#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব_১০
স্রোতের এক বান্ধবী উৎসের দিকে ডেবডেব করে তাকিয়ে আছে।মেয়েটার নাম নিঝুম।উৎস এসে বসার পর থেকেই তার দিকে নিঝুম তাকিয়ে মিটিমিটি করে হাসছে তবে সেই দিকে উৎসের কোনো ধ্যান নেই।সে ফোন স্কল করছে।কিন্তু যার চোখে পড়ার তার চোখে ঠিকি পড়ে গেছে।মেহেক নিঝুমের গায়ে পরা ভাব দেখে বুঝে গেলো উৎসকে এই মেয়ে পছন্দ করেছে।মেহেক দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কিছু ভাবলো।মাথায় কিছু একটা আস্তেই তড়িৎ গতিতে উঠে দাঁড়ালো।মেহেকের মাথায় কিছু আসা মানে কোনো বদ বুদ্ধি আঁটছে। মেহেককে উঠতে দেখে রোদসী বললো,
-“উঠলি কেনো বস তারপর তো তোকে মেহেদী দিয়ে দিবে।”
মেহেক বললো,
-“এভাবে বসে থাকতে ভালো লাগছে না তাই একটা আইডিয়া পেয়েছি।”
-“কী আইডিয়া?”
-“দাঁড়াও আসছি।”
মেহেক রান্না ঘরের দিকে চলে গেলো।রান্না ঘর থেকে একটা বোতল নিয়ে চলে আসলো।মেহেকের হাতে বোতল দেখে সিজান বললো,
-“কিরে কার মাথা ফাটাবি।”
-“মাথাটা মন ফাটাবো।”
রোদসী বললো,
-“কীসব বলছিস!”
-“এই সবাই গোল হয়ে বসো তো।”
-“মেহেক কি করতে চাইছিস বল।”
-“ট্রুথ,ডেয়ার খেলবো।”
স্রোত বললো,
-“হুম মজা হবে তোর বুদ্ধি আছে বলতে হয়।”
-“আমরাও কিন্তু আছি।”
ফারাজের কথার উওরে মেহেক বললো,
-“হ্যা তোমরাও আছো এখন সবাই গোল হয়ে নিচে বসো তো।”
উৎস ফোন থেকে চোখ সরিয়ে বললো,
-“আমি এসব ভালতু গেমে অংশ গ্রহণ করতে পারবো না।”
স্রোতের বান্ধবী নিঝুম বললো,
-“একটু খেলেন না ভালো লাগবে।”
নিঝুমের কথা বলায় সবাই অবাক হয়ে নিঝুমের দিকে তাকায়।কিন্তু সিজান, ফারাজ,রোদসী উৎসের দিকে তাকায়।হঠাৎ করে এই মেয়ে কোথা থেকে উঠে আসলো!উৎস কোনো প্রতিক্রিয়া না করে মেহেকের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বললো,
-“হুম খেলা যায়।”
মেহেক ভেঙ্গচি কেটে বসলো।একে একে সবাই নিচে গোল হয়ে বসে।নিঝুম উৎসের পাশে গিয়ে বসতে নিলে মেহেক তার জায়গা থেকে উঠে এসে তার পাশে বসে।মেহেকের এমন ব্যবহার দেখে নিঝুম অবাক হয়ে বললো,
-“মেহেক তুমি তো ওইখানে বসছিলে। এখানে খালি ছিলো তো আমি বসি।”
মেহেক তার বেনুনিটা তার কাঁধে ছুড়ে মেরে বললো,
-“এখন তো খালি নেই।তুমি বরং আমার জায়গায় গিয়ে বসো।”
নিঝুমের মুখ চুপসে গেলো।চুপসানো মুখ নিয়েই গিয়ে বসলো।উৎস আড়চোখে মেহেককে একবার পরখ করে নিলো।তার দিকেই তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে তার বজ্জাত ছোট বেলার বউ।মেহেক বোতল ঘোরালো।বোতল ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে থামলো নিশাতের দিকে। নিশাতকে ট্রুথ, ডেয়ার দিবে তার ডান পাশে যে বসেছে।নিশাতের ডান পাশে বসেছে রোদসী।রোদসী বললো,
-“ট্রুথ নাকি ডেয়ার বলো।”
-“ট্রুথ”
রোদসী কিছু বলবে তার আগেই মেহেক রোদসীর কাছে গিয়ে কানে কানে কিছু একটা বলে।রোদসী মেহেকের কথা শুনে ভাইদের দিকে তাকালো।মেহেক আসস্ত করে বলে,
– “আমরা এই যুগের মেয়ে ভাইদের সামনে কিসের সরম।”
রোদসী শুকনো ঢোক গিলে বললো,
-“আপু তোমার কী কোনো ছেলেকে পছন্দ? ”
