যদি আমার হতে পর্ব-১৯+২০

0
859

যদি আমার হতে🌹
পর্ব – ১৯
লেখিকা : সৈয়দা প্রীতি নাহার

দরজায় দাড়িয়ে আছেন মুগ্ধর ফুফু মনোয়ারা বেগম আর বরযাত্রীর অনেকে। মুগ্ধ‌ও ফুফুর পাশে দাড়িয়ে আছে চুপচাপ। হামিদুর আহমেদ হাত জোর করে বললেন, ” বেয়ান, আমাদের ক্ষমা করে দিন। আমি বা আমরা কখনোই আপনাদের সম্মানের সাথে খেলতে চাই নি! যা হয়েছে সেটা হ‌ওয়া উচিত ছিলো না। কিন্তু সেটা তো আর পরিবর্তন করা যাবে না!”

মনোয়ারা বেগম উচ্চস্বরে বললেন, “আপনারা কি চেয়েছিলেন আর কি হয়েছে সেসব জানতে আমরা মোটেও ইচ্ছুক ন‌ই। ভাই তুমি ওদের বলে দাও, এমন চরিত্রহীনা মেয়ের আমাদের মুগ্ধর জীবনে কোনো জায়গা নেই।যা অসম্মান করার তা তো করেই ফেলেছেন, এবার বাকি সম্মানটুকুও কি মাটিতে মিশাবেন না কি?”

শ‌ওকত শাহ গম্ভীর মুখে বললেন, “আমি ভাবতেও পারি নি আপনারা এমন কিছু করবেন! দু ঘন্টা আগে অব্দি আমাদের বলেছেন মেয়ে আসছে আর এখন জানতে পারছি মেয়ে বিয়ের আসর ছেরে পালিয়েছিলো!! আপনারা শুধু আমাদের সম্মান‌ই নয় বরং আমাদের সপ্ন, আকাঙ্খা আর গর্বের সাথে খেলেছেন। আদ্রিশাকে শুধু বাড়ির ব‌উ বিসেবে নয় মেয়ে নিসেবে নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের আবেগ অনুভুতির এই দাম কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”

মালিহা ইয়াসমিন আদ্রিশার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। মুখটা ভার হয়ে আছে তার। আর সবার মতো তিনিও ভাবেন নি, যাকে ছেলের ব‌উ করে ঘরে তুলতে চেয়েছিলেন সেই মেয়ে এমন কিছু করতে পারে। একে তো অতিথি, পারা প্রতিবেশী দের সামনে লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে , তার উপর ছেলের বিয়ে ভাঙা! অভিমানে, লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নেন তিনি। মনোয়ারা বেগম আবার‌ও বললেন, ” আপনাদের মন মানসিকতা কতটা নিচ! মেয়ের দোষ লুকিয়ে আমাদের ছেলের ঘাড়ে চাপাতে চাইছিলেন! ছি!! এখন যদি আমরা আপনাদের কথা না শুনতে পারতাম তাহলে নিঃসংকোচে বিয়েটাও করিয়ে দিতেন নিশ্চয়! সম্পূর্ণ ঘটনাই এরিয়ে যেতেন!”

হামিদুর আহমেদ আকুল ভঙ্গিতে হাত দুটো সংকুচিত করে বুকের কাছে এনে বললেন, “নাহ না, আপনারা আমাদের ভুল বুঝছেন!”

“আমরা ঠিক বুঝেছি ভাইসাহেব! ‌আপনার কাকুতি মিনতি আমাদের মন ভুলাতে পারবে না!” শ‌ওকত শাহের উক্তি।

“আমি জানি আপনারা আমাদের আর কোনো কথাই শুনবেন না। হয়তো শুনাও অনুচিত! ‌আপনাদের থেকে কিছুই লুকাতে চাই নি আমরা। তবে লোকলজ্জার ভয়ে চুপ ছিলাম! শুধু চেয়েছিলাম মেয়েটাকে ফিরে পাই! তারপর আপনাদের সব বলতাম। এমনকি আমি এক্ষুনি আপনাদের সবকিছু জানাতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার আগেই আপনারা সব জেনে জান আর,,,,,”

হামিদুর আহমেদকে থামিয়ে দিয়ে মনোয়ারা বেগম গর্জে উঠে বলেন,” আর এখন চাইছেন ভুলিয়ে ভালিয়ে এই বিয়ে পালানো মেয়েকে আমদের হাতে তুলে দেবেন। তাই তো!”

