Home "ধারাবাহিক গল্প তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-০৫

তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে পর্ব-০৫

0
706

#তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
#পর্বঃ৫
#লেখনীতে_তানিয়া

“একটা দুই বছরের বাচ্চার মেইন্টিন্যান্স এর খরচ মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা লাগে তিয়া? তুমি এসব ভূগোল কাকে বুঝাচ্ছো? নিজেকে নাকি আমাকে? আর কত ছল চাতুরি করবে? ছলাকলার আশ্রয় নিতে নিতে নিজের স্বামী সংসার ভাসিয়ে দিয়েতো চলেই গেছো। এখন আবার দুধের বাচ্চাটাকেও রেহাই দিচ্ছো না। কেমন মা তুমি? ওইটুকু বাচ্চাকে তুমি নিজের চালের গুটি বানিয়ে ফেলেছো। নেহাত বাচ্চাটা মাকে ছাড়া থাকতে পারবে না। না হলে তোমার সাথে আমার অন্যরকম বোঝাপড়া হতো আজকে”।

রাকীন প্রচন্ড রেগে গেছে। রেগে গিয়েই কথা বলছে তার প্রাক্তন স্ত্রীর সাথে। এক বছর আগে তার ডিভোর্স হয়ে গেছে স্ত্রী তিয়ার সাথে। সেও এক নিদারুণ কাহিনি। পারিবারিক ভাবে দেখাশোনা করে বিয়ে করেছিলো সে তিয়াকে। বাবা-মার পছন্দের উপর বিশ্বাস করে। যেহেতু তার নিজের পছন্দ ছিলো না তাই বাবা-মা যাকে ছেলের বউ হিসেবে পছন্দ করেছে তাকে বিয়ে করতে আপত্তি করেনি সে। মেয়েকে তারও পছন্দ হলো। সময়মতো বিয়ে হলো। বেশ ধুমধাম আয়োজনেই বিয়ে হলো। ডাক্তারদের জীবনে ব্যস্ততা এতো বেশি যে ঘর সংসারে তারা সময় কম দিতে পারে। সরকারি হাসপাতালের ইনডোর ডিউটি তারপর আবার আউটডোর রোগী দেখা। সব মিলিয়ে অনেক সময় রাতেও বাড়ি ফেরা সম্ভব হয় না। তারপরেও রাকীন চেষ্টা করেছে তিয়ার খেয়াল রাখতে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তিয়া প্রেগন্যান্ট হলো। সেই সময় স্ত্রীর খেয়াল রাখার জন্যই আউটডোর পেশেন্ট দেখা কমিয়ে ফেলেছিলো সে। যতটা সম্ভব বউকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করতো সে।

