#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৩
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা
মায়ের সাথে শপিং মলে এসেছে ইশাত। দুইদিন পর তার বান্ধবী আদিবার কাবিন আর কাল হলুদ। ইশাত আর আদিবা একই এলাকার হওয়ার কারণে তাদের আত্মীয় স্বজনও সব পরিচিত। ইশাতের মা অনেক খোঁজাখুঁজি করে সুন্দর একটা লেহেঙ্গা নিয়ে দিয়েছেন ইশাতকে। সে এসব ভারী পোশাক পড়ে অভ্যস্থ না তাই মাকে অনেকবার বারণও করেছে। কিন্তু আসিয়া বেগম মেয়ের কথায় কান না দিয়ে খুব সখ করে লেহেঙ্গাটা কিনে দিয়েছেন। খুবই সুন্দর মিররের কাজ করা মভ কালারের লেহেঙ্গাটি একদম চোখে লাগার মতন। ইশাতের গায়েও বেশ মানিয়েছে।
হলুদের জন্য আদিবা আগেই শাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে ইশাতের জন্য। তাই পোশাকের সাথে মিলিয়ে অর্নামেন্ট আর প্রসাধনীও নিয়ে নেওয়া হয়েছে তার। আয়েশা বেগম নিজের জন্য একটি কালো রঙের সাধারণ আবায়া বোরকা নিয়েছেন। ইশাত অনেক করে বলেছিল একটা শাড়ি নিতে কিন্তু তার মতে তিনি পর্দা ব্যতীত কোথাও যাবেন না। তিনি ইশাতকেও বারবার হিজাব পড়ার জন্য উপদেশ দেন কিন্তু ইশাত উত্তরে একটা কথাই বলে।
“মন চাইলে পড়বো, মনের ওপর জোর দিয়ে কিচ্ছু করতে চাই না।”
এ নিয়ে আসিয়া বেগম বেশ হতাশ। মেয়ে আধুনিক ভাবে চলতে পছন্দ করে এটা তিনি জানেন তবে মেয়ের ভালো মন্দের খেয়াল রাখাটা তার দায়িত্ব। যেটা পালন করতে গিয়ে তিনি বারংবার ব্যার্থ হন। তার মেয়েকে ভীষণ জেদি নিজের মতো চলতে পছন্দ করে। এমন অবস্থায় মেয়ের জেদ কমানোর জন্য তার দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই নেই হাতে। তিনি ছোট থেকেই চেনেন মেয়েকে শাসন করলে সে আরো উল্টোটাই করবে। আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়েকে নিয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে এলেন।
পরেরদিন বেশ বেলা করে ঘুম থেকে উঠলো ইশাত। ঘড়িতে দুপুর ১২টা বেজে গেছে তখন। আজ তার ভার্সিটির অফ ডে। চোখের ঘুম ভাঙ্গতেই আড়মোড়া ভেঙে ফোন হাতে নিয়ে বিছানায় বসে নিউজ ফিড ঘাটছিল সে। এটা তার রোজকার অভ্যেস। মেসেঞ্জারে ঢুকে দেখল আদিবা একটু পরপর টুকটাক ছবি পাঠাচ্ছে সে কি পড়বে কিভাবে সাজবে বাড়ি কিভাবে সাজানো হচ্ছে এসবেরই। ইশাতও তাকে এটা ওটা লিখে উত্তর পাঠাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর মায়ের ডাকে ফোন রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেলো ইশাত। আসিয়া বেগম নাস্তার জন্য তাকে আওয়াজ দিচ্ছিলেন অনেক্ষনযাবত।
______________________________________________
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো। ইশাত আদিবার হলুদে যাওয়ার জন্য নিজের রুমে তৈরি হয়ে নিচ্ছে। আজ আসিয়া বেগম যাবেন না তিনি শুধু বিয়েতে উপস্থিত থাকবেন। বাচ্চাদের মাঝে তিনি উপস্থিত থাকতে চান না।
ইশাত হালকা করে মুখে মেকআপ করে নিয়েছে কিন্তু শাড়িটা পড়তে পারছে না। আদিবাকে সে শাড়ি পাঠাতে বারণ করেছিল শাড়ি তার একদম অপছন্দ কিন্তু বান্ধবীর জোরাজুরিতে সে পড়তে বাধ্য। একপ্রকার ব্ল্যা’কমেইল করে তাকে রাজি করেছে মেয়েটা। অবশেষে শাড়ি পড়তে সে মায়ের সাহায্য নিতে তার রুম ছেড়ে মায়ের রুমে গেল। আসিয়া বেগম সুন্দর করে ভাঁজে ভাঁজে কুচি দিয়ে মেয়েকে শাড়ি পড়িয়ে দিলেন।
