#ভালোবাসি_বুঝে_নাও🍁🍁
#পর্ব_২৩
#সুমাইয়া_সুলতানা _সুমী(writer)
.
,,বিকালে,,,
মেঘলা আপু জলদি আসো দেখে যাও নিচে কি হচ্ছে,, বাহ কিয়া সিন হে (মেঘলা কে ডাকতে ডাকতে বলল মাহি)
মাহির ডাক শুনে মেঘলা তড়িঘড়ি করে মাহির কাছে এসে বলল।
কিরে কি হয়েছে?? ওভাবে ডাকলি কেনো(মেঘলা)
আরে, আমার দিকে না তাকিয়ে নিচে তাকাও তাহলেই বুঝতে পারবে।
মাহির কথা শুনে মেঘলাও নিচে তাকিয়ে ওর মুখটা পুরাই হা হয়ে গেলো।কেননা নিচে নেহাল মীরার কমর জরিয়ে ধরে আছে, আর মীরা নেহাল এর গলা জরিয়ে আছে। আর তারপাশে মনির একটা ব্যাগ হাতে নিয়ে হা করে নেহাল আর মীরার দিকে তাকিয়ে আছে।
আসোলে হয়েছে কি,,, মনির মাহির সব জামা একটা ব্যাগে করে নিয়ে মেহরাব দের বাড়ি আসছিলো,
(গল্পের লেখিকা ,,সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী)
তারপর রাস্তায় আইসক্রিম দেখে আবার বাড়ি ফিরে গিয়ে টাকা এনে একটা আইসক্রিম কিনে খেতে খেতে মেহরাবদের বাড়িতে আসলো,, তারপর ডয়িং রুমে ঢুকে সিঁড়ি কাছে আসতে কিছু একটার সাথে ধাক্কা লেগে অল্প একটু আইসক্রিম নিচে পড়ে গেলো,, এমনিতেই যে গরম আর বাইরেও অনেক রোদ পরেছে তাই অনেক তারাতাড়িই আইসক্রিম টা গলে যাচ্ছে।
তো মনির ব্যাগটা নিচে রেখে পরে যাওয়া আইসক্রিম টা যেই উঠাতে যাবে তখনি নেহাল বাইক এর চাবিটা হাতে ঘুরাতে ঘুরাতে ভিতরে আসতে লাগলো।
হে পিচ্চি তুমি মাহির ভাই নাহ?? বিয়েতে দেখেছি তোমায়(কথাগুলো বলে নেহাল মনির এর কাছে এসে দাঁড়ালো আর মনিরও পিছে ঘুরে নেহাল এর দিকে তাকালো,, আর তখনি সিঁড়ি বেয়ে মীরা নিচে নামছিলো আর ভুলবসত নিচে পড়া আইসক্রিম টার উপর পা পরতেই স্লিপ কেটে গিয়ে সোজা নেহাল এর গায়ের উপর পড়ল,, আর নেহাল ও মীরাকে নিচে পরা থেকে আটকাতে মীরা কমর চেপে ধরল, আর মীরা ভয় পেয়ে নেহাল গলা জরিয়ে ধরলো,, আর বেচারা মনির হা করে সেই দৃশ্য দেখতে গিয়ে তার হাতের আইসক্রিম টার কথা বেমালুম ভুলে গেলো,, আর আইসক্রিম টা গলে পুরোটা নিচে পড়ে গেছে এখন মনির শুধু কাঠিটাই ধরে আছে)
আমার এমন কেনো লাগছে?? বুকের ভিতরটা কেমন যেনো ঢিপঢিপ করছে,, সারা শরীলে কেমন শীতল বাতাস বইছে,, এমন কেনো হচ্ছে?? যেনো মনে হচ্ছে এ চোখে চোখ রেখে বাকিটা জীবন চেয়ে থাকি(মীরা নেহাল এর দিকে তাকিয়ে মনে মনে কথা গুলো বলল)
আরে কি করছেন ছাড়ুন আমায়,, অসভ্য মেয়ে মানুষ ছেলে দেখলেই গায়ে পড়তে মন চাই??(মীরাকে ছেড়ে দিয়ে বলল নেহাল)
কিন্তু প্রতি উত্তরে মীরা কিছুই বললো না শুধু ড্যাবড্যাব করে নেহাল এর দিকে তাকিয়ে থাকলো,, কেনো যেনো কিছু বলতে মন চাইছে না, শুধু মন চাইছে এভাবেই ওনার দিকে তাকিয়ে থাকি।
এরি মাঝে মেঘলা আর মাহি নিচে নেমে আসলো।
এখানে কি হচ্ছে?? (মেঘলা)
আপনি মীরা আপুর সাথে কি করছিলেন??(মন খারাপ এর অভিনয় করে বলল মাহি)
আরে তেমন কিছুই না,, ওনি পড়ে যাচ্ছিলো আর আমি শুধু ওনাকে ধরেছি এই আরকি,, এর বেশি কিছুই না তুমি আবার ভুল ভেবো না (নেহাল)
হুম?? আমি তো দেখেছি আপনি ওনার কমর জরিয়ে ছিলেন। (মাহি)
