Home "ধারাবাহিক গল্প ফিরেছি তোর আঙ্গিনায় ফিরেছি তোর আঙ্গিনায় পর্ব-২১+২২

ফিরেছি তোর আঙ্গিনায় পর্ব-২১+২২

0
429

#ফিরেছি_তোর_আঙিনায়
পর্ব —২১
মৌমো তিতলী

হোটেলের পার্কিংয়ে এসে এক মুহূর্তও দেরি করল না আদিত্য। বুকের সঙ্গে শক্ত করে আগলে রাখা মৌমিতাকে অত্যন্ত সাবধানে গাড়ির সামনের সিটে বসিয়ে দিল। সিটবেল্ট পরিয়ে দিতে গিয়েই বুঝতে পারল, নিজের শরীরের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই ওর। মাথাটা বারবার কাঁধের ওপর হেলে পড়ছে।

মৌমিতা কে কোনরকম মাথাটা সোজা করে বসিয়ে দিয়ে নিজে গাড়িতে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট দিল আদিত্য। এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে, অন্য হাতটা আলতো করে মৌমিতার কাঁধ জড়িয়ে রাখল, যাতে কোনোভাবেই ও সিটে ঢলে না পড়ে।

কয়েক মিনিট নীরবতার মধ্যেই হঠাৎ মৌমিতা ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকাল।

ঝাপসা দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ আদিত্যর মুখের দিকে চেয়ে থেকে হঠাৎই মুচকি হেসে উঠল।

— আপনি…আপনি আদিত্য….

মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকালো আদিত্য। নেশার ঘোরে হোক,এই প্রথম মৌমিতার মুখে নিজের নাম শুনলো সে। মৌমিতার মুখে আদিত্য নামটা যেন সোজা তার হৃদপিন্ডে গিয়ে আঘাত হানলো। ঠোঁটে মৃদু হাসি টেনে বললো,,,

__হুম আমি তোমার আদিত্য!

মৌমিতা কেমন লাজুক হাসলো। কেমন দুষ্টুমি ভরা তেরছা নজরে তাকিয়ে বললো,,,

__আপনি এত সুন্দর কেন?

বলেই আলতো করে হাত বাড়িয়ে আদিত্যর গাল টিপে দিল।

আদিত্য এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। মৌমিতা আবার বিড়বিড় করে বলল,

— কিন্তু… আপনি খুব নিষ্ঠুর…আপনি

কথাগুলো বলতে বলতেই তার চোখ ভিজে উঠল। বুজে আসা গলায় বলল,,

— আপনি কেনো আমাকে ফেলে চলে গিয়েছিলেন… আমার খুব কান্না পেত… মানুষ আমাকে কত কথা শোনাতো…

শব্দগুলো জড়িয়ে যাচ্ছিল, তবু প্রতিটা বাক্য যেন বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে আসছিল।

আদিত্যর বুকটা হু হু করে উঠলো। সে বুঝতে পারল, নেশার ঘোরে মৌমিতা নিজের ভেতরে বছরের পর বছর জমে থাকা কষ্টের কথাগুলোই বলে ফেলছে।

গাড়িটা রাস্তার একপাশে থামিয়ে মৌমিতার সিটবেল্ট খুলে দিলো। আরও শক্ত করে তাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে কপালের এলোমেলো চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিল সে।

মৃদু স্বরে বলল,

— আর কখনো তোমাকে একা ছেড়ে যাব না, বউ…

মৌমিতা তার মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল। ঠোঁটের কোণে তখনও শিশুসুলভ হাসি। নিভু নিভু দৃষ্টিতে তাকালো আদিত্যর ঠোঁটের দিকে। হাত বাড়িয়ে এক আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁটের দিকে ইশারা করে বললো,,,

— আপনার ঠোঁট এমন লাল কেনো? লিপস্টিক দেন নাকি আপনি? এটা এতো সুন্দর লাগে কেনো হুম? দেখলেই কেমন… কেমন চুমু খেতে ইচ্ছে করে। বলেই দুহাতে চোখ ঢেকে লাজুক হাসলো।