রোদসীর প্রশ্নে নিশাত হতবাক।নিশাতের দিকে কয়েক জোড়া চোখ কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে।তার মধ্যে তার তিন ভাই। উৎস গভীর ভাবে নিশাতের মুখটা একবার দেখে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো কিন্তু সিজান, ফারাজ জানার আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রইল।উৎস বুঝে গেছে তার বোনের উওর কী হবে কারণ সে জানে কেউ কাউকে ভালোবাসলে সেই ভালোবাসাকৃত মুখে ফুটে উঠে অন্যরকম এক ছায়া যা নিশাতের মুখে দেখা গেলো না।নিশাত ধীরো স্বরে বললো,
-“না।”
উৎস এবার গম্ভীর কন্ঠে বললো,
-“যার মাথায় এমন হাবিজাবি প্রশ্ন আসে সে কি জানে না তার বোন সম্পর্কে!কাউকে সবার সামনে হ্যানস্তা করতে ভালোই লাগে।”
ফারাজ বললো,
-“থাক বুঝেনি।”
-“তাহলে তাকেও পাল্টা প্রশ্ন করো দেখি তার সেই সৎ সাহস আছে কি না তার বোনের মতো।”
মেহেক উৎসের দিকে রাগি চোখে তাকালো।এই লোকটার জন্য ও শান্তি পায় না।পদে পদে তাকে হ্যানস্তা করার চেষ্টা করে।মেহেক তার মন মতো আবার বোতল ঘুরালো।এবার গিয়ে থামলো ফারাজের দিকে।ফারাজের ডান পাশে স্রোত বসা।ফারাজ ডেয়ার নেয়।স্রোত বললো,
-“কাল আমার হলুদে তুমি নাচবে।”
স্রোতের কথা শুনে ফারাজ কাশতে থাকে। সে নাচবে! নাচার ন ওতো পারে না।একেক বোন একেক কেটাগরি হয়েছে কীভাবে কাকে ফাঁসাবে সেই ধান্দা খুঁজতে থাকে।
-“আমি নাচতে পারি না অন্য ডেয়ার দে।”
-“ডেয়ার ডেয়ারি ভাইয়া চেঞ্জ হবে না।”
স্রোতে সাথে সবাই একই সুরে তাল মেলায়। বেচারা ফারাজ কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে রাজি হতেই হয়।তবে সে একটা শর্ত দেয় তার সাথে সিজান ও উৎসরও নাচতে হবে।সিজান রাজি হলেও উৎস না করে।মেহেক খোঁচা মারার মতো করে বললো,
-“বোন তো বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি চলেই যাবে।বোনের শেষ ইচ্ছে তা রাখতে না পারলে কেমন ভাই হলো!”
উৎস তার ওষ্ঠ কামড়ে ধরে ভ্রু নাচিয়ে মেহেককে বললো,
-“ভাইদের যদি ভাই হওয়ার প্রমান দিতে হয় তাহলে বোনদেরও দিতে হবে।নাচবো তবে আমাদের সাথে তোদেরও নাচতে হবে।”
যা এবারও এই সরষে ভূত না তাকে হারিয়ে দিলো।মেহেক কিছু করতে গেলেই উল্টো সেই ফেঁসে যায়!
বোতল আবার ঘোরানো হয়। এবার উৎসের দিকে।উৎসও ডেয়ার নেয় না হয় সবার সামনে তার এই পুচকে বউটা বলে বসবে তার প্রিয় মানুষকে।
উৎসের ডেয়ার নেওয়ায় মেহেকের ভোঁতা মুখ আরো ভোঁতা হয়ে যায় সে যা ভেবেছিলো তা তো জিজ্ঞাসা করতেই পারবে না।মেহেক করুন স্বরে বললো,
-“একটা গানই শুনান।”
-“ওকে।”
সিজান গিয়ে উৎসর গিটার নিয়ে আসলো।উৎস যেখানে তার গিটারও সেখানে।আসার সময় উৎস সাথে করে নিয়ে এসেছিলো।মেহেক একটু স্বরে বসলো উৎস যাতে তার গিটারটা রাখতে পারে।উৎস গিটারটা তার কোলে নিয়ে বসলো।আরচোখে একবার তার পুচকে বউটাকে দেখে গিটারের টুংটাং শব্দ তুলে গান ধরলো,
-“ওরে প্রথম দেখার কালে তারে
লেগেছিল ভালো
মুচকি হাসি দিয়া সে
কই চলে গেলো
তার কথা ভেবে আমার
অন্তর দেখা দিয়া
বেহায়া মনটারে
বুঝাইবো কি দিয়া”
——-