রুমানা আহমেদে ছুটে এসে হাত জোর করলেন তাদের সামনে, “দয়া করুন আপা। আমরা আপনাদের থেকে আগে কথা লুকিয়ে রাখলেও এখন সব জানাতাম। মন ভুলানোর কোনো প্রশ্ন‌ই উঠছে না! আপনারা না চাইলে কি মেয়েকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিবো বলুন! ‌আপনাদের স্বীদ্ধান্ত‌ই শেষ কথা! তবু এভাবে বলবেন না। আপনাদের যেমন সম্মান হানি হয়েছে তেমনি আমাদের‌ও সম্মান হানি হয়েছে! তফাত এতোটুকু আপনারা আমাদের দোষারোপ করতে পারছেন আর আমরা পারছি না!”

মনোয়ারা বেগম রক্তুচক্ষু নিয়ে গজ গজ করছেন। চোখে মুখে ভয়ানক রাগ ফুটে উঠেছে তার। দাঁত কড়মর করে বললেন, “কি বলতে চাইছেন আপনি? আমরা দোষ চাপাচ্ছি? বলি আপনাদের মেয়ে আপনাদের মুখে চুনকালি মেখে কোন কার্য সিদ্ধি করেছে!? বেহায়া , নির্লজ্জ ময়ে। চরিত্রের ঠিক নেই আর আমার রাজপুত্রের মতো ছেলে মুগ্ধর সাথে বিয়ে করতে এসেছে!”

রুমানা আহমেদ মাথা নিচু করে কেঁদে চলেছেন। আদ্রিশা কান চেপে ধরে দাড়িয়ে আছে। বড় দাদি মুখ চেপে কাঁদছেন। আদ্র রেগে কিছু বলতে গেলেও জেসমিনের ইশারায় দাড়ীয়ে যায়। হাত মুঠো করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করছে সে।হামিদুর আহমেদ এগিয়ে এসে স্ত্রীকে সরিয়ে বললেন, “আপনাদের সাথে অন্যায় হয়েছে! তার জন্য আমরা লজ্জিত! পারলে ক্ষমা করে দেবেন। আপনাদের বাড়ির ছেলের বিয়ে ভাঙায় অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন হয়তো, তার জন্য‌ও আন্তরিক ভাবে দুঃখিত!! কিন্তু মেয়েটাযে আমার! ‌ওকে তো আমি ফেলে দিতে পারি না! ওর জন্মের আগে থেকেই ওকে ভালোবেসেছি! কোলে পিঠে মানুষ করেছি। ওর জন্য যখন প্রশংসা শুনেছি তখন চুনকালি মাখালে সরে যাই কি করে। স্কুল কলেজে বিভিন্ন কার্যক্রমে যখন স্যারেরা ওর অতুলনীয় প্রশংসা করতেন উৎসাহ দিতেন সেসব কিছুই হাসি মুখে গ্রহণ করেছি আমি। আজকে চুনকালির ভয়ে মুখ ফেরাবো তা কি করে হয়।ভুল করে ফেলেছে বলে কি মুখ ফিরিয়ে নেবো? আমি তো করতে পারবো না!! আর যাই বলার বলুন, বাধা দেবো না তবে আমার মেয়েকে, চরিত্রহীনা বলবেন না! ভালোবেসেছিলো বলেই ঐ ছেলেকে বিশ্বাস করে ঘর ছেড়েছিলো! এখন যদি ঐ ছেলে আমার মেয়ের বিশ্বাসের যোগ্য না থাকে তবে কি বলার আছে। আমি মনে করি না এতে আমার মেয়ের দোষ আছে। তবে হ্যাঁ আমাদের না জানানো, আর আপনাদের বিশ্বাসের অমর্যাদার জন্য অবশ্য‌ই আমার মেয়ে দায়ী!”

শ‌ওকত শাহ মনোয়ারা বেগমকে ইশারায় চুপ করতে বলে হামিদুর আহমেদের দিকে নজর দিলেন–” আমি বুঝতে পারছি আপনার কষ্ট। মেয়ের এহেন কাজে আপনিও বেশ বিচলিত!”

হামিদুর আহমেদ স্বাভাবিক কন্ঠে বললেন, “নাহ আপনি বুঝতে পারছেন না আর না পারবেন! মেয়ের এহেন কাজে আমি কতটুকু বিচলিত জানি না তবে আপনার বোনের ব্যাবহৃত ভাষায় আমি বেশ অপ্রস্তুত এবং রাগান্বিত!”