সেই হাসিটা দেখে আদিত্যর মাথায় হঠাৎই দুষ্টুমি ভরা একটা বুদ্ধি এলো। আদিত্য জানে মৌমিতা এখন যা বলছে হ্যাংওভারের পর তার কিছুই মনে থাকবে না।
আদিত্য পকেট থেকে ফোন বের করে ভিডিও রেকর্ডিং চালু করলো। তারপর ফোনটা ড্যাশবোর্ডে এমনভাবে রেখে দিল, যাতে দু’জনই ফ্রেমে থাকে।

সবকিছু ঠিক করে নিয়ে আবার মৌমিতার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,,,

— কী বলছো, মৌমিতা? তোমার এখন একদম হুঁশ নেই, বউ। হুঁশ থাকলে আমাকে চুমু তো দূরের কথা, আমার পাশেই বসতে চাইতে না।

— উমমমম কে বলেছে বসতে চাইতাম না। আমার তো ইচ্ছে করে আপনার পাশে বসতে! আপনার সাথে বৃষ্টি বিলাস করতে,আপনার সাথে জোৎস্না রাতে হাঁটতে। কিন্তু… কিন্তু আমি আপনার ওপর রেগে। আপনি বাজে লোক। আপনি আমাকে ভালোবাসেন না।
বলেই আবার কাঁদতে শুরু করলো মৌমিতা।

আদিত্য ঠোঁট কামড়ে হাসলো। বুকের ভেতর কেমন সুখের ঢেউ খেলে গেল। কথাগুলো যে মৌমিতার মনের মধ্যে চাপা সত্যি কথা সেটা বুঝতে একবিন্দুও কষ্ট হলো না আদিত্যর। বউটা তার জন্য হৃদয়ে অফুরন্ত ভালোবাসা রেখে মুখে চোটপাট দেখায়‌। এবার…এবার কি করবে চান্দু!

আদিত্য ঠোঁট চেপে হাসি আঁটকে বললো,,,

—কে বলেছে ভালোবাসি না? ভালোবাসি তো বউ। এত্ত এত্ত ভালোবাসি।

আদিত্যর কথায় মৌমিতা খুশি হয়ে যায়। হাত বাড়িয়ে ইশারা করে বলে ..

—তাহলে আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করেন।

আদিত্য সম্মোহিত দৃষ্টিতে তাকালো মৌমিতার দিকে। দুহাতের তালুর মাঝে তার মুখটা আলতো করে ধরে আদুরে গলায় বলল….

— এখন জড়িয়ে ধরে আদর করলে তো তোমার কিছুই মনে থাকবে না। পরে আমাকে বলবে আমি তোমার এই অবস্থার সুযোগ নিয়েছি। তাই আগে বাসায় চলো। তোমার নেশা কেটে গেলে তারপর যত চাও আদর করবো।

মৌমিতা পাশ ফিরে বুকে দুহাত গুঁজে মুখ ফুলিয়ে গুম হয়ে বসলো। বোঝায় যাচ্ছে আদিত্যর কথা তার পছন্দ হয়নি। আদিত্য অবাক হয়ে বললো…

— একি মৌমি মুখ ফিরিয়ে নিলে কেনো? এদিকে এসো! বললাম তো বাসায় গিয়ে আদর করবো।

মৌমিতা জেদি স্বরে বললো,,,

— না না না আমার এক্ষুনি চাই! চাই! চাই!

আদিত্য পড়লো মহা বিপদে। বউ তার নেশার ঘোরে উল্টাপাল্টা কথা বলে তাকে উস্কে দিচ্ছে। এমন নয় যে আদিত্য চায় না তার বউটাকে আদর করতে। মরে যাচ্ছে সে তার বউকে কাছে পেতে। পারে না বুকের মাঝে ঢুকিয়ে ফেলতে। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে বিষয়টা আলাদা। আদিত্য চাইনা মৌমিতার কোনরকম সুযোগ নিতে‌। সম্পুর্ন হুঁশে, সজ্ঞানে সে মৌমিতা কে চাই।

ভাবনার মাঝেই মৌমিতার নরম তুলতুলে আঙ্গুলের ছোঁয়া পেলো গালে। পাশ ফিরে তাকাতেই চোখ বড়বড় হয়ে গেলো আদিত্যর। কল্পনাতীত কাজটা করে ফেলেছে মৌমিতা।
আদিত্য স্টিয়ারিংয়ে বিদ্যামান হাত দুটো থরথর করে কেঁপে উঠলো। অদ্ভুত এক অনুভূতির আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেললো এক মুহুর্তের জন্য। ফের চোখ মেলে তাকালো মৌমিতার আবেশীত বন্ধ চোখজোড়ার দিকে। ধৈর্য -সংযোম ভেঙ্গেচুরে লুটিয়ে পড়লো তার। স্টিয়ারিং ছেড়ে দুহাতে আকড়ে ধরলো মৌমিতার লতানো কোমর। তাকে টেনে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে দিলো। বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে ফের ঢুবলো প্রেয়সীর অধরভাজে।

