Home "ধারাবাহিক গল্প এক ফালি রোদ্দুর এক ফালি রোদ্দুর পর্ব-০৮

এক ফালি রোদ্দুর পর্ব-০৮

0
768

#_এক_ফালি_রোদ্দুর_
#_মারিয়া_রশিদ_
#_পর্ব_৮_(বিচ্ছেদ পর্ব)

প্রভার জন্ম দেওয়া নতুন প্রাণকে কোলে নিয়ে বসে আছে ফারহান। তার ঠোঁটের কোণে লেগে আছে এক চিলতে প্রশান্তির হাসি। হাসপাতালের কেবিনে এখনও প্রভাকে আনা হয়নি।অপারেশনের পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। আরও কিছুটা সময় লাগবে।

এই ফাঁকে পরিবারের সবাই একে একে নবজাতককে কোলে নিয়েছে। ইকবাল শিকদার কাঁপা হাতে নাতির মুখ ছুঁয়ে দেখেছেন, রহিমা ইয়াসমিন চোখের পানি মুছতে মুছতে বুকে জড়িয়ে রেখেছেন, এমনকি ইমনও অনেকক্ষণ ধরে বিস্ময়ভরা চোখে শিশুটির দিকে তাকিয়ে ছিলো। সবার কোলে নেওয়া শেষ হলে শিশুটিকে নিজের বুকে আগলে নেয় ফারহান। ছোট্ট শিশুটি তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। পৃথিবীতে আসার পর প্রথম কান্নার ঝড় পেরিয়ে এখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে সে। নরম সাদা তোয়ালের ভেতর থেকে কেবল গোলাপি মুখটা দেখা যাচ্ছে। আশ্চর্যরকম ফর্সা হয়েছে বাচ্চাটি। একদম দুধে আলতা মেশানো রঙ। ছোট্ট নাক, বন্ধ চোখ আর কুঁচকে থাকা ক্ষুদ্র আঙুলগুলো দেখে বারবার মন ভরে যাচ্ছে ফারহানের।

অবচেতনেই ফারহানের মনে একটা চিন্তা ভেসে উঠলো। প্রভার গায়ের রঙ শ্যামবর্ণ। রাজকে সে কোনোদিন দেখেনি। ছবিতেও না। তাই রাজের চেহারা কেমন, সেটাও তার জানা নেই। রাজ কি এমনই ফর্সা? পরক্ষণেই ফারহান নিজের ভাবনায় নিজেই হালকা হাসে। তার নিজের গায়ের রঙও তো খুব ফর্সা। আর এই মুহূর্তে শিশুটি এমনভাবে তার বুকের সঙ্গে লেপ্টে আছে যে দূর থেকে দেখলে মনে হবে দুজনের রঙ যেন একই ছাঁচে গড়া। শিশুটির মাথাটা তার বাহুর ভাঁজে নিশ্চিন্তে রাখা। ছোট্ট নিঃশ্বাসগুলো ফারহানের বুক স্পর্শ করে ফিরে আসছে। সেই স্পর্শে তার ভেতরে জন্ম নিচ্ছে এক অদ্ভুত অনুভূতি। অনুভূতিটাকে ঠিক নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারলো না সে।

কিছু দূরে দাঁড়িয়ে সবকিছু নীরবে দেখছিলেন মারফুয়া বেগম। তাঁর চোখ স্থির হয়ে আছে ফারহান আর শিশুটির দিকে। এই দৃশ্যের মধ্যে এমন এক কোমলতা আছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবুও, সেই কোমলতার আড়ালেই বুকের কোথাও একটা হাহাকার জন্ম নিচ্ছে তাঁর। আজ এই জায়গাটায় রাজের থাকার কথা ছিলো। আজ এই শিশুটিকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার অধিকার ছিলো তার বাবার। আজ সন্তানের জন্মের পর স্ত্রীকে প্রথম দেখার অধিকারও ছিল তার। কিন্তু, নিজের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই সে এই মুহূর্ত থেকে বহু দূরে অবস্থান করছে। এমন একটি মুহূর্ত, যা জীবনে দ্বিতীয়বার ফিরে আসে না। মারফুয়া বেগমের বুকের ভেতর থেকে অজান্তেই একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। কিছু হারানোর বেদনা মানুষ তখনই বোঝে, যখন সেই হারানো জিনিস আর ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকে না। রাজও হয়তো একদিন বুঝবে। কিন্তু, সেই উপলব্ধি আসার সময়টা হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।