সময়মতো বাচ্চা দুনিয়াতে আসলো। ছেলে বাচ্চা হয়েছে তার।ভালোই দিন যাচ্ছিলো। যেহেতু এখন বাচ্চা হয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই পরিবারের খরচ বাড়বে। এছাড়া একটা ভালো অংক রাকীনকে তার বাবা-মায়ের জন্যও বরাদ্দ করতে হয়। ছোট ভাইবোন আছে। এজন্য সে ব্যস্ততা বাড়িয়ে দিলো। যার কারণে সে তিয়াকে সময় দিতে পারছিলো না। তিয়ার অভিযোগ বাড়তে থাকলো। তুচ্ছ কারণে রাগারাগি করে তিয়া বাচ্চা সহ একদিন বাবার বাড়ি চলে যায়। রাকীন ফিরিয়ে নিয়ে আসতে গেলে সে আর ফিরবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরিবার নিয়ে কয়েক দফায় বসা হয়েছিলো। তিয়া তবুও ফিরবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। রাকীনের তখন সন্দেহ জাগে। ছোট্ট একটা কথায় ডিভোর্স এর মতো সিদ্ধান্ত কেনো নিচ্ছে তিয়া। পরে রাকীন এর কারণ হিসেবে উদ্ধার করতে পারে তিয়ার খালাতো ভাই এর সাথে তিয়ার সম্পর্ক ছিলো বিয়ের আগে থেকেই। মাঝখানে ঝগড়া হয়ে ব্রেক আপ হয়ে গিয়েছিলো যার কারণে জেদ করে রাকীনকে বিয়ে করে সে। এতোদিন ছেলেটা দেশের বাহিরে ছিলো । এখন সে আবার ফিরে এসেছে। তিয়াকে আবার চায়। সে তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত। তিয়াকে ছাড়া সে বাঁঁচবেনা। তিয়ারও তার জন্য আবার ভালোবাসা জেগে উঠেছে। সেও তার কাছে আবার ফিরতে চায়। এজন্যই রাকীনের সংসারে সে আর ফিরবে না। তবুও রাকীন বাচ্চার খাতিরে তিয়াকে বুঝিয়েছিলো যাতে সে সংসারটা করে । তিয়া তার কথা শোনেনি। ফলাফল তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। যেহেতু ছোট বাচ্চা মা কে ছাড়া থাকতে পারবেনা তাই আদালতের আদেশে বাচ্চার জিম্মা মাকে দেওয়া হয়। রাকীন মাসে মাসে টাকা পাঠায় ছেলের জন্য। তিয়া যখন যে এমাউন্ট বলে সেটাই পাঠায় তবুও ছেলে ভালো থাক কিন্তু আজকে সে একদম সীমা ছাড়িয়ে গেছে। একটা দুধের বাচ্চার খরচ হিসেবে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে বলেছে। এটা শোনার পর থেকেই রাকীনের মাথা দপদপ করছে। ফোনটা টেবিলের উপর ঠাস করে রেখে তিয়াকে কয়েকটা বাজে ভাবে গা/লি দিলো সে।ক্ষুব্ধ হয়ে বিরবির করে আওড়ালো সে,

_ শুধুমাত্র বাচ্চাটা তার কাছে আছে বলে আমি চেয়েও কিছু করতে পারছি না। তা না হইলে এই চি”টার বা”টপার মেয়েকে দেখে নিতো রাকীন।

রাকীন রেগে গিয়ে জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। শরীরটাও সকাল থেকে ভালো না তার। গা জ্বর জ্বর লাগছে। মাথা ব্যাথাও করছে। ঠিক সে সময় তুরফা রাকীনের কেবিনে নক করে। তাকে পেশেন্ট এর ফাইল দেওয়ার জন্য। রাকীন দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে ভেতরে আসতে বলে তুরফাকে। তুরফার হাতে ফাইল দেখে তাকে জিজ্ঞেস করে,

_ এটা কিসের ফাইল?

তুরফা রাকীনের দিকে ভালো করে তাকায়। তুরফার বেশ সিনিয়র রাকীন। চাকরি জীবনে এটাই তুরফার প্রথম পোস্টিং। সিনিয়র কলিগ হিসেবে তুরফার প্রথম কাজ ডাঃ রাকীনের সাথেই। এই কয়েকমাসে বেশিরভাগ সময় হসপিটালে ডিউটি তার সাথেই করেছে সে। তুরফা বেশ মুগ্ধ রাকীনের উপরে৷ কলিগ হিসেবে বেশ হেল্পফুল এবং ফ্রেন্ডলি রাকীন। পেশেন্ট এর সাথেও তার কানেক্টিভিটি বেশ ভালো। বাকি স্টাফরাও তাকে ভালো বলে। কেনো বলে এটার প্রমাণ তুরফা পেয়েছে আজকে। আজকে একটা ক্রিটিক্যাল রোগীর অপারেশন এর সময় তুরফা ওটিতে তাকে এসিস্ট করেছে। বাচ্চা ডেলিভারির জন্য সি-সেকশন করতে হয়েছে। রোগীর বয়স অল্প হওয়ায় বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলো মেয়েটা। রাকীন তাকে মেন্টালি স্থির করে বুঝিয়ে শান্ত করেছে তা না হলে রোগীর ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাচ্ছিলো। পুরো বিষয়টা এতো সুন্দর করে ডিল করেছে যে সবাই তার প্রশংসা করেছে। তুরফাও ইম্প্রেস হয়ে গেছে। তুরফাকে অন্যমনস্ক হতে দেখে রাকীন বলে,

_ ডঃ তুরফা আপনি কোন খেয়ালে ডুবে আছেন? এটা কিসের ফাইল এনেছেন এখন?