শ‌ওকত শাহ মাথা নুয়ালেন। মনোয়ারা বেগম চোখ মুখ শক্ত করে বললেন, “আপনাদের স্পর্ধা দেখে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি! মেয়ে এক রাস্তার ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়াচ্ছে, আর তারপর বাবা মাকে ঘোর লজ্জায় ফেলে পর পুরুষের হাত ধরে পালিয়ে যাচ্ছে! সেই মেয়েকেই ঘরে তুলে আদিখ্যেতা করছেন আপনারা!! আজ যদি এই মেয়েকে ঐ ছেলেগুলো তুলে নিয়ে যেতো তবে দেখতাম আপনাদের এই তেজ কোথায় যেতো!? আর এই মেয়ের ইজ্জত হানি হলেই তবে,,,,,,,”

“এনাফ ইজ এনাফ!” মনোয়ারা বেগমের কথার মাঝখানে মুগ্ধর গর্জনে শিউরে উঠে সবাই। মনোয়ারা বেগম তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে আছেন মুগ্ধর দিকে। মালিহা ইয়াসমিনের চোখে মুখে আলোর ঝলকানি। তিনি হয়তো এই সময়ের‌ই অপেক্ষায় ছিলেন। সবাই নিরব হতেই মুগ্ধ মনোয়ারা বেগমের সামনে দাড়িয়ে বললো, “একজন মেয়ে হয়ে অন্য‌ একজন মেয়ের জন্য এমন কিছু কি করে আশা করতে পারো তুমি!?”

মনোয়ারা আহমেদ মাথা নিচু করলেন। মুগ্ধ আবার‌ও বললো, ” আমি জানি ও যা করেছে সেটা অযাচিত ছিলো! কিন্তু একবার ওর কথাও তো ভেবে দেখো। আমরা ভাবছি আমাদের সম্মানের কথা আর এদিকে এই মেয়েটার সারা জীবনের প্রশ্ন ছিলো! আমরা একজন অপরজনকে দোষারোপ করে চলেছি, ও কাকে দোষারোপ করবে! কেউ ভেবেছি? আজ যদি ওর কিছু একটা হয়ে যেতো তাহলে, তাহলেও কি আমরা নিজেদের না পাওয়ার আফসোস করতাম না কি ও যা হারিয়েছে তার আফসোস করতাম!! ফুপি, তুমি বলছো বিশ্বাস ভাঙার কথা, এই মেয়েটার এতোদিনের সম্পর্কের বিশ্বাসের প্রতিদান ও কিভাবে পেয়েছে, সেই খেয়াল আছে! সার্থন্যাসীদের মতো নিজেকে নিয়ে পরে আছি আমরা, কেউ ওর দিকেও তো দেখো। তাকাও একবার! কত সপ্ন নিয়ে, বিশ্বাস নিয়ে , ভালোবাসা নিয়ে, নিজের পরিবার নিজের সম্মান সব ত্যাগ করে নতুন জীবনের উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছিলো সে! ভাবতে পারছো খালি হাতে ফিরেছে সে! সামান্য প্রতিশোধের নেশায় ওর জীবনের এতোগুলো দিন, এতো ভালোবাসা, সম্পর্ক সব শেষ হয়ে গেছে!! আর তোমরা ভাবছো ও আমায়, আমাদের ধোকা দিয়েছে!! ওর সাথে হয়ে যাওয়া ধোকা চোখে পরছে না তোমাদের! যার যার মতো রায় দিচ্ছো , অথচ আসামীর জায়গায় ভিক্টিম আছে সে খেয়াল রাখো নি কেউ। ফুপি, তোমার এতো কথা শুনার পর‌ও চুপ করে দাড়িয়ে আছে , কেনো জানো? অসম্মানিত করতে চায় না বলে! আমি হরক করে বলতে পারি, পালানোর আগ মুহুর্তেও ও ভাবে নি ও চলে গেলে কার কি হবে, কে কতটা কষ্ট পাবে, অসম্মানিত হবে।শুধু ভেবেছিলো কিভাবে রবিন নামের তার ভালোবাসার মানুষটার সাথে সারাজীবন কাটাবে। ভেবেছিলো কত সুখের হবে সব। আজ যদি ও না পালাতো তবে আমার সাথে বিয়ে হ‌ওয়ার পর পালাতো! আর তা না করতে পারলে আমরা দুজনেই অসুখী হতাম! সেটাকি কারো প্রাপ্য ছিলো! তখন কি অসম্মান, লজ্জা আর চুনকালি কম হতো! আমাদের সবাইকে সুখী করতে নিজের ভালোবাসাকে জয় করতে পালিয়ে যাওয়াই কি চরিত্রহীনার পরিচয় বহন করে? কি বলে আপনাদের বিবেক!? আমার বিবেক তো বলে, ও চরিত্রহীনা নয় বরং সাহসী। যে ভালোবাসার সম্পর্ক বাঁচাতে অপরিচিত পরিবেশে ছুটে গেছে! সে জানতো তার পরিবার তাকে মেনে নেবে না তবুও চেষ্টা টা করেছিলো!”

মনোয়ারা বেগম মুখ বাকিয়ে বললেন, “তুই কি এই মেয়েকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছিস। ইন্ডাইরেক্টলি, ওকে বাহবা দিয়ে ওর কাজকে সম্মান প্রদর্শন করছিস?”