সকাল হতেই বিয়ে বাড়িতে হৈ-হুল্লোড় লেগে গেলো।আজ স্রোতের হলুদ।বাড়ির ছাদেই হলুদ হবে।কিছু লোক এসেছে ছাদে প্যান্ডেল আর ছোট করে একটা স্টেজ সাজিয়ে দিবে।সিজান,ফারাজ ও উৎস বিভিন্ন কাজে ছুটাছুটি করছে।মেহমানরা চলে আসছে।ইতিমধ্যে চৌধুরী বাড়ির সবাই চলে এসেছে। তারা রাহিমা ও আমির শিকদারের সাথে কুশল বিনিময় করে নেয়।মেহেক রাতে মেহেদী দিতে পারেনি তাই নিশাতের কাছে দেয়।সারাদিন ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে সকলের কেটে যায়। স্রোতের হবু স্বামী আগে থেকেই বলে দিয়েছে তাকে পার্লারে সাজতে না।খুব সাধারণ ভাবে সাজতে তাই স্রোত পার্লারে যায়নি বাসায় সেজেছে।তাকে সাজিয়ে দিয়েছে রোদসী তাকে সাহায্য করেছে নিশাত।রোদসী খুব সুন্দর করে সাজাতে পারে কিন্তু সে নিজে কিছু লাগাতে পছন্দ করে না। সবাই সবার মন মতো করে রেডি হয়ে নেয় কিন্তু আসল ঝামেলা বাধায় মেহেক।সে শাড়ি পড়েছে, সেজেছেও। তাকে খুব সুন্দর লাগছেও বটে।কিন্তু তার চুলে সে গোলাপ লাগাবে। এখন গোলাপ কোথায় পাবে?স্রোত তো কাঁচা ফুল পড়েনি তার শ্বশুর বাড়ি থেকে যে হলুদের গয়না দিয়েছে সে তাই পড়েছে। মেহেক তার বোনদের পাগল করে ফেলছে তার গোলাপ ফুল লাগবে।সে মাথায় লাগাতে না পারলে অনুষ্ঠানে যাবে না!নিশাত মিনতির স্বরে বললো,
-“এখন কোথায় গোলাপ পাবো বল!তুই চুলে গোলাপ লাগাবি আগে বলতি।আমার বিয়েতে পরিস বনু এখন এভাবেই চল।এভাবে কম সুন্দর লাগছে না আমার বোনটাকে।তোকেই একটা জলজ্যান্ত গোলাপ মনে হচ্ছে।”
-“হইছে পাম দেওয়া।”
মেহেক গাল ফুলিয়ে খাটে দুই পা তুলে বসলো।তিন বোন মিলে রাজি করানোর চেষ্টা করলো তবে বৃথা হলো জেদি মেহেক রাজি হলোই না।এমন সময়ই তাদেরকে তাড়া দিতে দরজায় টোকা দিলো উৎস।
-“কিরে তোদের আর কতক্ষণ লাগবে সবাই অপেক্ষা করছে?”
স্রোত দরজা খুলে দিলো।উৎস ভিতরে ঢুকে দেখলো সবাই রেডি। কিন্তু যাচ্ছে না কেনো?
স্রোত বললো,
-“আমরা আসছি।”
উৎস খেয়াল করলো মেহেক মুখ গোমরা করে বসে আছে।
-“ওর কি হয়েছে?টমেটোর মতো গাল লাল করে বসে আছে কেনো!”
রোদসী বললো,
-“ওর গোলাপ লাগবে চুলে লাগাবে।”
উৎস আড়চোখে মেহেককে দেখে বললো,
-“আমার সাথে আয়।”
মেহেক মাথা উঁচু করে বললো,
-“কোথায়?”
-“জাহান্নামে”
উৎসের ত্যাড়া কথায় মেহেক আরো রেগে গেলো।এমনিতেই তার সাজ কমপ্লিট হয়নি।
-“জাহান্নামে গেলে আপনার সাথে যাবো না তাহলে ডাবল জাহান্নাম হয়ে যাবে আমার জন্য।”
-“বেশি কথা না বলে আয়।না আসলে ঘরেই বসে থাক আমারও কষ্ট করে ফুল আনতে যেতে হবে না।”
মেহেক লাফ দিয়ে দাঁড়ালো।উৎস চলে গেলো। মেহেক তার শাড়ির কুঁচি ধরেই উৎসের পিছন ছুটলো।স্রোত, নিশাত ও রোদসী মেহেকের বাচ্চামো কাহিনি দেখে হেসে দিলো।
উৎস মেহেককে নিয়ে একটা ফুলের দোকানে আসলো।অনেক ধরনের ফুল রয়েছে। সেখান থেকে মেহেককে ফুল নিতে বললো।মেহেক এতো ফুল দেখে কোনটা ছেড়ে কোনটা নিবে বুঝতেই পারছে না।তারমধ্যে সব রঙের গোলাপ রয়েছে।
-“কোন ফুল লাগবে বল।”
মেহেক শুকনো ঢোক গিলে বললো,
-“আমি তো চুলে লাগাবো।”
-“কোথায় লাগাবি তা শুনতে চাইনি কোন ফুল নিবি সেটা বল।”
-“লাল গোলাপ।”
-“কয়টা?”
-“তিন’টা।”
উৎস বড় সাইজের তিনটা গোলাপ কিনে মেহেকের হাতে দিয়ে গাড়ির দিকে গেলো।মেহেক দাঁড়িয়ে রইল।
-“কি হলো?”