রাকীনের ডাকে তুরফা হুশে ফেরে। নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,

_ স্যার আজকের পেশেন্টগুলোর লিস্ট এবং তার ডিটেইলস এখানে এই ফাইলে আছে। রেকর্ডস আপনাকে চেক করতে হবে।

রাকীন জবাব দেয়,

_ ঠিকাছে আপনি রেখে যান। আমি দেখে অফিসে জমা দিয়ে দিবো।

তুরফা টেবিলের উপর ফাইলটা রেখে চলে যেতে নেয়। দরজা অবধি যেতেই সে ধুপ করে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পায়। পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখে রাকীন মেঝেতে পড়ে গেছে। চোখ বন্ধ করে আছে তবে জ্ঞান হারায়নি। তুরফা দ্রুত পায়ে রাকীনের কাছে গিয়ে তাকে ডাকতে থাকে,

_ স্যার কি হয়েছে আপনার? শরীর খারাপ লাগছে?

তুরফা রাকীনের গলা আর কপালে হাত দিয়ে দেখে জ্বরে গা পু”ড়ে যাচ্ছে। চোখ লাল হয়ে গেছে। তুরফা কোনো রকমে রাকীনকে ধরে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। টেবিলে থাকা গ্লাস থেজে পানি খাওয়ায় রাকীনকে। তারপর বলে,

_ স্যার আপনার গায়েতো ভীষণ জ্বর৷ আপনার বিশ্রাম প্রয়োজন। আপনি বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম নিন।

তুরফা কি যেনো ভেবে আবার বললো,

_ আপনার বাসার ঠিকানাটা দিন। আমার সাথে গাড়ি আছে। আপনাকে বাসায় পৌঁছে দিতে পারবো। এই অবস্থায় আপনার একা যাওয়া ঠিক হবে না।

রাকীন তুরফার এই কথায় মাথা নাড়ায়। আসলেই তার শরীর খারাপ লাগছে অনেক। এই অবস্থায় একা একা বাসায় যাওয়া কঠিন তার জন্য। সে তুরফাকে বলে,

_ আমাকে কষ্ট করে বাসায় ড্রপ করলে ভালো হয়। আমার মাথাটা প্রচন্ড ঘুরাচ্ছে।

তুরফা মনে মনে বেশি খুশি হয়। কেন হয় সে বুঝতে পারেনা। কোনো রকমে রাকীন তুরফার গাড়ি অবধি এসে ভেতরে বসে সিটে মাথা এলিয়ে দেয় । ড্রাইভার ছুটিতে এজন্য তুরফাকেই আজকে গাড়ি চালাতে হবে। সে শিখেছে ড্রাইভিং। রাকীনের সিট বেল্ট ঠিক করে দিয়ে সে রাকীনের বাসার উদ্দেশ্য গাড়ি চালাতে শুরু করে। বেশি দূরে না হসপিটাল থেকে রাকীনের বাসা। একটা বড় বিল্ডিং এর সামনে গিয়ে রাকীন গাড়ি থামাতে বলে। এই বিল্ডিং এর তিন তালায় থাকে সে। তুরফা রাকীনকে এগিয়ে দিতে বাসার ভেতরে যায়। লিফটে উঠে লেভেল তিন এ প্রেস করে। তুরফা রাকীনের ফ্ল্যাটের সামনে এসে পৌঁছায়। জ্বরে রাকীনের চোখ জ্বা”লা করছে। সে গেটের চাবিটাও খুলতে পারছে না। তুরফা চাবি দিয়ে দরজার লক খুলে৷ তুরফা রাকীনকে ধরে ভেতরে নিয়ে গিয়ে সোফায় বসিয়ে দেয়। রাকীন শরীরের পুরো ভর ছেড়ে দেয় সোফায়। চোখ বন্ধ করে আছে সে৷ জ্বরে কাঁপছে রীতিমতো। তুরফা নিজের মনেই বলে,

_ কিছু খাইয়ে ঔষধ খাওয়াতে পারলে জ্বর কমে যেতো। ঔষধ না খেকে জ্বর আরও বেড়ে যাবে। এই অবস্থায় মানুষটাকে ছেড়ে যেতেও ইচ্ছা করছে না তার। এই একটা বাড়িতে একাই থাকে নাকি লোকটা?

