first love Part 5+6+7+8

0
800

Part_5+6+7+8
first love….. ??
Samira Afrin Samia (nipa)
Part: 5

রাবেয়া চৌধুরীঃ কি হয়ছে কে জানে। সকালে তো ভালোই ছিল। অনেক দিন পর দেশে আসছে তাই কলেজে কোন ফেন্ডের সাথে দেখা করতে গেছিল।

তুহিঃ বাবা কখন আসবে?

আম্মুঃ একটু আগে ফোন দিয়ে বলল রাতে তোর সাব্বির আংকেল কে সাথে নিয়ে আসবে।

তুহিঃ ওহ আচ্ছা।

তানভীর তার রুমে গিয়ে ফোনটা বেডে ছুড়ে মারল। আর রাগে গজ গজ করতে করতে বলতে লাগল।
তানভীরঃ ফাজিল মেয়ে একটা ভদ্রতা বলতে কিছু নাই। কিভাবে কথা বলতে হয় তাও জানে না। আর কোন দিন সামনে পেলে মাথার উপর থেকে একটা আছাড় মারব। এমন মেয়েকে উচিত শিক্ষা দেওয়া দরকার।

বিকালের দিকে ফোনটা নিয়ে fb তে গিয়ে কয়েকটা ফ্রেন্ডের পোস্টে হা হা রিয়েক্ট দিয়ে চলে আসলাম। বেডে শুয়ে গান শুনতে শুনতে ঘুমের রাজ্যে পারি দিলাম।

রাতে পার্টিতে যাওয়ার সময়……….

আম্মুঃ সামিহা সামিহা আর কতক্ষণ লাগবে?

আমিঃ এইতো আম্মু আর পাঁচ মিনিট।

আম্মুঃ সেই তিন ঘন্টা ধরে তর পাঁচ মিনিট পাঁচ মিনিট শুনেই যাচ্ছি। কখন যে তোর পাঁচ মিনিট শেষ তা আল্লাহই জানে।

আমিঃ আরে একটু দাড়াও না।এই তো শেষ বলতে বলতে রুম থেকে বের হয়ে এলাম।

আম্মু আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।

আমিঃ কি হলো মুখে মাছি ডুকে যাবে তো।

আম্মুঃ আমার মেয়েকে তো আজ অনেক সুন্দর লাগছে।

নীল শাড়ি,খোলা চুল, হালকা মেকাপ, হাত ভরতি চুড়ি, চোখে গাড় করে কাজল একে বারে পরির মত লাগছে আমার মেয়েটা কে।

আমিঃ হুম হয়ছে এখন চল যাওয়া যাক।

আম্মুঃ আচ্ছা চল।

পার্টির জন্য চৌধুরী ভিলা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। ব্লু ও হোয়াইট কালারের বেলুন কিছু বেলুন নিচে রাখা কিছু টেবিলের উপর পিংক কালারের নেট।
বিভিন্ন ধরনের খাবারের মেনু।
সবাই দাড়িয়ে আছে। মিউজিক চলছে।

চলবে……

.
first love
Samira Afrin Samia
Paet: 6

রাবেয়া চৌধুরীঃ তুহি তুহি তারাতারি কর নিচে সব গেস্টরা এসে গেছে। আর কতক্ষণ লাগবে?

তুহিঃ এই তো।

তুহি আজ লাল খয়েরী কালারের লেহেঙ্গা হাতে ম্যাচিং চুড়ি ঠোটে লাল লিপস্টিক চোখে গাড় করে কাজল চুল গুলো খোলা তুহিকে ঠিক যেন লাল পরির মত লাগছে।

তানভীর ও কম যায়নি। তানভীর হোয়াইট কালারের শার্ট নভি ব্লু প্যান্ট ও ব্লেজার হাতে দামি ঘড়ি চুল গুলো স্পাইক করা সব মিলিয়ে বলা যায় পার্টির সব মেয়েদের ক্রাশ। আজ পার্টিতে তানভীর কে যে মেয়ে দেখবে সে মেয়েই ক্রাশ খাবে।

এই দিকে তানভীরের বাবা সামিহার বাবা মানে সাব্বির রাহমান কে নিয়ে অফিস থেকে তাদের বাসায় চলে আসছে।

খলিল চৌধুরীঃ তোর ওই কথা মনে আছে?
সাব্বির রাহমানঃ কোন কথা?