হলুদ রঙ্গা সবুজ পাড়ের শাড়িতে ইশাতের সৌন্দর্য যেন আরো কয়েকগুণে ফুটে উঠেছে। তৈরি হওয়া শেষ হলে ইশাত মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে বেড়িয়ে গেল আদিবাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। তাদের বাড়ি থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই সামনে আদিবাদের বাড়ি। তবুও তার আজ হাটতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কারণ আজ শাড়ির সাথে সে উচু হিল পড়েছে। এসব পড়ে সে হাঁটতে পারে না। বেশিরভাগ তার কেডস জুতাই পড়া হয়। বহু কসরতের পর সে গিয়ে হাজির হলো আদিবাদের বাড়িতে। যেখানে যেতে ৫ মিনিট লাগার কথা সেখানে তার লাগলো ১০ মিনিট। আদিবা এর মধ্যে তৈরিও হয়ে গিয়েছে।
একই এলাকায় থাকার পড়েও ইশাত দেরি করে পৌঁছেছে বলে আদিবা কিছুক্ষণ রাগ ঝাড়ল ইশাতের ওপর। ইশাত তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সে আর সাথের কয়েকজন মেয়ে মিলে আদিবাকে নিয়ে ছাদের উপরে স্টেজে বসিয়ে দিল। ছাদে বেশ বড় করে হলুদের স্টেজ করা হয়েছে। ক্যামেরা ম্যানরা ভিডিও করার জন্য তৈরি। এর মধ্যে ছেলেদের বাড়ি থেকে ডালা নিয়ে চলে এসেছে ছেলের বাড়ির মানুষজনেরা। ইশাত স্টেজ থেকে নেমে সাজিরে রাখা চেয়ারে গিয়ে বসলো।
শুরু হয়ে গেলো আদিবার গায়ে হলুদ। একেক করে সবাই আদিবার গায়ে হলুদ মেখে দিতে শুরু করলো। ইশাত এতো মানুষের ভিড়ে আদিবাকে হলুদ মাখার সুযোগ পাচ্ছিল না। অবশেষে ভির একটু কমতেই ইশাত সুযোগ বুঝে স্টেজে উঠতে যাবে তখন কারো সাথে জোরে ধাক্কা খেল। পাশ ফিরে দেখলো আসিফকে। সে হতভাগ হয়ে বলল।
— আবারো আপনি? এখানে কি করছেন?
আসিফও ইশাতকে দেখে অবাক হয়েছে। তার থেকে বেশি অবাক হয়েছে ইশাতের নতুন রূপ দেখে। শাড়িতে ইশাতকে মায়াবী লাগছে। অন্যদিকে আসিফের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে ইশাত রাগ নিয়ে আবারো বলল।
— এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত আমার সাথে ধাক্কা খেলেন সমস্যা কি আপনার?
আসিফ তখনও ঘোরের মধ্যে রয়েছে ইশাত তার মুখের সামনে আঙুল নিয়ে চুটকি বাজাতেই তার হুস ফিরল। সে দুর্বল হেসে বলল।
— আমি ইচ্ছে করে ধাক্কা খাইনি তো। হয়তো ভাগ্য আমাদের বারবার ধাক্কা খাইয়ে দিচ্ছে।
— এসব কেমন কথা? ভাগ্য কিভাবে ধাক্কা খাওয়ায়? নিজের চলা ফেরা ঠিক করুন ভাগ্যের দোষ না দিয়ে।
— আচ্ছা তাই? তাহলে যে তুমিও দোষী।
— কেন আমি কি করলাম?
আসিফ তার পায়ের দিকে আঙুল তাক করে দেখিয়ে বলল।
— এইযে কখন থেকে আমার পায়ে তোমার জুতো দিয়ে পাড়া দিয়ে রেখেছো।
আসিফের কথায় ঈশাত খেয়াল করলো সে আসিফের পায়ে জুতো দিয়ে পাড়া দিয়ে রেখেছে। সে লজ্জিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজের পা সরিয়ে আনলো। রাগের বসে সে এটা খেয়ালই করে নি। অথচ হিলের পাড়ায় আসিফের অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু সে কোনো প্রতিক্রিয়াই করে নি। শুধু সামান্য হেসে স্টেজের দিকে ইশারা করে বললো।
— বান্ধবীকে হলুদ দিয়েছো?
ইশাত নাসূচক মাথা দুলিয়ে বলল।
— ভিড়ের জন্য পারি নি।
— তাহলে চলো একসাথে দিয়ে আসি?
