#ফিরেছি_তোর_আঙ্গিনায়
পর্ব—১৭
মৌমো তিতলী
সকালের স্নিগ্ধ সূর্যের আলো জানালার ফিনফিনে সাদা পর্দা ভেদ করে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে মেঝেতে এসে হুটোপুটি করছে। বাইরে গার্ডেনের কোনে কদমগাছে বসে একঝাঁক পাখি কিচিরমিচির করে নতুন দিনের আগমনী বার্তা জানাচ্ছে। মৃদু বাতাসে পর্দাগুলো থেকে থেকে দুলে উঠছে।
বেশ নিশ্চিন্তে টানা ঘুম দিলে যেমন প্রশান্তি কাজ করে ঠিক তেমনি প্রশান্তিময় একটা অনুভুতির মাঝে হঠাৎ মৌমিতার ঘুম ভাঙলো।
চোখ দুটো আধখোলা রেখেই কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইলো সে। বেশ আরাম লাগছে। মনে হচ্ছে যেন নরম কোনো বালিশের ওপর মাথা রাখা। মৌমিতা হাত উঠিয়ে বালিশ আঁকড়ে ধরতে নিলেই চমকে উঠলো।
পরের মুহূর্তেই কপাল কুঁচকে গেলো তার।
এটা তো বালিশ নয়…!
গরম একটা বুকের স্পন্দন স্পষ্ট অনুভব করতেই ঝটকা মেরে পুরো চোখ খুলে ফেলল সে।
চোখ খুলতেই নিজের অবস্থান দেখে বুক ধড়ফড় করে উঠলো।
আদিত্যর উন্মুক্ত বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে আছে সে!
আদিত্যর একটা হাত শক্ত করে জড়িয়ে আছে তার কোমরে। অন্য হাতটা আলতো করে রাখা তার কাঁধের নিচে। গভীর ঘুমে ডুবে থাকা মানুষটার নিঃশ্বাস নিয়মিতভাবে আছড়ে পড়ছে মৌমিতার কপালে।
মৌমিতা হতভম্ব হয়ে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলো।
মনে পড়ে গেলো গতরাতের কথা। কিন্তু মৌমিতা তো আদিত্যর বক্ষে ঘুমাই নি কাল, বরং আদিত্য মৌমিতার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। তাহলে আদিত্য আবার কখন…..
মনে মনে অভিমানে নাক ফুলায় মৌমিতা। অতি সন্তর্পণে আদিত্যর হাতটা সরাতে গেলো সে।
ঠিক তখনই…
আধো আধো ঘুমন্ত গলায় আদিত্য
হাস্কি স্বরে বলে ওঠে…
:-“উঁহু… একদম পালানোর চেষ্টা করো না…
আদিত্যর কথায় চোখ বড় বড় করে তাকালো মৌমিতা।
আদিত্যর চোখ তখনও বন্ধ।
মৌমিতা সাইড টেবিলের ওপর বিদ্যামান অ্যালার্ম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো,,,
:-ছাড়ুন আমাকে। অনেক বেলা হয়েছে। এতো বেলা পর্যন্ত আমি শুয়ে থাকি না।
আদিত্য চোখ খুলে অলস ভঙ্গিতে তাকালো মৌমিতার দিকে। ঠোঁট এলিয়ে বললো,,,
:-যখন আর্লি উঠতে,তখন তোমার হাজব্যান্ড ছিলো না কাছে। এখন আছে তাই সময়ও চলবে অন্য নিয়মে। আগের সব নিয়ম বাদ!