আহ মাহি তুই কিন্তু বেশি বেশি করছিস,, ওভার একটিং করা অফ কর হিতে বিপরীপ হয়ে যাবে কিন্তু (ফিসফিস করে মাহির কানে বলল মেঘলা)
আহ তুমি দাখোই না কি হয় মেঘলা আপু (মাহি)
না না মাহি তেমন কিছুই না তুমি ভুল ভাবছো আমি তো,,,, নেহাল কে আর কিছু বলতে না দিয়ে মেঘলা বলল।
আরে এখন এসব ছাড়ো তো,, নেহাল তুমি ভিতরে যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো,,
আচ্ছা ঠিক আছে ভাবি (এই বলে নেহাল মাহির দিকে এক পলক তাকিয়ে চলে গেলো)
আর ওদিকে মীরা তো এখনো নেহাল এর দিকেই তাকিয়ে আছে,,, তাই দেখে মাহি মীরার সামনে তুরি বাজিয়ে বলল।
চলে গেছে (মাহি)
হ্যাঁ???(আনমনে বলল মীরা)
নেহাল ভাইয়া চলে গেছে।
ওহ আচ্ছা। এই বলে মীরা উপরে চলে গেলো।
,,,,রাতে,,,
মেহরাব অফিস থেকে এসে সোজা সোহান এর রুমে চলে গেলো গিয়ে দেখল যে মাহি আর সোহান পরছে,,,, কি হলো বেপ্যার টা মাহি পরছে?? এটাও সম্ভব?? (মনে মনে এটা বলে মেহরাব চলে গেলো)
দেখলি তো কীভাবে তোর ভাইকে বোকা বানালাম হিহিহি কিছুই বুঝে নাই (মাহি)
তুই নিজেকে যতটা চালাক ভাবিস আসোলে তুই অতটাই বোকা,,, ভাইয়া যদি জানতে পারে যে তুই না পরে এতোক্ষণ ফোনে গেম খেলছিলি আর ভাইয়ার আসা দেখেই বই নিয়ে পড়তে বসলি,, তাহলে তোর খবর আছে (সোহান)
আ্যা বললেই হলো খবর আছে,এতো জ্ঞান দেওয়া বন্ধ করতো,, কি খবর করবে হা ক,,কি,,ক,,,,,,(আর বলতে পারলো না মাহি কেননা দরজার সামনে মেহরাব ভ্রু কুচকে মাহির দিকে তাকিয়ে আছে)
নে এবার সামলা আগেই বলেছিলা (ফিসফিস করে বলল সোহান)
মেহরাব এর আগেই সন্দেহ হয়েছিলো কেননা মাহি চুপচাপ পরড়ে বসার মেয়েই নয়,, তাই তখন মেহরাব রুম থেকে বার হয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে ছিলো।আর মাহির বলা সব কথা শুনেছে।
বই খাতা সব নিয়ে আমার রুমে আয় (এই বলে মেহরাব চলে গেলো)
কপাল রে কপাল সবি কপাল,,,, এটা বলতে বলতে মাহি বই খাতা সব গুছিয়ে মেহরাব এর রুমে চলে গেলো,আর তা দেখে সোহান তো হেসে কুটিকুটি,, মাহি সোহানের মাথায় একটা গাট্টা মেরে বেরিয়ে গেলো,,,,, গিয়ে দেখলো জুতোটা ফ্লোরে রেখে বিছানার উপর টাই টা ছরিয়ে রেখে ফাইল গুলো সারা বিছানায় ছড়িয়ে সিটিয়ে রেখে মহাসয় ওয়াশরুমে গিয়ে বসে আছে।
এত বর একটা ছেলে হয়ে গেছে তবুও কোনো কিছু ঠিক মতো করতে পারে না,, পুরো রুমটাই একদম জঙ্গল বানিয়ে দিয়েছে কয়েক মিনিটে (সব কিছু গোছাতে গোছাতে বলল মাহি, ঠিক তখনি ওয়াশরুম থেকে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে বার হলো মেহরাব,,, পরনে একটা টাওজার আর গায়ে একটা কালো টির্শাট মুখে ফোঁটা ফোঁটা পানি লেগে আছে,, বড় বড় চুল থেকে টপটপ করে পানি পরছে আর ওনি হাত দিয়ে তা ঝাড়ছে,, সুঠাম দেহে টির্শাটটা একদম টাইট হয়ে লেগে আছে,,, শরীলের গঠনটা শার্টের উপর থেকেই বোঝা যাচ্ছে ,, আর আমি ড্যাব ড্যাব করে চোখ দিয়ে ওনাকে গিলে খাচ্ছি, কি সুন্দর, আচ্ছা ছেলে মানুষ ও বুঝি এতো সুন্দর হয়??
