#আমার_অনুভুতি_তুমি
#পর্বঃ২
#নুসাইবা_ইসলাম
লামিয়া কে নিয়ে যখন ইশা নিচে আসে তখন নিচের মানুষ গুলো কে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। মানুষ গুলো আর কেউ ই না সূর্য আর তার পরিবার। তারাও যে ইশা কে দেখে অবাক হয় নাই এমন না তারাও অবাক হয়েছে।
তুই এখানে কি করছিস ইশা? (সূর্য)
হ্যাঁ তুই এই বাড়িতে কেনো এসেছিস তুই কি জানতি আমরা এখাবে আসবো? গম্ভির কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো তার কাকা (সফিক)
সবার কথার মাঝখানে ইশা এর মামা মামি ও মা এসে পড়লো। ইশার মা ও অবাক এদের দেখে।
আরে ভাইয়া আপনি এখানে? আগে বলবেন না আপনি লামুকে দেখতে আসবেন? ( ইশার মা)
আমাদের কথা ছাড়ো তোমরা এখানে কি করছো? ( সফিক)
আমার ফুপি আমাদের বাসায় ই থাকবে এটা এমন কোনো বিষয় না আংকেল৷ আর ফুপি তুমি এদের কে চিনো? ( ইফরাত)
হ্যাঁ বাবা এনারা হচ্ছেন ইশার বড় কাকা আর তার পরিবার। আর ভাইয়া আপনার হয়তো মনে নেই আসফিক খান হলেন আমার বড় ভাই। ( ইশার মা)
সফিক সাহেব যে অবাক হয় নাই এমন তবুও আমতা আমতা করে চুপচাপ বসলো। সূর্য এর দৃষ্টু তো ইশাতে আটকানো, তা সবার চোখ এড়ালেও একজনের চোখ এড়ালো না। লামিয়া সূর্য এর এক ঝলক দেখছে, লামিয়ার যে সূর্য কে ভালো লাগছে লামিয়া কে দেখলেই বুঝা যায়। কিন্তু সূর্য সে কি চায়?
ইশা ওখান থেকে সরে রুমে চলে গেছে আর ইফরাত এখোনো এখানে দাঁড়িয়ে সবার কথা শুনছে, সূর্য এর বাবার তো লামিয়া কে অনেক পছন্দ হয়েছে হবেই বা না কেন লামিয়া রা যে খুব ই বড়লোক। লামিয়া এর মতো এমন সোনার ডিম পাড়া হাস ই তাদের দরকার। কি যে মিষ্টি মিষ্টি কথা তার মুখ থেকে সরছেই না। ইফরাত এর লোকটা কে একটু ও ভালো লাগে নাই তাই এর আলগা ভালোমানুষি দেখে। সূর্য কে অপছন্দ হওয়ার কারণ নাই খুব ই সুন্দর দেখতে সূর্য আর ভালো জব করে। লামিয়া কে এইবার ওখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে তখন ই সূর্য এর মা তার হাতের থেকে খুলে একটি স্বর্নের আংটি লামিয়া কে পড়িয়ে দেন। লামিয়া খুব লজ্জা পায়। লামিয়ার মা এতে খুশি হন নি তবুও মেহমান দেখে নাও বলতে পারেন নি। মুখের ওপর এভাবে না বলে অপমানিত করতে চান না,আর লামিয়া তাদের একমাত্র মেয়ে সেখানে কোনো খোঁজ খবর ছাড়া কিভাবে বিয়ে দিবে মেয়ে। লামিয়ার মা ইশার মা কে বললেন লামিয়া কে নিয়ে যেতে।
দেখেন ভাই সাহেব আসছেন মেয়ে দেখছেন,কিন্তু এভাবে আপনাদের আমার মেয়েকে আংটি পড়ানো উচিত হয় নাই। আমাদের ও ভাবার সময় দেয়া লাগবে আর লামিয়া এর মতামত জানা দরকার। ( মামি)
আরে আপা আপনার এমন মিষ্টি মেয়ে আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে তাই তো মেয়েকে গিফট করলাম। ( সূর্যর মা)
আর শুনেন আপা এটা বড় ব্যাপার না এরা আজকাল এর ছেলে মেয়ে আপনি এক কাজ করুন সবার থেকে পারমিশন নিয়ে নাহয় সূর্য আর লামিয়া কে একা কথা বলার সুযোগ দিন। ( সূর্য এর বাবা)
লামিয়ার মা সূর্য এর দিকে তাকালেন, মাথা নিচ দিকে দিয়ে চুপচাপ বসে আছে ছেলেটি। লামিয়ার মায়ের যে সূর্য কে জামাই হিসেবে অপছন্দ এরকম না তবুও সে মেয়ের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিবেন। ইফরাত তুমি সূর্য কে নিয়ে বাড়ির ছাদে। ইফরাত একবার সূর্য এর দিকে তাকালো কিন্তু সূর্য কে দেখে বুঝার উপায় নাই এই ছেলের মনে কি চলছে।
আমার সাথে আসুন আপনি৷ ( ইফরাত)
সূর্য এবার উঠলো উঠে ইফরাতের সাথে হাটা ধরলো, ইফরাত লামিয়ার ফোনে মেসেজ করে বলছে ইশা কে নিয়ে ছাদে যেতে। লামিয়াও বাধ্য মেয়ের মতো ইশা কে নিয়ে হাটা দিলো ছাদের দিকে।
আচ্ছা আপনি কি বিয়েতে রাজি মিস্টার সূর্য.? ( ইফরাত)
সূর্য নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে, কি বলবে বুঝতে পারছে না। তখন ছাদে ইশা আর লামিয়া এসে উপস্থিত হয়, সূর্য কে দেখে লামিয়া অবাক সে ভাবে নাই সূর্য ও এখানে থাকবে।
লামিয়া আম্মু তোকে আর উনাকে কথা বলার জন্য এখানে পাঠিয়েছে তোরা কথা বল আমি আর ইশু সিরিতেই আছি।, (ইফরাত)
ইফরাত ইশুর হাত ধরে নিয়ে নিচে নামা শুরু করলো, সূর্য এর চোখ এবার লাল হতে শুরু করলো কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম আর দৃষ্টি ইফরাতের হাতের দিকেই সীমাবদ্ধ । লামিয়া নিচের দিকে তাকিয়ে আছে, আর বিরক্ত হচ্ছে আর ভাবছে কিছু বলছে না কেনো লোকটা?
