Home "ধারাবাহিক গল্প প্রণয়ের অন্তরমহল প্রণয়ের অন্তরমহল পর্ব-২১

প্রণয়ের অন্তরমহল পর্ব-২১

0
649

#প্রণয়ের_অন্তরমহল
#তাহরিশমিতা_মুনতাহা
#পর্বঃ২১

⚠️ অনুমতি ব্যতীত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫

“দেখো বেঁচে আছি আমি এখনো’ আমার কিচ্ছু হয়নি। এবার বিশ্বাস হয়েছে? নেও পুরো খাবার শেষ কর।

দিয়া আর কথা বাড়ালো না চুপচাপ খাবার খেয়ে ঔষধ খেলো। শরীর টা অসহ্য ব্যথায় জর্জরিত। বেল্টের দাগ পড়ে গেছে বোধহয় শরীরে। দিয়া বিছানা ছেড়ে উঠার জন্য উদ্যত হতেই অনুভব করল শরীরটা অবস হয়ে গেছে। দিয়া ফের কিছুক্ষণ ওভাবেই বসে রইলো।

নির্ণয় বেরিয়েছে বাসা থেকে। কোথাও একটা যাবে বোধহয়। তবে যাওয়ার আগে দিয়ার যা কিছু লাগবে সব রেখে গেছে হাতের নাগালে। বলে গেছে ঘর থেকে বের হবে না ঘুনাক্ষরেও‌। দিয়া বুঝতে পারে না লোকটা কে। কখন কী করে কে জানে। দিয়ার মাঝে মাঝে মনে হয়। লোকটার বোধহয় বড় কোনো রোগ আছে, নয়তো সেকেন্ডে সেকেন্ডে এমন চেঞ্জ হয় কেনো।

এসব ভাবনার মাঝেই দিয়ার দূরোবাসযন্ত্রটা প্রচন্ড শব্দে বেজে উঠল। দিয়া হাতরে বালিশের নিচ থেকে ফোন টা নিয়ে দেখল ওয়াহিদ ফোন করেছে। রিসিভ করে কানে ধরল। বলল-

—“হুঁ বল’ কাজ হয়েছে?”

ওপাশ থেকে ভেসে এলো ওয়াহিদের শান্ত গলার স্বর-

—“হ্যাঁ’ তবে আরেকবার ভেবে দেখলে হয় না?”

দিয়া শিতল স্বরে বলল-

—“ভাবা ভাবি শেষ’ এবার করার পালা।”

—“রিস্ক হয়ে যাবে তোর।”

—“তাতে কী?”

—“একবার নির্ণয়ের সাথে কথা বলে দেখ”

—“সম্ভব নাহহ”

—“তুই খুব জেদি”

—“ছিলাম নাহহ’ আচ্ছা ওকে বলেছ?”

—“হ্যাঁ”

—“রিয়াকশন কেমন ছিল?”

—“তুই তো জানিস ওকে বুঝা বড় দায়। তবে মনে হল তোকে ফোন করতে পারে।”

—“আচ্ছা”

—“শরীর কেমন তোর?”

—“হুঁ মোটামুটি”

—“খেয়েছিস?”

—“হুঁ”

—“নির্ণয় কোথায়?”

—“বাহিরে গেছে বোধহয়!”

—“সাবধানে ও যদি ঘুনাক্ষরেও এসব টের পায় তাহলে কিন্তু দু’জন কেই জ্যান্ত দাফন করে দিবে।

—“ভয় পাচ্ছ?”

—“একটু আধটু”

হাঁসলো দিয়া। বলল-

—“এতো ভয় পেলে চলবে?”

ওয়াহিদ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল-

—“মামা কিন্তু খুব কষ্ট পাবে?”

দিয়া ভাবলেশহীন গলায় বলল-

—“পাওয়াটা কি কাম্য নয়?”

—“তোর একটা সিদ্ধান্তে সবার জীবন উলট পালট হয়ে যেতে পারে!”

—“হলে হবে!”