খলিল চৌধুরীঃ আরে আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্ব থেকে আত্মীয়তায় পরিণত করার কথাটা।

সাব্বির রাহমানঃ ওই কথা তর এখন ও মনে আছে। আমি তো ভুলেই গেছিলাম আর ভাবছি তুই ও হয়তো ভুলে গেছিল।
আর এখন ছেলে মেয়ে বড় হয়ছে তাদের পছন্দ অপছন্দের কথা ও ভাবতে হবে। আর তোর ছেলে বাহির থেকে স্টাডি করে আসছে তার কি আমার মেয়েকে পছন্দ হবে?

খলিল চৌধুরীঃ বাহির থেকে স্টাডি করে আসছে তো কি হয়ছে। ও এখনও আমার সব কথা শুনে চলে। প্লিজ তুই আর না করিস না দেখবি আমার ছেলে আর তর মেয়ে সুখেই থাকবে।
আচ্ছা পার্টিতে তোর মেয়ে আসবে আর আমার ছেলে ও এখানেই থাকবে। ওখানেই না হয় ওদের পরিচয় করিয়ে দিব।

তুহি তার মামনির সাথে নিচে পার্টিতে এসে গেছে।

তুহিঃ মামনি ঐ দেখ বাবা দাড়িয়ে আছে।
বাবা বাবা….

খলিল চৌধুরীঃ ঐই তো আমার প্রিন্সেস এসে গেছে।আমার প্রিন্সেসকে তো আজ অনেক সুন্দর লাগছে।প্রিন্সেস এই হলো তোমার সাব্বির আংকেল আমার ছোট বেলার বন্ধু কাজের ব্যস্ততায় তেমন ভাবে যোগাযোগ ছিল না। তাই হয়ত তুমি চিনবে না।

আমি আম্মুকে নিয়ে পার্টিতে পৌছে গিয়ে দেখি বাবাই যেন কার সাথে কথা বলছে। আমি আর আম্মু বাবাইয়ের কাছে চলে গেলাম।

বাবাইঃ এই তো আমার ঘুম কুমারী এসে গেছে। মামনি ইনি হলেন তোমার খলিল আংকেল আর ইনি হলেন তোমার রাবেয়া আন্টি আর এ হলো তুহি।

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম আংকেল আন্টি।
….happy birthday tohi many many happy returns of the day…

Tohi: thank you…..

খলিল চৌধুরীঃ ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছ তুমি?

আমিঃ জি আংকেল আমি ভালো আছি। আপনারা কেমন আছেন?

চলবে……..
7+8part
first love…. ??
Samira afrin Samia (nipa)
Part: 7

রাবেয়া চৌধুরীঃ আমরাও ভালো আছি মামনি।

তানভীর ওর কিছু ফ্রেন্ডদের সাথে দাড়িয়ে কথা বলছিল। পার্টির সব মেয়েরা তানভীরের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু তানভীর কাউকেই পাত্তা দিচ্ছে না।

খলিল চৌধুরীঃ আমার ছেলের সাথে তো তোমাদের পরিচয় করানোই হয়নি।
…..তানভীর বাবা এই দিকে আসতো।

তানভীর তার বাবার ডাক শুনে তার বাবার কাছে গেল। আর ৪৪০ বোল্ডের শর্ক খেলো।

আমিঃ দাড়িয়ে ছিলাম খলিল আংকেল কাকে যেন ডাকল সামনে তাকিয়ে আমিতো পুরা যায় যায় অবস্থা। এটাত ওই লোকটা যার সাথে কলেজে আমার ধাক্কা লাগছিল।

তানভীরঃ তুমি এখানে?

আমিঃ আপনি এখানে কি করছেন?

তানভীরঃ আমি এখানে কি করছি মানে। আমার বাসাতে আমি থাকব এটাইত স্বাভাবিক।

আমিঃ এটা আপনার বাসা মানে। এটাতো আমার বাবার বন্ধু খলিল আংকেলের বাসা।

তুহিঃওয়েট ওয়েট তোমরা কি একে অপরকে আগে থেকে চিন?