মৌমিতা জবরদস্তি ওঠার চেষ্টা করতে করতে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,,,
:-কাল থেকে কিন্তু আপনি বড্ড বাড়াবাড়ি করছেন স্যার। সবকিছু আপনার মর্জি মতো চলবে না। আপনি আমাকে জোর করে আঁটকে রাখতে পারেন না।
:-কে বলেছে পারিনা? অলরেডি তুমি আমার বক্ষ পিঞ্জরে বন্দি। সি! বলে ভ্রু নাচিয়ে ইশারা করলো মৌমিতা কে দুহাতে আকড়ে ধরা হাত দুটোর দিকে।
আদিত্যর ইশারা অনুসরণ করে মৌমিতাও তাকালো সেদিকে। তবে এবার নিজের অবস্থান দেখে যারপরনাই বিরক্ত সাথে লজ্জা পেলো সে। গায়ে ওড়নার হদিস নেই। কোথায় গেলো সেটা? ছিঃ ছিঃ ঝগড়ার তালে একদমই খেয়াল করেনি তার গায়ে ওড়না নেই।
মৌমিতা মরিয়া হয়ে ছুটোছুটি করতে শুরু করলে আদিত্য দুষ্টু হেসে এবার ছেড়ে দিলো তাকে। মৌমিতা তড়িঘড়ি উঠে ওড়না তালাশ করলেও মিললো না তা। এদিকে আদিত্যর নেশাক্ত, মোহগ্রস্ত দৃষ্টি মৌমিতার লতানো শরীরে। কি অপরুপা তার বউটা! এতক্ষণ মিশে ছিলো তারই উন্মুক্ত বুকের সাথে। ভাবতেই শরীরে শিহরণ বয়ে গেলো আদিত্যর। ঠোঁট জোড়া প্রসারিত হলো সাথে সাথে।
মৌমিতা চোখ ছোট ছোট করে সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিতে তাকালো আদিত্যর দিকে। তার ওড়না লাপাত্তা হওয়ার পেছনে নির্ঘাত এই ব্যাটার হাত আছে। আচমকা মৌমিতা আদিত্যর গায়ের ওপরে বিস্তৃত পাতলা চাদর খানা টেনে সরিয়ে দিলো। ঠিক যা ভেবেছিলো! তার ওড়না খানা আদিত্যর হাত জড়িয়ে। ইচ্ছে করে আদিত্য সেটা নিজ হাতে পেঁচিয়ে রেখেছে। মৌমিতা চোখ গরম করে ওড়নার কিনারা ধরে টানলে উল্টে নিজেই গিয়ে পড়লো আদিত্যর ওপরে। আদিত্য খিলখিল করে হেসে কোমরে বাহু বন্ধনী সৃষ্টি করলো।
সকাল সকাল মেয়েটাকে রাগাতে মজা পাচ্ছে ছেলেটা। মৌমিতার রাগে লাল হয়ে আসা গাল দুটো দেখেই সেথায় ঠোঁট ছোঁয়ানোর তিব্র আকাঙ্ক্ষা জাগলো মনে। তৃষ্ণা অনুযায়ী অধর জোড়া বাঁড়াতেও দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ ভেসে এলো।
সেদিকে খেয়াল দিতেই হাতের বাঁধন আলগা হয়ে এলো তার। সেই সুযোগে ওড়না টা টেনে নিয়ে হুড়মুড় করে সরে এলো মৌমিতা। মাথায়, কাঁধের ওপর শালীন ভাবে ওড়না টা জড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে গেলো দরজার দিকে।
ঝটপট দরজা খুলতেই নোরার বিভ্রান্ত মুখ খানা নজরে এলো মৌমিতার।
দরজায় দাঁড়ানো নোরা সাহসা উন্মুক্ত দ্বারে নজর ফেলতেই বিছানায় শুয়ে এদিকে তাকিয়ে থাকা আদিত্যর চোখাচোখি হলো মেয়েটা। তাতে অপ্রস্তুত হলো বেশ। লজ্জিত নজর লুকিয়ে আমতা আমতা করে বললো,,,
:-সরি রে মৌমিতা! আমি জানতাম না আদিত্য ভাইয়া এই রুমে! আসলে আমি আসলে ভেবেছিলাম তুই হয়তো একা…..
নোরার বিভ্রান্ত অবস্থা বুঝতে পেরে মৌমিতা তার কাঁধে হাত রেখে আস্বস্ত হবার ইঙ্গিত দিয়ে বললো,,,
:- ইট’স ওকে নোরা! নো প্রবলেম। কি হয়েছে বল আমাকে!
নোরা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে বললো,,,
:-আসলে মৌমিতা! আমাকে এখন বেরোতে হবে। শপে সকলের শিফট আছে আজ আমার। এখন না বেরোলে লেইট হবো। বলেই সন্তর্পণে হাত ঘড়িতে নজর বুলিয়ে নিলো নোরা।
মৌমিতা ব্যস্ত কন্ঠ বললো,,,
:- সে কি! এতো সকালে যাচ্ছিস! কিছু না খেয়ে শুধু মুখে যাবি নাকি? এভাবে তোকে আমি যেতে দেবো না।
নোরা হাত তুলে বলে,,,
:-আরে আরে তুই থাম ভাই! শুধু মুখে যাচ্ছি না। এখন খেতে গেলে লেইট হবে দেখে আন্টি আমাকে সকলের নাস্তা প্যাক করে দিয়েছে। তুই চিন্তা করিস না। আমি শপে গিয়ে আগে খেয়ে নিবো। তুই থাক।
নোরার কথায় শান্ত হলো মৌমিতা। নোরার কাঁধ জড়িয়ে ধরে বললো,,,
:-একা যেতে পারবি? নাকি বাড়ির গাড়ি দিতে বলবো!