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে হাত দিয়ে চুল গুলো ঝাড়তে ঝাড়তে সামনে তাকিয়ে দেখি মাহি আমার দিকে ড্যাব করে তাকিয়ে আছে, তাই দেখে শয়তানি করে বললাম।
নিজেই যদি নিজের জিনিসে এভাবে নজর দিস তাহলে তো নজর লেগে যাবে,, তখন আবার তোকেই সেই নজর কাটাতে হবে কিন্তু।
ওনার কথায় হুশ ফিরলো আর এতোক্ষণ নিলর্জ্জর মতো ওনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম এটা ভাবতেই নিজের কাছে নিজেকে কেমন বেহায়া মনে হলো,, ছি ওনি কি ভাবলো নিশ্চয়ই আমাকে হ্যাংলা ভেবেছে। ভাবুক তাতে আমার কি ওনি তো আমারি আমি যতক্ষন ইচ্ছে ওনার দিকে তাকিয়ে থাকবো,, নজর দিয়ে একদম ডুবিয়ে ফেলবো তাতে ওনার কি হম মানুষ টা তো আমারি (মনে মনে কথাগুলো ভেবে লজ্জায় কুকড়ে উঠলাম)
মাহির এমন লজ্জা পাওয়া দেখে মেহরাব আস্তে আস্তে মাহির কাছে এসে,, কপালে পড়া চুলগুলো কানের পিছে গুজে দিতে দিতে বলল,,
আমার সামনে এভাবে লজ্জা পেয়ো না তাহলে কিন্তু আমি তোমায় টুপ করে খেয়ে ফেলবো,, কেননা লজ্জা পেলে তোমার গালদুটো পুরাই লাল টমেটো লাগে,৷ আর ইউ নো না?? আই লাভ রেড টমেটো।
মেহরাব কথা শুনে মাহি আরো বেশি লজ্জা পেলো,, আর মাথাটা নিচু করে রাখলো,, তা দেখে মেহরাব মুচকি হাসি দিয়ে মাহির হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলল।
শোনো না তোমায় কিছু বলার আছে (অনেকটা রোমান্টিক ভাবে)
মাহি মাথাটা তুলে মেহরাব এর চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। যেনো চোখ দিয়েই জিগাস করছে বলুন না বলুন যা খুশি বলুন আমি সব শুনতে রাজি,,,,, তবে মুখে কিছু বললো না।
বলছি কি যে বলছি কি (মেহরাব)
মাহি এবার নিজের মুখ খুলে ফিসফিস করে বলল।বলুন না কি বলবেন।
বলছি কি যে এখন পড়তে বসেন কাল বাদে পরশো থেকে পরিক্ষা,, পড়াশোনা বাদ দিয়ে রোমাঞ্চ করতে এসেছে,, এই এতোটুকু বাচ্চা মেয়ে আবার রোমাঞ্চ এর কি বুঝিস রে যা পড়তে বস। (মেহরাব)
মেহরাব এর কথা শুনে মর্হুতেই মাহির লজ্জা রাঙা মুখটা রাগে পরিনত হলো,, আর ভ্রু কুচকে মেহরাব এর সামনে থেকে সরে টেবিলে বসতে বসতে বিরবির করে বলতে লাগল।
খরুচ একটা,, শালা আনরোমান্টিক এর বস্তা,, এভাবে পড়া পড়া করলে জীবনে বাবা ডাক শুনতে হবে না (বিরবির করে বলল)
মাহির এমন রাগ করা দেখে মেহরাব হু হা করে হেসে উঠল। কিন্তু যখনি মাহি রেগে ওর দিকে তাকালো তখনি আবার হাসি অফ করে ঠোঁটের উপর আঙুল রেখে চুপ করে বসে থাকলো,, তবে মিটমিট করে হাসতেই লাগল।
চলবে,,,,,?
#ভালোবাসি_বুঝে_নাও-2🍁🍁
#সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী( writer)
#২৪_পর্ব
.
