#স্নিগ্ধ_প্রেমের_সম্মোহন
#সাদিয়া_মেহরুজ_দোলা
|পর্ব-৪৪+৪৫|
হেমন্তের কড়া রৌদ্দুরের মাঝে ছাঁদে এসে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আমি। বিগত তিনদিন এর কথা মনে পড়তেই মনটা বিষিয়ে যায় মূর্হতেই! চোখের কার্নিশে এসে জমে বিন্দু বিন্দু পানি! রিসিপশন এর মাধ্যমে বিয়ের সকল কার্যক্রম শেষ হয়েছে আজ তিনদিন হলো।
এই তিনটা দিন ছিলো আমার কাছে তিক্তকর!পূর্ব নামটা আজকাল আমার কাছে বিষাক্ত লাগে। বিরক্ত ভাবটা উড়ে আসে! এই তিনদিনে এমন একটা দিন নেই আমি পূর্বকে কষ্ট না দিয়ে কথা বলেছি। প্রচুর কষ্ট দিয়েছি তাকে। কেনো জানা নেই! পূর্ব আমার সামনে আসলে রাগটা তরতর করে বেড়ে যেতো। তাকে দেখলে আমি যেনো অন্য জগতে চলে যেতাম। শত চেষ্টা করেও নিজের মাইন্ড, রাগটাকে দমন করা সম্ভব হতো না আমার পক্ষে!
তবে পূর্ব আমার দেয়া কষ্টে বা আমার তিক্ত কথায় তাকে কখনো রেগে যেতে দেখিনি। বরং সে নিশ্চুপ থেকে ঠান্ডা মাথায় আমার সকল উদ্ভট মন্তব্য শুনে আলত হাসতো। অতঃপর বুকে টেনে নিয়ে শান্ত করতো। ঠিক এই কারণটায় আমি রাত বিরাত কেঁদে কেটে ভাসিয়েছি। কেনো এমন হচ্ছে? কেনো আসছে তার প্রতি বিরক্তি? কেনো তাকে দেখলে আমার রাগ চেপে বসে ব্রেনে?কেনো তার প্রতি তৈরি হওয়া ভালোবাসা কে ভালোলাগায় রূপান্তর করছে ব্রেন?
এই ‘কেনো?’ গুলোর উত্তর বিগত তিনদিন ধরে খোঁজার প্রয়াস চালিয়েছি তবে আমি ব্যার্থ! পাগল মনে হয়ে নিজেকে মাঝেমধ্যে। ইচ্ছে হয় পূর্বকে ছেড়ে মেন্টাল হসপিটালে এডমিট হয়ে যাই। এটলিষ্ট পূর্বকে কষ্ট দেয়া তো থেমে যেতো! তিন দিন ধরে একই ছাঁদের নিচে থাকলেও আমার আর পূর্বের মাঝে ছিলো ভারত বাংলাদেশ টাইপ বর্ডার। মনে ছিলোনা কারোরই শান্তি।
কারো দ্রুত পায়ের পদধ্বনিতে বদ্ধ চোখজোড়া খুলে পিছু ফিরে তাকাই! লক্ষ্যমান হয় অরিন বুকে হাত দিয়ে শ্বাস নিচ্ছে। সকল কিছু সাইডে ফেলে লম্বা লম্বা পা ফেলে ওর কাছে যাই। বিচলিত হয়ে বলি,
-‘ অরিন হাঁপাচ্ছিস কেনো? আর এতো তাড়াতাড়ি উঠে আসতে বলেছিলো কে? ভুলে গেছিস তুই প্রেগন্যান্ট! বাচ্চার ক্ষতি হতে পারতো। ফর গড সেইক এটলিষ্ট বাচ্চাটার জন্য একটু কেয়ারফুলি হ?’
অরিন শান্ত হয়ে বলল,
-‘ মাত্র একমাস দুই সপ্তাহ চলে। চুপ যা! জলদি নিচে চল। পূর্ব ভাই অরা আপুকে তিনটা থাপ্পড় মারছে। বলল তোরে ডেকে নিয়ে যেতে। ‘
খেয়াল হয়।অরিনের চোখের কোনায় পানি এসে জমেছে। অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করি,
-‘ মানে কেনো? কি হয়েছে? আর তুই কাঁদছিস কেনো?’