মুগ্ধ বাঁকা হেসে বললো, ” ফুপি, কি বললাম আর কি বুঝলে! একটা কথা তোমাদের এখনো অজানা। আদ্রিশাকে যেদিন আমি দেখতে যাই সেদিন‌ই সে আমায় বলেছিলো রবিন নামের কারো সাথে তার সম্পর্ক আছে! আমি যেনো বিয়ে ভেঙে দেই । তার জন্য বার বার আমায় রিকুয়েস্ট করে গেছে। আমি মানি নি দেখেও আমার সাথে দেখা করে আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করে গেছে। কিন্তু আমার মত পরিবর্তন করতে না পারায় বাধ্য হয়েই পালিয়েছিলো!!”

মনোয়ারা বেগম চোখ বড় বড় করে বললেন, “মুগ্ধ , তুই জানতিস মেয়ে অন্য ছেলেকে ভালোবাসে? তারপর‌ও একে কেনো বিয়ে করতে চেয়েছিলি বাবা!?”

মুগ্ধ আদ্রিশার দিকে তাকিয়ে বললো, “নিজেই তো কারনটা বলে দিলে ফুপি! ওকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম বলেই তো ওর কোনো কথা রাখি নি। নিজের সার্থের জন্য ওকেই বিয়ে করতে চেয়েছি।”

মনোয়ারা বেগম কিছু বলবেন তার আগেই মুখ খুললেন মালিহা ইয়াসমিন। চোখ মুছে এগিয়ে এসে বললেন, “সব কিছু জেনেও যখন মুগ্ধ আদ্রিশাকে বিয়ে করতে চেয়েছে তার মানে আমাদের মুগ্ধ ওকে ভালোবাসে, চায়। আদ্রিশা চলে গেলেও এখন তো ফিরে এসেছে! খুব দেরি তো হয় নি! মুগ্ধ আদ্রিশা চাইলে এখন‌ই বিয়েটা সম্পন্ন করি! কি বলেন সবাই? তবে এবার আদ্রিশা আর মুগ্ধর মতামত‌ই মূখ্য!”

সবার স্থীর দৃষ্টি আদ্রিশার দিকে । আদ্রিশা কেঁদে কেঁদে বললো, ” আমি কারো বিশ্বাসের যোগ্য ন‌ই। আমার জন্য আজ সবার মাথা হেট হয়ে গেছে। ইচ্ছাকৃত হোক বা না হোক, আমার ভুল কখনোই মেনে নেয়া যায় না।” রুমানা আহমেদ মেয়েকে ধরে দাড়িয়ে আছেন। বড় দাদি আদ্রিশার কাধে হাত রেখে বললেন, “দিদিভাই, তোমার ভুলের মাশুল তো দিতেই হবে। হয় সেটা কষ্ট পেয়ে আর নাহয় জীবনকে নতুন ভাবে শুরু করে। এখন সব তোমার হাতে। কেউ জোর করবে না তোমায়। বলো কি চাও তুমি?” আদ্রিশা উল্টো হেটে মালিহা ইয়াসমিন আর শ‌ওকত শাহের সামনে দাড়িয়ে বললো, “আমি আপনাদের দোষী! যা শাস্তি দিতে চান দিন।আপনাদের দেয়া সব শাস্তি মাথা পেতে নেবো। তবে,প্রায়শ্চিত্ত করার একটা সুযোগ দিবেন। চেষ্টা করবো যেনো আমার জন্য আর কখনো কারো অসম্মান না হয়!!”

মালিহা ইয়াসমিন শ‌ওকত শাহের দিকে তাকিয়ে দেখলেন তিনি এক চিলতে হেসে ইশারা করলেন। মালিহা ইয়াসমিন আদ্রিশাকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন, “বিয়ের তোড়জড় নতুন করে শুরু করো! বর ব‌উকে তৈরি করে বাইরে বিয়ের আসরে নিয়ে যেতে হবে। কাজী যে অনেক্ষন বসে আছেন!”

কনের পরিবার আর বরের পরিবারের উচ্ছাস আবার শুরু হলো। কেউ বলবেই না যে কিছুক্ষন আগে এই আসরেই এতোকিছু হয়ে গেছে। সবাই আনন্দে থাকলেও ক্ষোভে মুখ ফুলিয়ে আছেন মনোয়ারা বেগম!

