মুখোশ পর্ব-০৩

0
268

#মুখোশ || ৩য় পর্ব

স্বামীর এহেন কথায় নূর জাহান যেন আকাশ থেকে পড়লেন। গলা শুকিয়ে কাঠ,আকণ্ঠ বিস্ময়ে প্রশ্ন করলেন,’না করে দিয়েছে মানে! কী বলছো এসব!’

আজিজুল হকের ঠোঁট কাঁপছে,স্ত্রীর প্রত্যুত্তরে কোনো শব্দ বেরুচ্ছে না মুখ দিয়ে। বুকের গভীরে অদৃশ্য একটা ব্যথা দগদগে হয়ে উঠেছে সেই ঘায়ে স্ত্রীর প্রশ্নগুলো যেন ধারালো তরোয়ালের ঘা হয়ে আঘাত করছে।

হওয়া বিয়ে এইভাবে ভেঙে গেলে আশপাশের মানুষজনকে কি জবাব দেবে সে? আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর কৌতূহলী চোখের সামনে কোন জবাবটা দাঁড় করাবে?

এত এত প্রশ্নের মাঝেও একটু আগে ফোনের ওপাশে বলা শেষের একটা কথা আজিজুল হকের মনে তীরের মত আঘাত হানলো। লোকটা কি বলছিলো,রিম্পার অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে!

রিম্পার কি সত্যিই কারও সঙ্গে সম্পর্ক আছে? মুহূর্তেই তার মনে অজস্র সন্দেহ জন্মে উঠলো। ঘরের ভেতর হঠাৎ করে নিস্তব্ধতা নেমে এলো।
কিছুক্ষণ সময় নিয়ে নিজেকে খানিকটা ধাতস্থ করে নিয়ে স্ত্রীকে বললেন,’ রিম্পাকে একটু ডেকে দাও।’

নূর জাহান বেগম স্বামীর কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে না পেরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আদেশ পালন করলেন। রিম্পাকে ডেকে এনে হাজির করলেন স্বামীর সামনে।

আজিজুল হক মেয়ের দিকে ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে কঠিন স্বরে বললেন,’সেদিন রাতে যে পুরুষটা এ বাড়িতে এসেছিল, তাকে চিনো তুমি?’

বাবার মুখে আকস্মিক এমন প্রশ্নে রিম্পা হকচকিয়ে উঠলো। মুহূর্তেই তার মুখের রং ফিকে হয়ে গেল।

কাপা স্বরে বাবার প্রশ্নের উত্তরে বললো,’আমি কীভাবে চিনবো? আমি তো জানতামই না কে এসেছিল।’

আজিজুল হকের কণ্ঠস্বর এবার আরও রূঢ় হয়ে উঠলো।
‘সত্যিই চেনো না তাকে?’

‘ বাবা, কী বলছো এসব! আমি কীভাবে জানবো কে এসেছিলো!’
রিম্পার গলায় এবার অসহায়ত্ব ফুটে উঠলো।

মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে আজিজুল হক যেন হঠাৎ দমে গেলেন। কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকলেন। তারপর শক্ত মানুষটার ভেতরটা ভেঙে পড়ে ধরা গলায় বললেন,’ও বাড়ি থেকে একটু আগে কল করেছিলো। ওরা আর সম্বন্ধটা রাখবে না।’

কথাটা শুনে রিম্পার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। কী বলবে, কী করবে কিছুই বুঝতে না পেরে পাথরের মূর্তির মতো বাবা-মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে রইলো সে।

সারা আর পিয়াস ততোক্ষনে তাদের মাঝে এসে দাঁড়িয়েছে। ছোট বোনকে কাঁদতে দেখে উৎকণ্ঠিত স্বরে জিজ্ঞেস করলো,’ কী হয়েছে বাবা? রিম্পা কাঁদছে কেন?’