পলপল করে সময় কতটা এগিয়ে গেলো জানা নেই আদিত্যর। হুট করে মৌমিতার মাথাটা হেলে পড়তেই ধ্যান ভঙ্গ হলো তার। ঘুমিয়ে পড়েছে মেয়েটা। দু হাতের ভাঁজে আদুরে ভঙ্গিতে জড়িয়ে রাখলো মৌমিতা কে। তার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে অধর প্রসারিত হলো আদিত্যর। নেশার ঘোরে হলেও বউয়ের করা কাজটা তার পছন্দ হলো। মৌমিতা কে এক হাতে নিজের সাথে জড়িয়ে রেখেই ফোনটা হাতে নিলো। ভিডিও সেভ করে পকেটে রাখলো। গাড়ি স্টার্ট করে এক হাতেই সাবধানে ড্রাইভ করতে লাগলো আদিত্য। তার বুকের মাঝেই আদিত্যর শার্ট আঁকড়ে ধরে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে মৌমিতা।

__________________

রাত তখন প্রায় একটা ছুঁইছুঁই।
নিস্তব্ধ শহরের বুক চিরে কালো মার্সিডিজটা ধীরে ধীরে এসে থামল আশাকুঞ্জের সামনে। চারপাশে গভীর নীরবতা। রাতজাগা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।
ইঞ্জিন বন্ধ করে কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলো আদিত্য। মৌমিতা এখনো তার বুকের মাথা রেখে শিশুর মতো নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে। মুখভর্তি ক্লান্তি, এলোমেলো চুলগুলো গাল জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। আলতো হাতে মৌমিতার মুখের ওপর থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিলো সে।

মৃদু নিঃশ্বাস ফেলে পায়ের সাহায্যে গাড়ির দরজাটা খুললো। অত্যন্ত সাবধানে দু’হাতে মৌমিতাকে কোলে তুলে নিলো। যেন সামান্য অসাবধানতায়ও ওর ঘুম ভেঙে না যায়। সেভাবেই বাড়ির ভেতরে হাঁটা দিলো।
বাড়ির প্রধান দরজা খোলাই ছিল।
আদিত্য বেরোনোর আগেই মাকে ফোন করে বলে দিয়েছিলো তাদের ফিরতে দেরি হবে, যেন কেউ অপেক্ষা না করে ঘুমিয়ে পড়ে। তাই পুরো বাড়িটাই তখন নিস্তব্ধ।
ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের ঘরে এসে বিছানায় আলতো করে শুইয়ে দিলো মৌমিতাকে।
একবার ওর দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে ওয়াশরুমে চলে গেল।
ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে দেখলো, মেয়েটা আগের মতোই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
কিন্তু মুখভর্তি মেকআপ, চুল এলোমেলো, এতক্ষণ একই পোশাকে থাকাও অস্বস্তিকর।
ওয়াশরুম থেকে এক মগ পরিষ্কার পানি আর একটি নরম তোয়ালে নিয়ে এল আদিত্য।
খুব যত্ন করে আলতো হাতে মৌমিতার মুখের মেকআপ মুছে দিতে লাগলো। যেন কোনো ঘুমন্ত শিশুর যত্ন নিচ্ছে সে।
মেকআপ পরিষ্কার হয়ে যেতেই মুখটা আরও নিষ্পাপ আদুরে লাগলো যেন তার কাছে। মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আলতোভাবে অধর ছোঁয়ালো মৌমিতার কপালে।
এরপর কিছুক্ষণ দ্বিধায় দাঁড়িয়ে রইল আদিত্য।
মৌমিতার পোশাক বদলানোর দরকার…
কিন্তু সেটা তার পক্ষে করা ঠিক হবে না।
এক মুহূর্তও দেরি না করে নিচে নেমে এলো আদিত্য। মায়ের ঘরের সামনে এসে মৃদু স্বরে ডাকলো মা কে। দুবার ডাকতেই দরজা খুলে বেরিয়ে এলো আশালতা বেগম। ছেলেকে দরজায় দাঁড়ানো দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি। এগিয়ে এসে বললেন…

—আদি কখন এলি আব্বা? কিছু লাগবে?