সময়ের ব্যবধানে অবশেষে প্রভাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হলো। অপারেশনের ক্লান্তি এখনও স্পষ্ট তার মুখে। শরীর নিস্তেজ হয়ে আছে। ডান হাতে ক্যানোলা লাগানো। স্যালাইনের ধীর ফোঁটা ফোঁটা তরল শরীরে প্রবেশ করছে। চোখ দুটো আধখোলা। জ্ঞান পুরোপুরি ফিরলেও শরীর এখনও দুর্বল। তবুও কেবিনে ঢোকার পর থেকেই তার দৃষ্টি যেন কাউকে খুঁজে ফিরছে।ফারহান সেটা বুঝতে পারে। সে নিচের দিকে তাকিয়ে নিজের বুকে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটির দিকে একবার মমতা নিয়ে তাকায়। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। শিশুটিকে সাবধানে আগলে নিয়ে রহিমা ইয়াসমিনের কাছে এগিয়ে যায় সে। মুখে প্রশান্ত হাসি রেখে নরম স্বরে বললো,
” আন্টি! বাবুকে নিয়ে প্রভার কাছে যান।”

রহিমা ইয়াসমিনের চোখ মুহূর্তেই ভিজে উঠলো। তিনি মৃদু হেসে শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নিলেন। তারপর ধীর পায়ে মেয়ের বেডের দিকে এগিয়ে গেলেন। প্রভার মাথাটা ভারী লাগছে, চোখের পাতাগুলোও যেন বারবার নুয়ে আসতে চাইছে। তবুও, তার দৃষ্টি স্থির হয়ে রইলো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর ওপর। রহিমা ইয়াসমিন তার বেডের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আর তাঁর কোলে সাদা তোয়ালে জড়ানো ছোট্ট এক প্রাণ। দৃশ্যটা চোখে পড়তেই প্রভার বুকের ভেতর কেমন করে উঠলো। মুহূর্তের মধ্যেই তার চোখ ভিজে এলো অশ্রুতে। এই ছোট্ট অস্তিত্বটাকে পৃথিবীর আলো দেখাতে কতোটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। কতো অপমান, কতো কষ্ট, কতো না বলা যন্ত্রণা নিজের ভেতর চেপে রাখতে হয়েছে। কতো রাত একা একা চোখের পানি ফেলেছে, আবার ভোর হলে নিজেকে শক্ত করে দাঁড় করিয়েছে। আজ সেই সমস্ত কষ্টের শেষে তার সামনে শুয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান প্রাপ্তি।

মারফুয়া বেগম এগিয়ে এসে সাবধানে প্রভাকে একটু উঁচু করে হেলান দিয়ে বসিয়ে দিলেন। দুর্বল শরীরটাকে ঠিকঠাক করে বসিয়ে দিয়ে তিনি মমতাভরা চোখে একবার তাকালেন তার দিকে।
রহিমা ইয়াসমিনের ঠোঁটে ধরা পড়লো স্নিগ্ধ হাসি।
” তোর ছেলে।”

মাত্র দুটি শব্দ। কিন্তু, সেই দুটি শব্দ শুনেই প্রভার বুকের ভেতরে যেন এক আলো ছড়িয়ে দিলো। কাঁপতে থাকা হাত দুটো ধীরে ধীরে সামনে বাড়িয়ে দিলো সে। রহিমা ইয়াসমিন খুব যত্ন করে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দিলেন। সন্তানকে বুকের কাছে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রভার নিঃশ্বাস যেন থমকে গেলো। এতো ছোট্ট। এতো নরম। মনে হচ্ছে, একটু জোরে ধরলেই বুঝি ভেঙে যাবে।