মেহেক মাথা নিচু করে করুন স্বরে বললো,
-“লাগিয়ে দিবেন।”
উৎস মেহেকের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে তার হাত থেকে ফুলগুলো নিলো।মেহেকের ডান পাশের চুলগুলো সরিয়ে চুলের ভাঁজে গোলাপ লাগালো। মেহেকের মাথায় আগে থেকে হেয়ার কিলিপ ছিলো সেগুলে খুলে মেহেক উৎসের দিকে বাড়িয়ে দিলে উৎস কিলিপ দিয়ে ফুল ভালো করে আটকে দেয়।তারপর তারা গাড়িতে উঠে বসে।উৎস মেহেককে নিয়ে একটা শপিং মলের সামনে আসে।মেহেক অবাক চোখে উৎসের দিকে তাকায়।
-“উৎস ভাই এখানে কেনো আসলেন? অনুষ্ঠান তো শুরু হয়ে গেছে মনে হয় এমনিতেই আমাদের দেরি হয়ে গেছে।”
-“দেরি তো তোর জন্যই হয়েছে কথা না বাড়িয়ে নাম।”
মেহেক গাড়ি থেকে নামলে উৎস তার হাত’টা শক্ত করে মুঠো করে নেয়।মেহেক হতবাক হয়ে যায়।
-“আমার সাথে আয়।”
মেহেক চুপচাপ উৎসের সাথে পা মিলিয়ে হাঁটতে থাকে। উৎসের পরণে লাল পাঞ্জাবি আর মেহেকের গায়ে লাল শাড়ি।এটা তাদের প্ল্যান করাই ছিলো ছেলেরা লাল পাঞ্জাবি পড়বে আর মেয়েরা লাল শাড়ি।সবাই মেহেক ও উৎসের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলো।মেহেককে উৎস জুতোর দোকানে নিয়ে আসে পরক্ষণেই মেহেক আন্দাজ করে সবকিছু কিন্তু তাকে এতো আলগা দরদ দেখাচ্ছে কেনো? ভালোবাসলে না হয় মানা যেতো বোন হিসেবে দিলে সে নিবেই না জুতো এই মনে মনে ঠিক করে নেয় মেহেক।ভেতরে ঢুকে উৎস জুতো দেখতে থাকে।মেহেককে পছন্দ করতে দিলে এবারও কেনা হবে না আর তার রোজ তার পছন্দের জিনিসপত্রই পড়তে হবে।উৎসের কয়েক জোড়া জুতা পছন্দ হয় সেগুলো উৎস তাদের সামনে রাখতে বলে।দোকানদার মেহেকের পায়ের মাপ অনুযয়ী বের করে মেহেককে বসতে বলে।মেহেক বসলে তার পায়ে হাত দেওয়ার জন্য হাত বাড়ালে উৎস ছেলেটাকে থামিয়ে দেয়।দোকানদার ছিলো অল্প বয়সী এক তরুণ। উৎস হাঁটু গেঁড়ে বসে। ছেলেটা সরে যায়।উৎস মেহেকের পায়ে জুতা পড়িয়ে দেয়।দোকানের জুতা গুলো সুন্দর ছিলো।ইউনিক ডিজাইনের সব সেগুলোর দিকে মেহেক হা হয়ে তাকিয়ে দেখছিলো।উৎস তার পা ছুঁয়েছে!এটা দেখতেই মেহেক কারেন্টের মতো শক খেলো।উৎস ছয় থেকে সাতটা জুতা পড়িয়ে দেখলো সব গুলোই মেহেকের পায়ে মানিয়েছে।
কিন্তু মেহেক তো তিন দিনে তিন জোড়া পরবে তাই উৎস জিজ্ঞেস করলো,
-“কোন গুলো নিবি?”
-“আমার তো অনেক গুলো পছন্দ হয়েছে।”
উৎস মেহেকের দিকে তাকায় মেহেক জুতার দিকেই ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে।একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উৎস বললো,
-“কোন গুলো পছন্দ হয়েছে বল।”
-“সবগুলো বলবো।”
-“হুম।”
-“কিনে তো দিবেন না তাহলে কষ্ট করে উনারা বের করবে কেনো!”
-“কানের নিচে পড়লে কেনো’র উত্তর পেয়ে যাবি।”
মেহেকের মুখ চুপসে যায়।বাড়িতে না হয় বকা ঝকা করে কিন্তু বাড়ির বাহিরের লোকজনের সামনেও এমন করবে!