আদিত্য নির্দ্বিধায় মাকে সবটা জানালো। আশালতা বেগম ছেলের মুখের অস্বস্তি বুঝে মৃদু হেসে বললেন,,

—আচ্ছা চল। আমি চেঞ্জ করে দিচ্ছি।

মাকে নিয়ে নিজের ঘরে প্রবেশ করলো আদিত্য। আশালতা বেগম বিছানায় ঘুমন্ত মৌমিতা কে দেখে ছেলের উদ্দেশ্য বললেন…

— তুই বাইরে যা। আমি ওকে ঠিক করে দিচ্ছি।

আদিত্য নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর আশালতা বেগম নিজেই মৌমিতার শাড়ি পাল্টে আরামদায়ক ড্রেস পরিয়ে, চাদর গায়ে দিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন।

ছেলের কাঁধে আলতো চাপড় দিয়ে বললেন,,

— এবার তুইও ঘুমিয়ে পড় আদি। অনেক রাত হয়ে গেছে।

মাকে কৃতজ্ঞ চোখে দেখে মাথা নেড়ে ঘরে ঢুকলো আদিত্য।
মৌমিতা তখনও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে।
হালকা করে চাদরটা টেনে দিল ওর গায়ে।
তারপর নিজেও ঢুকে পড়লো চাদরের ভেতরে। মৌমিতা কে দুহাতে জড়িয়ে ধরলো নিজের সাথে। আরামে দু’চোখ কখন যে ক্লান্তিতে লেগে গেলো, সে নিজেও বুঝতে পারলো না।

পরদিন সকাল…

জানালার ফাঁক গলে সোনালি রোদ এসে পড়েছে পুরো ঘরে।
পাখির কিচিরমিচির আর সকালের স্নিগ্ধ আলোয় ধীরে ধীরে ঘুম ভাঙলো মৌমিতার।
মাথাটা যেন প্রচণ্ড ভারী। কপালের দু’পাশে অসহ্য ব্যথা অনুভব হলো।
চোখ মেলে উঠতেই প্রথমে কিছুই বুঝতে পারলো না।
পরক্ষণেই টের পেলো সে কারও বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছে।
চমকে মাথা তুলে তাকাতেই চোখ বড় বড় হয়ে গেল।
আবার আদিত্য!

ঘুমের মধ্যেই দু’হাতে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে আদিত্য।
তাড়াতাড়ি সরে বসতেই নিজের পোশাকের দিকে চোখ পড়ল। এক মুহূর্তে মুখের রঙ বদলে গেল মৌমিতার।
এটা তো গতরাতের পোশাক নয়!
তাহলে…
তার পোশাক বদলালো কে?
মনের মধ্যে একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল।
রাগে-লজ্জায় মুখ লাল হয়ে গেল।
দ্রুত আদিত্যর কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,,

— এ্যাই উঠুন… উঠুন!

ঘুমজড়ানো চোখে আদিত্য তাকালো।

— কী হয়েছে?

— আমার ড্রেস কে চেঞ্জ করেছে? আমি এখানে কীভাবে এলাম?

আদিত্য কয়েক সেকেন্ড মৌমিতার রাগী মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো।
তার হাসি পাচ্ছিলো খুব। কিন্তু কোনো রকমে সেটা চেপে রেখে বলল,,

— আর কে করবে? কে আছে এই ঘরে আমি ছাড়া ।তো আমিই করেছি।

মৌমিতা ক্ষুব্ধ গলায় বলল,,,

— কী বললেন? আপনি…আপনি আমার ড্রেস চেঞ্জ করেছেন?

আদিত্য মজা করে বলল,,

— রাগ করছ কেন? তুমিই তো বলেছিলে চেঞ্জ করে দিতে।

— আমি? আমি কখন বললাম?

— শুধু এটুকুই না… গতকাল অনেক আজব আজব কথাও বলেছ। আর…আর কি কি করেছো তা আমি বলতেও পারছি না। মেরি তো ইজ্জত হি লুট গেয়ি!

