first love 13+14

0
653

13+14part
first love….
Samira Afrin Samia (nipa)
Part:13

সকালে……
আমিঃ বাবা মামনি আমি আর তোমাদের বাসায় থাকব না। আমি আজ এখনই আমার বাসায় যাবো।

বাবাঃ কি হয়ছে মামনি এটা তো তোমার বাসা ই

আমিঃ না এটা আমার বাসা না।
মামনিঃ হঠাৎ করে এমন কথা বলছিস কেন মা? কে তোকে কি বলছে আমাকে বল।

আমিঃনেকা কান্না করে।। তোমার ছেলে আমাকে বলছে আমি নাকি সারা দিন খায় আর ঘুমায় কোন কাজ করি না। টিভি দেখা আর ফোন চালানো ছাড়া নাকি আমার আরও অনেক কাজ আছে।তোমার ছেলে আমাকে বলছে বাসার সব কাজ করতে।
বাবাইয়ের কাছে থাকতে তো আমাকে কেউ কাজ করতে বলে নি।

বাবাঃ তানভীর তোকে এসব বলছে। তুই একটু দাঁড়া মামনি আমি তানভীরকে মজা দেখাচ্ছি।

তানভীর…. তানভীর…
তানভীরঃ কি হয়ছে বাবা এভাবে ডাকছ কেন?
বাবাঃতুই সামিহা মামনিকে কি বলছিস। ওকে কাজ করতে বলছিস কেন?
আমার বাসায় কি কাজের লোকের অভাব পড়ছে।
ওর বাবার কাছে থাকতে ও কোন দিন এক গ্লাস পানি ও নিজে নিয়ে খায় নি।আর তুই ওকে বাসার সব কাজ করতে বলছিস।

তানভীরঃবাবা আমি সেভাবে বলি নি।

মামনিঃ যেভাবেই হোক বলছিস তো। আমি থাকতে ও কেন বাসার কাজ করবে।

আমিঃ শুধু দেখছি আর মুখ চেপে হাসছি।
তুহিঃ ভাইয়া আমি তো বাসায় কোন কাজ করি না তাহলে ভাবি কেন করবে?

বাবা মামনি সবাই চলে গেল।।।।।
তানভীরঃ ফাজিল মেয়ে ইচ্ছে করে এসব করছে।(মনে মনে…)

তুহিঃ ভাবি তুমি আজ কলেজে যাবে না?

আমিঃহুম যাব তো।

তুহিঃ তাহলে আমাদের সাথে চলো ভাইয়া অফিসে যাওয়ার সময় তোমাকে কলেজে নামিয়ে দিবে।

আমিঃ আচ্ছা আমি রেডি হয়ে আসি।

তানভীরঃ আমাকে বাবা মামনি কে দিয়ে কথা শুনানো এর বদলা তো আমি নিবই।

রাস্তায় তুহিকে ওর স্কুলে নামিয়ে দিয়ে। আমার কলেজের উদেশ্যে রওনা দিলাম।

আমিঃ আমাকে কলেজের মেইন গেইটের সামনে নামিয়ে দিবেন। ভিতরে যেতে হবে না।

তানভীরঃ আর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে।।।। কেন?
এতটুকু আসতে পারছি তাহলে ভেতরে ও যেতে পারবো।

আমিঃ না থাক। আর কষ্ট করতে হবে না। আমকে এখানেই নামিয়ে দিন।

তানভীরঃ হঠাৎ করে আমার প্রতি এতো মায়া হলো কেন। আসল কারন কি তা বলো।

আমিঃ আসলে কেউ তো জানে না আমার বিয়ে হয়ে গেছে। তাই…..

তানভীরঃ তাই কি?

আমিঃ আপনি এখন আমার সাথে গেলে সবাই জিঙ্গেস করবে আপনি কে।তখন আমি কি বলবো।

তানভীরঃ কি বলবে মানে? আমি তোমার যা হয় তুমি সবাইকে তাই বলবে।

আমিঃ আমি তো সবাইকে বলবো আপনি আমার আঙ্কেল হন।

তানভীরঃ ইউ স্টুপিড।।। আমি তোমার আঙ্কেল হয় নাকি?

আমিঃ না আঙ্কেল হন না। কিন্তু আমি যদি সবাইকে বলি আপনি আমার হাজবেন্ড তাহলে সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে।
কারন আপনাকে দেখতে তো আঙ্কেলের মতোই লাগে।
আচ্ছা আপনার বয়স কত হবে?ত্রিশ নাকি আরও বেশি?

তানভীরঃ কি আমাকে দেখতে আঙ্কেলের মত লাগে?
সকাল থেকে আজেবাজে কথা বলেই যাচ্ছ।অনেক সাহস হয়ছে তোমার।

তানভীর আর কোনো কথা না বলে কার ড্রাইব করতে লাগলো।

আমিঃকি করছেন আমার কলেজ তো পিছনে রেখে আসছি। কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে?
আমাকে মার্ডার করার প্লেন করছেন না তো?