শিশুটি তখনও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে। চোখ দুটি বন্ধ। ছোট্ট বুকটা ধীরে ধীরে উঠছে নামছে। মায়ের কোলে আসার পর হয়তো অনুভব করলো পরিচিত কোনো স্পর্শ। তার গোলাপি ঠোঁট সামান্য কেঁপে উঠলো। কিন্তু, সেসব খেয়াল করার সময় কোথায় প্রভার? তার সমস্ত মনোযোগ, সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে এখন কেবল এই ছোট্ট মানুষটা। প্রভা একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো সন্তানের মুখের দিকে। মনে হলো, পৃথিবীতে আর কিছুই তার প্রয়োজন নেই। এই ছোট্ট প্রাণটাই এখন তার আশ্রয়। তার বেঁচে থাকার কারণ।তার সমস্ত শূন্যতার উত্তর। চোখ বেয়ে নীরবে কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। প্রভা আলতো করে শিশুটির ক্ষুদ্র আঙুলগুলো নিজের আঙুলের মুঠোয় নিয়ে ফিসফিস স্বরে বললো,
” মায়ের সব কষ্ট তোমাকেই দূর করতে হবে, বাবা! মা তোমাকে অনেক যত্ন করে বড় করবে। তুমি আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ, সোনা!”

কথাগুলো বলতে বলতে তার কণ্ঠ ভারী হয়ে এলো। সে ধীরে ধীরে মুখ নিচু করে সন্তানের কপালে একটি দীর্ঘ, স্নেহমাখা চুমু এঁকে দেয়। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ফারহান পুরো দৃশ্যটা গভীর মনোযোগে দেখছে।প্রভার চোখের জল, সন্তানের প্রতি তার সীমাহীন মমতা, বুকের সঙ্গে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখার ভঙ্গি, সবকিছুই নিঃশব্দে দেখছে সে। তার বুকের ভেতর হঠাৎ এক অচেনা অনুভূতি জন্ম নিলো।অনুভূতিটা ঠিক কিসের, সে জানে না। শুধু মনে হলো, এই মা আর সন্তানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ছোট্ট পৃথিবীটার দিকে তাকিয়ে থাকতে তার অদ্ভুত ভালো লাগছে। আর সেই ভালো লাগার ভেতর কোথাও যেন এক চিলতে বিষণ্নতাও লুকিয়ে আছে। কারণ, এই মুহূর্তে প্রভার চোখে যে তৃপ্তি সে দেখছে, সেই তৃপ্তির পেছনে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য কষ্টের সাক্ষীও তো সে নিজেই।

রাত অনেকটাই নেমে এসেছে। বাড়ির অধিকাংশ আলো নিভে গেলেও রাজের রুমের বাতিটা এখনও জ্বলছে। বিছানার হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে বসে আছে রাজ। তার সামনে খোলা ল্যাপটপ। আঙুলগুলো দ্রুত কিবোর্ডের ওপর চলাফেরা করছে। অন্যদিকে, ড্রইংরুমে বসে টেলিভিশনে সিনেমা দেখছে অনন্যা। মাঝেমধ্যে সিনেমার সংলাপ আর শব্দ ভেসে আসছে, তবে সেগুলো রাজের ঘরের বন্ধ দরজা পেরিয়ে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারছে না। ঠিক তখনই দরজায় মৃদু শব্দে নক পড়লো। রাজ চোখ না তুলেই বললো,
” দরজা খোলা।”

দরজাটা আস্তে করে ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলেন মারফুয়া বেগম। ঘরে ঢুকে কয়েক মুহূর্ত ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন তিনি। রাজ একবার চোখ তুলে মাকে দেখলো। তারপর আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো ল্যাপটপের স্ক্রিনে। কিছুক্ষণ নীরবতা বিরাজ করার পর সে বললো,
” কিছু বলবে?”

মারফুয়া বেগম এগিয়ে গিয়ে ঘরের একপাশে রাখা ডিভানে বসলেন।
” হুম! একটা খবর দিতে আসলাম।”

রাজের আঙুল থামলো না।
” কী খবর?”

মারফুয়া বেগম কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন।তারপর ধীরে বললেন,
” তুই একটা পুত্র সন্তানের বাবা হয়েছিস।”

কথাটা উচ্চারণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন সময়টা এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়। ল্যাপটপের কিবোর্ডে রাখা রাজের হাতটা সামান্য কেঁপে উঠলো। খুব সূক্ষ্ম সেই কাঁপন। রাজ স্থির হয়ে বসে রইলো। তার চোখ স্ক্রিনের ওপর নিবদ্ধ। একটি ছেলে। তার ছেলে। এই পৃথিবীতে তার রক্তের একটি অংশ জন্ম নিয়েছে। মুহূর্তের জন্য বুকের ভেতর কেমন একটা অচেনা অনুভূতি দোলা দিয়ে উঠেছিল। খুব ক্ষণস্থায়ী, খুব দুর্বল। যেন হৃদয়ের কোনো বন্ধ দরজায় কেউ একবার আলতো করে কড়া নেড়ে আবার সরে গেছে।

