Home "ধারাবাহিক গল্প হৃদয় হারানো বিজ্ঞপ্তি হৃদয় হারানো বিজ্ঞপ্তি পর্ব-০৫

হৃদয় হারানো বিজ্ঞপ্তি পর্ব-০৫

0
88

#হৃদয়_হারানো_বিজ্ঞপ্তি
#পর্ব_৫
#Tahmina_Akhter

— চোখ খোলা রেখে স্বপ্ন দেখতে নেই মি. ফায়েজ।।

ফায়েজ দরজার সামনে থেকে ফিরে এসে খেয়ার চোখে চোখ রেখে জবাব দিলো।।

— চোখ খোলা রেখে স্বপ্ন দেখা উচিত। কেন জানো? জেগে থাকা অবস্থায় আমরা যা নিয়ে ভাবি তা পাওয়ার জন্য আমরা বাস্তবে যতটা ছটফট করি ঘুমের ঘোরে দেখা স্বপ্নে কিন্তু ততটা ছটফট করি না। কারণ,, বোধবুদ্ধি তখন কাজ করে না আমাদের ।

— ফিলোসোফি ডিগ্রি নিয়েছেন কোন ইউনিভার্সিটি থেকে??

— বহুবছর আগে কেউ তার প্রেম সাগরে আমায় ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিলো বুঝলে?? তার প্রেম সাগর থেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পারিনি। কি আর করার সাগরে সাতার কাটতে কাটতে ওমন মহা ডিগ্রি অর্জন করে ফেললাম।

কথাটি বলে ফায়েজ দুষ্ট হাসি দিয়ে মিষ্টি কন্ঠে খেয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,,

— তুমি পিকনিকে যাবে এবং তোমার সীটের পাশে আমার সীট হবে৷ পুরো পিকনিকে তুমি এবং আমি একসাথে থাকব। বাকিরা হারিয়ে যেতে পারে বাট সেসব ব্যাপারে আমার ইন্টারেস্ট নেই। কারণ,, সবার দায়িত্ব তো আমি একা নিতে পারব না।

কথাটি বলে খেয়ার নাকে আলতো করে টোকা দিয়ে চলে গেছে ফায়েজ। খেয়া নাকের ওপর হাত চেপে ধরে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। মানে ফায়েজ নামের লোকটা দিনদিন অসভ্য হয়ে যাচ্ছে!! খেয়ার নাকে টোকা দিয়ে গেলো অথচ খেয়া কিছুই বললো না।

ভারি অদ্ভুত তো!!!

— কে এসেছে খেয়া???

রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে হাত মুছতে মুছতে প্রশ্ন করলেন খেয়ার ফুপি রুমানা। খেয়া ভ্রু কুঞ্চিত করে উত্তর দেয়।

— বাড়িওয়ালার ছেলে কি যেন নাম??.

— ফায়েজ??

— হুম ; হুম ;ফায়েজ। বলেছে আগামী বুধবার ভোরবেলায় তৈরি হয়ে থাকতে।

— কিন্তু,, কেন??

বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলেন রুমানা। খেয়া রুমানাকে আরও অস্থির করার জন্য বললো,,

— কি জানি?? তুমি কি একটু কষ্ট করে তাকে জিজ্ঞেস করবে,, কেন এই কথা আমাকে বলে গেলো??

রুমানা ব্যস্ত ভঙ্গিতে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। খেয়া বারবার ডাক দেয়া সত্বেও তিনি পাত্তা না দিয়ে নিজের ইচ্ছেতে চলে গেলেন। রুমানা চলে যেতেই খেয়া হাপ ছেড়ে সোফায় বসে কুশন কোলে দুষ্ট হাসি দিয়ে বললো,,

— মি. ফায়েজ এবার আমিও দেখি আপনি আমাদের পিকনিকে নিয়ে যান কিভাবে??? ফুপি কখনোই রাজি হবে না। কারণ,, আমি যতটা প্রকৃতির মোহে আঁটকে আছি। ঠিক ততটাই ঘরকুনো স্বভাবের আমার ফুপি। অতএব,, ট্রিপ ক্যানসেল। ইয়াহু… কথাটি বলে খেয়া হাসতে থাকে।

