#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৭
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা
মার্কিন যুক্তরাষ্টে লাস ভেগাসে স্ট্রিপের দুপাশে হোটেল,ক্যা’সিনোসহ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বিলাসবহুল রিসোর্টগুলো অবস্থিত। বিশাল সব হোটেল, আকাশচুম্বী ভবন এবং চোখধাঁধানো আলোকসজ্জাই হলো এর মূল আকর্ষণ। এখানে যে যার মত করে পথ চলায় ব্যস্ত।
অকস্মাৎ সকল আকর্ষণ ভেদ করে বেলাজিওর উইন প্যালেসের সামনে প্রবল বেগে সারিবদ্ধভাবে এসে থামলো পরপর কয়েকটা কালো রঙের বিলাসবহুল গাড়ি। তার মধ্যে থেকে একটা গাড়ি ছিল রেঞ্জ রোভার এসভি ব্ল্যাক মডেলের যা স্পেশালি কাস্টমাইজড করা। অন্যগাড়িগুলো থামতেই তার ভেতর থেকে কালো পোশাকধারী দানব আকৃতির কয়েকজন লোক দ্রুততার সাথে বেরিয়ে এসে ব্যগ্র হাতে সেই গাড়িটির দরজা খুলে ধরতেই ভেতর থেকে একজোড়া কালো পলিশড করা চকচকে বুট জুতো পরিহিত পা বেরিয়ে এলো।
ব্যক্তিটির উপস্থিতিতে যেনো পরিবেশ আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলো। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি তার প্রকটন স্পষ্ট হলো। লম্বা চওড়া বলিষ্ঠ গড়নের একজন অতি সুদর্শন পুরুষ সে। ফরমাল ড্রেসআপে সাদা শার্টের ওপর পারফেক্টলি ফিটেড ওয়েস্ট কোট পড়াতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা পেশিগুলো উদ্গত হয়েছে। আশেপাশে বাজপাখিরন্যায় প্রখর দৃষ্টিপাত করার দরুন তার অতুলনীয় সুরম্য জ্বলজ্বল করা সোনালী চোখদুটো স্পষ্ট হতেই ব্যক্তিটির পরিচয় প্রকাশ পেলো। তার দুপাশে এসে জায়গা দখল করে দাঁড়িয়েছে সিয়াম আর রিজভী। সিয়াম তার ম্যানেজার এবং রিজভীর সাথে তার পরিচয় হয়েছিল ব্যবসায়িক সূত্রে। সেই পরিচয় থেকেই রিজভী তার কাছের এবং বিশ্বস্ত একজন বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। তাদেরকে পিছনে রেখেই এভিয়ান ভারী পদক্ষেপ ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে ক্যা’সিনোর দিকে।
ক্যা’সিনোতে প্রবেশের সাথে সাথে ভেতরকার দৃশ্য সুস্পষ্ট হলো। ভেতরের দেয়ালগুলোতে দেখা গেলো দামী শিল্পকর্ম ও কারুকার্য করা। বিলাসবহুল জাঁকজমক, আধুনিক স্থাপত্য,উচু সিলিং, বিশালাকার ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি, এবং মার্বেল পাথরের মেঝের অত্যন্ত ব্যয়বহুল অন্দরসজ্জার সমন্বয়ে সজ্জিত ক্যা’সিনোটির অভ্যন্তর।
ভেতরের মূল গেমিং এলাকাটি বিশাল বড়। যেখানে শত শত আধুনিক স্লট মেশিন এবং রুলেট, ব্ল্যাকজ্যাক ও পোকারের মতো টেবিল গেম সাজানো। টেবিলগুলো দামী কাঠ এবং মখমলের কাপড় দিয়ে তৈরি। উজ্জ্বল ও বর্ণিল আলো এবং স্লট মেশিনের শব্দ মিলে এক ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে।
তবে এভিয়ানকে দেখা গেলো ভিআইপি লাউঞ্জ এর দিকে অগ্রসর হতে। সাধারণত এটি ধনী খেলোয়াড়দের জন্য প্রাইভেট রুমের আলাদা একটি এরিয়া। এই এরিয়াটি অত্যন্ত নিরিবিলি পরিবেশে বড় অংকের গ্যাম্বলিং খেলার সুবিদার্থে তৈরি। লাউঞ্জের ভেতরে ব্যক্তিগত সেবার জন্য বিশেষ কর্মী নিযুক্ত রয়েছে।
ভিআইপি লাউঞ্জের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা গেলো ভেতরে অর্ধবৃত্তাকার ব্ল্যাকজ্যাক টেবিলে ডিলার সোজা পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এভিয়ান গিয়ে তার বিপরীত দিকে অর্ধবৃত্তাকার অংশের আসনে পায়ে পা তুলে বসলো। ডিলার ইশারা করলতেই এভিয়ান তার সামনে থাকা বেটিং বক্সে বড় অংকের বাজি ধরলো। রিজভী আর সিয়ামও পাশে এসে বসলো। খেলার শুরুতে ডিলারের বাম পাশের প্রথম আসন থেকে কার্ড দেওয়া শুরু হলো।
পরিবেশ নিস্তব্ধ শুধু কার্ডের পাতাগুলো চালার আওয়াজ কানে আসছে। খেলা জমজমাট হয়ে উঠেছে তাদের খেলার মাঝেই লাউঞ্জে প্রবেশ করলো ফেলিক্স তার সাথে রয়েছে তার গার্লফ্রেন্ড এমা। শুরুতেই তার নজর গিয়ে আটকালো এভিয়ানের দিকে যে আপাতত সূক্ষ্ম কৌশল দিয়ে এক একটা চাল চালতে ব্যস্ত। এভিয়ানকে দেখার সাথে সাথেই তার ঠোটে প্রশস্ত হাসি খেলে গেলো। এক নজরে সে তাকে অবলোকন করতে লাগলো। সেখানকার সবচেয়ে সুন্দরী রমণী হিসেবে এমার প্রসংশা রয়েছে মুখে মুখে। কৃত্রিম সজ্জায় আর ওয়েস্টার্ন পোশাকে নিজেকে সব সময় উপস্থাপনযোগ্য করে রাখতে পছন্দ করে এই রমণী।