—“যাকগে সেসব, এখন রাখি।”

—“আচ্ছা’

কল কেটে যেতেই শরীরের সব টুকু শক্তি একত্রিত করে দিয়া বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ফ্রেশ হওয়া দরকার। কাল থেকে বিছানায় পড়ে আছে। আলমারি থেকে নিজের কাপড় নিয়ে ছুটলো ওয়াশরুমে।

______________

তখন প্রায় সন্ধ্যা সাতটা দিয়া বসে আছে বারান্দার। হাতে ফোন। হয়তো কারো ফোনের অপেক্ষায়। নির্ণয় সেই যে দুপুরে বেরিয়েছে আর বাড়ি ফিরেনি। দিয়ার সেসবে যায় আসে না মোটেই। লোকটা ফিরুক বা না ফিরুক তাতে কি।

দূর আকাশের পানে দিয়ার দৃষ্টি নিবদ্ধ। সব কিছু কেমন অসহ্য অস্বস্তিকর ঠেকছে। ভালো লাগছে না মোটেই। আব্বুর সাথে কী একটু কথা বলা দরকার? পাশ থেকে ফোনটা তুলে কল লাগালো নেওয়াজ মোল্লার নাম্বারে। কিছুক্ষণ রিং হতেই ওপাশ থেকে পরিচিত ভরাট কণ্ঠস্বর ভেসে এল,

—”হ্যালো, মা কেমন আছো?”

নেওয়াজ মোল্লার কন্ঠ স্বর শুনে দিয়ার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। কান্না ও পাচ্ছে খুব। তবে দিয়া নিজেকে সামলে নিচু স্বরে বলল-

—“আলহামদুলিল্লাহ আব্বু। তুমি কেমন আছো?”

—“এই তো আলহামদুলিল্লাহ! তোমার কন্ঠ স্বর এমন শুনাচ্ছে কেনো? তোমার কী মনে খারাপ মা?”

দিয়া বুঝতে পারছে না, এতো কান্না পাচ্ছে কেনো? বুকটা এমন হাহাকার করে উঠছে কেনো খানিক্ষণ পর পর। দিয়া কে চুপ থাকতে দেখে নেওয়াজ মোল্লা ফের বললেন-

—“তুমি কি কান্না করছো মা? কিছু হলে আব্বুকে বল, আব্বু সব ঠিক করে দিব।”

দিয়ার গলা ভেঙ্গে আসছে। কান্না আটকে রাখার ফলে গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। ও শুকনো গলায় ঢোঁক গিললো। বলল-

—“কিছু হয়নি, শুধু তোমাদের কথা একটু মনে পড়ছে।

নেওয়াজ মোল্লা মেয়ের কথায় হাঁসলেন। বললেন-

—“বোকা মেয়ে, মনে পড়লে কেউ কাঁদে নাকি? ফোন আছে আমাকে ফোন করলেই তো হয়। কিংবা নির্ণয় কে নিয়ে চলে আসলেই হয়।

দিয়া তাচ্ছিল্য করে হাঁসলো। বলল-

—“মা কোথায়?

—“রান্না ঘরে”

—“ওহ্ আচ্ছা। তোমার শরীর ভালো তো?”

—“হ্যাঁ, আমি এখন একদম ঠিক আছি!”

—“ঔষধ খাওয়া হয় ঠিক সময় মত?”

—“এখন তো আমি ঠিক হয়ে গেছি ঔষধ খেয়ে কী করব?”

দিয়া কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলল-

—“শরীর ঠিক আছে বলে কি তুমি ঔষধ খাবে না আব্বু? এটা কেমন কথা?”

—“তুমি রেগে যাচ্ছ কেনো? আমি ঔষধ খাব এখন থেকে ঠিক সময়ে।”

—“পাক্কা?”

—“হ্যাঁ’

দিয়া মুচকি হেঁসে বলল-

—“গুড বয়”

এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলল বাপ বেটি। দিয়ার মন কিছুটা হলেও হালকা হয়েছে‌। দিয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। বেশ কিছুক্ষণ ওভাবেই বসে রইলো অন্ধকারে। হঠাৎ হাতে থাকা ফোনটি বেজে উঠতেই দ্যান ভাঙলো দিয়ার। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠা নাম্বার দেখে কুটিল হাঁসলো। রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো নদীর ব্যাকুল কন্ঠ স্বর-

—“হ্যালো’

—“হুঁ’

—“কি করিস? ব্যাস্ত তুই? নির্ণয় কোথায়?”

দিয়া হাঁসলো। বলল-

—“একটা একটা করে বল। সব প্রশ্ন এক সাথে করলে উত্তর কীভাবে দিব?”

নদী নিজেকে শান্ত করে ফের বলল-

—“কি করিস?

দিয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল-

—“এই তো বসে আছি।”

—“তুই কি ব্যাস্ত?”

—“নাহ’ কিছু বলবি?”

—“নির্ণয় কোথায়?”