উত্তরে আজিজুল হক ভারী কণ্ঠে বললেন,’ রিম্পার হবু শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করেছিল। ওরা বলেছে আর এই সম্বন্ধ করবে না।’

‘কিন্তু কেন?’
পিয়াসের কণ্ঠে বিস্ময় ফুটে উঠলো।

‘পরশু রাতে যে লোকটা এসেছিল, তার সঙ্গে নাকি আমাদের রিম্পার সম্পর্ক আছে।’

পিয়াস তীক্ষ্ণ স্বরে প্রশ্ন করলো,’ কে বলেছে এই কথা? রিম্পা বলেছে?’

কথাটা বলেই সে একবার রিম্পার দিকে তাকালো। রিম্পার গাল বেয়ে তখন অবিরাম পানি গড়িয়ে পড়ছে।

‘না’
আজিজুল হক মাথা নেড়ে তারপর বললের,’ রিম্পা বলেনি। কে যেন বাড়ি বয়ে গিয়ে ওদের কানে এই কথাটা ঢুকিয়ে এসেছে।’

চাপা ক্ষোভ মেশানো গলায় বললো পিয়াস,’তাহলে তুমি বললে না কেন সেদিন রাতে বাড়িতে চোর ঢুকেছিল?’

ছেলের প্রশ্নে আজিজুল হক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,’চুরির কথা তুললে তো রিম্পার গয়নার কথাও উঠতো…

এপর্যন্ত বলার পর তিনি থেমে গেলেন। মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতরটা আবার নিস্তব্ধতায় ডুবে গেল।
সারা এতক্ষণ চুপচাপ পিয়াসের পাশে দাঁড়িয়ে সবটা শুনছিল। এবার ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে সে রিম্পার পাশে দাঁড়ালো। সারাকে দেখামাত্রই রিম্পার বাঁধভাঙা কান্না আরও প্রবল হয়ে উঠলো। চোখের জল আর কণ্ঠের অসহায় কম্পনে সে যেন পুরোপুরি ভেঙে পড়লো এবার। সারা তাকে শক্ত করে ধরে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলো নীরবে। তারপর রিম্পাকে নিয়ে তাদের ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল।

ওরা ভেতরে চলে যেতেই পিয়াস আবার কথা বললো,’
‘বাবা, তুমি চুরির ব্যাপারটা কেন বললে না? অন্তত সত্যিটা তো তারা জানতে পারতো। তারপর যা করার করতো। আমি এখনই একবার ওদের বাড়িতে যাব। সবটা খুলে বলবো। সব শুনে ওরা যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই হবে। অন্তত আমার বোনের ওপর এই মিথ্যা অপবাদটা আর থাকবে না।’

আজিজুল হক আর কিছু বললেন না। নূর জাহান বেগম এগিয়ে এসে অনুনয়ের স্বরে বললেন,’ খোকা তুই যেভাবেই হোক ওদেরকে রাজি করা। রিম্পার বিয়ের খবর সবাইকে জানানো হয়ে গেছে। এখন যদি বিয়েটা না হয় আমার মেয়েটার একটা দাগ লেগে যাবে। রিম্পার কারও সাথে সম্পর্ক থেকে থাকলে কেউ না জানলেও অন্তত বউমার তো জানার কথা। কিন্তু বউমাও তো জানেনা।’

‘আচ্ছা মা আমি দেখছি।’

পিয়াস আর দেরি না করে বাইক টা নিয়ে তৎক্ষনাৎ বেরিয়ে পড়লো রিম্পার হবু শশুরবাড়ির উদ্দ্যেশ্যে।

কিছুটা পথ যাওয়ার পর হঠাৎ একটা অপরিচিত পুরুষ কণ্ঠে নিজের নাম উচ্চারিত হতে শুনে পিয়াস বাইক থামালো। মুহূর্তের মধ্যেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠলো তার। বাইক থামিয়ে পিছনে ফিরে তাকালো পিয়াস।

দেখলো তার থেকে খানিকটা দূরে একজন হ্যাংলা-পাতলা গড়নের আগন্তুক দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটার কোমর থেকে গলার নিচ পর্যন্ত গোটা শরীরটা ছায় রঙের একটা শাল-চাদরে ঢেকে রাখা। শীতের দিনে এমনভাবে চাদর জড়িয়ে থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবু অচেনা লোকটার উপস্থিতিতে পিয়াসের মনে অদ্ভুত একটা খচখচানি শুরু হলো।