মারফুয়া বেগম ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তিনি অপেক্ষা করছিলেন। হয়তো রাজ কিছু জিজ্ঞেস করবে। শিশুটি কেমন আছে? প্রভা কেমন আছে? অথবা অন্তত একবার অবাক হবে। কিন্তু, কিছুই হলো না। নীরবতা দীর্ঘ হতে লাগে। অবশেষে মারফুয়া বেগম নিজেই ডাকলেন,
” রাজ!”

রাজ ধীরে ধীরে চোখের পলক ফেললো। তারপর সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত স্বরে বললো,
” ভালো খবর দিয়েছো। আগামীকাল গিয়ে ডিভোর্সের জন্য অ্যাপ্লিকেশন করে আসবো।”

কথাগুলো শুনে মারফুয়া বেগমের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে। তিনি চোখ বন্ধ করলেন। গলার কাছে জমে থাকা কষ্টটাকে গিলে ফেলতে একটা ঢোক গিললেন। এতোটা নির্দয় কীভাবে হতে পারে তার ছেলে? আজ সে বাবা হয়েছে। তার সন্তানের জন্ম হয়েছে। একটা নতুন প্রাণ পৃথিবীতে এসেছে। তবুও সেই শিশুটির কথা নয়, তার মুখে প্রথম উচ্চারিত হলো বিচ্ছেদের কথা। মারফুয়া বেগম অসহায় দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকালেন। ছেলেটার ভেতরে কি সত্যিই কোনো অনুভূতি কাজ করছে না? একবারের জন্যও কি বাবা হওয়ার অনুভূতি তাকে ছুঁয়ে গেলো না? একবারের জন্যও কি জানতে ইচ্ছে হলো না শিশুটি কেমন দেখতে হয়েছে? মায়ের মতো, নাকি বাবার মতো? কিন্তু, রাজের মুখে কোনো পরিবর্তন নেই।

মারফুয়া বেগম স্থির চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন। আর রাজ আগের মতোই ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। যেন কয়েক মুহূর্ত আগে তাদের মধ্যে এমন কোনো কথোপকথনই হয়নি। কিন্তু, মারফুয়া বেগমের বুকের ভেতরটা যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে উঠছে। আজ যে খবরটা তিনি দিতে এসেছিলেন, সেটা তো শুধুই একটি সন্তানের জন্মের খবর ছিলো না। একজন পুরুষের বাবা হওয়ার খবর ছিলো। একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলোর একটি ছিল। অথচ, সেই খবর শুনেও রাজের চোখে মুখে কোনো আলো ফুটলো না।অবশেষে নিজের কষ্টটাকে আর আটকে রাখতে না পেরে তিনি বললেন,
” এইভাবে নিজের সন্তানকে অবহেলা করবি?”

রাজ বিরক্তির সঙ্গে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারপর ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকেই দৃষ্টি না সরিয়ে বললো,
” মা, প্লিজ! আমি এইটা নিয়ে কোনো গসিপ করতে চাই না।”

” রাজ! খুব বড় ভুল করে ফেলছিস তুই।”

” করলেও আফসোস নেই। প্লিজ, মা! অনন্যা এসে এইসব শুনতে পারলে খুব রাগারাগি করবে। এইটা আমি চাই না।”

কথাগুলো শুনে মারফুয়া বেগম আর কিছু বলতে পারলেন না। তার চোখ ভিজে উঠলো। এই কি সেই ছেলে, যাকে তিনি নিজের বুকের ভেতর আগলে মানুষ করেছেন? এই কি সেই রাজ, যার সামান্য কষ্টেও তার নিজের বুক হাহাকার করে উঠতো? আজ সে নিজের সন্তানের কথাও ভাবছে না। বরং, ভয় পাচ্ছে অনন্যা কী বলবে। মারফুয়া বেগম মুখ ফিরিয়ে নিলেন। চোখের কোণে জমে থাকা জলটা মুছে ফেলার চেষ্টা করলেন। কিন্তু, ততোক্ষণে গাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা অশ্রু নেমে এসেছে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি নিচু স্বরে বললেন,
” তুই এই ছেলেকে না মানতে পারিস, কিন্তু আমি আমার নাতিকে দূরে সরাতে পারি না।”