তানভীরঃ চিনবো না মানে। এরকম অসভ্য ফাজিল মেয়েকে খুব ভালো করেই চিনি।

আমিঃ কি বললেন আপনি। আমি অসভ্য ফাজিল। আপনি কি তাহলে আপনি একটা রামছাগল, ভাল্লুক,উল্লুক, কুত্তার ডিম,পচা আলু,ইংরেজদের বংশধর….

আমাদের ঝগড়া দেখে বাবাই,আম্মু,খলিল আংকেল, রাবেয়া আন্টি, তুহি সবাই আমাদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।

খলিল চৌধুরীঃ সামিহা মামনি ও ইংরেজদের বংশধর না ও আমার একমাত্র ছেলে তানভীর চৌধুরী। বাহির থেকে স্টাডি কমপ্লিট করে কিছু দিন আগেই দেশে ফিরছে। এখন আমার বিজনেস ওই দেখবে।

বাবাইঃ মামনি এটা কেমন ব্যবহার তুমি ওকে এসব কেন বলছ।

আমিঃ বাবাই তুমি জানো না ওই দিন কলেজে কি হয়ছিল।

খলিল চৌধুরীঃ আচ্ছা এসব কথা এখন রাখো। আর কেক কাটতে চলো।

পার্টিতে কেক কাটার পর বাবাই আম্মু বাবাই আংকেল আন্টি কথা বলছিল।
আমি এক কনারে দারিয়ে ছিলাম।

হঠাৎ……
অচেনাঃ হাই আমি আনহার। কেমন আছ বিউটি?

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

অচেনাঃ এই আমি তোমার ভাইয়া হলাম কি করে?

আমিঃ আপনাকে দেখে আমার থেকে অনেক বড় মনে হয়। বাবাই বলছে বড়দের সম্মান দিতে হয়। আর তাই আপনাকে ভাইয়া বলছি। আমি তো আর জানতাম না আপনার বয়স আমার কাকুর সমান হবে তাহলে আর ভাইয়া বলতাম না কাকু।

আনহারঃ ওরে বাবা এটা মেয়ে না অন্য কিছু। এতো কথা বলতে পারে।ভালো থেকো ছোট বোন।।।বাই

ছেলেটার চলে যাওয়া দেখে আমি হাসতে লাগলাম। বড় আসছে আমার সাথে লাইন মারতে।
পুরোনো পাগলের ভাত নাই নতুন পাগলের আমদানি।

পার্টি শেষ করে আম্মু বাবাইয়ের সাথে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে বেডে শুয়ে আছি।

জান্নাত ফোন দিছে…..

আমিঃ কিরে জানু আজ কলেজে আসলি না কেন?

জান্নাতঃ আর বলিস না আম্মু আব্বু গ্রামের বাড়িতে গেছিল। তাই আসতে পারি নি।

আমিঃ কাল আসবি তো?

জান্নাতঃ হুম কাল আসব।

আমিঃ আচ্ছা জানু কাল দেখা হবে। এখন আমি ঘুমাবো। গুড নাইট জানু

জান্নাতঃ হুম ঘুমা।।। ঘুম ছাড়া আর কিছু পারছ নাকি তুই।

আমিঃ আমার পারতে হবে না তুই পারলেই হবে।

জান্নাতের সাথে কথা বলে ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে……..
কিং কিং কিং কিং……
চলবে…..

first love…..
Samira Afrin Samia
Part: 8

ঘুমের ঘুরে ফোনটা হাতে নিয়ে…..

আমিঃ ওই ফইন্নি সকাল সকাল কোন কাজ নাই বলে কি আমাকে বিরক্ত করবি।
তর জ্বলায় শান্তিতে একটু ঘুমাতে ও পারব না।

নিশিঃ ওরে আমার ঘুম কুমারী এখনও কি তর জন্য সকাল বসে আছে।কয়টা বাজে সে দিকে কি খেয়াল আছে। কলেজে যাবিনা?