বাইরে তখনো বৃষ্টি পরছে,, খেয়ার মনে হলো এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের সঙ্গে দুটো টোস্ট বিস্কুট খেতে পারলে মন্দ হবে না। যেই ভাবা সেই কাজ। খেয়া রান্নাঘরে গিয়ে চুলায় হাড়ি বসিয়ে দেড় কাপ চায়ের পানি দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো পানি ফুটে আসা পর্যন্ত। পানি ফুটতে শুরু করেছে তাই খেয়া দুচামচ চা-পাতা দিয়ে চামচ দিয়ে নেড়ে দেয়। এবার চুলার আঁচ কমিয়ে দেয় যাতে করে চা-পাতা খুব ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে কড়া লিকারে পরিণত হয়। চা হচ্ছে। এদিকে খেয়া একটি কাপের মধ্যে এক টেবিল চামচ গুড়ো দুধ,, এক চামচ চিনি নিয়ে মিক্স করে চুলা থেকে লিকার নামিয়ে কাপে ঢাললো। খুব সুন্দর একটা স্মেল আসছে। বয়াম থেকে দুটো টোস্ট নিয়ে চায়ের কাপ নিয়ে নিজের ঘরে চলে যায় খেয়া। বারান্দায় থাকা দোলনায় বসে বসে বাইরের বৃষ্টি দেখছে আর চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খাচ্ছে।

খাওয়া শেষ হলে খেয়া সেখান থেকে নড়ে না। বসে থাকে। একা থাকলে নাকি মানুষের মনে নানান রকমের চিন্তা এসে মাথায় ভর করে। খেয়ার বেলায় ঠিক তাই হলো। দুচোখের নোনা পানি গাল গড়িয়ে পরছে। ঠোঁট দুটো তিরতির করে কাঁপছে। হয়তো কান্না আঁটকে রাখার বৃথা চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।

এবার দুইহাতের আড়ালে মুখ রেখে হু হু করে কেঁদে উঠলো। পুরো ফ্ল্যাটে একা একটি মেয়ে কাঁদছে। কাঁদতে কাঁদতে খেয়া ফিসফিসিয়ে বললো,,

— আমি তোকে কখনো ক্ষমা করব না। কখনোই না৷৷ এত মানুষের মাঝে চলাফেরা আমার কিন্তু দিন শেষে মনে হয় এত বড়ো একটা পৃথিবীতে আমি সম্পূর্ণ একা। কেন মনে হয় জানিস?? শুধুমাত্র তোর জন্য। আই উইল নেভার ফরগিভ ইউ।

এমন সময় একটি হাত খেয়ার কাঁধ স্পর্শ করে। খেয়া ভেজা চোখে তাকিয়ে দেখলো ওর ফুপি। ফুপিকে দেখে খেয়া যেন আরও ভেঙে পরলো। ফুপির কোমড় জড়িয়ে ধরে মুখ গুজে কাঁদতে কাঁদতে বললো,,

— ফুপি কেন এমন হলো আমার সাথে?? আমি তো একটু সুখ চেয়েছিলাম কিন্তু একটু সুখের বদলে আল্লাহ আমাকে এক সমুদ্র দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন।

খেয়ার কথার পিঠে জবাব দিলেন না রুমানা। খেয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন৷ খেয়া কিছুসময় পর শান্ত হয়। খেয়াকে শান্ত হতে দেখে রুমানা খেয়া পাশে বসলেন। খেয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,,

— তাকদির বিশ্বাস করিস??

খেয়া মাথা নাড়ায়। সে বিশ্বাস রাখে তাকদিরের ওপর।

— তাহলে এটা জেনে রাখ আল্লাহ আমাদের থেকে যতটুকু কেড়ে নেন তারচেয়ে ভালো কিছু দান করেন।

খেয়া বিড়বিড় করে কিছু একটা বললো। রুমানা বুঝলেন না নাকি বুঝেও বুঝতে চাইলেন না । খেয়ার হাত ধরে বললেন,,

— চল ভাত খাবি। দুপুর তিনটে বাজতে চললো। ক্ষিদায় পেট ব্যাথা করছে আমার ।

রুমানার হাত ধরে বারান্দা থেকে ঘরে এসে ডাইনিংটেবিলে গিয়ে বসলো খেয়া। রুই মাছ ভুনা,, কুচো চিংড়ির ভর্তা, আর মসুর ডাল। খেয়া বেশ তৃপ্তি সহকারে খেলো। রুমানা এতক্ষণ খেয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো। খেয়ার দিকে তাকালে কেন যেন বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান তিনি। এতটুকু বয়সে এসে খেয়া যা কিছু হারিয়েছে বড্ড সুখকর নয়। তবুও খেয়া নিজেকে সামলাতে শিখেছে এটাই অনেক। ধীরে ধীরে বেঁচে থাকার অবলম্বন পেয়েও যাবে। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নেই।