পিয়াসকে বাইক থামাতে দেখে আগন্তুকটি এবার ধীর পায়ে পিয়াসের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। লোকটা যত কাছে আসছে, পিয়াসের অস্বস্তিও তত বাড়ছে।

অবশেষে একেবারে সন্নিকটে এসে দাঁড়াতেই পিয়াস আপাদমস্তক চাদরে মোড়ানো মুখটার দিকে ভালো করে তাকালো। পরক্ষণেই সে যেন স্থির হয়ে গেল। মানুষটা আর কেউ নয়,তার স্কুলজীবনের বন্ধু সাদিক!

কিন্তু… তার এই অবস্থা কেন!
মুখে খোচা খোচা দাঁড়ি-গোঁফ, মাথাভর্তি উসকোখুসকো চুল। গায়ে জড়ানো চাদরটাও জীর্ণশীর্ণ, বেশভূষায় বহুদিনের ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। আর মুখটা কেমন ফ্যাকাসে, প্রাণহীন, যেন দীর্ঘ কোনো অজানা যাত্রা শেষে ফেরা একজন মানুষের মুখ।

‘সাদিক!’

নামটা মুখ থেকে বেরোতেই আগন্তুকটা এবার মুখের চাদরটা সরিয়ে ফেললো। ঠোঁটের কোণে ক্লান্তি মেশানো হাসি ফুটিয়ে বললো,‘চিনতে পেরেছিস তাহলে।’

পিয়াস অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। গলার স্বরটা কেমন যেন আটকে এলো তার।

‘এতদিন কোথায় ছিলিস তুই? তোর এই অবস্থা কেন?’

সাদিক এক মুহূর্ত চুপ থাকলো। তার চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাকে, ফাঁকা, যেন দূরে কোথাও আটকে আছে।

মানুষটা স্বাভাবিক হওয়ার ভান করে বললো,‘সে অনেক কথা… তুই কি কোথাও যাচ্ছিস?’

পিয়াস রিম্পার কথাটা গলার ভেতরেই চেপে রেখে বললো,
‘হ্যাঁ, একটু দরকারে যাচ্ছিলাম।’
‘আচ্ছা যা তাহলে।’

কথাটা শেষ করে সাদিক আর দাঁড়ালো না। ঘুরে দাঁড়িয়ে যেদিক থেকে এসেছিলো আবার সেদিকে হাঁটা শুরু করে দিলো।
পিয়াস থমথমে মুখে কিছুক্ষণ সাদিকের দিকে তাকিয়ে রইলো। একটা অদ্ভুত অস্বস্তি বুকের ভেতর জমে থাকলেও পিয়াস আর ডাকলো না।

সাদিক চলে গেলে পিয়াস আবার বাইকে চেপে বসলো।
এই মুহূর্তে নিজের বোনের বিপদের কথা বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিয়ে ভাবাটা নিছক বোকামিই।

বাইক স্টার্ট দিয়ে আবার রওনা দিলো পিয়াস।
দুপুরের সময় গিয়ে পৌঁছালো রিম্পার হবু শ্বশুরবাড়িতে। এই বাড়িতে সে আগেও একবার এসেছিল। সেদিন এসেছিল বোনের সম্বন্ধ পাকা করতে,আর আজ এসেছে সেই সম্বন্ধটুকু অন্তত সম্মানের সঙ্গে রক্ষা করার জন্য।

সাতপাঁচ না ভেবেই বাইকটা এক পাশে সাইড করে পিয়াস সোজা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লো। ভরদুপুর হওয়ায় সবাই যে যার মতো কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। বাড়ির প্রবীণ, রিম্পার হবু দাদা শ্বশুরই সবার আগে পিয়াসকে দেখতে পেলেন। তিনি একটু বিস্মিত হয়ে পিয়াসের দিকে তাকিয়ে তারপর উচ্চস্বরে সবাইকে খবর দিলেন কাওসারের (রিম্পার হবু বর) হবু শ্বশুরবাড়ি থেকে লোক এসেছে।