নোরা ব্যস্ত ভঙ্গিতে দ্রুত মাথা নেড়ে অসম্মতি প্রকাশ করলো,,,
:-না না একদম এসব নিয়ে ভাবিস না। আমি যেতে পারবো। বাড়ির সামনে থেকেই ইজিলি অটো পেয়ে যাবো। আমার লেইট হচ্ছে। বাই দোস্ত! ভালো থাকিস আর মান অভিমান ভুলে দুলা ব্রোকে একটা সুযোগ দিস কেমন? বলেই চোখ টিপ মারলো নোরা!
মৌমিতা প্রিয় বান্ধবীর দুষ্টুমিতে তেড়ে গিয়ে বললো,,,
:-তবে রে!
নোরা খিলখিল করে হাসতে হাসতে সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত নেমে গেলো। তারপর অদৃশ্য হলো সে। নোরা প্রস্থান হতেই মৌমিতা এবার সোজা ওয়াশ রুমে ঢুকলো। ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে দেখলো আদিত্য বেডে হেলান দিয়ে শুয়ে শুয়ে ফোন টিপছে। মৌমিতা কে বের হতে দেখে চোখ তুলে তাকালো সে।
সদ্য চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে আসা মৌমিতার ভেজা স্নিগ্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হলো আদিত্যর আঁখিদ্বয়! মৌমিতার সকল রুপ যেন তার চোখে সদ্য উদিত অপরুপ সূর্যোদয়ের মতো মনে হলো! যা অতি সৌন্দর্যে ভরপুর অথচ চোখ মেলে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। চোঁখে ধাঁধাঁ লেগে যায়।
আদিত্য কে বিছানা ছেড়ে উঠতে দেখে আচমকা মৌমিতা ঘর ছেড়ে দ্রুত পদক্ষেপে বেরিয়ে গেলো! আদিত্য আহাম্মকের মতো শূন্য দরজার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে! এটা কি হলো!
কোথায় ভাবলো স্নিগ্ধ বউটাকে একবার সফট হাগ করবে। কিন্তু দুষ্টু বউটা হয়তো তার হৃদয়াঙ্খা পড়ে ফেলেছে। তাই তো সুযোগ বুঝে পালালো মেয়েটা।
অধর প্রসারিত হলো আদিত্যর। ওয়াশ রুমে ঢুকতে ঢুকতে বিড়বিড় করলো সে,,,
:-পালাও এখন যতো ইচ্ছে! কিন্তু বেশিদিন আর এই শেহজাদ আদিত্য চৌধুরীর হাত থেকে পালাতে পারবে না বউ! ঠিক ফিরে আসতে হবে আমার আঙ্গিনায়!
_____________
মৌমিতা নিচে নামতেই দেখলো আশালতা বেগম তার মা কে নাস্তা দিচ্ছেন। অতিশয় বৃদ্ধা শাহেদা খানম ডাইনিংয়ে বসতে পারেন না। সোফায় বসেই নাস্তা সারবেন তিনি। মৌমিতা কে দেখে মুখে হাসি ফুটে বৃদ্ধার। হাত বাড়িয়ে ইশারায় কাছে ডাকেন মৌমিতা কে,,,
:-কি লো নাতবৌ ঘুম ভাঙ্গলো?
মৌমিতা হাসিমুখে নানি শাশুড়ির পাশে গিয়ে বসে।
:-সে তো অনেক আগেই নানু। আপনার শরীর কেমন আছে এখন?
:-আমি তো একদম ঠিক আছি নাতবৌ! তা আমার নাতি এখনো ওঠেনি নাকি?