খাওয়াদাওয়া শেষ করে রুমে এসে গায়ে কাঁথা জড়িয়ে ঘুমিয়ে পরলো খেয়া। এমন আবহাওয়ায় গায়ে কাঁথা দিয়ে,, ফুল স্পিডে ফ্যান অন করে ঘুমানোর মজাই আলাদা।

সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্তে খেয়ার ঘুম ভাঙে তাও পুরুষালি কন্ঠ শুনে। চট করে চোখ খুলে বিছানা হাতড়িয়ে ওড়না নিয়ে খাট থেকে নেমে ড্রইংরুমের দিকে এগিয়ে যায়। গিয়ে দেখলো,, ফায়েজ এসেছে। চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে আর ফুপির সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছে। খেয়ার মাথায় বিরক্তি চেপে বসলো। কিন্তু প্রকাশ করার উপায় নেই।

— আরে খেয়া তুমি কখন ঘুম থেকে উঠলে??

ফায়েজের প্রশ্ন শুনে খেয়া উত্তর দেয়।।

— এই তো কিছুক্ষণ হলো। আপনি অসময়ে??

— অসময়ে কিসের?? ওদের বিল্ডিং যখন তখন আসতে পারে। তুই কি মাত্র ঘুম থেকে উঠে এখানে চলে এসেছিস?? মুখ ধুয়ে তো আসবি নাকি!!

খেয়া ভীষণ লজ্জা পেয়ে সেখান থেকে চলে যায়। ফুপিও না বুঝে না কখন কোথায় কি বলতে হয়?? খেয়া লজ্জিত ভাবে ওয়াশরুম ঢুকলো ফ্রেশ হতে।

খেয়া ফ্রেশ হয়ে বের হতেই দেখলো ওর ঘরে দাঁড়িয়ে আছে ফুপি। খেয়া হাতের টাওয়াল খাটের কোণায় রেখে জিজ্ঞেস করলো,,

— কিছু বলবে???

— ফায়েজের সঙ্গে একটু মার্কেটে যেতে পারবি??

— কিহহহ্্্

খেয়ার মৃদু, চিৎকার দিয়ে খাটের ওপর বসে পরলো। খেয়ার চিৎকার শুনে ফুপি বিস্মিত হয়ে গিয়েছেন আর ফায়েজ ড্রইংরুম থেকে সোজা খেয়ার রুমের দরজার সামনে এসে হাজির।

— এই মেয়ে এভাবে চিৎকার করছো কেন??

ফায়েজের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে খেয়া ওর ফুপিকে বললো,,

—আমি যাব না।

— তুই যাবি,, তোর ঘাড়ও যাবে।

— ফুপিইই…

— চিৎকার মারলি ক্যান?? সমস্যা থাকলে নীরবে সমাধান করা যায় । এভাবে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে লোকে কি ভাববে??

— ফুপি,, আমি যাব না। তোমার সব কাজ আমি করে দেব তারপরও তুমি আমাকে ফায়েজের সঙ্গে যেতে বলো না ।

খেয়া ওর ফুপির সামনে গিয়ে মিনতি কন্ঠে ফিসফিস করে বললো। এদিকে ফায়েজ খেয়ার কান্ড দেখে বুঝে ফেলেছে খেয়া ওর সঙ্গে যেতে চাইছে না। ফায়েজ সেখান থেকে সরে যায়। ফুফু ভাইঝির ব্যাপারে না পরা ভালো। তাদের ব্যাপার তারা বুঝুক।

— গেলে কি সমস্যা??

— আমি যাব না।

— নিউমার্কেট যাবি আর আসবি। যাস্ট আমার জন্য একটা শাড়ি কিনে আনবি ব্যস।

— শাড়ি কিনবে ভালো কথা। তুমি আমি মিলে মার্কেটে যাই। বাইরের লোকের সঙ্গে কেন যাব??