অন্যদিকে ডিলারের ডান পাশের একদম শেষ আসন থেকে রিজভী ডিলারের আগে শেষ চাল চাললো। অবশেষে দীর্ঘ চাল চালার পর ডিলারের বিপরীতে বিজয়ী হলো তারা তিনজনই। এভিয়ানের মুখে গৌরবময় হাসি দেখা গেল। সে আগে থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল।
ফেলিক্স এভিয়ানের টেবিলের দিকে এগিয়ে এলো। এখানকার সবাই জানে ফেলিক্সের সাথে এভিয়ানের কখনোই বনে না। তাদের মধ্যে সর্বদাই একে অপরের প্রতি দ্বন্দ্ব দেখা যায়। দ্বন্দ্বের মূল কারণ যেখানে ফেলিক্সকে কেউ খেলায় টেক্কা দিতে পারে না সেই জায়গায় প্রায়শই এভিয়ানের কাছে বাজি হারাতে এভিয়ানের প্রতি তার একটা চাপা ক্ষোভ রয়েছে। ফেলিক্সকে দেখা মাত্রই এভিয়ানের ধনুকের মত সূক্ষ্ম ব্রুদয় বেকে গেলো। তখন ফেলিক্স আগ বাড়িয়ে বলল।
— অনেকদিন যাবত আমরা একসাথে খেলছি না এভি। লেটস প্লে।
বিপরীতে এভিয়ান তাচ্ছিল্য হেসে বলল।
— বলতেই হয় ইউ আর ব্রেভ! নাহলে এতবার বাজিমাত দেওয়ার পরও তোমার আবারো হারার ইচ্ছে জেগেছে ইম্প্রেসিভ।
ফেলিক্স তার কথায় অনড় থেকে বলল।
— ভুলে যেও না আমিও কয়েকবার তোমার বিপরীতে বাজি জিতেছি। হু নোস আজ আমিও জিতে যেতে পারি? ভাগ্যের কথা তো আর বলা যায় না।
এভিয়ান শার্টের আস্তিন গুটাতে গুটাতে বলল।
— দেন লেটস প্লে এন্ড সি ভাগ্য কার সাথে আছে।
এভিয়ান আর ফেলিক্স পোকার খেলায় একে অপরের বিপরীতে বসলো। এখন শুধু তাদের দুজনের মধ্যে খেলা হবে। খেলার শুরুতে ফেলিক্স পাঁচ মিলিয়ন ডলারের বাজি ধরতে গেলে এভিয়ান বাধা দিয়ে বলল।
— এভিয়ান জারিয়াথ এতো কম ডলারে খেলে না তোমার টাকার এমাউন্টটা বাড়ানো উচিত ফেলিক্স।
ফেলিক্স বাকা হেসে বলল।
— গ্রেট কনফিডেন্স হাহ্!
ফেলিক্স দশ মিলিয়নের বাজি ধরলো। সিয়াম আর রিজভী নীরব দর্শক। এমা কিছুটা দূরে স্টুলে বসে ড্রিঙ্ক করছে। তার অভিনিবেশ এভিয়ানের উপর নিবদ্ধ। সে তার প্রত্যেকটা সূক্ষ্ম বর্ণনা উপভোগ করছে। যেভাবে এভিয়ান ঠোঁটে রহস্যময় হাসি নিয়ে দৃঢ়তার সাথে চাল চালছে সেটা এমার অবসেশন।
ফেলিক্স আগে চাল চেলেছে এভিয়ান কৌশলের সাথে তার বিপরীতে চাল চালছে। এক এক করে তারা তাদের কার্ডগুলো ব্যবহার করছে। একটা সময় ফেলিক্সের কপালে চিন্তার ছাপ দেখা দিলো। এক এক করে সবগুলো কার্ড চালার পর দেখা গেল এভিয়ানের হাতের ৫টি কার্ডের সেটই সবচেয়ে শক্তিশালী, যার কারণে সে বাজিমাত দিয়ে সব টাকা জিতে নিলো। এভিয়ানের মুখে সেই চিরাচরিত হাসি দেখে ফেলিক্সের গা জ্বলে গেলো। বাজিতে এতগুলো টাকা হেরেও সে উপরে উপরে তার আক্ষেপ প্রকাশ করলো না। মুখে অহংকার ধরে রেখে বলল।
— ইউ ওন জাস্ট বাই চান্স। নেক্সট টাইম আইল উইন।
এভিয়ান টেবিল ছেড়ে উঠতে উঠতে বলল।
— কাম অন ডুড, এডমিট ইওর ডিফিট।
ফেলিক্স কোনো উত্তর না দিয়েই ক্ষোভে বেরিয়ে গেল। এভিয়ান ঘাড়ের রগ ফুটিয়ে বারের স্টুলে বসে ড্রিঙ্ক হাতে নিলো। সিয়াম আর রিজভীও তার সাথে যোগ দিল। ড্রিঙ্ক করার ফাঁকে ফাঁকে এভিয়ান বিজনেসের ব্যাপারে আলোচনা করছিল সিয়াম আর রিজভীর সাথে। তখন রিজভী বলল।
— তোর ড্রা’গ সাপ্লাইয়ের কাজটা কেমন চলছে?
এভিয়ান শান্তভাবে উত্তরে বলল।
— ওই আইজিপি ইমরান আমার কাজে ব্যাঘাত দেওয়ার পর আপাতত সেটা বন্ধ।
রিজভী হতচকিত হয়ে বলল।
— কি বলিস যার কথায় দেশের পলিটিশিয়ানরা উঠে বসে যার চলাফেরা বড় বড় আন্ডার ওয়ার্ল্ডের মাফিয়াদের সাথে সে কিনা সামান্য আইজিপি অফিসারের জন্যে তার ব্যবসা বন্ধ রেখেছে। এটা মানতে পারলাম না।
— বিষয়টা জটিল তার সাহস দেখে আমিও হতবাক। আমাকে নিয়ে বড়সড় মিশনে নেমেছে ও। তবে তার সকল ইনফরমেশন এখন আমার কাছে শীগ্রই এর সমাধান আমি করব।
তাদের আলাপের মাঝে একটা মেয়েলি কন্ঠ মনযোগ বিচ্ছিন্ন করলো।
— এভি! ক্যান উই টক।
এভিয়ান সেদিকে ঘুরে দেখলো এমা দাড়িয়ে। সে ইশারায় তাকে অনুমতি দিতেই এমা বলল।
— সবার সামনে নয় একান্তে।
এভিয়ান দৃষ্টি ঘুরিয়ে রিজভীর দিকে তাকালো। এভিয়ানের দৃষ্টি বুঝে সিয়াম আর রিজভীর সেখান থেকে উঠে চলে গেলো। তখন এমা বলতে শুরু করলো।
— তোমার মত বুদ্ধিমান লোক নিশ্চয়ই তার প্রতিপক্ষের নিকটস্থ কাউকে হাতে রাখতে চাইবে?
বরাবরই এভিয়ান তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। এমার কথার মানে বুঝতে সমস্যা হলো না তার। সে বিচক্ষণতার সাথে উত্তরে বলল।
— এতে তোমার লাভ?