-‘ নিচে চল! ‘
অরিন কথাটা বলে আমার হাত শক্ত করে ধরে। টেনে নিয়ে যেতে থাকে নিচে। নিচে আসার পর দেখি ড্রইংরুমে সবার সামনে মাথা নিচু করে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অরা আপু! তার চোখমুখে একরাশ কষ্ট আর রাগের আভাস। ভরাট কৌতূহল নিয়ে সামনে এগোতেই দেখি পূর্বকে। তার চোখমুখ রাগ যেনো উপচে পড়ছে! ফর্সা মুখশ্রী লাল হয়ে উঠেছে। আমাকে দেখা মাত্রই তার রক্তিম চোখজোড়া খানিকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তড়িৎ বেগে তিনি দৌড়ে এসে আমার গালে হাত রাখেন! পাজাকোলা করে তুলে নিয়ে সামনে আগান। আকস্মিক কান্ডে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি পূর্বের দিকে।
পূর্বের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে চারিপাশে তাকাতেই বড় চাচু, মেঝ চাচু এবং চাচিদের রাগান্বিত মুখপান নজরে আসে। বুঝলাম না তারা এতো রেগে কেনো? তবে আপাতত আমার কৌতূহলতা কমে গিয়ে জন্ম নিয়েছে মনে একদল লজ্জা! আমি নিম্ন কন্ঠে বলি,
-‘ পূর্ব কি করছেন?নিচে নামান? বড়রা আছে এখানে! প্লিজ নামান আমায়, কোলে তুলেছেন কেনো?’
পূর্বের কোনো জবাব এলো না আমার করা প্রশ্নে। সে নিজের মতো আমায় কোলে নিয়ে সামনে এগোয়। সোফার কাছে গিয়ে সোফায় বসিয়ে দিয়ে তিনি আমার পাশে বসে হাত শক্ত করে ধরেন। অনেকটা অস্থির কন্ঠে তিনি বললেন,
-‘ ডক্টর প্লিজ চেক হার ইমিডিয়েটলি! ‘
পূর্বের কথায় সামনে দৃষ্টি দেই। একজন সাদা এপ্রোন ধারী লোক বসা। কাঁচা পাকা চুলের সংমিশ্রণ ঘটেছে মাথায়। বার্ধক্যের ছাপ শরীরে বহমান! লোকটা যে ডাক্তার তা তার গলায় ঝুলানো স্টেথোস্কোপ এবং সাদা এপ্রোন পড়া দেখেই চট করে বুঝে নিয়েছি। কিন্তু পূর্ব আমায় ডাক্তার দেখাচ্ছেন কেনো?
অবাক চাহনিতে পূর্বের দিকে তাকালে খেয়াল হয় সে ডক্টর এর দিকে চেয়ে আছে। আমি চমকিত কন্ঠে বলি,
-‘ পূর্ব? ডাক্তার কেনো? আমার তো কিছু হয়নি! ‘
পূর্ব ঘাড় বাকিয়ে তাকায় আমার দিকে। সামনে বসে থাকা মানুষ উপেক্ষা করে আমার কোমড় চেপে ধরেন তিনি। কাছে টেনে নেন! লজ্জায় কন্ঠনালি কাঁপছে বোধহয় যার কারণে তাকে জোর গলায় কিছু বলতেও পারলাম না।
পূর্ব মাথা নিচু করে ধরা কন্ঠে বললেন,
-‘ হয়েছে। অনেক কিছু হয়েছে তোর! চুপ থাক প্লিজ। ‘
পূর্বের হাতটা কোমড় থেকে সরাতে নিলে সে রক্তিম চাহনি দেয়। যার ফলস্বরূপ ঢোক গিলে ডাক্তারের দিকে তাকাই! কিছুই বুঝতে পারছি না। কিন্তু এখন আমার উত্তর পাওয়াও সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। তীক্ষ্ণ নজরে দেখলাম ডাক্তার খুব মনোযোগ সহকারে একটা শিশি দেখছেন। তিনি আমার কাছে এসে নরম কন্ঠ বললেন,
-‘ মা তোমার ডান হাতটা দেখি। ‘