রাজ নির্বিকার ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকায়।
” কি চাইছো? তোমাদের নামের ওই বিশ শতাংশ যদি ঐ ছেলের নামে করে দিতে চাও, দিয়ে দাও। আই ডোন্ট কেয়ার।”

মারফুয়া বেগম কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু স্থির দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার চোখের সামনে বসে থাকা মানুষটা তারই সন্তান। তার গর্ভে জন্ম নেওয়া ছেলে। অথচ এই মুহূর্তে তাকে ভীষণ অপরিচিত মনে হচ্ছে। সম্পত্তি? একটা নবজাতক শিশুর প্রসঙ্গে তার মাথায় প্রথম যে বিষয়টা এলো, সেটা সম্পত্তি? কোনোদিন কি তিনি ছেলেকে এমন শিক্ষা দিয়েছিলেন? কোনোদিন কি তিনি তাকে শিখিয়েছিলেন, রক্তের সম্পর্কের মূল্য টাকার অঙ্কে মাপতে?

মারফুয়া বেগমের বুকের ভেতর হঠাৎ তীব্র একটা হাহাকার জেগে উঠলো। আজ তার রাজকে দেখে খুব অসহায় লাগছে। প্রভার জন্য তার কষ্ট হচ্ছে, ছোট্ট শিশুটার জন্যও হচ্ছে। কিন্তু, সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে নিজের ছেলের জন্য। কারণ, প্রভা তার সন্তানের মুখ দেখে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছে। নবজাতক শিশুটি তার মায়ের বুকের উষ্ণতা পেয়েছে। কিন্তু, রাজ? সে নিজের হাতেই নিজের জীবন থেকে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসগুলো সরিয়ে দিচ্ছে। আজ হয়তো সে বুঝতে পারছে না। আজ হয়তো নিজের সিদ্ধান্তকেই সঠিক মনে হচ্ছে। কিন্তু, মানুষ সব হারানোর আগে কখনোই বুঝতে পারে না, সে আসলে কী হারাতে চলেছে। মারফুয়া বেগমের মনে হলো, তার ছেলে এমন এক পথ ধরে হাঁটছে, যার শেষ প্রান্তে শুধু শূন্যতা অপেক্ষা করছে। আর একজন মা হয়ে সেই দৃশ্য দেখার চেয়ে অসহায় বোধহয় আর কিছুই হতে পারে না। তিনি ধীরে ধীরে চোখ নামিয়ে নিলেন। গলার কাছে জমে থাকা কান্নাটাকে কোনো রকমে সামলে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন। পেছন ফিরে আর একবারও তাকালেন না। কারণ তিনি জানেন, এই মুহূর্তে রাজকে কোনো কথা বোঝানো যাবে না।
সময়ই হয়তো একদিন তাকে সব বুঝিয়ে দেবে। তবে, তখন পর্যন্ত কতোটা দেরি হয়ে যাবে, সেই উত্তর কারও জানা নেই।

ছেলের বয়স এখন পনেরো দিন। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে আট দিন হয়ে গেছে। এই আট দিনে তার পৃথিবীটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। রাতের ঘুম, নিজের শরীরের ক্লান্তি, ব্যথা, সবকিছুর চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে ছোট্ট এক প্রাণের নিঃশ্বাস। সে নাম রেখেছে, পুণ্য আরিজ ইফতি। সারাদিন তার সময় কাটে ছেলেকে ঘিরে। শিশুটির ঘুম ভাঙলে তার পৃথিবী জেগে ওঠে, আবার ঘুমিয়ে পড়লে সে যেন নিজের ভেতরে এক শূন্যতা টের পায়।

ঘরের ভেতর ছোট্ট পায়ের শব্দে হালকা কোলাহল। প্রভা ছেলেকে কোলে নিয়ে হাটছে এখন। আর দেড় বছরের অলি, ফুপ্পির পেছনে পেছনে গুটি গুটি পায়ে হাঁটছে। ছোট্ট হাত দিয়ে কখনো দেয়াল ছুঁয়ে দেখে, কখনো প্রভার কাপড় টেনে ধরে। সেই নিষ্পাপ কাণ্ড দেখে প্রভার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।