তানভীর আমার কোনো কথার উত্তর দিল না। একটা নির্জন রাস্তার মাঝে কার দাঁড় করালো।

তানভীরঃ কার থেকে নামো।
আমিঃ কেন? আমি এখানে নামবো না।

তানভীরঃওর হাত ধরে কার থেকে নামিয়ে। রোডে দাঁড় করিয়ে কোনো কথা না বলে ওকে ওখানে রেখে আমি চলে আসলাম।

আমিঃআমাকে এখানে একা রেখে চলে গেল। মায়া দয়া বলতে কিছু নাই।
রাস্তাটা শহর থেকে অনেকটা দূরে। কোন মানুষ যাতায়াত করে বলে মনে হয় না। চার দিকে ঘন জঙ্গল।একদম ফাঁকা রাস্তা।

চলবে…..

first love…..
Samira Afrin Samia
Part: 14

তানভীরঃ অফিসে এসে কাজ করতে লাগলাম। সামিহার কথা মনেই ছিল না। চারটার দিকে অফিস থেকে বাসায় এসে দেখি সামিহা এখনও বাসায় আসেনি।
মামনিকে জিঙ্গেস করলাম সামিহার কথা।
মামনি সামিহা কোথায়?

মামনিঃ সামিহা কোথায় মানে?
সকালে তোর সাথে বের হলো। কলেজ টাইম শেষে বাসায় না আসাতে ওর ফ্রেন্ডকে ফোন করে জিঙ্গেস করলে বলল সামিহা নাকি আজ কলেজে যায়নি।
সামিহার ফোনে কল করছিলাম কিন্তু ওর ফোন সুইচ অফ আসছে।

তানভীরঃ কলেজে যায়নি তাহলে কোথায় গেল? (মনে মনে..)

মামনিঃ কেন? সামিহা কোথায় তোর সাথে আসলো না কেন। কি হয়ছে ওর?

তানভীরঃ এখন মামনিকে কিছু বলা যাবে না। মামনি টেনশন করবে। আর আমার ও ক্লাস নিবে। (মনে মনে..)
সামিহা ওর এক ফ্রেন্ডের বাসায় গেছে।
আমি গিয়ে ওকে নিয়ে আসি।

ফুল স্পিডে কার ডাইভ করে সামিহাকে যেখান রেখে গেছিলাম ওই জায়গা পৌঁছালাম।কিন্তু কোথাও সামিহাকে পেলাম না।
একা একটা মেয়ে এমন নির্জন রাস্তা। ওর কিছু হয়ে গেল না তো। আজ ওর কিছু হলে আমি নিজেকে কখনও ক্ষমা করতে পারবো না।
আর কিছু ভাবতে না পেরে রোডের মাঝে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লাম।
কোথায় খোঁজব সামিহাকে?

এমন সময় আননোউন নম্বর থেকে কল আসলো।
কল রিসিভ করার সাথে সাথে ফোনের ঐ পাশ থেকে কেউ একজন বললো।।।

ঃ আমাকে খোঁজা যদি শেষ হয়ে থাকে তাহলে জান্নাতের বাসা থেকে আমাকে এসে নিয়ে যান।

কন্ঠটা চিনতে আমার ভুল হয়নি। ওটা সামিহা ছিল।
আমি আর কিছু না ভেবে জান্নাতের বাসার উদেশ্যে রওনা দিলাম।

জান্নাতের বাসা থেকে সামিহাকে নিয়ে আসতে প্রায় রাত আটটা বেজে গেল।

বাসায় আসার পর বাবা মামনি অনেক কোয়েশন করলেও আমি তার কোনো আন্সার দিতে পাড়লাম না।

এখন যদি আমি বলি আমি তাদের আদরের বউমা কে একা জঙ্গলে রেখে আসছিলাম তাহলে এই বাসায় আর আমার জায়গা হবে না।

আমিঃ এখন মুখে কোনো কথা নাই কেন।( মনে মনে…)

বাবাঃ কি হলো আমি কিছু জিঙ্গেস করছি। সামিহা আজ সারা দিন কোথায় ছিল।

আমিঃ বাবা তোমার ছেলে আমাকে একা জঙ্গলে রেখে আসছিল। আজ শুধু মানবতার খাতিরে বাবা মামনিকে কিছু বলছিনা।( মনে মনে…)

তানভীরঃ আমি কিছু বলার আগেই সামিহা বলতে শুরু করে দিল।

আমিঃ মামনি আজ জান্নাত কলেজে আসছিলো না। আমি ওর বাসা থেকে ওকে আনতে গেলে জান্নাত আমাকে আসতে দেয়নি।
আমার ফোনে র্চাজ ছিল না ফোন অফ হয়ে গেছিল।
ভাবছিলাম বিকেলের দিকে এসে যাব তাই তোমাদের কিছু জানায়নি।