কথার মাঝেই টেবিলে মৌমিতা আর আদিত্যর খাবার রেডি করে আশালতা বেগম। শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে ড্রইং রুমে এসে দাঁড়ান। মৌমিতা কে আদিত্যর কথা জিজ্ঞাসা করতেই যাবেন সেই সময় আদিত্য একেবারে অফিসের জন্য তৈরি হয়ে নিচে নামে। ছেলেকে নামতে দেখে মৌমিতা কেও ডেকে নেন তিনি। মৌমিতা ডাইনিং টেবিলের পাশে এসে দেখতে পেলো আদিত্য একটা চেয়ারে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মৌমিতা ওর পাশে বসবে না ভেবে অপজিটে একটা চেয়ার টেনে বসতেই আদিত্য হুট করে জায়গা ছেড়ে এগিয়ে এসে মৌমিতার পাশের চেয়ারটা দখল করে বসলো।
এতক্ষণ আদিত্যর দাঁড়িয়ে থাকার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে চোখ বড়বড় করে তাকালো মৌমিতা। আদিত্য একদম স্বাভাবিক। যেন কিছুই হয়নি। ছেলে বউমার এই খুনসুটি কিছুই চোখ এড়ালো না আশালতা বেগমের। ছেলে বউমার আড়ালে মুখ টিপে হাসলেন তিনি। মনে মনে ভীষণ খুশি আশালতা। এরকম একটা সুখী পরিবারের স্বপ্নই তো দেখেছিলেন তিনি। মনে মনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে ভোলেননা। সাথে মাতৃ হৃদয় দোয়া প্রার্থনা করেন যেন আগামীতে সবটা ভালো হয়।
আদিত্য স্যান্ডউইচে কামড় দিয়ে আড়চোখে তাকায় মৌমিতার দিকে। ধীর গতিতে খাচ্ছে মেয়েটা। আদিত্য গম্ভীর স্বরে বলে,,,
:-আজ কি অফিসে যাওয়ার নিয়ত নেই মিসেস সেক্রেটারি?
আদিত্যর মুখে অদ্ভুত নতুন নাম শুনে ঝট করে চোখ তুলে তাকালো মৌমিতা।
কিছু উত্তর দিক তার আগেই আশালতা বেগম ছেলের উদ্দেশ্য বাক্য ছুঁড়লেন,,,,
:-সে কি রে! মেয়েটা সবে মাত্র বাড়িতে ফিরলো। এখনই তুই ওকে অফিসে যেতে বলবি! আর তা ছাড়া মৌমিতার আর অফিসে যাওয়ার কি প্রয়োজন,তার চেয়ে মন দিয়ে লেখাপড়া টা করুক না হয়। এতো দিন চাকরি করেছে, করেছে!
শাশুড়ির কথায় দ্রুত মাথা নেড়ে না করে মৌমিতা। সে জানায় চাকরি টা সে করবে। তা ছাড়া এতো দিন পিএ হিসেবে সেই দায়িত্ব পালন করে এসেছে। হুট করে ছেড়ে দিলে আদিত্যর কাজে প্রব্লেম হবে।
মৌমিতার কথায় আদিত্যও সায় জানালো। অতঃপর আশালতা বেগমও আর আপত্তি করলেন না।
দ্রুত খাওয়া শেষ করে আদিত্য আর মৌমিতা বেরিয়ে গেলো অফিসের উদ্দেশ্যে।
চলবে……
#ফিরেছি_তোর_আঙ্গিনায়
পর্ব —১৮
মৌমো তিতলী 🦋
অফিস টাইম শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকাজুড়ে তখন কর্মব্যস্ততার আমেজ। উঁচু কাঁচঘেরা ভবনগুলোর সামনে একের পর এক গাড়ি এসে থামছে। কেউ তাড়াহুড়ো করে আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে ভেতরে ঢুকছে, কেউ হাতে কফির কাপ নিয়ে সহকর্মীর সঙ্গে গল্প করতে করতে লিফটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কীবোর্ডের খটখট শব্দ, কোথাও প্রিন্টারের একটানা আওয়াজ, আবার কোথাও সকালবেলার মিটিং নিয়ে ব্যস্ত আলোচনা। পুরো পরিবেশটাই যেন নতুন উদ্যমে ছুটে চলার গল্প বলছে।
ঠিক তখনই অফিস ভবনের সামনে এসে থামলো আদিত্যর কালো রঙের মার্সিডিজ।
গাড়ি থামতেই এক মুহূর্তও দেরি করলো না মৌমিতা। দরজা খুলে দ্রুত নেমে পড়লো। পাশে বসা আদিত্যর দিকে একবারও না তাকিয়ে ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে সোজা অফিস ভবনের ভেতরে ঢুকে গেলো।
গাড়ির ভেতরে বসে থাকা আদিত্য ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার গমন পথের দিকে।
নিজের মনেই বিড়বিড় করে বললো,,,
— মহারানীর সকালের ঘটনাটার রাগ এখনো যায়নি মনে হচ্ছে!
হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেও গাড়ি থেকে নেমে ধীর পায়ে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করলো।
এদিকে রিসেপশন পার হতেই পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো মৌমিতার কর্ণকুহরে,,
— গুড মর্নিং, মিতা!
মৌমিতা ঘুরে তাকাতেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আবিরকে দেখতে পেলো। পরিপাটি ফরমাল পোশাকে বেশ হাসিখুশি লাগছে ছেলেটাকে। আবিরের চোখেমুখে আন্তরিক হাসি লেগে থাকে সবসময়।
মৌমিতাও সৌজন্যবশত হাসলো।
— গুড মর্নিং, আবির ভাই। কেমন আছেন?
আবির মুগ্ধ দৃষ্টিতে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলো তার দিকে। আজকে মৌমিতাকে যেন আগের তুলনায় একটু বেশিই সুন্দর লাগছে। চোখ ভরা প্রশান্তি, মুখ জুড়ে অদ্ভুত এক স্নিগ্ধতা খেলা করছে। অজান্তেই আবিরের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো।
— “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। তুমি কেমন আছো?
মৌমিতা মৃদু হেসে বললো,,
— আমিও ভালো আছি।
ঠিক সেই মুহূর্তেই অফিসের কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো আদিত্য।
দূর থেকেই চোখে পড়লো আবির আর মৌমিতার হাসিমুখে কথা বলার দৃশ্যটুকু।
মুহূর্তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
চোখ দুটো অস্বাভাবিকভাবে স্থির হয়ে রইলো আবিরের ওপর। আবির অবশ্য কিছুই টের পেল না। সে তখনও স্বাভাবিকভাবেই মৌমিতার সঙ্গে দু-একটা কথা বলছে।
কিন্তু আদিত্যর বুকের ভেতর যেন অকারণ এক জ্বালা দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো। আবিরের চোখে মৌমিতার জন্য স্পষ্ট মুগ্ধতা দেখছে সে। নিজের অজান্তেই মুঠো শক্ত হয়ে এলো তার।
আর একবারও ওদের দিকে না তাকিয়ে গম্ভীর মুখে সোজা নিজের কেবিনে ঢুকে দরজাটা বন্ধ ধামম করে দিলো।
এতোটাই জোরে, শব্দে চমকে উঠলো অনেকেই।
…
প্রায় দশ মিনিট পর ইন্টারকম বেজে উঠলো।
রিসেপশন থেকে মৌমিতা কে জানানো হলো,,
— ম্যাম, স্যার আপনাকে কেবিনে ডাকছেন।
মৌমিতা বিরস মুখে প্রয়োজনীয় ফাইলটা হাতে নিয়ে ধীর পায়ে আদিত্যর কেবিনের সামনে এসে নক করলো।
ভেতর থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো,,,
— কাম ইন।
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই সে দেখলো আদিত্য বড় কাঁচের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মুখটা অস্বাভাবিক গম্ভীর। ভ্রু কুঁচকে এলো মৌমিতার। আদিত্যর ভাবভঙ্গি বুঝতে পারলো না ঠিক। এই তো ঠিক ছিলো। কি হলো হঠাৎ!
চিন্তিত মৌমিতা শান্ত গলায় বললো,,,
— স্যার ডেকেছিলেন?
আদিত্য ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালো।
কয়েক সেকেন্ড কোনো কথা বললো না। তার স্থির দৃষ্টি মৌমিতার চোখের দিকে। আদিত্যর এমন তিক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে দেখে বুকের মাঝে ধকধক করে উঠলো মৌমিতার। কপাল গুটিয়ে এলো তার।
আদিত্য কিছুক্ষণ চুপ থেকে গম্ভীর গলায় বললো,,
—আবিরের সঙ্গে এত কথা কীসের?
মৌমিতা বিস্মিত হয়ে তাকালো।
— “মানে?”
— “আমি যা জিজ্ঞেস করেছি, তার উত্তর দাও।”
মৌমিতার ভ্রু কুঁচকে গেল।
— “ও আমার কলিগ। দেখা হয়েছে, তাই কথা বলেছি। এতে সমস্যা কোথায়?”