—“জানি নাহহ”

নদী খানিক্ষণ চুপ করে রইলো। এরপর নিচু স্বরে বলল-

—“দেখা করতে পারবি?”

দিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে হাঁসলো। ও বোধহয় আগে থেকেই জানতো সবটা। বলল-

—“কেনো’

—“প্লিজ ফোনে সবটা বলা যাবেনা। তুই দেখা কর”

—“কোথায়?”

নদী বেশ খানিকটা সময় নিয়ে ভাবলো। এরপর বলল-

—“জোনাকি জ্বলা স্টেশনে আসতে পারবি?”

দিয়ার হাঁসি এবার গাঢ় হলো। বলল-

—আসছি”

টুট টুট শব্দ তুলে কল কাট হয়ে গেল। দিয়া ফোনের দিকে তাকিয়ে বক্র হেঁসে কল লাগালো ওয়াহিদের নাম্বারে-

—“হ্যালো’ হ্যাঁ বল!”

—“সব রেডি তো? আমি আসছি তোমরা জোনাকি জ্বলা স্টেশনে চলে আসো!”

—“ওকেই”

বলেই কল কেটে দিল ওয়াহিদ। দিয়া ফোনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে শব্দ করে হেঁসে উঠল। অতঃপর গাঁয়ে একটা শাল জড়িয়ে বেরিয়ে পড়ল বাসা থেকে।

_____________________

আজ পুরো বাড়ি টা ফাঁকা, বাসায় কেউ নেই বললেই চলে। তাই তো দিয়ার বাহিরে বেরোতে কোনো রকম অসুবিধা হলো না। একটা রিকশা চললো গন্তব্যে।

প্রায় আধঘন্টা পর কাংখিত জায়গায় এসে থামলো রিকশা। দিয়া বাঁড়া মিটিয়ে সামনে এগোতেই দেখলো অদূরেই নদী দাঁড়িয়ে আছে। দিয়া ছোট ছোট কদম ফেলে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো নদীর সামনে।

দিয়া কিছু বলার আগেই নদী চট করে এগিয়ে এসে চেপে ধরলো দিয়ার বাহু। প্রশ্ন করল-

—“তুই নাকি অন্তঃসত্ত্বা? এটা কি সত্যি?”

দিয়া কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই বলল-

—“হ্যাঁ’

নদী চেঁচিয়ে বলে উঠলো-

—“এটা হতে পারে না! তুই কীভাবে হতে পারিস?”

দিয়া কপাল কুঁচকে তাকালো’ বলল-

—“এটা হতে পারে না কেনো? আর আমার হাসব্যান্ড আছে, আমি বিবাহিতা’ তাহলে আমি অন্তঃসত্ত্বা হওয়াটা কি অস্বাভাবিক কিছু?”

—“নাহ’ নাহ তা নয়!”

—“তাহলে কি? তুই আমাকে এটা বলার জন্য এখানে ডেকেছিস?”

নদী দিয়া কে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল নিজের থেকে। চিৎকার করে বলল-

—“এটা হতে পারে না! কোনোভাবেই না! আমি মানি না তোদের এই বিয়ে! মানি না আমি! নির্ণয় শুধুই আমার’ আমার মানে আমার!”

দিয়া নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। ওর মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা গেলো না। শান্ত শীতল স্বরে বলল-

—“তুই মানিস আর না মানিস বিয়ে টা তো আর মিথ্যে হয়ে যাবে না। আর তুই কোন ভিত্তিতে বলছিস এসব?

নদী নিজেকে সামলাতে পারছে না কিছুতেই। ও চিৎকার করে চলেছে অনবরত।

—“তুই হয়তো জানিস না আমার আর নির্ণয়ের অ্যাফেয়ার চলছে গত কয়েক মাস যাবত।”

দিয়া এবার ও নির্বিকার। অন্তত শান্ত স্বরে বলল-

—“হুঁ কেয়ারস”

নদী রাগে দুঃখে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়েছে। ও দিয়ার মুখটা দুই হাতের আজলায় এনে আকুল গলায় বলল-

—“বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেল। আর নির্ণয় কে ডিভোর্স দিয়ে দে।”

—“অসম্ভব’ তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? কি সব বকছিস।

—“হ্যাঁ আমি পাগল হয়ে গেছি! আমার অবস্থা টা একবার দেখ। তাকা আমার দিকে।

—“ভুলে যা সব উনি এখন আমার স্বামী।”

নদী জাপ্টে ধরলো দিয়ার পা হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল-

—“সম্ভব না। তুই তো আমার বোন আমার জন্য সামান্য এইটুকু করতে পারবি না?

