Home "ধারাবাহিক গল্প প্রণয়ের অন্তরমহল প্রণয়ের অন্তরমহল পর্ব-০৪

প্রণয়ের অন্তরমহল পর্ব-০৪

0
1056

#প্রণয়ের_অন্তরমহল
#তাহরিশমিতা_মুনতাহা
#পর্বঃ৪

⚠️অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠিন ভাবে নিষিদ্ধ 🚫

দিয়ার প্রশ্নের কোনো প্রতিউত্তর করলো না নির্ণয়। এমন ভাব করলো যেন সে কিছুই শোনে নি এবং সে ছাড়া এই ঘরে দ্বিতীয় কেও নেই। দিয়া ফের প্রশ্ন করল-

—এতো রক্ত কিসের? জবাব দিচ্ছেন না কেন?

নির্ণয় এবার ও কোনো জবাব দিলো না। নির্বিকার ভঙ্গিতে বসে রইল সোফায়। দিয়া সেদিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোঁক গিলে ফের প্রশ্ন করল-

—কাকে মেরে ফিরলেন আপনি? কার রক্তে রাঙা আপনার গায়ের পোশাক?

নির্ণয় মাথা তুলে তাকালো দিয়ার মুখের দিকে। চোখ দুটো লাল বর্ণ ধারণ করেছে। ভয়ে দিয়ার বুক কেঁপে উঠল। লোকটি কী চোখ দিয়েই গিলে খাওয়ার পাঁয়তারা করছে নাকি? দিয়া ভীষণ রকম ভয় পেলেও নির্ণয় কে তা বুঝতে না দিয়ে নিঃশব্দে নিজের ভয়টুকু গিলে ফেলল। আপতত ভয় পেলে চলবে না। দিয়া ফের কাঁপা কাঁপা গলায় কিছুটা চেঁচিয়েই প্রশ্ন করল-

—জবাব দিচ্ছেন না কেন? কন্ঠ নালী দিয়ে কথা বের হচ্ছে না?

নির্ণয় সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। তার রক্তমাখা অবয়ব দেখে দিয়া অজান্তেই এক পা পিছিয়ে গেল। ঘরের ভেতরের আলোতে তার গায়ের পোশাকের রক্তের গাঢ় লাল রঙটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আতঙ্কিত দিয়া শুকনো ঢোঁক গিললো। মূহুর্তেই নির্ণয়ের ভেতরের পশুত্ব যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এলো। সে বিদ্যুৎ গতিতে দিয়ার দিকে এগিয়ে গেল।

পরমুহূর্তে নির্ণয়ের শক্তিশালী হাত দিয়ার নরম গলার উপরে চেপে বসল। তার বজ্রমুঠির প্রচণ্ড চাপে দিয়ার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম।

—তোর সাহস কীভাবে হয় আমার সামনে উঁচু গলায় কথা বলার। গলার রগ টান দিয়ে ছিঁড়ে নিয়ে আসবো চুত-মারানি কৈফিয়ত চায়ছিস?

নির্ণয়ের আঙুলগুলো এমন নির্মম শক্তিতে দিয়ার গলা জাপটে ধরেছে যে, তার চোখ দু’টি প্রায় কোটর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। প্রতিটি শিরা-উপশিরা যেন দপদপ করছে অসহ্য কষ্টে। সে হাত-পা ছুঁড়ে নিজেকে মুক্ত করার জন্য শেষ চেষ্টা করল, কিন্তু নির্ণয়ের লৌহ কঠিন বাঁধন একচুলও নড়ল না। তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আত্মা যেন তার শরীর থেকে জোর করে টেনে বের করে নেওয়া হচ্ছে। ফর্সা ত্বক নিমেষেই ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। চোখের দৃষ্টিও কেমন ঝাপসা হয়ে এসেছে।

ঠিক তখনই নির্ণয় হঠাৎ হাত সরিয়ে নিল। মুক্তি পেয়ে দিয়া হাঁসফাঁস করে উঠল— গলা চেপে ধরে তীব্র কাশিতে বসে পড়ল মেঝেতে, নিঃশ্বাস যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে প্রতিটি মুহূর্তে। নির্ণয় হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল তার সামনে, তার চোখে এক শীতল তৃপ্তির ছায়া। ঠোঁটের কোণে এক তীব্র বিদ্রূপাত্মক হাঁসি।

—আই হোপ এবার বুঝতে পেরেছিস, আদ্রিয়ান খাঁন নির্ণয়ের সামনে উঁচু গলায় কথা বললে তার পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

দিয়া মাথা তুলে তাকালো নির্ণয়ের দিকে। তার চোখ হতে টুপটপ করে পানি পড়ছে। তবে দিয়া এবার ভয় না পেয়ে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো।

—ছোট্ট একটা প্রশ্ন করেছি তার জবাব দিতে এতো বাঁধছে কেনো আপনার?

—তুই জানতে চাস কেন আমি জবাব দিচ্ছি না তোর প্রশ্নের? জবাবটা খুব সহজ। কারণ আমি তোকে জবাব দিতে বাধ্য নই।

দিয়া জোর দিয়ে বললো।

—আপনি জবাব দিতে বাধ্য।

—আদ্রিয়ান খাঁন নির্ণয় কাউকে কৈফিয়ত দেয়না।

—আমাকে দিতে হবে।

নির্ণয় খেকিয়ে উঠলো।

—তুই কোন চে*টে*র বা*ল? তোকে কৈফিয়ত দিতে হবে?

দিয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফের বললো।

—আপনি বলবেন? নাকি আমি পুলিশ কে কল করবো?