লজ্জা আর বিস্ময়ে মৌমিতার মুখ শুকিয়ে গেল।

— মিথ্যে কথা!

— তাই নাকি? আমার কাছে প্রমাণ আছে।

আঁতকে উঠলো মৌমিতা।

—প্রমাণ…কিসের প্রমাণ?

আদিত্য ফোন বের করে গাড়িতে রেকর্ড করা ভিডিওটা চালিয়ে মৌমিতার হাতে দিলো।

ভিডিওতে নিজের নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আদিত্যকে উদ্দেশ্য করে বলা কথাগুলো শুনে আর … মৌমিতার মুখ মুহূর্তেই টকটকে লাল হয়ে গেল। এসব কি করেছে সে!
দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বলল,,,

— আপনি… আপনি এগুলো ভিডিও করেছেন! আপনি খুব খারাপ!

আদিত্য গা দুলিয়ে হেসে বলল,,,

— আরে, আমি তো শুধু ভিডিও করেছি। এ ছাড়াও ঘরে এসে তুমি যা যা করেছো, সেগুলো তো তাও আমি ভিডিও করিনি।

লজ্জা, অস্বস্তি আর রাগে মৌমিতার চোখে পানি চলে এলো।
ওকে কাঁদতে দেখে আদিত্যর হাসিটা মিলিয়ে গেল।
আলতো করে ওর কাঁধে হাত রেখে নরম গলায় বলল,,

— এই… কাঁদছ কেন মৌমি? আমি তো শুধু মজা করছিলাম।

একটু থেমে আবার বলল,,,

— আর তোমার ড্রেস… আম্মুই বদলে দিয়েছেন। আমি তাঁকে ডেকে এনেছিলাম। বিশ্বাস না হলে জিজ্ঞেস করে নিও।

মৌমিতা বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।

— আপনি… আমার ওই অবস্থায় মাকে ডেকেছিলেন?
মা কি ভাববে!

— হ্যাঁ। আমি মাকে বলেছিলাম তুমি ভুল করে জুস ভেবে অন্য কিছু খেয়ে ফেলেছিলে। মা কিছুই মনে করেননি। বরং তোমারই যত্ন নিয়েছেন।

তারপর আদিত্যর মুখ গম্ভীর হয়ে উঠল।

— কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর আমার দরকার, মৌমিতা। তুমি ওই ড্রিঙ্ক খেলেই বা কীভাবে? তুমি তো ইচ্ছা করে এমন কিছু করবে না আমি জানি।

মৌমিতা দুহাতে মাথা চেপে ধরল।
প্রচণ্ড মাথাব্যথার মাঝেও আগের রাতের ঘটনাগুলো মনে করার চেষ্টা করতে লাগল।
ধীরে ধীরে কিছু দৃশ্য ভেসে উঠল চোখের সামনে।

— আমি… আমি চেয়ারে বসেছিলাম। তখন একজন ওয়েটার এসে বলল এটা ফ্রেশ ফ্রুট জুস। আমি সেটা খেয়েছিলাম। তারপর থেকেই মাথা ঘুরছিল।
একটু থেমে আবার বলল,,

— আমি আপনার কাছেই আসছিলাম। কিন্তু মাঝপথে একজন লোক জোর করে আমার হাত ধরে টেনে নিয়েছিল। আমি ছাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম…
কথা বলতে বলতে কপালে হাত চেপে ধরলো মৌমিত।

— তারপর… তারপর আর কিছুই মনে নেই…

সবকিছু শুনে আদিত্যর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
এবার সে নিশ্চিত গত রাতের ঘটনাটা কোনো দুর্ঘটনা ছিলো না। খুব পরিকল্পিতভাবেই মিঃ রায়হান মৌমিতাকে টার্গেট করেছিলৈ। তার চোখের দৃষ্টিতে অদ্ভুত এক কঠোরতা নেমে এলো। তার প্রেয়সীর দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার ফল তো কড়ায়গণ্ডায় বুঝিয়ে দিবে সে।