এমা কুটিল হেসে বলল।
— বিপরীতে আমার তোমাকে চাই যদি সেটা হয় এক রাতের জন্যেও।
এমার লজ্জাহীনতা দেখে এভিয়ান বিড়বিড় করে অ’কথ্য ভাষায় তাকে গা’লি দিয়ে বলল।
— সাচ আ স্লা’ট।
এমা শুনতে না পেয়ে জিজ্ঞাসা করলো।
— কিছু বললে?
এভিয়ান একহাতে গ্লাসে ড্রিঙ্ক ঢালতে ঢালতে উত্তরে বলল।
— আমি নারী নে’শা করি না।
এমা হঠাৎ জোরে হেসে ফেলল।
— অবিশ্বাস্য! সকল ধরনের বেআইনি কাজের সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তি যখন এমন কথা বলে তখন সেটা শুনতে সত্যিই হাস্যকর লাগে।
— লাগতেই পারে।
— তার মানে তুমি আমাকে রিজেক্ট করছো?
— করতেই পারি।
— এর ফল কিন্তু ভালো হবে না এভি। আমাকে রিজেক্ট করার সাহস কারো নেই। তুমি তো বিচক্ষণ ডিলার আমি তোমাকে একটা পারফেক্ট ডিল অফার করেছি। তুমি বোকামি করছো।
এভিয়ান গা ছাড়া ভাব নিয়ে একই ভঙ্গিতে বলল।
— আই ডোন্ট গিভ আ ডে’ম।
এভিয়ানকে অনাগ্রহী দেখে এমা চোখমুখ শক্ত করে বলল।
— অতি সুদর্শন বলে তোমার এতো দেমাগ তাই না। তবে আমিও তোমার থেকে কম যাই না।
এতো কথার পরেও এভিয়ানকে অনড় দেখালো। এমন অবস্থায় এমা তাকে কাবু করতে কোনো বাক্য ছাড়াই তার উরুতে গিয়ে বসে পড়লো। এমার এমন দুঃসাহস দেখে এভিয়ান এক ধাক্কায় তাকে ফ্লোরে ছুঁড়ে মারল। রাগে চোয়াল শক্ত করে বলল।
— ইউ ডোন্ট হ্যাভ এনি আইডিয়া এবাউট মি। এমন দুঃসাহসিকতার কারণে আমি তোকে এখানেই পুঁ’তে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি।
এমা মেঝেতে পড়ে হাতে অনেকটা আঘাত পেলো। ঠিক সেই মুহূর্তে ফেলিক্সকে দেখা গেল ভেতরে প্রবেশ করতে। সে এভিয়ানের পায়ের কাছে এমাকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে রাগে ফেটে পড়লো। সে ছুটে এসে এমাকে ফ্লোর থেকে তুললো। অন্য কোনো বিষয়ে আপোষ করলেও সে এমাকে নিয়ে সংবেদনশীল। এমন অবস্থায় এভিয়ানের এমন কাজে সে গর্জে উঠলো। তার দিকে আঙ্গুল তাক করে বলল।
— তোর সমস্যা আমার সাথে তুই আমার এমাকে কেন এখানে জড়ালি।
— সেটা তোর ঠকবাজ গারফ্রেন্ডকেই জিজ্ঞাসা কর।
— খবরদার! ওর ব্যাপারে কোনো বাজে কথা বলবি না। আমি কখনো ফুলের টোকা লাগতে দেই নি আমার এমার গায়ে।
— আওয়াজ নিচু করে কথা বল ফেলিক্স।
এমা তখন উঠে ফেলিক্সকে থামিয়ে অভিনয় দেখিয়ে বলল।
— আমি ঠিক আছি বেবি, তুমি শুধু শুধু ঝামেলায় জড়িয়ো না। আমি তো এসেছিলাম সমঝোতা করতে যেন এভিয়ান তোমার সাথে আর লাগতে না আসে। কিন্তু ও উল্টো আমাকে ভুল বুঝে এমনটা করলো। চলো এখান থেকে।
এমা তার হাত ধরে ফেলিক্সকে সেখান থেকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। ফেলিক্স যেতে যেতে এভিয়ানকে সতর্ক করে বলে গেল।
— এমন কাজের জন্য তোকে মাশুল দিতে হবে এভিয়ান।
নিজের মত কথাগুলো উগ্রে দিয়ে ফেলিক্স এমাকে নিয়ে সেখান থেকে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে গেল। অপরদিকে চেঁচামেচির আওয়াজ পেতেই রিজভী এমন পরিস্থিতি দেখে এগিয়ে এসে এভিয়ানকে জিজ্ঞাসা করলো।
— কিরে কি হলো আবার তোদের মাঝে?
এভিয়ান চোখে মুখে ঘৃণা নিয়ে বলল।
— এর জন্যই আমি নারীদের ঘৃণা করি এরা ছ’লনাময়ী। যে পুরুষ একবার এই নারীর ছ’লনায় পা রেখেছে তার ধ্বংস নিশ্চিত হয়েছে। চোখে দেখা আমার বাবা নামের লোটিও এর জলজ্যান্ত প্রমাণ ছিল।
রিজভীর আর বুঝতে বাকি রইলো না এখানে কি ঘটেছে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।
— সব নারী এক না আমার জেরিনকে দেখ ও অন্যরকম।
এভিয়ান চোখ গরম করে তাকাতেই রিজভী চুপসে গেলো মুখে আর কোনো রা করলো না। বুঝতে পারলো এই মুহূর্তে কথা বাড়ালে তার খবর হয়ে যাবে। হঠাৎ এভিয়ানের ফোনে রিং বাজলো এভিয়ান ফোন হাতে নিতেই দেখলো জেরিনের কল। কল রিসিভ করতেই অপরপাশে থেকে জেরিন চেঁচিয়ে বলল।
— কিরে তোরা কই আবারো আমাকে না নিয়েই ক্যা’সিনোতে গিয়ে পড়ে আছিস? আর ওই রিজভীর বাচ্চা কোথায় ওর ফোন অফ কেন?