রোবটের মতো বিনাবাক্যে আমি আমার ডান হাতটা ডাক্তারের কাছে এগিয়ে দেই। তিনি আমার হাতে সিরিঞ্জ দিয়ে অল্প কিছু রক্ত নেন। আরেকবার ডানে ঘুরে পূর্বের দিকে তাকাতে দেখি সে চোখমুখ খিচে আমার হাতের দিকটায় তাকিয়ে আছেন। যেনো সিরিঞ্জ আমার হাতে নয় তার হাতে দিচ্ছে। মৃদু হেসে ফের হাতের দিকে দৃষ্টি দেই! রক্ত নেয়া শেষ। ডাক্তার একজন কে ইশারা করে বললেন রক্তে ভরা সিরিঞ্জটা নিতে। একজন যুবতি মেয়ে এগিয়ে এসে সিরিঞ্জ নিয়ে যায়।
প্রায় বিশ মিনিটের ব্যাবধানে মেয়েটা ফিরে এসে ডাক্তারের কাছে কাগজ তুলে দেন। ডাক্তার কাগজটা দেখে আলত হাসেন। তিনি পূর্বের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-‘ রিলাক্স মিষ্টার পূর্ব! ড্রাগের এফেক্ট এখনো ফুল বডিতে ছড়িয়ে পড়েনি। আমি তিনটা ইনজেকশন দিচ্ছি আপাতত, তাহলে ড্রাগের এফেক্ট টা কেটে যাবে। ওনাকে এখন তিনটা ইনজেকশন দিতে হবে। তাহলে ড্রাগ যতটুকু শরীরে ছড়িয়েছে তা কেটে যাবে এবং ড্রাগের ব্যাড এফেক্ট আর পড়বেনা বডিতে। ‘
বিস্ফোরিত নয়নে পূর্বের দিকে দৃষ্টি দেই। তার চোখমুখে আতংকের ছাপটা কেটে গিয়েছে অনেকটা। তবে ডাক্তার এর কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া ফিলিং ‘স আসছে! ড্রাগ আমার বডিতে?কিভাবে?
আমি উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করি,
-‘ ড্রাগ? কি বলছেন এসব? পূর্ব? উনি এসব কি বলছেন? ‘
পূর্ব কন্ঠের খাদ নামিয়ে বলে,
-‘ বলবো! তার আগে ইনজেকশন দেয়া হোক দ্যান সব বলবো। ডক্টর? ইনজেকশন দিন ফাষ্ট, খেয়াল রাখবেন ও যাতে একটুও ব্যাথা না পায়, ‘
লাষ্টের কথাটা হুমকিস্বরূপ তিনি ডাক্তারকে বললেন। ডাক্তারের মুখখানা চুপসে যায় তা শুনে। তিনি আমতা আমতা করে বললেন,
-‘ দেখো পূর্ব ইনজেকশন দিতে নিলে প্রথম একটু আধটু ব্যাথা লাগবে..’
ডাক্তারের কথা অসম্পূর্ণ রেখে পূর্ব উচ্চ কন্ঠে বললেন,
-‘ আমি কিছু শুনতে চাইনি ডক্টর। আমার কথাই লাষ্ট, ব্যাথা যাতে না পায়! ‘
ডাক্তার মাথা নাড়ালেন। আজব! মাত্র রক্ত নিলো তখন তো ব্যাথা পেলাম না। পূর্ব কি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেললো? তার চোখমুখে শত চিন্তার লেশ! হয়তো তার কারণেই সবকিছু গুলিয়ে ফেলছেন। ডাক্তার তিনটা ইনজেকশন বের করে পাশে কাঁচের টেবিলটায় রাখেন, একে একে তিনটা ইনজেকশন দেয়া শেষ করেন তিনি ভীতি নিয়ে। একটু আধটু ব্যাথা পেলেও তা বাহিরে প্রকাশ করিনি, নাহলে নিশ্চিত বেচারা ডাক্তার আংকেল এর কপালে শনি আছে, পূর্বকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে উনি কতোটা সিরিয়াস। ক থেকে খ হলে বয়স্ক ডাক্তারের গালে থাপ্পড় মারতে পারেন! আমার ক্ষেত্রে সে একটু বেশিই পজেসিভ।
ইনজেকশন দেয়া শেষে ডাক্তার চলে যায়। তিনি চলে যাওয়ার পর বড় চাচি এসে আমার পাশে বসলেন।আমার মাথায় হাত দিয়ে বললেন,
-‘ খারাপ লাগছে দোলা?’