চলবে……

#ফিরেছি_তোর_আঙিনায়
পর্ব — ২২
মৌমো তিতলী 🦋

আশাকুঞ্জেও সকালটা শুরু হলো নৃত্যদিনের ন্যায় একেবারেই অনাড়ম্বর ভাবে।
ডাইনিং রুমে বসে সকালের নাস্তা করছিল সবাই।
আজ মৌমিতা সার্ভ করছিলো সকলের ব্রেকফাস্ট। সাদমান চৌধুরী এবং আশালতা বেগম পাশাপাশি চেয়ারে বসে। আদিত্যও পরিপাটি হয়ে নেমেছে অফিসের জন্য। গতকালকের অসুস্থতার কারনে আজ মৌমিতা কে সাথে নিলো না সে। সকলে মৌমিতা কে বাসায় রেস্ট করার কথা বললে সে অফিসে যেতে চাই। ফলে আদিত্যর কাছে ধমক খেয়েছে বেচারি। অগত্যা রাজি হয়েছে বাসায় থাকতে।
সবাই ডাইনিংয়ে ব্রেকফাস্ট করতে ব্যস্ত।
সামনেই ড্রইং রুমে টেলিভিশনে চলছিলো সকালের খবর।

হঠাৎ করেই নিউজের শিরোনাম কানে যেতেই আদিত্যর প্লেটে স্যান্ডউইচ তুলে দিতে বাড়ানো হাতটা থেমে গেল মৌমিতার। মুহুর্তেই সকলের চিন্তিত দৃষ্টি টিভির পর্দায় গিয়ে আটকে গেলো।

“বাংলাদেশের মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর সিঙ্গার আয়াত মাহমুদ কি প্রেমে পড়েছেন?”

স্ক্রিনজুড়ে ভেসে উঠছে হার্ট থ্রব খ্যাত গায়ক আয়াত মাহমুদের হাস্যোজ্জ্বল মুখ। তার পাশেই এক সাধারণ পোশাক পরা লাজুক একটি মেয়ে। ক্যাফের ক্যান্ডেললাইটে মুখোমুখি বসে থাকা, একে অপরের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, আর আয়াতের ভালোবাসার কথা জানানোর সেই মুহূর্তগুলো একের পর এক ছবি হয়ে ফুটে উঠছে টেলিভিশনের পর্দায়।

একজন সংবাদ উপস্থাপক উত্তেজিত কণ্ঠে বলছে,,,

—দীর্ঘদিন ধরে নিজের ব্যক্তিগত জীবন আড়াল করে রাখা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আয়াত মাহমুদকে অবশেষে দেখা গেল এক রহস্যময় তরুণীর সঙ্গে। বিলাসবহুল একটি ক্যাফেতে দু’জনের একান্ত সময় কাটানোর একাধিক ছবি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।”

অন্য একটি চ্যানেলে আরও চটকদার শিরোনাম ভেসে উঠলো…

—কার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন কোটি তরুণীর হৃদস্পন্দন আয়াত মাহমুদ?

আরেকজন রিপোর্টার বলছে….

— ছবিগুলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বিশেষভাবে সাজানো একটি ক্যাফেতে ওই তরুণীর সামনে নিজের মনের কথা প্রকাশ করছেন আয়াত মাহমুদ। তাহলে কি খুব শিগগিরই সুখবর দিতে চলেছেন এই জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী?”

কেউ বলছে….

—”কে এই রহস্যময়ী?”

কেউ লিখছে….

—”সাধারণ এক মেয়ের কাছেই কি নিজের হৃদয় সঁপে দিলেন দেশের জনপ্রিয় এই তারকা?”

মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো দেশজুড়ে যেন একটাই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ালো আয়াত মাহমুদ আর অচেনা সেই মেয়েটি।

মুহূর্তেই মৌমিতার মুখের রঙ বদলে গেলো। দু পা পিছিয়ে গেলো যেন শকে! অজান্তেই আদিত্যর কাঁধের কাছে শার্ট খামচে ধরে অস্ফুট স্বরে উচ্চারণ করলো সে।

—নোরা…!