ইশাত উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে বলল।
— আপনি এখানে কোন পক্ষ থেকে এসেছেন?
আসিফ প্রত্যুত্তরে বলল।
— আমি বরের বন্ধু হই।
— ওহ!
— চলো যাই তাহলে?
— আমি নাহয় পড়ে দিয়ে দিব আপনি যান।
— কেন আমার সাথে যেতে কি অসস্থী বোধ করছো?
— তেমনটা নয়।
— তাহলে চলো।
ইশাত অগত্যা আসিফের সাথে স্টেজে উঠে আদিবাকে হলুদ লাগিয়ে দিল। আড়ালে আসিফের নজর ইশাতের ওপরই স্থির ছিল। হলুদ লাগানোর পর্ব শেষ হতেই সবাইকে খেতে বসানো হলো। আদিবার কাজিনদের সাথে ইশাতের সম্পর্ক ভালো হওয়ার কারণে খাওয়াদাওয়া শেষ হতেই বেশ কিছুক্ষণ সবার সাথে আনন্দ করতে করতেই ইশাতের ফোনে মায়ের কল এলো। তখন রাত প্রায় ১২ টার কাছাকাছি বেজে গেছে। এতক্ষন সবার সঙ্গে কথায় মেতে থাকার কারনে সময়ের খেয়াল ছিল না তার। ইশাত আদিবাকে বিদায় জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিবে তখন আসিফ আগ বাড়িয়ে এসে তাকে বলল।
— আমি দিয়ে আসি তোমাকে? অনেক রাত হয়েছে। তোমার বাসা এখানে কোথায়?
— আমি একাই যেতে পারবো এটা আমার এলাকা কোনো সমস্যা নেই আমার।
— তবুও আমি চিন্তিত থাকবো। আমিও তো বের হচ্ছি চলো একসাথেই নাহয় যাই।
ইশাত সরাসরি নাকচ করে বলল।
— আপনাকে কিছুদিন হলো চিনি। এভাবে অন্যের গাড়িতে উঠি না আমি।
— আচ্ছা গাড়িতে নাহয় না গেলে হেঁটে তো যেতে পারি?
— এখানে আরও অনেকেই আছে আপনার পরিচিত। ভালো হয় যদি তাদের গিয়ে বাসায় ড্রপ করতেন। আমার প্রয়োজন নেই।
— আচ্ছা বুঝেছি তুমি অনেক জেদি। যাইহোক কাল তো আসছো তাই না?
— হুম, কেন?
— কাল দেখা হচ্ছে তাহলে।
ইশাত মনে মনে আসিফকে গালি দিয়ে পেছন মুড়ে চলে গেল। আসিফও শব্দহীন তার পিছু পিছু নিচে নেমে নিজের গাড়িতে উঠে বসলো। ইশাত ফুটপাত ধরে হাঁটছিল। আসিফ দূর থেকে স্লো স্পিডে গাড়ি চালিয়ে তার পিছু নিচ্ছিল। ইশাত দূর থেকে ঠিকই তা লক্ষ্য করেছে। বিরক্তিতে দ্রুত পা চালিয়ে কিছুক্ষনের মাঝেই সে তার বাড়ির গেটের ভেতরে ঢুকে গেলো। আসিফ সেটা দূর থেকে দেখে মাথা নিচু করে হেসে ফেললো।
বাসায় ফিরেই মায়ের সাথে কথা বলে ইশাত নিজের রুমে চলে এলো। দেরি হওয়ার কারণে মা শুরুতে একটু বকেছে তবে ইশাত মাকে বুঝিয়ে সামলে নিয়েছে। মেয়েটা পরিস্থিতি সাম্ভাল দেওয়ার কাজে দারুণভাবে পারদর্শী। তবে আজ আসিফের ওপর সে অনেক বিরক্ত তার ভাব ইঙ্গিতে সে বেশ ভালোই বুঝতে পারছে ছেলেটা তার ওপর চান্স মারতে চাচ্ছে। কালই সে কথা বলে ব্যাপারটা ক্লিয়ার করে দিবে। তাকে বারণ করে দিবে যেন তার পিছু ঘুড়ে সময় নষ্ট না করে।
নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো এতক্ষনে তার পড়নে শাড়িটাও ঢিলে হয়ে খারাপ অবস্থান সারাক্ষণ কি যুদ্ধ করে এসব সে সামলেছে একমাত্র সেই জানে। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে সে পড়নে শাড়ি খুলে ফ্রেশ হয়ে নিলো। শরীর ক্লান্ত হওয়ার কারণে বিছানায় মাথা রাখতেই ঘুমে তলিয়ে গেল।
পরদিন সকালে উঠে তারাতারি নাস্তা করে সে আদিবাকে নিয়ে পার্লারে চলে গেল। আদিবা তার সাথে ইশাতকেও পার্লারেই সাজতে বলেছে। দীর্ঘসময় ধরে কয়েকজন মেকআপ আর্টিস্ট মিলে আদিবাকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুললো। গাঢ় খয়েরী রঙের লেগেঙ্গার সাথে মিলিয়ে গহনা আর সাজে তাকে আজ অপরূপা লাগছে। অন্যদিকে ইশাতের লেহেঙ্গা সাথে তার সাজও অপরুপ লাগছে। দুজনে তৈরি হতেই আদিবাকে কনভেনশন হলে নিয়ে যাওয়া হলো ইশাত যাওয়ার পথে মাকে তৈরি করে গাড়িতে করে সেখানে পৌঁছে গেল।
আদিবাকে আর তার হবু বর আরিফকে পাশাপাশি স্টেজে বসানো হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের কবুল পড়ানো হবে। ইশাত হলের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখলো আত্মীয়স্বজনদের সমাগমে পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। আসিয়া বেগমকে দেখে অনেকে এগিয়ে এসে কথা বলছেন ইশাতকেও এটা ওটা জিজ্ঞাসা করছে। ইশাত সংক্ষেপে সবার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মাকে এক পাশে বসিয়ে রেখে ফোনে আদিবার ছবি তুলতে চলে গেল।
আসিয়া বেগম বসে সবার সাথে কথায় ব্যস্ত ছিলেন তখন সুপরিচিত একটা কন্ঠে তিনি সামনে তাকাতেই খুশিতে তার চোখ ভোরে এলো। তিনি কল্পনা করেন নি এখানে এসে তার ছোটবেলার বান্ধবী রোকসানার সাথে এতবছর পর তার দেখা হয়ে যাবে। এতবছর পর দুজন দুজনকে পেয়ে কতশত জমিয়ে রাখা কথা বলতে শুরু করলেন। কথায় কথায় রোকনাসা বেগম দূরে আঙুল দিয়ে বন্ধুদের সাথে বসে থাকা আসিফকে দেখিয়ে বললেন এটা তারই ছেলে। আসিয়া বেগম মুচকি হেসে আসিফকে দেখলেন। ছেলেটাকে তিনি অনেক ছোট থাকতে দেখেছিলেন। কয়েক বছর আগে যখন প্রায় প্রায় তিনি ইশাতকে নিয়ে বান্ধবী রোকসানাদের বাসায় বেড়াতে যেতেন তখন ইশাত আর আসিফ খেলনাপাতি নিয়ে ঘড় ঘড় খেলতো। তারা অনেক ছোট থাকা বিধায় সেটা মনে থাকার কথাও না।
ইশাত স্টেজের কাছে দাঁড়িয়ে আদিবা আর আরিফের ছবি তুলছিল। সেখানেই আসিফ বন্ধুদের সাথে বসে কথা বলছিল। ইশাত তাকে দেখেও অদেখা করলো। কিন্তু আসিফ ইশাতকে দেখে রুদ্ধ হয়ে গেল। হালকা রঙের লেহেঙ্গা আর পিঠ পর্যন্ত পড়ে থাকা খোলা চুলে ইশাতকে মারাত্মক লাগছে। কানে পড়া স্টোনের দুলটা জ্বলজ্বল করছে। যেন সেই ঝলকানি তার চোখে গিয়ে বিধছে। আসিফ আনমনে বলে উঠলো।
“মনে তো আগুন ধরিয়ে দিলে মেয়ে।”
চলবে ( ইনশাআল্লাহ )…………………………….