আপনি কি কিছু বলবেন না আমরা এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবো? ( লামিয়া)
উম কি দিয়ে আমি শুরু করবো তা বুঝতে পারছি না মিস। (সূর্য)
আপনি কি কাউকে ভালোবাসেন? বা কাউকে পছন্দ করেন! (লামিয়া)
উমম এখন বলার মানে হয় না। তা আপনার কি মতামত এ বিয়ে নিয়ে? আপনি কি রাজি আছেন আমাকে বিয়ে করার জন্য। (সূর্য)
লামিয়া উত্তর কি দিবে সে লজ্জায় লাল হচ্ছে, কিভাবে এতো সহযে লোকটা প্রশ্ন করে ফেললো। অন্যদিকে ইফরাত ইশাকে নিয়ে নিচে নামার পড়।
আমার হাত ছাড়ুন ইফরাত ভাইয়া আমি ব্যাথা পাচ্ছি হাতে। (ইশা)
তখন তো আমি কিছু বলতেই পারলাম না তোকে ইশা, আয়হায় তখন কার মাইর দেওয়া বাকি আছে না? আমার মুখে মুখে তর্ক করছিলি। ( ইফরাত)
তখনকার কথা মনে পড়তেই ইশার গাল লাল হতে শুরু করলো লজ্জায়, পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে ফ্লোরে আঁকিবুঁকি করতে শুরু করলো। ইফরাত ইশা এর এমন কান্ডে মুচকি হাসলো।
আসলে আমার দোষ ছিলো আপনি কিভাবে উইদাউট পারমিশন একজন মেয়ের রুমে আসেন। ( ইশা)
আমি আমার বোনের রুমে গিয়েছিলাম নক করেই সেখানে যে আপনি থাকবেন তা কি আমি জানতাম। ( ইফরাত)
লামিয়া আর সূর্য কে নেমে আসতে দেখে দুইজন ই চুপ হয়ে গেলো। লামুয়া আর সূর্য ইফরাতদের কাছে এসেই।
কি ব্যাপার ইশা তুই এভাবে দাঁড়িয়ে লজ্জা পাচ্ছিস কেন? ( সূর্য)
সূর্য যে এভাবে প্রশ্ন করবে তা ভাবতে পারে নাই ইশা। আর সূর্য এর মোটেও ভালো লাগছে না ইশার এসব কান্ড।
আসলে ভাইয়া তেমন কিছুই না আপনি ভুল দেখছেন। (ইশা)
তা এখানে কখন আসলি আমি তো তোকে কলেজ এ দেখে আসলাম। (সূর্য)
কলেজ ছুটির পড় ই চলে আসছি, আচ্ছা ভাইয়া আমি গেলাম লামিয়া আপু আসো। (ইশা)
লামিয়া ইশা কে নিয়ে চলে যেতেই সূর্য আর ইফরাত নিচে আসলো। এতোক্ষন বড় রা কথা বলছিলেন। সূর্য কে আসতে দেখে সূর্য এর বাবা বললেন।
আপা এবার আরেকবার একটু কষ্ট করে লামিয়া মা কে নিচে একটু ডকবেন? ( সূর্য এর বাবা)
আরে এতে কষ্টের কি আছে, ইশু লামিয়া কে নিয়ে একবার নিচে আসো তো। ( মামি)
মামির আওয়াজ পেয়ে ইশা লামিয়াকে নিয়া আবার আসলো। কি ঝামেলা শুধু উপর উঠো আর নিচে নামো হাহ।।
লামিয়া কে দেখে সূর্য এর বাবা একটা খাম হাতে দিয়ে দেন। আর উনারা চলে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন সূর্য বলে উঠে।
ছোট মা তোমরা বাসায় যাবে না? আসো তাহলে তোমাদের ড্রপ করে দিবো আমরা। (সূর্য)
হ্যাঁ বাবা যাবো তো এই ইশু যা ব্যাগ নিয়ে আয় একসাথেই যাই। ( ইশুর মা)
আরে তুমি এখন কেনো যাবা আজকে থাকো তোমার ভাই কিন্তু বকবে। ( মামি)
আরে ভাবি ইশার বাবা একা বাসায় লোকটা অসুস্থ তাই। ( ইশার মা)
ফুপ্পি তুমি গেলে যাও ইশা আজ এখানে থাকবে এই নিয়ে আমি আর কোনো কথা শুনবো না। ( ইফরাত)
ইফরাতের গম্ভির আওয়াজ এ আর কিছু বললো না, ইশার এর মা। সূর্য এর এইসব মোটেও ভাল্লাগছে না।
চলবে.??