অসময়ের পিয়াসের উপস্থিতিতে বাড়ির মানুষজন কিছুটা বিব্রত হলেও মুখে সেটা কেউ প্রকাশ করলো না।

প্রবীণ লোকটা পিয়াসকে একটা চেয়ার দেখিয়ে সেটাতে বসতে বললেন। পিয়াস চেয়ারে বসার কিছুক্ষণ পরেই কাওসারের বাবা এসে উপস্থিত হলেন।

ভদ্রলোককে দেখামাত্র পিয়াস চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।
কাওসারের বাবা ঠান্ডা অথচ স্পষ্ট গলায় বললেন,’আমার যা বলার ছিল, তোমার বাবাকে তো ফোনেই বলে দিয়েছি। তাহলে আবার এতটা পথ কষ্ট করে আসার মানে কী?’

পিয়াস গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলো। তারপর ধীরে ধীরে বললো,‘আংকেল, আপনাদের কে কী বলেছে সেটা আমি জানি না। তবে এটুকু সত্যি পরশু রাতে আমাদের বাড়িতে একজন ঢুকেছিল। আর সেই ঘটনার জন্য আমাকেও কম অপদস্ত হতে হয়নি।’

একটু থেমে আবার বললো,’আমার অনুপস্থিতিতে সবাই ভেবেছিল আমার স্ত্রী অন্য কারও সঙ্গে…। একযোগে সবাই মিলে তাকেই দোষারোপ করেছিল। সেই কারণেই হুট করে আমাকে গ্রামে ফিরতে হয়।’

পিয়াসের গলাটা ভারী হয়ে উঠলো।

‘রাতে মা যখন দেখলো রিম্পার বিয়ের জন্য বানানো গয়নাগুলো আলমারিতে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তখনই সবার সন্দেহ ভুল প্রমাণ হলো।’

কথাগুলো বলা শেষ করে পিয়াস এবার চোখ তুলে ভদ্রলোকের দিকে তাকালো। তারপর আবার বলা শুরু করলো,‘যে লোকটা এসেছিল, সে রিম্পা বা আমার স্ত্রীর জন্য আসেনি। সে এসেছিল চুরির উদ্দেশ্যেই।’

এক মুহূর্ত থেমে দৃঢ় স্বরে বললো,’ আচ্ছা ধরে নিলাম রিম্পার সঙ্গে তার কোনো পরিচয় ছিল। কিন্তু যেখানে রিম্পা আর আমার স্ত্রী একই ঘরে ঘুমাতো, সেখানে জেনেশুনে রিম্পা এমন বোকামি করবে? আপনার কি সত্যিই তাই মনে হয়?’

ভদ্রলোককে চুপ থাকতে দেখে পিয়াস শান্ত অথচ স্পষ্ট কণ্ঠে বললো,‘আমি এখানে জোর করে নিজের বোনের সম্বন্ধ জোড়া লাগাতে আসিনি আংকেল। বিয়েটা হোক বা না হোক, সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল,আপনারা যে ভুলটা বুঝেছেন, অন্তত সেটা যেন পরিষ্কার হয়ে যায়। কারণ এই চুরির অপবাদ শুধু আমার বোনের একার সর্বনাশ করবে না,আমার স্ত্রীর জীবনেও ছাপ রেখে যাবে। আমি স্বামী হয়ে তা কখনোই হতে দিবো না। এখন বাকিটা আপনাদের ওপর।’

ভদ্রলোক কোনো কথা বললেন না। চোখ নামিয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইলেন শুধু।

কিছুক্ষণ নিবর থাকার পর নীরবতা ভাঙলেন রিম্পার হবু দাদা শ্বশুর। কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন,’ছেলেটা যা বলছে, তাতে তো যুক্তি আছে রে খোকা। চোর যদি ঢুকেই থাকে, তাহলে মেয়েটার দোষটা কোথায়?’