#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৪
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা
ইশাতকে নতুন নতুন রূপে দেখে আসিফের নাজেহাল অবস্থা। আসিফের সাথে বসে থাকা তার বন্ধুরা আসিফের অবস্থা দেখে মজা নিচ্ছিল। ওদিকে আদিবার কবুল পড়ানো শুরু হয়ে গেছে। কবুল পড়ানো শেষ হতেই সকলে একসাথে মোনাজাত ধরলো। মোনাজাত শেষ করে সবার মাঝে খেজুর ছিটিয়ে দেওয়া হলো। আদিবা আর আরিফের হাতে ফুলের মালা ধরিয়ে দেওয়া হলো একে অপরকে পড়িয়ে দেয়ার জন্যে। সেখানে বাঁধলো আরেক ক্যাচাল। আরিফ আদিবাকে মালা পরিয়ে দিতে গেলেই ইশাত আদিবাকে পেছন থেকে টেনে সরিয়ে আনছে। আরিফ তবুও বারবার চেষ্টা করছে অবশেষে ইশাত আদিবাকে ছেড়ে দিতেই আরিফ ঝটপট মালাটা আদিবার গলায় পরিয়ে ক্ষান্ত হলো।
আবার আদিবা যখন আরিফকে মালা পড়াতে গেল তখন আসিফ আর তার বন্ধুরা মিলে আরিফকে উঁচুতে তুলে ফেললো। ইশাত তখন ফন্দি এটে আদিবাকে চেয়ারের উপর দাড়া করালো আদিবাও ঝটপট আরিফকে মালা পরিয়ে দিলো। তাদের কান্ড দেখে উপস্থিত সকলের মধ্যে হাসির রোল পড়ে গেলো। সবকিছু ঠিকঠাক মত সম্পূর্ণ হতেই সবাই খেতে বসে পড়লো। খাওয়া শেষ করে যে যার মতো ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। কনভেনশনের পাশে অনেক সুন্দর একটা গার্ডেন ডিজাইন করা। মূলত ছবি তোলার জন্যেই। ব্যাপারটা তাদের কাছে খুব ইউনিক লাগলো। ইশাত সে দিকটাই ঘুরে দেখছি। তখন স্টেজের পাশেই একটা টোন বেজে উঠলো। ইশাত পিছু ঘুরতেই দেখলো আসিফ গিটার হাতে তার দিকে তাকিয়ে গান শুরু করেছে।
তুমি কি জানো না।
তুমি কি বুঝ না।
তোমার দুচোখে এই হৃদয় গলে ও বেবি।
তোমারই বাবরি চুলে।
আমাকে আটকে রেখে।
যাই দেখাও তাই দেখি।
তবুও দুগালে হাত দিয়ে বলি।
তওবা, হেই তওবা বেবি ।
সিনেমার মতো তোমাকে দেখি।
তওবা, হেই তওবা বেবি।
সহে না যাতনা সবই তো তুমি।
তওবা, হেই তওবা বেবি
সিনেমার মতো তোমাকে দেখি।
তওবা, হেই তওবা বেবি।
সহে না যাতনা সবই তো তুমি।
গান শেষে হৈচৈ কানে আসতেই ইশাত চোখমুখ কুঁচকে আসিফের দিকে তাকালো। আসিফ তখনও ঘায়েল হয়ে ইশাতের দিকেই পলকহীন তাকিয়ে। ইশাত তখন ক্রোধ নিয়ে আসিফের সামনে গিয়ে তাকে বলল।
— আপনার সাথে কিছু কথা ছিল।
— বলো সব শুনবো।
— এখানে নয়। উঠে আসুন।
ইশাতের কথা মতো আসিফ উঠে আসতেই ইশাত বলল।
— আপনি হয়তো কোথাও ভুল করছেন। আমি যথেষ্ট ম্যাচিউর আপনার উদ্দেশ্য বুঝার জন্যে। এইবার ওয়ার্ন করলাম দ্বিতীয়বার যেন না করতে হয়।
তাদের কথার মাঝে সেখানে উপস্থিত হন আসিয়া বেগম আর রোকসানা বেগম। আসিয়া বেগম মেয়েকে বললেন।
— ইশাত তুমি অফিসকে চিনতে পেরেছ?
— চিনব মানে? তুমি ওনাকে কি করে চিনো।
— ও তোমার রোকসানা আন্টির ছেলে মনে আছে ছোট বেলায় তোমরা কত ঘড়ঘড় খেলতে?
মায়ের কথায় ইশাত একবার আসিফের দিকে তাকালো। পরমুহুর্তে আবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল।
— নাহ মনে নেই, উনি আমার ভার্সিটির সিনিয়র একজন ভাই।
ইশাতের মুখে ভাই ডাকটা শুনতেই আসিফের বুকে ছ্যাত করে উঠলো। অন্যদিকে আসিফের মা এগিয়ে এসে ইশাতের মাথায় হাত রেখে বললেন।
— মাশাআল্লাহ, অনেক মিষ্টি হয়েছ দেখতে। অনেক ছোট থাকতে দেখতাম তোমায়।
ইশাত ভদ্রতাসুচক সালাম জানিয়ে বলল।
— ভালো আছেন আণ্টি?