— ওমা বাইরের লোক কে?? ফায়েজের মতো ছেলে এই বিল্ডিংয়ের কোনো ছেলে আছে নাকি??তাছাড়া,, তোরা ইয়াং জেনারেশনের ছেলেমেয়ে তোদের চয়েস ভালো। তাই তো বলছি মার্কেট থেকে আমাকে একটা শাড়ি কিনে এনে দে মা।

ফুপির পিড়াপিড়িতে খেয়া রাজি হলো। পরনের থ্রী-পিছ চেঞ্জ করে সাদা রঙের কূর্তি পরে নিলো। মাথার চুলগুলো এলোমেলো খোপায় বাঁধলো। তারপর,, পার্সটা নিয়ে সোজা ঘর থেকে বেরিয়ে ড্রইংরুমে চলে এলো।

ফায়েজ তখন কি নিয়ে যেন আলাপ করছিল রুমানার সঙ্গে। কারো পায়ের পদধ্বনি শুনে সেদিকে তাকালো। ফায়েজের চোখ সেদিকে আঁটকে গেছে। সাদা রঙে যে খেয়াকে কেন এত চমৎকার দেখায় ভেবে পায় না ফায়েজ!! খেয়ার মায়াবি রুপে আটকে যাওয়া ফায়েজ নিজের মুগ্ধ চোখখানি আড়াল করতে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্ধৃত হয়।

— আসছি,, আন্টি।

কথাটি বলে ফায়েজ ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে এলো। ফায়েজের পিছু পিছু খেয়া। হাঁটতে হাঁটতে মেইন গেইট পেরিয়ে মেইন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে আছে। রিকশার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু,, রাস্তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ঢাকা শহরে আজ আর খালি রিকশা অবশিষ্ট নেই।

মিনিট পাঁচেক অতিক্রম করেছে। ফায়েজ এবং খেয়ার একে অপরের কাছ থেকে তিন হাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে। দেখলে কেউ বলবে না তাদের দু’জনের গন্তব্য একই জায়গা। ফায়েজ আড়চোখে দুবার তাকিয়েছে খেয়ার দিকে। খেয়া মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ যে তার দিকে তাকিয়ে আছে হয়তো সেই খেয়াল অব্দি নেই।

আরও দশমিনিট অপেক্ষা করার পর একটি খালি রিকশা এলো। ভাড়া এবং জায়গার নাম জানিয়ে ফায়েজ রিকশায় উঠে বসলো। খেয়া তখনও ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।

— খেয়া???

ফায়েজের ডাক শুনে মাথা উঁচু করে তাকালো৷ খেয়ার চোখ কিছু বলছে। ফায়েজ বুঝতে পারলো সেই চোখের ভাষা। রিকশা থেকে নেমে এলো ফায়েজ। তারপর,, খেয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললো,,

— গাড়ি নেইনি এই জন্যই যেন তুমি বলতে না পারো আমি শো-অফ করছি। প্লাস বাইকের পেছনে তুমি বসবে না। আর রইলো রিকশার কথা সামনের মোড়ে গিয়ে আমরা নেমে পরব দ্যান সিএনজি করে নিউমার্কেট যাব।

— সত্যি???

— সত্যি বলছি।

কথাটি বলে ফায়েজ একটা মিষ্টি হাসি দিলো। খেয়া মুগ্ধ হয়ে সেই হাসিতে হাসলো। কিন্তু,, ফায়েজের মুখটায় অন্যকারো অবয়ব ভেসে ওঠে। চট করে খেয়ার মন খারাপ হলো। ভীষণ মন খারাপ হলো। দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিকশায় গিয়ে উঠে বসলো খেয়া। মানুষটা নেই কিন্তু তার স্মৃতি,, প্রতিনিয়ত খেয়াকে তার অস্তিত্বের জানান দিয়ে যাচ্ছে।

ফায়েজ রিকশায় উঠে বসলো তবে খেয়ার কাছ থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে। রিকশা এবার নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। সামনের মোড়ে এসে রিকশা থামলো। ফায়েজ এবং খেয়া দুজনেই নেমে পরলো। ফায়েজ রিকশা ভাড়া দিয়ে সিএনজি ঠিক করে নিউমার্কেটে যাওয়ার জন্য। তারপর,, সিএনজি করে নিউমার্কেটে।

পুরো পথ জুড়ে খেয়া ছিল নীরব। আর ফায়েজ খেয়ার নীরবতাকে উপভোগ করছে। নিউমার্কেটের সামনে এসে সিএনজি থামে। ভাড়া মিটিয়ে দু’জন সিএনজি থেকে নেমে মার্কেটের ভেতরে ঢুকলো।

শাড়ির শো-রুমে ঢুকলো। দোকানীকে মাঝবয়সী নারীদের শাড়ি দেখাতে বললো,, দোকানী শাড়ি বের করে দেখাতে লাগলো। খেয়া যখন শাড়ি দেখতে ব্যস্ত ঠিক সেসময় পেছন থেকে কেউ এসে খেয়ার গলা জড়িয়ে ধরে বললো,,

— কেমন আছো,, ভাবি???