নির্ণয় শব্দ করে হেসে উঠলো।
—পুলিশ আমার একটা বা*ল ও বাঁকাতে পারবে না।

—নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন আপনি। এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।

—সেটা পরে দেখা যাবে।

—কে সে? কাকে মেরেছেন?

বারবার একই প্রশ্ন করায় নির্ণয় বোধহয় এবার ভীষণ রকম রেগে গেল। ও দিয়ার চুলের মুঠি ধরে টেনে দাঁড় করিয়ে সজরে এক চড় মারলো গালে। গর্জে ওঠে বললো।

—তোর মতো চুনোপুঁটির কাছে আমাকে জবাবদিহিতা করতে হবে? চুত-মারানি! জান নিয়ে নিব বেশী বকলে।

দিয়ার ঠোঁট কেটে রক্ত বেরোচ্ছে গলগলিয়ে। সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।

—আপনি তাহলে বলবেন না?

নির্ণয় নিশ্চুপ। কোনো উত্তর করলো না। তা দেখে দিয়া বিরক্ত হলো। টেবিলের উপর রাখা ফোনটা হাতে নিতেই ওর উপর ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ল নির্ণয়।

পেন্টের বেল্ট খুলে মারতে শুরু করলো নির্দয়ের মতো। পুরো ঘর জুড়ে শুধু ঠাস ঠাস আওয়াজে মুখরিত। ইতিমধ্যেই দিয়ার শরীর কেটে রক্ত বেরোতে শুরু করেছে। দিয়া হাসলো। একটা মানুষ ঠিক কতটা নির্দয় পাষান হতে পারে সেটা সে নির্ণয় কে না দেখলে হয়তো জানতেই পারতো না।

দিয়া জ্ঞান হারিয়েছে অনেক্ষণ। নির্ণয় দিয়ার নিস্তেজ দেহটার পাশে বসে মনের সুখে সিগারেট ফুকছে। যেন কিছুই হয়নি। খানিক্ষণ পর হাতে থাকা সিগারেটে লম্বা একটা টান দিয়ে সেটা ছুড়ে মারলো অদূরে। অচেতন দিয়াকে তুলে নিল বাহুতে। ধুপধাপ কদম ফেলে চলে গেল একটি বন্ধ ঘরে।

(পরবর্তী পর্ব পেতে পেইজটি ফলো করুন 👇🏻)
https://www.facebook.com/profile.php?id=61582690763418
______________________

পূর্ব দিগন্তে সূর্য মামা সবে উঁকি দিচ্ছে। নির্ণয় হাতে একটি প্লেট আর ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে ঢুকল বন্ধ ঘরে। দিয়া ঘুমোচ্ছে বোধহয়। নির্ণয় খুবই সন্তর্পণে এগিয়ে গেল ঘুমন্ত দিয়ার নিকট। হাতে থাকা ফাস্ট এইড বক্স টা খুলে ঔষুধ বের করে লাগাতে লাগলো দিয়ার পিঠে। ব্যথায় দিয়ার ঘুম ছুটে গেল। ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল। সামনে নির্ণয় কে ভয়ে অন্তর আত্মা শুকিয়ে কাঠ।

—আ….আপনি ছুঁবেন না আমাকে। দূরে থাকুন আমার থেকে। কাছে আসবেন না।

দিয়া ট্রমা তে আছে। কালরাতের ঘটনায় সে নির্ণয় কে আরো বেশী ভয় পাওয়া শুরু করেছে। যেন তার সামনে কোনো মানুষ নই জানোয়ার বসে আছে। নির্ণয় দিয়ার এহেন কান্ডে বিরক্ত হলো। পা টেনে নিজের কাছে এনে ঔষধ লাগাতে লাগাতে বললো।

—বেশী বাড়াবাড়ি করলে মাথায় তুলে দিব এক আছাড়। তাই চুপচাপ সামনে বসে থাকো। কাল রাতের কথা ভুলে যাওনি অবশ্য।

দিয়া চুপ করে রইলো। ও বুঝে উঠতে পারে না একটা মানুষের কত গুলো রূপ হতে পারে? এই মুহূর্তে তার সামনে যে দাঁড়িয়ে সে কি মানুষ? নাকি রহস্যময় কোনো শিকারী? নাকি একজন ঠান্ডা মাথার শাসক? যার দয়ার নামমাত্র অস্তিত্ব নেই? দিয়ার মনে হলো নির্ণয় যেন আলো-ছায়ার এক জটিল ধাঁধা।

ঔষধ লাগানো শেষ- নির্ণয় ঘুরে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই দিয়া নিঃশেষিত কন্ঠে বললো।

“মুক্তি চাই আপনার থেকে…

নির্ণয়ের পা দুটো আচমকা থমকে গেল। ঘুরে দাঁড়ালো দিয়ার দিকে। নিরেট কন্ঠে উত্তর দিল।

“অসম্ভব…

“ভালো তো বাসেন না! তাহলে রেখেছেন কেনো?

“চাহিদা মেটানোর জন্য।

“পতি*তালয় তো আছেই! আমাকে বিয়ে করলেন কেনো?

“টাকা খরচ করে কী করবো? তাই বিয়ে করেছি।

নির্ণয়ের গমগমে কন্ঠে শিরদাঁড়া শক্ত করে দাঁড়ালো দিয়া-চেঁচিয়ে উঠলো।

“তালাক দিন আমাকে।

নির্ণয় এগিয়ে এসে খপ করে চেপে ধরলো দিয়ার গলা। গাঁ হিম করা অদ্ভুত তরল কন্ঠে বললো।

“এ্যাই বাক্য দ্বিতীয় বার উচ্চারণ করলে মেরে লাশ ঘুম করে দিব! তোর বাপ-মায় টের ও পাবেনা।

#চলবে