তুরফা এদিক ওদিক দেখতে দেখতে রান্নাঘর খুঁজে পেলো।ব্রান্না করা কিছু আছে নাকি সেটা দেখতে গিয়ে শেলফের পাশেই দেখে পাউরুটি আছে। ডিম আছে কিনা দেখতে ফ্রিজ খুলতে গেলো সে। পেয়েও গেলো। যে মেয়ে স্বামীকে কোনোদিন এক কাপ চা করে খাওয়ায়নি সে আজ অন্য কারো জন্য ডিম ভাজতে যাচ্ছে। এইটা তুরফার মাথায় তখন আসেনি বা সেই মুহুর্তে আসাটাও হয়তো তার কাছে উপেক্ষিত। ঝটপট একটা ডিম ভেজে দুইটা পাউরুটি তাওয়াতে সেঁকে একটা প্লেটে করে রাকীনের কাছে নিয়ে গেলো। বসার ঘরে গিয়েই দেখলো সোফাতে সে শুয়ে ছিলো সেখানে নেই। ঘরে চলে গেছে। তুরফা ধীর পায়ে ঘরে ঢুকলো। ঘরে আলো নেই। অন্ধকার করে রেখেছে। বসার ঘরের আলো কিছুটা আসছে এই ঘরে তাই আবছা দেখতে পাচ্ছে সে। রাকীন বিছানায় শুয়ে আছে। হাতের প্লেটটা বেড সাইডে রেখে সে রাকীনকে ডাকলো,

“স্যার উঠুন । গায়ে অনেক জ্বর। কিছু খেয়ে ঔষধ না খেলে আরও বাড়বে। শরীর খারাপ করবে। জ্বরটা কমা দরকার “।

রাকীন কোনো সাড়া শব্দ করলো না। সে কি আদতে কিছু শুনছে কিনা তুরফা সেটাও বুঝলো না। আরও কয়েকবার ডাকাডাকির পরেও যখন রাকীন উত্তর করছে না তখন তুরফা তার গায়ে ্‌ত দিয়ে ডাকার চেষ্টা করলো। হালকা করে কেঁপে উঠলো রাকীন। চোখ মেলে চাইলো কিন্তু জ্বরের ঘোরে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারছে না সে। রাকীন চুপ করে আধখোলা চোখে তাকিয়ে আছে তুরফার দিকে। তুরফা পাউরুটি আর ডিমের টুকরো ভেঙে মুখের সামনে ধরলো রাকীনের। বাধ্য ছেলের মতো তুরফার হাতে অল্প কিছু খেলো সে। তারপর তুরফা তাকে জ্বরের ঔষুধ খাওয়ালো। রাকীন আবার চোখ বন্ধ করে আবার শুয়ে পড়েছে। তুরফার মনে হলো এখন তার যাওয়া উচিত৷ এভাবে একা একজন পুরুষ মানুষ এর ঘরে বেশিক্ষণ থাকাটা বেমানান আবার অসুস্থ একজন মানুষকে এভাবে রেখে যেতেও তার ভালো লাগছিলো না। তুরফার মন সবসময় দোটানায় থাকে। রাকীনের জন্য তার কিছু একটা অনুভূতি আছে কিন্তু সেটা কি কেবলই কলিগের কাজের প্রতি মুগ্ধতা নাকি আরও বেশি কিছু এটা সে জানে না। তুরফা জানে রাকীন এর ডিভোর্স হয়ে গেছে কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানে না সে। তুরফা চলে যাবে। রাকীনকে ডাকলো যাতে গেটটা লক করে এসে শুয়ে পড়ে। রাকীনকে ডাকলে সে আগের মতোই চুপ করে আছে। চোখ বন্ধ তার। ঘুমিয়ে পড়েছে কিনা বুঝা দায়। রাকীনের কাধেঁ হাত দিয়ে তুরফা তাকে ডাকতে নিলেই সে শুনতে পায় রাকীন বিরবির করে বলছে,

” তিয়া তুমি এটা করতে পারো না। কিছুতেই না। আমার বাচ্চাকে আমার থেকে আলাদা করতে পারো না। আমার ছেলেটাকে ছাড়া থাকতে খারাপ লাগে। দেখতে ইচ্ছা করে। আদর করতে ইচ্ছা করে৷ কেনো করো এমন?