” এই মেয়ে, এভাবে পিছু পিছু ঘুরছিস কেন?”
প্রভা হেসে অলির দিকে তাকায়। অলি কোনো উত্তর দেয় না, শুধু আরও কাছে এসে দাঁড়ায়। ঠিক তখনই কলিং বেলটা বেজে ওঠে। প্রভা এক হাতে নিজের ছেলেকে ভালোভাবে আগলে ধরে, অন্য হাতে দরজা খোলে। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখেই তার ভ্রু কুঁচকে যায়। সে মানুষটাকে চেনে।
রাজের পি.এ, মি.অরকো।

” হ্যালো, ম্যাম!”
অরকো ভদ্রভাবে বলে। প্রভা এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকে। তারপর ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করে,
” আপনি?”

অরকো কোনো ভূমিকা না করে হাত বাড়িয়ে একটি খাম এগিয়ে দেয়।
” স্যার এটা দিয়ে পাঠিয়েছেন। বলেছেন, কাজটা সম্পন্ন করে আমাকে এখুনি আবার এটা ফেরত দিতে।”

প্রভার দৃষ্টি খামের ওপর স্থির হয়ে যায়। তার কণ্ঠে অজানা শঙ্কা,
” এইটা কি?”

অরকো মাথা নাড়িয়ে বলে,
” আমি সঠিক জানি না, ম্যাম! স্যার আমাকে এইটা সম্পর্কে কিছু বলেননি। শুধু আপনাকে দিতে বলেছেন। কাজ শেষ হলে আবার নিয়ে যেতে বলেছেন।”

প্রভা ধীরে হাত বাড়ায়। তার আঙুলগুলো কাঁপছে। সে খামটা নেয়। অরশি ঠিক সেই সময়ই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে সে। অলি মাকে দেখতে পেয়েই দৌড়ে চলে যায় অরশির দিকে। ছোট্ট দুই হাত প্রসারিত করে মায়ের কোলে উঠে পড়ে সে। অরশি একটুও দেরি না করে মেয়েকে কোলে তুলে নেয়। মেয়েকে বুকে আগলে রেখেই সে সামনে এগিয়ে আসে। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অচেনা মানুষটাকে দেখে তার ভ্রু একটু কুঁচকে যায়। সে প্রভার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় জিজ্ঞেস করে,
” কে এসেছে প্রভা?”

প্রভা এক পলক অরশির দিকে তাকায়। তারপর আবার দৃষ্টি ফেরায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির দিকে। সে শান্ত গলায় বলে,
” ভেতরে আসুন, একটু বসুন। আমি রুমে গিয়ে চেক করে আপনাকে আবার ব্যাক দিচ্ছি।”

মি. অরকো ভদ্রভাবে মাথা নাড়ায়।
” ওকে ম্যাম!”

প্রভা তাকে সোফার দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বসতে ইঙ্গিত করে। তারপর ফিরে আসে অরশির দিকে।অরশির কোলে তখনও অলি। ছোট্ট হাত দিয়ে সে মায়ের গলা জড়িয়ে আছে। প্রভা সংক্ষেপে বলে,
” ওনি রাজের পি.এ।”

শব্দটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে অরশির কপালে ভাঁজ পড়ে।
” এখানে কেন?”

প্রভা এক মুহূর্ত চুপ থাকে। তারপর বলে ওঠে,
” এখনো জানি না। একটা খাম পাঠিয়েছে। তুমি ওনাকে নাস্তা দাও একটু, আমি রুমে যাচ্ছি।”

প্রভা আর দেরি করে না। সে কোলে থাকা ছোট্ট ইফতিকে আরও শক্ত করে বুকের সঙ্গে চেপে ধরে। তারপর সে রুমের দিকে চলে যায়।

রুমে ঢুকেই প্রভা প্রথমে ইফতিকে সাবধানে ছোট্ট দোলনায় শুইয়ে দেয়। নরম গদির ওপর শোয়া মাত্রই শিশুটি হাত পা নাড়াতে শুরু করে। দোলনার পাশে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইলো প্রভা। গভীর মমতায় ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকে সে। যতো দিন যাচ্ছে, ইফতির মুখের আদল ততো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সেই চোখের গঠন, নাকের রেখা, এমনকি গায়ের ধবধবে ফর্সা রঙটাও যেন রাজেরই প্রতিচ্ছবি। ছেলেটা যেন বাবার অবিকল ছায়া হয়ে পৃথিবীতে এসেছে।

