলো।এখন আবার কে আসলো তাও বাইক দিয়ে!সবাই আগ্রহ নিয়ে সদর দরজার দিকে তাকালো তখনি ভেতরে প্রবেশ করলো উৎস।সবাইকে উপস্থিত থাকতে দেখে উৎস আঁচ করলো তার জন্য অপেক্ষা করছিলো।উৎসর দিকে সবাই তাকিয়ে আছে প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে এটার কারণ ও উৎস বুঝতে পারলো কিন্তু সে নিজ থেকে কিছু বললো না।সোফায় গিয়ে বসে মালিহাকে বললো,
-“আম্মু পানি দাও।”

মালিহা গ্লাসে পানি ঢেলে উৎসকে দিলে ঢকঢক করে পুরো গ্লাসের পানি খেয়ে নিলো।
শাহাদাত চৌধুরী বললো,
-“বাইকের শব্দ পেলাম”

-“হ্যা,ঠিক শুনেছো।”

-“তুমি জানো না আমি বাইক পছন্দ করি না, আমার বাড়িতে বাইক!”

-“আমার ইচ্ছে তাই আমি কিনেছি।আর এখন থেকে আমি অফিসে আমার বাইক নিয়ে যাবো।”

-“তোমার বাইক!এতো টাকা কোথায় পেলে?”

-“তোমার অফিস থেকে মারিনি।এতো বছর বাহিরে ছিলাম এমন না যে আমার পকেট খালি।আমার ব্যাংক একাউন্ট ঘেঁটে দেখলে কোটি টাকাও পেতে পারো।”
উৎসর একাউন্টে কোটি টাকা আছে এটা শুনে সবাই হতবাক।মেহেকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো তার উৎস ভাইয়ের এতো টাকা!কিন্তু লোকটা তো যেভাবে চলা ফেরা করে মনে তো হয় এক লাক্ষও টাকা নেই।
শাহাদাত চৌধুরী ভয়ার্ত স্বরে ছেলেকে বললো,
-“তুমি কী”

-“না, আব্বু। তোমার দেওয়া শিক্ষা আমার মধ্যে আছে আমার সৎ পথের ইনকাম।”

সাফওয়ান চৌধুরী বললো,
-“তাহলে এতো টাকা কীভাবে আয় করা সম্ভব এতো অল্প বয়সে যা আমরা এতো বছরেও সঞ্চয় করতে পারিনি।”

-“চাচ্চু তোমাদের মনে সন্দেহ জাগতেই পারে স্বাভাবিক। আমি আর সাদিফ মিলে একটা বিজনেস করেছিলাম এখনো সেটা আছে।সাদিফ ওর বাবার ব্যবসার পাশাপাশি আমাদের টায়ও সময় দিচ্ছে ওর মতো আমিও একি কাজ করছি।তাছাড়া আমি যতদিন বাহিরে ছিলাম আমার টাকা তো তোমরা নেউনি নিজেদের টাকায় সংসার চালিয়েছো।”

-“উৎস এটা করলে তো তোমার উপর চাপ পড়ে যায়।”

-“সেটা আমি সামলে নিবো।”

শাহাদাত চৌধুরী এবার রাগী স্বরে বললো,
-“তা না হয় করো কিন্তু আমার বাড়িতে আমি বাইক ঢুকতে দিবো না।”

উৎস বলিষ্ঠ কন্ঠে বললো,
-“ঢুকে যখন পড়েছে বের আর করতে পারবে না।”

-“উৎস!মুখে মুখে তর্ক করছো আবার বলছো আমার দেওয়া শিক্ষা তোমার মধ্যে আছে।”

বাবা ভাইয়ের তর্ক দেখে ফারাজ আর চুপ করে থাকতে পারলো না সে বললো,
-“আব্বু পুরনো একটা ঘটনা এখন মনে রাখার কী আছে!”