খেয়ার দুচোখ ছাপিয়ে জল গড়িয়ে গাল ভিজে যায়। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি লেগে আছে। ফায়েজ খেয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলো,, একই সময়ে একটি মানুষের মনের দুই অবস্থা কি করে প্রকাশ পায়!! দুচোখে যার বিষাদের ছায়া,, তার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা হাসি কি বোঝায়!! সে ভালো আছে নাকি ভালো থাকার মিথ্যে অভিনয় করে!! কে জানে!!

ফায়েজ এগিয়ে গিয়ে খুশবুর মাথায় হালকা চাপড় দিয়ে বললো,,

— তোর হ্যাবলাকান্ত কই?? বাপ রে বাপ যেই একখান জামাই জুটেছে তোর কপালে!! দু’জন দুজনের হাত ছাড়তেই তো চাস না। আজ তোর হাত ছাড়লো কি করে!!

— আপনারা কি আমার ব্যাপারে কথা বলছিলেন ফায়েজ ভাই??

লজ্জিত ভঙ্গিতে আরমান এসে খুশবুর হাত ধরে ফায়েজকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বললো। আরমানের কান্ড দেখে খেয়া ফিক করে হেসে দেয় সেই সঙ্গে যুক্ত হয় ফায়েজের হাসি। খেয়া এবং ফায়েজের হাসি দেখে খুশবু লজ্জা পায়। হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে কিন্তু লাভ হলো না উল্টো হাত আরও শক্ত করে চেপে ধরলো। খুশবু অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় আরমানের দিকে কিন্তু আরমান খুশবুর সেই অসহায় দৃষ্টির বদলে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ফ্লায়িং কিস ছুঁড়ে দিলো খুশবুর দিকে। ব্যস,, খুশবু রেগেমেগে একাকার।

শোরুমের অনেকেই ওদের চারজনের কান্ড দেখছিল।কারণ,, চোখে পরার মতোই ওরা চারজন।

শোরুমের দোকানি একটা ছাই রঙা শাড়ি এনে ফায়েজকে ডাক দেয়। ফায়েজ এক্সকিউজ মি বলে সেদিকে যাচ্ছে। খেয়া তখনও খুশবুর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। ফায়েজ শাড়িটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখলো। তারপর,, মনে হলো শাড়িটা খেয়াকে দেখানো দরকার। পেছনে তাকিয়ে বলেই ফেললো,,

— খেয়া দেখো তো এই শাড়িটা কেমন?? তোমার ফুপিকে কিন্তু দারুন মানাবে।

ফায়েজ কথাখানি সম্পূর্ণ করে দেখলো খেয়া খুশবুর সাথেই দাঁড়িয়ে আছে এখানে আসেনি। মোবাইল হাতে নিয়ে খেয়ার নাম্বারে কল ডায়াল করলো।

এদিকে খেয়ার ব্যাগে রিংটোন বেজে ওঠে। খেয়া ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে দেখলো,, ফায়েজ কল করেছে। ভ্রু কুঞ্চিত করে ফায়েজের দিকে তাকাতেই দেখলো,, ফায়েজ ওকে ইশারায় কাছে ডাকছে। হাতে একটা শাড়িও দেখা যাচ্ছে। খেয়ার এতক্ষণে মনে পরলো যে,, ও কেন শাড়ির শো-রুমে এসেছে।

দ্রুতপায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ফায়েজের সামনে যেতেই ফায়েজ রাগ না দেখিয়ে বললো,,

— তোমার ফুপির শাড়ি তুমি দেখো,, পছন্দ করো। আমি নিয়ে গেলে কি না কি ভাববে??

খেয়ার হাতে সেই শাড়িটা দিয়ে ফায়েজ অন্য শাড়ি গুলো দেখছে। খেয়া শাড়িটা হাতে নিয়ে দেখলো,, শাড়িটা ভীষণ সুন্দর সুতোর কারুকাজে সজ্জিত। পছন্দ হলো খেয়ার। শাড়িটা হাতে নিয়ে ফায়েজের পাশে যেয়ে দাঁড়িয়ে খেয়া বললো,,

— এই শাড়িটা নিন ফুপির পছন্দ হবে।

ফায়েজ মুচকি হেসে খেয়ার হাত থেকে শাড়িটা নিয়ে দোকানিকে বললো,, শাড়িটা প্যাকেট করে দিতে।

শাড়ি প্যাকেট করা হয়ে গেলে ফায়েজ শপিংব্যাগ হাতে নিয়ে খেয়াকে ডাক দিলো যে কিনা তখন একটি সবুজ রঙা শাড়ি দেখতে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে ফায়েজের ডাক ওর কাছ পৌঁছায়নি৷ ফায়েজ সেদিকে এগিয়ে যায়। খেয়ার পেছনে দাঁড়িয়ে খেয়ার দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখলো,, খেয়া সবুজ রঙা শাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। ফায়েজ মৃদু কন্ঠে খেয়াকে জিজ্ঞেস করলো,,

—- পছন্দ হয়েছে??