— আলহামদুলিল্লাহ ভালো ছিলাম, তোমাকে দেখার পর আরো ভালো আছি।
ইশাত কোনো মতে কেটে পড়ে বলল।
— জ্বী আণ্টি, আমি একটু আসছি বান্ধবীরা ডাকছে আমাকে। আপনারা কথা বলুন।
ইশাত চলে যাওয়ার পর আসিফও চলে গেল। তখন রোকসানা বেগম আসিয়া বোগমের হাত ধরে বললেন।
— দেখেছিস ওরা আগে থেকেই পরিচিত একসাথে দুজনকে অনেক মানিয়েছেও। তোর মেয়েকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। ভারী মিষ্টি দেখতে মাশাআল্লাহ, আমার ছেলের জন্য ওকে আমার পছন্দ হয়েছে। ছেলের জন্য তোর মেয়ের হাত চাচ্ছি।
আসিয়া বেগম মৃদু হাসি নিয়ে বললেন।
— ইনশাআল্লাহ, সময় হলে।
_________________
বাবা মার একমাত্র মেয়ে হওয়ার কারণে আদিবার বাবা মা ঠিক করেছেন আদিবার পড়ালেখা শেষ হলে পরেই তাকে তুলে দিবে সশুরবাড়িতে। এতে তার শশুরবাড়ি কেউই দ্বিমত করে নি। ইশাত আদিবা আর আরিফের সাথে বসে ছবি তুলছিল তখন আসরের আযান পড়ে যায়। ইশাতের মা আসিয়া বেগম এসে ইশাতকে তাড়া দিয়ে বললেন।
— ইশাত বাসায় যেতে হবে, আসরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে নামাজ পড়তে হবে।
ইশাত উঠতে উঠতে বলল।
— ঠিকাছে আম্মু চলো আমরা নাহয় বের হই।
সে আদিবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসিয়া বেগমের সাথে সেখান থেকে বেরিয়ে এলো। আদিবার ইচ্ছা ছিল না ইশাতকে যেতে দেওয়ার কিন্তু আসিয়া বেগমের জন্যে কিছু বলতে পারলো না। ইশাত বাহিরে বেরিয়ে মাকে দাড়া করিয়ে রোডের অন্যপাশ থেকে অটো আনতে গেলো। সে অটো নিয়ে ফেরত আসবে এমন সময়ে রেডে সিগন্যাল পড়ে গেলো। চলতি গাড়িগুলো থেমে গেলো। পাঁচ মিনিট যাবত ইশাত বিরক্ত হয়ে জেমে বসে আছে। সহসা তার চোখ পড়লো একটা মহিলার ওপর।
রোডের অন্যপাশে একজন মা তার বাচ্চার হাত ধরে রাস্তা পাড় হয়ে আসছিল হঠাৎ অসতর্কতার সাথে বাচ্চাটার হাতের বলটা পিছলে পড়ে যায়। ততক্ষণে তারা রোড পাড় হয়ে অন্যপাশে এসে পড়েছে কিন্তু বাচ্চাটা বলটা নিতে মায়ের হাত ছেড়ে উল্টো দিকে দৌড় দেয় আর ঠিক সেই মুহূর্তে সিগন্যাল গ্রীন হয়ে যায়। গাড়িগুলো চলতে শুরু করে। এমন দৃশ্য দেখে বাচ্চার মা দিক বেদিক হারিয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে বসে। ইশাতও আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়ে একটা বড় বাসের সাথে বাচ্চাটার ধাক্কা লাগতে যাবে ঠিক তার আগ মুহূর্তে অকস্মাৎ চোখের পলকেই ঝড়ের মত একটা হাত এসে বাচ্চাটাকে তুলে রোডের অন্যপাশে দাড় করালো।
বাচ্চার মা যেন সস্থী ফিরে পেল, তার দেহে যেন জীবন ফিরে এলো। ইশাত অটো থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে এতক্ষনে। আশেপাশে মানুষজন জড়ো হয়ে গেছে। অচেনা ব্যক্তিটা বাচ্চাটাকে এনে তার মায়ের কাছে দিয়ে বাচ্চাটার উদ্দেশ্যে বলল।
— বি কেয়ারফুল, নেক্সট টাইম আর মায়ের হাত ছাড়বে না ওকে?
বাচ্চাটা এখনো ঘাবড়ে আছে আতঙ্কে তার হাত পা কাপছে চোখ দুটো বড় বড় হয়ে আছে। হয়তো ভয় এখনো কাটিয়ে উঠতে পারে নি। অচেনা ব্যক্তিটা তখন বাচ্চাটার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। তাকে শান্ত করে মনে সাহস যোগাতে বলল।
— হেই, ভয়ের কিছু হয়নি। তুমি তো ব্রেভ বয় তাই না?
ছেলেটা মাথা দুলিয়ে বুঝালো হ্যা সে ব্রেভ বয়। তখন লোকটা আবারো বলল।
— সাহসী ছেলেরা ভয় পায় না তারা ফাইট করে। তুমি কি সুপার বয় হতে চাও?