আদিত্য সহ আশা কুঞ্জের সকলের দৃষ্টি তখন টেলিভিশনের পর্দায়।

মৌমিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। পর্দায় যে মেয়েটিকে বারবার দেখানো হচ্ছে, সে তার ছোটবেলার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু নোরা।

ক্যাফের ভেতরে আয়াতের সামনে বসে থাকা নোরার লাজুক মুখ, নিচু হয়ে থাকা চোখ, মৃদু হাসি সবকিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
মৌমিতার বুকটা ধক করে উঠলো। নোরা সবকিছুতে এমনিতেই দ্বিধায় ভোগে। ঝামেলাহীন জীবন যে বড় আকাঙ্ক্ষার মেয়েটার।
অথচ পুরো দেশের মানুষ তাকে নিয়ে আলোচনা করছে! তাকে অবশ্য আগে আয়াতের বিষয়ে টুকটাক বলেছে নোরা। কিন্তু এই ঘটনাটা অজানা ছিলো তার। হয়তো নোরা তাকে জানানোর সময় পায়নি।
চিন্তায় তার হাতের চামচটা প্লেটের ওপর পড়ে টুং করে শব্দ করে উঠলো।
মনের ভেতর একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো। নোরা এখন কেমন আছে কে জানে?
এসব খবর দেখে ও ভেঙে পড়েনি তো? সাংবাদিকরা ওর পিছু নেয়নি তো?
নোরার অস্থির মুখটা বারবার ভেসে উঠতেই মৌমিতার নিজের ভেতরেও অজানা এক অস্থিরতা জন্ম নিল।

আদিত্য বার বার কল করে যাচ্ছে আয়াতের ফোনে। কিন্তু প্রতিবারই নট রিচেবল আসছে। বুঝলো এসব রিউমরের কারনে হয়তো ফোন বন্ধ করেছে ছেলেটা। মৌমিতার মুখের দিকে তাকিয়ে তার মনের অস্থিরতাটুকু বুঝতে অসুবিধা হলো না আদিত্যর। এক হাতে মৌমিতার কাঁধ জড়িয়ে ধরে আশ্বাস দিলো।

মৌমিতা নোরার কাছে যাওয়ার জন্য বললো…

—দেখুন এই মুহূর্তে নোরার আমাকে প্রয়োজন। ওর জীবনে আমি ছাড়া কেউ নেই। আমার মতই অনাথ মেয়েটা। এই মুহূর্তে না জানি কি অবস্থায় আছে। প্রিয় বান্ধবীর কথা ভেবে কেঁদে দিলো মেয়েটা‌।

আশালতা বেগম মৌমিতার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,,

—কাঁদে না মা। কে বলেছে তোমরা অনাথ? নোরার জন্য আমরা আছি না?

সাদমান চৌধুরীও সবটা শুনে আদিত্য কে বললেন নোরা কে এই মুহূর্তে একা না রেখে বরং এই বাড়িতে নিয়ে এসো। মৌমিতার কাছে থাকলে কিছুটা সহজ হবে মেয়েটা। মৌমিতাও তাতে এক কথায় সম্মতি জানালো।
আদিত্যো তাকে বললো সে নোরা কে বাড়িতে নিয়ে আসবে।
ওদিকে আরেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো আদিত্য। কিন্তু ঘটনা আর পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তার কাজটা কিছুটা ডিলে করতে হবে। সবার আগে তার বউটা কে সামলাতে হবে‌। তার প্রেয়সীর মুখের হাসি সবার আগে গুরুত্বপূর্ণ তার কাছে।

অন্যদিকে……

সকালের আলো ফুটতেই যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে আয়াত মাহমুদের বাড়ির সামনের রাস্তা।
একটার পর একটা নিউজ চ্যানেলের গাড়ি এসে ভীড় করছে সেথায়।
ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, লাইভ সম্প্রচারের সরঞ্জাম নিয়ে সাংবাদিকদের ভিড়।
বাড়ির মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে সবাই একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে।

— “স্যার, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো কি সত্যি?”

— “ওই তরুণী কি আপনার প্রেমিকা?”

— “আপনারা কি বিয়ে করতে যাচ্ছেন?”

— “এতদিন সম্পর্ক গোপন রেখেছিলেন কেন?”

— “একবার শুধু ক্যামেরার সামনে এসে কিছু বলুন, স্যার!”