এই দৃশ্য দেখতে দেখতে হঠাৎ করেই রাজের কথা মনে পড়ে গেল প্রভার। রাজ কি খবরটা পেয়েছে? সে কি জানে, তার ছেলে পৃথিবীতে এসেছে? মারফুয়া বেগম তো হাসপাতালে এসেছিলেন। নিশ্চয়ই ছেলেকে সব জানিয়েছিলেন। তাহলে? একবারও কি তার ইচ্ছে হয়নি নিজের সন্তানকে দেখতে? একবারও কি জানতে মন চায়নি, ছেলেটা কেমন হয়েছে? অজান্তেই বুকের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো প্রভার। ধীরে ধীরে বিছানার কিনারায় বসে খামটার দিকে তাকায় সে। আঙুলগুলো কেমন যেন অবশ হয়ে আসছে। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে খামটা খুললো।ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো সাদা রঙের একটি ভাঁজ করা কাগজ।

প্রভা কাগজটা খুললো। পরের মুহূর্তেই তার শরীর কেঁপে উঠে। চোখের সামনে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা, ডিভোর্স পেপার। তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির কাগজ। কয়েক সেকেন্ড প্রভা স্থির হয়ে বসে রইলো। চোখগুলো শুধু কাগজের ওপর স্থির হয়ে আছে। তাহলে রাজ জানে। জানে যে তাদের সন্তান জন্ম নিয়েছে। জানে যে তার একটি ছেলে হয়েছে। আর সেই খবর জানার মাত্র পনেরো দিনের মধ্যেই সে বিচ্ছেদের কাগজ প্রস্তুত করে পাঠিয়ে দিয়েছে। একবারও কি তার মন চায়নি ছেলেটাকে দেখতে? একবারও না? প্রশ্নগুলো বারবার মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে লাগে। অথচ কোনো উত্তর নেই।

প্রভা চোখ বন্ধ করে। কয়েকটা বড় বড় নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। কিন্তু, বুকের ভেতরের ভার যেন কিছুতেই কমছে না। ঠিক তখনই দোলনা থেকে ভেসে এলো ইফতির মৃদু শব্দ। প্রভা চোখ খুলে তাকায়। তার ছোট্ট পৃথিবীটা হাত পা নাড়িয়ে একমনে খেলছে। কাগজটা বিছানার ওপর রেখে সে এগিয়ে যায়। সাবধানে ইফতিকে কোলে তুলে এনে বিছানায় শুইয়ে দেয়। ইফতি মায়ের দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট হাসির মতো কিছু একটা করলো। তারপর দুটো ছোট্ট হাত নেড়ে প্রভার মুখ ছুঁয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগে। প্রভার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। সে ঝুঁকে পড়ে ছেলের নরম, ফোলা ফোলা গালে একের পর এক চুমু খেতে লাগে। ইফতি খিলখিল করে না হেসেও নিজের মতো করে সাড়া দেয়। ছোট্ট হাত দিয়ে মায়ের গাল চেপে ধরলো।তারপর মুখ বাড়িয়ে গালটা চুষে দেয়। মুহূর্তেই প্রভার গাল ভিজে গেল শিশুর লালায়। দৃশ্যটা দেখে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো তার। চোখের কোণে জমে থাকা জল নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়লো। এক ফোঁটা। দুই ফোঁটা। তারপর কয়েক ফোঁটা অশ্রু এসে পড়লো ইফতির ছোট্ট বুকের ওপর। শিশুটি কিছুই বুঝলো না। সে আগের মতোই হাত পা নাড়িয়ে খেলতে থাকে। আর প্রভা তাকিয়ে রইলো তার সন্তানের দিকে।পৃথিবীর সব সম্পর্ক ভেঙে গেলেও, সব মানুষ দূরে সরে গেলেও, এই ছোট্ট মানুষটা তারই থাকবে। শুধু তার। প্রভা ধীরে ধীরে ইফতির নরম গালে হাত বুলিয়ে ফিসফিস স্বরে বললো,
” তোমার বাবা আমাকে বিচ্ছেদনামা পাঠিয়ে দিয়েছে, সোনা! আজ থেকে তোমার কোনো বাবা নেই। আমিই তোমার বাবা, আমিই তোমার মা। ঠিক আছে? আর হ্যাঁ, আজকের পর আর কখনো বাবা নামক দাবি করবে না তুমি। মায়ের মিষ্টি আদুরে বাচ্চা হয়ে থাকবে। বুঝেছো?”