মাহি খুব সাবধানে পা টিপে টিপে মেহরাব এর রুমের সামনে গেলো,, অনেক্ক্ষণ আড্ডা দিয়ে প্রায় রাত ১২টার দিকে ঘুমাতে গিয়েছে মেহরাব আর মাহি এটারই অপেক্ষায় ছিলো,, মেহরাব এর রুমে আজকে ওনার সব বন্ধু প্লাস ওনি ঘুমিয়েছে,।
মাহি দরজায় আস্তে করে ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেলো এতে খুশি হওয়ার কথা হলেও মাহি খুশি হলো না,, মাহি মনে মনে চাইছিলো যে মেহরাব এর রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকবে আর মাহির কাজটা করা লাগবে না কিন্তু সেটা আর হলো কই।
মাহি ভিতরে গিয়ে হা হয়ে গেলো,, কেননা ভিতরে পুরাই বাজার বসে গেছে, রুমের মধ্যে ডিম লাইট জ্বলছে তাতে হালকা আলোয় মাহি দেখলো যে খাটের ওপর দুইজন সোফায় একজন আর মেঝেতে দুইজন সবাই চাদর মুড়ি দিয়ে এলো মেলো হয়ে ঘুমাচ্ছে।
ওহ আল্লাহ এদের মধ্যে মেহরাব ভাই কোনটা কে জানে এখন আমি কি করবো,, (মনে মনে বলল মাহি)
আচ্ছা মেহরাব ভাই তো নিজের বেড কারো সাথে শেয়ার করে না,, তো তাহলে মেহরাব ভাই কোনটা হতে পারে, বেডে তো দুইজন আর মেঝেতেও দুইজন কেবল সোফাতেই একজন হুম এটাই মেহরাব ভাই হবে,,
এটা ভেবে মাহি সোফার দিকে যেতে গেলে মেঝেতে ঘুমিয়ে থাকা একজনের পায়ের উপর পারা দিয়ে দিলো, আর মেঝেতে থাকা লোকটা চেঁচিয়ে উঠল।
ওহ শিট আমি তো খেয়ালই করিনি,,, মাহি আস্তে করে দরজার পাশে গিয়ে লুকিয়ে পড়ল,, ভ্যাগিস কেউ উঠে পরিনি আল্লাহ বাঁচাইছে,, এই বলে মাহি সোফায় থাকা লোকটার মুখে অন্ধকারে সাথে করে যা যা মেকাপ আনছিলো সব কিছু একেবারে ঢেলে দিয়ে মাহি চলে গেলো ভালো করে দেখলো ও না সোফায় আদেও মেহরাব নাকি অন্য কেউ।
এদিকে মেহরাব এর ঘুম হচ্ছে না, সাথে কেউ থাকলে ঘুম হয় না তার উপর আবার একটা গায়ে পা তুলে দেয় তো আরেকজন জাপটে ধরে এভাবে কি ঘুমানো যায় নাকি,, এই জন্য মেহরাব এর ঘুম আসছিলো না তাই ও বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো, তখনি ভিতর থেকে কারো চেঁচানোর আওয়াজ শুনে ভিতরে এসে দেখলো তেমন কিছুই হয়নি মেঝেতে রনি আর রাকিব ছিলো তো রনি রাকিব এর চুল টেনে ধরেছে ঘুমের ঘরে তাই চেঁচিয়েছে মেহরাব বেলকনিতে থাকা চেয়ারে বসে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো।
,,,সকালে,,,,
কালকে গায়ে হলুদ এই জন্য সকাল থেকে সবাই কাজে ব্যাস্ত বাইরে বাগানে গায়ে হলুদের স্টেজ সাজানো হচ্ছে,, আর সবাই সবার কাজে ব্যাস্ত, মাহি সোফায় বসে ফল কাটছিলো তখনি মেঘলা এসে বলল।
আরে ভালো করে দেখে কাট হাত কেটে যাবে তো (মেঘলা)
ওহ হা আচ্ছা (মাহি)
এই মাহি তোকে রাতে বিছানায় দেখলাম না কোথায় গিছিলি,,একটু ভেবে এই তুই কি সত্যি ইপ্সা ভাবির কথা মতো ভাইয়ার রুমে গিছিলি??(চিন্তিত হয়ে বলল মেঘলা)
মাহি ডান হাতে ছুড়ি আর বা হাতে ফল নিয়ে মুখটা করুন করে মেঘলার দিকে তাকিয়ে হ্যাঁ বলল।
কিহ?? এবার তুই শেষ এতো মানুষের সামনে ভাইয়া যদি ওমন সং সেজে আসে তাহলে ভাবতে পারছিস কি হবে(মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে বলল মেঘলা)
ওনি কি খুব রাগ করবে??(কাঁদো কাঁদো ফেস করে বলল মাহি)
খু,,,,ব(একটু টেনে বলল মেঘলা)
এই তোমরা কি কথা বলছো?? এই জানো আমি না তোমাদের শুভ ভাইকে বলেছি যে ওনি বাবা হবে,, কি খুশি হয়েছে কি বলবো,, আরে মাহি তোমার মুখটা এমন হয়ে আছে কেনো কি হয়েছে??(ইপ্সা)
কি হয়েছে বুঝতে পারছো না আপু মাহিতো তোমার দেওয়া ডেয়ার টা কমপ্লিট করে ফেলছে (মেঘলা)
সত্যি??(ইপ্সা)
হুম।
আরে আমি তো এমনি বলছিলাম ভাবছিলাম তুমি করবে না,, কিন্তু তুমি তো দেখছি সত্যি করে ফেলছো, শুভর থেকে শুনেছি মেহরাব ভাই নাকি অনেক রাগি এসব মজা একেবারেই পছন্দ করে না,, তাহলে এখন কি হবে,,(চিন্তিত হয়ে মাহির পাশে বসে বলল ইপ্সা)