চলবে,,,,,,,,

যদি আমার হতে🌹
পর্ব – ২০
লেখিকা : সৈয়দা প্রীতি নাহার

অতিথিদের আগেই খাওয়ানো হয়েগেছিলো, বিধায় এখন সবাই অধীর আগ্রহে বিবাহের অপেক্ষায় আছেন। অনেকে আবার চলেও গেছেন। তবে যারা আছেন তারাও কম না। দুপক্ষের পরিবার পরিজন ছাড়াও নিকট আত্মীয়রা রয়েছেন! মুগ্ধ আসরে বসে আছে। ফটো সেশন হচ্ছে তার। যদিও আগে হয়েছে তবু কনের বন্ধু বান্ধব কাজিনদের সাথে ফটো তুলতে এখন আবার নতুন করে ফটো সেশন হচ্ছে।

আদ্রিশাকে একটা ছোট্ট রুমে সাজাচ্ছে তার খালাতো বোন আর রুহি। সারাদিনের ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনায় বেচারির মেক আপ বিগড়ে গেছে। তাই আবার‌ও সাজানো হচ্ছে তাকে। সাজানো বললে ভুল হবে, শুধু চুল ঠিক করে বেধে, চোখ মুখ পরিষ্কার করে হালকা টাচ আপ দিচ্ছে! আদ্রিশা এখন একটু শান্ত হলেও, ভেতরটা শেষ হয়ে যাচ্ছে তার। বাবা মা আর সবার সম্মানের কথা ভেবে বিয়ে করতে রাজি তো হয়েছে কিন্তু ‘রবিন’! ‌ওকে তো ভুলে নি। ওর দেয়া জখম টা যে এতো তাড়াতাড়ি সারবে না! মুগ্ধ‌ও কত কিছু করলো আদ্রিশার জন্য। তাদের পরিবারের ইচ্ছের দাম দিতেই নিজেকে বুঝিয়ে আসরে বসতে রাজি হয়েছে সে। পারবে কি, যে কথা দিয়েছে তা রাখতে! কনেকে তৈরি করার মাঝেই,তুহিন আদ্রিশাদের সামনে এসে তাড়া দিয়ে বললো, “এতো সাজাতে হবে না ওকে। তাড়াতাড়ি নিয়ে চল! কখন বিয়ে হ‌ওয়ার কথা ছিলো আর কখন হচ্ছে!” আদ্রিশা কিছু না বলে তুহিনের দিকে এক বার দেখলো। রুহি আদ্রিশাকে গয়না ঠিক করে পরিয়ে দিতে দিতে বললো, “তুহিন একটা কথা বল! আদ্রিশা কোথায় গেছে তা তোরা কিভাবে জানলি! আই মিন, আঙ্কেল আর আদ্র ভাইয়া ও জেনে গেছিলেন কিছু!?নাহলে ঠিক সময়ে পৌঁছলেন কিভাবে?” তুহিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, “ঠিক সময়ে আর ক‌ই পৌঁছতে পারলাম! আরো একটু আগে পৌঁছতে পারলে ওকে দেখে নিতাম, শালা!” রুহি শ্বাস টেনে বললো, “ওসব ছাড়। আর ডিটেইলসে বল তো কিভাবে ওখানে গেলি?” তুহিন বলতে লাগলো ঘটনা,,,