খেয়া পেছনে তাকালো দেখলো ফায়েজ দাঁড়িয়ে আছে। এরইমাঝে ফায়েজ খেয়াল করলো খেয়ার চোখ দিয়ে টপ করে জল গড়িয়ে মেঝেতে পরলো। ফায়েজ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে খেয়ার দিকে।

— তুমি কি কান্না করছো খেয়া??

— মোটেও না। জাস্ট এমনিতেই।

কথাটি বলে খেয়া নাক টান দিয়ে চোখের পানি মুছে শোরুম থেকে একপ্রকার দৌঁড়ে বেরিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফায়েজও খেয়ার খোঁজে শোরুম থেকে বেরিয়ে গেছে। এদিকে খুশবু এবং ওর স্বামী আরমান খেয়া এবং ফায়েজের এভাবে চলে যেতে অবাক হলো।

খেয়া শোরুম থেকে বের হওয়ার পর মেইন রাস্তায় এসে দেখলো,, বৃষ্টি নেমেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছে খেয়ার। তাই তো একের পর এক সিএনজিকে থামানোর চেষ্টা করছে কিন্তু সিএনজি থামছে না।

এমন সময় কে যেন পেছন থেকে খেয়ার গায়ে কিছু একটা জড়িয়ে দেয়। খেয়া ভয় পেয়ে যায়। দূরে সরে দাঁড়ায় তারপর পেছনে ঘুরে দেখলো ফায়েজ এসেছে। নিজের গায়ের দিকে নজর গেলো,, ফায়েজের পরনের শার্ট৷ খেয়া ফায়েজের দিকে তাকাতেই ফায়েজ হেসে বললো,,

— যা বুঝলাম এখন থেকে তোমার সঙ্গে দেখা করতে এলে তার আগে আমার গায়ের একটি গেঞ্জি তার ওপর একটি শার্ট পরে ঘুরতে হবে। হুটহাট যেভাবে রাস্তায় গা ভিজিয়ে দাঁড়িয়ে থাকো?? তোমার গা ঢাকতে এরচেয়ে সুন্দর সমাধান আর কই পাব বলো তো??

— আজই ফার্স্ট এন্ড লাস্ট আপনার সাথে আমার কোথাও ঘুরতে যাওয়া। আপনার সঙ্গে আমার নিশ্চয়ই ঘুরতে যাওয়ার মতো সুসম্পর্ক হয়নি। তাহলে নাথায় ঢুকিয়ে নিন আমার জন্য আপনাকে এত প্যারা নিতে হবে না।

কথাটি বলে খেয়া আবারও রাস্তার দিকে মুখ ঘুরিয়ে তাকালো। ফায়েজ মুচকি হেসে পাশের একটা দোকান থেকে বড়ো পলিব্যাগ নিয়ে তাতে শাড়ির প্যাকেট ঢুকিয়ে নিলো। তারপর,, জিন্স প্যান্ট খানিকটা পায়ের ওপর তুলে রাখলো। এবার পলিব্যাগ হাতে নিয়ে খেয়ার পাশে যেয়ে বললো,,

— খেয়া বৃষ্টিতে ভিজবে??

খেয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ফায়েজের দিকে। একইরকম কেন দুজনের কথা!! একইভাবে কেন তারা খেয়াকে কমান্ড করে!! এই যে ফায়েজ তার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে ঠিক সেভাবে সেও তাকিয়ে থাকত!!

খেয়া যেন কোনো অদৃশ্য সম্মোহনে আঁটকে গেছে। ফায়েজের অনুরোধ ভরা বাক্য শুনে খেয়া রাজি হলো বৃষ্টিতে ভিজতে। ফায়েজ এবং খেয়া ফুটপাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টির ফোঁটা মাথায় নিয়ে। পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে ফায়েজ বেশ কয়েকবার খেয়ার দিকে তাকিয়েছে। খেয়াকে কেন যেন মাঝেমাঝে বড্ড অচেনা লাগে। ফায়েজ যখন যখন চায় অবাধ্য খেয়া তার কথা শুনুক, ঠিক তখন তখন খেয়া তার কথা মেনে নেয়। যেমন আজ হলো। হাঁটতে হাঁটতে ওরা দু’জন প্রায় দশমিনিট হাঁটার পর ফায়েজ খেয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,,

— একটা সিএনজি ডাকি??