উৎস আবার বললো,
-“ও যেগুলো বলবে সেগুলো ওর সাইজের প্যাক করে দিবেন।”
উৎসের কথা শুনে মেহেক তো রীতিমতো অবাক। মাথা ঠিক আছে তো।যাই হোক এই সুযোগ হাত ছাড়া করা যায় না তাই সে তার পছন্দ মতো জুতা গুলো সব বললো।মেহেক এক এক করে ফটাফট সব জুতা বের করতে বললো আর দোকানদার ছেলেটা হাঁপিয়ে গেছে। উৎস মেহেকের দিকে তাকিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে হেঁসে নিলো।তার পকেট খালি করবে বলে উঠেপড়ে লেগেছে তার পুচকে বউ কিন্তু তার যা আছে সেগুলো তো সব তার জন্যই সেটা তো জানে না।বিশ জোড়া জুতা মেহেকের পছন্দ হয়েছে এখন তার সব গুলোই লাগবে।উৎসের কথা মতো ছেলেটাও সব প্যাক করে দিলো।
-“ভাবি আপনি অনেক ভাগ্যবতী।আপনার জন্য আমাদের দোকানের আজ অনেক মাল বেঁচাও হলো।”
ভাবি সম্মধন করাতে মেহেক উৎসের দিকে তাকায়।উৎস তার মানিব্যাগ থেকে কার্ড বের করে দিয়ে বলে,
-“তা যদি তোমার ভাবি বুঝতে পারতো তাহলে তার কপাল খুলে যেতো।”
মেহেক অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো উৎসের দিকে কী হচ্ছে তার সাথে এসব!
তারা গাড়িতে উঠে বসলো।গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে মেহেক বললো,
-“উৎস ভাই আমার হাতে একটা চিমটি কাটেন তো।”
মেহেক হাত বাড়িয়ে দেয়।উৎস কপাল কুঁচকে তাকায়।
-“আরে দেন না আমার মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি।”
উৎস মেহেকের হাতে একটা জোরে চিমটি কাঁটে।মেহেক ব্যাথায় কুঁকড়িয়ে উঠে বলে,
-“রাক্ষস নাকি গোস্ত খাবেন!এতো জোরে কেউ দেয়!”
-“আমি দেই।আরো দিবো।এটার তো কোনো চিহ্ন রাখিনি কিছুক্ষন পরেই ঠিক হয়ে যাবে।যখন চিহ্ন রাখবো মুখ দেখানোর সাহস পাবি না কাউকে।”
মেহেক আচমকা উৎসের হাতে কামড়ে ধরে।উৎস গম্ভীর স্বরে বলে,
-“মেহেক।”
#চলবে
#দৃষ্টির_অন্তরালে_নিস্তব্ধতা
#লেখনী_মায়মুনা_আক্তার_মারিয়া
#পর্ব_১১
উৎস মেহেক এসে দেখে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে।স্রোতের গায়ে হলুদ লাগানোর পর্ব প্রায় শেষের দিকে।তার বোনের বিয়ে আর মেহেক হলুদ লাগাবে না তা কী করে হয়।মেহেক হলুদ লাগাবে কিন্তু তার সরম করছে স্টেজে গিয়ে হলুদ লাগাতে।এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছে তার বাকি দুই বোনকে পাওয়া যায় কিনা।না পাওয়া গেলো না দুজনেই নিচে।তারা থাকলে না হয় পিছন পিছন স্টেজে উঠে হলুদ লাগাতো।মেহেক মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।উৎস তখনি ছাদে আসে।মেহেককে এক কোনায় মুখ ভোঁতা করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওর কাছে যায়।
-“মুখটা লেবুর মতো করে রেখেছিস কেনো?একটু চিপড়ালেই তো রস বেয়ে পড়বে।”
উৎসের খোঁচা মারা কথায় মেহেক রেগে যায়।সে কি ফেদ কাঁদুনি নাকি যে কেউ কিছু বললেই সে কেঁদে দিবে!
-“আপনার গফ কী অন্য কোনো ছেলের সাথে কথা বলছে যে সময় কাটাতে আমাকে এসে চিপরাতে চাইছেন।”
-“ভালোই তো কথা শিখেছিস।তো কোথা থেকে এতো কথা শিখলি।”
-“এ মা ভুলে গেলেন!আপনি তো প্রতি দিন রাতে আমার স্বপ্নে এসে ক্লাস নিয়ে যান।”
উৎস মেহেকের কথায় হতবাক।এই মেয়ের বড্ড সাহস বেড়েছে।উৎস গম্ভীর স্বরে বললো,
-“সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারিস না সেটা মানলাম এখন তো দেখছি সোজা কথাও বলতে পারিস না।”
-“স্কেল দিয়েও আমি খাতায় বাঁকা দাগ দেই আর আপনি আমার থেকে সোজা কথা আশা করছেন উৎস ভাই….।”
উৎসের ইচ্ছে করলো থাপড়িয়ে এই মেয়ের সব কয়টা দাঁত ফেলে দিতে কিন্তু এতো মানুষের মাঝে ওকে ছোট করতে চাইলো না বরং উৎস ধৈর্য সহকারে বললো,
-“স্রোতকে হলুদ দিতে যাবো গেলে আয় আর না হয় কার কয়টা গফ আছে হিসাব কর।”