ছেলেটা আবারো মাতা দুলিয়ে হ্যা বুঝালো। তখন লোকটা তাকে তার বল ফেরত দিয়ে বলল।
— তুমি আসলেই অনেক ব্রেভ।
বাচ্চাটা তার ছলছল করা চোখ নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলো।
— সত্যি?
— হুম, সত্যি। তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে তো জোরে জোরে কেঁদে ফেলতো। তুমি তো কাদো নি।
— তাহলে তো আমি তোমার মত স্ট্রং হতে চাই।
লোকটি মৃদু হাসলো মুহূর্তেই সেই হাসি বিলীন হয়ে গেল। সে উত্তরে বলল।
— তুমি চাইলে আমার থেকেও স্ট্রং হতে পারবে। তুমি বোধহয় অনেক ভালো ফুটবল খেলতে পারো তাই না?
বাচ্চাটা চোখে মুখে উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল।
— হ্যা পারি তো। আমি আমার বন্ধুরা আমার থেকে খেলা শিখে।
লোকটা খুব সুকৌশলে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া এক্সি’ডেন্টের ঘটনাটা বাচ্চাটার মস্তিষ্ক থেকে সরিয়ে আনলো। বাচ্চাটা যখন স্বাভাবিক হতে শুরু করলো তখন বাচ্চাটার মা তাকে ধন্যবাদ জানাতে লাগলো। ইশাতের দৃষ্টি সেদিকেই অবরুদ্ধ হলো। দূর থেকে মুগ্ধ নয়নে সেই ব্যক্তিকে সে আগ্রহ নিয়ে অবলোকন করতে লাগলো। যেমন ভাবে এর আগে অন্য কোন ছেলেকে সে পর্যবেক্ষণ করে করি।
তীক্ষ্ণ ধারালো চোয়াল আর মুখের ভাবভঙ্গিতে গম্ভীর্যতা তার দৃশ্যমান। তবুও যেন ঘোর লাগানো আকর্ষণ বহন করে এই মুখটাতে। চোখ দুটো রোদের আলোতে জ্বলজ্বল করছে। সোনালী আর বাদামির মিশ্রণে তার চোখের রং যাকে বলে “অ্যাম্বার আইস”। লম্বা চওড়া বলিষ্ঠ গড়নের লোকটার পড়নে কালো ফরমাল স্যুট। ঘেমে গায়ের সাদা শার্টটা শরীরের সাথে আঁটসাঁট হয়ে লেগে আছে। শার্টের হাতা কুনুই পর্যন্ত গুটিয়ে রাখার কারণে হাতের পেশীগুলো দৃশ্যমান। গায়ের রং বিদেশীদের মতন উজ্জ্বল যা রোদের তীর্যক রশ্মিতে রক্তিম বর্ন ধারণ করেছে। দেখে মনে হচ্ছে যেন এ দেশের আবহাওয়া তার জন্য মানানসই না।
তার প্রত্যেকটা বৈশিষ্ট্যেই যেন অন্যরকম এক ব্যক্তিত্ব বহন করছে। যা ইশাতের আগ্রহ কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। ইশাত দিন দুনিয়া ভুলে নিজের ভাবনায় মশগুল হয়ে দাড়িয়ে আছে। যেন তার কাছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাক্তিটিই শুধু বিদ্যমান। অতর্কিতভাবে সবকিছু স্বপ্নের মত লাগছে তার। তাকে দেখার পর থেকে ইশাতের হৃদয়ে অস্বাভাবিক উচাটন হতে শুরু লাগলো। এর আগে এমন অনুভব কারো ক্ষেত্রে কাজ করে নি তার মনে। তাহলে কে এই ব্যক্তি যে এক দেখায়ই ইশাতের মনে দাগ কেটে দিলো।
ইশাতের পা আনমনে সেদিকে অগ্রসর হতে শুরু করলো। দুহাতে লেহেঙ্গা দুপাশ তুলে ইশাত ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। তবে এতক্ষনে লোকটা তার পার্ক করে রাখা গাড়িতে উঠে বসলো। গাড়ি স্টার্ট করার আওয়াজে ইশাতের ধেয়ান ভাঙলো। ইশাত দেখল গাড়িটা তার চোখের সামনে দিয়ে দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতে শুরু করলো। গাড়িটা যতটা আড়াল হচ্ছিল ততটাই ইশাতের হৃদয়ের ব্যাকুলতা বাড়তে শুরু করলো। অন্যদিকে সেই অচেনা ব্যাক্তিটি তার গাড়ির লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে ইশাতের হতাশ মুখটা দেখে অদেখা হাসলো। সে এতক্ষন যাবত ঠিকই খেয়াল করেছে ইশাতকে।
অনেক্ষন যাবত বসিয়ে রাখার কারণে পেছন থেকে ইশাতকে অটো ওয়ালা ডাক ছুঁড়ছে। ইশাত বিভ্রান্তিতে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতে লাগলো।
কেন সে তার পিছু ছুটছিল? এমন কেন হলো প্রথমবারের মতো লোকটাকে দেখার পর থেকে? এক দেখায়ও কি কাউকে গভীর ভাবে ভালো লাগা সম্ভব? আদিবা তো সেদিন বলেছিল যখন দমকা হাওয়ায়র মত সেই মানুষটার আগমন ঘটবে যাকে দেখে তোর হৃদয়ে ব্যাকুলতার সৃষ্টি হবে তখন আর চাইলেও নিজের মনের অনুভূতি দমিয়ে রাখতে পারবি না। তবে এটাই কি সেই ব্যক্তি যার আগমনে ইশাতের পুরো দুনিয়া হেলে গেলো?
একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে অটোতে উঠে বসলো। অটো নিয়ে কনভেনশন হলের দিকে আসতেই ইশাতকে দেখে আসিয়া বেগম চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
— এতো দেরি হলো যে? কোনো সমস্যা হয়েছিল?
ইশাত শান্ত গলায় জবাবে বলল।
— না সিগন্যাল পড়ে গিয়েছিল তাই।
মেয়ের কথায় আশ্বস্থ হয়ে তিনিও অটোতে উঠে বসলেন। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে এসে পৌঁছাতেই ইশাত চুপচাপ তার রুমে চলে গেল। সেদিন রাতটা অচেনা ব্যক্তির ভাবনায় নির্ঘুম কাটলো তার। খুব ভোরে চোখ লাগতেই স্বপ্নেও সে তাকেই আবিষ্কার করলো। সেই সোনালী চোখের অজ্ঞাত ব্যাক্তিটি।
______________
ইজি চেয়ারে আরাম করে বসে ইশাতের ছবি হাতে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। কোনো এক কারণে তার ঠোঁটের কোনে সূক্ষ্ম হাসি রেখা ফুটে উঠলো। পাশে বসে থাকা ব্যক্তিটি তার ম্যানেজার সিয়াম। সে কৌতূহলবসত জিজ্ঞাসা করে বসলো।
— স্যার, এই মেয়েটাকেই কেন টার্গেট করলেন?
লোকটা পুনরায় মুখে গাম্ভীর্যতা টেনে উত্তরে বলল।
— এভিয়ান জারিয়াথ কোনো কারণ ব্যতীত কিছু করে না। সুনাম এবং অর্জনের জন্যে দুনিয়ার চোখে আমি একজন টপ সাকসেসফুল বিজনেসম্যানদের মধ্যে অন্যতম হলেও এর পেছনে আমার অ’বৈধ ব্যবসার ব্যাপারে কেউই অবগত নয়। এসবের পেছনে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে আমাকে।
— কিন্তু এর সাথে মেয়েটার কি সম্পর্ক? কে এই মেয়ে?
— এই মেয়েটার নাম সামিরা মেহেজাবিন ইশাত। ওর বড় ভাই ইমরান যে কিনা একজন আইজিপি অফিসার। সে আমার অগচরে আমার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে। ড্রা’গসে ভর্তি অনেকগুলো ট্রাক আটকে দিয়েছে। আমার পেছনে লেগে গোপন তথ্য জোগাড় করে আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে চেয়েছে। কিন্তু সময় থাকতে আমি আগেই সব বের করে ফেলি। এর আগে কোন অফিসার এমন সাহস দেখাতে পারে নি। ওর এই দুঃসাহসের মাশুল আমি ওর বোনকে দিয়েই চুকাব। ও আমার রেপুটেশন ডুবাতে চেয়েছিল কিন্তু তার আগেই আমি ওর সম্মান ধূলোয় মিসাব।
সিয়াম একটু ভেবে আবারো প্রশ্ন করলো।
— ওনার প্রতিশোধ ওনার বোনকে দিয়েই কেন স্যার?
— কারণ ওর কাছে মূল্যবান কেউ বলতে ওর বোনই। আর এভিয়ান জারিয়াথ কখনো কাউকে ছাড় দেয় না। ও ওর দুঃসাহসের ফল অবশ্যই পাবে তাও আমার হাতে।
চলবে ( ইনশাআল্লাহ )………………………………