খেয়া ফায়েজের দিকে তাকালো। লাল হয়ে আছে চোখদুটো। ফায়েজ স্পষ্ট দেখতো পেলো সেই কান্নারত দুটি চোখকে। ফায়েজ ওর বুকে হুট করে চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করলো। খেয়া কাঁদছে এবং কান্না লুকানোর জন্য ওর সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার জন্য রাজি হয়েছে। ফায়েজ কি করবে ভেবে পাচ্ছিলো না। খেয়ার কান্না কেন যেন ফায়েজ সহ্য করতে পারে না। ওর কান্নাগুলো গিয়ে ডিরেক্ট ফায়েজের বুকে গিয়ে আছড়ে পরে। যেমন করে সমুদ্রের ঢেউ তীরে গিয়ে আছড়ে পরে।

বেশ কয়েকটা সিএনজিকে হাতের ইশারায় থামতে বললো কিন্তু থামছে না। এদিকে অবিরাম বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাওয়ার কারণে খেয়ার শরীর কাঁপতে শুরু করে। ঠোঁটগুলো কাঁপছে। ফায়েজ বুঝতে পারলো,,বোকার মত বৃষ্টিতে ভেজা উচিত হয়নি। সিএনজি যখন পাওয়া যাচ্ছিলো না ঠিক তখনি উপায়ন্তর না পেয়ে পাশের চায়ের দোকানের সামনে খেয়াকে নিয়ে দাঁড়ালো। যাক বৃষ্টি থেকে বাঁচা গেলো। মোবাইল ফোন পলিব্যাগ থেকে করে দেখলো,, খেয়ার ফুপি আটাশবার কল করেছেন। ফায়েজ কলব্যাক করলো,, প্রথমবার রিং হতেই কল রিসিভ করে জিজ্ঞেস করলেন,,

— এখনো আসছো না কেন?? রাত নয়টা বাজতে চললো।

— বৃষ্টির কারণে সিএনজি পাচ্ছি না আন্টি। আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। ইনশাআল্লাহ কোনো কোনো ব্যবস্থা করে আসছি আমরা।

কল কেটে দিলো ফায়েজ। খেয়া এতক্ষণ ফায়েজের এবং ওর ফুপির কথোপকথন শুনছিল। খেয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফায়েজকে বললো,

— বাসে চড়তে পারেন??

ফায়েজ অবাক হয় খেয়ার কথা শুনে। অবাকের রেশ কাটতে না কাটতে খেয়া আবারও প্রশ্ন করলো,,

— আপনি তো আর বাসে চড়তে পারবেন না। যে কিনা কারে করে আসা যাওয়া করে তার কাছে এতটা চাওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। আপনার জন্ম সোনার চামচ মুখে নিয়ে।যদি বাসে চড়তে পারতেন তাহলে আমরা বাসায় তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে পারতাম।

খেয়ার কথাগুলো শুনে ফায়েজ উত্তর দিলো,,

— ভার্সিটিতে যখন পড়তাম তখন কিন্তু রোজ বাসে করে যেতাম। বাবা গাড়ি দেননি তখন।

কথাটি বলে খেয়ার হাত ধরে এগিয়ে যায় রাস্তার দিকে। এমনসময় একটি বাস এলো। খেয়ার হাত ধরে সেই বাসে উঠে গেলো ফায়েজ। খেয়া তখনও ঘোরের মাঝে। মানে হলো ও ভাবতে পারছে না ফায়েজ ওর কথাটি এত সিরিয়াসলি নিয়ে বাসে উঠে যাবে। সীট খুঁজতে হলো না তিনটা সীট খালি ছিল। পাশাপাশি দুটো সীটের একটিতে খেয়াকে বসিয়ে অন্য আরেকটা সিঙ্গেল সীটে বসলো ফায়েজ। যাক এবার শান্তি বাসায় ফিরে যেতে পারলেই হলো।