নিশির কথা শুনে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি ১০টার উপরে বাজে।

আমিঃ এই যা একটা দিন ও যদি ১০ টার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারতাম। এক দৌড়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম।

অপরদিকে…….
সবাই ডাইনিংয়ে বসে ব্রেকফাস্ট করছে।
খলিল চৌধুরীঃ তানভীর কবে থেকে অফিস জয়েন করছ?

তানভীরঃ এইতো বাবা কাল থেকেই অফিসে যাব।

রাবেয়া চৌধুরীঃ এখন তো তর স্টাডি কমপ্লিট আর কাল থেকে অফিসে জয়েন করবি।তাহলে এখন তো বিয়ে করতে কোন প্রব্লেম নাই।

তানভীরঃ মামনি আমি আগেই বলছি এখন আমি বিয়ে করব না।এনিয়ে আমি আর কোন কথা বলতে চায়না।

আমি কোন ভাবে কলেজে পৌছে গেলাম। কলেজে এসে দেখি ওরা সবাই মানে আখি স্বর্না কনিকা নিশি রায়হান জান্নাত দাড়িয়ে আছে।

নিশিঃ তুই কি কখনও মানুষ হবি না?এক দিন তো সকালে নিজে নিজে ঘুম থেকে ওঠে দেখ কেমন লাগে।

আমিঃমানুষ হব না মানে। আমি এখন মানুষ না তো কি গরু ছাগল?

নিশিঃ আমি কি তকে অমানুষ বলছি। আর তুই গরু ছাগল না কারন তুই তো একটা গাধী।

আমিঃ কি তুই আমাকে গাধী বললি।তাহলে তুই একটা ফইন্নি,চুন্নি,পেত্নী,কুত্তি,উল্লুক আরও অনেক কিছু……… এখন মনে নাই তাই বললাম না।

আখিঃতোরা থামবি।

আমিঃ কুত্তি এখন কি আমরা চলতেছি যে থামব।

স্বর্নাঃ দোস্ত দেখ তর রোমিও আসছে।

আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি নাহিদ আবালের মত ৩২দাঁত বের করে হাসতে হাসতে আমার দিকে আসছে।

আমিঃ ওই হারামি তরে কতদিন বলছি ঐটা আমার রোমিও না।আরে ওই আবালটাকে আমি কোন দিন ও লাইক করব না।

নাহিদঃ হাই সামিহা কেমন আছ তুমি?

আমিঃ ওই তুই মুসলিম না? হাই টাই না দিয়ে সালাম দিলে কি লজ্জা লাগে।

নাহিদঃ আরে কি যে বলো লজ্জা কেন লাগবে। আচ্ছা তুমি সব সময় আমার সাথে এমন করে কথা বলো কেন।আমি তোমাকে তুমি করে বলি আর তুমি আমাকে তুই করে বলো কেন?

আমিঃ তুই কবে আমার পিছু ছাড়বি বলতো?

নাহিদঃ সামিহা আমি তোমাকে ভালবাসি।
আমিঃ তর ভালোবাসার গুষ্ঠী কিলায়।
আর কোন দিন আমার সামনে এসব ভালবাসার কথা বলতে আসবি না।ভুলেও যদি আমার সামনে আসবি তাহলে তর মাথার সব চুল ছিড়ে নেব।তরে পচা পানিতে ডুবিয়ে মারব কুত্তার ডিম।

কনিকাঃনাহিদ তকে কতদিন বলছি সামিহাকে ডিস্টার্ব করবি না।

নাহিদ চলে যেতে যেতে বলল। সামিহা তুমি শুধু আমার। তোমাকে পাওয়ার জন্য আমি কি কি করতে পারি তা তুমি নিজেও জান না। আমি তোমাকে আর কারও হতে দিব না।তোমাকে আমি নিজের করেই ছাড়ব।

আমিঃ উল্লুকের তৃতীয় নম্বর ছানা তরে তো আজ আলুর সাথে সিদ্ধ করে আলুর পরুটা বানিয়ে খাব।
আমাকে নিজের করবি মানে?শালা কুত্তা আর কোন দিন আমার সামনে পড়লে ওই দিনই হবে তর শেষ দিন।

চলবে……