জেরিনও এভিয়ানের সাথে ততটাই ফ্রী যতটা না রিজভী। তাদের তিনজনের বন্ধুত্ব একই সূত্রে। বন্ধুত্বের মাঝেই রিজভীর সাথে জেরিনের ভালোবেসে বিয়ে হয়ে যায়।
এভিয়ান রিজভীর দিকে ফোন এগিয়ে দিয়ে বলল।
— নে তোর বউ সামলা।
রিজভী ভয়ে ভয়ে ফোন হাতে নিলো। মাত্র মেয়েটার কথা বলে সারলো না ওমনি ওকে জ্বালাতে উঠে পড়ে লাগলো। সে ফোন হাতে অন্যপাশে চলে গেলো। ফোনে জেরিন তাকে উরাধুরা ঝেড়ে যাচ্ছে সে মুখ কাচুমাচু করে সেই ঝাড়ি গিলে যাচ্ছে। সেটা দেখে এভিয়ান আনমনে উপহাস করে বলল।
— সবে মাত্র বউয়ের প্রশংসা করছিল এই আহাম্মকটা।
______________________________________________
সন্ধ্যে নামায় আকাশ লাল, কমলা, বেগুনি ও সোনালি রঙের মিশ্রণে সেজে উঠেছে। গোধূলি বেলায় পশ্চিম আকাশে সূর্যের শেষ রশ্মি এক অপূর্ব রঙের খেলা তৈরি করেছে। পাখিরা তখন কিচিরমিচির শব্দে দলবদ্ধভাবে ফিরে যাচ্ছে আপন নীড়ে।
সেসময় ছাদে রেলিংয়ে পা দুলিয়ে বসে আছে ইশাত আর আদিবা। ইশাত অন্যমনস্ক হয়ে অদূর আকাশের দিকে তাকিয়ে। ইশাতকে চুপচাপ দেখে আদিবা তাকে প্রশ্ন করে বলল।
— আমি যদি ভুল না হই তবে তুই নিশ্চয়ই সেদিনের সেই লোকটার কথা ভাবছিস ঠিক না?
ইশাত আকাশের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখেই উত্তর দিলো।
— হুম।
— আচ্ছা তার নাম কি হতে পারে যেটা বলে আমরা তাকে ডাকবো? যেহেতু আপাতত আমরা তো আর তার নাম জানি না।
ইশাত ঠোঁটে মৃদু হাসি নিয়ে বলল।
— যেহেতু তার নাম আমার জানা নেই তাই সেই নাম না জানা ব্যক্তিটির নাম আমি নিজেই ঠিক করেছি।
আদিবা কৌতূহল নিয়ে জানতে চাইলো।
— কি?
— প্রথম ঝলকেই তার হিরণ্ময় স্বর্ণালি চাহনি আমার নজর কেড়েছে তাই আমি তার নাম দিব মিস্টার গোল্ডেন।
— এহ্! কি অদ্ভুত নাম। এমন কারো নাম হয় নাকি?
— নামটা অদ্ভূত হলেও আমার কাছে অর্থবহ।
— তুই যে এতো করে তার কথা ভাবছিস যদি সে বিবাহিত হয় তখন কি করবি?
— এমনটা হলে নিজেকে গুটিয়ে নিব। কিন্তু না জেনেই তো আর হাল ছাড়তে পারি না।
— তাও ঠিক।
ইশাত রেলিং থেকে নেমে হাত ঝাড়তে ঝাড়তে বলল।
— হুম, চল নিচে নেমে যাই এখনই মাগরিবের আযান পড়ে যাবে।
আদিবাও ব্যস্ত ভঙ্গিতে নেমে সায় জানিয়ে বলল।
— ঠিকাছে চল।
যেতে যেতে আকাশের পানে শেষবারের মতো তাকিয়ে ইশাতের মনে একটা কথার সুরই বারংবার উদিত হলো।
“তুমি যত দূরেই কেন থাকো না আমি খুঁজেই নেব তোমার ঠিকানা।”
চলবে ( ইনশাআল্লাহ )…………………….
#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৮
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা
ঘুমের ঘোরে রেপিং পেপারের মুচমুচে আওয়াজ কানে এসে লাগতেই ইশাতের ঘুম ভেংগে গেল। আশেপাশে কোন বস্তুর উপস্থিতি অনুভব করতেই বিছানা হাতড়ে সেটা হাতে নিয়ে দেখলো চকলেটের প্যাকেট। কৌতূহলবসত হঠাৎ তার চোখের সব ঘুম যেন কোথাও উধাও হয়ে গেল। তড়িৎ সোয়া থেকে উঠে বসে বিছানার চারিদিকে চোখ বুলাতেই দেখলো তার বেড ভর্তি চকলেট বিছিয়ে আছে। সে মোটেও আশ্চর্য হলো না বরং তার বুঝতে বাকি রইলো না যে তার ভাইয়া বাড়ি ফিরেছে। খুশির জোয়ারে চট করে বেড থেকে উঠে আগে ফ্রেশ হয়ে এসে ভাইয়ের সাথে দেখা করতে বেরিয়ে গেলো সে রুম থেকে। বেড়িয়েই আগে মাকে সামনে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলো।
— ভাইয়া কোথায় কখন ফিরল?
আসিয়া বেগম টেবিলে নাস্তা সাজিয়ে রাখতে রাখতে ব্যস্ত ভঙ্গিতে জবাবে বললেন।
— ভোরেই ফিরেছে তুই ঘুমিয়ে ছিলিস বলে আর তোকে ডাকে নি।
ইশাত রান্নাঘরে যেতে যেতে বলল।
— ফজরের নামাজ পড়ে বই পড়তে পড়তে হয়তো চোখ লেগে গিয়েছিল মা।
— ঠিকাছে যা এখন দেখা করে আয়। সেই তখন থেকে তোর সাথে দেখা করার অপেক্ষায় আছে তোর ভাইয়া।
আসিয়া বেগমের কথার উত্তরে ইশাত মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানিয়ে ভাইয়ের রুমে যাওয়ার আগে বুদ্ধি করে দুজনের জন্য দুকাপ কফি বানিয়ে নিয়ে গেল। তার হাতে বানানো কফি নাকি তার ভাইয়ের ভীষণ পছন্দ। দরজায় কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে উত্তর এলো।
— ভেতরে আয় ইশাত।
অনুমতি পেতেই ইশাত মুখভর্তি প্রাণোচ্ছল হাসি নিয়ে ভেতরে ঢুকে সালাম জানালো। ইমরান বসে কিছু ফাইল ঘাটছিল ইশাতকে দেখা মাত্রই সালামের উত্তর নিয়ে মুখে হাসি রেখে বোনের জন্য দুহাত মেলে ধরলো। ইশাত কফি রেখে ছুটে গিয়ে ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরলো। ইমরান তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল।
— চকলেটগুলো পেয়েছিলিস?
ইশাত মাথা দুলিয়ে বলল।
— তোমাকে এসব কে আনতে বলে আমি কি এখনো বাচ্চা নাকি?