-“আমি কারো জীবনের রিক্স নিতে চাই না।সবার জীবনের মূল্য আমার কাছে সমান।”

-“যদি ওরোকম কিছু ঘটে আমি বাইক ছুবো না কথা দিলাম কিন্তু আমাকে এই নিয়ে আর কেউ কোনো কথা বলবে না।”
এক দমে কথা বলেই উৎস গমগম পায়ে তার রুমের দিকে হেঁটে গেলো।মালিহা পিছন থেকে ডেকে বললো,
-“খেয়ে যা রাগ করার কোনো মানে হয়।”

উৎস হাঁটার মধ্যেই বললো,
-“রুমে পাঠিয়ে দাও।”

শাহাদাত চৌধুরীর পিতা বাইক এক্সিডেন্টে মারা যায়।পাড়ার দোকান থেকে তিনি বাড়িতে আসছিলেন কিন্তু আসার পথেই তার সাথে ঘটে যায় চরম দূর্ঘটনা।ছাড়তে হয় তাকে পৃথিবী।এক অল্প বয়সী যুবক বেখেয়ালিতে বাইক চালাচ্ছিলো।শাহাদাতের বাবার উপর বাইক উঠিয়ে দেয়।তিনি ছিটকে দূরে পরে যায়।ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায় তার পুরো শরীর।যুবক ছেলেটিও মারা যায়।এর পর থেকেই শাহাদাত চৌধুরী বাইক পছন্দ করে না।বাবা ছিলো একমাত্র ছায়া সেখানে বাবা চলে যাওয়াটা তিনি সহজে মেনে নিতে পারেনি।তারপর থেকে তিনি বাইক চালানো কোনো ছেলেকে পছন্দ করে না।

সবাই খেতে বসলো। সবাই খাওয়ায় মনোযোগ দিলেও মেহেক খেতে পারছে না তার গলা দিয়ে খাবার নামছে না।তার মাথায় একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে হঠাৎ করে উৎস ভাই বাইক কেনো কিনলো?সে বলেছিলো গাড়িতে দম বন্ধ হয়ে আছে
এটা তো মজা করে সে তো জানে এ বাড়ির কেউ বাইক ছুয়েও দেখবে না।তাহলে উৎসর বাইক!প্রশ্নের মাঝেই মেহেক উওর খুঁজে পেলো কিন্তু এটা কেনো হবে তাকে তো পছন্দ করে না তার উৎস ভাই।শুধু তাকে কষ্ট দিয়ে যায়!
রোদসী দেখলো তার বোনের কাতরতা,অস্থিরতা। সে তো জানে উৎসর বাইক কেনার কারণটা।

সবার খাওয়া শেষ হলে মালিহা একটা প্ল্যাটে খাবার তুলে মেহেককে বললো,
-“মেহেক উৎসকে দিয়ে আয় তো।”

-“আমি।”

-“হুম যা।তুই তো তোর ঘরেই যাবি যাওয়ার আগে দিয়ে যাস।”

-“আচ্ছা দাও।”

মেহেক খাবারের প্ল্যাট নিয়ে উৎসের ঘরের দরজায় টোকা দিলো।কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পেলো না তাই মেহেক দরজাটা হালকা ধাক্কা দিয়ে উঁকি দিয়ো পুরো ঘরে চোখ বুলালো। উৎসকে ঘরে দেখতে না পেয়ে মেহেক দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভিতরে ঢুকলো।মেহেক টেবিলে খাবারটা রেখে ঘুরে দাঁড়ালো।তার দৃষ্টিতে ভেসে উঠলো উন্মুক্ত দেহ,চুল বেয়ে পানি টুপটুপ করে ঝরে পরছে,কমড়ে বাঁধা গামছা।মেহেক শুকনো ঢোক গিলে মাথা নিচু করে ফেললো।উৎস মেহেকের সন্নিকটে গিয়ে দাঁড়ালো। উৎস মাএ স্নান করে বেরিয়েছে তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে কিন্তু তার এতো কাছে আসা মেহেকের বুক ধুরুধুরু করছে।এই প্রথম উৎস তার এতো কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে!মেহেকের শরীর কাঁপছে।কাঁপা কাঁপা গলায় মেহেক উচ্চারণ করলো
-“উৎস ভাই একটু স্বরে দাঁড়ান।”