কোথায় সাহস দিবে তা না করে ভয় দেখাচ্ছো কেনো আপু,, আমি তো দেখছি ওনাকে দেখার আগেই শুধু তোমাদের কথা শুনে স্টক করে ফেলবো (মাহি)
আচ্ছা সবাই চুপ যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে এখন এতো কথা না বলে সবাই চুপ করে বসে থাকো আর ভাইয়া আসার অপেক্ষা করো ওকে(মেঘলা)
হুম আমি বসে বসে অপেক্ষা করি কখন ওনি আসবে আর আমার গালটা মেরে খাল করে দেবে (মনে মনে বলল মাহি)
এরপর ওরা সবাই বসে অপেক্ষা করতে লাগল কখন মেহরাব আসবে,, আরো অনেক্ক্ষণ পর মেহরাব উপর থেকে নিচে নামলো,, মুখটা গম্ভীর করে,, রাতে ভালো করে ঘুম হয়নি তাই উঠতে একটু দেরি হয়ে গেলো,,, সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে মা কে কফি দিতে বলে একটা সিঙ্গেল সোফায় বসলো,, তারপর পাশে তাকিয়ে দেখলো, মাহি মেঘলা আর ইপ্সা হা করে চোখ গুলো বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে,, আজব এভাবে তাকিয়ে থাকার কি আছে মেহরাব নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো না সব তো ঠিকি আছে তাহলে এভাবে তাকানোর মানে কি। তারপর রুপালি কফি দিয়ে গেলে মেহরাব ভ্রু কুঁচকে মাহিদের দিকে তাকালে ওরা চোখ অন্যদিকে নিয়ে নেয়,, মেহরাব ও কফিটা নিয়ে বাইরে চলে গেলো, স্টেজ কতটা সাজানো হয়েছে সেটা দেখতে।
এটা কি হলো?? কিছুই তো বুঝলাম না, আকাশ টা পরিষ্কার আবার আবহাওয়া ও এতো ভালো এটা কীভাবে সম্ভব (মেহরাব কে উদ্দেশ্য করে বলল মাহি)
আমার কি মনে হয় বলতো, এখন অনেক মানুষ তো তাই তোকে কিছু বললো না, পরে হয়ত তোকে গাছের সাথে ঝুলায়ে রাম ধুলায় দিবে শিওর (মেঘলা)
কি বলো শিওর??(নখ কামড়ে বলল মাহি)
একদম 100% শিওর (মেহরাব এর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলল মেঘলা)
এই তোমরা ওদিকে দাখো (অবাক হয়ে সিঁড়ির দিকে ইশারা করে বলল ইপ্সা)
ইপ্সার কথা শুনে মাহি মেঘলা আর ডয়িং রুমে থাকা সবাই সিঁড়ি দিয়ে তাকিয়ে হু হা করে হাসা শুরু করলো, কেননা অনিক (মেহরাব এর বন্ধু) এর সারা মুখে মেকাপ দিয়ে ভর্তি পুরাই জোকার জোকার লাগছে,, অনিক কিছু বুঝতে না পেরে হ্যাবলার মতো ওখানেই দাড়িয়ে আছে।
এই কি হয়েছে রে সবাই এমন হাসছে কেনো(অনিক)
আরে গাধা রুমে গিয়ে নিজের মুখটা ভালো করে দ্যাখ তোকে পুরাই জোকার লাগছে (রাকিব)
কিহ?? এ বাবা আগে বলবি তো,, অনিক যলদি করে উপরে চলে গেলো।
একদম কানের গোড় দিয়ে বেঁচে গেছি ভ্যাগিস ওটা মেহরাব ভাই ছিলো না,, উফ আল্লাহ বাঁচাইছে (মাহি)
বিকেলে,,,,,,
মাবিয়া সব সময় মাহির উপর নজর দাড়ি করছে,, মাহির ভুল খুঁজার জন্য,,কেননা একটু কোনো ভুল পেলেই এই বাড়ি ভরা মেহমান দের সামনে অপমান করবে, এতে একটু হলেও রাগ কমবে,,, কত আশা ছিলো মেহরাব এর সাথে মীরার বিয়ে দেবো কিন্তু এই আশায় এক বালতি পানি ঢেলে মাহি এই বাড়ির বউ হলো, এটা তো কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় নাহ।
মাবিয়া সুযোগ খুঁজছিলো কিভাবে মাহিকে সবার সামনে অপদস্ত করা যায়, তখনি দেখলো মাহি মেহরাব এর একটা বন্ধু কে নিয়ে রুমে ঢুকলো তারপর ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলো ব্যাস তাতেই হয়ে গেলো।
মেহরাব মেহরাব কই তুই জলদি আয় দেখে যা কেমন মেয়ে বিয়ে করেছিস তুই যে সে তোর চোখের অগচরে পর পুরুষ নিয়ে রুমে ঢুকে (চিৎকার করে বলল মাবিয়া)
মাবিয়ার চিৎকারে সবাই ডয়িং রুমে জরো হয়ে গেলো আর উৎসুক দৃষ্টিতে মাবিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলো।
কি হয়েছে খালা মনি এভাবে চিৎকার করছো কেনো(মেহরাব)
চিৎকার করবো না তো কি করবো,, তুই জানিস ও না তোর চোখের আড়ালে কি হয়, কেমন মেয়ে বিয়ে করলি তার বেপ্যারে একটু খোঁজ ও নিলি না।
কেনো কি হয়েছে, মাহি কি করেছে??
কি করেনি তাই বল, দ্যাখ এখানে এতো মানুষ কিন্তু তোর বউ এখানে নেই আরে থাকবে কি করে সেতো এখন অন্য কাজে ব্যাস্ত তোর বন্ধুর সাথে।
মুখ সামলে কথা বলো খালা মাহি তো মেঘলার সাথে।
না ভাইয়া মাহি তো আমার কাছে নেই ও বললো ওর কি কাজ আছে তাই উপরে চলে গেলো (মেঘলা)
আগেই বলেছিলাম আমি,, আয় আমার সাথে আজকে হাতে নাতে তোর বউয়ের কুকৃর্তি তোকে দেখাবো৷
এই বলে মাবিয়া মেহরাব এর হাত ধরে টেনে উপরে চলে গেলো,, সবার দৃষ্টি এখন উপরের রুমে,,
প্লিজ আল্লাহ খালার কথা যেনো মিথ্যা হয়, আমি জানি আমার মাহি এমটা কখনোই করবে না,, আমার বিশ্বাস আছে তবুও কেনো জানি ওকে হারানোর ভয় মনে জেঁকে বসেছে,, প্লিজ দরজার উপারে যেনো মাহি না থাকে (মনে মনে বলল মেহরাব)
মাবিয়া মেহরাব কে নিয়ে দরজার সামনে গেলো তারপর দরজায় টুকা দিলে প্রায় একটু সময় পর অনিক এসে দরজা খুলে দিলো আর ওর পিছনে চুল বাঁধতে বাঁধতে মাহি আসলো।
মাহি!(অবাক হয়ে বলল মেহরাব)
চলবে,,,,,,??
#ভালোবাসি_বুঝে_নাও-2🍁🍁
#সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী( writer)
#২৫_পর্ব
.
কে এসেছে অনিক ভাইয়া?? কাওকে রুমে ঢুকতে দিবেন না বলে দিলাম,এই চুল গুলোও না সব সময় খালি খুলে যায় আম্মু কে বললাম বেধে দিতে কিন্তু সেতো কাজেই ব্যাস্ত (মাহি বলতে বলতে দরজার কাছে আসলো)
আরে দাখো এসব(অনিক)
কি বেহায়া মেয়ে,,এটা বেহায়াপনা করার জায়গা নাহ, দেখলি তো মেহরাব আমি আগেই জানতাম এই মেয়ের চরিত্র ভালো না (মাবিয়া)
সবাই নিচে কানাঘুষা করছে, মেহরাব তো পলকহীন ভাবে মাহির দিকে তাকিয়ে আছে যেনো ও বিশ্বাসই করতে পারছে না,, আর এদিকে মাহি কিছুই বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে এসব তখনি রুমের ভিতর থেকে মীরা বলল।
কি হয়েছে তোরা এতোক্ষণ ধরে বাইরে কি করছিস(রুমের ভিতর থেকে বলতে বলতে দরজার কাছে আসলো মীরা)
তুই?? (মেঘলা)
হুম আমি কেনো কি হয়েছে?? (মীরা)
এখানে তুইও আছিস?? খালা মনি আরো বলছিলো যে মাহি রুমের ভিতর একা অনিক ভাইয়ের সাথে (মেঘলা আর বলতে পারলো না মাথা নিচু করে নিলো)
মেঘলার কথাশুনে মাহি টলমল চোখে মেহরাব এর দিকে তাকালো,, এতোগুলো মানুষ ওকে ভুল বুঝেছে এতে ওর কোনো কিছু যায় আসে না কিন্তু ওর মেহরাব ওকে অবিশ্বাস করেছে এটাই ওকে অনেক বেশি কষ্ট দিচ্ছে,, এতোদিন যে চোখে অপার ভালোবাসার সমুদ্র দেখেছে আজকে একটু সময়ের জন্য হলেও সে চোখে মাহির জন্য একরাশ অবিশ্বাস ছিলো।
মাহি আমি (মেহরাব কে বলতে না দিয়ে নিজের মুখ চেপে কান্না আটকে মাহি ওখান থেকে দৌড়ে চলে গেলো)
মাহি যাওয়ার পর মেহরাব রেগে রুমের ভিতর গিয়ে দেখলো ভিতরে মেঘলার কিছু বান্ধবী, কাজিন আর মেহরাব এর দুইজন বন্ধু ও আছে আর সবাই মিলে কাগজ নিয়ে কিছু একটা বানাচ্ছে আর কেউ কেউ বেলুন ফুলাচ্ছে।
কি হচ্ছে এখানে (রেগে বলল মেহরাব)
আরে মেহরাব তুই এখানে মাহি তোকে আসতে দিলো??(রাকিব)
মানে?? (না বুঝে বলল মেহরাব)
আরে আমাদের পিচ্চি কর্তা মানে মাহি প্লান করেছে যে বর আসার সময় বরের গায়ে রাস্তা থেকে একদম বাড়ি অবধি ফুল ছিটানো হবে,, আর বরের জুতা চুরি করা হবে আর তোরা তো শুধু সুন্দর করে গায়ে হলুদের স্টেজ সাজাচ্ছিস বেলুন লাগাচ্ছিস না তাই স্টেজে মাহি বেলুন লাগাবে আর এই রঙিন কাগজ গুলো দিয়ে নাকি বাসর সাজাবে বউ ভাতের অনুষ্ঠানের দিন তাই আমাদের কাজে লাগিয়ে দিছে আর সবাইকে বলছে এই গুলা যাতে কাউকে না বলে,, ও সবাইকে সারপ্রাইজ দিবে,, জানিসই তো পিচ্চি তুই যেদিন থেকে ওর সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিস ও তো আমাদের সব সময় ভাইয়া ভাইয়া বলে পাগল করে দেয় পাগলি একটা (রাকিব)
হ্যাঁ আর কাল রাতে ভুল করে আমার মুখে মেকাপ দিয়ে ভূত বানিয়েছিলো বলে আমাকে ডেকে নিয়ে এসে সরি ও বলেছে, আর ওদের টিমে আমাকে নিয়েছে (অনিক)
ওদের কথাশুনে মেহরাব রেগে চোখ লাল করে মাবিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল।
আই সয়ার খালা মনি এখানে যদি তোমার জায়গায় অন্য কেউ হতো তাহলে আম শিওর সে এতোক্ষণে হসপিটালে থাকতো,, আমার মাহির সম্পর্কে এভাবে কথা বলার সাহস কারো নেই,, আর তুমি না একটা মেয়ে তাহলে একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের সব থেকে দুর্বল জায়গা তার চরিত্র নিয়ে এভাবে বাজে কথা কীভাবে বলতে পারো তুমি?? আগে নিজের দিকে দাখো তারপর অপরকে বলতে আসবে,, আমি যতদূর জানি তুমি বিয়ের আগে অনেক কিছু করে বেড়াতে তোমার ভাগ্য ভালো যে আমার খালুর মতো মানুষ তোমাকে বিয়ে করেছে নয়ত এতোদিন তোমার তো থাক সেসব কথা নাই বা বললাম।
মেহরাব তুই কিন্তু বেশি বেশি বলছিস ভুলে যাস না আমি তোর খালা হই (রেগে বলল মাবিয়া)
সেটাই তো সম্যসা তুমি আমার খালা নয়ত, একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো শুধু তুমি নয় এখনে উপস্থিত সবাইকে বলছি, মাহি আমার বউ, এটা ওর বাড়ি ও এখানে যা খুশি করতে পারে কারো বলার কোনো রাইট নেই, আর আমি জানি আমার মাহি কখনো কোনো খারাপ কিছু করবে না,, আর খালা মনি বিয়েতে এসেছো মজা করো খাওয়া দাওয়া করো দেন বাড়ি চলে যাও আর যদি তা করতে না পারো তাহলে ওই যে সামনে আমাদের সদর দরজা খুলাই আছে চলে যেতে পারো। (মাবিয়া কিছু বললো না শুধু মাথা নিচু করে শুনলো, আর বলবেই বা কি বলার মতো মুখ আছে নাকি)
কথা গুলো বলে মেহরাব মাহির মায়ের কাছে গেলো।
আমায় ক্ষমা করে দিও ফুপি আমি আমার মাহিকে আগলে রাখতে পারলাম না তুমি তোমার মেয়েকে ভুল মানুষের হাতে তুলে দিয়েছো(মাথা নিচু করে বলল মেহরাব)
কে বলেছে?? আমি একদম ঠিক মানুষের হাতেই আমার মেয়েকে তুলে দিয়েছি,, আমি জানি আমার মেয়ে কোথায় কেমন থাকবে,, তা তোর বউ কিন্তু এখানে নেই, সে কিন্তু অনেক অভিমান করেছে যা তার অভিমান ভাঙ্গিয়ে নিয়ে আয় নইলে কেঁদে একদম বন্যা বানিয়ে দেবে আমি কিন্তু আবার সাঁতার জানি না বাবা (মাহির মা মেহরাব এর মাথায় হাত রেখে বলল)
ফুপি তুমিও না,, আর তোমার মেয়ে টাও হয়েছে কিছু নাই হতে কেঁদে ভাসিয়ে দেয় (মেহরাব)