ইফতি নিষ্পাপ চোখে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর হঠাৎ দুটো হাত নাড়িয়ে খুশির মতো একটা শব্দ করলো। সেই দৃশ্য দেখে প্রভার ঠোঁট কেঁপে উঠলো।
” মা তোমাকে অনেক ভালোবাসে, পাপা! তুমিও মাকে অনেক অনেক ভালোবাসবে, ঠিক আছে? মায়ের সব কষ্ট তুমি ভুলিয়ে দিবে। এই দুনিয়ায় আজকের পর থেকে আমি তোমার, আর তুমি আমার। কথা দাও আমাকে।”

প্রভা নিজের হাতটা সন্তানের দিকে বাড়িয়ে দেয়।পরের মুহূর্তেই ইফতি ছোট্ট একটা হাত তুলে তার একটি আঙুল শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো। তারপর সেই আঙুলটা টেনে নিজের মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিলো। মুহূর্তের জন্য প্রভা থমকে গেলো। চোখের ভেতর জমে থাকা অশ্রু আর আটকে রাখা গেল না। কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো তার গাল বেয়ে। সে আলতো করে নিজের আঙুল ছাড়ানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু, ইফতির ছোট্ট মুঠোটা আশ্চর্যরকম শক্ত। যেন সে সত্যিই মায়ের কথার জবাব দিচ্ছে। যেন সে বলছে, আমি আছি, মা।

প্রভার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। সে অন্য হাত দিয়ে চোখের জল মুছে নেয়। তারপর ঝুঁকে পড়ে সন্তানের কপালে দীর্ঘ এক চুমু এঁকে দিলো। কয়েক মুহূর্ত পর ধীরে ধীরে নিজের আঙুলটা ছাড়িয়ে নিলো ইফতির হাত থেকে। ইফতি সঙ্গে সঙ্গে আবার হাত পা নাড়াতে শুরু করলো। তার গোলাপি ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো অস্পষ্ট এক হাসির রেখা। প্রভা কিছুক্ষণ নিঃশব্দে সেই মুখটার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর গভীর একটা নিঃশ্বাস নেয়।

বিছানার ওপর পড়ে থাকা কাগজটা আবার হাতে তুলে নিলো প্রভা। টেবিলের ওপর রাখা কলমটাও তুলে নিলো। স্বাক্ষর করার আগে আরেকবার চোখ চলে গেলো ইফতির দিকে। ছোট্ট ছেলেটা তখনও তার দিকেই তাকিয়ে আছে। দুটো হাত নাড়িয়ে নিজের মতো করে খেলছে। প্রভার ঠোঁটের কোণে মলিন একটা হাসি ফুটে উঠলো। তারপর কোনো দ্বিধা না করে কলমের নিব কাগজের ওপর ছুঁইয়ে দিলো।একটা স্বাক্ষর। মাত্র কয়েকটি অক্ষর। কিন্তু, সেই কয়েকটি অক্ষরের মধ্যেই শেষ হয়ে গেলো একটি সম্পর্কের সমস্ত আনুষ্ঠানিক অস্তিত্ব। শেষ হয়ে গেলো রাজ আর প্রভার দাম্পত্য জীবন। যে সম্পর্ক একদিন স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিলো, ভালোবাসার আশায় পথ চলেছিলো, সেই সম্পর্কের শেষ রেখাটা আজ টেনে দিলো প্রভা নিজেই।

স্বাক্ষর শেষ করে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইলো প্রভা। অদ্ভুতভাবে তার ভেতরে কোনো ঝড় নেই।কোনো চিৎকার নেই। শুধু গভীর এক শূন্যতা। আর সেই শূন্যতার মাঝখানে একমাত্র আলো হয়ে শুয়ে আছে তার ছেলে। মাত্র পনেরো দিনের ছোট্ট এক শিশু। যে কিছুই বুঝতে পারেনি। তবুও আজকের এই বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় সাক্ষী হয়ে রইলো সেই। নিজের বাবা মায়ের ভাঙা সম্পর্কের নীরব সাক্ষী, পুণ্য আরিজ ইফতি!

#_চলবে_ইনশাআল্লাহ_🌹