আমি ডানে বামে মাথা নাড়িয়ে ‘ না’ বলি! অতঃপর জিজ্ঞেস করি,
-‘ না আম্মু। বাট এসব কি হচ্ছে? অরিন বলল পূর্ব অরা আপুকে থাপ্পড় মেরেছে আবার এই ইনজেকশন দিলো, ড্রাগ, এসব কি হচ্ছে? ‘
বড় চাচি পূর্বকে ইশারায় কিছু জিজ্ঞেস করতে তিনি মাথা নাড়লেন। পরিশেষে চাচি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন,
-‘ তোকে ড্রাগ দেয়া হয়েছে পাগল বানানোর জন্য। তুই এতদিন পূর্বের সাথে খারাপ ব্যাবহার করতি, বাসার সবার সাথে ঠিকমতো কথা বলতি না একা একা থাকতি এসব হয়েছে এই ড্রাগের এফেক্ট এর কারণে! তোকে কড়া ডোজের ড্রাগ দেয়া হয়েছে যখন থেকে তুই বাংলাদেশে এসেছিস প্রথম। আর এই ড্রাগ অরা দিয়েছে। তাই পূর্ব ওকে থাপ্পড় মেরেছে। পূর্ব আজ সকালে অরা কে আড়ালে একজন এর সাথে কথা বলার সময় শুনেছে এইসব! সম্ভবত ও তখন যার থেকে ড্রাগ এনেছিলো তার সাথে কথা বলছিলো, কবে তোর ব্রেনে ড্রাগের এফেক্ট ছড়াবে তার জন্য! ‘
চাচীর কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে যাই। পূর্বের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কন্ঠে বলি,
-‘ আ..আপু এ..এমন ক..কেনো করলো? আমি কি করেছি?’
পূর্বের চোখমুখে রাগের আভাস টা তরতর করে ফের বেড়ে যায়। রাগে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে সে উঠে দাড়িয়ে অরা আপুর সামনে গিয়ে দাঁড়ায়! দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,
-‘ এমন কেনো করলি অরা? দোলের সাথে তোর সমস্যা কি? সাহস তোর বেড়ে গেছে না! বল, কেনো করলি এমন?এন্সার মি ড্যাম ইট! ‘
পূর্ব হুংকার ছেড়ে বললেন। অরা আপু কেঁপে উঠে চোখ গরম করে আমার দিকে দৃষ্টি দেন। ঝলসানো দৃষ্টি। সেই চোখ দিয়ে যেনো তিনি আমায় মেরে ফেলবেন। নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি আপুর দিকে।মেঝ চাচি এবার কান্নারত কন্ঠে বললেন,
-‘ কেনো করলি এমন অরা? কি ক্ষতি করেছে দোল? কেনো তুই ওর এতবড় ক্ষতি করতে গেলি?’
অরা আপু এবার মুখ খুললো। রাগান্বিত কন্ঠ বলল,
-‘ পূর্বকে ভালোবাসি আমি। প্রচন্ড পরিমানে! দোলাকে পূর্বের পাশে দেখলে ইচ্ছে করে সবকিছু ধ্বংস করে দেই। তার কারণেই দোলা যখন বাংলাদেশে আসে তখন থেকে কড়া ডোজের ড্রাগ দেয়া শুরু করি। প্রথম প্রথম কোনো কিছু করিনি। কিন্তু পরবর্তীতে আমি দোলার মাইন্ড নিজের কন্ট্রোলে নেয়ার জন্যই কড়া ডোজের ড্রাগ দেই! অতঃপর ওর মনে পূর্বের জন্য থাকা ভালোবাসার অনুভূতিকে একটু একটু করে ভুল প্রমানিত করার চেষ্টা করি। দোলা পূর্বকে থাপ্পড় মেরেছে এই ড্রাগের কারণেই! কারণ তার একটু আগেই আমি ওকে ড্রাগ দিয়েছিলাম। যা করতে বলেছি, মাইন্ড কন্ট্রোলে নিয়ে তাই করেছে ও! এইসব করার কারণটা ছিলো পূর্ব যাতে দোলাকে ঘৃণা করে। আর দোলাও যাতে কনফিউশান, হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পাগল হয়ে যায়। কিন্তু.. কিন্তু তার আগেই….!’