ইমরান বোনের কথায় তাল মিলিয়ে বলল।
— বাচ্চা না হলেও তোর ভাইয়ার কাছে তুই সবসময় সেই ছোট্ট ইশাতটাই রয়ে যাবি। যে ইশাত এখনো সামান্য চকলেট হাতে পেলে সেই ছোটবেলার মতোই খুশিতে আটখানা হয়ে যায়।
ইশাত আবেগ নিয়ে ভাইয়ার দিকে তাকালো। ছোট থেকে তার কাছে তার বড় ভাইই তার বাবার সমতুল্য। সর্বদা বাবার স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছে। কখনো কোনো দুঃখের আঁচ পর্যন্ত বোনের গায়ে লাগতে দেয় নি। বোনের উপর নেমে আসা সকল বিপত্তি নিজে সামলে নিয়েছে। ঢাল হয়ে তার সামনে দাড়িয়েছে। ইমরান গুনেগুনে এগারো বছরের বড় ইশাতের থেকে। যখন ইমরান নতুন নতুন আইজিপি পদে জয়েন করেছে তখন থেকেই সে আত্মরক্ষায় বোনকেও ডিফেন্স ট্রেনিং দিতো। তার মতে তার বোন একজন আত্মনির্ভরশীল নারী হবে। যে জীবনের সব পরিস্থিতিতে নিজের সুরক্ষা নিজে করতে জানবে। ভাইয়ের অবদানে ইশাত তার জীবনে ডিফেন্সে এতো এতো মেডেল অর্জন করেছে।
ইশাত মাথা তুলে জানতে চাইলো।
— কয়দিনের ছুটি নিয়ে এসেছ?
— এই সপ্তাখানেক।
ইশাত মুখ কালো করে বলল।
— মাত্র? এতদিন পর এসেছ তাও মাত্র এক সপ্তাহর জন্যে!
প্রত্যুত্তরে ইমরান মৃদু হাসলো। ইশাত উঠে ভাইয়ের হাতে কফির কাপটা এনে তুলে দিল সে নিজেও তার কাপটা নিলো। ইমরান বোনের বানানো কফি হাতে পেয়ে পরিতৃপ্তি নিয়ে কাপে চুমুক বসালো। তখন হঠাৎ ইশাতের নজর গেল পাশে রাখা ফাইল গুলোতে। ইশাত কপাল কুঁচকে বলল।
— তুমি বাড়িতে এসেও এসব কাজ নিয়ে পড়েছ? আমাদের সময় না দিয়ে কাজে সময় দিলে চলবে?
ইশাতের কথায় সেদিকে একবার লক্ষ্য করে ইমরান আনমনা হয়ে উত্তরে বলল।
— ইদানিং অনেক জটিল একটা কেস হ্যান্ডেল করছি। সেটা নিয়েই ব্যস্ত আছি। এই কেসের ক্রি’মিনাল অনেক সাংঘা’তিক আর দু’র্ধর্ষ।
ইশাত এর আগে তার ভাইকে কখনো কোনো কেস নিয়ে এতটা চিন্তিত হতে দেখে নি। সর্বদা সব কেস সে ঠান্ডা মাথায় সমাধান করেছে। এর জন্য তার নামে বেশ প্রশংসাও রয়েছে। তবে এবারের ব্যাপারটা তার কাছে ভিন্ন ঠেকলো সে প্রশ্ন করলো।
— কে সেই ক্রি’মিনাল?
ইমরান বোনের প্রশ্নের উত্তরে বাকি তথ্য জানিয়ে বলল।
— তার নাম এভিয়ান জারিয়াথ, দেশের গণ্যমান্য বিজনেস টাইকুন। দুনিয়ার চোখে সে দূরদর্শী মাল্টি-বিলিয়নিয়ার হলেও খ্যাতির আড়ালে তার কালো ব্যবসা রয়েছে। গো’পন সূত্রে জানতে পেরেছি দেশ বিদেশের কুখ্যা’ত আন্ডার ওয়ার্ল্ডের মা’ফিয়াদের সাথে সংযোগ রয়েছে তার। অনেক ধূর্ত ড্রা’গ ডিলার সে। এতো চেষ্টা করেও আমি তাকে হাতে নাতে ধরতে পারছি না। বরং আমি প্রমাণ জোগাড় করার আগেই সকল প্রমাণ সে গু’ম করে দিচ্ছে মুছে ফেলছে। কিভাবে যেন আগে থেকেই সে সব টের পেয়ে যায়। তবে চিন্তা করিস না আমি ঠিক তার সকল কালো ব্যবসার ইতি টানবোই, সকলের চোখে তার ভালোর মুখোশ টেনে আসল রূপ বের করবোই। সে ধূর্ত হলে আমিও একজন ট্রেনিংপ্রাপ্ত প্রফেশনাল অফিসার। এদের সাথে কিভাবে ডিল করতে হয় আমার ভালো করে জানা আছে।
সবকিছু শুনে ইশাত আঁতকে ওঠে। অনাগত বিপদের কথা আশঙ্কা করে বলল।
— কেসটা অনেক ভয়ানক ভাইয়া তোমার এতটা রিস্ক নেওয়া উচিত হচ্ছে না। যদি সে তোমার কোনো ক্ষতি করে বসে? না না আমি তোমাকে এতো বড় রিস্ক নিতে দিব না। তুমি ছাড়া আমার আর মার কে আছে বলো?
ইশাতকে বিচলিত হতে দেখে তাকে শান্ত করে ইমরান বলল।
— এসবের ভয় আমি করি না। আর তোকও সব সময় শিক্ষা দিয়ে এসেছি অন্যায় দেখলে রুখে দাঁড়াতে প্রতিবাদ করতে। ভুলে যাস না আমাদের বাবা একজন সৎ নিষ্ঠাবান অফিসার ছিলেন। তিনি দেশের সেবায় শ’হীদ হয়েছিলেন। আমরা তারই সন্তান। মা আমাদের সেই আদর্শেই বড় করেছেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে কখনো পিছপা হবি না। যদিও সেটা নিজের জীবনের মূল্যেও হয় না কেন। নিজের নিষ্ঠাকে আগে গুরুত্ব দিবি। বোঝা গেছে?
ইশাত নিভৃতে মাথা দুলিয়ে বলল।
— আমি দোয়া করবো যেন তুমি তোমার মিশনে সফল হও।
বাহিরে থেকে তখন আসিয়া বেগম ডাক ছুড়লো তাদের নাস্তার জন্য। মায়ের ডাকে তারা একসাথে গিয়ে ডাইনিং টেবিলের চেয়ার টেনে বসতেই আসিয়া বেগম হাসিমুখে বললেন।
— ইমরান তোকে নিয়ে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেক দিন ধরে ভাবছি বলবো।
ইমরান ব্যস্তভঙ্গীতে হাতে বাটার নাইফ তুলে ব্রেডে জেম স্প্রেড করছিল মায়ের কথায় মাথা তুলে প্রত্যুত্তরে বলল।
— হুম, বলো মা।
ছেলের সম্মতি পেয়ে আসিয়া বেগম কথা এগিয়ে বললেন।
— আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করবো। তোর এ নিয়ে কি মতামত?