———
“আদ্রিশা হঠাৎ মুগ্ধর সাথে বিয়েতে রাজি হ‌ওয়ায় হামিদুর আহমেদ বেশ ঘাবরে যান।তার জানা মতে মেয়ে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ের জন্য রাজি ছিলো না। তাই হুট করে পাত্র কে পছন্দ করে ফেলাটা তার হজম হলো না। পরেরদিন যখন আদ্রিশা মুগ্ধর সাথে দেখা করতে যায়, তিনি আদ্রকে পাঠান খোজ নিতে! আদ্রিশা অর মুগ্ধর মধ্যে কি কথা হয় সেটা জানতে। আদ্র শুনার চেষ্টা করলেও মুগ্ধর জন্য হয় নি। ক্যাফেটারিয়ায় আদ্রকে দেখে ফেলে মুগ্ধ। আদ্র‌ও শুধু আদ্রিশার বলা শেষ কথাটুকু শুনেছিলো, ‘আমি যা জানতে চাচ্ছি সেটা বলুন!’ হামিদুর আহমেদ ছেলের কথা শুনে কিছুই আঁচ করতে পারেন নি। তবে আদ্রিশাকে চোখে চোখে রেখেছেন। হলুদের দিন সকালে আদ্রিশা হঠাৎই জেদ ধরে পার্লারে যাবে। এখানেও খটকা লাগে হামিদুর আহমেদের। যতদূর জানেন মেয়ে তার সাজতে ভালোবাসলেও পার্লার নামক জায়গাটায় যাওয়ায় ঘোর আপত্তি তার! সারাদিন মেয়ের দিকে নজর রেখেছেন তিনি। কিন্তু পার্লারে যাওয়ার পর তার ভয় বাড়তে থাকে। ভেবে অস্থির হয়ে মেয়ের ঘরে যান তিনি। কিছু খুজতে নয় বরং শুধু ঐ ঘরটাকে দেখতে! যে ঘরে মেয়ে আজ আছে দুদিন পর থাকবে না! জানালা খোলা দেখে বন্ধ করতে গিয়ে চোখ যায় বিছানার কোনায়। বালিশটা প্রায় পরেই যাচ্ছিলো! বালিশ বিছানায় রেখে চলে যাবেন তখন‌ই দেখেন কাপড়ের নিচে ভাজ করা সাদা কাগজ বেড়িয়ে আছে। বুক মুচরে উঠে তার। কাঁপা হাতে ভাজ খোলে দেখেন মেয়ের রেখে যাওয়া চিঠি। হাত পা অসার হয়ে আসে তার। চিঠিটা আগের জায়গায় রেখেই, আদ্রকে ডেকে বলেন যেনো আদ্রিশার পার্লারে যায় ওকে নিয়ে আসতে। আদ্র‌ও বাধ্য সন্তানের মতো কোনো প্রশ্ন ছাড়াই এগিয়ে যায়। এর মধ্যেই গাড়ি বাড়িতে চলে আসে দেখে হামিদুর আহমেদ ছেলেকে ফোন করে বলেন শর্টকাট ধরে তাড়াতাড়ি পৌঁছতে। ফলে আদ্রিশার পালানোতে বাধার সৃষ্টি হয়। সে রাতে আর তেমন কিছু হয় নি। হামিদুর আহমেদ চেয়েছিলেন যেনো মেয়ে সব নিজে থেকে বলে, ওর অনিচ্ছায় ওর জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে তিনি চান না। অপেক্ষা করে গেছেন সারা রাত! এই বুঝি মেয়ে এসে তাকে সব বললো! ছোট্টবেলার মতোই হয়তো আবদার করলো! কিন্তু না! সে আসেনি। হামিদুর আহমেদ জানতেন মেয়ে আবার কিছু করবে, তাই সকাল হতেই বেরিয়ে পরেন সেন্টারে তুহিনের সাথে কথা বলার উদ্দেশ্যে। ওর সাথে কথা বলে জানতে পারেন রবিনের দাদু বাড়ি সিরাজগন্জ যাওয়ার ছক কষেছে তারা। রবিনকে নিয়ে আসার জন্য তুহিনকে যেতে বলে আদ্রকে নিয়ে বাড়ির দিকে আসেন তিনি। ভেবেছিলেন মেয়ে কিছু না বললেও তিনি মেয়ের খুশির কথা ভেবে বিয়েটা আটকাবেন। কিন্তু যথাসময়ে আসতে পারেন নি। মাঝখানে তুহিন ফোন করে বলে রবিন ওর ফ্ল্যাট ছেড়ে পালিয়েছে। এদিকে সানা বেগমের ফোন করার ধরনে,কারোর বুঝতে বাকি নেই রবিন আদ্রিশাকে নিয়ে পালিয়েছে। যেহেতু তারা বাড়ির অনেক কাছেই এসে পরেছিলেন তাই আদ্রিশাকে বাড়ীর‌ সামনে দিয়ে পালাতে বা কাওকে বেশ ধরে যেতে দেখেন নি। পালানোর জন্য বাড়ির পেছনের রাস্তাটাই মূখ্য আর নিরাপদ। ব্রীজের উপর উঠেই সামনের দিকে গাড়ি ছুটিয়ে চলছিলো আদ্র। অর্ধেক রাস্তা থেকে তুহিন‌ও গাড়িতে উঠে। অজানার উদ্দেশ্য রাস্তায় গাড়ি দৌড়িয়ে ওদের না পেয়ে, শেষ ভরসা বাসস্ট্যান্ডে যান। ছুটোছুটি করেও ওদের দেখা পান নি। গাড়িতে উঠতে যেতেই কারো চিৎকার শুনা গেলো দোকানগুলোর আড়াল থেকে। হামিদুর আহমেদের বুক ধুকপুক করছে। আদ্র আর তুহিন তাকে ওখানে দাড় করিয়েই দেখতে আসে কি চলছে সেখানে! আর তারপর যা দেখে তাতে মোটেও প্রস্তুত ছিলো না কেউ!! ওদের হাত থেকে আদ্রিশাকে বাঁচাতে সক্ষম হয়ে মনকে সান্তনা দেয়া গেলেও রাগে শরীর জালা করছিলো তাদের।।”

—————
তুহিনের মুখে শুনা ঘটনায় আবার‌ও ডুকরে উঠে আদ্রিশা। তুহিন আদ্রিশার মাথায় হাত রেখে বললো,”আমি জানি আদু, সবকিছু এতো সহজে ভুলা যায় না। কিন্তু তোকে করতে হবে! মুগ্ধকে দেখ, সবাই যেখানে তোকে অবজ্ঞা করছিলো তখন ও তোর হয়ে কথা বলেছে ,শুধু তোর জন্য। ওর বিশ্বাস , ভালোবাসা ভাঙিস না! যা হয়েগেছে ভুলে যা! নতুন করে শুরু কর সব।” আদ্রিশা ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে সায় দিলো।