উৎস বলেই স্টেজের দিকে পা বাড়ালো।কিন্তু মেহেক পড়লো ভাবনায় কার কয়টা মানে? উৎস ভাইয়ের কী আরো গফ আছে নাকি!সে যাই হোক সবাই হলুদ লাগিয়ে ফেলেছে এখন না গেলে আর লাগাতে পারবে না তাই সেও স্টেজে উঠলো।
হলুদের অনুষ্ঠান মানেই নাচ, গান আনন্দ মেতে থাকা।সাউন্ড বক্সে গান বাজছে।বাড়ির আশেপাশের ছেলে মেয়েরা যে যার মতো করে নাচছে আর বাকিরা হাত তালি দিয়ে আনন্দ উপভোগ করছে।
সবার নাচের পালা শেষ হলে ভাই বোনদের নাচার কথা উঠলো।নিশাত,রোদসী,মেহেক,ফারাজ,সিজান ও উৎস কেউই নাচের কোনো প্রিপারেশন নেয়নি কিন্তু তাদের সবাইকে নাচতে বলার জন্য অনুরোধ করে স্রোত।বাধ্য হয়ে সবাই মিলে একটা ডিজে গান লাগিয়ে কিছুক্ষন পাগলা ডান্স দেয়।কেউই নাচতে পারে না শুধু হাত আর কোমড় নাড়িয়েছে তাহলে তো সেটাকে সবাই হাসতে হাসতে বলবে পাগলা নাচ।
অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে বারোটার দিকে। সাধারণত হলুদের অনুষ্ঠানে সবাই সারা রাত জেগে আনন্দ করে কিন্তু স্রোতের হবু স্বামী ধার্মিক হওয়ায় এসব পছন্দ করে না কিন্তু বিয়ে তো একবারি হবে বউয়ের ওতো শখ আছে সেই হিসাবে বারোটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করে দিতে বলেছে।স্রোতও বাদ্য মেয়ের মতো মেনেছে।
বিয়ে বাড়ি মেহমানে গিজগিজ করছে। যে যেখানে জায়গায় পেয়েছে সে সেখানে শুয়ে পড়েছে।
এখন মধ্যরাত তবুও কারো কথা শুনা যাচ্ছে সবাই হয়তো ঘুমায়নি।মেহেকের ঘুম আসছে না।স্রোতের ঘরেই তার ঘুমানোর কথা কিন্তু ঘুম না আসায় পা টিপে টিপে বের হয়ে আসে।তার পেটে তো কিছু কথা আর প্রশ্ন মিলে খিচুড়ি পাকাচ্ছে।যেগুলো না জানা পর্যন্ত পেটের মধ্যে গুড়গুড় করতেই থাকবে।স্রোতের ঘরের বাহিরে গিয়ে বা দিকে একটা বারান্দা আছে।মেহেক সেখানে গেলো। ড্রয়িং রুমের দিকে গেলে কেউ দেখলেই ঘুমাতে যেতে বলবে।মেহেক বারান্দা গিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বাহিরের আকাশের দিকে তাকায়।চারোপাশে অন্ধকার, গা ছমছমে পরিবেশ তবুও মেহেকের ভালোই লাগছে।মেহেক দু’চোখের পাতা বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
-“ঘুমাসনি কেনো?এতো রাতে এখানে কী?”
হঠাৎ পুরুষালী কন্ঠ পেয়ে মেহেকের শরীর কম্পিত হয়ে যায়।তড়িৎ গতিতে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে স্বয়ং উৎস তার সামনে দাঁড়িয়ে। শুধু যে সামনে দাঁড়িয়ে এমনটা নয় খুবই সন্নিকটে।মেহেক বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে।এটা কী উৎস ভাই নাকি তার আত্না।সে তো খেয়ালই করেনি উৎস এখানে!
-“কথা বলছিস না কেনো?”
-“দূরে স্বরে দাঁড়ান।”
-“আরো কাছে আসবো তাতে তোর কী?”
উৎস মেহেকের গায়ের সাথে লেগে গেলো।উৎসের এক হাত গিয়ে পড়লো মেহেকের কমড়ে আর আরেক হাত পড়লো উন্মুক্ত গলায়।
মেহেক গা ঘেমে যাচ্ছে। এমনিতেই প্রকৃতিতে ঠান্ডা বিরাজ করছে তার মধ্যেও তার নাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমাট বেঁধেছে।মেহেক শুকনো ঢোক গিলে সাহস নিয়ে বললো,
-“দেখেন উৎস ভাই গত বছরও সিঙ্গেল ছিলাম এ বছরও আছি।সামনের বছর যদি সবার দোয়ায় মিঙ্গেল হয়ে যাই তাহলে আপনার দ্বারা কলঙ্কিত হয়ে গেলে আমার প্রাণ পুরুষ তো আমাকে ছুঁয়েও দেখবে না।”
উৎস মেহেকের কথায় রেগে গিয়ে ওর গলা শক্ত করে চেপে ধরে।উৎস দাঁত কিড়মিড় করে বললো,
-“আমাকে জেদ দেখাস না।সাহস বেড়ে গেছে তোর।তোর ওই মুখে দ্বিতীয়বার যদি অন্য কারো কথা শুনি জিহ্ব ছিঁড়ে ফেলবো।”
মেহেক ব্যাথায় ছটফট করতে থাকে।তার দুই হাত দিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করে কিন্তু উৎসর শক্তপোক্ত হাতের কাছে হার মানতে হয়।মেহেকের অবস্থা করুন হতে লাগলে উৎস ছেড়ে দেয়।মেহেক ছাড়া পেয়ে নিশ্বাস নিতে থাকে।
-“মেরে ফেলবেন নাকি!”