থেমে যায় অরা আপু। লম্বা শ্বাস টেনে বলল সে বলল,
-‘ কিন্তু তার আগেই পূর্ব সব জেনে যায়। দোলাকে দেখানোর জন্য পূর্বের সাথে ভালোবাসার নাটক করলেও আমি সেই ছোট্ট বেলা। স্কুল লাইফ থেকে পূর্বকে ভালোবাসি! তাই এমনটা করা। কিন্তু পূর্ব যে আমার না তা মানতে পারতাম না। ‘
ঠাস করে দুইটা থাপ্পড় পড়ে অরা আপুর গালে। মেঝ চাচা দিয়েছেন। তিনি রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,
-‘ তাই বলে দোলার ক্ষতি করবি তুই। এই তোর ভালোবাসা? এতোটা নিচে নামিয়ে দিয়েছে তোর এই থার্ডক্লাস ভালোবাসা? ছিহ! লজ্জা করছে আমার। এই শিক্ষা দিয়ে বড় করেছি আমি তোকে? বেড়িয়ে যা এই বাড়ি থেকে। এই বাড়ি বা এই এলাকার ত্রী- সীমানায় যেনো তোর ছায়া না দেখি। চলে যা অরা! ‘
অরা আপু কেঁদে দেন। আকুতি মিনুতি করেন কিন্তু কেও তার কথা শুনলেন না। যাওয়ার আগে আপু আমার কাছে এসে পা ধরে মাফ চায়! নির্বাক হয়ে তাকে বলি, ‘ ক্ষমা করে দিয়েছি’
অরা আপু চলে যেতেই মেঝ চাচী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন! মেঝ চাচা, অরিনও কাঁদছে। তাদের মেয়ে এবং বোন ছিলো যতই রক্তের সম্পর্ক না হোক! আমি এই দৃশ্য দেখে ওপরে চলে যাই।
।
সন্ধ্যাক্ষন! চারিদিকে আঁধারের পর্ব বিরাজমান। হিমেল হাওয়া গায়ে এসে লেগে ভালোলাগা তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছে। আজ অরা আপুর করা কর্মে পুরো আবরার মঞ্জিল নিস্তব্ধতা ধারণ করেছে। কেও মেনে নিতে পারছেনা আপুর এই ব্যাবহার।
পূর্ব বাসা থেকে বেড়িয়ে গিয়েছেন সেই মূর্হতেই। কোথায় গেছেন জানা নেই! আর না তাকে ফোন দেয়ার তাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করার মতো মন মানসিকতা আমার মাঝে আপাতত বিদ্যমান নেই।
বেলকনি থেকে রুমে প্রবেশ করার পর পরই পূর্ব রুমে আসেন। ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাকে। আমার দিকে গভীরতর এক দৃষ্টি দিয়ে তিনি কার্বাডের কাছে চলে যান। যাবতীয় জামা কাপড় নিয়ে ঢুকে যায় ওয়াশরুমে। ওয়াশরুম থেকে আসা পানির শব্দ আমায় জানান দিচ্ছে তিনি সাওয়ার নিচ্ছেন ।
কিছু সময় বাদে পূর্ব টাওয়ালে নিজের মাথা মুছে বেলকনিতে দিয়ে আসেন টাওয়াল। বেডের কাছে গিয়ে নিজের পরনের টিশার্ট খুলে টান টান হয়ে শুয়ে পড়লেন। আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে তার কর্মকান্ড দেখছি।
-‘ দোল এদিকে আয় তো! ‘
গুটিগুটি পায়ে তার কাছে এগোতেই তিনি হাত ধরে হেঁচকা টান দিয়ে তার উন্মুকে বুকে ফেলে দেন। বুকে মাথ চেপে ধরেন। পূর্বকে দেখে মনে হলো তিনি মনে মনে বেশ আহত অরা আপুর এই আচরনে। আমি জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে ক্ষীণ সুরে বলি,
-‘ পূর্ব আই লাভ ইউ! ‘
চটপট আমায় ছেড়ে উঠে বসলেন তিনি। চোখে পানি। তিনি হতবিহ্বল হয়ে বললেন,
-‘ কি বললি? আরেকবার বল!’
-‘ ভালোবাসি আপনাকে। ‘
পূর্ব তৎক্ষনাৎ আমায় বুকের সাথে চেপে ধরেন। কিছু সময় যেতে তিনি আমার ঘাড়ে চুমু দিয়ে শীতল কন্ঠে বললেন,
-‘ আজকে তোকে ভালোবাসতে চাই! অনুমতি দিবি?’
আমি কিছু না বলে শক্ত করে তাকে জরীয়ে ধরে লজ্জায়। তিনি আমার মৌনতা দেখে হাসলেন। বেডে শুইয়ে দিয়ে আমার ওপর হালকা ভর দিয়ে তিনি আমার ওষ্ঠদ্বয়ের মাঝে ডুবে যান! সূচনা করেন এক নতুন অধ্যায়ের! নতুন রূপে পথচলার রাস্তা! ভালোবাসাময় এক নব্য অধ্যায়।
চলবে….