___________

মুগ্ধ কবুল বলে কাবিন নামায় সাইন করে দিয়েছে। এবার আদ্রিশার পালা। আদ্রিশার চারপাশে তার বান্ধবী, চাচাতো, খালোতো বোনেরা, পেছনে দাড়িয়ে আছেন চাচি আর খালা , সামনে কাজীসাহেব। আদ্রিশাকে কবুল বলতে বলা হলে সে চুপ করে থাকে‌ সাধারনত বিয়েতে প্রায় সব কনেরাই এমনটা নিশ্চুপ হয়ে থাকে। আদ্রিশাও তার ব্যাতিক্রম নয়! সবাই আদ্রিশাকে কবুল বলার জন্য জোর করছে। পেছন থেকে চাচি আর খালাও লাগাদার বলছেন যেনো তাড়াতাড়ি কবুল বলে দেয়। কিন্তু আদ্রিশা চুপ করে চোখের পানি ফেলছে। সে খুঁজছে তার বাবা মাকে! চোখ তুলে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো বাবা হামিদুর আহমেদের চোখে পানি আর মুখে এক দুশ্চিন্তার ছাপ! আশেপাশে মা কে দেখতে না পেয়ে মাথা ঘুরিয়ে দেখলো মা রুমানা আহমেদ‌ও একটু দূরে দাড়িয়ে চোখ বন্ধ করে আছেন। এটাই তো তাদের চাওয়া। মেয়ের খুশি! সামনের দিকে মুখ করে, নাক টেনে নিজেকে শান্ত করে লম্বা শ্বাস নিলো আদ্রিশা। সবার জোড়া জোরিতে কবুল বলে সাইনটাও করে দিলো সে! রুমানা আহমেদ চোখ খুলে মুখে হাসি ফুটালেন। হামিদুর আহমেদ‌ও চোখ মুছলেন। চোখে মুখে এক প্রশান্তি ফুটে উঠেছে তার।

বিদায় বেলা এসে গেছে! আদ্রিশার চলে যাওয়া কাঁদাচ্ছে সবাইকে। আদ্রিশাও কাঁদছে খুব। বাবা মাকে জড়িয়ে ধরে তাদের কাছে ক্ষমা চাইলো। বিদায়ে সব মেয়ে কাঁদে পরিবার ছাড়ার শোকে! কিন্তু আদ্রিশা! পরিবার ছেড়ে দূরে যাওয়ার শোক থেকেও বড় শোক হলো, কত অপমানিত করেছে সে! আজ বিয়ে করে সেই বাড়িতেই যাচ্ছে যে বাড়ির লোকজনকে লজ্জায় ফেলেছিলো! ওদের সামনে নিজেকে দাড় করাবে কিভাবে? শ্বশুড় শাশুড়ি মেনে নিলেও বাকি সদস্যরাও কি মানবে তাকে‌ ? নিজের কাজেই লজ্জিত আজ!জেসমিন , আদ্রকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছে আদ্রিশা। আদ্র তো পারলে বোনকে বুকের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়! আরিয়াও আদ্রিশাকে ছাড়তে চাইছিলো না‌ । আদ্রিশার লেহেঙ্গার ওড়না ধরে রেখেছিলো! খুব কষ্টে তাকে ছাড়িয়ে আদ্রিশা গাড়িতে উঠৈ।

শ্বশুর বাড়িতে গাড়ি থেকে নামতেই মালিহা আর তার জা এগিয়ে এলেন কনে বরণ করতে। সব নিয়ম কানুন মেনে আদ্রিশাকে ঘরে এনে বসানো হলো‌। মুগ্ধর ঘরেই বিছানায় বসানো হয়েছে তাকে। পাড়া প্রতিবেশীরা নতুন ব‌উ দেখতে আসছে। ব‌উ দেখে প্রশংসা না করলেও আড়ালে ওকে নিয়ে মজা করছে সবাই! প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলছে না। বলার কথাও না। বরের মা নিজে মেয়েকে ঘরে এনেছেন, এমতাবস্থায় তার বিরুদ্ধে কিছু বললে তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না বলেই সবার ধারনা।সত্যিই তাই! মালিহা ইয়াসমিনের চোখে মুখে খুশির ঝলক দেখে বলা মুশকিল যে এই মেয়ের জন্য অনেক অপমানিত হতে হয়েছে তাদের। মুগ্ধর কাজিনরাও বেশ আনন্দে উল্লাস করছে। হৈ হুল্লোর হচ্ছে! এর মাঝেও কেউ কেউ টিটকারি মারছে, হাসছে। মালিহা ইয়াসমিন সব কিছু লক্ষ করলেও, কিছু না বলে আদ্রিশার হাতে সোনার চুরি পরিয়ে দিলেন আর বললেন, “আমাদের বাড়ির ব‌উ নয় মেয়ে হয়ে থাকবে তুমি। আমার মুগ্ধর উপযুক্ত স্ত্রী!” কথাটাই যেনো ছিলো সকলের অবজ্ঞার উত্তর। কিন্তু আদ্রিশা ভাবছে অন্য কথা। এত কিছু হ‌ওয়ার পর‌ও এই মহিলা তাকে মেয়ের আসন কেনো দিচ্ছেন? তার তো উচিত ছিলো, সবার মতো তাকে লান্চিত করা আর বিয়ে ভেঙে কোনো এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ দেয়া! তা না করে, ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া দিয়ে ছেলের জীবনে নিয়ে এলেন! ব্যাপারটা শুধু আদ্রিশাই নয়, বুঝতে পারছে না অনেকে!