দিয়া তাচ্ছিল্য করে হেঁসে উঠলো। বলল-

—“সামান্য? তোর কাছে এসব সামান্য মনে হয়? মাত্র দুই মাসের একটা ভ্রূণ, মাত্র দুই মাস যার ঠিকমতো অস্তিত্বই তৈরি হয়নি এখনও তাকে হত্যা করাটা তোর কাছে সামান্য? নিজের স্বামীকে অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া সামান্য? তুই… তুই কি আদৌ মানুষ?”

—“তুই আমাকে মানুষ ওমানুষ যা খুশি বল। আজ আমি তাই হলাম। নিজের ভালবাসা কে পাওয়ার জন্য আজ আমি সব হলাম। তবুও তুই আমাকে ওকে ভিক্ষে দে, দয়া কর।”

—“ভালোবাসা? কিসের ভালোবাসা? বিয়ের দিন যখন পালিয়ে গেলি তখন কোথায় ছিল তোর এই ভালোবাসা? তখন একবার ও ভেবেছিলি পরিবার আব্বুর কথা? ভাবিস নি, ইনফ্যাক্ট তুই একটা বারের জন্যও কাউকে বলার প্রয়োজন মনে করিস নি। আচ্ছা তুই কী জানিস আমি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে নির্ণয় কে বিয়ে করেছি? জানিস না। তখন ভেবেছিলি একবারও আমার কথা? ভাবিস নি তাহলে আমি কেন ভাববো?”

নিজের বাক্য শেষ করে দিয়া আর দাঁড়ালো না। চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই নদী প্রচন্ড জোরে চিৎকার করে বলে উঠলো-

—“তুই সবসময় আমার সব জিনিস কেড়ে নিয়েছিস! সেই ছোট্ট বেলা থেকে, কেনো? কেনো তুই আমার সব জিনিস কেড়ে নিস?

নদীর এহেন কথায় থেমে গেলো দিয়ার পা। ঘুরে দাঁড়ালো নদীর দিকে। চিৎকার করে বলল-

—“আমি কখনো তোর কোনো জিনিসই কেড়ে নেয়নি। কখনো না।

বলেই দিয়া পিছতে শুরু করেছে। বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছিল সেই সন্ধ্যা থেকেই। তবে এখন ঝুম ঝুমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। স্টেশনে থাকা সমস্ত মানুষজন ছুটে চলেছে ছাউনির নিচে। তবে নদী আর দিয়া তখন ও দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দু’জনেই ভিজে একাকার। নদী দিয়ার পিছু ডেকে বলল-

—“দেখ আমাকে’ দেখ তাহলে আমার কাছে কিছু নেই কেনো? তুই! নির্ণয়! যদি তুই না থাকতি তাহলে এসব হতো না।”

নদীর বলা বাক্য শেষ হতেই দিয়া হঠাৎ ঘুরে দৌড় দিল। মুহূর্তের মধ্যে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে আসা ট্রেনের ধাক্কায় দিয়ার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে ছিটকে পড়ল আসে পাশে।

সময় যেন হঠাৎ থমকে গেল। বাতাস স্থির হয়ে রইল, চারপাশ নিস্তব্ধতায় গা ঢাকা দিল। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে নদী গগন-বিধারক করুণ এক চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

বৃষ্টি ঝুমঝুম করছে, ফোঁটার সঙ্গে বাতাসের শব্দ মিলিয়ে এক ধরণের কাব্যিক শোক সৃষ্টি করছে। ধুলো, কাদা, মানুষের আতঙ্ক, নদীর চিৎকার সব মিলিয়ে দৃশ্যটি যেন সময় ও বাস্তবতা ছাড়িয়ে এক বিভর্ষকর সিনেমাটিক মুহূর্তে রূপ নিয়েছে।

আকস্মিক এই বিভর্ষকর ঘটনায় স্তব্ধ আসে পাশের মানুষজন। কেউ কেউ চিৎকার করে এগিয়ে আসছে এদিকেই। নদীর অবচেতন শরীর টা পড়ে রয়েছে মাটিতে। আর দিয়া! দিয়ার শরীর তো ছিন্নভিন্ন হয়ে ছিটকে পড়েছে আসে পাশে। নিজের চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবেনা যে এটা দিয়া। কী বিশৃঙ্খল, কী ভয়ঙ্কর, কী বিভর্ষকর দৃশ্য!”

#চলবে