ইমরান নির্বিকার চিত্তে বলল।
— তোমার যা ইচ্ছা।
ছেলের উত্তরে আসিয়া বেগম খুশি হয়ে গেলো। টেবিল থেকে এটা ওটা এগিয়ে দিতে লাগলেন। ইশাত খুশি হয়ে ভাইকে বলল।
— ভাইয়া তোমার কেমন মেয়ে পছন্দ এখনই বলে রাখো। আমরা বুঝে শুনে দেখব।
— তোর যেমন ভাবি পছন্দ সেরকমই দেখিস।
ইশাত দ্বিমত করে বলল।
— বউ নিয়ে তো তুমি থাকবে আমার পছন্দের চেয়ে তোমার পছন্দের গুরুত্ব বেশি। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলে অথবা মেয়ের পছন্দ-অপছন্দকে ইসলাম অগ্রাধিকার দেয়। সে কাকে বিয়ে করবে, তা একান্তই তার নিজস্ব অধিকার।
বোনের কথার গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইমরান বলল।
— এখনো ভেবে দেখি নি এই বিষয়ে, ভেবে জানাব।
পরমুহুর্তে ইমরান বোনের কথার মাঝে শরীয়তের উধাহরন উপলব্ধি করে বলল।
— এইবার তোর কথার ধরনে আমি পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। আমার বোনটা বেশ বুঝদার হয়েছে দেখছি। মাশাআল্লাহ।
আসিয়া বেগম সন্তুষ্ট হেসে বললেন।
— আল্লাহর রহমতে তোমার বোন তো এখন নামাজ নিয়মিত পড়ছে কাযা করে না। কুরআন নতুন করে নিয়মিত পড়ছে। ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করছে। আল্লাহ ওকে সঠিক বুঝ দান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
— আলহামদুলিল্লাহ, শুনে খুশি হলাম। আমিও চেষ্টা করব যেন নামাজ কাযা না হয় সময় মত আদায় করতে পারি।
আসিয়া বেগম তখন দুই ছেলে মেয়েকে উপদেশসরূপ বললেন।
— আমি সর্বদাই তোমাদের শিক্ষা দিয়েছি আল্লাহর ইবাদতের গুরুত্বের বিষয়ে। মনে রাখবে জীবনে যত গুরুত্বপুর্ন কাজই হোক না কেন সেটা নামাজের তুলনায় তুচ্ছ। চেষ্টা করবে নিয়মিত প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে। জীবনের যে কোনো পর্যায়ে নিজের রবকে ভুলে যেও না। দেখবে আল্লাহ নিজেই তখন জীবনের সকল জটিলতা সহজ করে দিচ্ছেন।
মায়ের কথায় দুই ভাইবোন একসাথে প্রত্যুত্তর করলো।
— ইনশাআল্লাহ আম্মু।
সারাদিন ভাইয়া আর আম্মুর সাথে হাসিখুশিময় সময় কাটিয়ে রাতে ইশাত নিজের রুমে ফিরে এলো। বিছানায় পড়ে থাকা ফোনটা হাতে তুলতেই দেখলো আদিবার মেসেজ। আদিবা একটা শাড়ির ছবি পাঠিয়ে লিখেছে কাল ভার্সিটিতে সে এই শাড়িটা পড়ে যাবে। আর এটাও জানতে চেয়েছে কাল ইশাত কি পড়ে যাবে।
আদিবা মেসেজ পড়ে ইশাতের কপালে কয়েক ভাঁজ পড়লো। পরমুহুর্তে তার মনে পড়লো কাল তার ভার্সিটিতে ফাল্গুনের অনুষ্ঠান। ইশাত রিপ্লাই করে আদিবাকে লিখল।
” তুই যা আমার ইচ্ছে নেই রে, ভাইয়া এসেছেন অনেকদিন পর।”
ইশাতের উত্তরের অপেক্ষায়ই যেন আদিবা এতক্ষন বসে ছিল। অপরপাশ থেকে মেসেজ আসা মাত্রই সেটা পড়ে সে রাগে ফুঁসে সোজা কল লাগালো। ইশাত সেই কল রিসিভ করতেই আদিবা অকপটে বলে গেলো।
— আমি গেলে তুইও যাবি আমি এতো কিছু বুঝি না।
ইশাত বুঝিয়ে বলল।
— আদিবা জেদ করিস না আমার আগের মতো এখন আর এইসব ভালো লাগে না।
— আমি থাকলে ভালো লাগবে। তুই যাবি মানে যাবি! এবার বল কোন শাড়িটা পড়বি?
— আমি শাড়ি টারি পড়বো না। যদিও আসি বোরকা হিজাবেই আসবো। আর বেশিক্ষণ থাকবো না চলে আসবো।
আদিবা সমস্যা বুঝে সমাধান দিয়ে বলল।
— তুই তো চাইলে তোর ফুল স্লিভস ব্লাউজ দিয়ে হিজাবসহই শাড়ি পরতে পরিস। প্লীজ প্লীজ মানা করিস না দেখ সবাই পড়বে।
ইশাত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।
— দেখি কি করি।
— যাই করিস না কেন আসতে তোর হবেই কিন্তু বলে দিলাম।
— হুম, আল্লাহ হাফেজ ঘুমিয়ে পড় তাহলে।
— ঠিকাছে আল্লাহ হাফেজ।
ফোন রেখে ইশাত ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে দেখলো রাত প্রায় ১১টার কাছাকাছি। মৃদু মিষ্টি বাতাসে বারান্দার সফেদ পর্দাগুলো দুলছে। চাঁদের আলো এসে বারান্দায় নীলাভ জ্যোৎস্না তৈরি করাতে চারপাশ এক মায়াবী রূপ ধারণ করেছে। আনমনে ইশাত ধীরপায়ে এগিয়ে স্লাইডিং ডোর ঠেলে সেদিকটায় দাড়ালো। রেলিংয়ে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে এক বুক নিশ্বাস টেনে নিতেই বদ্ধ চোখের পাতায় ভেসে এলো একজোড়া উজ্জ্বল সোনালী চোখ। নিস্তব্ধ রজনীতে উজ্জীবিত হলো মনের গহীনে লুকোনো কল্পনা। জেঁকে ধরলো বিষণ্ণতা, সেই কয়েক মুহূর্তের স্মৃতিকাতরতা। ইশাত নিজের অনুভূতিগুলোকে সাম্ভাল দিতে চট করে চোখ মেলে তাকালো। সেখানে আর দাড়িয়ে না থেকে সে ঘরে ফিরে এলো।
ওযু থাকা অবস্থায়তেই সে জায়নামাজ বিছিয়ে নিলো। মনে মনে ঠিক করলো আজ ইস্তেখারার নামাজ পড়ে সে আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে সাহায্য চাইবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। এ বিষয়ে এগোনোর জন্য একমাত্র তিনিই ইশাতকে সমাধান দিতে পারবেন। এশার নামাজ আযানের পরপরই পড়া হয়েছিল তার। ভাবনা মাফিক সে দু রাকাত ইস্তেখারার নামাজ পড়ে হাত তুলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দোয়া করে নিল।
মায়ের দেওয়া হাদিস বইয়ে ইশাত পড়েছে জীবনে যেকোনো উদ্যোগের বিষয় অথবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যেমন: বিয়ে, চাকরি, বা বড় কোনো কাজের পূর্বে সেই বিষয়ে কল্যাণ-অকল্যাণ জানতে এই নামাজ পড়া সুন্নাত। মনের দোটানা অথবা দ্বিধা দূর করতে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে কাজ করার জন্য ইস্তেখারা করা হয়।
নবীজি (সা.) সাহাবীদের কোরআনের সূরার মতোই ইস্তেখারার শিক্ষা দিতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে ২ রাকাত নফল সালাত আদায় করে বিশেষভাবে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬৩৮২, ১১৬৬)
সেই অনুযায়ী ইশাত স্বাভাবিকভাবে দুই রাকাত নফল নামাজ সালাতুল ইস্তেখারার নিয়তে পড়ে সালাম ফেরানোর পর প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূল (সা.) এর উপর দরুদ পড়ে নিয়ে। এরপর ইস্তেখারার দোয়াটি পড়ে নিয়েছে।
আরবিতে ইস্তেখারার দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ. اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ. وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقिबَةِ أَمْرِي، فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ.