রাতে সবাই এক সাথে ডিনার করে যার যার রুমে চলে এলাম।

তানভীরঃ তুমি ওখান থেকে জান্নাতের বাসায় গেলা কি করে? আর আমাকে জানাও নি কেন। তোমার জন্য আমার কত টেনশন হচ্ছিল তা কি তুমি জানো। স্টুপিড কোথাকার।।।।

আমিঃ আমাকে একদম স্টুপিড বলবেন না। আইছে ঢং করতে। আমাকে একা রেখে চলে আসার সময় মনে ছিল না। আমি ওখানে একা কি করে থাকবো।

আর আপনি ভাবলেন কি করে। আমি হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকাদের মতো ওখানে কাঁদতে কাঁদতে আপনার জন্য অপেক্ষা করবো। কখন আপনি আমাকে
আনতে যাবেন।

আপনি চলে আসার পর আমি জান্নাতকে ফোন দিয়ে বলি আমাকে ওখান থেকে নিয়ে আসতে। আর জান্নাত আমাকে ওখান থেকে নিয়ে আসে।

আমি আপনাকে ইচ্ছে করে কিছু জানায়নি। আমাকে একা রেখে আসলেন এর শোধ কি আমি নিব না।

তানভীরঃ কি বলবো খুজে পাচ্ছি না। একা রেখে চলে আসছি কই একটু ভয় পাবে। তা না আমাকে উল্টো ভয় দেখিয়ে দিল।
সত্যিই সাংঘাতিক মেয়ে।।।

আমিঃ নেংটি ইঁদুর কোথাকার। দাঁড়া কাল তোকে মজা দেখাব।আমাকে ভয় দেখাতে আসছিলি।এবার ভয় কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি উদাহরণ
সহ তোকে বুঝাবো চান্দু।

সকালে……

আজ তুহির স্কুল অফ তাই তুহিকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে গেছিলাম। অনেক মজা করছি। বিকেলের দিকে বাসায় চলে আসছি। আইসক্রিম নিয়ে আসছি সাথে করে।

এখন আমি আর তুহি ছাদে দোলনায় বসে আইসক্রিম খাচ্ছি আর গল্প করছি।

আমিঃ তুহি একটা কথা বলবো?
তুহিঃ আরে ভাবি একটা কেন হাজারটা বলো।

আমিঃ আমার ননদিনীটা এতো ভালো কেন? (তুহির গাল টেনে)

তুহিঃ ভাবি আমার গাল ছিড়ে ফেলবা নাকি?

আমিঃ আচ্ছা তুহি তোমার ভাইয়া কোন জিনিসটাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়?

তুহিঃ ভাইয়া তেমন কিছুই ভয় পায় না। কিন্তু ভাইয়া সাপকে অনেক ভয় পায়। মামনি আমাকে বলছে।

আমিঃ ওহ আচ্ছা।।।

তুহিঃ কেন ভাবি এসব জেনে তুমি কি করবে?

আমিঃ যেমন ভাই তার তেমন বোন। হাজারটা কোয়েশন করবে। (মনে মনে…)
কি বলো আমার স্বামীর পছন্দ অপছন্দ আমি জানবো না তো কে জানবে।
(সব চাপা কিছুই সত্যি না)

তুহিঃ তুমি ভাইয়াকে অনেক ভালোবাসো তাই না ভাবি?

আমিঃ ভালোবাসবো আমি তাও আবার এই উল্লুকটাকে। এতো ফানি জোকস না বললে ও পারো।। হাসতে হাসতে মারা যাবো তো।(মনে মনে….)

তুহিঃ কি হলো বলো।

আমিঃ কি আর বলবো।
সব কপাল তা না হলে কি আল্লাহ এর গলায় আমাকে ঝুলাইছে। (মনে মনে….)

রাতে…….

আমিঃ আপনি বেডে শুয়ে আছেন কেন। উঠোন বলছি আমি কোথায় শুব? আমার ঘুম পাইছে।

তানভীরঃ এই রুমটা আমার আর বেডটা ও আমার। আমার রুম যথেষ্ট বড় যেখানে ইচ্ছা সেখানে শুয়ে যাও।
আজ আমি বেডে ঘুমাবো।

আমিঃঘুমাবি তো এমন ঘুম ঘুমাবি যা জীবনে ও ভুলবি না। আমি তো এটাই চাইছিলাম। তাই তো আজ রুমে লেইট করে আসছি।
একটা বালিশ আর চাদর নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লাম। শুয়ে শুয়ে ভাবছি কখন ড্রামা শুরু হবে।
ইসস আমার আর তর সইছে না।।।।

তানভীরঃকি হলো কিছু বললো না কেন।
আজ এতো ভালো হয়ে গেল কি করে?
যাই হোক আমার কি। কম্বল টেনে গায়ে দিলাম।

চলবে……