রাত অনেক হয়ে গেছে। ফুল সজ্জ্বিত বাসর ঘরে বসে আছে আদ্রিশা। একবার চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলো সে। ঘরটা খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। গোলাপের সুগন্ধে রুম ভরে আছে। দরজা খুলার আওয়াজে নড়ে চড়ে উঠলো আদ্রিশা। মুগ্ধ ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে পেছন ঘুরে আদ্রিশার দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আছে। আদ্রিশা বিছানা থেকে নেমে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো, “ক্ষমা করবেন আমায়। আমি সত্যিই ভাবি নি আমার জন্য এতকিছু সহ্য করতে হবে আপনাদের! আপনি সব জেনে শুনেও আমাকে নিজের স্ত্রীর পরিচয় দিয়েছেন! আমি জানি না কি বলবো আপনাকে? ফেরেস্তা নাকি মহাপুরুষ! ‌যেখানে আমাকে কেউ অবজ্ঞা , অবহেলা করতে বাকি রাখে নি , সেখানে আপনি আমায় গ্রহণ করলেন!? আমি তো আপনার যোগ্য‌ও ন‌ই।” কিছুক্ষন থেমে চোখ মুছে আবার‌ও বললো,” ‌আমি সবার কথা ভেবে আর পরিবারকে আরো অপমানিত হ‌ওয়া থেকে বাঁচাতে গিয়েই বিয়েতে রাজি হয়েছি! না, না, এমনটা ভাববেন না যে, ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু করেছি! তবে, মনকে বুঝানো সম্ভব না আর না এত তাড়াতাড়ি অতীত ভুলা সম্ভব! ‌আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন, তার প্রতিদানে আমি আমার সাধ্যমতো এই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাবো। তবে, আমার একটু সময় দরকার। এতোটাও সাহসী আর স্ট্রোং ন‌ই আমি যে, আজকের ঘটনা এখনি ভুলে গিয়ে নতুন সম্পর্কে জড়াবো! আশা করি আমায় যখন এতোটা বুঝেছেন, তাহলে এখনো বুঝবেন।”

মুগ্ধ মাথা নেড়ে বললো, “আই এম ভেরি স্যরি আদ্রিশা!”

মুগ্ধর কথা আদ্রিশার মাথার উপর দিয়ে গেলো‌ । মুগ্ধর দিকে জিগ্যাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই মুগ্ধ মিনতি ভঙ্গিতে বললো, “আমায় ক্ষমা করে দিন আদ্রিশা! আমি আপনার আর আমার পরিবারের বিশ্বাসের সাথে খেলেছি! আমি সত্যি বলছি , আমি,,, আমি চাই নি এমন কিছু হোক! নিজের সার্থের জন্য আপনাকে ইউজ করেছি আমি! আমি,,,,, আমি ভু,,,ল করেছি,,!”

আদ্রিশা এবার‌ও কিছু বুঝলো না। চোখ মুখ কুঁচকে মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে আছে সে। মুগ্ধ হঠাৎ স্যরি কেনো বলছে ?কি এমন করেছে যে মিনতি করছে? আর ওকেই বা ইউজ কি করে করলো? কিছুই মাথায় ঢুকছে না তার।মুগ্ধ নিজেকে শান্ত করছে। এপাশ থেকে ওপাশে পাইচারি করে চুল মুঠো করে টানতে টানতে বললো, “আমি আপনার সাথে এই সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যেতো পারবো না! বিয়ে করতে চাইলেও এই বিয়ে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে পারবো না! এই সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ নেই আদ্রিশা! মিথ্যে বলেছি আমি,,,,,, সব মিথ্যে! আপনাকে বিয়ে করেছি নিজের সার্থে । আপনাকে স্ত্রীর পরিচয় দিলেও স্ত্রীর মর্যাদা, অধিকার কিছুই দিতে পারবো না!! আমি কোনো ফেরেস্তা বা মহাপুরুষ ন‌ই বরং আমি খুব খারাপ! সার্থ সন্ধানি, সেলফিশ! নিজের কথা ভেবে আপনার এত বড় ক্ষতি করে দিলাম!!আই এম স্যরি!”

চলবে,,,,,,,,,,,,