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বি’ইলমিকা, ওয়া আসতাকদিরুকা বি-কুদরতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল ‘আজীম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়া লা তাকদিরু, ওয়া তা’লামু ওয়া লা আ’লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লামুল গুইয়ুব। আল্লা-হুম্মা ইন্ কুন্তা তা’লামু আন্না হাযাল আমরা খাইরুন লি ফী দ্বীনী ওয়া মা’আশী ওয়া ‘আকিবাতী আমরী, ফাকদুরহু লি ওয়া ইয়াসসিরহু লি, সুম্মা বারিক লি ফীহ। ওয়া ইন্ কুন্তা তা’লামু আন্না হাযাল আমরা শাররুন লি ফী দ্বীনী ওয়া মা’আশী ওয়া ‘আকিবাতী আমরী, ফাসরিফহু ‘আন্নী ওয়াসরিফনী ‘আনহু, ওয়াকদুর লিয়্যাল খাইর হাইসু কানা সুম্মা আরদিনী বিহ.
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞান দ্বারা আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার ক্ষমতা দ্বারা সামর্থ্য কামনা করছি, এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমতা রাখেন আর আমি রাখি না, আপনি জানেন আর আমি জানি না, আর আপনিই অদৃশ্য সম্পর্কে সর্বজ্ঞ। হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন যে এই কাজটি (এখানে আপনার নির্দিষ্ট কাজটি উল্লেখ করুন) আমার দ্বীন, জীবন-জীবিকা এবং পরিণতির জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারণ করুন, সহজ করে দিন এবং এতে বরকত দিন। আর যদি আপনি জানেন যে এই কাজটি (এখানে আপনার নির্দিষ্ট কাজটি উল্লেখ করুন) আমার দ্বীন, জীবন-জীবিকা এবং পরিণতির জন্য ক্ষতিকর, তবে আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে নিন এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে নিন। এরপর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন যেখানেই হোক না কেন এবং আমাকে তাতেই সন্তুষ্ট রাখুন।
সবশেষে সে আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর বিশ্বাস রেখে ওযু অবস্থায় ঘুমানোর দোয়া পড়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
____________________
সকাল সকালই আদিবা ইশাতকে কল করে তাড়া দিচ্ছে। ইশাত তার সাথে আর না পেরে একটা বাসন্তী রঙের শাড়ি বের করে লং স্লিভসের হাতাসহ ব্লাউজ দিয়ে শাড়িটা পরিপাটি করে পড়ে নিলো। খুবই সাদামাটা নূন্যতম সাজবিহীন মাথায় হিজাবটা ঠিকঠাক করে সে পড়ে নিল। তৈরি হওয়া শেষ হলে ভাইয়া আর মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে সে বেড়িয়ে গেল ভার্সিটির উদ্দেশ্যে। আদিবা অটো নিয়ে তার বাড়ির গেটের সামনেই অপেক্ষা করছিল। সে নামতেই দুজনে একসাথে রওনা দিল।
ভার্সিটিতে পৌঁছতেই তারা তাদের ভার্সিটি ক্যাম্পাসের সজ্জা দেখে একদমই চিনতেই পারলো না। ফাল্গুনের সাজে ভার্সিটি ক্যাম্পাস যেন রঙের উৎসবের রূপ নিয়েছে। বসন্ত বরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে টিএসসি, চত্বর আর অডিটোরিয়ামগুলোতে বাসন্তী রঙের সাজে সবাই মেতে ওঠেছে। মেয়েরা একেকজন বাসন্তী, হলুদ, কমলা অথবা সাদা রঙের সুতি শাড়ি পড়েছে। সাজের সাথে চুলে খোপা করে তাতে হলুদ, কমলা রঙের ফুল গুঁজে নিয়েছে। ছেলেরাও ভিন্ন ভিন্ন রঙের পাঞ্জাবি পড়ে এসেছে। টিএসসি,বিভিন্ন হল আর অনুষদ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন রকমের ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্টল বসিয়েছে। সেগুলো বিক্রি করতেই আপাতত ব্যস্ত তারা। ইশাত অবশ্য স্টলের কোনো কাজে অংশগ্রহন করে নি।
ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা ব্যতিতও বহিরাগত অনেক অতিথিরাও এসে যোগ দিয়েছে তাদের এই উৎসবে। ভেতরে প্রবেশ করতে গিয়ে হঠাৎ আননোন নাম্বারে ইশাতের ফোনে রিং বেজে উঠলো। ইশাত একটু থেমে কলটা রিসিভ করলো। সে সালাম জানিয়ে জিজ্ঞাসা করলো।
“কে?”
