মনের আড়ালে পর্ব-০৪

0
1442

#মনের_আড়ালে
Part_4
লেখনীতে – #Nusrat_Hossain

অভিক ইশমির শরীরের সাথে আরো ঘেষে দাঁড়িয়ে ওর ঠোটের উপর আবার ঝুকতেই ইশমি কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে উঠল আ্ আমায় য্ যেতে দিন প্লিজ ।এক্ষুণি ক্লাস শুরু হয়ে যাবে ।
অভিক বিরক্ত হয়ে বলে উঠে ফা* ইউর ক্লাস ।ইশমি মুখ ঘুরিয়ে অস্ফুটভাবে বলল ছিহ ।
অভিক এবার সিরিয়াস কন্ঠে বলে উঠল
আমি এত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলতে পারিনা ।তাই তোমায় সোজাসুজি ভাবে বলছি উইল ইউ মেরি মি ?
ইশমি অভিকের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকাল ।অভিক আবারো আবেশী গলায় বলে উঠল আমি তোমায় আরেকটা সুযোগ দিতে চাচ্ছি ।হ্যাঁ বলে দাও ।আমি তোমায় রানীর মত করে রাখব ।কোনোকিছুর অভাব হবে না তোমার আই প্রমিস ।
ইশমি অভিকের হাত থেকে নিজের হাতদুটো ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল এটা সম্ভব না আমি আপনাকে বিয়ে করত্ ইশমি কিছু বলার আগেই অভিক তার হাত ঝাড়া দিয়ে রাগীকন্ঠে বলে উঠে আমারি ভুল হয়েছে তোমার মত একটা মেয়েকে আরেকটা সুযোগ দেওয়া ।আমি তো ভুলে-ই গিয়েছিলাম তোমার মত মেয়েদের জায়গা আমার জুতার নিঁচে ।এই অভিকের প্রিয়তমা হওয়ার যোগ্যতা তোমার মত মেয়ের নেই ইউ ইডিয়ট এক্ষুণি আমার চোখের সামনে থেকে তুমি দূর হয়ে যাও নাহলে আমি কিছু একটা করে বসব ।ইশমি গেল না অভিকের দিকে কান্নাজড়িত চোখে তাকিয়ে রইল ।ইশমিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অভিকের রাগ আরো বেড়ে গেল সে চিৎকার করে বলে উঠল আই সে গেট আউট ।ইশমি আর সেখানে দাঁড়াল না ভয় পেয়ে দৌঁড়ে বের হয়ে গেল ।ইশমি বের হয়ে গেলে অভিক বিরবির করে বলে উঠল আমাকে রিজেক্ট করা এই অভিককে রিজেক্ট করা ! কালকে রাতে তোমার মত মেয়ের জন্য একটা ভুল করতে গিয়েছিলাম কিন্তু আমার ভাগ্য ভালো ক্লাব ম্যানেজার আর মাহিম আমাকে ঐ প্রস্টিটিউডের হাত থেকে বাঁচিয়ে ছিলো যাকে আমি তুমি ভেবেছিলাম নেশায় পরে।এবার আমি যদি তোমার লাইফ নরক না বানিয়ে ছেড়েছি তো আমার নামও অভিক না ।অভিক রাগে ফোসফোস করতে করতে ক্লাসে যেতে লাগল ।
ইশমি ক্লাসে ঢুকেই অনিতার পাশে বসে পড়ল ।সে বড় বড় করে দম নিচ্ছে খুব ভয় পেয়েছে সে অভিকের ঐ ভয়ংকর দৃষ্টি ।অনিতা তার দিকে ড্যাপড্যাপ করে তাকিয়ে থেকে বলল এতক্ষণ কই ছিলি ? আমি একা একা-ই বকবক করতে যাচ্ছিলাম পিছনে তাকিয়ে দেখি তুই নাই ।কই উদাও হয়ে গিয়েছিলি হুম ? আর এভাবে হাপাচ্ছিস কেন ?
ইশমি অনিতাকে কিছু বলার আগেই অভিক গটগট করে ক্লাসে রুমে ঢুকে পরল ।ক্লাসে সবাই অভিকের দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কারন অভিকের ফেইস পুরো রাগে লাল হয়ে আছে আর কেমন ফোসফোস করছে ।মনে হচ্ছে সবাইকে এক্ষুণি খুন করে দিবে সে ।ইশমি অভিক কে দেখে ভয়ে ঢোক গিলল ।অনিতা ইশমির কানে কানে
বলে উঠল ইশমি অভিক স্যারের চেহারা এমন লাল হয়ে আছে কেন আর এভাবে ফোসফোস করছে কেন তুই কিছু জানিস ?
ইশমি অনিতাকে ফিসফিস করে বলল পরে বলবো তোকে সব এখন চুপ থাক প্লিজ ।