নিরাপত্তারক্ষীরা বারবার সবাইকে দূরে সরে যেতে বললেও কেউ সেখান থেকে নড়ছে না। আয়াত হাত উঁচিয়ে সবাইকে থামতে বললেও কোন লাভ হচ্ছে না।

বাড়ির ভেতরে নিজের ঘরের জানালার পর্দার আড়াল থেকে অসহিষ্ণু হয়ে সবকিছু দেখছিল আয়াতের মা বিপাশা মাহমুদ। তার মুখটা অস্বাভাবিক গম্ভীর। টিভিতে দেখানো মেয়েটাকে তিনি চিনতে পেরেছেন। কয়েকদিন আগেই আদিত্যর জন্মদিনের দিন আশা কুঞ্জে মেয়েটিকে তিনি দেখেছিলেন মৌমিতার সঙ্গে। ভারী মিষ্টি মেয়েটা। কিন্তু মেয়েটার তার ছেলের সাথে কোন সম্পর্ক আছে এমন কোন আভাস তো তিনি পাননি। তার ছেলেও তাকে কিছু জানায়নি। স্বামী গত হওয়ার পর থেকে ফেলে আয়াতকে বুকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন তিনি। এখন ছেলে বড় হয়েছে, তার জীবনে কোন নারী থাকতেই পারে। কিন্তু এমন কোন কিছু হয়ে থাকলে ছেলেটা কেন তাকে কিছু জানালো না এ নিয়েই মায়ের মনে যত অভিমান।

এদিকে আয়াত পড়েছে মহা যন্ত্রণায়। তার আর নোরার সম্পর্কের কথা পাবলিক করতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা নেই তার। কিন্তু তার চিন্তা অন্য জায়গায়। সেদিন ক্যাফেতে নোরা তাকে এখনই তাদের সম্পর্কের কথা প্রচার করতে নিষেধ করেছিল। নোরা চাইছিল লেখাপড়া শেষ করে ভালো একটা পজিশনে গিয়ে তবেই তাদের সম্পর্কের কথা রিভিল করতে।
যাতে কেউ কখনো তার দিকে আঙ্গুল তুলতে না পারে যে, সে আয়াতের জন্য যোগ্য মেয়ে নয়। অনাথ,গরীব মেয়ে হয়ে টাকার লোভে বড়লোক ছেলেকে ফুসলিয়ে হাত করেছে। এমন কোন অপবাদ, কলঙ্ক যেন তার মাথায় না এসে পড়ে। অথচ সেই সব কিছুই হচ্ছে এখন। আয়াত বুঝতে পারছে না এই ছবিগুলো কিভাবে মিডিয়ার হাতে পৌঁছালো। ক্যাফেটা তার পূর্ব পরিচিত। সেখানে যথেষ্ট সিকিউরিটি আছে। কেউ আড়াল থেকে তাদের ছবি তুললো, আর সেটা মিডিয়ায় প্রচার করে দিলো! এটা কিভাবে সম্ভব। গত রাত পর্যন্ত সবকিছু কত সুন্দর ছিল!

আয়াতের চোখে ভেসে উঠলো সেদিনের নোরার সেই লাজুক হাসি..সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যেই তছনছ হয়ে গেল।
কে করলো এমন কাজ?
কীভাবে ক্যাফের সেই একান্ত মুহূর্তের ছবিগুলো বাইরে এলো? এই ভাবনায় মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে তার। কোন কিছুই ভাবতে পারছে না আয়াত। তার সমস্ত চিন্তা জুড়ে এখন শুধুই একটি নাম।
“নোরা।”
মেয়েটা এমনিতেই প্রচণ্ড শান্ত স্বভাবের। অযথা মানুষের নজরে পড়তে সে কখনোই স্বস্তি পায় না।
আয়াতের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। একটা আশংকা থাকে বড্ড তাড়া করছে।
নোরার কাছেও কি সাংবাদিকরা পৌঁছে গেছে?
ওকে কি কেউ বিরক্ত করছে? ও কি খুব ভয় পেয়ে গেছে?
নিজের ফোনটা শক্ত করে মুঠোর ভেতর চেপে ধরলো সে। ফোনটা অন করে পারছে না নোরা কে কল করতে।
এই মুহূর্তে সবকিছু ছেড়ে ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে নোরার কাছে। শুধু নোরা কে নিজের চোখের সামনে নিয়ে আসতে…মেয়েটা ঠিক আছে তো?
কিন্তু বাড়ির বাইরে সাংবাদিকদের এমন ভিড় পেরিয়ে বের হওয়াটাও যেন এখন অসম্ভব।

অসহায় চোখে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলো আয়াত। অস্থির চিত্তে বিড়বিড় করে সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করলো….

“আল্লাহ… আমার ভালোবাসা,
আমার নোরাকে ভালো রেখো,ওকে হেফাজত করো।

চলবে…