উৎস আরো কাছ ঘেঁষে দাঁড়ায়।মেহেকের অস্বস্তি হচ্ছে। বুকের কাঁপুনি যেনো কমছেই না!কখনো কোনো ছেলের এতো কাছে গিয়ে তার শরীরের ঘ্রাণ তো নেয়নি।উৎসর সুঠাম দেহ থেকে মন মাতনা ঘ্রান এসে বিদছে মেহেকের নাকে।উৎস তার মাথা ঝাঁকি দিলো চুলের ছোট ছোট পানির কণা মেহেকের মুখে এসে পড়লো।বারান্দা থেকে এক ধমকা হাওয়া এসে মেহেকের চুল এলোমেলো করে দিলো।মেহেকের মুখ ঢেকে গেলো তার চুলে।উৎস হাত বাড়িয়ে মেহেকের গালে স্পর্শ করলো মেহেক নিজের অস্থিরতা সামলাতে না পেরে পিছন থেকেই টেবিলটা শক্ত করে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলে।উৎসের হঠাৎ এমন করা তাকে বিচলিত করে তুললো। মেহেক অনুভব করলো কেউ তার ওষ্ঠের খুব কাছে চলে এসেছে সে আবার ভাঙা ভাঙা শব্দে আওড়ালো
-“খ…খা.খাবার ঠা..ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।”

মেহেকের গালে পড়ে থাকা চুল গুলো কানের পিছনে গুজে দিয়ে উৎস সরে দাঁড়ায়। মেহেক স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ে।
———-
-“জান আমার।কী করছিস?”
-“….”
-“ঘুমিয়েছিস বলে তো মনে হয় না। তাহলে কথা রিপ্লাই দিচ্ছিস না কেনো!”
-“….”
-“কল দেই?”
-“…..”
একের পর এক মেসেজ পাঠিয়েই যাচ্ছে আর সেগুলো রোদসী দেখে না দেখার মতো ভান করছে।সিজান বের হয়ে যাওয়ার পর একটাও ফোন দেয়নি রোদসীকে।ব্যস্ততার জন্য কথা বলতে না পারলে একটা মেসেজ তো দিয়ে তো বলতে পারতো “বাসায় এসে পৌঁছেছি ফ্রি হয়ে কথা বললো”। কিন্তু না করেনি তার কী চিন্তা হয় না প্রিয় মানুষটার জন্য যদি বুঝতো তাহলে এমন করতো না।রোদসী এই নিয়ে সিজানের উপর রাগ করে আছে।রোদসীর কোনো রিপ্লাই না পেয়ে সিজান ফোন দিলো রোদসী ধরলো না কেঁটে দেয়।কয়েকবার দেওয়ার পর রোদসী ধরে রাগী স্বরে বললো,
-” সারাদিন যার আমার কথা মনে পরেনি তার এখন কেনো মনে পড়লো?আমি কী বলেছি আমার কথা মনে করতে!আমাকে যেনো এই নাম্বার থেকে আর কেউ কল না দেয় বলে রাখলাম।”

-“আরে জানে মান রাগ করিস না ব্যস্ত ছিলাম।বোঝার চেষ্টা কর।সরি জান।”

-“তোমার কাছে তোমার সরি রাখো।”

-“তাহলে কী বলবো?”

-“কিছু না।”
সিজান বুঝতে পারলো তার রোদ তার উপর রেগে আছে।
-” O baby.I am in love with you.Tell me you also like me.”

-“yes.”

-“জান কবে আসবি?”

-“কাল বিকালে।”

-“সকালে আয়।সকালে কী হয়েছে? ”

-“গিয়ে তো সারাদিনও দেখা পাবো না ডাক্তার সাহেবের!সকালে কিছু কেনা কাটা করতে হবে তাই বিকালে যাবো।”

-“ওকে জান।কিন্তু বিয়ের দিন আমার দেওয়া শাড়ি পড়বি।”

-“কেনো?”

-“আমি বলেছি তাই।”

#চলবে