তবে অপরপাশ থেকে কোনো উত্তর এলো না। অন্যদিকে আদিবার ইশাতের দিকে খেয়াল নেই সে নিজের মতো করে চারপাশে নজর বুলাতে বুলাতে ভেতরের দিকে এগিয়ে চলেছে। ভিড়ের মাঝে অযাচিত ধাক্কায় ইশাতের হাত থেকে ফোনটা মাটিতে পড়ে গেল সাথে হাতের পার্সটাও। সে সতর্কভাবে ফোনটা তুললেও পার্সের দিকে তার খেয়াল ছিল না। অকস্মাৎ পাশ থেকে একটা পুরুষালি গম্ভীর আওয়াজ কানে আসতেই সে চমকে উঠলো।
” এক্সকিউজ মি মিস, ইউ ড্রপড ইওর পার্স। ”
আওয়াজটা ইশাতের কাছে চিরচেনা ঠেকলো। সে তড়িৎ ফিরে দেখলো কালো হুডি আর মাস্কের আস্তরণে ডাকা ব্যক্তিটিকে। বিস্তৃত, চওড়া গড়নের লোকটি তার থেকে উচ্চতায় দ্বিগুণ। আনুমানিক ইশাতের মাথা গিয়ে ঠেকেছে তার কাধেরও নিচে। যার কারণে ইশাতের মাথা খানিকটা উচু করে তাকাতে হয়েছে। তবে অবাক করা বিষয় হলো তার চোখ। যে চোখ চিনতে ইশাতের কখনো ভুল হতে পারে না। না চাইতেও তার স্বপ্নে ভেসে বেড়ানো সুপরিচিত এই চোখ দুটো। সূর্যের প্রখর রশ্নির মত উজ্জ্বল এই সোনালী চোখদুটো। ইশাত নিজের হুস হারিয়ে শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সবকিছু বুঝতে চাইলো। কোনো এক অচেনা অনুভূতি মনে এসে বাসা বাঁধতেই হৃদয়ের স্পন্দন জোরালো হলো।
লোকটা ইশাতের মধ্যে কোনো অভিব্যক্তি লক্ষ্য না করায় লম্বা হাত বাড়িয়ে নিজে থেকেই পার্সটা তুলে তার দিকে এগিয়ে ধরলো। ইশাত ধ্যানমগ্ন হয়েই সেটা হাতে নিলো। ঠিক তখনই পেছন থেকে আদিবার ডাকে সে আরেকদফা হতচকিত হলো। সংবিৎ ফিরতেই পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো আদিবা তাকে দুর থেকে ডেকে যাচ্ছে। আদিবার থেকে চোখ ফিরিয়ে পুনরায় সামনে তাকাতেই দেখলো এক মুহূর্তের ব্যবধানে সেই সোনালী চোখের অধিকারী পুরুষটি আর তার সামনে দাড়িয়ে নেই। ভিড়ের মাঝে কোথাও হারিয়ে গেছে।
এটা কি হলো? ইশাতের মন এই পর্যায়ে অস্থিত হয়ে উঠল। সব অবাস্তব মনে হলো। আদিবা না পেরে এবার নিজে থেকেই এগিয়ে এসে ইশাতের হাত টেনে ফাঁকা জায়গায় দাড় করিয়ে রাগ হয়ে বলল।
— কিরে কি হয়েছে ওখানে এভাবে ভ্যাবলার মতো দাড়িয়ে ছিলিস কেন?
ইশাত কম্পিত হাতে ধড়ফড় করা হৃদয় সামলে বলল।
— তাকে আবারো দেখেছি আমি! আদিবা সে এখানেই ছিল।
আদিবা কিছু না বুঝতে পেরে আবারো প্রশ্ন করলো।
— কাকে দেখেছিস?
চোখে উজ্জ্বল তারার মতো জ্বলজ্বল করা প্রত্যাশা নিয়ে ইশাত প্রতিউত্তর করলো।
— মিস্টার গোল্ডেনকে।
এমন কথা শুনে আদিবা বিস্মিত হয়ে একনাগাড়ে অনর্গল বলে গেল।
— সত্যি?? তুই চিনতে পেরেছিস তাকে? সে তোকে চিনতে পেরেছে? কথা হয়েছে তোদের? নাম জিজ্ঞাসা করেছিস তার?? ধুর, আমি তো তোকে ডাকার ধান্ধায় তাকে লক্ষ্যও করি নি।
ইশাত চোখের কোনে জমা পানি নিয়ে বলল।
— তাকে চিনতে আমার একটুও ভুল হবে না আদিবা। শতকোটি মানুষের ভিড়ে তাকে আমি ঠিকই চিনে নেব। তবে কিছুই জানতে পারি নি তার আগেই সে ভিড়ে মিলিয়ে গেলো।
আদিবা ইশাতের হাত টানতে টানতে বলল।
— তাহলে চল তাকে খুঁজে বের করি।
ইশাত আদিবাকে বাধা দিয়ে বলল।
— সে আমার হলে কোনো এক উসিলায় আল্লাহই তাকে আমায় মিলিয়ে দিবেন আমাদের যেতে হবে না। আল্লাহর সিদ্ধান্তেই আমি সন্তুষ্ট হব।
আদিবা বুঝার মত করে মাথা দুলালো তবে পুরো ভার্সিটি ঘুরেও আর খুঁজে পেল না ইশাতের সেই মিস্টার গোল্ডেনকে। অন্যদিকে ইশাত তার মনে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছে। নাহলে তার ইস্তেখারা করার পরপরই আল্লাহ কেন সেই ব্যক্তির সাথে তার আবারো সাক্ষাৎ করালো। যদি তাকে দেওয়ার নাই হতো তাহলে নিশ্চয়ই এমন ইঙ্গিত তিনি দিতেন না। ইস্তেখারার পর থেকে যেন তার বিশ্বাস আর প্রখর হয়ে উঠেছে। ইশাত মনে অটুট বিশ্বাস নিয়ে বিড়বিড়িয়ে বলে উঠলো।
” ইয়া রব নিশ্চয়ই আমি তুচ্ছ জ্ঞানের অধিকারি। তুমি সকল জ্ঞানে উৎস। তোমার থেকে ভালো কেউ জানে না। সুতরাং তুমি আমার জন্য এই পথ সহজ করে দাও, আমাকে ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দাও।”
ইশাতের দৃষ্টির আড়ালে অদুরেই দাড়িয়ে আছে এভিয়ান। কানে তার ব্লুটুথ কানেক্ট করা। ব্লুটুথের অপরপাশ থেকে একজন তাকে বলল।
” বস! মেয়েটাকে কি তুলে আনবো? এটাই সুযোগ ভিড়ের মাঝে কেউ টেরও পাবে না।”
এভিয়ানের নজর এখনো ইশাতের দিকেই তাক করা। যেন বাজপাখির মতো নিজের শিকারকে পরখ করে যাচ্ছে। সেভাবেই জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে সন্তপর্নে আদেশ ছুড়লো।
” উহু,হোল্ড অন। এতো অধৈর্য হওয়া ঠিক না আপাতত ও আমার নজরে রয়েছে,থাকুক! সময় হলেই পরর্বতী পদক্ষেপে এগোনো যাবে নাও মুভ।”
চলবে ( ইনশাআল্লাহ )………………………………….