আদিত্য ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো।
তার কণ্ঠে স্পষ্ট বিরক্তি।
— “আজ থেকে আবিরের থেকে দূরে থাকবে।”
মৌমিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
— “কেন?”
— “কারণ আমি বলছি তাই।”
— “এটা কোনো কারণ হলো? অফিসে একসঙ্গে কাজ করি। প্রয়োজনে কথা বলতেই হবে।”
আদিত্য এবার দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,,
— “আমি চাই না তুমি ওর সঙ্গে কারনে হোক বা অকারণে, কথা বলো।”
— “আপনি চাইছেন না বলেই আমি সহকর্মীর সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহার করবো না? এটা কেমন কথা?”
আদিত্যর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করলো।
— “তুমি বুঝতে চাইছো না।”তুমি মিঃ আবিরের সাথে কথা বলবে না মানে বলবে না। ইট’স মাই অর্ডার। আন্ডারস্ট্যান্ড!
— “না, আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না। আপনি আমাকে কারণ না জানিয়ে নির্দেশ দিতে পারেন না।”
আদিত্য আর মৌমিতা কিছুক্ষণ দুজনেই নীরবে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো।
অবশেষে আদিত্য গভীর শ্বাস নিয়ে নিচু স্বরে বললো,,
— “Because… I didn’t like the way he looked at you.” Abir likes you, you probably don’t know that.
মৌমিতা কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে রইলো। পরমুহূর্তেই আবার ভাবলো আদিত্য জেলাসি থেকে এসব বলছে। আবির কেনো তাকে পছন্দ করতে যাবে। অতঃপর
শান্ত গলায় বললো,,
— “কেউ কীভাবে তাকাবে, সেটা তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু আমি কীভাবে চলবো, সেটা আমার সিদ্ধান্ত। আপনি আমার ওপর বিশ্বাস রাখেন না সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু বিনা কারণে সন্দেহের বশে আমার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিতে পারেন না।”
কথাগুলো শেষ করেই সে ফাইলটা টেবিলের ওপর রেখে দিল।
— “আর কোনো কাজ থাকলে বলবেন।”
বলেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না মৌমিতা। ঘুরে দরজা খুলে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দে পুরো কেবিন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
আদিত্য স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
কয়েক সেকেন্ড পর বিরক্তিতে মুঠো শক্ত করে ডেস্কের ওপর জোরে আঘাত করলো। শব্দটা পুরো কেবিনে বজ্রপাতের ন্যায় প্রতিধ্বনিত হলো।
আদিত্য দুহাতে চুলগুলো খামচে ধরে চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিলো।
নিজের রাগের ওপর নিজেরই ভীষণ বিরক্ত লাগছে।
নিচু স্বরে নিজেকেই বললো,,
— এভাবে রেগে যাওয়া উচিত হয়নি… নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছি আমি। এভাবে চলতে থাকলে মৌমিতার মন জয় করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।
–শিট শিট!
দুই হাত ডেস্কের ওপর রেখে মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে।
তারপর ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো। মস্তিষ্ক জুড়ে চলছে তার নানা পরিকল্পনা!
____________________
সন্ধ্যার আবছা আলো ধীরে ধীরে শহরটাকে নিজের কোমল আঁচলে জড়িয়ে নিচ্ছে। পশ্চিম আকাশে ডুবন্ত সূর্যের রক্তিম আভা মিলিয়ে গিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে নিয়ন কমলা আর বেগুনি রঙের মায়াবী মিশেল। ব্যস্ত সড়কের দু’পাশে একে একে জ্বলে উঠেছে আলোকসজ্জা। দোকানপাটের ঝলমলে সাইনবোর্ড, চলন্ত গাড়ির হেডলাইট আর মানুষের ব্যস্ত পদচারণায় সন্ধ্যার শহর যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
দিনভর কাজের শেষে শো-পিসের দোকানটিতেও নোরার ব্যস্ততার ইতি ঘটেছে।
আজকের মতো তার শিফট শেষ। কাউন্টারে সবকিছু গুছিয়ে সহকর্মীদের বিদায় জানিয়ে ব্যাগটা কাঁধে তুলে বাইরে বেরিয়ে এলো নোরা।
ঠিক তখনই তার কাঁধে বিদ্যামান ব্যাগের ভেতর ফোনটা কেঁপে উঠলো। নোরা ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে ফোন বের করে চোখের সামনে ধরতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠলো পরিচিত একটি নাম,,
“আয়াত”
ঠোঁটের কোণে অজান্তেই মৃদু হাসি ফুটে উঠলো নোরার।
ফোনটা কানে তুলতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো পরিচিত কণ্ঠ।
— “হ্যালো, নোরা! ফ্রি আছো?”
— “হ্যাঁ। আজকের শিফট শেষ হলো। কেন বলুন তো?”
আয়াত হালকা হেসে বললো,,,
— “তোমার জন্য একটা ছোট্ট সারপ্রাইজ আছে। আমি তোমার শপের কাছাকাছিই আছি। গাড়ি নিয়ে আসছি। যদি খুব ক্লান্ত না হও, তাহলে একটু সময় দেবে?”
নোরা খানিকটা অবাক হলো। আয়াত তাকে আবার কিসের সারপ্রাইজ দিতে চায়!
— “সারপ্রাইজ?”
— “হুম। তবে যদি আগে রাজি হও।”
নোরা হেসে মাথা নাড়লো, যদিও সেটা আয়াত দেখতে পেলো না।
— “আচ্ছা, ঠিক আছে।”
— “গুড। দুই মিনিট।”
কলটা কেটে গেল মুহুর্তেই।
কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর রাস্তার ধারে এসে থামলো একটি সাদা টয়োটা।
আজ ড্রাইভার কে নিয়ে আসেনি সে। ড্রাইভিং সিটে বসে আছে আয়াত নিজেই। তার মুখে কালো মাস্ক।
নোরা এগিয়ে যেতেই আয়াত ভদ্র হাসি দিয়ে মাস্কটা সামান্য নামিয়ে বললো,
— “হেইই আর ইউ রেডি প্রিটি গার্ল?”
ঠিক সেই মুহূর্তেই দোকানের কাঁচের দরজা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে এলো সোহেল। অভ্যাসবশত একবার চারপাশে তাকাতেই তার দৃষ্টি গিয়ে আটকালো রাস্তার ধারে দাঁড়ানো গাড়িটার দিকে।
গাড়ির ভেতরের হলদেটে আলোয় স্পষ্ট দেখতে পেলো আয়াতের মুখ।
সোহেলের চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল।
এ… এ তো…!
মাশহুর কণ্ঠশিল্পী আয়াত মাহমুদ!
এতদিন মাস্কের আড়ালে থাকা মানুষটাকে চিনতে পারেনি সে। কিন্তু আজ আর ভুল হওয়ার সুযোগ নেই।
অবাক বিস্ময়ে কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইলো সোহেল।
পরের মুহূর্তেই তার বিস্ময়ের জায়গা দখল করলো তীব্র ঈর্ষা।
তাহলে…
এই মানুষটার জন্যই বারবার তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে নোরা? তাকে থাপ্পড় মেরে অপমান করেছে।
নিজের অজান্তেই চোয়াল শক্ত হয়ে এলো তার।
এদিকে নোরা হেসে গাড়িতে উঠে বসতেই ধীরে ধীরে গাড়িটা সামনে এগিয়ে গেল।
সোহেল কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ রাস্তার পাশের একটি অটোরিকশা থামালো। তাতে চেপে বসতেই চালকের উদ্দেশ্য বাক্য ছুড়লো…
— “ওই সাদা গাড়িটার পেছনে যান।”
অটো চলতে শুরু করলো সাথে সাথেই।
…
প্রায় বিশ মিনিট পর শহরের অভিজাত এলাকায় অবস্থিত একটি বিলাসবহুল ক্যাফের সামনে এসে থামলো আয়াতের গাড়ি।
কাঁচে ঘেরা দৃষ্টিনন্দন ক্যাফেটি বাইরে থেকেই তার সৌন্দর্য ঠিকরে পড়ছে। প্রবেশপথের দু’পাশে সাজানো সাদা লিলি আর গোলাপের টব, নরম হলুদ আলোয় আলোকিত করিডোর আর কাঁচের ভেতর থেকে ভেসে আসা পিয়ানোর সুর পুরো পরিবেশটাকে করে তুলেছে স্বপ্নময়।
আজ সাধারণ অতিথির আনাগোনা নেই বললেই চলে।
শুধু কয়েকজন নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম অতিথি।
বাকি পুরো ক্যাফেটাই আগেভাগে বুক করে রেখেছে আয়াত।
নোরা ভেতরে ঢুকেই বিস্ময়ে থমকে গেল।
চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে সাদা আর লাল ফুলের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। ছাদের নিচে ঝুলছে ছোট ছোট উষ্ণ ফেইরি লাইটস। এক কোণে মনোরম সুরে বাজছে পিয়ানোর সঙ্গে বেহালার সুর।
ক্যাফের মাঝখানে জানালার পাশে একটি টেবিল বিশেষভাবে সাজানো।
সাদা টেবিলক্লথের ওপর কাঁচের ক্যান্ডেল স্ট্যান্ডে জ্বলছে সুগন্ধি মোমবাতি।
চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে তাজা গোলাপের পাপড়ি।
টেবিলের মাঝখানে রাখা একগুচ্ছ সাদা লিলি।
সবকিছু দেখে নোরা নির্বাক। এমন জায়গায় তার কি কাজ? এখানে তাকে কিসের সারপ্রাইজ দিতে নিয়ে এসেছে আয়াত!