প্রবীণের কথায় ভদ্রলোক এবার মাথা তুলে পিয়াসের দিকে তাকালেন। তারপর অনুতাপ মেশানো গলায় বললেন,’দ্যাখো বাবা, সমাজের কথা তো বুঝতেই পারছো। একটা মেয়ের নাম জড়িয়ে গেলে হাজারটা প্রশ্ন উঠে তখন। তাই আমরা ভয় পেয়েছিলাম।’

পিয়াস শান্ত স্বরে উত্তর দিলো,‘ভয় পাওয়াটা দোষের না, আংকেল। কিন্তু ভয় থেকে যদি অন্যায় হয়, সেটার ভার কাউকে না কাউকে বইতেই হয়। এখানে সেই বোঝাটা পড়েছে আমার বোন আর স্ত্রীর কাঁধে। এখন আপনারা যে সিদ্ধান্তটা নিবেন সেটাই হবে।’

কথা শেষ করে পিয়াস এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। সে যা বলতে এসেছিলো বলেছে। আর কিছু বলার নেই,এই বিশ্বাস নিয়েই সে বেরিয়ে আসতে উদ্যত হলো।
ঠিক তখনই পিছন থেকে ভদ্রলোকের গলা ভেসে এলো,‘বিয়েটা হচ্ছে। তোমার বাবাকে বলে দিও বিয়ের দিনই এ বাড়ির লক্ষ্মীকে ও বাড়ি থেকে সম্মানের সাথেই নিয়ে আসা হবে।’

একটু থেমে তিনি আবার বললেন,‘আর গয়নার ব্যাপারে কোনো চিন্তা নেই। উপরওয়ালা আমাদের যথেষ্ট দিয়েছেন। নতুন করে কিছু বানানোর দরকারও নেই।’

পিয়াসের বুকের ভেতর এতক্ষণ জমে থাকা অজানা ভারটা ভদ্রলোকের মুখের কথাগুলো শোনার সঙ্গে সঙ্গেই যেন হালকা হয়ে গেলো। সে কিছু না বলেই নীরবে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। চোখে জল নামলো না, তবু চোখ দুটো অদ্ভুতভাবে ভিজে উঠলো পিয়াসের। শেষমেশ সে পেরেছে।
নিজের স্ত্রীর মান বাঁচানোর সঙ্গে একমাত্র বোনটাকেও ফেরাতে পেরেছে ক্ষতির হাত থেকে। ঠোঁটে নির্লিপ্তের হাসি ফুটে উঠলো পিয়াসের।

সেদিন পিয়াসদের বাড়ি থেকে কালো ছায়ার পর্দাটা সরে গিয়ে যেন ঝলমলে রোদ উঠলো। বাবা-মা,রিম্পা,সারা সবাই খুশি। এমন হাস্যজ্বল একটা পরিবারই তো চেয়ে এসেছে পিয়াস সবসময়।
তবে পিয়াস তার সিদ্ধান্তে অটল,সারাকে সে আর গ্রামে রাখবে না। রিম্পার বিয়ের পর সারাকেও সে তার সঙ্গে করে নিয়ে যাবে এবার। কারণ একবার যে মনে অবিশ্বাসের চারা রোপণ হয়, তা আর কখনো পুরোপুরি উপড়ে ফেলা যায় না; নীরবে, অদৃশ্যভাবে, সে নিজের মতো করেই বেড়ে উঠতে থাকে।

সেদিন রাতে সবাই মিলে অনেকক্ষণ গল্পগুজব করলো। তারপর একে একে সবাই যে যার মতো ঘুমোতে চলে গেলো। কিন্তু পরদিন ভোরেই ঘটে গেলো অঘটনটা। যা দেখার বা শোনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলো না।
যে মেয়েটা আগের রাতে হাসিমুখে ঘুমাতে গিয়েছিল, পরদিন সকালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলো। দেখলো, রিম্পা তার নিজ ঘরের ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁ*স লাগিয়ে ঝুলে আছে!
চলবে….

#আশিক_মাহমুদ