অভিক এবার ইশমির দিকে রাগী দৃষ্টিতে চেয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল সবার এ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে যাও ।এবার ইশমির কলিজা ধক করে উঠল সে তো এ্যাসাইনমেন্ট কিছু করেইনি , জমা দিবে কি ? মনে মনে দোয়া করতে লাগল এবার বাঁচিয়ে দাও আল্লাহ প্লিজ প্লিজ ল্পিজ ।আই প্রমিস পরেরবার থেকে সব এ্যাসাইনমেন্ট করবো কোনো ফাঁকি দিব না এবারের মত অভিক স্যারের হাত থেকে বাঁচাও প্লিজ প্লিজ ।একে একে সবাই এ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে গেল এবার ইশমির পালা ।অভিক ইশমিকে জমা দিতে না দেখে সে ইশমিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠল আপনার এ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে যান ।ইশমি নিচু হয়ে বসে রইল ।এবার অভিক দাঁত চিবিয়ে তাকে বলল কি হল কথা কানে যাচ্ছে না আপনার ? জমা দিন ।
ইশমি মাথা তুলে অভিকের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠল আ্ আমি আ্ নি নি ।ইশমির গলা কাঁপছে । সে কি বলল অভিক মনে হয় তা শুনতে পেল না তাই চোখ মুখ কুঁচকে আবার জিজ্ঞেস করল হোয়াট ডিড ইউ সে ?
ইশমি আবারো কাঁপা কাঁপা গলায় এবার একটু জোড়ে বলল আ্ আমি আ্ নি নি সরি ।
অভিক জোড়ে একটা দম নিয়ে শান্তগলায় বলে উঠল স্ট্যান্ড আপ এন্ড হোল্ড ইউর ইয়ারস্ ।
ইশমি ভয়ার্ত চোখে চমকে তাকাল অভিকের দিকে । সে উঠল না বেঞ্চি থেকে ।অভিক এবার টেবিল থেকে ডাস্টার টা হাতে নিয়ে ইশমির ঠোট বরাবর ছুড়ে মারল আর দাঁতে দাঁত চেঁপে বলল আই সে হোল্ড ইউর ইয়ারস্।ক্লাসে প্রত্যেকে স্তব্ধ হয়ে গেল তারা কেউ ভাবতে পারেনি এমনটা হবে ।
ইশমির ঠোটের কোন বেয়ে রক্ত পরছে আর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে ।সে ঠোট দুটো চেঁপে উঠে দাঁড়াল আর কানে ধরল ।অনিতা বান্ধবীর দিকে করুন চোখে তাকিয়ে আছে ।এই দৃশ্য টা প্রিন্সিপ্যাল তার অফিসে সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পেল ।উনি আর একমুহূর্ত দেরি না করে ইশমিদের ক্লাসের সামনে এলেন ।হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন অভিকের দিকে তারপর ইশমির দিকে তাকালেন ।তার খুব মায়া হল মেয়েটাকে দেখে ।তিনি অভিক কে বললেন স্যার এতবড় একটা মেয়েকে সবার সামনে এভাবে কান ধরে দাঁড়িয়ে রেখেছেন কেন ?
অভিক স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল ও এ্যাসাইনমেন্ট করে আনেনি তাই শাস্তি পাচ্ছে ।
প্রিন্সিপ্যাল এবার বলল আমাদের ভার্সিটিতে এভাবে কোনো মেয়ে বা ছেলেকে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ জারি নেই ।ও এ্যাসাইনমেন্ট করেনি ওকে একটা দিন সময় দিন এভাবে কানে ধরিয়ে না রেখে ।
অভিক এবার প্রিন্সিপ্যালের দিকে কড়াচোখে তাকাল ।প্রিন্সিপ্যাল এবার দমে গেল অভিকের এই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে ।তিনি আর কিছু না বলে চলে যেতে লাগলেন তার কিছুই করার নেই এই ভার্সিটিটাতে অভিকের বাবার নাইন্টি পার্সেন্ট শেয়ার আছে ।তিনি মাসে মাসে প্রচুর টাকা দেন ভার্সিটির উন্নতির জন্য তাই তিনি চাইলেও অভিকের কথার উপর কিছু বলতে পারবেন না ।তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন ।