কি করবি বল তোরই তো বউ,, যা যা নিয়ে আয় সন্ধে হতে চলল না জানি আমার মেয়েটার এতোক্ষণে কি হাল হয়েছে।
হুম যাবো তো একেবারে বেঁধে নিয়ে আসব, যতই হোক আমার বউ বলে কথা।
এই বলে মেহরাব চলে গেলো,, ও জানে তার পিচ্চি বউ এখন কোথায় আছে,, সত্যি নিজের কাছেই নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে আমি তো জানি আমার মাহি কেমন তারপরেও আমি খালার কথায় ওকে ভুল বুঝলাম কি করে,, নাহ এর জন্য আমার শাস্তি পাওয়া উচিত আর শাস্তিটা আমার বালিকা বধূই দিবে আমাকে।
মেহরাব সোজা মাহিদের বাড়ি চলে গেলো তারপর সিঁড়ি বেয়ে উপরে ছাঁদে চলে গেলো গিয়ে দেখলো মাহি ছাঁদের এককোনায় গুটিসুটি মেরে বসে কান্না করছে,, গোধূলির বিকেলের লাল সূর্যের শেষ আলো টুকু ওর মুখে পরেছে, কান্না করতে করতে মুখটা লাল হয়ে গেছে তার উপর সূর্যে আলো পরে মুখটা একদম রক্তাক্ত লাল গোলাপের মতো লাগছে,, নাহ এখন ওর কাছে ক্ষমা চাইলে ও আরো উত্তেজিত হয়ে যাবে আরো বেশি কান্না করবে হুম।
মেহরাব আস্তে করে গিয়ে মাহির পাশে পা মিলে দিয়ে বসল,,, মাহি কারো আসার আভাস পেয়ে মাথাটা তুলে একবার দেখে নিয়ে আবার নামিয়ে নিলো।
কেউ কি আমার উপর রেগে আছে?? (মাহিকে উদ্দেশ্য করে বলল মেহরাব)
কিন্তু মাহি কোনো উত্তর দিলো না একিভাবে বসে রইল।
হুম বুঝলাম এটা রাগ নয় কেউ একজন আমার উপর খুব বেশি অভিমান করে আছে (মেহরাব)
কেউ যেনো আমার সাথে কথা না বলে আমি তো খারাপ, আর খারাপ মানুষের সাথে কথা না বলায় ভালো (কাঁদো কাঁদো সুরে বলল মাহি)
হুম এটাও ঠিক খারাপ মানুষের সাথে কথা না বলায় ভালো, এই জন্যই তো আর খারাপ মানুষের সাথে কথা বলবো না। মেহরাব মাবিয়াকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলল।কিন্তু মাহি ভাবলো ওকে বলছে তাই মাথা নিচু করেই আরো বেশি কান্না করে দিলো।
মেহরাব মাহির কান্নার কারণ টা বুঝে কিঞ্চিৎ হেসে মাহির সামনে হাঁটু গেরে বসে ওকে শক্ত করে বুকে জরিয়ে নিলো,,, আর মাহি হাত পা ছুঁড়া ছুড়ি করছে আর বলছে।
ছাড়ুন আমায় যখন খারাপ মানুষের সাথে কথা বলবেন না তখন তাকে জরিয়ে ধরেছেন কেনো ছাড়ুন(কান্না করতে করতে বলল)
ওমমম আমি তো আমার পিচ্চি বউ কে জরিয়ে ধরেছি তাতে তোর কি,, তুই বারণ করলেই আমি শুনবো বুঝি,, শুনতে আমার বয়েই গেছে (মাহিকে আরো শক্ত করে বুকে জরিয়ে ধরে,, যেনো বুকের সাথে একদম মিশিয়ে নেবে)
আমি জানি আমি ভুল করেছি,,, কেননা আমি একটু হলেও আমার ভালোবাসাকে ভুল বুঝেছি, আমার মনে চুল পরিমাণ অবিশ্বাসের জন্ম নিয়েছিলো,, এটাই আমার অনেক বড় ভুল আমার উচিত ছিলো আমার ভালোবাসার উপর বিশ্বাস রাখার, কিন্তু আমি তা করিনি,, তাই আমার শাস্তি পাওয়া উচিত, আমি চাই তুই আমায় শাস্তি দিবি তবে সেটা আমার কাছে থেকে (মাহিকে বুকে নিয়েই বলল মেহরাব)
হুম মেহরাব ভাই আপনি ভুল করেছেন আর আপনার শাস্তি পাওয়া উচিত অবশ্যই আমি আপনাকে শাস্তি দেবো (মেহরাব এর বুকের সাথে মিশে বলল)
হুম তো বলুন মহারাণী আমাকে কি শাস্তি দিবেন।
চলবে,,,,,,??