-“লাগলে তাই করবো।”
-“কিছু হলে আমার উপর কেনো তেজ দেখান আমি কে আপনার?”
-“সময় হলে জানতে পারবি।”
-“আমার জন্য আপনার কখনো সময় হবেও না।”
-“ঘুমাতে যা।”
-“জাবো না।”
-“যেতে বলছি।”
-“আপনার কথা শুনতে আমি বাধ্য নই।”
-“হতে কতক্ষণ।”
-“আমার উপর জোর খাটান কোন অধিকারে?”
উৎস মেহেকের গাল চেপে ধরে বললো,
-“আমাকে অধিকার শিখাস!”
-“ছাড়ুন বলছি।”
উৎস ছেড়ে দেয়।গভীর এক নিশ্বাস ছেড়ে শান্ত স্বরে বললো,
-“ওই দিন রাতে কী বলেছি তা ধরে এখনো বসে আছিস।সাধেই কী তোকে গাধী বলি গদ্দব।”
-“মিথ্যে বলেছিলেন।”
-“হুম।”
উৎসের সোজাসাপটা শিকার উক্তি।
———-
-“কুঁচি ভালো করে দিবে।সুন্দর করে পরাবে।স্রোত আপুর পর আমাকে যেনো সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগে।”
মেহেকের পাগলামো কথা বার্তা শুনে নিশাত ও রোদসী হেঁসে দিলো।নিশাত বললো,
-“এতো সেজে কাকে দেখাবি?”
-“আয়নার সামন গিয়ে মন ভরে নিজেকে দেখবো।”
রোদসী মেহেকের আঁচল ঠিক করে ঠাট্টার স্বরে বললো,
-“এতো কিউটি একটা বোন তাকে দেখলে সবাই বেহুশ।”
তিন বোন মিলে হো হো করে হেঁসে দেয়।
উৎস সকালে এসে তিন বোনকে তিনটা শাড়ি দিয়ে গেছে এবং আজ পড়তে হবে বলে দিয়েছে। নিশাত, রোদসী মিলে আগে মেহেককে তৈরি করে দেয় তারপর তারা রেডি হবে।তারা তিন বোন হালকা প্রসাধনী দিয়ে তৈরি হয়ে অনুষ্ঠানে যায়।সেখানে যাওয়ার পরই তাদের খেতে বসিয়ে দেয় উৎস।মেহেক রাজি হয় না সে বর পক্ষের সাথে খাবে কিন্তু উৎসর ধমক খেয়ে খেতে বসে।তাদের খাওয়ার মাঝেই বরযাত্রী এসে পরে।গেইট ধরতে যেতে চাইলে সেখানে এসে হাজির হয় উৎস।
-“খাওয়া শেষ না করে উঠবি না।”
মেহেক করুন স্বরে বলে,
-“গেইট ধরবো না?”
-“না।”
-“উৎস ভাই।”
-“শেষ কর।”
মেহেক মন খারাপ করেই খাওয়ায় আগ্রহ হলো।তার মন পড়ে রইলো গেইটের দিকে। আড়চোখে উৎসকে একবার দেখলো।না এই বান্দা দাঁড়িয়েই আছে!
নিশাত,রোদসী এতো হৈচৈ, আনন্দ উল্লাস পছন্দ করে না।মেহেকের মধ্যে যে বাচ্চামো অভ্যাস রয়েছে তা ওদের মধ্যে নেই।এই যেমন মেহেক গেইট ধরা নিয়ে উসখুস করছে কিন্তু নিশাত ও রোদসীর এই নিয়ে কোনো ভাবনা নেই তাদের।খাওয়া শেষ হলেও তিন বোনকে কড়া আদেশে বারণ করে গেছে ফারাজ ভুলেও যেনো বর পক্ষের আশেপাশে না দেখা যায় তাদের।তারা তিন জনেই এক সাইডে বসে গল্প করতে থাকে।স্রোতের সাথে ছবি তোলার জন্য উৎস এসে নিয়ে যায় আবার আগের জায়গায় এনে বসিয়ে দেয়।বিবাহের কাজ সম্পন্ন হলে বিদায়ের ব্যবস্থা করে।
মেয়েদের জীবনের সবচেয়ে করুন পরিস্থিতি বাবার বাড়ি ছেড়ে অন্যের ঘরে উঠা।মেয়েদের কী নিজস্ব কোনো বাড়ি হয় না?ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত বাপের বাড়ি বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি।কিন্তু আসল সত্য তো এটাই মেয়েদের ছাড়া কোনো বাড়ি হয় না,সংসার অপূর্ণ থাকে।একটা সংসার টিকিয়ে রাখতে মেয়েরাই তো চরম ধৈর্য ধরে।