ক্লাস শেষে ইশমি ভারাক্রান্ত মনে বাড়ি ফিরল ।নিজের রুমে এসে ব্যাগ টা রেখে আয়নার সামনে দাঁড়াল তার চোখ মুখ ফুলে গেছে ।নিচের ঠোট টা কেঁটে ফুলে টম্বুর হয়ে আছে ।আলতো করে হাত বুলাল ঠোটের কাঁটা জায়গাটাতে ।অভিক যে তার উপর দ্বিতীয় বার রিজেক্ট হওয়ার শোধ উঠিয়েছে সেটা আর কেউ না বুজলেও সে ভালোভাবেই বুজতে পেরেছে ।কই আগে তো তিনি এমন করেন নি সেই প্রথম দিনেও তো অভিক তাদের ক্লাসে এসে তার সাথে কত মিষ্টি করে হেঁসে কথা বলল ।সামান্য রিজেক্ট হওয়ার কারনে একটা মানুষ কিভাবে এতোটা হিংস্র হয়ে যায় সেটা তার জানা নেই ।ইশমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঠোটের কাঁটা জায়গাটা লক্ষ্য করতে করতে ভাবছিল আর তখনি হাফসা বেগম তার নাম ধরে জোড়ে ডেকে উঠলেন ।ও আর সময় ব্যয় না করে হাফসা বেগমের রুমে চলে গেল ।ইশমি রুমে গিয়ে দেখল হাফসা বেগম বিছানায় দুই পা ছড়িয়ে পানের খিলি বানাচ্ছে ।হাফসা বেগম দেখতে খুব সুন্দরী তার চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই তার বয়স হয়েছে ।
ইশমি ইতস্ততভাবে মায়ের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল মা তুমি কি যেন বলবে ?
হাফসা বেগম পানের খিলিটা মুখে পুরে তাকে ইশারায় বিছানায় বসতে বললেন ।
ইশমি বিছানার একপাশে পা ঝুলিয়ে বসল ।হাফসা বেগম কিছুক্ষণ মুখে পান চিবিয়ে তারপর বারান্দায় গেল মুখে জমে থাকা পানের রস টা ফেলতে । ইশমি এতক্ষণ চুপচাপ বসে মায়ের কান্ড দেখতে
লাগল ।হাফসা বেগম পানের রস ফেলে দিয়ে এসে ইশমির পাশে বসলেন ।
তারপর ইশমির হাত ধরে উদাস চেহারা বানিয়ে বললেন ইশমি মা আমার , তুই আমায় খুব খারাপ ভাবিস তাই না ? এই যে তোকে এত অত্যাচার করি এর জন্য ।আবার সেদিন তোর বিয়ে ভেঙ্গে দিলাম সেই জন্য ? ইশমি হতবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে এই প্রথম তার মা তাকে এত আহ্লাদ দিয়ে কথা বলছে ।সে একবার হাফসা বেগমের হাতের মুঠোয় থাকা তার হাতের দিকে তাকাল ।হাফসা বেগম আরো উদাস হয়ে বলতে লাগলেন
কি করবো বল !তুই তো জানিসি তোর বাপের ইনকাম ? বাড়িতে যা গয়নাঘাটি আর টাকা কড়ি আছে তা যদি তোর বিয়েতে-ই দিয়ে দেই তাহলে তোর ছোট বোনের কি হবে বল ? ওকেও তো বিয়েসাধি দিতে হবে ভবিষ্যতে ।তুই তো ওর বড় বোন তোর তো দায়িত্ব ছোট বোনের কথা ভাবা ।ইশমি মায়ের কথায় মাথা ঝুলিয়ে হ্যাঁ বোঝাল ।হাফসা বেগম এবার মুখে কাপড় গুজে ইশমির হাত আরো শক্ত করে ধরে বললেন তাহলে আমায় কথা দে , তোর বাপ যদি তোর জন্য কোনো বিয়ের কাজ আনে তাহলে তুই সরাসরি তোর বাপকে না করে দিবি । দে কথা দে আমায় ।ইশমি হতবাক হয়ে কিছুক্ষণ মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল ।তারপর মাকে মিনমিনে গলায় বলল আমি কথা দিচ্ছি ।তুমি কোনো চিন্তা করো না ।হাফসা বেগম এবার খুব খুশি হয়ে ইশমিকে জড়িয়ে ধরে বললেন এই তো আমার সোনা মা ।তোকে বাড়ির কোনো কাজ করতে হবে না তুই আরাম কর গিয়ে আর শোন আরেকটা কথা কালকে রাতের ঘটনা্টা তোর কোনো বান্ধবী বা বাহিরের কোনো লোক কে জানাস না মা ।তোর মামা-ই তো হয় ওর তোকে দেখতে মন টানছিলো তো তাই তোকে রাতে দেখতে গিয়েছিল কিন্তু তুই আর তোর বাপ বুজতে পারিস নি সেই কথা ।
ইশমি অস্ফুটসুরে বলল হুম ।আমি যাই তাহলে ।
হাফসা বেগম মুখে হাসি রেখেই বললেন যা কিছু মুখে দিয়ে নিজের রুমে রেস্ট কর গিয়ে ।ইশমি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে ঠোট দুটো চেঁপে মায়ের রুম থেকে বেরিয়ে এল ।ইশমি নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল আর অমনি ….

চলবে,
@Nusrat Hossain

( রিচেইক করা হয়নি ভুলত্রুটি ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন )