#হৃদয়_জানে_মনের_কথা
#পর্ব_৮
#লেখনীতে_মারিয়া_আক্তার_মাতিন
ব্যালকনির দরজার আড়ালে নিঃশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে আছে স্রোত। বুকের ভিতর ধুকপুক শব্দটা যেন নিজের কানেই শুনতে পাচ্ছে। অন্বয় ভাই একসময় পাশে ছিলেন মানে? কেন পাশে ছিলেন? কার পাশে ছিলেন? কে এই মেহের? সে ফের শুনতে পেল অন্বয় বলছে,
-“তুমি আমার সংসার ভাঙবে? তুমি? তুমি যা বলছো তার কোনো প্রমাণ আছে? একটা প্রমাণ দেখাতে পারবে?”
ওপাশ হতে কী বলছে তা শোনা গেল না। তবে স্রোত শুধু একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে। সে জীবনে কখনো প্রেম, ভালোবাসায় জড়ায়নি। এসব চিন্তা মাথায়ও আনেনি। নিজের মনের সবটুকু ভালোবাসা ভবিষ্যতে স্বামীর জন্য জমা রেখেছিল। যার সাথে তার বিয়ে হবে, তাকে সে সমস্ত ভালোবাসা উজাড় করে দিবে–এই পণ নিয়েই সে এতোকাল অতিবাহিত করেছে। তবে, ভাগ্যের লিখন যায় না খণ্ডন। ভাগ্যে তার অন্বয় ভাইয়ের সাথে বিয়ে লিখা ছিল তাই উনার সাথেই বিয়ে হয়েছে। নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে সে চেয়েছিল অন্বয় ভাইয়ের সাথে সুখের সংসার করতে, উনাকে ভালোবাসতে। কিন্তু উনার এমন আচরণের পর তার সমস্ত ইচ্ছেই যেন মরে যাচ্ছে। তার এতোদিনের আশা, স্বপ্ন সব বুঝি এভাবেই ভেঙে যাবে?
-“ খবরদার মেহের, তুমি আমাকে ফোন করবে না। তোমার জন্য আমি আমার সংসারে অশান্তি চাই না।”
এই বলে অন্বয় ফোন কেটে দেয়। ব্যালকনির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। মেহেরের দেওয়া ম্যাসেজটা পড়লো সে। তখন ফোন ধরা হয়নি দেখে ম্যাসেজটাও পড়া হয়নি। ম্যাসেজ পড়ামাত্রই তার শরীর রাগে থরথর করে কাঁপছে। এই মুহূর্তে মেহের তার সামনে থাকলে সে খু’ন করে ফেলতো তাকে। এতো বড়ো সাহস? তার ফোনে এসব ম্যাসেজ! এজন্য মানুষকে বেশি প্রশ্রয় দিতে নেই। মাথায় চড়ে বসে এরা। তার মানে, স্রোত তখন এই ম্যাসেজ পড়েই এমন ছটফট করছিল? না জানি, মেয়েটা তাকে নিয়ে কতো কীই না ভাবছে! তবে একটা বিষয় ভাবতেই তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটলো। স্রোত তাকে নিয়ে জেলাস ফিল করে, কোনো মেয়ে তাকে ম্যাসেজ করেছে, বিষয়টা সে মানতে পারেনি। এতটুকু ভাবতেই তার ভীষণ আনন্দ হলো। সে তো চায় মেয়েটার মনে তাকে নিয়ে অনুভূতি তৈরি হোক, ঠিক যেমনটা তার মনে তৈরি হয়েছিল বহুকাল আগেই। বেঁচে থাকতে যে অনুভূতি থেকে নিস্তার নেই। সে চায় ও না নিস্তার পেতে।
স্রোত চটজলদি বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো। এখনই অন্বয় ভাই রুমে আসবেন। তাকে এভাবে লুকিয়ে কথা শুনতে দেখে বুঝে ফেলবেন সব। এরপর পরই রুমে প্রবেশ করে অন্বয়। স্রোতের কাছে এসে নিচু হয়ে তার মুখ বরাবর বসে। স্রোতের ওই ফুলের মতো নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে বেশ অনেকক্ষণ। চোখেমুখে গরম শ্বাস আছড়ে পড়াতে স্রোত বুঝতে পারলো অন্বয় ভাই তার খুব কাছে। সে চোখদুটো খিচে আরও প্রবলভাবে ঘুমের ভান ধরলো। স্রোতের লুকিয়ে লুকিয়ে কথা শোনা অন্বয় টের পেয়েছে। ব্যালকনিতে আছড়ে পড়া পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় স্রোতের ছায়া স্পষ্ট দেখেছে সে। সে মুচকি মুচকি হাসলো। মনে মনে বলল,
-“ আমাকে তো খুব পোড়াচ্ছিলি! এখন নিজে পুড়ে দেখ, কেমন লাগে!”
সে উঠে গেল। সোফায় শুতেই একটা ভাবনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। স্রোত তাকে ভুল বুঝবে না তো? ভুল বুঝে দূরে সরে যাবে না তো? স্রোত তাকে ছেড়ে চলে যাবে–এটা ভাবতেই তো দমবন্ধ হয়ে আসে। এমন ভাবনা সে মাথায়ও আনতে পারে না। না, স্রোতকে সব সত্যি বলতে হবে খুব শীঘ্রই।
পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে স্রোতের। বাইরে হতে আসা রোদের মিষ্টি আলো চোখেমুখে পড়তেই সে দুচোখ কুঁচকে ফেলে। জানালার পর্দা কে সরালো? নিশ্চয়ই অন্বয় ভাইয়ের কাজ এটা। তখনই ওয়াশরুমের দরজা খোলার আওয়াজ এলো। স্রোত তাকিয়ে দেখলো অন্বয় শাওয়ার নিয়ে বের হয়েছে। পরনে স্যান্ডো গেঞ্জি, কালো ট্রাউজার। সে এই প্রথম অন্বয়ের ফুলে ফেঁপে উঠা হাতের পেশিগুলো লক্ষ করলো। সেই সাথে অন্বয়ের শক্ত পিটানো বিশাল দেহটা গেঞ্জির সাথে মিশে আছে। স্রোতের একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার মাঝে অন্বয় তার সামনে এসে তুড়ি বাজিয়ে বলল,
-“ যেভাবে হা করে তাকিয়ে আছিস, মনে হচ্ছে জীবনে আমার মতো হ্যান্ডসাম ছেলে দেখিস নি! অবশ্য আমি একটু বেশিই হ্যান্ডসাম কিনা!”
স্রোত ভেংচি কাটলো। বিদ্রুপের সুরে বলল,
-“হ্যান্ডসাম না ছাই! হ্যান্ডসাম এর ‘হ’ টাও আপনার মাঝে নেই। পাড়ার মদনের মতো লুক নিয়ে এসেছে নিজেকে হ্যান্ডসাম দাবি করতে! হাহ! মানুষ যে আসলে নিজেকে কী মনে করে!”
অন্বয় হঠাৎ স্রোতের খুব কাছে এসে দুদিকে মাথা নেড়ে চুল ঝাড়লো। ভেজা চুল থাকায় স্রোতের চোখেমুখে পানির ছিটে লাগে। স্রোত দুচোখ বন্ধ করে মেকি বিরক্তিভাব দেখিয়ে বলল,
-“ অন্বয় ভাই, আপনি কিন্তু আমায় খুব জ্বালাচ্ছেন!”
অন্বয় ওভাবে কাছে থেকেই বলল,
-“ তাই নাকি? খুব জ্বালাচ্ছি? জ্বালালে তো তোর গায়ে চিহ্ন থাকার কথা। কিন্তু আমি তো কোনো চিহ্ন দেখতে পারছি না!”
অন্বয় ঠিক কী বুঝাতে চেয়েছে বুঝতে পেরে স্রোতের সারা মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে বলল,
-“ছি! আপনি কী অসভ্য!”
-“আই নো ইট।”
-“ আপনি কি জীবনে ভালো হবেন না?”
-“দুঃখিত, আমি আমার বউয়ের কাছে ভালো হতে চাই না। পুরো দুনিয়ার কাছে ভালো হলেও বউয়ের কাছে সারাজীবন অসভ্যই থাকতে চাই।”
-“ফা’ল’তু কথা বাদ দেন তো! এখন বলুন, আপনি সকালে পর্দা সরিয়েছেন?”
-“ইয়েস!”
-“কেন?”
অন্বয় দূরে সরে গিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,
-“যাতে তোর আরামের ঘুমটা ভেঙে যায়!”
স্রোত রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
-“আপনি সবসময় আমার সাথে এমন করেন কেন?”
-“এতো সকাল পর্যন্ত ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।”
স্রোত বিড়বিড় করে বলল,
-“হুহ! আসছে আমার স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ!”
বিড়বিড় করে বললেও অন্বয় শুনে ফেলল। সে বাঁকা হেসে বলল,
-“স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ না হলেও আমি একজন অসভ্য বিশেষজ্ঞ। আর আমি যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সেটা হলো…
স্রোত তড়িঘড়ি করে বলল,
-“থাক, থাক, আর বলতে হবে না! দয়া করে মুখে তালা লাগান।”
অন্বয় তার কথা আর শেষ করলো না। স্রোতের অনুরোধ রাখলো। সে তার হাতে থাকা তোয়ালে স্রোতের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলল,
-“ক্যাচ ইট!”
হঠাৎ করে ছুঁড়ে মারায় স্রোত ধরতে তো পারলোই না বরং তোয়ালেটা তার মুখের উপর গিয়ে পড়ে। সে তোয়ালে সরিয়ে চেঁচিয়ে বলল,
-“অন্বয় ভাই, এসব কী!”
অন্বয় এক লাফে বিছানায় উঠে বলল,
-“নে, আমার চুল মুছে দে! জলদি কর। আমার অফিসে যেতে হবে।”
-“কেন আপনি চুল মুছতে পারেন না?”
-“এতো কথা বলিস কেন? যেটা বলেছি সেটা কর!”
স্রোতেরও কেন জানি না করতে ইচ্ছে করলো না। তারও মন চাচ্ছে অন্বয় ভাইয়ের চুলগুলো খুব যত্ন করে মুছে দিতে। সে অন্বয়ের ঠিক পিছনে বসে তোয়ালে দিয়ে অন্বয়ের চুল মুছে দিতে লাগলো। হঠাৎ তার গতরাতের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে সেই ম্যাসেজটার কথা, মেয়েটার কথা–মেহের। তার এবার মনে জেদ চাপলো। খুব করে রাগ হতে লাগলো। আর সেই রাগ প্রয়োগ করলো অন্বয়ের চুলের উপর। এতো জোরে চুল মুছতে লাগলো যে চুল বোধহয় সব ছিঁড়ে ফেলবে। তোয়ালে দিয়ে নিজের সবটুকু বল প্রয়োগ করে চুল মুছতে লাগলো৷ কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, অন্বয় একটা টু শব্দও করলো না। সে এমনভাবে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, যেন মনে হচ্ছে স্রোত কত যত্ন করেই না তার চুল মুছে দিচ্ছে৷ বেশ কিছুক্ষণ পর স্রোত চুল মুছা শেষ করে বলল,
-“আপনার কী একটুও ব্যথা লাগছে না? চুপ করে আছেন কীভাবে? কোনো রিয়্যাকশনও দিচ্ছেন না!”
অন্বয় বন্ধ চোখদুটো খুলল। স্রোতের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
-“আমি ব্যথা অনুভব করিনি, আমি অনুভব করেছি তোকে, তোর সংস্পর্শকে। আমি অনুভব করেছি আমার বউ আমার চুল মুছিয়ে দিয়েছে৷ কীভাবে মুছিয়ে দিয়েছে সেটা ফ্যাক্ট না।”
স্রোত চুপচাপ শুনে গেল কথাগুলো। তার এখন কেন জানি খুব খারাপ লাগছে। আহারে! জেদের বশে কেন যে সে এমন করতে গেল! অন্বয় ফের বলল,
-“তবে তোর হঠাৎ এই জেদের কারণ কিন্তু আমি জানি! আমিও দীর্ঘদিন ধরে তোর মতো এই আগুনে পুড়ছি তো! অভিজ্ঞতা বেশি।”
স্রোত হতচকিত হয়ে বলল,
-“কী জানেন?”
-“শুনতে চাস?”
-“অবশ্যই!”
-“ওকে। রাতে এসে এই নিয়ে তোর সাথে আমার কথা আছে।”
এই বলে অন্বয় চলে গেল নিচে। এদিকে, স্রোত ভাবতে লাগলো, তার সাথে আবার কীসের কথা? আর উনি তখন কী বললেন, আমার মতো উনিও আগুনে পুড়ছেন? উনার কথার আগাগোড়া কিছুই সে বুঝতে পারে না। এই লোককে বোঝার সাধ্যি বোধহয় তার নেই।
সকালে নাস্তা খেয়ে অন্বয় চলে গেছে অফিসে। স্রোত ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখছে। পাশেই ফারজানা বেগম বসে পান খাচ্ছেন। স্রোত ফুফুকে খেয়াল করে বলল,
-“তুমি পানও খেতে পারো, ফুফু! পান খাওয়ার প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হবে তুমি।”
ফারজানা বেগম মুখে পান দিয়ে বললেন,
-“ভালো লাগে রে! আমাদের বংশে কেউ তো পান খায় না। আমিই কেন এতো পান খাই বলতে পারিস?”
-“কী জানি কেন খাও!”
-“কতো চেয়েছি পান খাওয়া ছেড়ে দিতে, পারিনি৷ মরার আগে বোধহয় পারবও না!”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি হঠাৎ বলে উঠলেন,
-“স্রোত, একটা কথা জিজ্ঞেস করতাম!”
-“হ্যাঁ ফুফু, বলো।”
তিনি কিছুটা ইতস্তত করে বললেন,
-“তোর আর অন্বয়ের মাঝে সব ঠিকঠাক আছে তো?”
স্রোত এ কথার জবাব সাথে সাথে দিতে পারলো না। স্রোতকে চুপ দেখে তিনি ফের বললেন,
-“মানে আমি বুঝাতে চাচ্ছি, তোদের মধ্যে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো? দেখ, আমি বড়ো দায়িত্ব নিয়ে অন্বয়ের সাথে তোর বিয়ে দিয়েছি। এখন যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে তো ভাবির সামনে মুখ দেখাতে পারব না। তাছাড়া আমার ভাইটাকেও কথা দিয়েছিলাম যে, আমার অন্বয়ের কাছে তোমার মেয়ে রাজরানীর মতো থাকবে। তোর কোনো কষ্ট হলে আমার ভাইটার আত্মাও যে শান্তি পাবে না!”
মৃত বাবার কথা মনে পড়তেই স্রোতের বুকের ভিতরটা হু হু করে উঠলো। তার বাবা নেই, কত বছর হয়ে গেল! তার বিয়ে নিয়ে বাবারই বেশি স্বপ্ন ছিল। অথচ এই বিয়ের সময় তার বাবাই নেই। সে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
-“ফুফু, তুমি চিন্তা করো না তো এতো। অন্বয় ভাইয়ের সাথে আমার সব ঠিকঠাক। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।”
-“সত্যি বলছিস তো? তাছাড়া তোদের বিয়ের সময় আমার চেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল অন্বয়ের। তোকে বিয়ে করার জন্য আমার মাথা খারাপ করে দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, তোকে এই মুহূর্তে বিয়ে করতে না পারলে সে পাগল হয়ে যাবে। তাই তো হুট করে বিয়ের আয়োজন করতে হলো। নাহলে, ভাবী তোর বিয়েটা আরও পরে দিতে চেয়েছিল। এখন যদি এই হতচ্ছাড়া তোর সাথে উল্টোপাল্টা কিছু করে, তুই ডিরেক্ট এসে আমায় বলবি।”
কথাগুলো শুনে স্রোতের বিস্ময়ের যেন শেষ নেই। অন্বয় ভাই তাকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছিল? কিন্তু উনাকে দেখে তো তা মনে হয় না। মনে হয়, উনি তাকে সহ্যই করতে পারে না। যদি সহ্যই করতে না পারে, তাহলে বিয়ে করতে চাইলো কেন? সেই গুরুগম্ভীর অন্বয় ভাই তাকে বিয়ে করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল ভাবতেই তার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল। মনের মাঝে অদ্ভুত রকমের অনুভূতি হচ্ছে। এই অনুভূতির নাম আসলে কী দেওয়া যায়? ভালোবাসা? স্রোতের এ ধ্যান ভাঙে ফারজানা বেগমের পরবর্তী প্রশ্নে।
-“হ্যাঁ রে স্রোত, অন্বয়ের গতরাতের এ অবস্থা কেন হয়েছে, তোকে কিছু বলেছে?”
-“না, ফুফু। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কিন্তু অন্বয় ভাই বললেন, তেমন কিছু না।”
-“আমাকেও কিছু বলল না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, বড় ধরণের কিছু একটা হয়েছে। ছেলেটা কেন যে কিছু বলছে না! তোর ফুফাকে আমি এসব জানাইনি। এমনেই হার্টের রোগী। পরে টেনশনে কখন কী হয়ে যায়!”
এই বলে তিনি ভ্রু কুঁচকে বললেন,
-“এই, অন্বয় ভাই মানে কী? তুই এখনো অন্বয় ভাই ডাকিস? লোকে শুনলে তো ভাববে তোরা ভাইবোন। তোদের এখন বিয়ে হয়েছে না? আমাদের ফুফু-ফুফা বলিস তাতে সমস্যা নেই। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে৷ কিন্তু অন্বয়কে আর তুই ভাই বলে ডাকবি না।”
-“তাহলে কী বলে ডাকবো?”
-“ কতোকিছু আছে ডাকার জন্য। সেসবও কি এখন তোকে শিখিয়ে দিতে হবে?”
তাদের কথাবার্তার মাঝেই কলিংবেল বেজে উঠলো৷ এই সময় আবার কে আসলো! স্রোত উঠে গেল দরজার কাছে। দরজা খুলতেই দেখতে পেল সামনে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তার বয়সীই একজন মেয়ে। মেয়েটার পরনে টপস, জিন্স। গলার দুপাশ হতে ওড়না ঝুলছে। চুলগুলো পনিটেইল করে বাঁধা। হাতে একটা পার্স। স্রোত মেয়েটাকে চিনতে পারলো না। সে জিজ্ঞেস করল,
-“কে আপনি?”
সামনে থাকা মেয়েটি খুবই দাম্ভিকতার সাথে জবাব দিল,
-“আ’ম মেহের। ফারিশতা মেহনাজ মেহের।”
‘মেহের’ নামটা শুনতেই স্রোতের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। সে দাঁড়ানো থেকে দু কদম পিছিয়ে গেল। মেহের ভিতরে প্রবেশ করে বলল,
-“তুমি কে? এ বাড়ির কাজের লোক নাকি?”
কথাটাতে চরম অপমানবোধ করলো স্রোত। তবে সে ও কম কীসে? সে মেহেরের দিকে এক পা এগিয়ে গিয়ে বলল,
-“ইউ আর রং! আ’ম মিসেস তাসজিদ শাহরিয়ার অন্বয়।”
চলবে……..