স্রোত কান্নায় একে বারে ভেঙে পড়েছে। বাবা-মা’র আদরের একমাত্র মেয়ে।স্রোত বাবাকে ধরে কেঁদেই চলেছে। মেয়েরা বাবার রাজ্যে রাজকন্যা হয়।সব আবদার পূরণ করে বাবা।বিয়ের পর মেয়েদের আবদার সাজে না এই জেনেই সে বড় হয়েছে। সে এখন থেকে অন্য বাড়ির বউ। শাহাদাত চৌধুরি এসে আমির শিকদারকে সান্ত্বনা দিলো।মনকে শক্ত করতে বললো।বাবা হয়ে যদি ভেঙে পড়ে তাহলে তো মেয়ে আরো ভেঙে পড়বে।স্রোত বাবার কাছ থেকে মায়ের কাছে যায়।তার মা আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে লাল করে ফেলেছে। মা’কে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষন কাঁদলো স্রোত।সিজান এসে বোনকে সড়িয়ে দেয়।স্রোত হামলে পড়ে তার ভাইয়ের বুকে।ছোট বেলা থেকে তো এই ভাইটার সাথেই খেলেছে, একসাথে খেতে বসেছে।মা বকলে বোনের রাগ ভাগিয়েছে।বোন না খেলে সেও খায়নি।বাবার পরে সকল আবদার ছিলো সিজানের জন্য বরাদ্দ। আর আজ থেকে সে এই বাবা- মা,ভাইকে ছেড়ে অন্য সংসার,নতুন পরিবারে গিয়ে থাকতে হবে।সিজান বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে স্নেহ ভরা স্বরে বললো,
-“স..স্রোত কাঁদছিস কেনো?কালই তো তোকে নিয়ে আসবো।এভাবে কাঁদিস না বোন আমার।এটাতো সব মেয়ের ভবিতব্য দেখিস না মা নানা বাড়ি যায় না,আমরা তাই সব।একদিন তুইও বুঝতে পারবি।”
স্রোত কান্না মিশ্রিত স্বরে বললো,
-“ভাইয়া..”
__________
মেহেক স্রোতের ঘরে শুয়ে তার ফেসবুক একাউন্টে ঢুকে স্কল করছে হঠাৎ তার চোখে আটকালো উৎসের একটা পোস্ট।আজই তুলেছে।মেরুন রঙের পাঞ্জাবি পড়া ছবি তার সাথে কেপশন দিয়েছে,
“Give me your Heart
in return you may take my life.”
কেপশন দেখে মেহেকের চোখ কপালে।
-“এই হত্যছাড়া আমাকে ছবি ছাড়তে দেস না আর এখন নিজেই গার্লফ্রেন্ডের জন্য পোস্টার লাগিয়েছিস।”
তখনি ঘরে আসলো রোদসী।মেহেকের কথায় অবাক হয়ে করলো,
-“আমি তো জানি ভোটের জন্য পোস্টার লাগানো হয় তুই বলছিস গার্লফ্রেন্ডের জন্য টানিয়েছে!কে রে সেই অভাগা।”
মেহেক আফসোসের স্বরে বললো,
-” আর বলো না রোদু আপু আছে একজন মহান ব্যক্তি।থুক্কু ব্যক্তি বললে ভুল হবে গিরগিটি।কতো যে রুপ দেখায়!কালে কালে কতো কী যে দেখতে হবে?”
-“গিরগিটি তা কে শুনি?”
হঠাৎ উৎসের গলার স্বর পেয়ে দরজার দিকে মেহেক ও রোদসী তাকায়।উৎসকে দেখে মেহেক লাফ দিয়ে বসে পড়ে।ভয় ভয় চোখে রোদসীর দিকে তাকায়।চোর যখন ধরা পরলে ভয়ে নাশতা না বদ হয় সেরকম অবস্থা হয়েছে মেহেকের।এই শর্ষে ভূতের কাছেই তার সব কথা ফাঁস হয়ে যায়।মেহেক সংকোচ করে বললো,
-“আপনাকে বলিনি আপনি আসতে পারেন।”
-“আমি কী তোর অনুমতির জন্য দাঁড়িয়ে আছি নাকি যে তুই কখন বলবি যেতে তারপর যাবো!”
-“মুখ দিয়ে কী মধুর মতো কথা ঝরে না আপনার সব সময় ত্যাতো কথা বের হয়?”
পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে দেখে রোদসী ঘাবড়ে যায়।এখনি এদের না থামালে ঘটনা উল্টো মোড় নিবে।তাই রোদসী দু’জনকে থামানোর জন্য বললো,
-“মেহেক বড় আব্বু ডাকছে খেতে জলদি চল।”
-“হুম চলো আপু বড় আব্বুকে একটা নালিশ ও দিতে হবে।তার গুনোধর গিরগিটির যে কতো রুপ তা একটু তো জানাতে হয়।”
উৎস মেহেকের দিকে ভ্রু কুচক্রীয়ে তাকায় গম্ভীর চোখে। মেহেক মুখ টিপে টিপে হেসে বেরিয়ে যায়।উৎসকে খোঁচা মেরে সে মহা খুশি।
#চলবে