সে ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আয়াতের দিকে তাকালো।
— “এসব..!”
আয়াত মৃদু হেসে তার জন্য চেয়ার টেনে দিল।
— “বসো।”
নোরা ইতস্তত করলেও বসে পড়লো আয়াতের কথায়।
দু’জন মুখোমুখি বসলেও কয়েক মুহূর্ত নীরবে কাটলো।
তারপর আয়াত শান্ত কণ্ঠে বললো,
— “জানো নোরা… স্টেজে হাজার হাজার মানুষের সামনে গান গাইতে আমার কখনো ভয় লাগে না। কিন্তু আজ তোমার সামনে বসে অদ্ভুত ভাবে আমার বেশ নার্ভাস লাগছে।”
নোরা লজ্জায় আর বিষ্ময়ে চোখ নামিয়ে ফেললো। বুক দুরুদুরু করছে তার। কোন এক অভাবনীয় ঘটনার আভাস পাচ্ছে তার মস্তিষ্ক। নিজের অস্থিরতা কমাতে সন্তর্পণে ঢোক গিলতে লাগলো নোরা।
আয়াত আবার বললো,,,
— “তোমার সরলতা, আমার প্রতি সম্মানবোধ আর তোমার ঠোঁটের নির্মল হাসিটা… ধীরে ধীরে আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে গেছে। আজকের এই সন্ধ্যাটা শুধু একটা কারণেই সাজিয়েছি আমি!…আমি চাই তুমি জানো, তোমাকে আমি খুব বিশেষ একজন মানুষ হিসেবে দেখি।”
নোরার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ যেন আরও বেড়ে গেল। সে কখনো ভাবেনি এমন একটি সন্ধ্যা তার জীবনে কখনো আসবে। নোরার মনে হলো সে ঘুমিয়ে আছে হোস্টেলের ওই ছোট্ট চার দেওয়ালের ঘরটায়। আর কোন সুন্দর স্বপ্ন দেখছে সে। ঘুম ভেঙ্গে গেলেই সেই স্বপ্ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।
বিস্ময়, আনন্দ আর লজ্জা মিলেমিশে মুখটা টুকটুকে লাল হয়ে উঠলো তার।
…
ক্যাফের মেইন ডোরের বাইরে দাঁড়িয়ে সেই সবকিছু লক্ষ্য করছিলো সোহেল।
দূর থেকে দু’জনকে একই টেবিলে বসে কথা বলতে দেখে তার ভেতরের ঈর্ষা আরও তীব্র হয়ে উঠলো। ধূর্ত শিকারির মতো চালাক সোহেলের বুঝতে আর কিছুই বাকি রইলো না এখানে কি ঘটছে।
সে তার মোবাইল বের করে দূর থেকে কয়েকটি ছবি তুলে নিলো।
ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে ফুটে উঠলো এক কুটিল হাসি।
মনে মনে বিড়বিড় করে বললো,,,
— “তাহলে এটাই আসল ঘটনা…”
কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে সে নিজের মনে নানা রকম হিসাব কষতে লাগলো।
তার চোখে তখন স্পষ্ট প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। ছবিগুলো যদি মিডিয়ার কাছে পৌঁছে যায়!
এক অনাথ মেয়ের সাথে একান্ত সময় কাটানোর জন্য নামকরা গায়কের রেপুটেশন নিশ্চয়ই ইফেক্ট করবে। আর টাকার লোভে বামন হয়ে চাঁদে হাত দিতে চাওয়া গরিব নোরা বড়লোক ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য বদনাম হবে। তখন দেখবে মজা।
চলবে…