খেয়া ফায়েজের দিকে একবার তাকিয়ে জানালার ধারে গিয়ে বসলো। রাতের শহরের,, সহস্র ল্যাম্পপোস্টের বাতি,, মুষলধারে বৃষ্টি সবটায় যেন ঐশ্বরিক সৌন্দর্য লেপ্টে আছে। চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। মনটা কেমন বাকবাকম করছে সুন্দর একখানা প্রেমগল্প লিখতে। খেয়া বাসে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো,, আজ বাসায় ফিরে সে একটা চমৎকার প্রেমের গল্প লিখে শারমিন ম্যামের ইমেইলে পাঠিয়ে দিবে তাতে যদি ম্যামের রাগটা কমে যায়। তাহলে তো ভালোই হবে।

খেয়া যখন আকাশপাতাল ভাবতে ব্যস্ত ঠিক তখনি পাশে কেউ বসেছে এমন অনুভব করলো। খেয়া চোখ ঘুরিয়ে দেখলো,, ফায়েজ এসে পাশে বসেছে। খেয়া চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে বিধায় ফায়েজ বললো,,

— সামনে একটা বাসস্টপ আছে বুঝলে। যদি কোনো ছেলে যাত্রী উঠে তবে তোমার পাশেই বসবে আমি ১০০% নিশ্চিত। আর যদি মেয়ে হয় তবে আমি দাঁড়িয়ে থাকব। তুমি নিশ্চিত থাকো এই ভেবে যে আমি তোমার পাশে বসার জন্য ব্যাকুল হয়ে যাচ্ছি না।

ফায়েজ কথাগুলো শেষ করে বাসের সীটে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো। খেয়া ঘাড় ঘুরিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। এতবছরের পরিচয়ে ফায়েজের চোখ আজ ভয় দেখলো খেয়া,, তাও আবার কাকে ভয় পাচ্ছে খেয়া নামক একটা তুচ্ছ মানবীকে যার কিনা ফায়েজের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অব্দি নেই!!

বাসস্টপের কাছে বাস থেমেছিল ঠিকই কিন্তু কোনো যাত্রী ছিল না। তাই বাস তার শেষ গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

লাস্ট বাসস্টপের সামনে এসে বাস থামলো। ফায়েজ এবং খেয়া বাস থেকে নেমে এলো। ততক্ষণে বৃষ্টি থেমে গেছে। খেয়া আগে আগে হাঁটছে আর পেছনে ফায়েজ। দশমিনিট হাঁটার পর ওরা ওদের বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি এসে যায়। ঠিক তখনি ফায়েজ খেয়াকে ডাক দিলো। খেয়া হাঁটা বন্ধ করে ফায়েজের দিকে তাকালো। ফায়েজ ধীর ধীরে খেয়ার সামনে এসে দাঁড়ালো৷ অদূরে রাস্তার পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টের কিঞ্চিৎ আলোর প্রতিফলন খেয়ার চোহারায় পরছে। ফায়েজ সেই মুখখানার দিকে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,,

— থ্যাংক ইউ সো মাচ খেয়া। আজকের সন্ধ্যা আমাকে ব্যতিক্রম ভাবে উপহার দেয়ার জন্য। আমি জানি তুমি আমাকে সহ্য করতে পারো না। বাট ট্রাস্ট মি আমি তোমাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনা করতে পারি না। কখন? কিভাবে? তুমি আমার মনে জায়গা করে নিলে সেটাও জানি না। আমি শুধু জানি তুমি আমার আশেপাশে থাকলে পৃথিবীর সকল সুখকে আমি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে পারি। আর তুমি না থাকলে পৃথিবীর সকল বিষন্নতা আমাকে জাপটে ধরে পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম জায়গায় নিয়ে যায়। যে জায়্গার নাম স্মৃতি। আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই তোমাকে আমাকে এত সুন্দর একটা সন্ধ্যা উপহার দেয়ার জন্য।

কথাগুলো বলে ফায়েজ দাঁড়ালো না। পলিব্যাগটা খেয়ার হাতে দিয়ে একপ্রকার দৌঁড়ে চলে যায় লিফটের দিকে। খেয়া অবাক বিস্ময়ের এক মিশ্র অনুভূতি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। ফায়েজ এগুলো কি বলে গেলো?? যার সাথে কখনো দুমিনিট ভালো মতো কথা বললো না সে কিনা ধন্যবাদ জানিয়ে গেলো তাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য। আচ্ছা,, ফায়েজ খেয়াকে টিজ করলো না তো !! কারণ,, ফায়েজ এত সুন্দর করে খেয়ার সঙ্গে গুছিয়ে কথা বলার মতো মানুষ না।

খেয়া ব্যাগটা হাতে নিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। কারণ,, লিফট তখন ছয়তলায় অবস্থান করছে।

চলমান…..