তুরফা আরেকটু কাছে গিয়ে শোনার চেষ্টা করলো। রাকীন তখনো বিরবির করে বলছে,

“তিয়া আমাকে ছেড়ে যেওো না। আমি তোমাকে ভালোবাসি। কেনো দিলে এতোবড়ো ধোঁ”কা। কি অ’ন্যায় ছিলো আমার। তিয়া! তিয়া! যেওো না বাবুকে আমার কাছে দাও”।

তুরফা রাকীনকে আবারও ডাকে। ডেকে বলে,

” স্যার তিয়া নেই এখানে। কেউ নেই। বাবু ভালো আছে তার মায়ের কাছে। আপনি সুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবেন। এখন ঘুমান”।

তুরফা কথাটা বলে চলে আসতে নিলে পেছন থেকে রাকীন তার হাত টেনে ধরে। তুরফা চমকে উঠে কিছুটা। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে রাকীন চোখ বন্ধ অবস্থাতেই তার হাত ধরে আছে। তুরফা কিছু বুঝে উঠার আগেই রাকীন তাকে টেনে বিছানায় ফেলে দেয়। ঘটনাটা এতো দ্রুত হয়ে গেলো তুরফা কিছু বুঝতেই পারলো না। রাকীন তুরফাকে ধরে আরও নিজের কাছে নিয়ে আসে। এতো কাছে যে সে রাকীনের নিশ্বাস শুনতে পাচ্ছে। রাকীন আবারও বিরবির করে বলছে,

” তিয়া আমাকে ছেড়ে যেও না”।

রাকীনের স্পর্শ যখন তুরফার গলা ছুইয়ে গেলো ততক্ষনে তুরফা বরফের মতো জমে গেছে। সে নড়তেও পারছে না সরে আসতেও পারছে না। আশ্চর্যজনকভাবে সে রাকীনকে বাধাঁও দিচ্ছে না। রাকীন যখন তুরফার শাড়ির আচঁল থেকে পিন খুলে ফেললো তখন তুরফা না রাকীনকে আটকালো আর না নিজেকে। তখন রাকীনের অ”বৈধ স্পর্শে সে নিজেও সম্মতি দিলো। রাকীনের গা জ্বরে পু” ড়ে যাচ্ছে আর তুরফা নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে স্বেচ্ছায় ভস্ম হওয়ার জন্য।

হঠাৎ ফোন কলে তুরফার ধ্যান ভেঙে যায়। এতোক্ষন সে সেই রাতের কথা মনে করছিলো যেদিন সে সব সীমা অতিক্রম করেছে। যে রাতে সে নিয়াজের স্ত্রী হয়ে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে অসম্মান করেছে। সেই রাত থেকেই তার অস্তিত্ব ভাঙনের শুরু হয়েছিলো। কে ফোন করেছে সেটা দেখার জন্য ফোন হাতে নিলেই দেখতে পেলো রাকীন কল করেছে। কলটা রিসিভ করতেই রাকীন বললো,

“তুরফা তুমি চার দিন ধরে আমার কল ধরছো না। টেক্সট দেখছো না। সমস্যাটা কি? কাউকে কিছু না বলে চলে গেছো”।

তুরফা বললো,

” আর কিছু বলার নেই ডঃ রাকীন। নিয়াজ তুরফাকে মুক্তি দিয়েছে চিরদিনের মতো। তিন শব্দে তালাক বলে আমাকে মুক্ত করে দিয়েছে এই বিয়ে থেকে”।

চলবে…………..